আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

বর্ষায় চাষের জমিতে ড্রাম সিডার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা

লাগাতার বৃষ্টি ও জল জমে চাষের জমি প্রায় নষ্ট হয়ে যায় | এমনকি নষ্ট হয়ে যায় বীজতলাও | এগুলি পুনরায় তৈরী করাও বেশ কষ্টসাধ্য | ফলত, চাষীদের মাথায় হাত পরে যায় | তাই কৃষি বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার “ড্রাম সিডার” যন্ত্র এরম অবস্থায় কৃষকদের সহায়তা করার একমাত্র পন্থা | এই যন্ত্রের মাধ্যমে নতুন করে বীজতলা তৈরী করা যায় |

 ড্রাম সিডার কি(What is Drum Seeder)?

ড্রাম সিডার প্লাস্টিকের তৈরি ছয়টি ড্রাম বিশিষ্ট একটি আধুনিক কৃষি বপণ যন্ত্র। প্লাস্টিকের তৈরি ড্রামগুলো ২.৩ মিটার প্রশস্ত লোহার দন্ডে পরপর সাজানো থাকে। লোহার দন্ডের দুপ্রান্তে প্লাস্টিকের তৈরি দুটি চাকা এবং যন্ত্রটি টানার জন্য একটি হাতল যুক্ত থকে। প্রতিটি ড্রামের দৈর্ঘ্য ২৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ৫৫ সেন্টিমিটার এবং এর দু’প্রান্তে ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে দুসারি ছিদ্র আছে। প্রয়োজনে রাবারের তৈরি সংযুক্ত বেল্টের সাহায্যে এক সারি ছিদ্র বন্ধ রাখা যায়।

ড্রাম সিডারের সুবিধা(Benefits of Drum Seeder):

এ যন্ত্রের সাহায্যে কাদা মাটিতে অঙ্কুরিত বীজ সারি করে সরাসরি বপণ করা যায়। ফলে আলাদা করে আর বীজতলা তৈরি, চারা উত্তোলন ও রোপণ করতে হয় না | যার ফলে শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় অনেকটা কমে যায় | এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ধান ও অন্যান্য সব্জি চাষ (vegetables cultivation) সহজে করা যায় | এই যন্ত্রের মাধ্যমে ধানের বীজ বপণ করলে বীজের পরিমাণ ৩০ শতাংশ কম লাগে। সারিবদ্ধ ও সার্বিক ঘনত্ব অনুযায়ী বীজ বপণের কারণে জমিতে নিড়ানিসহ অন্যান্য পরিচর্যা অনেক সহজ হয় এবং রোগপোকার উপদ্রপ কম হওয়ায় ফসলের ফলন গড়ে ২০- ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি, এই যন্ত্র হালকা হওয়ায় সহজেই বহনযোগ্য | ১ জন লোক ঘণ্টায় অন্তত ১ বিঘা জমিতে বীজ বপণ করতে পারে।

আগাছা পরিষ্কার(Weed management):

ড্রাম সিডার যন্ত্রে বীজ বপণ করলে আগাছা দমন সহজ হয়। আগাছা দমনের জন্য আগাছানাশকও ব্যবহার করা যেতে পারে। জমিতে কম জল দাঁড়ানো থাকা অবস্থায় আগাছানাশক প্রয়োগ করতে হবে এবং পরের ৩-৫ দিন অবশ্যই হালকা জল রাখতে হবে | যে জমিতে আগাছা কম হয় সেখানেই ড্রাম সিডার পদ্ধতি ব্যবহার করাই ভালো এবং আগাছা বেশি হলে পরিষ্কার করা জরুরি |

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোটেক

বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে

সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ রপ্তানি থেকে আয় করেছে ৪১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০২০ সালের একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩০১ কোটি ৮০ লাখ ডলার

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের পর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য খুলতে শুরু করেছে। ফলে বাতিল ও স্থগিত হওয়া রপ্তানি আদেশ ফিরতে শুরু করায় রপ্তানি আয় বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ রপ্তানি থেকে আয় করেছে ৪১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০২০ সালের একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩০১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮%।নতুন অর্থবছরের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রথম তিন মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে এক হাজার ১০২ কোটি ২০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৯৮৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে (ফার্স্ট কোয়ার্টার) রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১.৩৭%। একক মাস হিসাবে আগস্টে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ২৯৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার, যা গত বছরের আগস্ট মাসের চেয়ে ৪.৩২% বেশি।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, “একদিকে পুরনো অর্ডার ফিরে এসেছে, অন্যদিকে মহামারি করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়েই কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর ফলে রপ্তানি আয় বেড়েছে।”

উল্লেখ্য, দেশে রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫% আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকে এ খাতের রপ্তানি কমতে শুরু করে, এপ্রিলে পোশাক রপ্তানিতে ধস নামে। মে মাসেও তা অব্যাহত থাকে। তবে জুন থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ধারাবাহিকতা জুলাই ও আগস্ট এমনকি সেপ্টেম্বরেও অব্যাহত রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কুমিল্লার চান্দিনায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস

লেখক

জেলার চান্দিনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত দু’টি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বেলা ১১টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চান্দিনা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার উপজেলার জামিরাপারা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ড্রেজার মেশিন দুটি ধ্বংস করা হয়। অভিযানের খবরে ড্রেজার মালিকরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।


এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুন নাহার বাসসকে জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারাই পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করবে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

টানেল টেকনোলজির সাহায্যে সব্জি উৎপাদনে ফলন হবে দ্বিগুন

টানেল টেকনোলজির সাহায্যে সব্জি উৎপাদনে ফলন হবে দ্বিগুন

নানা ধরনের সবজি উৎপাদনের জন্য আমাদের মাটি খুবই উপযোগী। শীত ও গ্রীষ্মকালীন চাষ করা যায় এমন সবজির তালিকাটাও বেশ বড়। কিন্তু নানা কারণে আমাদের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। সবজি চাষের জন্য বরাদ্দ থাকে রান্না বা গোয়াল ঘরের পেছনের এক চিলতে জমি। অথচ পুষ্টি চাহিদার কথা মাথায় রাখলে সবজি চাষের কথা ভাবতেই হবে। এজন্য সত্যি বলতে কি কম জমি কাজে লাগিয়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণের একমাত্র উপায় সারা বছর সবজির নিবিড় চাষ

আমাদের দেশে বেশির ভাগ সবজি উৎপাদন হয় রবি মৌসুমে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মার্চ মাসে। খরিফ মৌসুম অর্থাৎ এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় সবজি চাষ খুব কম হয়। ফলে বাজারে এ সময় সবজির দাম থাকে আকাশ ছোঁয়া। বিশেষ করে মে থেকে জুলাই মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও খরার কারণে সবজির উৎপাদন কম হওয়ার জন্য বাজার মূল্য বেশি থাকে।

টানেল চাষাবাদ কি(Tunnel agriculture):

মৌসুমে বাজারে সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় চাষি ভাইয়েরা ন্যায্য মূল্য পান না। তাই মৌসুম শুরুর আগেই যদি আগাম সবজি উৎপাদন করে বাজারজাত করা যায়, তাহলে দ্বিগুণেরও বেশি দাম পাওয়া যায়। যে কৌশল অবলম্বন করে সারা বছর সবজি চাষ করা বা আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদন করা যায় তার নাম ‘টানেল টেকনোলজি”(Tunnel technology) ।

প্রকৃত মৌসুম ছেড়ে অন্য মৌসুমে সবজি চাষ করার জন্য এই কৌশলের কোনো জুড়ি নেই। তবে এই কৌশলের মাধ্যমে শীতকালীন সবজিকে গ্রীষ্মকালে চাষ করা কঠিন। কারণ শীতকালীন সবজি চাষের জন্য যে ধরনের তাপমাত্রা প্রয়োজন সেই ধরনের তাপমাত্রা কৃত্রিম পরিবেশে তৈরি করা বেশ ব্যয়বহুল। তবে এই কৌশলের মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে গ্রীষ্মকালীন সবজিকে শীতকালে চাষ করা খুবই সহজ। কারণ প্লাস্টিক ছাউনি ব্যবহারের মাধ্যমে শীতকালে খুব সহজেই সৌরশক্তি সঞ্চয় করে তাপমাত্রা বাড়িয়ে নেয়া যায়, যা শীতকালে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের জন্য যথেষ্ট।

কি কি সবজি উৎপাদন করা যায়(Vegetables farming):

টানেল টেকনোলজি বা ছাউনি পদ্ধতি ব্যবহার করে যেসব সবজি খুব সহজেই চাষ করা যায় সেগুলো হলো- শসাজাতীয় সবজি, টমেটো (Tomato),পালংশাক, পাতাকপি, ফুলকপি, শিম (Bean) ইত্যাদি। এই কৌশলে একজন চাষি আগাম সবজি চাষ করে প্রকৃত মৌসুমের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে আমাদের দেশের অনেক অঞ্চলের চাষি ভাইয়েরা সবজি চাষ করে আসছেন যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

টানেলের প্রকারভেদ(Types of tunnel):

নিচু টানেল তৈরি

এ ধরনের টানেল তৈরির প্রধান উপকরণ বাঁশ। টানেলের দৈর্ঘ্য হতে হবে ৯৮.৪ ফুট এবং চওড়ায় হতে হবে ১৪.৭৬ ফুট। টানেলের ভেতরের মাঝ বরাবর উচ্চতা হবে ৭ ফুট এবং পাশের উচ্চতা হবে ৫ ফুট। সেচ ও পানি নিকাশের জন্য দুই বেড বা টানেলের মাঝখানে ৬ ইঞ্চি গভীরতার ২ ফুট চওড়া নালা রাখতে হয়। তারপর স্বচ্ছ কালো বা নীল রঙের পলিথিন দিয়ে টানেলটি নৌকার ছইয়ের মতো ঢেকে দিতে হয়।

উঁচু টানেল তৈরি

এ ধরনের টানেল তৈরির প্রধান উপকরণ স্টিল ফ্রেম বা বাঁশ। টানেলের দৈর্ঘ্য হতে হবে ১৩০ ফুট এবং চওড়ায় হতে হবে ৩২ ফুট। টানেলের ভেতরের মাঝ বরাবর উচ্চতা হবে ১২ ফুট এবং পাশের উচ্চতা হবে ১০ ফুট। সেচ ও পানি নিকাশের জন্য দুই বেড বা টানেলের মাঝখানে ৬ ইঞ্চি গভীরতার ৩ ফুট চওড়া নালা রাখতে হয়। চারা বা বীজ থেকে বীজের দূরত্ব রাখতে হয় ১.৫ ফুট। এরপর স্বচ্ছ কালো বা নীল রঙের পলিথিন দিয়ে টানেলটি নৌকার ছইয়ের মতো ঢেকে দিতে হয়।

টানেল পদ্ধতিতে চাষের জমি তৈরী(Land preparation):

এই পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য যে জমিটি বাছাই করা হয় তা অবশ্যই উর্বর হতে হয়। মাটির পিএইচ থাকতে হয় ৫ থেকে ৭ এর মধ্যে। টানেল তৈরির পর জমি কোদাল দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে ভালোভাবে চাষ বা কর্ষণ করে প্রতি টানেলে পর্যাপ্ত জৈব সার, ২.৫ কেজি খৈল, ইউরিয়া ৮০০ গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম এবং এমওপি ৭০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হয়। ইউরিয়া ও পটাশ সারের অর্ধেক জমি তৈরির সময় এবং বাকি অর্ধেক চারা গজানোর দুই সপ্তাহ পরে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। এগুলো সম্পন্ন হলে চারা বা বীজ রোপণের আগে বেড তৈরি করে নিতে হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে টানেলপ্রতি ২০০ গ্রাম পালংশাকের বীজ বুনলে ১ মাস পর অর্থাৎ আষাঢ় মাসে ফসল তোলা যায়।

কৃষকদের লাভ(Farmers profit):

টানেল পদ্ধতিতে অমৌসুমে সবজি চাষ করে পৃথিবীর অনেক দেশ বিশেষ করে ভারত প্রতি বছর নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে প্রচুর সবজি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে। আমাদের দেশের চাষিদের যদি সবজি চাষের এই কৌশল সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে তাহলে আমাদের দেশও নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা  আয় করতে পারে। এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করে কৃষকবন্ধুরা আর্থিক দিক থেকেও লাভবান হয়ে থাকেন অনেক

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

‘ডিজিটাল ঢেঁকি’তে আগ্রহ ঠাকুরগাঁওয়ে

ঢেঁকিছাঁটা চালে পুষ্টিমান বেশি থাকে। খেতেও সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এই যুগে মেশিনের দাপটে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ঢেঁকি। কিন্তু তাই বলে কি ঢেঁকিছাঁটা চাল পাওয়া যাবে না? এই প্রশ্নেরই জবাব তৈরি করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ভোরনিয়া গ্রামের যুবক ওমর ফারুক।

তিনি তৈরি করেছেন ডিজিটাল ঢেঁকি। প্রযুক্তি ও আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে বিলুপ্ত প্রায় প্রাচীন ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনছেন তিনি। ডিজিটাল ঢেঁকির মাধ্যমে ধান ভাঙিয়ে চাল তৈরি করে বাজারজাতও করেছেন। তার এই ঢেঁকিছাঁটা চাল বেশ সাড়া ফেলেছে এলাকায়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে মনে করছেন ওমর ফারুক।

রানীশংকৈলের ভোরনিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে ওমর ফারুক। তিনি বৈদ্যুতিক মটরের মাধ্যমে ৬ মাস আগে স্থাপন করেন ‘ডিজিটাল ঢেঁকি’। প্রাচীন ঢেঁকিতে ধানের তুষ ছাড়িয়ে চাল বের করা ছিল খুব কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। কিন্তু ওমর ফারুকের ডিজিটাল ঢেঁকিতে ধানভাঙা খুবই সহজ ও স্বল্প সময়ে অধিক চাল তৈরি হয়। সনাতন পদ্ধতিতে ঢেঁকিতে এক প্রান্তে কাউকে পা দিয়ে বার বার চাপ দিতে হয়। আর ওমর ফারুকের ডিজিটাল ঢেঁকিতে বৈদ্যুতিক মটরের মাধ্যমে লোহার হাতল দিয়ে একইভাবে চাপ দিতে হয়। এতে সময় ও শ্রম দুটোই কম ব্যয় হয়। এই ঢেঁকিতে দিনে ৫ থেকে ৬ মণ ধান ভাঙতে পারেন বলে শ্রমিক ও মেশিন অপারেটর মানিরুল ইসলাম জানান।

ওমর ফারুকের ‘ঢেঁকিছাঁটা চালের’ ফাইবার থাকছে অটুট, ঠিক সনাতন পদ্ধতির ঢেঁকিছাঁটা চালের মতোই বজায় থাকছে পুষ্টিমান। এ কারণে ওমর ফারুকের ডিজিটাল ঢেঁকির চালের চাহিদা বেড়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বাজারে আমরা যে চাল খাচ্ছি তার চেয়ে ঢেঁকিছাঁটা চাল খেতে সুস্বাদু। এ ছাড়াও স্থানীয় আবুল হোসেন বলেন, আগে পুষ্টিসমৃদ্ধ ঢেঁকিছাঁটা চাল খেতাম। এখনো ঢেঁকিছাঁটা চালের চাহিদা আছে।

প্রযুক্তিগত বা কারিগরি সহায়তা পেলে বৃহদাকারে এই শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারবেন বলে জানান ওমর ফারুক। এ বিষয়ে নারগুন উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল জলিল বলেন, ওমর ফারুক সেই ঢেঁকিকে আবার জনপ্রিয় করে তুলেছেন। এই ধারা অব্যাহত রাখা হলে আমরা পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল খেতে পারব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষি আধুনিকীকরণ ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয়

কৃষি আধুনিকীকরণ ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয়

আয়তনে ছোট এবং বেশ ঘনবসতিপূর্ণ হলেও স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছরে সীমিত সাধ্য নিয়েই বাংলাদেশ একাধিক ক্ষেত্রে বিশ্বে গৌরবোজ্জ্বল ও ঈর্ষণীয় অবস্থান তৈরি করেছে। এর মধ্যে অন্যতম, আধুনিকায়নের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন।

কৃষির আধুনিক সম্প্রসারণ শুরুই হয় ২০০৯ সাল থেকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় আর সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায়। এর নির্দেশকগুলো পরিসংখ্যাননির্ভর যার ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে প্রয়োগিক বাস্তবতায়। গত ১২ বছরে এই অর্জনের গতি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আর তা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত পদক্ষেপে। ফলে এ সম্পর্কিত নীতিগুলো যেমন হয়েছে প্রকৃষ্ট, তেমনি বাস্তবায়নও হয়েছে দুর্বার।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য কেনা দামের ওপর ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে।  ২০১০ থেকে ২০২০, এই এক দশকে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।

বিশ্বে সর্বপ্রথম তোষা পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের কৃতিত্ব এদেশের কৃষি বিজ্ঞানীদের।  তাছাড়া এই এক যুগে ‘বৈরি পরিবেশ সহনশীল’ জাতসহ মোট ৬৫৬টি উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল উদ্ভাবিত হয়েছে। সেচ সুবিধা দিতে আধুনিক যন্ত্র আনা, স্থাপন, অবকাঠামোগত নির্মাণ, সংস্কারকাজেও বেশ এগিয়েছে।


খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনেও বাংলাদেশ ব্যাপক সাফল্য দেখাচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও ইন্দোনেশিয়াকে টপকে বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে, সবজি উৎপাদনেও তৃতীয়। পাট উৎপাদনে দ্বিতীয়, চা উৎপাদনে চতুর্থ, আলু ও আম উৎপাদনে সপ্তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

গত এক দশকে মাছ উৎপাদন বেড়েছে ১৬ লাখ টন বা প্রায় ৫৫ শতাংশ।  প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।


২০১৯-২০ অর্থবছরে দুধের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন, মাংস উৎপাদন ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন ও ডিম উৎপাদন ১ হাজার ৭৩৬ কোটি।  সবগুলোই ১০ গুণের বেশি বেড়েছে।

জাত উন্নয়নের ফলে গরু-মহিষের দুধ উৎপাদন বেড়েছে ৬ থেকে ১৫ গুণ পর্যন্ত।প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, চার বছর ধরে শতভাগ দেশি গরু দিয়েই মিটছে কোরবানির পশুর চাহিদা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com