আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

বনের ফুল নীল বনলতা

প্রায় ১৫ বছর আগে মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে ফুলটি প্রথম দেখি। উদ্যানের অফিস ঘরের পূর্ব পাশে, অর্কিড হাউসের পেছনে ঝোঁপ-ঝাড়ের ভেতর বেশ জাঁকিয়ে বসেছিল লতাটি। নীলচে-বেগুনি রঙের ফুলগুলো খুব সহজেই নজর কাড়ে। তবে অপেক্ষাকৃত বাসিফুলে গাঢ়-নীলের পোঁচটা থাকে না বললেই চলে। 

টাঙ্গাইলের মধুপুরের টেলকি ছোট একটি বাজার। বাজার ছাড়িয়ে খানিকটা পথ হেঁটে আমরা বনের ভেতর ঢুকে পড়লাম। বিশাল বিশাল পাতার হাড়গজা (স্থানীয় নাম আজবী) চোখে পড়ল। গাছের গায়ে সুদৃশ্য লতায় নীলচে রঙের গুচ্ছবদ্ধ ফুল ঝুলে আছে। স্থানীয় নাম নীলাতা বা নালাতা।  অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা ফুলগুলো যেন কথা গ্রন্থে এ ফুলটির (Thunbergia grandiflora) নাম রেখেছেন নীল বনলতা। ইংরেজি নাম Bengal Clock Vine, Blue Trumpet Vine, Skay Flower ইত্যাদি।  

এ ফুলগাছ আমাদের মধুপুরের শালবনসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে। তবে অব্যাহতভাবে প্রাকৃতিক বনভূমি ধ্বংস হতে থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে এই লতাগুল্মগুলো। নীল বনলতা মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের গাছ। আমাদের চিরসবুজ বনের গাছপালা এদের প্রিয় আবাস। তবে দেশের বাইরে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আসামে।

এরা শক্ত লতার গাছ। সাধারণত ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত উপরে উঠতে পারে। পাতা প্রতিমুখ, সবৃন্তক, পত্রবৃন্ত আড়াই থেকে ৪ সে.মি. লম্বা ও কর্কশ, গোড়া তাম্বুলাকার, উভয়পৃষ্ঠ অমসৃণ, করতলাকারে ৫ থেকে ৭টি শিরাল, বোঁটা মোড়ানো ধরনের, আগা চোখা, ১০ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হতে পারে। কিনারে আছে বেশ কয়েকটি লতি। ফুলগুলো লম্বা ঝুলন্ত ডাঁটায় থোকায় থোকায় ঝুলে থাকে। দেখতে অনেকটা ঘণ্টার মতো, দলনল সামান্য বাঁকা, হালকা নীল রঙের অসমান পাপড়ির সংখ্যা ৫টি। পুংকেশর ৪টি, অর্ধসমান, গলদেশের ভেতরের দিক বাঁকানো, পরাগধানী ৫ থেকে ৯ মি.মি. লম্বা ও দীর্ঘায়িত। ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফল বেশ শক্তপোক্ত ধরনের, ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

মালয়েশিয়ায় এ গাছের পাতার ক্বাথ পেটের অসুখে কাজে লাগে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীও এ গাছের পাতা নানান কাজে ব্যবহার করেন। বংশবৃদ্ধি বীজ ও কাটিংয়ে। বাগানের বেড়ায় এ ফুলের ঝুলন্ত সমারোহ সত্যিই মনোমুগ্ধকর। 

ফুল

জেনে নিন তৈল উৎপাদনকারী সূর্যমুখী চাষের পদ্ধতি

সূর্যমুখী ফুলের নিষ্কাশিত তেল পুষ্টিগুণে ভরপুর। বহু চাষিভাই সূর্যমুখী চাষ করে উপকার পেয়েছেন। এই ফুলের চাষ করার পদ্ধতি যেমন সহজ, তেমনই এই ফুলের চাষের থেকে অর্থকরী লাভও কম নয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক সূর্যমুখী চাষের পদ্ধতি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়ে থাকে। এর বীজ থেকে প্রস্তুত হওয়া তেল ভোজ্য তেল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এর চাষ লক্ষ্য করা যায়। 

সূর্যমুখী চাষের পদ্ধতি (Farming Procedure)

সূর্যমুখীর চাষ মধ্য-নভেম্বর থেকে মধ্য-ডিসেম্বর অর্থাৎ অগ্রহায়ণ মাসেই করাই ভালো। এর ফলে অধিক ফলনের লাভ থাকে। খরিপ-১ মৌসুমে অর্থাৎ মধ্য-এপ্রিল থেকে মধ্য-মে মাসও এই চাষের উপযুক্ত সময়। 

সূর্যমুখী বীজ বপন পদ্ধতি (Planting)

এই চাষের আদর্শ নিয়ম সারি করে সূর্যমুখীর বীজ বোনা। একটা সারি থেকে  আরেকটা সারির দূরত্ব কমপক্ষে ৫০ সেমি হওয়া উচিত। প্রতি সারিতে গাছের দূরত্ব ২৫ সেমি রাখলে ভালো। এই নিয়মানুযায়ী বীজ পোঁতা হলে প্রতি হেক্টর ৮-১০ কেজি বীজের দরকার পড়বে।

সার প্রয়োগ (Fertilizer)

হেক্টর প্রতি ইউরিয়া ১৮০-২০০ কেজি,

হেক্টর প্রতি টিএসপি ১৫০-২০০ কেজি,

হেক্টর প্রতি এমপি ১২০-১৫০ কেজি,

হেক্টর প্রতি জিপসাম ১২০-১৭০,

হেক্টর প্রতি জিংক সালফেট ৮-১০ কেজি,

হেক্টর প্রতি বরিক এসিড ১০-১২ কেজি,

হেক্টর প্রতি ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ৮০-১০০ কেজি

অর্ধেক ইউরিয়া সার এবং বাদবাকি অন্যসব সার শেষবার চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে দিয়ে ভালো করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। বাদবাকি যে ইউরিয়া পড়ে রয়েছে তা দুই ভাগে, চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পরে, বাকিটা  ৪০-৪৫ দিন পর অথবা ফুল ফোটার আগে ব্যবহার করতে হবে। 

রোগবালাই  প্রতিকার (Disease Control)

সূর্যমুখী চাষে পাতা ঝলসানো রোগটি ভীষণ ভাবে ক্ষতিকর। অলটারনারিয়া হেলিয়াস্থি নামক ছত্রাকের আক্রমণে প্রথমে সূর্যমুখীর পাতায় গাঢ় বাদামি রঙের দাগ পড়ে। পরে ওই দাগ বড় দাগের সৃষ্টি করে। অবশেষে পাতা পুরোপুরি ঝলসে যায়।

শিকড় পচা রোগ সূর্যমুখী চাষের আরও এক অন্তরায়। স্কেলেরোশিয়াম রলফসি নামক ছত্রাকের আক্রমণে এই রোগ হয়ে থাকে। এর ফলে  গাছের গোড়া আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং সাদা তুলার মত ছত্রাকের মাইসেলিয়াম এবং গোলাকার দানার মত স্কেলেরোশিয়াম ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে দিকে গাছ নেতিয়ে পড়ে এবং কিছুদিনের মধ্যে সব গাছ শুকিয়ে মারা যায়।

তাই এই রোগ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোভরাল-৫০ ডবি্লউ পি (২%) জলে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার জমিতে স্প্রে করলে এই রোগ মুক্ত হয়। ফসল কেটে নেওয়ার পর গাছের পড়ে থাকা অংশ পুড়িয়ে ফেললে এই রোগ চলে যায়। 

প্রতিকার

ভিটাভেক্স-২০০ দিয়ে মাঠ শোধন করলে এই রোগের বিস্তার আটকানো যায়।  জমিতে জল থাকলে এই জাতীয় ছত্রাক বেঁচে থাকতে পারে না। রোগ আক্রমণ করলে জমিতে প্লাবন সেচ দিলে এই প্রকোপ কমে।

বীজ সংগ্রহের নিয়ম (Harvest)

বীজ পোঁতার থেকে পরিপক্ক হওয়া পর্যন্ত ৯০-১১০ দিনের মাথায় সূর্যমুখীর বীজ সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে আদর্শ সময়। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

চাষ করতে পারেন খোঁপায় গোঁজা বেলি ফুল

ফুলের চাষবাস এদেশে অনেক আগেই শুরু হয়েছে। অর্থকরী ফসল হিসেবে বেশ সাফল্যও এসেছে। বেশিরভাগ অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ফুলের তোড়া, মালায় সুগন্ধি ফুল হিসেবে বেলি ফুলের কদর আছে। তাই এটি একটি অর্থকরী ফুল। ফলে আপনিও চাষ করতে পারেন খোপায় গোঁজা বেলি ফুল।

জাত
তিন জাতের বেলি ফুল দেখা যায়। যথা- সিঙ্গেল ও অধিক গন্ধযুক্ত, মাঝারি ও ডাবল ধরনের এবং বৃহদাকার ডাবল ধরনের।

বংশবিস্তার
বেলি ফুল গুটি কলম, দাবা কলম ও ডাল কলম পদ্ধতির মাধ্যমে বংশবিস্তার হয়।

চাষ ও সার
বেলে মাটি ও ভারি এঁটেল মাটি ছাড়া সবধরনের মাটিতে বেলি ফুল চাষ করা যায়। জমিতে পানি সেচ ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকা ভালো। জমি ৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরা ও সমান করতে হবে। জমি তৈরির সময় জৈব সার, ইউরিয়া, ফসফেট এবং এমপি প্রয়োগ করতে হবে। প্রায় ১ মিটার অন্তর চারা রোপণ করতে হবে। চারা লাগানোর পর ইউরিয়া প্রয়োগ করে পানি সেচ দিতে হবে।

কলম বা চারা
গ্রীষ্মের শেষ থেকে বর্ষার শেষ পর্যন্ত বেলি ফুলের কলম বা চারা তৈরি করা যায়। চারা থেকে চারা ও সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সেমি হতে হবে। চারা লাগানোর জন্য গর্ত খুঁড়ে গর্তের মাটির রোদ খাইয়ে, জৈব সার ও কাঠের ছাই গর্তের মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। এরপর প্রতি গর্তে বেলির কলম বসাতে হবে। বর্ষায় বা বর্ষার শেষের দিকে কলম বসানোই ভালো। তবে সেচের ব্যবস্থা ভালো হলে বসন্তকালেও কলম তৈরি করা যায়।

টব
জৈব পদার্থযুক্ত দো-আঁশ মাটিতে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার পরিমাণমতো মিশিয়ে টবে বেলি ফুলের চাষ করা যায়। টব ঘরের বারান্দা বা ঘরের ছাদে রেখে দেওয়া যায়।

সেচ
বেলি ফুলের জমিতে সবসময় রস থাকা দরকার। গ্রীষ্মকালে ১০-১২ দিন পরপর শীতকালে ১৫-২০ দিন পরপর ও বর্ষাকালে বৃষ্টি সময়মতো না হলে জমির অবস্থা বুঝে ২-১ টি সেচ দেওয়া দরকার।

আগাছা
জমি বা টব থেকে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। খড় কেটে কুচি করে জমিতে বিছিয়ে রাখলে সেচের প্রয়োজন কম হয় এবং আগাছাও বেশি জন্মাতে পারে না।

ছাঁটাই
প্রতিবছরই বেলি ফুলের গাছের ডাল-পালা ছাঁটাই করা দরকার। শীতের মাঝামাঝি সময় ডাল ছাঁটাই করতে হবে। মাটির ওপরের স্তর থেকে ৩০ সেমি উপরে বেলি ফুলের গাছ ছাঁটাই করতে হবে। অঙ্গ ছাঁটাইয়ের কয়েকদিন পর জমিতে বা টবে সার প্রয়োগ করতে হবে।

রোগ-বালাই
বেলি ফুল গাছে ক্ষতিকারক কীট তেমন দেখা যায় না। তবে পোকামাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। এদের আক্রমণে পাতায় সাদা আস্তরণ পড়ে। আক্রান্ত পাতাগুলো কুঁকড়ে যায় ও গোল হয়ে পাকিয়ে যায়। গন্ধক গুঁড়া বা গন্ধকঘটিত মাকড়নাশক ওষুধ যেমন সালট্যাফ, কেলথেন ইত্যাদি পাতায় ছিটিয়ে মাকড় দমন করা যায়। বেলি ফুলের পাতায় হলদে বর্ণের ছিটেছিটে দাগযুক্ত একপ্রকার ছত্রাক রোগ দেখা যায়। এগ্রোসান বা ট্রেসেল-২ প্রয়োগ করে এ রোগ দমন করা যায়।

ফলন
ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গাছে ফুল ফোটে। ফলন প্রতিবছর বাড়ে। লতানো বেলিতে ফলন আরও বেশি হয়। সাধারণত ৫-৬ বছর পর গাছ কেটে ফেলে নতুন চারা লাগানো হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

জবা ফুল চাষের পদ্ধতি শিখে হয়ে উঠুন লাভবান কৃষক

পুজো হোক বা উপাসনা, আয়ুর্বেদ হোক বা ভেষজ ওষধি- জবা ফুল বাঙালি জীবনে অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাহিত্য অথবা গানের লাইনেও বারংবার প্রতিফলিত হয়েছে জবার সৌন্দর্য্যের বিভিন্ন দিক। বিভিন্ন রঙের জবা পাওয়া গেলেও লাল জবা অথবা রক্তজবা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বেশিরকমের গুরুত্ব পেয়েছে। গোটা বছর ধরেই জবার ভীষণ ভাবে চাহিদা থাকার জন্য এই ফুল বাণিজ্যিক ভাবে প্রচুর চাষ হয়। বাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরের উঠোনেও এই ফুল ফুটতে প্রচুর পরিমানে দেখা যায়। পুষ্পধারী গুল্ম জাতীয় এই উদ্ভিদের মূলত পূর্ব এশিয়াতেই উদ্ভব। বলা চলে ভাদ্র-অশ্বিন মাসেই এই ফুলের চাষের সবথেকে ভালো সময়। চাষিরাও এই ফুল চাষ করে ভীষণই আর্থিক ভাবে উপকৃত হন। বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় জবা ফুল চাষ যথার্থ ভাবেই একটি অর্থকরী চাষ। জেনে নেওয়া যাক, জবা ফুলের চাষের সহজতম পদ্ধতি।

মাটি (Soil)

বেলে-দোঁয়াশ মাটিতে জবা ফুল ভালো ফুটলেও, প্রায় সব মাটিতেই এই চাষ সম্ভব। জেনে রাখা ভালো সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করলে ফুলের গুনগত মান ভালো হয়।

রোপন পদ্ধতি(Planting)

জবা গাছ বসানোর ক্ষেত্রে প্রতি সারিতে ৩-৪ মিটার অন্তর দেড় ফুট ঘন গভীর গর্ত করতে হবে। চারা লাগিয়ে গোড়ার মাটি চেপে দিতে হবে। জলও দিতে হবে প্রয়োজন মতো। মাটির পাশাপাশি টবেও এই গাছ লাগানো যেতেই পারে। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে টবটিতে যেন জল দাঁড়াতে না পারে। উপযুক্ত রোদ লাগে, এমন জায়গাতেই টবটি রাখতে হবে। পাঁচ-ছ’ঘণ্টা রোদ থাকে, এমন জায়গায় জবা গাছ বসানো সবসময় উচিত। গাছে ফুল আসার সময়ে প্রতি লিটার জলে ২৫ মিলিলিটার ল্যানোফিক্স মিশিয়ে দৈনিক হারে স্প্রে করে দিতে হবে। 

সার প্রয়োগ (Fertilizer)

জবা গাছের গোড়ায় মাটি খুঁড়ে সার বর্ষার আগে ও শীতের মরশুমে দেওয়া উচিত। পুকুরের জলজ পাঁকও জলজ সার হিসাবে দেওয়া যায়। জবা গাছ খুব তাড়াতাড়ি বাড়ার জন্য এই চাষ নিয়ে চাষিদের কোনও মাথাব্যথা থাকারও কথা নয়।

রোগবালাই প্রতিকার (Disease Management)

পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া জবা গাছের অন্যতম অসুখ হিসাবে গণ্য করা হয়। জল দেওয়ার ফলে মূলত শীতকালে এই সমস্যা দেখা যায় বলে অনেকে মনে করেন।  গ্রীষ্মকালে অত্যন্ত তাপে অনেক সময় পাতা শুকিয়েও যায়। এছাড়া পাতায় মাঝে মাঝে সাদা দাগ দেখা যায়। ওই সমস্যা দেখা দিলে সাবান দিয়ে পাতা ধুয়ে দেওয়া উচিত। গাছের গোড়ায় যাতে সাবান জল যাতে না পৌঁছায় তাতে খেয়াল রাখতে হবে।

জবা গাছের পরিচর্যা (caring)

শীতকালে অন্যান্য ঋতুর তুলনায় কম জল প্রয়োজন হয় জবা গাছের। এই সময়ে গাছের গোড়া বেশি ভিজে থাকলে অনেক সময় মরে যায় জবা গাছ ৷ বছরে দু’বার করে এই গাছ ছাটাই করা উচিত। ফাল্গুন-চৈত্র ও ভাদ্র-আশ্বিন মাসে গাছ ছেটে দেওয়ার সবথেকে উত্তম সময়। মনে রাখতে হবে জবা চাষ করার সময় যাতে আগাছা না বাড়তে পারে। আগাছা হলে সঙ্গে সঙ্গে তা পরিষ্কার করে দেওয়া আশু কর্তব্য। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

আধুনিক পদ্ধতিতে জিনিয়া ফুলের চাষ করে দ্বিগুণ মুনাফা অর্জন করুন

জিনিয়া শীতকালীন ফুল হলেও সারাবছর চাষ করা যায়। বীজের মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা যায়। জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর মাসে এ ফুলের বীজ বপন এবং চারা উত্পাদনের উপযুক্ত সময়। রৌদ্রোজ্জ্বল সুনিষ্কাশিত উর্বর দো-আঁশ মাটি এ ফুল উত্পাদনের জন্য বেশি উপযোগী। স্যাঁতসেঁতে জমিতে এর উৎপাদন ভালো হয় না।

জিনিয়ার জাত (Variety) :

জিনিয়ার সবচাইতে জনপ্রিয় জাত হচ্ছে ডাবল ফুল । এটি পুরোপুরি চন্দ্রমল্লিকার মতই দেখতে। বাণিজ্যিকভাবে এই জাতের ফুলটির চাহিদা বেশি থাকায় এর বীজ সব জায়গায়  পাওয়া যায় ।

জিনিয়া ফুল চাষের জন্য জমি তৈরি ও টবের মাটি তৈরি:

জমিতে চাষ করলে লাঙ্গল দিয়ে খুব ভালো ভাবে চাষ দিয়ে নিতে হবে এবং মাটিতে উপস্থিত জৈব উপাদানের পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রয়োজন মতো পচা গোবর ও পাতা পচা সার প্রয়োগ করতে হবে। জিনিয়ার জমিতে হাড়ের গুড়া বা সুপার ফসফেট এর প্রয়োজন হয়।

জমিতে চাষ করলে প্রয়োজনমতো হাড়ের গুরো বা সুপার ফসফেট যথেষ্ট পরিমাণে মিশিয়ে দিতে হবে।

টবে জিনিয়া ফুল চাষ করলে মাটি তৈরির সময় ৪০% পরিমাণ জৈব সার ৬০ % দোআঁশ মাটি দিয়ে টপ বোঝাই করতে হবে । এরপর টবের প্রতি ফুট মাটির সাথে (মানে ২০ কেজি মাটির) সাথে ৭ চা চামচ পরিমান হাড়ের গুড়া বা সুপার ফসফেট সার প্রয়োগ করে নিতে হবে। এছাড়াও টপ ভরাট করার সময় মাটিতে দুই থেকে তিন চামচ কলিচুন এবং একমুঠো রেড়ির খৈল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর এই টপ টি কে অন্তত এক মাস ঐ অবস্থায় মাটি সহ রেখে দিতে হবে।

জিনিয়া ফুল গাছের চারা রোপন:

জমিতে রোপণ করলে চারাগুলো ৫ থেকে ৮ সেন্টিমিটার পরিমাণ লম্বা হলেই ২০ তলা থেকে তুলে রোপন করে দিতে হবে সে ক্ষেত্রে চারা থেকে চারার দূরত্ব হবে দেড় ফিট বা ৪৫ সেন্টিমিটার। টবে জিনিয়া ফুলের চারা রোপন করলে টব প্রতি একটি বা দুটি করে চারা রোপণ করতে পারেন।

জিনিয়া ফুল গাছের পরিচর্যা:

জিনিয়া ফুল চাষ পদ্ধতিতে এদের পরিচর্যা এবং সার প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টবে গাছ রোপন করলে আপনাকে সাত দিন পর পর টবের গোড়ায় তরল সার দিতে হবে। তরল সার তৈরীর জন্য প্রতি লিটার পানির সাথে ২০০ গ্রাম পরিমাণ সরিষার খৈল অথবা গোবর ভিজিয়ে রাখতে হবে দুই থেকে তিন দিন।

এরপর এর সাথে ১ চা চামচ পরিমাণ মিশ্র সার প্রয়োগ করে গাছের গোড়ায় এই তরল সার ঢেলে দিতে হবে। জিনিয়া ফুল চাষ পদ্ধতিতে তরল সার ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে , এতে গাছের গোড়ায় শুধু শুধু খোঁড়া খুড়ির করে শেখর নষ্ট হয় না । শুধু টবে তরল সার ঢেলে দিলেই গাছ তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পেয়ে যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি
জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

‘কাঠ গোলাপ’ নামের ফুলটির সঙ্গে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। গোলাপের মত নয়, আবার কাঠের সঙ্গেও সে ধরনের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ফুলটির নাম ‘কাঠ গোলাপ’ দেওয়া হয়েছে। সে যা-ই হোক, আমরা বরং জেনে নেব কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি।

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি
জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

কাটিং: কাটিং করার জন্য নেওয়া ডাল কমপক্ষে ১২ ইঞ্চি লম্বা হওয়া উচিত। নির্বাচিত ডালটি ধারালো কিছু দিয়ে কেটে নিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, কাঁটা অংশে যেন ময়লা না থাকে। তাতে কাটিং পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এরপর ডালের পাতাগুলো গোড়ার কাছ থেকে কেটে দিন। টেনে একদম গোড়া থেকে ছিঁড়ে ফেলবেন না। ডালটিকে ছায়াযুক্ত স্থানে ৭-৮ দিন রেখে দিন। এ কয়দিনে ডালের কাটা অংশ শুকিয়ে কালো বা খয়েরি হয়ে যাবে এবং কেটে দেওয়া পাতার বোঁটার থেকে যাওয়া অংশও ঝরে যাবে।

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি
জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

রোপণ: এবার ডালটি রোপণের জন্য উপযুক্ত। রোপণের জন্য মাটি প্রস্তুত করে যে পাত্রে লাগাবেন তা ভরাট করুন। মিনারেল ওয়াটারের পাঁচশ’ মিলির বোতলের মাথা কেটে এবং তার নিচে বেশকিছু ছিদ্র করে পাত্র তৈরি করা যায়। স্বচ্ছ পাত্র নিলে সুবিধা হচ্ছে- রুটিং হলে দেখতে পাবেন। এবার ডালটির গোড়ার চার ইঞ্চি মতো রুটিং হরমোন মাখিয়ে মাটিতে রোপণ করে দিন। রুটিং হরমোন না থাকলে মধু ও দারচিনি গুঁড়া ব্যবহার করতে পারেন।

জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি
জেনে নিন কাঠ গোলাপের কাটিং পদ্ধতি

পরিচর্যা: রোপণ করা ডালটি আলো-বাতাস যুক্ত স্থানে রেখে দিন। পানি এমন মাত্রায় দিবেন যেন পানি জমে না থাকে। এক মাসের মধ্যেই রুট আর পাতার দেখা পাবেন। তিন-চার মাস পর গাছটি বড় কোনো পাত্রে বা মাটিতে রোপণ করে দিন। ফুল ফোটার জন্য কাঠ গোলাপের প্রচুর রোদের প্রয়োজন হয়। দৈনিক কমপক্ষে চার-পাঁচ ঘণ্টা সরাসরি রোদ লাগে এমন জায়গায় গাছ লাগানো উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com