আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

বছরে একটি নয় দুটি বাছুর দেবে গাভী

 বছরে একটি নয় দুটি বাছুর দেবে গাভী
বছরে একটি নয় দুটি বাছুর দেবে গাভী

ব্যতিক্রম ছাড়া গাভী সাধারণত বছরে একটি বাছুর জন্ম দেয়। কিন্তু এখন থেকে বছরে নিশ্চিত দুটি করে বাছুর জন্ম দেবে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বায়োটেকনোলজি বিভাগের গবেষকরা এ সাফল্য দেখিয়েছেন।

সম্প্রতি দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন এ গবেষকরা। যার মাধ্যমে একটি গাভীর পেট থেকে প্রতি বছর দুটি বাছুর জন্মানো সম্ভব হবে। ইনভারট্রো অ্যামব্রায়ো প্রডাকশন বা আইভিপি প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বায়োটেকনোলজি বিভাগের গবেষকরা এ সাফল্য দেখিয়েছেন। ২০১৭ সালের প্রথমার্ধে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে এ প্রযুক্তি নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

গাভীর পেটে ভ্রূণ স্থাপন প্রযুক্তির মাধ্যমে দুটি বাছুর জন্ম দেয়া প্রতিনিধি দলের প্রধান ড. গৌতম কুমার দেব জাগো নিউজকে জানান, চার বছরের টানা গবেষণার ফলে তারা এ সাফল্য অর্জন করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে টেস্টটিউব বেবির আদলে বছরে একটি গাভী থেকেই পাওয়া যাবে ন্যূনতম ২০-২৫টি বাছুর, যা দেশের মাংস আর দুধের ঘাটতি পূরণে সক্ষম হবে। দেশের জনসংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মাংস ও দুধের চাহিদা। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকারি সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) নতুন নতুন গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বিএলআরআই’র গবেষকরা প্রাণিসম্পদের উৎপাদন সমস্যা চিহ্নিতকরণ, জাত উদ্ভাবন, খাদ্য ও পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা, প্রাণিজ উপকরণ ও পণ্যের মূল্যসংযোজন, খামারি ও উদ্যোক্তাদের পরামর্শ, সেবা ও শিল্পায়নে সহায়তার মাধ্যমে প্রাণিজ পুষ্টি সরবরাহ এবং মেধাসম্পন্ন জাতি গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

বিএলআরআই’র মহাপরিচালক ড. তালুকদার নুরুন্নাহার এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের লক্ষ্য লাগসই এ জীবপ্রযুক্তির উদ্ভাবন প্রান্তিক খামারি পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া, যা দেশের ক্রমবর্ধমান মাংস ও দুধের ঘাটতি মিটিয়ে প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, এজন্য প্রয়োজন হবে কোনো দুধেল গাই বা উচ্চ উৎপাদনশীল জাতের গাভী। আমরা প্রথমে ওই গাভী থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করব। সেই ডিম্বাণু ল্যাবে পরিপক্ব, নিষিক্তকরণ এবং কালচার শেষে তা ভ্রূণে পরিণত করা হয়।

সাতদিন ল্যাবে থাকার পর অপেক্ষাকৃত দুর্বল বা দুধ কম দেয় এমন গাভীর জরায়ুতে তা স্থাপন করা হয়। এভাবে নির্ধারিত সময়ে ভ্রূণ বেড়ে ওঠে। ১০ মাসের কম-বেশি সময়ের মধ্যে সেই গরু থেকে বাছুর পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, এভাবে আমরা একটি সুস্থ সবল ও উচ্চ উৎপাদনশীল গাভী থেকে বছরে ন্যূনতম ২০-২৫টি সুস্থ ডিম্বাণু দিয়ে তা সমসংখ্যক গাভীর গর্ভে স্থাপনের মাধ্যমে উচ্চ উৎপাদনশীল জাতের গবাদিপশুর সংখ্যা বাড়াতে পারি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ পদ্ধতিতে বাছুর উৎপাদনের মাধ্যমে সফলতা পেয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও বহু আগে থেকে এ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের প্রাণিসম্পদের বিস্তার ঘটিয়েছে। সরকার তো কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমেও প্রাণিসম্পদের সম্প্রসারণ করছে। উচ্চ উৎপাদনশীল ষাঁড় থেকে ‘বীজ’ সংগ্রহ করে তা থেকেও কৃত্রিম প্রজনন করা হচ্ছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে মানুষ যেমন ছেলেসন্তান প্রত্যাশা করে, তেমনি খামারিরা প্রত্যাশা করেন বকনা (মেয়ে) বাছুর।

বকনা বাছুর জন্ম নেবেই এটা নিশ্চিত করা সম্ভব কি না প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, অবশ্যই সম্ভব। উন্নত দেশগুলোতে এটা হচ্ছে। তবে এখনো আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে গবেষণা অব্যাহত আছে। আশা করছি দেশেই একদিন এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।

ড. গৌতম কুমার দেব জাগো নিউজকে আরো বলেন, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বায়োটেকনোলজি বিভাগের গবেষণাগারে ভ্রূণ উৎপাদন-পূর্বক গাভীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে গত মার্চে দেশে প্রথমবারের মতো একটি গাভী থেকে দুটি বাছুর উৎপাদন করতে সক্ষম হয়।

তিনি বলেন, এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য দাতা গাভী থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ এবং ভ্রুণ ক্রায়োপ্রিজারভেশন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন। বিএলআরআই ইতোমধ্যে উল্লেখিত প্রযুক্তির ওপর গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী বছরের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তিটি ব্যবহারের উপযোগী করার কার্যক্রম চলমান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএলআরআই, প্রাণিসম্পদের সার্বিক উন্নয়ন তথা দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন সমস্যা চিহ্নিত করে মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার উপযোগী এ পর্যন্ত মোট ৫৬টি প্রযুক্তি ও ১৯টি প্যাকেজ উদ্ভাবন করেছে। এগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের কাছে সস্প্রসারণ করা হচ্ছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

লাইভস্টক

মেঘনার চরে মহিষের খামার

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার দক্ষিণ কোদালপুর এলাকায় নদীর চরে মহিষের খামার গড়ে উঠেছে। প্রথম আলো
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার দক্ষিণ কোদালপুর এলাকায় নদীর চরে মহিষের খামার গড়ে উঠেছে। প্রথম আলো

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় মেঘনা নদীর চরে মহিষের খামার গড়ে তোলা হয়েছে। চরে বিস্তীর্ণ চারণভূমি রয়েছে। তাই চরগুলো মহিষ পালন করার আদর্শ জায়গা। তবে দেরিতে হলেও চরে মহিষের খামার গড়ে তোলায় নতুন সম্ভাবনার উন্মোচন হয়েছে।

গোসাইরহাটের কোদালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কোদালপুর এলাকায় খামার করা হয়েছে। দুটি খামারে ৮০০ মহিষ লালনপালন করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের আটজন খামারি ওই দুটি খামার করেছেন। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের খামারিরা শুধু গরু ও ছাগল লালনপালন করতেন। জেলায় চার লাখ গবাদিপশু লালনপালন করা হয়। গত বছর লক্ষ্মীপুর জেলার কয়েকজন খামারি মিলে গোসাইরহাট উপজেলার মেঘনা নদীর একটি চরে দুটি খামার গড়ে তোলেন। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুবোধ কুমার দাস বলেন, শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে পদ্মা ও মেঘনা নদী প্রবাহিত হয়েছে। ওই দুটি নদীতে বিভিন্ন স্থানে ছোট–বড় অন্তত ২৫টি চর রয়েছে। যেখানে কয়েক হাজার একর চারণভূমি রয়েছে। আর নদীর চরগুলো মহিষ পালন করার আদর্শ জায়গা। এত দিন কেন খামারিরা চরে মহিষ পালন শুরু করেননি, তা তিনি বলতে পারেন না। তবে এসব চরে মহিষের লালনপালনে খরচ খুব কম। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকেও সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলার সাহেবের চর এলাকার বাসিন্দা আকুব আলী সরদার গত বছর ৪৫০টি মহিষ নিয়ে একটি খামার গড়ে তোলেন। ওই খামারের ৭০টি মহিষ দুধ দেয়। ওই দুধ নোয়াখালীতে প্রতি কেজি ১০০ টাকা দামে বিক্রি করা হয়। আকুব আলী বলেন, ‘আমি ওই চরের কিছু জমি ভাড়া নিয়ে খামারটি করেছি। স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ীরা খামার থেকে মহিষ কিনে নিচ্ছেন। আর কিছু মহিষ দুধ দিচ্ছে, তা নোয়াখালীতে বিক্রি করছেন। দুধ নৌপথে নোয়াখালী পাঠানো হয়।’ 

আরেক খামারি জাকির হোসেন বলেন, এখানে বিচরণভূমি অনেক। লাভজনক হওয়ায় লক্ষ্মীপুর থেকে এসে খামার করেছেন। 

কোদালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, মহিষের খামারটি হওয়ায় ভালো হয়েছে। স্থানীয় খামারিরা উদ্যোগী হলে তাঁদের সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

চাহিদার বেশি মাংস উৎপাদন

চাহিদার বেশি মাংস উৎপাদন

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় মাংসের চাহিদার চেয়েও উদ্বৃত্ত রয়েছে। কিন্তু দুধ ও ডিমের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চলতি বছরের জুন মাসের পরিসংখ্যানে এই চিত্র তুলে ধরা হয়। 

গত রোববার দুপুরে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিদিন একজন মানুষের ১২০ গ্রাম মাংসের প্রয়োজন। আদর্শ সদর উপজেলায় ১২২ দশমিক ৬০ গ্রাম মাংসের জোগান হচ্ছে। চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত আছে ২ দশমিক ৬০ গ্রাম। অপরদিকে একজন মানুষের বছরে ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন (সপ্তাহে দুটি করে)। কিন্তু জনপ্রতি ৯৫টি ডিমের জোগান দেওয়া হচ্ছে। ডিমের ক্ষেত্রে ৯টি ঘাটতি রয়েছে। তা ছাড়া, প্রতিদিন একজন মানুষের ২৫০ মিলিলিটার দুধ পান করা প্রয়োজন। কিন্তু জোগান হচ্ছে ১৫৮ দশমিক ১ মিলিলিটার। দুধে ঘাটতি আছে ৯১ দশমিক ৯ মিলিলিটার। 

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ১৪৫ দশমিক ৩৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার ছয়টি ইউনিয়নে জনসংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৯১। এদের আমিষ ও দুধের চাহিদা পূরণের জন্য উপজেলায় গরু ও মুরগির খামার রয়েছে। মাংসের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। বাকি অংশের জোগান হচ্ছে গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া থেকে। 

এ বছর সারা দেশে কোরবানির হাটে ১ কোটি ১৮ লাখ গরু ওঠে। এবার চাহিদা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ। আরও ১০ লাখ গরু উদ্বৃত্ত ছিল। আদর্শ সদর উপজেলায় গরু জবাই হয়েছে ৯ হাজার ৪৬৯টি, ছাগল ২ হাজার ৩৫০টি। মোট ১১ হাজার ৮১৯টি পশু জবাই হয়। আদর্শ সদর উপজেলার ১০টি হাটে এবার ৫২০টি গরু ও ২৩টি ছাগল অবিক্রীত ছিল। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার বলেন, আদর্শ সদর উপজেলায় ডিম উৎপাদনের খামার আছে ২১টি, দুধের খামার ১৬৯টি, ব্রয়লার মুরগির খামার আছে ১১০টি, রয়েছে কয়েকটি সোনালি (কক) মুরগির খামারও। তিনি আরও বলেন, এখন গাভি পালনের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার গুঁড়া দুধ আমদানি বাদ দিয়ে তরল দুধের প্রতি নজর দিচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে এলডিডিপির (লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) আওতায় সারা দেশের সব কটি উপজেলায় গাভি পালনের জন্য ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকার পাঁচ বছরের প্রকল্প শুরু হয়েছে। এতে খামারিরা দুধ উৎপাদন করবেন। সে জন্য খামারিদের প্রশিক্ষণ, কর্মশালা করে সচেতন ও কলাকৌশল শেখানো হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুধের ঘাটতি কমে আসবে। ডিমের ঘাটতি কমানোর জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

আদর্শ সদর উপজেলার কালীবাজার ইউনিয়নের ধনুয়াখলা গ্রামের জেড এইচ অ্যাগ্রো পার্কের স্বত্বাধিকারী জিয়াউল হক বলেন, ‘আমার খামারে ডিম ও দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিদিন আমার খামার থেকে অন্তত ৮ হাজার ডিম ও ২০০ লিটার দুধ জোগান দেওয়া হচ্ছে।’ 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মাংস, দুধ ও ডিমের চাহিদা মেটাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আদর্শ সদরে মাংসের চাহিদার চেয়েও বেশি পাওয়া যাচ্ছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস খাওয়া যাবে?

ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত একটি গরু। এ রোগে আক্রান্ত গরুর গায়ে প্রথমে বসন্তের মতো গুটি দেখা যায়। উপজেলার কালিগ্রাম এলাকায়। ছবি: সংগৃহীত
ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত একটি গরু। এ রোগে আক্রান্ত গরুর গায়ে প্রথমে বসন্তের মতো গুটি দেখা যায়। উপজেলার কালিগ্রাম এলাকায়। ছবি: সংগৃহীত

নাম ল্যাম্পি স্কিন। গবাদিপশু, বিশেষ করে গরুর নতুন একটি রোগ এটি। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ রোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নওগাঁ ও ঝিনাইদহে প্রাদুর্ভাব বেশি। ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত হলে অনেকেই পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন। এই মাংস খাওয়া যাবে কি না, এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গবেষক বলছেন, ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস খেলে কোনো সমস্যা নেই। সাধারণত এ রোগের জীবাণু মানবদেহে কোনো ক্ষতি করে না। আর সঠিক তাপমাত্রায় মাংস সেদ্ধ হলে জীবাণু পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। তবে যেকোনো রোগে আক্রান্ত পশুর মাংস না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই গবেষকেরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক আলিমুল ইসলাম বলেন, ল্যাম্পি স্কিন নতুন একটি রোগ, যা আগে বাংলাদেশে ছিল না। দু-এক বছর ধরে অন্য দেশ থেকে আসা গরুর মাধ্যমে এই জীবাণু দেশে প্রবেশ করেছে। তা ছাড়া সংকর জাতের গরুতে এর প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেশি। আক্রান্ত পশুর গায়ে গুটি দেখা যায়। তবে এটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় পশুর মাংস সেদ্ধ করার সময় জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, ব্যাকটেরিয়া উচ্চ তাপে টক্সিন (বিষাক্ত পদার্থ) সৃষ্টি করলেও ভাইরাস তা করে না। তাই আক্রান্ত পশুর মাংস খেলে কোনো সমস্যা নেই। তবে না খাওয়াই ভালো।’

গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর গায়ে প্রথমে বসন্তের মতো গুটি দেখা যায়। দু-এক দিনের মধ্যেই গরুর পুরো শরীরে থাকা গুটিগুলো ঘায়ে পরিণত হয়। এ সময় গরুর শরীরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা দেয়। আক্রান্ত গরু খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দেয়। অনেক সময় গরুর বুকের নিচে পানি জমে ক্ষত সৃষ্টি হয়। ক্ষতস্থান পচে গিয়ে সেখান থেকে মাংস খসে পড়তে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ল্যাম্পি স্কিন ব্যাকটেরিয়াজনিত অ্যানথ্রাক্স রোগের মতো ছোঁয়াচে জুনোটিক রোগ নয়। জীবাণু পশু থেকে মানুষে এবং মানুষ থেকে পশুতে ছড়ালে তাকে জুনোটিক রোগ বলা হয়। তাই ল্যাম্পি স্কিন রোগে মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভাইরাসজনিত হওয়ায় এর তেমন কোনো চিকিৎসা নেই। তবে বাজারে পাওয়া যায়, এমন কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে সেকেন্ডারি ইনফেকশন (সংক্রমণ) থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ মো. বাহানুর রহমান বলেন, ‘ভাইরাসজনিত রোগের সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে ভ্যাকসিন (টিকা) প্রদান। ভ্যাকসিন না থাকায় রোগটির প্রকোপ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তেমন কিছু করার থাকে না। যেহেতু এটি নতুন রোগ, এর ভ্যাকসিন আমাদের কাছে নেই। যে প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে, তাতে এ রোগ নিয়ে গবেষণা করার সময় এসে গেছে।’

ল্যাম্পি স্কিন নিয়ে এই গবেষকদের সারকথা হচ্ছে, এই রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস খেলে কোনো সমস্যা নেই। আক্রান্ত পশুর মাংস খাওয়া অনেকটা রুচির ব্যাপার। রোগাক্রান্ত কোনো পশুর মাংস না খাওয়ার পরামর্শ সব সময়ই দিয়ে থাকেন তাঁরা। ল্যাম্পি স্কিন রোগের ক্ষেত্রেও তাঁদের একই পরামর্শ। কারণ, রোগাক্রান্ত পশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। ল্যাম্পি স্কিনে আক্রান্ত গরু অন্য কোনো জীবাণু দ্বারাও আক্রান্ত হতে পারে। তাই যেকোনো রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস বা দুধ না খাওয়াই ভালো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ভিডিও

ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে গ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরা মানুষের ভিড়।

রিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় এসেছেন কর্মজীবী মানুষ

রেল স্টেশনের কর্মীরা গ্রাম থেকে আসা মানুষের মালামাল বহন করে দিচ্ছেন

রেল স্টেশনের কর্মীরা গ্রাম থেকে আসা মানুষের মালামাল বহন করে দিচ্ছেন

ঢাকায় ফিরে আসা মানুষ গ্রাম থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন

নির্বিঘ্নে ঢাকায় ফিরতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন তারা

গ্রাম থেকে আসা এসব মানুষ আবার আগের মত কাজে ব্যস্ত হয়ে যাবেন

ঈদ করে গ্রাম থেকে আসা এসব মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে রাজধানীর অলি-গলি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

ঢাকায় ঈদের দ্বিতীয় দিনেও পশু কোরবানি

কারও কসাই ‘মাংস শ্রমিক’ কথা দিয়েও পশু কাটতে আসেনি, আবার কেউ কেউ ঈদের দিনে নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তারা আজ পশু কোরবানি দিচ্ছেন। অনেকে আবার পারিবারিক রেওয়াজের কারণে আজকের দিনটি কোরবানির জন্য বেছে নিয়েছেন।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ঈদের দিন ছাড়াও জিলহজ মাসের ১১ তারিখ (ঈদের দ্বিতীয় দিন) এবং ১২ তারিখ (ঈদের তৃতীয় দিন) দিনেও পশু কোরবানি করা যায়। রোববার ঈদের ২য় দিন সরেজমিন পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে কোরবানির চিত্র।

বকশিবাজার, হাজারীবাগ, বংশাল, আরমানীটোলা এলাকা ঘুরে অনেককেই সড়কে প্রিয় পশুটিকে কোরবানি দিচ্ছে। তবে ঈদের দিনের তুলনায় এর সংখ্যা খুবই কম।

নাজিমুদ্দিন রোডের বাসিন্দা সোবহান খোরশেদ বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই ঈদের দ্বিতীয় দিন কোরবানি করতে দেখেছি। এখনও এই রেওয়াজ আছে। ঈদের নামাজ পড়ে আমরা বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। পাশাপাশি পরের দিন কোরবানি করে দ্বিতীয় দিনেও ঈদের আনন্দ ধরে রাখি’।

একই এলাকার বাসিন্দা মো. শহীদ বলেন, ‘ঈদের দিন সকালে আমার ৭০ হাজার টাকার গরু কোরবানির জন্য কসাই ৭ হাজার টাকা চেয়েছে। পরের দিন রেট কম পেয়েছি। সাড়ে ৩ হাজার মাত্র। যেহেতু পরের দিন কোরবানির বিধান আছে তাই তাড়াহুড়ো না করে পরের দিনই কোরবানি করলাম’।

সাদ্দাম হোসেন নামের বংশালের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি অনেকটা বাধ্য হয়েই আজ কোরবানি করছি। গরু কেনার সপ্তাহখানেক আগেই কসাইয়ের সাথে চুক্তি করি। কসাই বলেছিলেন ঈদের দিন দুপুর ২টায় আসবে। তবে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। অপেক্ষা করতে করতে সন্ধ্যার দিকে কোরবানি না করার সিদ্ধান্ত নিই। আজ অন্য কসাইয়ের সাথে কথা বলে কোরবানি দিলাম’।

এদিকে ঈদের দিনের মতো আজও সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানের বাইরেই কোরবানি দিতে দেখা গেছে পুরান ঢাকার বেশিরভাগ মানুষকে। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না কোনো পশু কোরবানির ক্ষেত্রেই।

ঈদের প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও বর্জ্য অপসারণে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের পুরান ঢাকায় তৎপর দেখা গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com