আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

রোহিঙ্গা: মিয়ানমারের রাখাইনে ‘উন্মুক্ত কারাগারে’ বন্দী লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ও কামান মুসলিম, বলছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতনে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতনে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে

মিয়ানমারের সরকার রাখাইন রাজ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে বছরের পর বছর নোংরা ক্যাম্পে আটক করে রেখেছে বলে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

সংস্থাটি ‘অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঢালাওভাবে আটক’ করা রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

২০১২ সালে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু করার পর থেকে রোহিঙ্গা ও কামান মুসলিমদের ‘উন্মুক্ত বন্দিশিবিরে’ আটক করে রাখা হয়েছে বলে উঠে এসেছে মানবাধিকার সংস্থাটির রিপোর্টে।

১৬৯ পৃষ্ঠার রিপোর্টে মধ্য রাখাইন রাজ্যে ২৪টি ক্যাম্পের ‘অমানবিক’ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, খাদ্য ও আশ্রয়ের অধিকারের পাশাপাশি তাদের মানবিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

ক্যাম্পে আটক থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে পানি বাহিত রোগ, অপুষ্টির মাত্রা এবং শিশু ও প্রসূতি মৃত্যুর হার বেশি বলে উঠে এসেছে বিবৃতিতে।

রিপোর্টের লেখক এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক গবেষক শায়না বাউকনার বলেন, “মিয়ানমার সরকার দাবি করে যে তারা সবচেয়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ করছে না, কিন্তু তাদের এই দাবি ফাঁকা বুলির মত শোনাবে যদি তারা রোহিঙ্গাদের পূর্ণ আইনি সুরক্ষাসহ ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে না দেবে।”

সংস্থাটি বলছে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে উত্তর রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা ও নির্যাতনের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে ২০১২ সালের পদক্ষেপ।

রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা
রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা

২০১৮ সালের পর থেকে ৬০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা, কামান মুসলিম এবং মানবাধিকার কর্মীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে রিপোর্টটি। এছাড়া একশোরও বেশি সরকারি, বেসরকারি অভ্যন্তরীণ নথিসহ জাতিসংঘের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তৈরি করা প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে যে মিয়ানমার ও রাখাইন রাজ্যের সরকারের কাছে ক্যাম্পগুলোর পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য বারবার আহ্বান জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে সেসব আহ্বান উপেক্ষা করে এসেছে।

রোহিঙ্গারা বলছে ক্যাম্পের জীবন গৃহবন্দী থাকার মত। এক রোহিঙ্গা ব্যক্তি বলেন, “ক্যাম্পের জীবন খুবই কষ্টের। আমাদের স্বাধীনতা বলে কিছু নেই।”

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দীর্ঘসময় ধরে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে আর সেই পরিকল্পনার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ২০১২ সালে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায়।

সেসময় রাখাইন রাজ্যে কর্মরত একজন জাতিসংঘ কর্মকর্তা ২০১২ সালে মিয়ানমারের সরকারের মনোভাব সম্পর্কে বলেন: “তাদের মনোভাব ছিল কোনঠাসা করা, আবদ্ধ করা এবং ‘শত্রু’কে আটক রাখা।”

২০১৭ সালের এপ্রিলে ২০১২ সালে তৈরি করা অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো বন্ধ করার ঘোষণা দেয় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালে তারা ‘অভ্যন্তরীনভাবে বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন ও আইডিপি ক্যাম্প বন্ধের জাতীয় কর্মসূচি’ হাতে নিলেও সেসময় ক্যাম্পের পরিধি বাড়িয়ে কার্যত রোহিঙ্গাদের নিজেদের বাসস্থানে ফিরে যাওয়ার সুযোগ আরো সীমিত করে দেয়।

কামান মুসলিম সম্প্রদায়ের এক নেতা বলেন, “এখন পর্যন্ত একজনও ফিরে যেতে পারেনি, একজনকেও ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। এখনও আমরা সরকারকে আমাদের জায়গার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে যাচ্ছি।”

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাথে কথা বলা একজন রোহিঙ্গাও মনে করেন না যে তাদের অনির্দিষ্টকালের শাস্তির মেয়াদ কখনো শেষ হবে বা তাদের সন্তানরা কখনো স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।

এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, “আমার মনে হয় এই পদ্ধতি স্থায়ী। কিছুই পরিবর্তন হবে না, এগুলো শুধুই ফাঁকা বুলি।”

নভেম্বরে মিয়ানমারে সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ রোহিঙ্গার ভোট দেয়ার অধিকারই নেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি মহানবী (সা.)-এর সম্মান

ইসলাম মানুষের অভিন্ন মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষা, বর্ণ ও আঞ্চলিকতা কখনো শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হতে পারে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আদম-সন্তানদের মর্যাদা দান করেছি; স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি; তাদের উত্তম জীবিকা দান করেছি এবং আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৭০)

বর্ণবৈচিত্র্যের রহস্যপবিত্র কোরআনে আল্লাহ মানবজাতির বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী ও বর্ণে বিভক্ত হওয়ার রহস্য উন্মোচন করে বলেন, ‘হে মানবজাতি, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে এবং তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন সম্প্রদায় ও গোত্রে যেন তোমরা পরস্পরকে চিনতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সেই বেশি সম্মানী যে বেশি আল্লাহভীরু।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত: ১৩)

ইসলামে বর্ণবৈষম্য নিষিদ্ধ

ইসলাম বর্ণবৈষম্যসহ যেকোনো ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে মানুষ তার ব্যক্তিত্ব ও গুণাবলির দ্বারা অন্যের ওপর মর্যাদা লাভ করতে পারে। বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সা.) বলেন, ‘হে মানুষ, তোমাদের প্রতিপালক এক, তোমাদের পিতা এক, তোমরা সবাই এক আদমের সন্তান এবং আদম মাটি থেকে সৃষ্ট। তোমাদের মধ্যে সেই সর্বাপেক্ষা বেশি সম্মানিত যে সর্বাপেক্ষা বেশি আল্লাহভীরু। কোনো আরব কোনো অনারবের ওপর আল্লাহভীতি ছাড়া বেশি মর্যাদাবান ও সম্মানী হতে পারে না।’ (সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠা ১০০)

অনন্য মর্যাদায় সমাসীন সাত কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবি

ইসলাম যে বৈষম্যহীন সমাজের দীক্ষা দিয়েছে তার প্রতিফলন রাসুলের যুগেই সমাজে সমাজে খুঁজে পাওয়া যায়। যে সমাজে কৃষ্ণাঙ্গ ও দাস বহু নারী ও পুরুষ অনন্য মর্যাদায় সমাসীন হন। এমন কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবির পরিচয় তুলে ধরা হলো।

১. উম্মে আইমান (রা.): তিনি ছিলেন নবীজি (সা.)-এর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া দাসী। তবে শৈশবে মাকে হারানোর পর তিনি উম্মে আইমান (রা.)-এর কাছে প্রতিপালিত হন। তিনি নিজের জীবনকে রাসুলের সেবায় উৎসর্গ করেন। নবীজি (সা.) তাঁকে মায়ের মতো সম্মান করতেন এবং ভালোবাসতেন। তিনি তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদও দিয়েছিলেন। নিজের পালকপুত্র জায়েদ ইবনে হারিসা (রা.)-এর সঙ্গে তাঁকে বিয়ে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ‘মা’ বলে সম্মোধন করতেন এবং বলতেন, ‘তিনি আমার পরিবারের অবশিষ্টাংশ।’

২. উসামা বিন জায়েদ (রা.): উসামা বিন জায়েদ (রা.) ছিলেন রাসুল (সা.)-এর পালকপুত্র জায়েদ (রা.)-এর ছেলে। পিতা-পুত্র উভয়কেই নবীজি খুব ভালোবাসতেন। রাষ্ট্রীয় বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নবীজি (সা.) তাঁদের ওপর অর্পণ করেন। তাঁর জীবদ্দশায় শেষ যে বাহিনী জিহাদের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছিলেন তাঁর সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়েছিল উসামা (রা.)-কে। যদিও সেই বাহিনীতে ওমর ও আবু বকর (রা.)-এর মতো আরও বহু মর্যাদাবান সাহাবি উপস্থিত ছিল। অথচ তিনি ছিলেন দাসের পুত্র ও কৃষ্ণাঙ্গ।

৩. সাদ আল-আসওয়াদ (রা.): তিনি ছিলেন দরিদ্র ও কৃষ্ণবর্ণ। নিজের অসহায় অবস্থা থেকে একদিন তিনি নবীজি (সা.)-এর কাছে দুঃখ করে বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমিও কি জান্নাতে যাব? আমি তো নিচু মাপের ঈমানদার হিসেবে বিবেচিত হই, কোনো মেয়ে আমার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে রাজি হয় না।’ 

নবীজি (সা.) তাঁর দুঃখ বুঝতে পেরে তাঁকে ধনাঢ্য এক ব্যক্তির রূপসী মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রস্তাব পাঠিয়েছেন শুনে ওই ব্যক্তির মেয়ে বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু তাদের বিয়ের আগেই সাদ (রা.) শহিদ হয়ে যান। নবীজি তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন এবং তাঁর সম্মানে জান্নাতের হুররা যে দুনিয়াতে অবতরণ করে তাঁর জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করেছে তা অন্য সাহাবিদের অবগত করেন।

৪. জুলাইবিব (রা.): তিনি নবীজি (সা.)-এর একজন কম পরিচিত সাহাবি। জুলাইবিব আসলে কোনো নাম নয়, এটি একটি উপনাম। আরবিতে এ শব্দের অর্থ ‘ক্ষুদ্র কিন্তু পূর্ণতাপ্রাপ্ত’। তাঁকে এই নামে ডাকা হতো। কারণ তিনি ছিলেন উচ্চতায় অনেক খাটো। ইসলাম-পূর্ব সমাজে তাঁকে ‘দামিম’ নামে ডাকা হতো। যার অর্থ কুশ্রী, বিকৃত অথবা দেখতে বিরক্তিকর। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁকে জুলাইবিব নামে ডাকা হতো। এক জিহাদে শহীদ হওয়ার পর নবীজি তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন, তাঁকে নিজ হাতে করে কবরে নামান এবং তাঁর প্রতি নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করেছেন।

৫. আম্মার বিন ইয়াসির (রা.): আম্মার বিন ইয়াসির (রা.)-এর পিতা-মাতা উভয়েই ছিলেন ক্রীতদাস। আবার তাঁর গায়ের রং ছিল কালো। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি তাঁকে জীবদ্দশায় শাহাদাত ও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। মক্কী যুগে কঠোর নির্যাতন ভোগ করেও তাঁর পরিবারের কেউ ইসলাম থেকে দূরে সরেননি। এমনকি তাঁর মা সুমাইয়া (রা.) ইসলামের জন্য প্রথম শহীদ হয়েছিলেন।

৬. আবু জর গিফারি (রা.): দুনিয়াবিরাগী সাহাবিদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ইসলাম গ্রহণের আগে গোত্রের অভিজাত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হলেও ইসলাম গ্রহণের পর তিনি সব কিছু ত্যাগ করে সাধারণ জীবন বেছে নেন। তিনি সার্বক্ষণিক নবীজির সাহচর্য গ্রহণ করেছিলেন। তিনি নবীজি (সা.)-কে খুব বেশি ভালোবাসতেন এবং নবীজি (সা.)-ও তাঁকে ভালোবাসতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসন বেছে নেন এবং মরুভূমিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৭. বেলাল হাবশি (রা.): ইসলামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব বেলাল (রা.)। কঠিন নির্যাতনের মধ্যেও যিনি ইসলামের ওপর ছিলেন পাহাড়ের মতো অটল। তাঁকে বলা হয়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুয়াজ্জিন। মহানবী (সা.) তাঁকে মসজিদে নববী ও সফরে মুয়াজ্জিন হিসেবে নিযুক্ত করেন। জান্নাতে তাঁর পায়ের আওয়াজ শুনে এসে নবীজি তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন। এমনকি তাঁকে এ কথাও বলেন যে হাশরের ময়দানে কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি নবীজি (সা.)-এর বাহনের লাগাম ধরে আগে আগে হাঁটবেন এবং তাঁর সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

গোনাহ মাফ ও মর্যাদা লাভে জুমআর দিনের ৩ আমল

মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক উৎসবের দিন ‘ইয়াওমুল জুমআ’। আল্লাহ তাআলা গোটা দুনিয়াকে ৬ দিনে সৃষ্টি করেছেন। জুমআর দিন ছিল শেষদিন। যে দিনে আল্লাহ দুনিয়া সৃষ্টি সম্পন্ন করেছেন। বরকতময় এ দিনে মহান আল্লাহ বান্দাকে অনেক নেয়ামত দান করেছেন।

মুসলিম উম্মাহর জন্য এ দিন সুস্পষ্ট নামাজসহ অনেক বিশেষ নেয়ামতপূর্ণ আমল রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দিয়েছেন-
‘হে মুমিনগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়,তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের উদ্দেশ্যে (মসজিদের দিকে দ্রুত) ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ৯)

সুতরাং জুমআর আজানের আগেই সব কর্মব্যস্ততা থেকে নিজেকে মুক্ত করে নামাজের প্রস্তুতি নেয়া বিশেষ আমলের একটি। এটি মুমিন মুসলমানের ঈমানের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ দিনের বিশেষ কিছু আমল সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে প্রমাণিত। এর মাধ্যমে গোনাহমুক্ত হবে মুমিন। হাদিসে এসেছে-
> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমআ এবং রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে যেসব গোনাহ হয়ে থাকে তা পরবর্তী নামাজ , জুমআ এবং রমজান (পালনে) সে সব মধ্যবর্তী গোনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। যদি কবিরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে।’ (মুসলিম, তিরমিজি)

জুমআর নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির মধ্যবর্তী সব গোনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন। অতিরিক্ত আরও তিনদিনের গোনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন।

জুমআর দিনের আরও কিছু বিশেষ আমল
জুমআর দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ তিনটি আমল রয়েছে। যে আমলগুলোর ফজিলত হাদিসের একাধিক বর্ণনায় ওঠে এসেছে। তাহলো-

> কুরআন তেলাওয়াত করা
জুমআর দিন তথা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে জুমআর দিন সন্ধ্যার আগে যে কোনো সময় সুরা কাহফের তেলাওয়াত করা অনেক ফজিলতপূর্ণ। কুরআনুল কারিমের ১৫তম পারার ১৮ নং সুরা। সম্ভব হলে পুরো সুরাটি তেলাওয়াত করা। আর সম্ভব না হলে অন্তত প্রথম ও শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করা। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি সুরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্ত করে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। অন্য রেওয়ায়েতে তিনি বলেন, শেষ ১০ আয়াতের ব্যাপারেও উল্লেখিত ফজিলতের বর্ণনা রয়েছে।’ (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ ও মুসনাদে আহমদ)

> রাসুলের (সা.) প্রতি দরূদ পড়া
জুমআর দিন বেশি বেশি দরূদ পড়া উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ কাজ। দিনব্যাপী দরূদ পড়ার পাশাপাশি বিশেষ করে আসর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত দরূদ পড়া। হাদিসে এসেছে-
– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমআর দিন (শুক্রবার) এবং জুমুআ রাতে (বৃহস্পতিবার রাতে) তাঁর জন্য প্রচুর পরিমাণে দরূদ পাঠ কর। যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তার প্রতি ১০টি রহমত নাজিল করন।’ (সহিহ জামে) সুতরাং জুমআর দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বেশি বেশি দরূদ পড়ুন-
‎اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّد
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রহমত ও শান্তি দান করুন।’

– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমার ওপর দরুদ পাঠ করা পুলসিরাত পার হওয়ার সময় আলো হবে। যে ব্যক্তি জুমআর দিন ৮০ বার দরুদ পড়ে তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’

অন্য রেওয়াতে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন আসরের নামাজের পর নিজ স্থান থেকে ওঠার আগে ৮০ বার এই দরুদ শরিফ পাঠ করে-
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّم تَسْلِيْمَا
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আ’লা আলিহি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা।’
তার ৮০ বছরের গোনাহ্ মাফ হবে এবং ৮০ বছর ইবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে। সুবহানাল্লাহ! (আফজালুস সালাওয়াত)

> ক্ষমা ও কুরবানির সাওয়াব লাভ
জুমআর দিন বিশেষ কিছু মুহূর্ত ও সময় রয়েছে, যে সময়ে মহান আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। এ জন্য প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে উপস্থিত হওয়া। তাতে মিলবে দুটি ফজিলত ও মর্যাদা। একটি হলো- প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে যাওয়ায় কুরবানির সাওয়াব আর দ্বিতীয়টি হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা লাভ। হাদিসে এসেছে-
– হজরত ইরবাজ ইবনে সারিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম কাতারের লোকদের জন্য তিনবার মাগফেরাতের (ক্ষমার) দোয়া করতেন। আর দ্বিতীয় সারির লোকদের জন্য একবার মাগফেরাতের দোয়া করতেন’ (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)
– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণন করেন , রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এমনভাবে গোসল করল যেমন পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করে। অর্থাৎ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সারা শরীর পানি ঢেলে খুব ভালোভাবে শরীর পরিস্কার করল তারপর প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে গিয়ে পৌঁছল। তাহলে সে যেনো একটি গরু কুরবানি করল। যে ব্যক্তি তারপর ২য় সময়ে গিয়ে পৌঁছল সে যেন একটি শিংওয়ালা দুম্বা কুরবানি করল। তারপর যে ব্যক্তি ৪র্থ সময়ে গিয়ে পৌঁছল সে যেন আল্লাহর রস্তায় একটি ডিম দান করল। তারপর খতিব বা ইমাম যখন খুতবা পড়ার জন্য বের হন; তখন ফেরেশতা মসজিদের দরজা ছেড়ে দিয়ে খুতবাহ শোনেন ও নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে এসে বসেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

তবে এসব ফজিলতপূর্ণ বিশেষ আমলের সাওয়াব ও নেয়ামত পেতে হলে অবশ্যই জুমআর নামাজ আদায় করতে হবে। আর তাতেই মিলবে এসব ফজিলত ও নেয়ামত। তাই কোনোভাবেই জুমআ পরিত্যাগ করা যাবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে জুমআ পরিত্যাগ করার পরিণামও ভয়াবহ। হাদিসে এসেছে-
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে অলসতাবশত তিনটি জুমআ ছেড়ে দেবে, অল্লিাহ তাআলা তার হৃদয়ে মোহর মেরে দেবেন।’ (মুসলিম, তিরমিজি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, জুমআর দিনের আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করা। বিশেষ আমলের সাওয়াব ও ফজিলত লাভে জুমআর নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা। সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা। বেশি বেশি দরূদ পড়া এবং প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে গিয়ে প্রথম কাতারে অবস্থান গ্রহণ করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত বিশেষ আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। জুমআর নামাজ পড়তে সবাইকে মসজিদে আগে আগে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

জুমআর দিন দোয়া কবুলের মুহূর্ত কোনটি?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে জুমআর দিন দোয়া কবুলের সময় সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। যে সময় দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেন। সেই সময়টি কোনটি?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জুমআর দিন এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দাহ আল্লাহর কাছে যা চায়, তা-ই তাকে দেওয়া হয়। আর এ সময়টি হলো জুমআর দিন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।’ (বুখারি, মুসলিম)

হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমআর দিন এমন একটি সময় আছে, সে সময় আল্লাহর বান্দাহ আল্লাহর কাছে যা চায়, আল্লাহ তাআলা তা-ই দেন। অতএব তোমরা আসরের শেষ সময়ে তা সন্ধান কর।’ (আবু দাউদ)

মুমিন মুসলমানের উচিত, জুমআর দিন আসরের নামাজের পর মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা-প্রার্থনাসহ যাবতীয় দোয়া করা। হাদিসের ঘোষণায় এ সময় আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর আমল করে জুমআর দিনের ফজিলত ও বরকত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

রমজানে মসজিদুল হারামে ইফতারি বিতরণের অনুমোদন

আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে পবিত্র মসজিদুল হারামসহ মক্কা নগরীর প্রধান সড়ক ও আবাসিক এলাকাতে ইফতার বিতরণ করা যাবে। গতকাল সোমবার (১৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে পূর্ব-অনুমতি সাপেক্ষে ইফতার খাবার বিতরণ করা যাবে বলে জানিয়েছে মক্কার সরকার।

সৌদি গেজেটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদুল হারাম, আবাসিক এলাকা, প্রধান সড়কগুলোসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে শর্ত সাপেক্ষে ইফতার খাবার বিতরণের অনুমোদন দিয়েছে।

বৈশ্বিক করোনা মহামারি সংক্রমণে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওমরাহ স্থগিত করাসহ মসজিদে প্রবেশে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। এরপর অত্যন্ত সীমিত পরিসরে হজ ও ওমরাহ আয়োজন করা হয়। এতে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিতে আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে বলা হয়। 

মক্কা সরকারের সংশ্লিষ্ট কমিটি জানায়, করোনা সংক্রমণরোধে এক বছর যাবত বিধি-নিষেধ জারির পর পবিত্র রমজান মাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিরা মসজিদুল হারামে নামাজ আদায় করতে পারবে। এরই অংশ হিসেবে ইফতার বিতরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

তবে ইফতার বিতরণের জন্য ওয়েবসাইটে আবেদন করে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। তাছাড়া এ বছর নির্ধারিত খাবারই কেবল ইফতার হিসেবে বিরতণ করা যাবে।  হয়েছে। 

রমজান মাস উপলক্ষে প্রতি বছর অসহায় পরিবারের মধ্যে খাবারের ঝুড়ি, বিভিন্ন সড়কে গরম খাবার এবং মসজিদুল হারাম ও আশপাশের এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হতো। 

এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যের ঝুড়ি যা দরিদ্র পরিবারগুলিতে বিতরণ করা হয়, আশেপাশে এবং আউটলেটগুলিতে গরম খাবার এবং গ্র্যান্ড মসজিদ এবং এর আঙ্গিনাগুলির পাশাপাশি পবিত্র শহরের আবাসিক পাড়াগুলিতে শুকনো খাবার।

করোনা মহামারির কারণে গত বছরের রমজান মাসে মসজিদুল হারামে ইফতার বিতরণ নিষিদ্ধ করেছিল মক্কার সরকার। এছাড়াও মক্কার আবাসিক এলাকা, প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে ইফতার খাবারে জনসমাগম নিষিদ্ধ ছিল। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

মৃত ব্যক্তির কুলখানি করা কি শরিয়ত সম্মত?

লেখক

মৃত ব্যক্তির কুলখানি করা কি শরিয়ত সম্মত?

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ৬৭০তম পর্বে মৃত ব্যক্তির কুলখানি করা শরিয়ত সম্মত কি না, সে বিষয়ে নীলফামারি থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন মতিকুর ইসলাম। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া।

প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিন, সাত দিন বা ৪০ দিনে কুলখানি করা কি ঠিক?

উত্তর : মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিন, সাত দিন বা ৪০ দিনে যে কুলখানির আয়োজন করা হয়, এই আয়োজনের কোনো ভিত্তি নেই ইসলামে। উত্তম হচ্ছে, মৃত ব্যক্তির জন্য সদকা করা, দান করা। মৃত ব্যক্তিকে সাহায্য করার জন্য সদকা করা হচ্ছে বিধান। এই ক্ষেত্রে যে আনুষ্ঠানিকতা করা হয় এগুলো মানুষের মন গড়া বিষয়। কিন্তু যদি কেউ এই ধরনের তারিখ নির্ধারণ না করে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাউকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে, এটি করা জায়েজ। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com