আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

বছরে একটি নয় দুটি বাছুর দেবে গাভী

 বছরে একটি নয় দুটি বাছুর দেবে গাভী
বছরে একটি নয় দুটি বাছুর দেবে গাভী

ব্যতিক্রম ছাড়া গাভী সাধারণত বছরে একটি বাছুর জন্ম দেয়। কিন্তু এখন থেকে বছরে নিশ্চিত দুটি করে বাছুর জন্ম দেবে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বায়োটেকনোলজি বিভাগের গবেষকরা এ সাফল্য দেখিয়েছেন।

সম্প্রতি দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন এ গবেষকরা। যার মাধ্যমে একটি গাভীর পেট থেকে প্রতি বছর দুটি বাছুর জন্মানো সম্ভব হবে। ইনভারট্রো অ্যামব্রায়ো প্রডাকশন বা আইভিপি প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বায়োটেকনোলজি বিভাগের গবেষকরা এ সাফল্য দেখিয়েছেন। ২০১৭ সালের প্রথমার্ধে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে এ প্রযুক্তি নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

গাভীর পেটে ভ্রূণ স্থাপন প্রযুক্তির মাধ্যমে দুটি বাছুর জন্ম দেয়া প্রতিনিধি দলের প্রধান ড. গৌতম কুমার দেব জাগো নিউজকে জানান, চার বছরের টানা গবেষণার ফলে তারা এ সাফল্য অর্জন করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে টেস্টটিউব বেবির আদলে বছরে একটি গাভী থেকেই পাওয়া যাবে ন্যূনতম ২০-২৫টি বাছুর, যা দেশের মাংস আর দুধের ঘাটতি পূরণে সক্ষম হবে। দেশের জনসংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মাংস ও দুধের চাহিদা। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকারি সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) নতুন নতুন গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বিএলআরআই’র গবেষকরা প্রাণিসম্পদের উৎপাদন সমস্যা চিহ্নিতকরণ, জাত উদ্ভাবন, খাদ্য ও পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা, প্রাণিজ উপকরণ ও পণ্যের মূল্যসংযোজন, খামারি ও উদ্যোক্তাদের পরামর্শ, সেবা ও শিল্পায়নে সহায়তার মাধ্যমে প্রাণিজ পুষ্টি সরবরাহ এবং মেধাসম্পন্ন জাতি গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

বিএলআরআই’র মহাপরিচালক ড. তালুকদার নুরুন্নাহার এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের লক্ষ্য লাগসই এ জীবপ্রযুক্তির উদ্ভাবন প্রান্তিক খামারি পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া, যা দেশের ক্রমবর্ধমান মাংস ও দুধের ঘাটতি মিটিয়ে প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, এজন্য প্রয়োজন হবে কোনো দুধেল গাই বা উচ্চ উৎপাদনশীল জাতের গাভী। আমরা প্রথমে ওই গাভী থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করব। সেই ডিম্বাণু ল্যাবে পরিপক্ব, নিষিক্তকরণ এবং কালচার শেষে তা ভ্রূণে পরিণত করা হয়।

সাতদিন ল্যাবে থাকার পর অপেক্ষাকৃত দুর্বল বা দুধ কম দেয় এমন গাভীর জরায়ুতে তা স্থাপন করা হয়। এভাবে নির্ধারিত সময়ে ভ্রূণ বেড়ে ওঠে। ১০ মাসের কম-বেশি সময়ের মধ্যে সেই গরু থেকে বাছুর পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, এভাবে আমরা একটি সুস্থ সবল ও উচ্চ উৎপাদনশীল গাভী থেকে বছরে ন্যূনতম ২০-২৫টি সুস্থ ডিম্বাণু দিয়ে তা সমসংখ্যক গাভীর গর্ভে স্থাপনের মাধ্যমে উচ্চ উৎপাদনশীল জাতের গবাদিপশুর সংখ্যা বাড়াতে পারি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ পদ্ধতিতে বাছুর উৎপাদনের মাধ্যমে সফলতা পেয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও বহু আগে থেকে এ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের প্রাণিসম্পদের বিস্তার ঘটিয়েছে। সরকার তো কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমেও প্রাণিসম্পদের সম্প্রসারণ করছে। উচ্চ উৎপাদনশীল ষাঁড় থেকে ‘বীজ’ সংগ্রহ করে তা থেকেও কৃত্রিম প্রজনন করা হচ্ছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে মানুষ যেমন ছেলেসন্তান প্রত্যাশা করে, তেমনি খামারিরা প্রত্যাশা করেন বকনা (মেয়ে) বাছুর।

বকনা বাছুর জন্ম নেবেই এটা নিশ্চিত করা সম্ভব কি না প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, অবশ্যই সম্ভব। উন্নত দেশগুলোতে এটা হচ্ছে। তবে এখনো আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে গবেষণা অব্যাহত আছে। আশা করছি দেশেই একদিন এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।

ড. গৌতম কুমার দেব জাগো নিউজকে আরো বলেন, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বায়োটেকনোলজি বিভাগের গবেষণাগারে ভ্রূণ উৎপাদন-পূর্বক গাভীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে গত মার্চে দেশে প্রথমবারের মতো একটি গাভী থেকে দুটি বাছুর উৎপাদন করতে সক্ষম হয়।

তিনি বলেন, এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য দাতা গাভী থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ এবং ভ্রুণ ক্রায়োপ্রিজারভেশন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন। বিএলআরআই ইতোমধ্যে উল্লেখিত প্রযুক্তির ওপর গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী বছরের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তিটি ব্যবহারের উপযোগী করার কার্যক্রম চলমান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএলআরআই, প্রাণিসম্পদের সার্বিক উন্নয়ন তথা দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন সমস্যা চিহ্নিত করে মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার উপযোগী এ পর্যন্ত মোট ৫৬টি প্রযুক্তি ও ১৯টি প্যাকেজ উদ্ভাবন করেছে। এগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের কাছে সস্প্রসারণ করা হচ্ছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

বাংলাদেশ

মাশরুম চাষ করে বাঁকুড়া জেলায় প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে প্রণব পাত্র আজ পেয়েছেন অসামান্য সাফল্য

বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে প্রণব পাত্র। কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন। করোনার প্রথম ঢেউয়ে টিকতে পারলেও দ্বিতীয় ঢেউ আসার আগেই চাকরি হারিয়ে বেকার হলেন। বাবা-মা, দুই ভাইয়ের সংসারে প্রণবের একার রোজগার’ই ভরসা। শেষমেশ, অভাবের সংসারে রোজগারের পথ দেখালো মাশরুম। আজ এই যুবক মাশরুম চাষ থেকে শুধু যে  অর্থ উপার্জন করছে তাই নয়, বরং আয় করছেন প্রচুর অর্থ সাথে অন্যদেরও উতসাহিত করছেন (Mushroom farming) মাশরুম চাষে।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

মাশরুমের চাহিদা – 

মাশরুম হচ্ছে মূলত এক ধরনের ছত্রাক। এটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। আমাদের দেশের বড় বড় শহরগুলোর বিভিন্ন হোটেল ও চাইনিজ হোটেলগুলোতে মাশরুমের চাহিদা আছে। তাই আপাত দৃষ্টিতে মাশরুমের বাজার মূলত শহরে গড়ে উঠেছে। এছাড়া বিদেশে এর চাহিদা রয়েছে। মাশরুম শুকিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

ঔষধি গুণসংবলিত সবজি হিসেবে গোটা পৃথিবীতেই এর আলাদা কদর রয়েছে। ভারতবর্ষের মতো দেশে যেখানে প্রতিনিয়ত কৃষিজমির পরিমাণ কমে চলেছে, সেখানে কৃষি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি মাধ্যম হতে পারে মাশরুম চাষ। কারণ এটি উৎপাদনে অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হয় না। ঘরের মধ্যে ছোট জায়গায় স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত সস্তা উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমেই এটি উৎপাদন করা যায়।

মাশরুম চাষ (Mushroom cultivation) – 

মাশরুম চাষে খুব একটা বাড়তি মূলধনের প্রয়োজন হয় না। উৎপাদনে সময় লাগে অনেক কম। এর জন্য বিশেষ কোনো প্রযুক্তিরও প্রয়োজন নেই। এমনকি কোনো ধরনের রাসায়নিকেরও প্রয়োজন হয় না। সে হিসেবে বলা যায়, গ্রাম ও নগরের প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প আয়ের উৎস্য হয়ে উঠতে পারে মাশরুম চাষ। একই সঙ্গে তা হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত লাভজনক ও আকর্ষণীয় কৃষিনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোগ। 

মুর্শিদাবাদের নিতান্ত গৃহবধূ হাফিজা বিবি। স্বামী কাজ করতেন কেরালায় রাজমিস্ত্রির, লকডাউন পরবর্তীতে আর কাজে ফিরতে পারেননি। ছেলে-মেয়ে-স্বামী নিয়ে অভাবের সংসারে রোজগারের আশা দেখিয়েছে সেই মাশরুম। এ’রকম ভাবেই সমাজের আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষদের বিকল্প রোজগারের পথ দেখাচ্ছে মাশরুম চাষ।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

ইতিহাস বলছে, প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশরীয়রা মাশরুমকে মনে করতো অমরত্বের উৎস্য। সে সময় এক রাজকীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য মাশরুম উৎপাদন ও গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছিল ফারাওরা। প্রাচীন আমলে ইউরোপে বেশ জনপ্রিয় ছিল মাশরুম। রোমানদের কাছে এটি ছিল দেবতার খাবার। চীন ও জাপানে ঔষধি হিসেবে মাশরুম ব্যবহার হয়ে আসছে কয়েক হাজার বছর ধরে। শুধু ইউরোপ বা এশিয়া নয়, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়ও মাশরুম খাওয়ার চল ছিল। সেখানে বিশেষ ধরনের রহস্যময় গুণসংবলিত খাবার হিসেবে ছত্রাকটির বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। প্রাচীন বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় কৃত্যে ব্যবহার হতো মাশরুম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মৌ চাষ

কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে স্বল্প শ্রম ও স্বল্প পুঁজি সংবলিত কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাড়তি আয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, মৌ চাষের যন্ত্রপাতি সংশ্লিষ্ট কুটির শিল্পের সম্প্রসারণ, পুষ্টির উন্নয়ন, ফল ও ফসলের ফলন বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্যতা ও উন্নয়নে মৌ চাষ অনন্য। আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌ চাষ কার্যক্রম গ্রহণে আগ্রহী লক্ষ জনগোষ্ঠীকে মৌ চাষে উদ্বুদ্ধকরণসহ অধিক মধু উৎপাদনের মধ্য দিয়ে দেশে খাঁটি মধুর চাহিদা পূরণ, সফল পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি তথা দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।

বাংলাদেশে মৌ চাষের ইতিহাস
মৌমাছি সাধারণত বনে জঙ্গলে, গাছের ডালে, গাছের কোটরে, মাটির গর্তে, দালানের সুবিধামতো জায়গায় মৌচাক তৈরি করে থাকে। সুন্দরবনে মৌয়ালরা বাঘের ভয়কে তুচ্ছ করে মধু সংগ্রহ করে থাকে এভাবে অবৈজ্ঞানিক পন্থায় মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক মৌমাছি ধ্বংস হয়ে যায়।বর্তমানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্রমোন্নতির সাথে সাথে অনেক কিছু সহজসাধ্য হয়েছে। প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক মৌমাছিকে পোষ মানানো সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ দেশেই এখন কাঠের বাক্সে মৌমাছি পালন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মৌ কলোনি সংগ্রহ করে বা কৃত্রিম উপায়ে বিভাজনের মাধ্যমে রানী উৎপাদন করে প্রযুক্তিগত এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কাঠের তৈরি বাক্সে প্রতিপালন করা হয়।

মৌমাছির পরিচিতি
– মৌমাছি এক ধরনের  সামাজিক ও উপকারী পতঙ্গ;
– সংঘবদ্ধভাবে রানী, শ্রমিক ও পুরুষ সমন্বয়ে একটি কলোনিতে বসবাস করে;
– স্বভাবসিদ্ধভাবে প্রকৃতিতে বসবাস করে;
– প্রধানত ফুল থেকে নেকটার ও পোলেন সংগ্রহ করে;
– সময় ও ক্ষেত্র বিশেষ কচিপাতা, উদ্ভিদের কাণ্ড, মিষ্টি ফল এবং চিনিজাতীয় খাদ্যদ্রব্য থেকে মিষ্টি রস সংগ্রহ করে;
– নেকটার অথবা মিষ্টি রস সংগ্রহ করে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের  তাৎক্ষণিক খাবার ও ভবিষ্যৎ সঞ্চয় হিসাবে মধু উৎপাদন করে;
– সংগৃহীত পোলেন থেকে মৌমাছি বিশেষ করে অল্প বয়সের মৌমাছির প্রোটিন জাতীয় খাবারের চাহিদা পূরণ করে।

মৌমাছির প্রকারভেদ
প্রকৃতিতে চার প্রকারের মৌমাছি পাওয়া যায়। সেগুলো হলো- অ্যাপিস মেলিফেরা, অ্যাপিস ডরসেটা, অ্যাপিস সেরানা ও অ্যাপিস ফ্লোরিয়া। তবে অ্যাপিস মেলিফেরা প্রজাতির চাষাবাদ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে লাভজনক।

অ্যাপিস  মেলিফেরার বৈশিষ্ট্য
– ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশে উৎপত্তি;
– আকারে বড় ও শান্ত প্রকৃতির;
– অধিক মধু উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন (প্রতি কলোনিতে বছরে মধু উৎপাদন ক্ষমতা কমপক্ষে ৫০ কেজি) বাক্সে পোষ মানে এবং কখনই বাক্স বা কলোনি পরিত্যাগ করে না।  পরাগায়নে মৌ চাষ
মৌমাছির মাধ্যমে সফল পরাগায়ন সম্ভব এটি সর্বজনস্বীকৃত। বিভিন্ন মধুফুল মৌসুমে মৌমাছি দ্বারা পরাগায়ত ফসলের ১০ থেকে ১৫ ভাগ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদিত বাড়তি ফসলের মূল্য মোট উৎপাদিত মধু ও মোমের মূল্যের ১০ থেকে ১৫ ভাগ বেশি। বাড়তি ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌচাষিদের পাশাপাশি কৃষককে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন মধুফুল মৌসুমে ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার ও প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে অধিক মধু এবং ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌচাষি এবং কৃষক উভয়ই উপকৃত হবেন। বাড়তি ফল ও ফসলের উৎপাদনের ফলে দেশের জিডিপিতে আরও অবদান রাখা সম্ভব।

মৌ চাষে সতর্কতা

মৌবাক্সে বসানোর আশপাশের জমিতে বালাইনাশক সব সময়ই বিকেলের পরে স্প্রে করা প্রয়োজন। না হলে বালাইনাশক প্রয়োগের কারণে মৌমাছি মারা যাবে।

মৌ চাষের সুফল
বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে মৌ চাষের উল্লেখযোগ্য সুফল নিম্নরূপ
– নিয়মিত বিশুদ্ধ মধু সেবনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ;
– বিশেষ বিশেষ রোগ নিরাময়;
– বাড়তি আয়;
– খাদ্যে পুষ্টিমান বৃদ্ধি ও উন্নয়ন;
– মোম ব্যবহারের মাধ্যমে বহুবিধ প্রসাধনী ও ওষুধ শিল্পের উন্নয়ন;
– স্বাদ ও রুচির দিক থেকে খাদ্যের মান উন্নয়ন;
– কৃষিভিত্তিক কুটির শিল্পের উন্নয়ন;
– দেশজ সম্পদের  ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান;
– বনজ সম্পদের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষা;
– ফল ও ফসলের সফল পরাগায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি;
– আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডর মাধ্যমে পারিবারিক সচ্ছলতা;
– মৌ চাষের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ছাগল পালনে সাফল্যের কাহিনী

দুধ এবং মাংস– পুষ্টির জন্য অপরিহার্য এক উপাদান। এই দুই প্রাণিজ উপাদান মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম চাহিদা সম্পন্ন খাদ্য। আমরা ছাগলের মারফত এই দুই উপাদানই পাই। ছাগল মূলত পালন করা হয় মাংস ও দুধ এই দুই উপাদান উৎপাদনের জন্য। বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কারণে এই প্রাণীর পালন বর্তমানে বাংলার বহু ঘরে হচ্ছে। বহু কৃষক ও নবাগত চাষ করতে আসা তরুণ এই ছাগল পালনের জন্য বর্তমানে উৎসাহ দেখাচ্ছেন।

ছাগল পালনের বিভিন্ন সুবিধা: (Benefits of Goat rearing)

গ্রামে বহু মানুষ হাইব্রিড ছাগল পালন করে অর্থ উপার্জন করছেন। অত্যন্ত সহজ এই প্রাণী পালন। ছাগল পালন বর্তমানে তাই বহু দরিদ্র মানুষের কাছে এক অন্যতম ব্যবসায়িক মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সংকর জাতের ছাগল পালন করার লাভ অনেক বেশি। এই ছাগলের রোগ ব্যাধি অত্যন্ত কম হয়েই এই ছাগলগুলির মাংস অত্যন্ত পুষ্টিকর। ছাগলের দুধ অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এই দুধ শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই খেতে পারে। ছাগলের দুধের চাহিদা থাকার জন্যও এই প্রাণীর পালন আদি কাল থেকে আজও বাংলার বহু ঘরে হচ্ছে।

ছাগল পালনে সাফল্য: (Success)

গ্রামের এক উপজাতীয় মহিলা উদ্যোক্তা সুলোচানা কেন্দুচাপাল। ছাগল পালনে অনেকটা সময় দেওয়ার পরেও তিনি ছাগল থেকে তেমন আয় করতে পারছিলেন না। তার সঙ্গে ছিল ছাগলের মৃত্যু এবং তা পালনে অতিরিক্ত খরচ। সুলোচনা পরে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং স্থানীয় পশুচিকিত্সকদের প্রযুক্তিগত নির্দেশনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ছাগল পালন শুরু করেন। তিনি এসজেজিএসওয়াইয়ের আওতায় ব্যাংক থেকে আড়াই লক্ষ টাকা লোন নিয়েছিলেন এবং সিরোহি ও ব্ল্যাক বেঙ্গলের মতো উন্নত জাতের ছাগল পালন শুরু করেন।

এরপরেই তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। জানা গেছে প্রশিক্ষণের পরে নিয়ম করে ছাগলদের ডি-ওয়ার্মিং, টিকাদানের কারণে সুলোচনার পালিত ছাগলগুলির আর মৃত্যু হয়নি।

বর্তমানে সুলোচনা বছরে ৫০,০০০ টাকার বেশি আয় করেন। মাত্র ১০,০০০ টাকা ছাগলগুলি পালনে তাঁকে খরচ করতে হয়েছে। লাভের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায়, সুলোচনা বর্তমানে ভীষণই খুশি এবং আনন্দিত।

জনপ্রিয়তা (Popularity)

ভারত ছাড়াও গোটা বিশ্ব জুড়ে ছাগল পালন অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে ইউক্রেইনের মতো সম্পদশালী দেশেও ছাগল পালন সাফল্যের সঙ্গে হয়ে আসছে। সেখানকার অনেক পরিবার, এই ছাগল পালনের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশেও ছাগল পালন অত্যন্ত এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

টার্কি চাষের সহজতম পদ্ধতি

মুরগি বা হাঁসের মাংসের সঙ্গে আমরা পরিচিত হলেও, টার্কির মাংসের সঙ্গে আমরা ততটাও পরিচিত নই। মেলিয়াগ্রিডিডিই পরিবারের এই পাখি, বেশ বড়সড় আকারের হয়। গৃহপালিত পাখি হিসাবে টার্কি গোটা পৃথিবী জুড়ে চাষ হয়। টার্কি পোলট্রির ১১ টি প্রজাতির মধ্যে অন্যতম। নরম ঘাস মূলত টার্কির মূল খাদ্য। এই পাখির রোগবালাই কম হয় বলে, এই পাখির চাষে বিনিয়োগও কম। মাংস উৎপাদনের দিক থেকে এই পাখির মাংস অত্যন্ত উত্তম। টার্কির মাংসে অত্যন্ত কম চর্বি থাকায়, এই পাখির মাংস মুরগি, হাঁসের বিকল্প হিসাবে বহুখানে খাওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বহু জায়গায় আজকাল টার্কির চাষ হচ্ছে। ভারতে টার্কির মাংস দিনে দিনে জনপ্রিয় হচ্ছে।

উত্তর আমেরিকায় প্রথম টার্কির চাষ শুরু হয়,ধীরে ধীরে গোটা বিশ্বে এই বিশেষ প্রজাতির পাখির চাষ ছড়িয়ে পড়ে। টার্কির মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকায় ও এই মাংসে চর্বি কম থাকায়, টার্কি সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

ব্রড ব্রেস্টেড ব্রোঞ্জ, ব্রড ব্রেস্টেড হোয়াইট, বেল্টসভিল স্মল হোয়াইট–টার্কি পাখির জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই তিনটি জাতের চাষই বেশি পরিমাণে গোটা পৃথিবী জুড়ে করা হয়।

টার্কি মাংসের লাভকর দিক: (Turkey Rearing Benefits)

১) এর মাংস উৎপাদক ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি।
২) মুরগির মতোই নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে টার্কির চাষ করা হয়।
৩) টার্কি পালনের খরচের কম কারণ এই পাখি সাধারণ ঘাসপালা খেয়েই বেড়ে উঠতে পারে।
৪) টার্কি মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এবং চর্বি কম থাকায় এই পাখির মাংসের চাহিদা দিনকে দিন বাড়ছে।
৫) এই পাখির মাংসে জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ও ফসফরাসের মতন বিভিন্ন উপাদান থাকে। এ উপাদান গুলো মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।
৬) নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়।
৭) টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ওট্রিপটোফেন প্রচুর পরিমানে রয়েছে, তাই এই মাংস খেলে শরীর রোগ ব্যাধি তেমন বাসা বাঁধতে পারে না। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এই পাখির মাংস বাড়াতে সাহায্য করে।

রোগবালাই:(Disease Management)


টার্কির তেমন রোগবালাই না হওয়ায়, এই পাখি পালনে খরচ কম অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে শীত পড়লে টার্কির ঠাণ্ডাজনিত রোগ দেখা যায়, এই রোগের থেকে টার্কিকে বাঁচাতে রেনামাইসিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যেতে পারে।

টার্কির বাসস্থান তৈরী: (Shelter making)

টার্কি পালতে গেলে দুটি ঘরের মধ্যে কম করে ২০ মিটার দূরত্ব থাকতে হবে। সাথে সাথে বাচ্চা পাখিদের ঘর বড় পাখিদের ঘর থেকে কম করে ৫০-১০০ মিটার দূরে থাকতে হবে। খোলা ঘরের প্রস্থ ৯ মিটারের মধ্যে রাখা অবশ্যক। মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা ২.৬-৩.৩ মিটারের মধ্যে যাতে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টার্কির ঘর কংক্রিটের তৈরী করা উচিত। এতে পাখি আর্দ্রতার থেকে বাঁচবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন কৌশল

গোবর খেয়ে কেঁচো মল ত্যাগ করে এবং এর সাথে কেঁচোর দেহ থেকে রাসায়নিক পদার্থ বের হয়ে যে সার তৈরি হয় তাঁকে কেঁচো কম্পোস্ট বা ভার্মি কম্পোস্ট বলা হয়। এটি সহজ একটি পদ্ধতি ১ মাসের বাসী গোবর দিয়ে ব্যবহার উপযোগী উৎকৃষ্ট জৈব সার তৈরি করা হয়। এ সার সব ধরণের ফসল ক্ষেতে ব্যবহার করা যায়।‘ভার্মি কম্পোষ্ট´ বা কেঁচোসারে মাটির পানি ধারণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বায়ু চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। 

কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রয়োজনীয় প্রধান উপকরণ

কেঁচো-২০০ টি, মাটির তৈরি নালা বা চারি অথবা ইট দিয়ে নির্মিত চৌবাচ্চা এবং ১ মাসের বাসী গোবর।

কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করার পদ্ধতি/ধাপসমুহ

১। ২ মিটার লম্বা, ১ মিটার চওড়া ও ১ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট ইট দিয়ে চৌবাচ্চা তৈরি করতে হবে। চৌবাচ্চার উপর টিনের/খড়ের চালা দিতে হবে। 

২। গর্তের মধ্যে বাসী পচা গোবর ঢেলে ভরে দিতে হবে। অতঃপর ২০০ থেকে ৩০০ কেঁচো ছেড়ে দিতে হবে। এ কেঁচোগুলো গোবর সার মল ত্যাগ করবে। এই মলই কেঁচো সার। 

৩। কেচোর সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সার তৈরীর সময় নির্ভর করে। সংখ্যা বেশী হলে দ্রুত কেঁচো সার তৈরি হবে। কেঁচো সার দেখতে চায়ের গুড়ার মত। 

৪। সার তৈরি হওয়ার পর চৌবাচ্চা হতে সতর্কতার সাথে কম্পোস্ট তুলে চালুনি দিয়ে চালতে হবে। সার আলাদা করে কেঁচোগুলো পুনরায় কম্পোস্ট তৈরির কাজে ব্যবহার করতে হবে। 

৫। কেঁচো সার বাজারের চাহিদা অনুযায়ী/ নিজস্ব ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সাইজের প্যাকেট/বস্তা ভর্তি করে রাখা যেতে পারে। 

কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার কোথায় ব্যবহার করবেন

সকল প্রকারের শাক সবজি ক্ষেতে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে শাক সবজির ফলন বাড়ানো যায়। ধান, গম, পাটসহ বিভিন্ন ফলবাগানে এই সার ব্যবহার করে ভাল ফলন পাওয়া যায়। এই সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ে মাটিতে বায়ুচলাচল বৃদ্ধি পায়। মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে, মাটির বিষাক্ততা দূরীভূত হয়। মাটির অনুজৈবিক কার্যাবলী বৃদ্ধি পায় ফলে মাটি হতে গাছ্র পুষ্টি পরিশোধন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই সার ব্যবহার করলে রাসায়নিক সার মাত্রার ১/২ অংশ ব্যবহার করলেই চলে। ধানের জমিতে বিঘাপ্রতি ৫০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে অর্ধেক ফলন পাওয়া যায়। এই সার পুকুরে ব্যবহার করে ফাইটোপ্লাংকটন উৎপাদন ত্বরান্বিত করে মাছের উৎপাদন বাড়ানো যায়। 

চালুনীর সময় সাবধান থাকতে হবে যেন শিশু কেঁচো মারা না যায়। শিশু কেঁচোগুলো পুনরায় গর্তে রক্ষিত বাসী গোবরের মধ্যে কম্পোস্ট তৈরির জন্য ছেড়ে দিতে হবে।  পিপঁড়া, উইপোকা, তেলাপোকা, মুরগী, ইঁদুর, পানি ও পোকার কামড় থেকে কেঁচোগুলোকে সাবধানে রাখতে হবে। প্রয়োজনে চৌবাচ্চার উপর মশারী ব্যবহার করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com