আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

বরিশালে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে একের পর এক হামলা

প্রভাবশালী লোকজনের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে মা ইলিশ নিধন। অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

বরিশালে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে গিয়ে একের পর এক হামলার ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অসহায় হয়ে পড়েছেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর গত এক সপ্তাহে অভিযান চালাতে গিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তিনটি পৃথক হামলার ঘটনায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড-সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। মা ইলিশ ধরার খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) জাকারিয়া রহমান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্যামতসহ বন্দর থানার পুলিশের ১০ সদস্যের একটি দল ওই এলাকায় অভিযানে যায়। সেখানে পৌঁছামাত্র একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তারা এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। হামলার মুখে আত্মরক্ষায় অভিযান পরিচালনাকারী সদস্যরা পিছু হটেন। হামলায় পুলিশের দুই সদস্য এবং তাঁদের বহনকারী একটি স্পিডবোটের চালক আহত হন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনার দেবুয়া এলাকায় নৌ পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া গত রোববার মেহেন্দীগঞ্জের দুজন প্রভাবশালী ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকারী দলের ওপর আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটে।

মৎস্য বিভাগ বলছে, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা, বরিশাল সদরের চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন-সংলগ্ন এলাকার কীর্তনখোলা নদী ইলিশের ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের অংশ হওয়ায় প্রজননের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব এলাকায় মা ইলিশের বিচরণ বেশি হওয়ায় অসাধু জেলেরা সেখানে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরেন। প্রতিবছরই নিষেধাজ্ঞার সময় স্থানীয় প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলেরা রাতের আঁধারে নদীর এসব অংশে ব্যাপক হারে মা ইলিশ নিধন অব্যাহত রাখেন। এঁদের নিবৃত্ত করতে গেলেই নদীতে হামলার শিকার হচ্ছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, হিজলা উপজেলার হরিণাথপুর, শাওরা সৈয়দখালী, চরকিল্লা, অন্তর্বাম, দেবুয়া, কাইসমা, ধুলখোলা, আবুপুর, গঙ্গাপুর, নাছোকাঠি-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে চলছে মা ইলিশ নিধন। একই সঙ্গে বরিশাল সদরের চন্দ্রমোহন-সংলগ্ন নদীতে রাতের জোয়ারে প্রতিনিয়ত অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকার করে আসছে স্থানীয় একটি চক্র। এঁরা পেশাদার জেলে না হলেও প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় মাছ ধরেন। তাঁদের ইঙ্গিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, মেহেন্দীগঞ্জের চারদিকে মেঘনার শাখা-প্রশাখা, যেখানে ব্যাপক মা ইলিশের বিচরণ। এই এলাকায় প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ীরা কৌশলে শিশুদের দিয়ে ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। শিশুদের দণ্ড দেওয়ার বিধান না থাকায় তাঁরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। এমনকি তিনিও অভিযানে গিয়ে জেলেদের ধাওয়ার শিকার হয়েছেন।

নৌ পুলিশ সূত্র জানায়, ওই এলাকার বিশাল মেঘনা নদীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নৌ পুলিশের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। কিন্তু এত স্বল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে অবস্থা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হিজলা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেল্লাল হোসেন বলেন, অবস্থা বিবেচনায় এখানে পুলিশের আরও ৩৪ জন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন। তাঁদের দুটি এলাকায় ভাগ করে ২৪ ঘণ্টা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন মেঘনার পাহারায় নিযুক্ত করা হবে।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিচুর রহমান বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও বরিশাল জেলা প্রশাসককে পরিস্থিতি জানানো হলে দুই উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

৭ দিনে ৩৩৬ জনের কারাদণ্ড

এবার ১৪ অক্টোবর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, বেচাকেনা, পরিবহন, বিপণন ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য বিভাগ। মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৪ অক্টোবর থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৭৭০টি অভিযান পরিচালিত হয়। পাশাপাশি ৩৫০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হয়। অভিযানের সময় ৩৬৭টি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানে আটক লোকজনের কাছ থেকে ৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩৩৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২৮ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ইলিশ।

বাংলাদেশ

বিনা পুঁজির সবজি চাষে নীরব বিপ্লব

ভোলা: বাঁধের পাশের ক্ষেতে বেগুন, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বটবটি, করলাসহ নানা ধরনের সবজির সমারোহ। সরকারি পতিত জমিতে বিনা পুঁজিতে আবাদ করে সেগুলো ফলিয়েছেন ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষেরা। অন্য বছরগুলোর মতো এবারও বাম্পার ফলনের আশায় খুশি তারা। 

ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী মৎস্যঘাট সংলগ্ন বিস্তীর্ণ জমিতে এভাবেই সবজি চাষে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। অন্য কাজের ফাঁকে বিকল্প এ কর্মসংস্থানে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদী ভাঙনের শিকার জেলে, দিনমজুর ও কৃষকের বসবাস শহররক্ষা বাঁধের পাশে। গৃহহারা এসব মানুষের নিজস্ব জমিও নেই। তাই সরকারি জমিতেই সবজি ফলাচ্ছেন অন্তত ৩০ জন নারী-পুরুষ। কেউ কেউ সবজি তোলা আর বাকিরা ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।  

বাঁধের প্রায় ৩ কিলোমিটার পতিত জমি ভরে গেছে শীতকালীন নানা সবজিতে।  ছবি: বাংলানিউজপ্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সনাতন পদ্ধতিতে মাচায় সবজির চাষ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সহায়-সম্বলহীন প্রায় ৩০টি পরিবারের ওই মানুষেরা, দূর করেছেন আর্থিক অসচ্ছলতা। বিকল্প এ পেশায় সংসারে যোগ হওয়া বাড়তি আয়ে ভাগ্যও বদলে নিতে পেরেছেন অনেকে।  


নিজেদের পরিচর্যায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন জানিয়ে সবজিচাষি নাছির উদ্দিন বলেন,  ‘গত বছর ৫ গণ্ডা জমিতে আবাদ করেছিলাম, বিক্রি হয়েছে ৮৬ হাজার টাকা। এ বছরও ফলন অনেক ভালো’।  

হাসেম বলেন, ‘বাঁধের ১৬ শতাংশ জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করেছি। গত বছরের চেয়ে ফলন অনেক ভালো’।

বশির ৮ শতাংশ, কামাল দুই কড়া, সিডু এক কড়া, সিরাজ তিন কড়া জমিতে করলা, বটবটি, লাউয়ের চাষ করেছেন, লাভের আশা করছেন তারাও।  

অন্য বছরগুলোর মতো এবারও বাম্পার ফলনের আশায় খুশি সবজিচাষিরা।  ছবি: বাংলানিউজআকবর ও ফাতেমাসহ আরও অনেকে বলেন, ‘সবজির ক্ষেতে রোগ বা পোকার আক্রমণ নেই। নিজেরাই পরিচর্যা করেছি, এখন ক্ষেতের অবস্থা অনেক ভালো। কিছুদিনের মধ্যে বিক্রি করতে পারবো’।  

গৃহিণী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব জমি নেই। তাই বাঁধের পতিত জমিতে সবজির চাষ করেছি, ফলন অনেক ভালো’।  

মনির উদ্দিন বলেন, ‘৮ কড়া জমিতে করলা, রেখা ও লাউয়ের চাষ করেছি। সবজি বিক্রির টাকায় দুই ছেলে ও এক মেয়ের পড়ালেখার খরচ যোগাচ্ছি’।  

ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘বাঁধের পাশের পতিত জমিতে কিছু সংখ্যক নারী-পুরুষ যে সবজির আবাদ করছেন, সেটি আমাদের জানা রয়েছে। তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে সবজি চাষের আরো প্রসার ঘটানোর চেষ্টা করছি’।  

এ বছর উপজেলায় ৮০০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

চরের জমিতে সবুজের হাতছানি

মাদারীপুর: মাদারীপুর জেলার পদ্মাবেষ্টিত একমাত্র জনপদ চরজানাজাত ইউনিয়ন। জেলার শিবচর উপজেলার অনত্যম বৃহৎ এই ইউনিয়নটির পুরোটাই দীর্ঘকাল আগে জেগে উঠা পদ্মার চর। ধীরে ধীরে জনবসতি বেড়ে লোকালয়ে পরিণত হয়েছে মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই চর। এই চর ঘিরে রয়েছে ছোট ছোট শতাধিক গ্রাম। কিছুদিন আগে বর্ষা মৌসুমে থৈ থৈ জলে নিমজ্জিত ছিল ইউনিয়নটি। প্রমত্ত পদ্মার খেয়ালিপনায় উজার হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। বসতভিটা হারিয়ে চর ছেড়ে মূল ভুখণ্ডে এসে আশ্রয় নিয়েছে শত শত মানুষ।

শীত মৌসুমে পানি কমে শুকিয়ে এসেছে চরের মাঠঘাট। একরের পর একর জমিতে এখন সবুজের হাতছানি।

মাঠে মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা। বর্ষায় ঘরবাড়ি হারিয়ে চর ছেড়ে যাওয়া মানুষেরাও ছুটে এসেছে ফসলি জমিতে। ফসল ফলানোর ব্যস্ততায় কষ্ট কিছুটা লাঘব হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে পদ্মার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, উর্বর মাটিতে ফসল ফলানোয় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। কারও নিজ জমি, আবার কেউ খাজনা করে শীতকালীন ফসল বুনছেন জমিতে। কলাই, সরিষা, মুগ, ফুলকপি, পালং শাক, লাল শাক, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, খিরা, ধনে পাতাসহ নানা রকম ফসল মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে চরের জমিতে।

মরিচ ক্ষেত্রে ব্যস্ত চাষি-ছবি-বাংলানিউজকৃষকেরা জানান, কৃষিকাজ, পশুপালন আর মাছ ধরাই চরের মানুষদের জীবিকার প্রধান উৎস। চরের জমিতে পেঁয়াজ, রসুনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এরপরই আসে ধানের আবাদ। পানি সহনশীল ধানে বর্ষা মৌসুমে চরের জমি ঢাকা পড়ে যায়। এছাড়া শীতকালের প্রথম দিকে নানা ধরনের সবজি চাষ করেন এখানকার মানুষেরা। মূল জমি ছাড়াও বাড়ির আঙিনায় নানা জাতের সবজি চাষ করা হয়।

কৃষক আব্দুল মান্নান মিয়া জানান, শীত মৌসুমে চরজানাজাত, মাদবরেরচর, পাঁচ্চরসহ আশপাশের হাটবাজারে যেসব সবজি বিক্রি হয় তার বেশিরভাগই এই চরের জমিতে উৎপাদিত। দেশি হিসেবে বেশ কদর রয়েছে এখানকার শাক-সবজির। এই চরের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কমবেশি শাক-সবজির চাষ হয়। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় বাজারগুলোতেও বিক্রি করা হয়।

প্রায় ১২ কাঠা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন কৃষক আহমদ আলী। খাজনা করে চরের জমিতে চাষাবাদ করেন তিনি। আলাপকালে তিনি বাংলানিউজকে জানান, চরের জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মরিচের আবাদ তেমন হয় না। এ বছরই মরিচের চাষ শুরু করেছি। মাটির উর্বরতার কারণে এখানকার জমিতে এই ধরনের চাষাবাদে তেমন সারের প্রয়োজন হয় না। শুধু নিয়ম অনুযায়ী নিড়ানী দিয়ে রাখতে হয়। এবছর ভালো ফলন আশা করছি।

ফসলের জন্য চাষ করা জমি-ছবি-বাংলানিউজতিনি আরও জানান, এ জমিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছি। আর মরিচের ফলন আসা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। মরিচ শেষ হলে এই জমিতে ধানের আবাদ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

শিবচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে নানা জাতের ফসল উৎপাদন হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের বিভিন্ন ফসলের বীজও অফিস থেকে দেওয়া হয়। চরাঞ্চলে উৎপাদিত ফসল ওই অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। চলতি মৌসুমে চরজানাজাত ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রায় দেড়শ হেক্টর জমিতে চারা বপন করা হয়েছে।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, চরজানাজাতসহ পদ্মার আশপাশের এলাকার চরাঞ্চলগুলোর মাটি উর্বর থাকায় বেশ ভালো ফসন ফলেছে। নানা জাতের শস্যের পাশাপাশি শাকসবজির চাষও হয় এ অঞ্চলে। আমাদের অফিস থেকেও ফসল উৎপাদনে নানা পরামর্শ দিই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

কচি লাউয়ের ডগায় দুলছে কৃষকের স্বপ্নও

নাটোর: গ্রামের আনাচে-কানাচে সর্বত্রই লাউয়ের ছড়াছড়ি। মাঠের পর মাঠ জুড়ে, বাড়ির উঠোনে, ঘরের চালায়, বড় বড় গাছে গাছে, রাস্তার দুই পাশে, এমনকি ঘরের সামনের ফাঁকা জায়গাগুলোতেও মাচায় মাচায় দুলছে লাউ আর লাউ।

গাছের প্রতিটি কচি ডগায় লাউ আর সবুজ পাতার সমাহারে দুলছে কৃষকের স্বপ্নও।
 
সরেজমিনে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত নশরতপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, লাউকে ঘিরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলছে বিশাল কৃষি কর্মযজ্ঞ।

নারী-পুরুষ ও শিশুরা মাঠ জুড়ে ক্ষেত থেকে লাউ ওঠাতে ব্যস্ত। কেউ লাউ কাটছেন, কেউ ভ্যানগাড়িতে সাজাচ্ছেন। রোদ ওঠার আগেই নিয়ে যাচ্ছেন আড়তে।

মোট ৬০ বিঘা জমিতে লাউয়ের আবাদে গ্রামটির শতাধিক চাষির ভাগ্য বদলে গেছে, হয়েছেন স্বাবলম্বী। তাদের সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসারের সমস্ত খরচ চলে লাউ বিক্রি করে।

চাষিরা জানান, কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের পরিবর্তে সেক্স ফেরোমন ও প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করছেন তারা। এতে বিষমুক্ত হওয়ায় বাজারে তাদের লাউয়ের চাহিদাও বাড়ছে।
বছরে এ গ্রামে লাউ উৎপাদিত হচ্ছে কোটি টাকার, প্রতিদিন বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও আড়তে যাচ্ছে অন্তত ৩ হাজার পিস করে। ফলে গতি পেয়েছে অর্থনীতির চাকাও।

কৃষকেরা আরও জানান, আগে যেসব জমিতে আখ ও কলা উৎপাদিত হতো, এখন সেখানে বাণিজ্যিকভাবে লাউয়ের চাষ হচ্ছে। কারণ, অল্প জমিতে আখ-কলার তুলনায় লাউয়ের আবাদ লাভজনক। লাউই তাই এখন এ গ্রামের প্রধান অর্থকরী ফসল।
 
কৃষি বিভাগ জানায়, সাধারণত আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি বা শেষদিকে লাউয়ের চারা রোপণ করতে হয়, ৫০/৬০ দিনের মাথায় উত্তোলন করা যায়। উন্নতজাতের বীজ রোপণ আর নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করলে ভালো ফলন হয়।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, ২০১০ সালে কৃষক আব্দুর রাজ্জাক প্রথমে ২৫ শতক জমিতে লাউ চাষ করে সফল হন। তাকে দেখে আরো অনেকেই শুরু করেন। ভালো ফলন হওয়ায় পরে আস্তে আস্তে এর বিস্তৃতি ঘটে।

সাইফুল ইসলাম জানান, পাঁচ বছর ধরে লাউয়ের চাষ করছেন তিনি। বিঘাপ্রতি জমিতে আবাদে ২০/২২ হাজার টাকা খরচ হয়। এক বিঘা জমি থেকে এ পর্যন্ত পাওয়া লাউ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এ মৌসুমেই অন্তত এক লাখ টাকার লাউ বিক্রির আশা করছেন তিনি।


 
সোলেমান আলীসহ অনেক কৃষক জানান, এবার লাউয়ের বাজার খুবই ভালো। প্রতিটি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম থাকলে বিঘাপ্রতি খরচ বাদে ৪০/৫০ হাজার টাকা লাভ হবে।
 
নাটোর স্টেশন বাজারের সবজি আড়তের পাইকারি ক্রেতা দুলাল হোসেন জানান, নশরতপুরে চাষ করা লাউয়ে বিষ নেই। তাই সেগুলো কিনে বিক্রিতে সমস্যায় পড়তে হয় না। ক্রেতাদের চাহিদাও বেশি।
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এবার জেলার ২০০ হেক্টর জমিতে লাউয়ের চাষ হয়েছে। সদর, নলডাঙ্গা ও লালপুর উপজেলায় বেশি আবাদ হয়েছে।
 
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান, লাউ উৎপাদনে সেচ, সার ও শ্রমিক খরচ কম হয়, পোকা-মাকড় খুব ক্ষতি করতে পারে না, ফলনও ভালো হয়। এজন্য কৃষকেরা লাউ চাষে ঝুঁকছেন।

নশরতপুর গ্রামের উৎপাদিত লাউ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

সবজি চাষ করে সফল দিনাজপুরের মতি

দিনাজপুর: অগ্রহায়ণের শেষে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত চারপাশ থাকছে কুয়াশায় ঢাকা। এরইমধ্যে গত তিনদিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের কারণে দেখা মেলেনি সূর্যের। আবহাওয়ার এরকম পরিস্থিতিতেও মতিউর রহমান মতি তার সবজি ক্ষেতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কুয়াশার হাত থেকে রক্ষা করতে প্রয়োগ করছেন বিভিন্ন বালাইনাশক। 

এক দফায় শিম সরবরাহ করে বাজারজাত করেছেন। বিক্রি করেছেন প্রায় ৭০ হাজার টাকার শিম।

বর্তমানে আলু, বেগুন ও শিম গাছে নতুন করে ফুল ও ফলন দেখা দিয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এই দুটি সবজি পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এরপর বাজারজাত করা হবে। বর্তমানে সবজির বাজার ভালো যাওয়ায় লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি।  

চলতি মৌসুমে বন্যার কারণে সবজি চাষে কিছুটা বিলম্ব হলেও জমিতে পলি পড়ায় ফলন বেশি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাই তিনি আশা করছেন বন্যার ক্ষতি ফলনের মাধ্যমে কিছুটা পুষিয়ে যাবে।

মতির সবজি ক্ষেত-ছবি-বাংলানিউজমতি দিনাজপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা রাম সাগর তাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত ৫ বছর যাবৎ সবজি চাষ করছেন। প্রতি বছরের তুলনায় এবার দুই বিঘা বেশি জমিতে শিম, বেগুন, ফুলকপি ও বাধাকপি চাষ করেছেন।  

এর আগে একই জমিতে ধান, গম, ভুট্টা চাষ করলে লোকসান গুণতে হয় মতিকে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তিনবেলা খেয়ে বেঁচে থাকাটাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। এরপর শুরু করেন সবজি চাষ। সবজি চাষের প্রথম মৌসুমেই সব পাওনাদারের টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তী মৌসুম থেকে লাভের টাকা গুণতে শুরু করেছেন।  

মতির সবজি ক্ষেত-ছবি-বাংলানিউজএ ব্যাপারে মতি বাংলানিউজকে বলেন, সবজি চাষ করে আমার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। বাবার রেখে যাওয়া তিন বিঘা জমির উপর সবজি চাষ শুরু করি। সবজি চাষে লাভবান হয়ে আগের দেনা পরিশোধ করেছি। তিন বিঘা দিয়ে শুরু করলেও অন্যের চার বিঘা জমি চুক্তিতে নিয়ে বর্তমানে মোট সাত বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছি। ফুলকপি-বাধাকপি উঠার সঙ্গে সঙ্গে টমেটোর চারা রোপণ করবো। এভাবেই সারা বছর সবজি চাষ করেন মতি।  

মতি জানান, দশদিন আগে শিমের প্রথম চালানেই খরচ উঠে কিছু লাভও হয়েছে। এখন পরবর্তী চালানের সবটুকুই লাভের অংশ। বাজার দর ঠিক থাকলে অন্য বছরের মতো এই মৌসুমেও সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ হবে। এবারে অন্য বছরের তুলনায় সবজি ক্ষেতে তেমন খরচ হয়নি। রোগ-বালাই দেখা না দিলে কম খরচেই বাজারে সরবরাহ করা যাবে।  

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, মতির সবজি চাষে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে। এখন সবজি ক্ষেতকে রক্ষা করতে সঠিক পরিচর্যায় ব্যস্ত তিনি। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে এবার মতির সবজি ক্ষেতে ব্যাপক ফলন হবে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বিষমুক্ত চাষে নিশ্চিত বেগুনের গুণ, লাভবান চাষিরাও

কুষ্টিয়া: কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তায় বিষমুক্ত বেগুন চাষে সাফল্য পেয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কৃষকেরা। কীটনাশকের বদলে জৈব বালাইনাশক ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার, উপকারী পোকা-মাকড় সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ পদ্ধতিতে আবাদ করছেন তারা।

বেগুনসহ বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে মাঠ দিবস ও বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব সবজি উৎপাদনে আইপিএম লাগসই প্রযুক্তি।

এতে ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দমন ও সবজির গুণগত মান নিশ্চিত হয়। বেগুনের পোকা দমনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ এখন বাজারে সহজলভ্য ও কার্যকরী। প্রতি ১০ বর্গমিটার জমির জন্য একটি ফাঁদ চারা লাগানোর ৪-৫ সপ্তাহ পর গাছের উচ্চতার ওপর খুঁটি দিয়ে স্থাপন করতে হবে। ৬-৭ দিন পর পর নিয়মিত সাবান পানি ও ৫০-৬০ দিন পর ফাঁদের উচ্চতা বদলাতে হবে।

ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দমন ও সবজির গুণগত মান নিশ্চিত হয় বিষমুক্ত নানা পদ্ধতিতে।  ছবি: বাংলানিউজউপজেলার চুনিয়াপাড়া এলাকার সফল কৃষক বাবলু কোম্পানি বাংলানিউজকে বলেন, ‘জমিতে কীটনাশক ছাড়াই বেগুনের চাষ করে বিষমুক্ত সবজি খাচ্ছি ও বাজারে বিক্রি করছি। নিমপাতা, ছাই আর সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করি। এতে আগের তুলনায় ফলনও ভালো’।

শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘কীটনাশকের পরিবর্তে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে ভালো উপকার পেয়েছি’।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘দেশে উৎপাদিত সবজির চাহিদা দিন দিন বাড়ছেই, রফতানি হচ্ছে দেশের বাইরেও। পাশাপাশি বাড়ছে নানা ধরনের ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের আক্রমণ। চাষিরা এসব পোকা দমনে বেগুনের ক্ষেতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীল। এতে তারা আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন’।

‘আইপিএম পদ্ধতিতে বিষ ব্যবহার না করেও বেগুন উৎপাদনে মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি’।  

কীটনাশকে বেগুন চাষকারী চুনিয়াপাড়া এলাকার কৃষক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বেগুন ক্ষেতে পাখির উপদ্রব ঠেকাতে জাল দিয়েছি। আর পোকা থেকে বাঁচতে সপ্তাহে ১-২ বার কীটনাশক দিচ্ছি। চারদিন আগে বিষ দিয়েছি। তবে কুয়াশায় বিষের কার্যকারিতা একদিনের বেশি থাকছে না’।  

‘আমি এ বছর দেড় বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বেগুনের চাষ করেছি। জমি বাবদ ২১ হাজার টাকাসহ মোট খরচ হয়েছে ৮৬ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ৪০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। এখনো লাখখানেক টাকা আয় হবে বলে আশা করছি’।

আইপিএম পদ্ধতিতে বিষ ব্যবহার না করেও বেগুন উৎপাদনে মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ।  ছবি: বাংলানিউজআরেক কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার এক বিঘা জমিতে সপ্তাহে ৫০০ টাকার বিষ লাগে’।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com