আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

বরিশালের বাজার ইলিশে সয়লাব

দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে শীত মৌসুমে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে, দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে । আজ দুপুরে বরগুনা মাছ বাজারে খুচরা বিক্রির জন্য ইলিশ নিয়ে বসে আছেন এক বিক্রেতা
দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে শীত মৌসুমে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে, দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে । আজ দুপুরে বরগুনা মাছ বাজারে খুচরা বিক্রির জন্য ইলিশ নিয়ে বসে আছেন এক বিক্রেতা

বরিশালে ইলিশের সবচেয়ে বড় বাজার (মোকাম) নগরের পোর্ট রোড। সেই বাজারের চিরচেনা রূপ বদলে গেছে। প্রতিবছর শীতের এ সময়ে এই মোকামে সামুদ্রিক মাছের দাপট থাকত, সেখানে পুরো বাজার দখল করে আছে তাজা ইলিশ। শ্রমিকদের ব্যস্ততা, ক্রেতাদের ভিড়, মহাজনদের হাসিমুখ। ঘাটে নোঙর করা ট্রলারগুলোর খোল ভরে আছে রুপালি ইলিশে।

শীতে বরিশালের বাজার ইলিশে ঠাসা। গড়নে উজ্জ্বল এই রুপালি ইলিশ ওজন-আকৃতিতেও বড়। দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে ইলিশের এমন প্রাচুর্য অবাক করেছে ব্যবসায়ী, জেলে, ক্রেতাসহ সবাইকে। কারণ, বিগত দিনে এই মৌসুমে এমন ঘটনা আর ঘটেনি।

দেশের ইলিশ বিশেষজ্ঞরা শীত মৌসুমে ইলিশের এমন প্রাচুর্যকে অস্বাভাবিক মনে না করে বরং ইতিবাচক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম নিয়ামুল নাসের প্রথম আলোকে বলেন, এ সময়ে ইলিশের প্রজনন পর্বের দ্বিতীয় অধ্যায়। শীতের শেষ দিকটায় এমনটা হয়। সংরক্ষণ ভালো হওয়ায় এবার ইলিশের পরিমাণ বেড়েছে এবং আকার বড় হয়েছে।

বরিশালের পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী জহির উদ্দীন বললেন, ‘কোনো দিন শীতে এত বড় আর এত ইলিশের আমদানি দেখিনি। আগের বছরগুলোতে এই সময়ে ছিটেফোঁটা ইলিশ আসত। তা-ও আকারে ছোট, সেসব ইলিশ তেমন পরিপুষ্ট ছিল না; কিন্তু এবার আমদানি যেমন ব্যাপক, তেমনি ইলিশের আকার বড় এবং পরিপুষ্ট। মনে হয় আমাদের সুদিন ফিরবে ইলিশে।’

ব্যবসায়ীরা বললেন, গত শনিবার এই মোকামে ৫৫০ মণ ইলিশ এসেছে। রোববারও একই পরিমাণ ইলিশ এসেছে। আজ সোমবার কিছুটা কমে গেলেও ৪৫০ মণের মতো এসেছে। এই সময়ে এটা অবিশ্বাস্য।

পোর্ট রোডের মৎস্য আড়দার সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৌসুমে এবার ইলিশ তেমন মেলেনি। এ জন্য জেলে-ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখেননি। কিন্তু শীত মৌসুমে অসময়ে ইলিশের আমদানি আমাদের সব কষ্ট ধুয়ে দিয়েছে। দামও কম। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ২৫ হাজার টাকা। আর এক কেজির ওপরে ওজনের ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার টাকায়। আর ৪৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মণপ্রতি ১২ হাজার থেকে ২০ হাজারের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে।’

ইলিশের আকার-আকৃতি ও ওজন বাড়ছে
ইলিশের আকার-আকৃতি, ওজন, প্রজনন ও দাম নিয়ে নিয়মিত জরিপ করে মৎস্য অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের ইকো ফিশ প্রকল্প। তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশের ইলিশের গড় আকৃতি ও ওজন বেড়েছে। ২০১৪ সালে ধরা পড়া ইলিশের গড় ওজন ছিল ৫১০ গ্রাম। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮৮০ গ্রাম। একই সময়ে ধরা পড়া মাঝারি আকৃতির (আধা কেজি থেকে ১ কেজি) ইলিশ ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭ শতাংশ হয়েছে। আর জাটকা ধরার পরিমাণ ৬০ শতাংশ থেকে কমে ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে ইলিশের গড় দামও গত এক বছরে ২০ শতাংশ কমেছে। অসময়ে আকারে বড় ইলিশ ধরা পড়ার বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের সেই ধারণার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উৎপাদন বাড়ছে, বড় অবদান বরিশালের
ইলিশ আহরণে বরিশাল বিভাগের ঐশ্বর্য ক্রমেই বাড়ছে। গত ১০ বছরে এই বিভাগে ইলিশ আহরণের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কয়েক বছর ধরেই দেশের মোট ইলিশের ৬৬ ভাগের বেশি আহরিত হচ্ছে এই বিভাগ থেকে। চলতি অর্থবছরেও তা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ইলিশ আহরণের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে ৪ দশমিক ১৯ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে অনুযায়ী বরিশালেও তা প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন বৃদ্ধি পায়।
মৎস্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ইলিশ আহরিত হয় ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগ থেকেই আহরিত হয়েছিল ৩ লাখ ৩২ হাজার ২৫ মেট্রিক টন। এর আগের অর্থবছরে দেশে আহরিত মোট ইলিশের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৭ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বরিশাল থেকে আহরিত হয়েছিল ৩ লাখ ২৪ হাজার ২৯৭ মেট্রিক টন, যা দেশে মোট উৎপাদনের প্রায় ৬৬ শতাংশ।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলিশের জোগান দেয় ভোলা ও বরগুনা। ভোলায় গত অর্থবছরে ইলিশ আহরিত হয় ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৩২ মেট্রিক টন ও বরগুনায় আহরিত হয় ৭০ হাজার ২৩৭ মেট্রিক টন।

ইলিশ রক্ষায় প্রকল্প
উপকূলের নদ-নদীতে ইলিশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশের আট জেলায় ‘ইকো ফিশ’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো ইলিশের বংশবিস্তার, প্রজননকাল নির্ধারণসহ নানা দিক নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের মার্চে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ ৫ বছর। প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলায়। এতে মৎস্য অধিদপ্তরকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ফিশ।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২০০১ সাল থেকে দেশে ইলিশ আহরণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করে। এরপর নানামুখী উদ্যোগে ইলিশ আহরণ কিছুটা বাড়ে। তবে ২০১৪ সালের পর এর পরিমাণ অনেকটা বাড়ে। ২০১৬ সালে যেখানে দেশে ইলিশ আহরণের হার ছিল ৩ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে তার পরের বছর থেকে তিন বছরে ধরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টনে। এটা সম্ভব হয়েছে ইলিশ নিয়ে পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম হাতে নেওয়ায়।

ইকো ফিশ প্রকল্পের দলনেতা ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবদুল ওহাব গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই প্রকল্পের আওতায় উপকূলের ইলিশ মাছ অতিমাত্রায় আহরণ থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং তা বড় হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় দেশে ইলিশের উৎপাদন অবিশ্বাস্য হারে বেড়েছে। এতে ইলিশ মাছের পাশাপাশি অন্য মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পেয়ে সেসবের উৎপাদনও আগের চেয়ে অনেকাংশে বেড়েছে।

মৎস্য

তেলাপিয়া মাছে ভাইরাস আক্রমণ

তেলাপিয়া মাছে ভাইরাস আক্রমণ
তেলাপিয়া মাছে ভাইরাস আক্রমণ

বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের তেলাপিয়া মাছে বিশেষ ধরনের এক ভাইরাস আক্রমণ করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। ভাইরাসটির নাম ‘তেলাপিয়া লেক’। যা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা-এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এফএও জানায়, এই ভাইরাসের কারণে তেলাপিয়ায় মড়ক দেখা দিচ্ছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত তেলাপিয়া মাছের গায়ে ফোসকা পড়ে। এরা খাবার কম খায়।

এফএও আরো জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ তেলাপিয়া উৎপাদনকারী দেশ। তাই দেশটি এই ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হতে পারে। তবে এমন কোনো মাছ বাংলাদেশের কোনো খামারে এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৎস্য অধিদফতর ।

মৎস্য অধিদফতর জানায়, অল্প জায়গায় বেশি মাছ চাষ করলে পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে এ ধরনের ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে।

মৎস্য অধিদফতরের হিসাব মতে, বাংলাদেশে প্রায় ৪ লাখ টন তেলাপিয়া উৎপাদিত হয়। দেশে উৎপাদিত মোট মাছের ১০ শতাংশই তেলাপিয়া মাছ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

ফিরেছে ১৭ প্রজাতির বিপন্ন মাছ

ফিরেছে ১৭ প্রজাতির বিপন্ন মাছ
ফিরেছে ১৭ প্রজাতির বিপন্ন মাছ

কৃত্রিম প্রজনন ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় ১৭টি দেশি প্রজাতির মাছকে বাজারে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)। তাছাড়া মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে ৫৭টি প্রযুক্তিরও উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিভিন্ন মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষ পদ্ধতি, কুচিয়া ও কাঁকড়া চাষ এবং মুক্তাচাষ নিয়ে বর্তমানে ৪৩টি গবেষণা চলমান রয়েছে। প্রতি বছর ৬ লাখ মানুষ মৎস্য পেশার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে যার শতকরা ১০ ভাগ নারী।

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘মৎস্য-প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ।

রোববার বেলা ১১টায় বিএফঅারঅাই এর সম্মেলন কক্ষে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী আকবর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিনব্যাপী ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

প্রশিক্ষণে মৎস্য গবেষণা নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন মৎস্যবিজ্ঞানী মো. নূরুল্লাহ ও খলিলুর রহমান।

মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলেন, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে বিজ্ঞানী, চাষি, হ্যাচারি মালিক ও জেলেদের ভূমিকা অনেক। এই অর্জন ধরে রাখতে ধানের জমি নষ্ট না করে পরিত্যক্ত জলাশয়ে মাছ চাষ, নদ-নদী খননের মাধ্যমে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কাজ করতে হবে।

বিজ্ঞানভিত্তিক মাছ চাষের বিকল্প নেই, কোনোভাবেই পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। প্রশিক্ষণে ময়মনসিংহ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুরে শিং মাছ চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। ভালো করে চাষ করতে পারলে কার্পজাতীয় মাছের তুলনায় শিং মাছ চাষে লাভ বেশি। তাছাড়া কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমেও পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশি শিং মাছের পোনা উৎপাদন এবং চাষ করা সম্ভব। কেননা শিং মাছ বাজারের একটি দামি মাছ। কথায় আছে, শিং মাছ খেলে দ্রুত রক্ত বৃদ্ধি হয়। তাহলে জেনে নিন কীভাবে চাষ করবেন।

পোনা মজুদ
এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত দেশি শিং মাছের পোনা পাওয়া যায়। দেশি শিং মাছ একক চাষের জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ পোনা মজুদ করা যাবে। শিং মাছ চাষে পুকুরে ৪-৫ ইঞ্চি সাইজের প্রতি শতাংশে ৮-১০ পিচ রুই, কাতল, গ্রাসকার্প, মৃগেল মাছের পোনা ছাড়তে হবে। কিছু কার্প জাতীয় মাছের পোনা ছাড়লে পুকুরের পরিবেশ ভালো থাকে।

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

পুকুর নির্বাচন
পুকুর নির্বাচনের সময় কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে-
১. পুকুর অবশ্যই বন্যামুক্ত হতে হবে।
২. পুকুরের পাড় মজবুত হতে হবে। কোন প্রকার ছিদ্র থাকলে সমস্ত শিং মাছ চলে যাবে।
৩. বৃষ্টির সময় পানির উচ্চতা ৪ ফুটের বেশি হবে না- এমন পুকুর নির্বাচন করতে হবে।
৪. পুকুর আয়তাকার হলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৫. পুকুরের আয়তন ৪০-৫০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে।
৬. এক প্রান্ত অন্য প্রান্তের চেয়ে ১ ফুট ঢালু রাখতে হবে।

পুকুর প্রস্তুত
নতুন পুকুরের চেয়ে পুরাতন পুকুরে শিং মাছ চাষ ভালো হয়। নতুন পুকুর হলে ভালোভাবে চাষ দিয়ে প্রতি শতাংশে কমপক্ষে ২০ কেজি গোবর ও ভালোভাবে মই দিয়ে তারপর চুন দিতে হবে। পুরনো পুকুর হলে প্রথমেই সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে। এরপর চুন দিতে হবে শতাংশ প্রতি ১ কেজি। চারদিকে জাল দিয়ে ভালোভাবে ঘের দিতে হবে। চারপাশে জাল দেওয়ার পর পুকুরে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে ২-৩ ফুট পরিষ্কার পানি দিতে হবে। পানি দেওয়ার ২-৩ দিনের মধ্যে পোনা ছাড়তে হবে। পোনা ছাড়ার পর এক ইঞ্চি ফাঁসের একটি জাল পেতে রাখতে হবে।

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

মজুদ ঘনত্ব
শিং মাছ এককভাবে বা মিশ্রভাবে চাষ করা যায়। মিশ্রভাবে চাষ করতে হলে কার্প জাতীয় মাছের সাথে প্রতি শতাংশে ৩০টি পর্যন্ত আঙুল সাইজের শিং মাছের পোনা ছাড়তে হবে। পোনা মজুদের সময় পোনাকে এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিনে গোসল দিয়ে তারপর ছাড়তে হবে। কার্প জাতীয় মাছ ছাড়া তেলাপিয়া এবং পাঙ্গাসের সাথেও শিং মাছের মিশ্রচাষ করা যায়। সে ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে ৫০টি পর্যন্ত শিং মাছের পোনা মিশ্রভাবে ছাড়া যায়। কার্পজাতীয়, তেলাপিয়া বা পাঙ্গাসের সাথে শিং মাছ চাষ করলে বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয় না।

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

খাবার প্রয়োগ
পোনা মজুদের পর প্রথম ১০ দিন দৈনিক মাছের ওজনের ২০% খাবার প্রয়োগ করতে হয়। ছোট থাকা শিং মাছ সাধারণত রাতের বেলায় খেতে পছন্দ করে; তাই ২০% খাবারকে দু’বেলায় সমান ভাগ করে ভোরের দিকে একটু অন্ধকার থাকতে প্রয়োগ করতে হয়। মাছ মজুদের পরের ১০ দিন ১৫% হারে এবং এর পরের ১০ দিন মাছের ওজনের ১০% হারে পুকুরে খাবার প্রয়োগ করতে হয়। এভাবে এক মাস খাবার প্রয়োগের পর ৫% হারে পুকুরে খাবার দিতে হবে। শিং মাছ ৩ ইঞ্চি হওয়ার সাথে সাথে দিনের বেলাতে খাবার দিতে হবে। সন্ধ্যার পর যে খাবার দেওয়া হত সেটি সন্ধ্যার একটু আগে এগিয়ে এনে আস্তে আস্তে বিকেলে দিতে হবে। অন্যদিকে ভোরবেলার খাবারও এমনি করে সকাল ৯-১০ টার দিকে পিছিয়ে নিতে হবে। শিং মাছের ওজন ১৫ গ্রাম হলে ৩% এর অধিক খাবার দেওয়া মোটেই ঠিক নয় এবং বিক্রির আগ পর্যন্ত এই নিয়মই বজায় রাখতে হবে।

পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে
পুকুরে শিং মাছ চাষ করবেন যেভাবে

মাছ আহরণ
অন্যান্য মাছ জাল টেনে ধরা গেলেও শিং মাছ জাল টেনে ধরা যায় না। শিং মাছ ধরতে হলে শেষরাতের দিকে পুকুর সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে। শিং মাছ ধরার উত্তম সময় হল ভোরবেলা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। মাছ ধরার পর মাছ থেকে গেলে শ্যালো দিয়ে কমপক্ষে ২ ফুট ঠান্ডা পানি দিয়ে পুকুর ভরে রাখতে হবে। পরের দিন আবার একই নিয়মে মাছ ধরতে হবে। শিং মাছের পুকুর একপাশে ঢালু রাখা দরকার। তা না হলে সমস্ত পুকুরজুড়ে মাছ ছড়িয়ে থাকবে।

সাবধানতা অবলম্বন
মাছের কাঁটা বিঁধলে সেখানে খুবই ব্যথা হয়। কাঁটা বিঁধানো জায়গায় ব্যথানাশক মলম লাগিয়ে গরম পানি দিলে সাথে সাথে কিছুটা উপশম হয়। এছাড়া মলম লাগিয়ে গরম বালির ছ্যাকা দিলেও আরাম পাওয়া যায়। তাই শিং মাছ ধরার আগে এমন ব্যবস্থা রাখলে মন্দ হয় না। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে এসবের কিছুরই প্রয়োজন হয় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

মাছের ফুলকা পচা রোগ হলে করণীয়

মাছের ফুলকা পচা রোগ হলে করণীয়
মাছের ফুলকা পচা রোগ হলে করণীয়

মাছের বিভিন্ন ধরনের রোগ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ফুলকা পচা রোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রোগটি প্রতিকারের আগে লক্ষণগুলো দেখে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া ভালো। আসুন জেনে নেই লক্ষণ এবং এর প্রতিকারগুলো।

কারণ
• পোনা মাছে এ রোগ বেশি দেখা দেয়।
• পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এ রোগ দেখা দেয়।
• অধিক ঘনত্ব, তলদেশে জৈব পদার্থ জমা হওয়ায় দূষণের ফলে এ রোগ হয়।

লক্ষণসমূহ
১. ফুলকা ফুলে যাওয়া।
২. ফুলকায় রক্ত জমাট বাঁধা।
৩. অনেক তরল পদার্থ বের হওয়া।
৪. মাছের শ্বাস কষ্ট হওয়া
৫. মাছে অধিক মড়ক দেখতে পাওয়া।
৬. শরীরের মিউকাস কমে যাওয়া।
৭. স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য থাকে না।
৮. লেজ ও পাখনায় সাদাটে দাগ দেখতে পাওয়া।
৯. লেজ ও পাখনায় পচন ধরা এবং ধীরে ধীরে ক্ষয় হওয়া।
১০. রক্তশূন্যতা এবং রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

প্রতিকার
* মাছের আক্রান্ত পাখনা কেটে ফেলে দিতে হবে।
* ২.৫% লবণ পানিতে বা ৫ পিপিম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্রবণে ১ ঘণ্টা গোসল করাতে হবে।
* প্রতি কেজি খাবারের সঙ্গে ১-২ গ্রাম অক্সিটেট্রাসাইক্লিন মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।
* শতাংশে ১ কেজি হারে পাথুরে চুন পুকুরে প্রয়োগ করে পুকুর জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বৈরালি মাছের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য, চাষ করা যাবে পুকুরেও

দেশের বেশির ভাগ নদ-নদী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে বহু আগে। এখন কালেভদ্রে রংপুর বিভাগের কয়েকটি নদী ও খালের স্বচ্ছ পানিতে দেখা মেলে। বৈরালি নামে বেশি পরিচিত মাছটির কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। কৃত্রিমভাবে এর পোনা উৎপাদনের প্রযুক্তি এখন সংস্থাটির বিজ্ঞানীদের হাতে। এতে এখন মাছটি পুকুরসহ অন্যান্য জলাশয়ে চাষ করা যাবে।

বৈরালি, বরালি ও কোকসা—এ রকম নানা নামে পরিচিত মাছটি একসময় সিলেট, নেত্রকোনার হাওর ও রংপুর বিভাগে বেশ ভালোই মিলত। ২০১৫ সালে প্রকৃতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন মাছটিকে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী হিসেবে ঘোষণা করে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত স্বাদু পানি উপকেন্দ্রে বৈরালি মাছ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খোন্দকার রশীদুল হাসান ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শওকত আহম্মেদ। তাঁরা রংপুর অঞ্চলের চিকলী, বরাতি, বুড়িখরা ও তিস্তা নদী থেকে বৈরালি মাছ সংগ্রহ করে পুকুরে কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদনের গবেষণা শুরু করেন। গত ২০ মার্চ তাঁরা প্রথম পোনা উৎপাদনে সক্ষম হন।

গবেষণায় দেখা যায়, ১৫ থেকে ২৫ গ্রাম ওজনের একেকটি বৈরালি মাছের ডিম ধারণক্ষমতা তিন থেকে সাড়ে তিন হাজারটি। মাছটির প্রজননকাল নভেম্বর থেকে মার্চ। সবচেয়ে বেশি প্রজনন হয় জানুয়ারিতে। ডিম থেকে রেণু হয়ে পোনা পর্যন্ত উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লেগেছে ৪০ থেকে ৫০ দিন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই সাফল্যের ফলে প্রথমত আমরা মাছটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করলাম। দ্বিতীয়ত, দেশের মানুষ তাঁদের পুকুরে এই মাছ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৈরালি মাছের আরও পাঁচটি উপপ্রজাতি আছে। আমরা পর্যায়ক্রমে সেগুলোরও কৃত্রিম প্রজনন করব।’

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এর আগে ২০টি বিপন্ন প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন করেছেন। ফলে বাজারে ছোট মাছের সরবরাহ বেড়েছে। উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় পাবদা, মলা, ডেলাসহ এসব মাছের দামও আগের চেয়ে কমেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com