আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

রোহিঙ্গা: মিয়ানমারের রাখাইনে ‘উন্মুক্ত কারাগারে’ বন্দী লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ও কামান মুসলিম, বলছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতনে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতনে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে

মিয়ানমারের সরকার রাখাইন রাজ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে বছরের পর বছর নোংরা ক্যাম্পে আটক করে রেখেছে বলে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

সংস্থাটি ‘অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঢালাওভাবে আটক’ করা রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

২০১২ সালে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করার পর থেকে রোহিঙ্গা ও কামান মুসলিমদের ‘উন্মুক্ত বন্দিশিবিরে’ আটক করে রাখা হয়েছে বলে উঠে এসেছে মানবাধিকার সংস্থাটির রিপোর্টে।

১৬৯ পৃষ্ঠার রিপোর্টে মধ্য রাখাইন রাজ্যে ২৪টি ক্যাম্পের ‘অমানবিক’ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, খাদ্য ও আশ্রয়ের অধিকারের পাশাপাশি তাদের মানবিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

ক্যাম্পে আটক থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে পানি বাহিত রোগ, অপুষ্টির মাত্রা এবং শিশু ও প্রসূতি মৃত্যুর হার বেশি বলে উঠে এসেছে বিবৃতিতে।

রিপোর্টের লেখক এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক গবেষক শায়না বাউকনার বলেন, “মিয়ানমার সরকার দাবি করে যে তারা সবচেয়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ করছে না, কিন্তু তাদের এই দাবি ফাঁকা বুলির মত শোনাবে যদি তারা রোহিঙ্গাদের পূর্ণ আইনি সুরক্ষাসহ ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে না দেবে।”

সংস্থাটি বলছে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে উত্তর রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা ও নির্যাতনের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে ২০১২ সালের পদক্ষেপ।

রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা
রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা

২০১৮ সালের পর থেকে ৬০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা, কামান মুসলিম এবং মানবাধিকার কর্মীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে রিপোর্টটি। এছাড়া একশোরও বেশি সরকারি, বেসরকারি অভ্যন্তরীণ নথিসহ জাতিসংঘের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তৈরি করা প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে যে মিয়ানমার ও রাখাইন রাজ্যের সরকারের কাছে ক্যাম্পগুলোর পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য বারবার আহ্বান জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে সেসব আহ্বান উপেক্ষা করে এসেছে।

রোহিঙ্গারা বলছে ক্যাম্পের জীবন গৃহবন্দী থাকার মত। এক রোহিঙ্গা ব্যক্তি বলেন, “ক্যাম্পের জীবন খুবই কষ্টের। আমাদের স্বাধীনতা বলে কিছু নেই।”

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দীর্ঘসময় ধরে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে আর সেই পরিকল্পনার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ২০১২ সালে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায়।

সেসময় রাখাইন রাজ্যে কর্মরত একজন জাতিসংঘ কর্মকর্তা ২০১২ সালে মিয়ানমারের সরকারের মনোভাব সম্পর্কে বলেন: “তাদের মনোভাব ছিল কোনঠাসা করা, আবদ্ধ করা এবং ‘শত্রু’কে আটক রাখা।”

২০১৭ সালের এপ্রিলে ২০১২ সালে তৈরি করা অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো বন্ধ করার ঘোষণা দেয় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালে তারা ‘অভ্যন্তরীনভাবে বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন ও আইডিপি ক্যাম্প বন্ধের জাতীয় কর্মসূচি’ হাতে নিলেও সেসময় ক্যাম্পের পরিধি বাড়িয়ে কার্যত রোহিঙ্গাদের নিজেদের বাসস্থানে ফিরে যাওয়ার সুযোগ আরো সীমিত করে দেয়।

কামান মুসলিম সম্প্রদায়ের এক নেতা বলেন, “এখন পর্যন্ত একজনও ফিরে যেতে পারেনি, একজনকেও ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। এখনও আমরা সরকারকে আমাদের জায়গার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে যাচ্ছি।”

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাথে কথা বলা একজন রোহিঙ্গাও মনে করেন না যে তাদের অনির্দিষ্টকালের শাস্তির মেয়াদ কখনো শেষ হবে বা তাদের সন্তানরা কখনো স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।

এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, “আমার মনে হয় এই পদ্ধতি স্থায়ী। কিছুই পরিবর্তন হবে না, এগুলো শুধুই ফাঁকা বুলি।”

নভেম্বরে মিয়ানমারে সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ রোহিঙ্গার ভোট দেয়ার অধিকারই নেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

যেভাবে কুরআন বিকৃতির অপচেষ্টাও করেছিল ইয়াহুদিরা!

কুরআন আল্লাহ তাআলার কিতাব। কুরআনের বিধান ও বিষয়াবলীকে নিজেদের পক্ষে আল্লাহর কথা বলে চালিয়ে দেয়ার জন্যও অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল ইয়াহুদিরা। এটি ছিল স্বয়ং মহান আল্লাহ তাআলাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করার ঘৃণ্য কৌশল। তাদের ধৃষ্টতাপূর্ণ কৌশল ও অপচেষ্টার বিষয়টি মহান আল্লাহ তাআলা নিজেই কুরআনুল কারিমে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। যাতে ঈমানদার মুমিন মুসলমান এ বিষয়ে সতর্ক থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُم بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِندِ اللّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِندِ اللّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
‘আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা বিকৃত উচ্চারণে মুখ বাঁকিয়ে কিতাব (কুরআন) পাঠ করে, যাতে তোমরা (ঈমানদাররা) মনে কর যে, তার কিতাব (কুরআন) থেকেই পাঠ করছে। অথচ তারা যা আবৃত্তি করছে (পড়ছে) তা আদৌ কিতাব (কুরআন) নয়। আর তারা বলে যে, এসব কথা আল্লাহর তরফ থেকে আগত। অথচ এসব আল্লাহর তরফ থেকে প্রেরিত নয়। তারা বলে যে, এটি আল্লাহর কথা অথচ এসব আল্লাহর কথা নয়। আর তারা জেনে শুনে আল্লাহর প্রতিই মিথ্যারোপ করে।’ (সুরা ইমরান : আয়াত ৭৮)

আয়াতের সার সংক্ষেপ
ইসলাম ও বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেসালাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে কুরআন বিকৃত করে মহান আল্লাহর কথা বলে চালিয়ে দেয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে পড়ে ইয়াহুদিরা। ইসলাম ও মুসলমানদের এ ক্ষতি থেকে হেফাজত করতে মহান আল্লাহ তাআলা তাদের কৌশল সুস্পষ্টভাবে কুরআনুল কারিমে তুলে ধরেন। যাতে কোনো মুমিন মুসলমান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

আয়াতে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়-
‘তাদের মধ্যে অর্থাৎ কিতাবি ইয়াহুদিদের মধ্যে একদল লোক আছেই যেমন কাব ইবনে আশরাফ; যারা আল্লাহর কিতাবকে নিয়ে (তেলাওয়াতের সময়) জিহ্বা বাঁকায় অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গুণাবলীর বিবরণ ইত্যাদি সংবলিত আয়াতসমূহ ঘুরিয়ে পাঠ করতো। সেগুলো স্থানচ্যুত করে বিকৃত তেলাওয়াতের দিকে নিয়ে যায়। যাতে তোমরা (ঈমানদাররা) তা অর্থাৎ ওই বিকৃত তেলাওয়াতকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল করা কিতাবের (কুরআনের) অংশ বলে মনে কর। অথচ তা কিতাব তথা কুরআনের অংশ নয়। আর তারা বলে, তা আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে এসেছে অথচ তা আল্লাহর কাছ থেকে আসেনি। তারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে অথচ তারা জানে যে তারাই মিথ্যাবাদী।’ (তাফসিরে জালালাইন)

আয়াত নাজিলের উদ্দেশ্য
ইয়াহুদিরা আল্লাহর আয়াতের শব্দের বিকৃত উচ্চরণ করে অর্থের পরিবর্তন ঘটাতো। নিজেদের ইচ্ছা মতো উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অর্থ বের করতো। নিজেদের বিশ্বাসের পরিপন্থী বিষয়গুলো জিহ্বা ঘুরিয়ে ভিন্ন অর্থবোধক শব্দে পরিণত করার চেষ্টা করতো। আর তাদের বিকৃত পরিভাষাকে আল্লাহর কুরআন বলে ঘোষণা করতো। যা মূলত আল্লাহর কুরআন ছিল না। তাদের এ ঘৃণ্য বিষয়টি তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা ইসলামে নিরাপত্তা ও মুসলমানদের ঈমানের প্রতি হেফাজত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

মুসলিমদের জন্য সতর্কতা
ইয়াহুদিদের ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা জরুরি। ষড়যন্ত্রে সিদ্ধহস্ত ইয়াহুদিরা মুসলমানদের ঈমান ধ্বংসে এখনও সমানভাবে সক্রিয়। ইয়াহুদিদের এ ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র তাদেরকেই প্রকৃত মিথ্যাবাদীতে পরিণত করেছে। তারা মুসলমানদের ঈমান ধ্বংস করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা করতো। যা এখনও বিদ্যমান।

সুতরাং মুমিন মুসলমানকে ইয়াহুদিদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এ সতর্কতা অবলম্বনের জন্যই মহান আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাজিল করে তাদের ষড়যন্ত্রে ধরণ তুলে ধরেছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইয়াহুদিসের সব ঈমানবিধ্বংসী ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন যারা

বিনা হিসাবে জান্নাত পাওয়া মহান আল্লাহর অনন্য নেয়ামতের একটি। যারা সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তাদের বর্ণনা এসেছে হাদিসের বর্ণনায়। কী আমলের বিনিময়ে কারা সবার আগে বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবেন? তাদের লক্ষণই বা কী হবে? এ সম্পর্কে বিশ্বনবিই বা কী বলেছেন?

হ্যাঁ, হাদিসের বর্ণনায় সর্বপ্রথম জান্নাতি মানুষদের বর্ণনা করেছেন বিশ্বনবি। আবার কী আমলের বিনিময় এরা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন তাও উল্লেখ করেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-
– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি পূর্ণিমা চাঁদের মতো উজ্জ্বল আকৃতিতে প্রবেশ করবে। অতপর আকাশের সবচেয়ে দীপ্তিমান তারকার মতো উজ্জ্বল আকৃতিতে প্রবেশ করবে। তাদের অন্তরগুলো হবে মানুষের ন্যায়। পরস্পর কোনো ধরনের শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দল পূর্ণিমা চাঁদের মত উজ্জ্বল আকৃতিতে প্রবেশ করবে। অতপর (পরবর্তী দল হিসেবে) প্রবেশ করবে আকাশের সবচেয়ে দীপ্তিমান তারকার সুরতে। সেখানে তারা পেশাব-পায়খানা করবে না। থুতু ফেলবে না। নাক ঝাড়বে না। তাদের চিরুনিগুলো হবে স্বর্ণের। ঘাম হবে মিশক আম্বরের মত সুগন্ধি। তাদের ধুপ হবে চন্দন কাঠের এবং স্ত্রীগণ হবে ‘হূরুলঈন’ (আয়তলোচন চির কুমারী হুরগণ)। সবার আকৃতি হবে তাদের বাবা (হজরত আদম আলাইহিস সালামের) মত। ষাট হাত লম্বা।’ (বুখারি, মুসলিম)

– অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘(জান্নাতে) তাদের পাত্র হবে স্বর্ণের, তাদের গায়ের ঘাম হবে কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধময়। তাদের প্রত্যেকের জন্য এমন দু’জন স্ত্রী থাকবে, যাদের সৌন্দর্যের দরুন মাংসভেদ করে পায়ের নলার হাড়ের মজ্জা দেখা যাবে। তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ থাকবে না। পারস্পরিক বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের সবার অন্তর একটি অন্তরের মত হবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় তাসবিহ পাঠে রত থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন যারা
বিনা হিসাবে কারা জান্নাতে যাবে এবং তাদের আমল কী হবে, এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ এক হাদিস বর্ণনা করেন। তাতে ওঠে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সামনে বর্ণনা করছিলেন, ‘আমার কাছে সব (নবির) উম্মত পেশ করা হল। আমি দেখলাম, কোনো নবির সঙ্গে কতিপয় (৩ থেকে ৭ জন) অনুসারী রয়েছে। কোনো নবির সঙ্গে এক অথবা দুইজন রয়েছে। আবার কোনো কোনো নবিকে দেখলাম তার সঙ্গে কেউই নেই।
এমন সময় অনেক বড় একটি জামাআত আমার সামনে পেশ করা হল। আমি মনে করলাম, এটিই আমার উম্মত। কিন্তু আমাকে বলা হল যে, এটি হল হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর উম্মতের জামাআত। কিন্তু আপনি অন্য দিগন্তের দিকে তাকান।
অতপর আমি অন্য দিগন্তে তাকাতেই আরও বড় একটি জামাআত দেখতে পেলাম। আমাকে বলা হল যে- ‘এটি হল আপনার উম্মত। আর তাদের সঙ্গে রয়েছে এমন ৭০ হাজার ব্যক্তি; যারা বিনা হিসাব ও আজাব ভোগ কা ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’

এ কথা বলেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে নিজ বাসায় প্রবেশ করলেন। আর এদিকে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম ওই সব বিনা হিসাবে জান্নাতিদের ব্যাপারে বিভিন্ন আলোচনা শুরু করে দেয়-
– কেউ কেউ বলল, ‘সম্ভবত ওইসব লোকেরা হল তারা, যারা আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবাগণ।
– কিছু লোক বলল, বরং সম্ভবত ওরা হল তারা, যারা ইসলামের ওপর জন্মগ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করেনি। এভাবে আরও অনেকে অনেক কিছু বলল।
কিছুক্ষণ পর…
আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে বের হয়ে এসে জানতে চাইলেন- তোমরা কী ব্যাপারে আলোচনা করছ? সাহাবায়ে কেরাম জানালেন, বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন; তারা কারা?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল।লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘ওরা হল সেইসব ব্যক্তি-
-যারা ঝাঁড়ফুঁক করে না এবং ঝাঁড়ফুঁক করায় না।
– আর কোনো জিনিসকে অশুভ লক্ষণ বলেও মনে করেন না।
– বরং তারা শুধুই মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন।

এ কথাগুলো শুনেই হজরত উক্কাশাহ ইবনে মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহু উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন-
‘(হে আল্লাহর রাসুল!) আপনি আমার জন্য দোয়া করুন, যেন আল্লাহ তাআলা আমাকে তাদের দলভুক্ত করে দেন! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সঙ্গে সঙ্গেই) বললেন, তুমি তাদের মধ্যে একজন।’

অতপর আরও এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আপনি আমার জন্যও দোয়া করুন, যেন আল্লাহ আমাকেও তাদের দলভুক্ত করে দেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘উক্কাশাহ (এ ব্যাপারে) তোমার চেয়ে অগ্রগামী।’ (বুখারি ও মুসলিম)

বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা
বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা কত হবে এ সম্পর্কেও হাদিসের বিখ্যাত কিছু গ্রণ্তে ওঠে এসেছে কিছু সুস্পষ্ট বর্ণনা। তাহলো-
– ‘শুধু ৭০ হাজারই নয়, বরং ওই ৭০ হাজারের প্রতি হাজারের সঙ্গে আরও ৭০ হাজার করে মুসলিম জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ লাভ করবে।’ অর্থাৎ এ হিসেবে প্রায় ৪৯ লাখ ব্যক্তি। (সহিহুল জামে)

– অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘ওই ৭০ হাজারের প্রত্যেক ব্যাক্তির সঙ্গে আরও ৭০ হাজার করে মুসলিম জান্নাতে প্রবেশ করবে। অর্থাৎ এ হিসেবে উম্মতে মুহাম্মাদির ৪৯০ কোটি মানুষ বিনা হিসাব ও আজাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, সিলসিলা সহিহাহ)

প্রথম বর্ণনায় উল্লেখিত ৭০ হাজার ব্যক্তির বিনা হিসাবে জান্নাত লাভ অনুসারে মহান আল্লাহর তিন অঞ্জলি অতিরিক্ত মুসলিমকে বিনা হিসাব ও আজাবে জান্নাত প্রবেশের অধিকার দেবেন। আর এর প্রকৃত সংখ্যা শুধু আল্লাহই ভালো জানেন।

জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দল ও তাদের সম্পর্কে কুরআনুল কারিমের বর্ণনাই সুস্পষ্ট। আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে অনেক সুরার একাধিক আয়াতে তা সুস্পষ্ট করে বলেছেন-
وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ أُولَٰئِكَ الْمُقَرَّبُونَ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ (12) ثُلَّةٌ مِّنَ الْأَوَّلِينَ وَقَلِيلٌ مِّنَ الْآخِرِينَ
‘আর অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তী। তারাই হবে নৈকট্যপ্রাপ্ত। তারা থাকবে সুখময় জান্নাতসমূহে। বহুসংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে এবং অল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।’ (সুরা ওয়াকিয়া : আয়াত ১০-১৪)
وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ غَيْرَ بَعِيدٍ – هَذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٍ – مَنْ خَشِيَ الرَّحْمَن بِالْغَيْبِ وَجَاء بِقَلْبٍ مُّنِيبٍ
আর জান্নাতকে উপস্থিত করা হবে আল্লাহকে ভয়কারী বান্দার খুব কাছাকাছি। প্রত্যেক অনুগরাী ও স্মরণকারীকে এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে ভয় করত এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হতো।’ (সুরা ক্বাফ : আয়াত ৩১-৩৩)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে বিনা হিসাবে জান্নাত পাওয়ার জন্য উল্লেখিত ৩টি আমল যথাযথভাবে করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

শয়তান যেভাবে মানুষের ৫টি আমল ধ্বংস করে দেয়

আমল যদি যথাযথভাবে করা হয় তবে তা আমলকারীর জন্য ফলপ্রসু হয়। বান্দার প্রতিটি কাজ কীভাবে করতে হবে তা জানাতেই এসেছে কুরআন ও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছেন নসিহত। অথচ মানুষের এসব আমলের মধ্যে ৫টি সর্বোত্তম কাজ শয়তান নিমিষেই ৩টি কাজের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেয়। মুমিনের সর্বোত্তম আমল ও শয়তানের ধোঁকা দেয়া কাজটি ৩টি কী?

আল্লামা ইমাম ফখরুদ্দিন রাজি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি মুমিনের ৫টি আমল এবং শয়তানের ৩টি ধোকার বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দুনিয়া হলো একটি বাগান। এতে রয়েছে-

> ইলম : ওলামায়ে কেরামের ইলম বা জ্ঞান। যা পথহারা মানুষকে সঠিক পথ দেখায়।

> সুবিচার : দায়িত্বশীল ইমাম বা নেতার সুবিচার। যার মাধ্যমে মানুষ সঠিক বিচার বা সমাধান পায়।

> ইবাদত-বন্দেগি : আমলে নিয়োজিত ব্যক্তির ইবাদাত-বন্দেগি। যা মানুষকে আল্লাহর ভয় ও মহব্বত তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করে।

> আমানত : হালাল ও হারাম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা একজন ব্যবসায়ীর জন্য অনেক বড় আমানত। অর্থাৎ যিনি ব্যবসা পরিচালনায় আমানতদার।

> দ্বীনি নসিহত : উত্তম গুণের অধিকারী ব্যক্তিদের নসিহত বা উপদেশ। যা ইলম বা জ্ঞানবঞ্চিত মানুষকে আল্লাহর দিকে নিয়ে আসে।

শয়তানের ৩ ধোঁকা

শয়তান নিমিষেই ৩টি ধ্বংসাত্মক প্ররোচনার মাধ্যমে মানুষের উল্লেখিত পাঁচটি কাজকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকে। আর এ ক্ষতি করার জন্য শয়তান মানুষের সামনে যে ৩ পরিকল্পনা বা ধোঁকা তুলে ধরে তাহলো-

> লোকদের মাঝে রিয়া বা অংহকারে উদ্বুদ্ধ করে। এর মধ্যেমে প্রথম তিনটি কাজ ধ্বংস করে দেয়। তাহলো, ইলম, সুবিধার এবং ইবাদত। রিয়া বা লোক দেখানোর ধোঁকার কারণে মানুষের এ ৩টি আমল ধ্বংস হয়ে যায়।

> সৎ ব্যবসা বা ব্যবসায়ী আমানতদারিতা নষ্ট করার জন্য খেয়ানতকে ধোঁকা হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। আর খেয়ানতের মাধ্যমে মানুষ শয়তানের ধোঁকায় নিজের বিশ্বস্ততা ও আমানতদারিতা ধ্বংস করে দেয়।

> ইলমে দ্বীনের নসিহত বা সুন্দর উপদেশগুলোকে নষ্ট করতে শয়তান কলংক নামক ধোঁকার মাধ্যমে তা ধ্বংস করে দেয়। ইসলামের দিকে নসিহতকারী ব্যক্তিকে এমন কলংকজনক কাজে জড়িয়ে ফেলে যে, ওই ব্যক্তি কোনো মানুষকে ইসলামের উপদেশ বা দাওয়াত দেয়ার অবস্থায় থাকে না। এটি শয়তানের মারাত্মক ষড়যন্ত্র মূলক কাজ।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, সব সময় শয়তানের প্ররোচনা ও ধোঁকা থেকে হেফাজত থাকা। অহংকার, লোক দেখানো ইবাদতের মানসিকতা, হিংসা, খেয়ানত ও কলংকজনক কাজ থেকে সতর্ক থাকা। আল্লাহর কাছে শয়তানের আক্রমণ থেকে হেফাজত থাকতে বেশি বেশি দোয়া করা।

সব সময় শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও রহমত কামনা করা। বিশেষ করে বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফার পড়া। যাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়।

সব সময় ইসতেগফার পড়া

أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

> সকালে এবং সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া

أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

> এ আয়াত দুটি বেশি বেশি পড়া

رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ – وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ

উচ্চারণ : রাব্বি আউ-জুবিকা মিন্ হামাযা-তিশ শায়া-ত্বী-ন। ওয়া আউ-জুবিকা রাব্বি আইঁ ইয়াহদুরু-ন।

অর্থ : ‘হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আমার প্রভু! আমার নিকট তাদের উপস্থিতি থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (সুরা মুমিনূন : আয়াত ৯৭-৯৮)

আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুসলিমাকে উপরোক্ত পাঁচটি কাজ করতে গিয়ে রিয়া, খেয়ানত ও প্রতরণা থেকে হেফাজত করুন। যথাযথভাবে আল্লাহর পথে চলার তাওফিক দান করেন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

বান্দার প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ কী?

দুনিয়ায় যে কোনো সুখবর পাওয়াকে মানুষ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামত মনে করে থাকেন। তা হতে পারে চাকরি, ব্যবসা কিংবা অন্য কোনো ভালো কাজ। কিন্তু মহান আল্লাহর কাছে ঈমানদারের জন্য রয়েছে বিশেষ একটি অনুগ্রহ। কী সেই অনুগ্রহ?

‘হ্যাঁ, বাস্তবেই যে কোনো সুসংবাদ বা ভালো খবরই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য নেয়ামত বা অনুগ্রহ। তিনিই  বান্দাকে নেয়ামত দান করেন। আর এ নেয়ামতের শুকরিয়াও শুধু তিনিই প্রাপ্য।

আবার এ নেয়ামত দেয়ার না দেয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে পরীক্ষা করে থাকেন। সবরের পরীক্ষা করে থাকেন। শুকরিয়া আদায়েও পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। যে বা যারা এ পরীক্ষা উত্তীর্ণ হন, তারাই দুনিয়া ও পরকালের সফলকাম।

যার প্রতি আল্লাহর নেয়ামত বা অনুগ্রহ নাজিল হয়, তার প্রতি মহান আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট- এমনটিই সবাই মনে করেন। আবার অনেকে তাঁর দেয়া বিপদাপদকে তাঁর বাগ বা পরীক্ষার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন। কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এসব অনুগ্রহ কিংবা বিপদাপদ কি তার সন্তুষ্টি বা রাগের মানদণ্ড? নাকি ভিন্ন কিছু?

দুনিয়াতে আল্লাহর কাছ থেকে মানুষ যা-ই পায়, সবই তাঁর দান। সাধারণ দান। এ দানের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ কোনো মানুষের ক্ষেত্রে তারতম্য করেন না। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে, তিনি মুমিন বান্দাকে রোদ-বৃষ্টি, আলো-বাতাস দান করেছেন। আর অবিশ্বাসীকে তা দান করেননি। বরং দুনিয়া সবার প্রতি সাধারণ দান সমান। আল্লাহ তাআলা বলেন-

كُلاًّ نُّمِدُّ هَـؤُلاء وَهَـؤُلاء مِنْ عَطَاء رَبِّكَ وَمَا كَانَ عَطَاء رَبِّكَ مَحْظُورًا

‘এদেরকে (পরকাল প্রত্যাশী) এবং ওদেরকেও (দুনিয়া প্রত্যাশী) আমি জীবনোপকরণ দিয়ে যাচ্ছি, এ হচ্ছে তোমার রবের দান এবং তোমার রবের দান রুখে দেবার কেউ নেই।’ (সুরা বনি ইসরাঈল : আয়াত ২০)

বান্দার প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ

মানুষ ঈমানদার হোক আর বেঈমান, সবাই আল্লাহ তাআলার দেয়া জীবনোপকরণ, সুযোগ-সুবিধাই ভোগ করছেন। এ দান লাভের মাধ্যমে এ বিষয়টি বুঝা যায় না যে, মানুষ কি কল্যাণের দিকে যাচ্ছে? নাকি অকল্যাণের দিকে যাচ্ছে?

মহান আল্লাহ কোন বান্দার বিশেষ অনুগ্রহ দিয়ে সম্মানিত করবেন বা করছেন, তা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিসে সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেছে। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা যাকে ভালোবাসেন এবং যাকে ভালোবাসেন না— উভয় প্রকারের মানুষকেই কল্যাণ (অনুগ্রহ) দান করেন। আর ঈমান (এর নেয়ামত) দান করেন শুধু তাকেই, যাকে তিনি ভালোবাসেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ অনুগ্রহ পাওয়ার ক্ষেত্রে এ হাদিসে দুটি বিষয় সুস্পষ্ট। তাহলো-

– বান্দার ঈমান লাভ আল্লাহর কাছে বিশেষ অনুগ্রহ। ঈমানদার বান্দাকেই আল্লাহ তাআলা এ বিশেষ অনুগ্রহ বা কল্যাণ দান করেন।

– আর আল্লাহ তাআলা যাকে ভালোবাসেন,  তাকেই তিনি ঈমান-এর মতো বিশেষ নেয়ামত দান করেন।

সুতরাং ঈমান, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদিই হচ্ছে বান্দার জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই বিশেষ নেয়ামাত। এগুলোই সেই ব্যতিক্রম সম্পদ, যার মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া যায়।

এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়ার হওয়ার জন্য, তার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে জীবনাচারের অনুকরণ ও অনুসরণ করার কথা বলেছেন। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনাচার লালন করার মাধ্যমেই পাওয়া যাবে আল্লাহর ভালোবাসা। আল্লাহ তাআলা বলেন-

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

‘(হে রাসুল! আপনি) বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।‘ (সুরা ইমরান : আয়াত ৩১)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহর দেয়া সব জীবনোপকরণকে নেয়ামাত মনে করা। সুখ-শান্তি, ভালো চাকরি, জমজমাট ব্যবসা ইত্যাদি পেয়ে আল্লাহর কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন করা থেকে বিরত না থাকা।

আবার দুঃখ-কষ্ট, ব্যর্থতা, ব্যবসায়ে ক্ষতির সময়ও আল্লাহকে ভুলে না যাওয়া কিংবা আল্লাহর প্রতি বিরূপ মন্তব্য না করা। এ সময় সবর করার মাধ্যমেও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব। আর এখানেই রয়েছে বান্দার জন্য মহাপরীক্ষা। যারাই এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন, তারাই সফল।

মনে রাখতে হবে

দুনিয়া হলো পরীক্ষার স্থান। পরকালের সম্পদ লাভের জায়গায়। এখানে সবাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। এ বিশাল পরীক্ষায় শুধু তারাই সফল হবে, যারা ঈমান এবং ধৈর্যকে একত্রে কাজে লাগাতে পারবে। প্রকৃত সফলতা তারাই পাবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ঈমানের মতো মহামূল্যবান সম্পদ লাভ করার তাওফিক দান করুন। ঈমান ও ধৈর্যধারণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

সেজদায় যে ৪ দোয়া খুবই উপকারী

সেজদা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় ইবাদতের একটি। এ সময় বান্দা আল্লাহ তাআলার খুব কাছাকাছি চলে যান। আল্লাহর নৈকট্য লাভের এ সময়টিতে বান্দা যে দোয়া করেন, আল্লাহ তাআলা তাই দান করেন। সেজদা এবং দোয়া কবুলের সময় বেশি উপকারী ৪টি দোয়া রয়েছে। যা বান্দার জন্য খুবই আবশ্যক। তাহলো-

দুনিয়া ও পরকালের নিরাপত্তা লাভের দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা, ইন্নি আস্আলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ্ দুন্ইয়া ওয়াল আখিরাহ।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও পরকালের নিরাপত্তায় আশ্রয় চাই। (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে মাজাহ, মুসতাদরাকে হাকেম)

নিজ ও পরিবারের জন্য জান্নাত লাভের দোয়া

اَللَّهُمَّ أَدْخِلْنَا وَأَهْلَنَا الْجَنَّةَ الْفِرْدَوْسَ بِغَيْرِ حِسَابِ وَلَا عَذَابِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলনা ওয়া আহলানাল জান্নাতাল ফিরদাউসা বিগাইরি হিসাবিও ওয়া লা আজাবি। অর্থঃ : হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আর আমার পরিবারকে হিসাব ও আজাব ছাড়া জান্নাতুল ফিরদাউস দান কর।’

শহীদের মর্যাদা লাভের দোয়া

اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي شَهَادَةً فِي سَبِيلِكَ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মারযুকনি শাহাদাতান ফি সাবিলিক।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে তোমার পথে শাহাদাত লাভের তাওফিক দান কর।’ (বুখারি)

বাবা-মা ও নিজের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দোয়া

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ 

উচ্চারণ : ‘রব্বানাগফিরলি ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’ অর্থ : ‘হে আমাদের রব! যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার বাবা-মা ও মুমিনদের ক্ষমা করে দেবেন।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪১) মুমিন মুসলমানের জন্য দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে নিজের জন্য, বাবা মার জন্য, পরিবারের জন্য মুসলিম উম্মাহর জন্য উল্লেখিত ৪টি দোয়া সেজদায় এবং দোয়া কবুলের সময় বেশি বেশি পড়া আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সেজদায় এবং দোয়া কবুলের সময়ে এ দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com