আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

জৈব

কেঁচো সারে সচল সংসারের চাকা

রাঙামাটি: স্বামীর আয়ে সংসারে টেনেটুনে চললেও সন্তানদের লেখা-পড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো। রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা মারজাহান বেগম কেঁচো সার উৎপাদন করে সংসারের সেই টানাপোড়েন ঘুচিয়েছেন। কেবল তা-ই নয়, তার চোখে-মুখে এখন আরও ভালো কিছু করার স্বপ্ন যেন জ্বলজ্বল করছে।

দুই ছেলে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সংসার। বসবাস করেন জেলা শহরের সিএ অফিস পাড়া এলাকায়।

তাদের দুই ছেলে এখন ঢাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করছেন। এ কেঁচো সার বিক্রি করে মারজাহান সংসারের নানা প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি মেটাচ্ছেন দুই সন্তানের লেখা-পড়ার খরচও।

মারজাহান বেগম বাংলানিউজকে জানান, কেঁচো সার (ভার্মিকম্পোস্ট) উৎপাদনের বিষয়টি তিনি টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তারপর স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণের সহযোগিতায় কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এরপর থাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে।  

একটি সরকারি ব্যাংক থেকে গত বছর এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেন এক কেঁচো সার উৎপাদন কাজ। প্রথমে তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি স্থান নির্বাচন করে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন মারজাহান। কেঁচো সার ও কেঁচো বিক্রি করে প্রতিমাসে আয় করছেন ২০ হাজার টাকা।
মারজাহান বেগম কেঁচো সার উৎপাদনকেন্দ্র
তিনি বলেন, কেঁচো সার উৎপাদন করতে প্রথমে কাঁচা গোবর, মুরগীর বিষ্ঠা, বিষমুক্ত সবুজ লতা-পাতা, তরকারির খোসা, ফলের খোসা এবং কলা গাছের কুচি দরকার হয়। আর ভার্মিকম্পোস্ট তৈরির মূল উপাদান অস্ট্রেলিয়ান এজোজিক কেঁচো সংগ্রহ করতে হয়। এ কেঁচোগুলো তিনি সংগ্রহ করেছেন স্থানীয় একটি এনজিও সংস্থা থেকে। তার এ কাজে সহযোগিতা করছেন তার স্বামী। পাশাপাশি কাজের লোকও রাখাছেন ওই গৃহিণী।

মারজাহান আরও বলেন, অল্প পরিমাণ জায়গায় মাত্র ৫০ হাজার টাকা খরচ করে প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা মতো আয় করছি। কেঁচো সার বিক্রি করে টানাপোড়েনের সংসার দুঃখ অনেকটাই ঘুচেছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে দিন কাটাচ্ছি। কেঁচো সারের পাশাপাশি নার্সারি, ও হাঁসের খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে।

কেঁচো সার বিক্রির ব্যাপারে এ গৃহিণী বলেন, স্থানীয় চাষিরা খুচরা এবং পাইকারি দামে বাড়ি থেকে সার কিনে নিয়ে যায়। তাছাড়া বড় বড় সারের দোকানগুলো পাইকারি দামে বাড়িতে এসে সার সংগ্রহ করে।  

পরিশ্রম ছাড়া কোনো পেশায় সফল হওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মনোযোগ দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করা দরকার। তাহলে পরিশ্রম ফল হিসেবে সফলতা ধরা দেবে এবং অভাব ঘুচে যাবে এক নিমিষে। কেঁচো সার উৎপাদনে বেকার তরুণ-তরুণীদের উদ্বুদ্ধ হতে আহ্বান জানান গৃহিণী মারজাহান বেগম।

এ বিষয়ে রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া বাংলানিউজকে বলেন, যে কোনো বেকার যুবক অল্প জায়গায় স্বল্প পুঁজি দিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করতে পারে। অধিক ফসল উৎপাদনে এ সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কেউ কেঁচো সার উৎপাদন করতে চাইলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাকে সাহায্য করবে। মারজাহান বেগম একটি দৃষ্টান্ত উদাহরণ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

কেঁচো সারে সম্মাননা পদক ছাত্রীর, অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নিভৃত পল্লীর মেধাবী ছাত্রী কুলসুম আক্তার। রংপুর কারমাইকেল কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশী বাবার সহযোগীতায় নিজ বাড়ীতে ভার্মি কম্পোষ্ট (কেঁচো) সার তৈরীতে বিশেষ অববদান রাখায় স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেছেন “জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্মাননা পদক ২০০০”। গত ৩ অক্টোবর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি হলরুমে  বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ এবং বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানে এই পদক প্রদান করা হয়। 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশায় অবদান রাখায় দেশের ১৭ জন ব্যক্তিকে এই পদক প্রদান করা।  ওই অনুষ্ঠানে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ভার্মি কম্পোষ্টে বিশেষ অবদান রাখায় পদক প্রাপ্ত হয়েছেন পীরগঞ্জের সফল উদ্যোক্তা কুলসুম আক্তার । কুলসুম আক্তার জানান, তিনি বর্তমানে রংপুর কারমাইকেল কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী। তারা ৫ বোন। বছর দশেক আগের কথা, কুলসুমের পিতা রবিউল আলম অন্যের জমিতে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। অভাবের কারণে ২০০৯ সালে সপ্তম শ্রেণীতে উঠলে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় কুলসুমের। বাধ্য হয়ে সে ওই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে গ্রামের এক বাড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে চতরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুজ্জামান কুলসুমের বাড়িতে যান। বাবা-মাকে বুঝিয়ে কুলসুমকে ডেকে নেন। পরামর্শ দেন, স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) অধীনে বিষ মুক্ত সবজি চাষ ও কেঁচো সার তৈরির কৌশল শিখে নেওয়ার। পরে একটা এনজিওতে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করে কুলসুম। বাড়ির এক পাশে চালা তুলে সেখানে সিমেন্টের চারটি রিং স্থাপন করেন। সকাল-বিকাল মাঠে ঘুরে তাজা গোবর সংগ্রহ করে রিংগুলো ভরিয়ে তোলার পর ওই সংস্থার কাছ থেকে ৬০০টি বিশেষ প্রজাতির কেঁচো এনে রিংয়ের ভেতর ছেড়ে দেন। এতে ৩ মাসে চারটি রিং থেকে প্রায় ২০০ কেজি কেঁচো সার পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ৬০০টি কেঁচোর বাচ্চাও প্রাপ্ত হন। প্রথম পর্যায়ে কুলসুম ১৫ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার টাকার সার বিক্রি করেন। সেই সাথে কেঁচো বিক্রি করেও পান ৬০০ টাকা। এ আয় কুলসুমের চোখ খুলে দেয়। পরে ইট দিয়ে পাকা গর্ত নির্মাণ করে কেঁচো সার তৈরি শুরু করেন। মেয়ের সঙ্গে শ্রম দেয় বাবাও।

২০০৯ সালে সার ও কেঁচো বিক্রি করে সব মিলিয়ে মোট ২৩ হাজার টাকা জমা করেন। এ টাকা দিয়ে অন্যের ৮০ শতক জমি বর্গা নিয়ে কেঁচো সার দিয়ে শসা, লাউ, শিম, করলা চাষ করেন। এ ফসল বিক্রি করে আয় হয় ৭০ হাজার টাকা। এ ভাবে আয় বাড়ে, সাথে বাড়ে চাষের জমিও। সার, কেঁচো ও সবজি বিক্রির টাকায় কেনেন ২৬ শতক জমি। নির্মাণ করেন টিনের বাড়ি।  কুলসুমার সংসারে এখন প্রতিমাসে আয় নূন্যতম ৩০ হাজার টাকা। কেঁচো সার বিক্রির টাকা দিয়ে ৩ বোনকে বিয়েও দিয়েছেন। কুলসুমসহ আরো দু’বোন পড়াশুনা করছেন। তাদের সংসারে এসেছে স্বচ্ছলতা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

কেঁচো সারে কর্মসংস্থান হচ্ছে যুবক ও নারীদের

এই সার উৎপাদনের মাধ্যমে একজন কৃষক মাসে ন্যূনতম ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন

সিলেট অঞ্চলে ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট)। সবজি চাষে ব্যবহারে সফলতা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় কৃষকেরা এখন রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কেঁচো সার ব্যবহারের প্রতি ঝুঁকছেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। 

কৃষি বিভাগ জানায়, ভার্মি কম্পোস্ট রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে সার ফল, ফুল ও সবজি কিংবা রবিশস্য চাষে ব্যবহার হয়। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় গত কয়েক বছর ধরে উৎপাদন হচ্ছে এ সার। গত কিছুদিন ধরে দক্ষিণ সুরমা ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। সারটি ইতোমধ্যেই শিক্ষিত যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, আপাতত প্রতিমাসে বিয়ানীবাজার উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন কেঁচো সারের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্প পুঁজিতে স্থানীয়ভাবে “পঞ্চখ- সার” নামে তা বাজারজাত করে একজন কৃষকের প্রতিমাসে আয় হচ্ছে কমপক্ষে ২৫-৩০ হাজার টাকা। এর মাধ্যমে রাসায়নিক সার ছাড়াই ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ ও টমেটোসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতে পারছেন কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট-এর উপ-পরিচালক সালাউদ্দিন আহমদ জানান, বিগত কয়েক বছর থেকে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) এর মাধ্যমে সিলেটের ১৩ উপজেলায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও মাটির উত্তম স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিবছর একদিনের এ প্রশিক্ষণে বিভিন্ন উপজেলার ৯০-১২০ জন কৃষক অংশ নেন। তাদের নিয়েই বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠেছে “উপজেলা প্রডিউসার অর্গানাইজেশন”। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় শাহীন নামের একজন কৃষক ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। বিয়ানীবাজারেও অনেকে এ ক্ষেত্রে সাফল্য পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষিত সদস্যরা উষ্ণ স্থানে ২০টি পাকা রিংয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ কেঁচো, ১৫ দিনের পুরনো গোবর এবং কলা গাছ/কচুরিপানা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে রাখেন। এ থেকে ৩০-৪৫ দিনে উৎপাদন হবে এক থেকে দেড় মেট্রিক টন কেঁচো সার। এ সার বিক্রির বাজার মূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা। প্রথমবার এতে সর্বোচ্চ খরচ হবে ১০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে প্রতিমাসে কেঁচো বিক্রি করে আরও ৮-১০ হাজার টাকাসহ কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা উপার্জন করা সম্ভব। এভাবে যত বেশি রিং ব্যবহার করা হবে কৃষক তত বেশি লাভবান হবেন। রিং হলে ভালো, নতুবা পলিস্টারের বস্তায় ভরেও কেঁচো সার উৎপাদন করা যায়। 

উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের পুরুষপাল গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুছ জানান, গত দুই বছর শুধুমাত্র নিজের জমিতে রবিশস্যের জন্য ৪টি রিংয়ে কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহার করেছেন। এবার কৃষি কর্মকর্তার উৎসাহে তিনি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য ২০টি রিং ব্যবহার করছেন। এ থেকে তার কমপক্ষে এক মেট্রিক টন কেঁচো সার উৎপাদন হবে। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় তার মতো আরও ২০-২৫ জন প্রশিক্ষিত কৃষক এ সার উৎপাদনে এগিয়ে এসেছেন। 

সরকারি একটি প্রকল্পে কাজ করেন শেওলা ইউনিয়নের ঢেউনগর গ্রামের শিক্ষিত তরুণী রিতাঞ্জলী। কেঁচো সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়াতে তিনি চাকুরির ফাঁকে বাণিজ্যিকভাবে সার উৎপাদনে হাত দিয়েছেন। গোলাপগঞ্জের এক কৃষকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকায় তিন কেজি কেঁচো কিনেছেন। এবার ২০টি রিংয়ের কেঁচো সার বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। 

উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের দুবাগ গ্রামের কৃষাণী পারুল বেগম জানান, প্রথমে ৬টি রিং দিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করলেও পরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আরও ৬টি রিং যুক্ত করেছেন। সম্প্রতি ২১০ কেজি সার ও ৭ হাজার টাকার কেঁচো বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি। 

একইভাবে বিয়ানীবাজার উপজেলার কৃষক আব্দুর রব, ময়নুল ইসলাম, মঈন উদ্দিনসহ আরও অনেকেই “পঞ্চখ- সার” বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছেন। তারা এ সার দিয়ে নিজের ফসল ফলানোর পাশাপাশি বিপণনের মাধ্যমে আয় করতে চান মোটা অংকের টাকা। 

বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুজ্জামান বলেন, কেঁচো সার দিলে ফসলের উৎপাদন বেশি ও ফল বা সবজি সুস্বাদু হয় । এ জন্য আমরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার উৎপাদনে কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহিত করছি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা গুণগত মান বজায় রেখে বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। এ থেকে কৃষক মাসে ন্যূনতম ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারবে। 

তিনি আরও বলেন, “বিয়ানীবাজারে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে মাসে ৫০ মেট্রিক টন কেঁচো সার বা ‘পঞ্চখ- সার’ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।”

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আবুল কাশেম বলেন, “গবেষণায় সিলেট অঞ্চলে ফসল উৎপাদনে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এ সার ব্যবহারে বাঁধা কপি, ফুলকপি ও টমেটোর ভালো ফল হয়। পাশাপাশি মাটিতে জিংক ও আর্সেনিকের দূষণ রোধেও সহায়ক এ সার। এ নিয়ে সিকৃবিতে তার অধীনে একজন শিক্ষার্থী পিএইচডি করেছেন। অপরজন পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ করছেন।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

কেঁচো সারের উদ্যোক্তা কুলসুম পেলেন শেখ হাসিনা পদক

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কেঁচো সারের উদ্যোক্তা কুলসুম আখতারকে সম্মাননা পদক তুলে দিচ্ছেন অতিথিরা

২০০৯ সালে সপ্তম শ্রেণিতে ওঠার পর অভাবের কারণে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় কুলসুম আখতারের। পরে শিক্ষকের পরামর্শে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার অধীনে বিষমুক্ত সবজি চাষ ও কেঁচো সার তৈরির কৌশল শিখে নেন। বাড়িতে কেঁচো সার তৈরি করে চলতে থাকে জীবনসংগ্রাম। থেমে থাকেনি পড়াশোনাও।

মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ভার্মি কম্পোস্টে (কেঁচো সার) বিশেষ অবদান রাখায় সেই কুলসুম পেয়েছেন ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্মাননা পদক-২০২০’। ৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি হলরুমে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই পদক তুলে দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। কুলসুম রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামের রবিউল আলমের মেয়ে।

আত্মপ্রত্যয়ী এই কুলসুম আখতারকে নিয়ে ২০১৩ সালের ২ মার্চ প্রথম আলোতে ‘কুলসুমের কেঁচোর সংসার’ শিরোনামে শনিবারের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সখীপুর গ্রামে কুলসুম খাতুন ও তাঁর বাবা ইট দিয়ে তৈরি হাউস থেকে কেঁচো সার তুলছেন

বর্তমানে কুলসুম আখতার রংপুর কারমাইকেল কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি এসএসসিতে চতরা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৪ ও এইচএসসি পরীক্ষায় চতরা বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।

পদক পাওয়ার পর কুলসুম আখতার বলেন, ‘আগে সমাজে কোনো পরিচয় ছিল না। অর্থসংকটের কারণে লেখাপড়াও করতে পারছিলাম না। প্রথম আলো আমাকে সারা দেশে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। কেঁচো সার তৈরি করে পড়াশোনা চালিয়ে এত দূর এসেছি। এ পদক পাওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। আমার ইচ্ছা, পীরগঞ্জের পাশাপাশি সারা দেশে কেঁচো সার ছড়িয়ে দেওয়ার।’

পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাদেকুজ্জামান সরকার মুঠোফোনে বলেন, পীরগঞ্জে কুলসুমের নাম বলতেই সবায় চেনেন। তিনি কেঁচো সারের উদ্যোক্তা। বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। তাঁকে দেখে সখীপুর গ্রামের কৃষক, শিক্ষার্থীরাও কেঁচো সার তৈরি করে বিক্রি করছেন। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ভার্মি কম্পোস্টে বিশেষ অবদান রাখায় কুলসুম আখতার জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্মাননা পদক-২০২০ পেয়েছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

রাসায়নিকের বিকল্প কেঁচো সার

• নারীরাও প্রশিক্ষণ নিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করে অর্থ রোজগার করছেন
• তাঁদের দেখাদেখি অন্য নারীরাও উদ্যোগী হচ্ছেন
• রাসায়নিক সারের বদলে ব্যবহার হচ্ছে কেঁচো সার

সবজি চাষে ব্যবহারে সফলতা এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট)। গাজীপুরের শ্রীপুরে কৃষকেরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে এখন কেঁচো সারের ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। নারীরাও প্রশিক্ষণ নিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করে অর্থ রোজগার করছেন। তাঁদের দেখাদেখি অন্য নারীরাও উদ্যোগী হচ্ছেন।

উপজেলার সর্বদক্ষিণের রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নিভৃত এক গ্রাম চিনাশুকানিয়া। কৃষির প্রতি প্রেম আছে এমন কৃষকে ভরপুর গ্রামটি। বুধবার দুপুরে রাজাবাড়ি বাজার থেকে চিনাশুকানিয়া যেতে সড়কের দুই পাশের চিত্র দেখে কৃষির প্রতি মানুষের মায়া চোখে পড়ে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁয়াজ, লাউ, পুঁইশাক, টমেটোসহ বাহারি শস্য ছড়িয়ে আছে সবখানে। এদিন চিনাশুকানিয়া পৌঁছে কথা হয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। সবজিখেতের সবুজের জৌলুশের পেছনের গল্পটা জানা হলো তাঁদের কাছ থেকে।

এই গ্রামের কৃষক সুমন শেখ জানান, এক বছর ধরে তিনি তাঁর শস্যখেতে রাসায়নিক সার ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছেন। বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক কেঁচো সার ব্যবহার করছেন। তাঁর মতো এই এলাকায় এমন সার ব্যবহার করা কৃষকের সংখ্যা ৪০-৫০ জন। আরেক কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, এই সারের ব্যবহারে সবজিখেতে শস্য উৎপাদন বেড়ে যায়। তা ছাড়া এটি রাসায়নিক সারের বিকল্প হওয়ায় স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সবজি উৎপাদিত হয়।

এক বছর ধরে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন চিনাশুকানিয়া গ্রামের মাকসুদা বেগম। তিনি কেঁচো সার উৎপাদন সম্পর্কে ধারণা দিয়ে বলেন, প্রথমে তিনি কৃষি অফিস থেকে কেঁচো আনেন। পরে স্থানীয় খাল-বিল থেকে আধাপচা কচুরিপানা এনে ছোট ছোট টুকরা করেন। এর সঙ্গে আধাপচা কলাগাছ টুকরা করে কেটে মেশানো হয়। সঙ্গে গোবর মিশিয়ে বস্তায় ভরে ১২ থেকে ১৫ দিন রেখে দেন। এরপর এই উপাদানগুলো সিমেন্টের পাত্রে রেখে সেখানে কেঁচো ছাড়া হয়। ২০-২২ দিনের মধ্যে উপাদানগুলো কেঁচো সারে পরিণত করে। এই সারই হলো কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট।

আরেক উদ্যোক্তা মোশরিফা খাতুন বলেন, এই সার উৎপাদন করে তিনি তাঁর পরিবারের খরচের একটি অংশ রোজগার করতে চান। এই উদ্দেশ্যেই সার উৎপাদনের উদ্যোগ নেন তিনি। পাশের অন্য একজনকে দেখে তিনি উদ্যোগী হন। বর্তমানে তাঁর উদ্যোগ দেখে অনেকেই এই উৎপাদনে আসতে চাইছেন। কেঁচো সার উৎপাদনে যুক্ত আছেন এই গ্রামের লাভলী, ফাতেমা খাতুনসহ আরও অনেক নারী।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উর্বর মাটিতে ৫ শতাংশ জৈব পদার্থ থাকার কথা। এতে মাটিতে পানির ধারণক্ষমতা ও বায়ু চলাচলের সুযোগ বাড়ে। কিন্তু দেশের বেশির ভাগ এলাকায় মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ মাত্র ১ শতাংশ। তাই মাটিতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ালে মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা বাড়বে। ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার মাটিকে নরম করে এবং পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন অণুজীবের বসবাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে ক্রমেই ভূমির উর্বরতা কমে যেতে থাকে। ফলে এখন থেকেই মাটিতে কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার বাড়াতে হবে।

উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আইরিন সুলতানা বলেন, সবজি উৎপাদনে এই এলাকার কৃষকেরা কয়েক বছর ধরেই কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহার করছেন। বর্তমানে এখানে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন ৩৫ জন। তাঁরা এগুলো স্থানীয় কৃষিপণ্যের দোকানে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছেন। একই সঙ্গে জমিতে রাসায়নিকের ব্যবহারও কমছে। প্রতি মাসেই কেঁচো সারের উৎপাদনকারীর সংখ্যা বাড়ছে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই এলাকায় সার উৎপাদনকারীরা কেঁচো উৎপাদন করে বিক্রি করতে পারবেন। প্রতি কেজি কেঁচোর বাজারমূল্য দুই থেকে তিন হাজার টাকা।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এস এম মূয়ীদুল হাসান বলেন, ‘জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি প্রকল্পের (এনএটিপি-২) আওতায় উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে এই সার উৎপাদন করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরও দু-একটি ইউনিয়নে বিচ্ছিন্নভাবে অনেকেই উৎপাদন করছেন। বর্তমানে যাঁরা কেঁচো সার উৎপাদন করছেন, তাঁদের সফলতায় আমরা নতুন উৎপাদনকারী পাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘সারের উৎপাদনের জন্য আমরা আপাতত কেঁচোসহ সব উপকরণ বিনা মূল্যে কৃষকদের দিচ্ছি। বড় পরিসরে কেউ উদ্যোগ নিলেও আমরা তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com