আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

বছরের নতুন ফল পেলে প্রিয় নবী যে দোয়া পড়তেন

গাছ, ফুল, ফল সবকিছুই আল্লাহর দেয়া বান্দার জন্য অনেক বড় নেয়ামত। সুস্বাদু হাজারের বেশি রকম ফল আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য দিয়েছেন। যা স্বাদের পাশাপাশি রোগমুক্তির অন্যতম উপায়। একেক মৌসুমে একেক ফল আসে আমাদের কাছে আল্লাহর উপহার হিসেবে। সাহাবায়ে কেরাম মৌসুমের নতুন নতুন ফল প্রিয় নবী রাসূল (সা.) এর দরবারে নিয়ে যেতেন। তিনি নতুন ফল পেলে বা দেখলেই দোয়া পড়তেন। 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, সাহাবায়ে কেরাম যখন কোনো নতুন ফল দেখতেন, তখন তারা তা আল্লাহর রাসূল (সা.) এর কাছে এর খেদমতে পেশ করতেন। আর তিনি তা গ্রহণ করতেন এবং এই দোয়াটি পড়তেন-

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثَمَرِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مُدِّنَا
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি ছামারিনা; ওয়া বারিক লানা- ফি মাদিনাতিনা; ওয়া বারিক লানা ফি সায়িনা ওয়া বারিক লানা ফি মুদ্দিনা।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের ফলগুলোতে আমাদের জন্য বরকত দাও, আমাদের শহরে আমাদের জন্য বরকত দাও, আমাদের জন্য আমাদের ‘সা’ এবং আমাদের ‘মুদ্দে’ (পরিমাণ ও পরিমাপে) বরকত দাও।’

বর্ণনাকারী হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এরপর তিনি যাকে সর্বকনিষ্ঠ দেখতেন; এরূপ ছোট কাউকে ডেকে ডেকে তাকে সে ফল দিয়ে দিতেন।’

সুতরাং মৌসুমের যে কোনো নতুন উৎপাদিত ফল দেখলে আবাদকারী কৃষক কিংবা ফল ক্রয়কারী ভোক্তা সবার উচিত, প্রিয় নবী সা(সা.) এর শেখানো দোয়া পড়ে ফল-ফসলে বরকত পাওয়ার চেষ্টা করা। পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ (সা.) এ দোয়ার পরের অংশে নিজ শহর মদিনার জন্য কল্যাণ ও বরকতের দোয়া করেছেন। যেভাবে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম পবিত্র নগরী মক্কার জন্য দোয়া করেছিলেন। এভাবে এ দোয়ার শিক্ষায় মুমিন মুসলমানও নিজনিজ অঞ্চল, গ্রাম, শহর ও দেশের জন্য দোয়া করা জরুরি। দোয়াটি হলো-

اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَإِنِّي عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ ، وَإِنِّي أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَتِىْ , بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ بِهِ لِمَكَّةَ وَمِثْلِهِ مَعَهُ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্না ইবরাহিমা আবদুকা ওয়া খালিলুকা ওয়া নবিয়্যুকা; ওয়া ইন্নি আবদুকা ওয়া নবিয়্যুকা; ওয়া ইন্নাহু দাআকা লিমাক্কাতা; ওয়া ইন্নি আদউকা লিলমাদিনাতি; বিমিছলি মা দাআকা বিহি লিমাক্কাতা ওয়া মিছলিহি মাআহু।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তোমার বান্দা, তোমার বন্ধু এবং তোমার পয়গাম্বর। আর আমিও তোমার বান্দা এবং তোমার পয়গাম্বর। তিনি (ইবরাহিম) তো তোমার কাছে মক্কার জন্য দোয়া করেছিলেন; আর আমিও তার মতো মদিনার জন্য তোমার কাছে দোয়া করছি এবং এর সঙ্গে আরও সমপরিমাণ দোয়া করছি।’ (মুসলিম, মুয়াত্তা মালিক, নাসাঈ, তারগিব ওয়াত তারহিব)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মৌসুমী যে কোনো নতুন ফল দেখলে বা পেলে হাদিসের উল্লেখিত দোয়া পড়ে বরকতের দোয়া করার তাওফিক দান করুন। নিজ নিজ শহরের জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

এবারো ওরস হচ্ছে না শাহজালাল মাজারে

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় এবারো হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ওরস মোবারক উদযাপন হচ্ছে না। গত বছর ৭০১তম ওরস মোবারক উদযাপন হয়নি।এরই ধারাবাহিকতায় এবার ৭০২তম ওরস মোবারক উদযাপন হচ্ছে না।  

স্বাস্থ্যবিধি বিবেচনায় নিয়ে ওরস মোবারক স্থগিতের বিষয়টি শনিবার (১২ জুন) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের সরেকওম মোতাওয়াল্লি ফাতেহ উল্লাহ আল আমান।  

তিনি বলেন, ১১ ও ১২ জুলাই শাহজালাল মাজারের ওরস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওরসের আয়োজন করা হলে প্রচুর ভক্ত-অনুরাগী ভিড় করবেন। এতে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব হবে না। যে কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ফলে এবারের ওরস আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাজার কর্তৃপক্ষ।  

মাজার সেক্রেটারি সামুন মাহমুদ খান বলেন, ৭০০ বছরের ইতিহাসে এই দ্বিতীয়বারের মতো শাহজালাল মাজারের ওরস হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধের বছরও এখানে ওরস হয়েছে। কিন্তু এবার তা করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমরা প্রথমে ভক্ত-অনুরাগীর ভিড় ছাড়াই নিয়ম রক্ষার জন্য ওরস আয়োজন করতে চেয়েছিলাম। গত সপ্তাহেও লোক সমাগম ছাড়া মাজারের লাকড়ি তোড়া উৎসবও করেছি। কিন্তু ওইদিন দেখা যায়, কাউকে না বললেও অনেক লোকই মাজারে জড়ো হয়ে যান।

ফলে ওরসের আয়োজন করলেও ভক্তদের উপস্থিতি ঠেকানো যাবে না। এ কারণে প্রথমবারের মতো এবার এ মাজারের ওরস হচ্ছে না।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

এ বছরও হজে যেতে পারবেন না বাংলাদেশিরা

বিশ্বব্যাপী চলছে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ। তাই চলতি বছরও সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশ থেকে হজযাত্রীরা হজের সুযোগ পাবেন না।

সৌদি আরব সরকারের উদ্ধৃতি দিয়ে শনিবার (১২ জুন) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরব সরকার জানিয়েছে, কোভিড-১৯ করোনা মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারও (১৪৪২ হিজরি/২০২১ খ্রি.) সৌদি আরবের বাইরের কোন দেশ থেকে হজযাত্রীরা হজের সুযোগ পাবেন না।  

সৌদি আরবের নাগরিক এবং সৌদি আরবে অবস্থানকারী অন্যান্য দেশের মুসলিমদের নিয়ে সীমিত আকারে হজ পালিত হবে।

করোনা মহামারির কারণে গত বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে হজের সুযোগ ছিল না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

যে আয় বিশ্ব নবীর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ

আল্লাহ তায়ালা রিযিকদাতা। তিনিই আমাদের ভাগ্য নির্ধারন করেন। তবে উত্তম জীবনযাপনের জন্য নিজেদেরও চেষ্টা করতে হবে। বেঁচে থাকার তাগিদে আয়-উপার্জন ও উত্তম জীবিকার বিকল্প নেই। নিজের শ্রমে উপার্জিত অর্থ যেমন সেরা তেমনি জীবিকা বা আহারের জন্যও নিজের শ্রমের আয়-উপার্জনই সর্বোত্তম। হাদিসের দুইটি সুস্পষ্ট বর্ণনায় তা ফুটে ওঠেছে। এ সম্পর্কে যা বলেছেন বিশ্বনবী?

১. সর্বোত্তম উপার্জন
হজরত রাফে ইবনে খাদিজা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, সর্বোত্তম উপার্জন কোনটি? জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তির নিজস্ব শ্রমলব্ধ উপার্জন ও সততার ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয়।’ (মুসনাদে আহামদ)

২. সর্বোত্তম জীবিকা
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিজের (শ্রমের আয়) উপার্জনের আহারই সর্বোত্তম আহার। আর তোমাদের সন্তানদের উপার্জনও তোমাদের উপার্জনের মধ্যে গণ্য।’ (আবু দাউদ)

জীবিকা অনুসন্ধানের গুরুত্ব
মানুষের জীবনে হালাল জীবিকা অনুসন্ধানের গুরুত্ব অনেক বেশি। ফরজ ইবাদত নামাজের পরই এর স্থান। কেননা কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে নামাজ পড়ার পরপরই জীবিকার সন্ধানে জমিনে ছড়িয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيراً لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
তারপর নামাজ শেষ হলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমা : আয়াত ১০)

উত্তম জীবিকা পাওয়ার দোয়া
উপরের আয়াতে নামাজ পড়েই জীবিকার সন্ধানে জমিনে বিচরণের নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ। আর প্রিয় নবী (সা.) মানুষকে উত্তম জীবিকা তালাশে আল্লাহর কাছে দোয়া করে মসজিদ থেকে বের হতে বলেছেন। যাতে মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে উত্তম জীবিকা দান করেন। হাদিসে এসেছে-

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَسْئَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে উত্তম জীবিকা প্রার্থনা করছি।’

মানুষ মসজিদ থেকে বের হতে যে দোয়াটি পড়েন। এটি মূলত উত্তম জীবিকা পাওয়ার একটি অন্যতম প্রার্থনা। এসবই হালাল আয়-উপার্জনের মাধ্যমে সর্বোত্তম জীবিকা বা আহারের সন্ধান পাওয়ার মাধ্যম।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে নিজ আয়-ইনকামে উত্তম জীবিকা বা আহারের ব্যবস্থা করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক সঠিক শ্রম ও উত্তম আহারের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

মুমিন ব্যক্তি কি অসুস্থতা ও মহামারিতে আক্রান্ত হতে পারেন?

অনেককেই বলতে শোনা যায়, মহামারি মুসলমান কিংবা মুমিন বান্দার হতে পারে না। এদের অসুস্থতা বা রোগ-ব্যধি হতে পারে না। বাস্তবেই কি এ কথা ঠিক যে, অসুস্থতা, রোগ-ব্যধি কিংবা মহামারি মুসলমান-মুমিন বান্দার মাঝে আসতে পারে না? এই অসুস্থতা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

‘না’, এটি ভুল ধারণা। মুমিন মুসলমান অসুস্থতা কিংবা মহামারিতে আক্রান্ত হতে পারে না- ইসলামের সঙ্গে এ কথার কোনো সম্পর্ক নেই। কেননা কুরআনুল কারিমে বর্ণনা, হাদিসের নির্দেশনা এবং ইসলামের ইতিহাসের সোনালী ঘটনাগুলো এর প্রমাণ।

রোগ-শোক, মহামারি ও ব্যধিতে আক্রান্ত হয়েছেন অনেক নবি-রাসুল, সাহাবায়ে কেরাম এবং ইসলামিক স্কলারগণ। মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে শহিদ হয়েছেন বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ। যিনি দুনিয়াতেই পেয়েছিলেন জান্নাতের নিশ্চয়তা।

রোগ-ব্যধি ও মহামারি সম্পর্কে ইসলামের দিকনির্দেশনা
কুরআনুল কারিমের অনেক স্থানে অসুস্থতার বর্ণনা আছে। যা যুগে যুগে নবি-রাসুলদের হয়েছিল। আর তারা তা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রায় প্রার্থনা করেছেন। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা অসুস্থতার বর্ণনা এভাবে দিয়েছেন-
عَلِمَ أَن سَيَكُونُ مِنكُم مَّرْضَى
তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে।’ (সুরা মুযযাম্মেল : আয়াত ২০)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় নবি ও তার প্রিয় বান্দাদের রাত জেগে কুরআন তেলাওয়াত ও রাতের ইবাদত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। আর ধারাবাহিক রাতজেগে ইবাদত করলে কেউ কেউ অসুস্থ হতে পারে সে কথাও আল্লাহ তাআলা তুলে ধরেছেন। পুরো আয়াতটি ছিল এই-
‘আপনার পালনকর্তা জানেন, আপনি ইবাদতের জন্য দন্ডায়মান হন রাতের প্রায় দু’তৃতীয়াংশ, অর্ধাংশ ও তৃতীয়াংশ এবং আপনার সঙ্গীদের একটি দলও দণ্ডায়মান হয়। আল্লাহ দিন ও রাত পরিমাপ করেন। তিনি জানেন, তোমরা এর পূর্ণ হিসাব রাখতে পারবে না। অতএব তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমা পরায়ন হয়েছেন। কাজেই কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ, ততটুকু তেলাওয়াত কর। তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশে-বিদেশে যাবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জেহাদে লিপ্ত হবে। কাজেই কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ ততটুকু আবৃত্তি কর। তোমরা নামাজ কায়েম কর, জাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। তোমরা নিজেদের জন্য যা কিছু অগ্রে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে উত্তম আকারে এবং পুরস্কার হিসেবে বর্ধিতরূপে পাবে। তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ (সুরা মুযযাম্মেল : আয়াত ২০)

যে কোনো মানুষসহ মুমিন বান্দা যে অসুস্থ হতে পারেন এ আয়াতই তার প্রমাণ। কারণ আল্লাহ বলেছেন অসুস্থ হয়ে গেলে অল্প পরিমাণ হলেও তোমরা কুরআন তেলাওয়াত কর।

আবার রোজার বিধান দেওয়ার পর আল্লাহ তাআলা অসুস্থদের জন্য রমজানের ফরজ রোজাকেও শিথিল করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে লোক এ (রমজান) মাসটি পাবে, সে যেন এ মাসের রোজা রাখে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)

মুমিন বান্দাসহ যে কোনো মানুষ অসুস্থ হতে পারেন- এ আয়াতও এর একটি প্রমাণ-
لَيْسَ عَلَى الْأَعْمَى حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ وَلَا عَلَى أَنفُسِكُمْ أَن تَأْكُلُوا مِن بُيُوتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ آبَائِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أُمَّهَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ إِخْوَانِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخَوَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَعْمَامِكُمْ أَوْ بُيُوتِ عَمَّاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخْوَالِكُمْ أَوْ بُيُوتِ خَالَاتِكُمْ أَوْ مَا مَلَكْتُم مَّفَاتِحَهُ أَوْ صَدِيقِكُمْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَأْكُلُوا جَمِيعًا أَوْ أَشْتَاتًا فَإِذَا دَخَلْتُم بُيُوتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَنفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُون
‘অন্ধের জন্য দোষ নেই, খঞ্জের জন্য দোষ নেই, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোষ নেই, এবং তোমাদের নিজেদের জন্যও দোষ নেই যে, তোমরা আহার করবে তোমাদের ঘরে অথবা তোমাদের পিতাদের ঘরে অথবা তোমাদের মাতাদের ঘরে অথবা তোমাদের ভাইদের ঘরে অথবা তোমাদের বোনদের ঘরে অথবা তোমাদের পিতৃব্যদের ঘরে অথবা তোমাদের ফুফুদের ঘরে অথবা তোমাদের মামাদের ঘরে অথবা তোমাদের খালাদের ঘরে অথবা সেই ঘরে- যার চাবি আছে তোমাদের হাতে অথবা তোমাদের বন্ধুদের ঘরে। তোমরা একত্রে আহার কর অথবা পৃথকভবে আহার কর, তাতে তোমাদের কোনো দোষ নেই। অতঃপর যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ কর, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও।’ (সুরা নুর : আয়াত ৬১)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা এ কথা বুঝিয়েছেন যারা চোখে দেখে না, যারা প্রতিবন্ধী কিংবা অসুস্থ তাদের সধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এখানেও আল্লাহ তাআলা অসুস্থতার কথা বলেছেন। যে মানুষ অসুস্থ হতে পারে।

নবি-রাসুলদের রোগ-ব্যধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা
সাধারণ মানুষ যত পরহেজগার কিংবা আল্লাহ ভিরু হোক না কেন, কখনো কোনো নবির সঙ্গে তাদের তুলনা হবে না। মুসলমান মুমিন বান্দা অসুস্থ হবে না এমন কথা বলা ঠিক নয়; কেননা নবি-রাসুলগণও অসুস্থ হয়েছেন। কুরআনের তাদের বর্ণনা ওঠে এসেছে এভাবে-
১. হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে অসুস্থতা থেকে বাঁচতে এভাবে আশ্রয় চেয়েছেন-
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন।’ (সুরা শুয়ারা : আয়াত ৮০)

২. আল্লাহর নবি হজরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম দীর্ঘ দিন অসুস্থ ছিলেন। তিনি আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করেছেন-
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
এবং স্মরণ করুন আইয়ুবের কথা; যখন তিনি তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করে বলেছিলেন- আমি (অসুস্থতা) দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ট দয়াবান।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৩)

নবি-রাসুলদের বর্ণনা থেকেও এটি সুস্পষ্ট যে, যেখানে নবি-রাসুলগণ অসুস্থ হয়েছেন; সেখানে মুমিন মুসলমান অসুস্থ হতে পারেন না। অসুস্থতা মুমিন মুসলেমানকে আক্রান্ত করতে পারে না এটি সম্পূর্ণই ভুল ধারণা।

মহামারি প্রতিরোধে হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত-
এতো গেল অসুস্থতার কথা। আবার অনেকে বলেন, মুমিন মসলমানদের মহামারিও হতে পারে না। হাদিসের বর্ণনা ও দিকনির্দেশনার আলোকে এ ধারণাও ভুল। কেননা মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে সাহাবি হজরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ অনেক সাহাবি এবং যুগে যুগে অনেক ইসলামিক স্কলাররা ইন্তেকাল করেছেন।
ইসলামি খেলাফতের প্রথম যুগে মহামারি প্রতিরোধে হজরত ওমরের সিদ্ধান্তই ছিল যুগোপযোগী। ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৮ হিজরির ঘটনা। হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন ইসলামি খেলাফতের আমির। সে সময় সিরিয়া-প্যালেস্টাইনে দেখা দেয় মহামারী প্লেগ। খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে জানতে পারেন সিরিয়ায় মহামারি প্লেগ দেখা দিয়েছে। তাতে তিনি হাদিনের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর সিরিয়া সফর স্থগিত করেছিলেন। মহামারি প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষায় তা ছিল হজরত ওমরের সময়ের সেরা কার্যকরী সিদ্ধান্ত।

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সফরের উদ্দেশ্যে মদিনা থেকে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান। মদিনা থেকে ‘সারগ’ নামক অঞ্চলে পৌছলে সেনাপতি আবু উবায়দাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু জানান যে, সিরিয়ায় প্লেগ তথা মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইসলামে ইতিহাসে এ ঘটনা তাউনা আম্মাউস (طاعون عمواس) নামে পরিচিত। সে সময় তিনি সফর স্থগিত করেছিলেন।

যারা বলেন মুমিন মুসলমানকে মহামারি আক্রান্ত করবে না এটি তাদের জন্য অনেক বড় শিক্ষানীয় বিষয়। সে সময়টিতে সিরিয়ায় মহামারি প্লেগ-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় হজরত ওমর প্রবীণ সাহাবাদের কাছে এ মর্মে পরামর্শ চান যে, তিনি সিরিয়া সফর করবেন নাকি মদিনায় ফিরে যাবেন? সাহাবাদের মধ্য থেকে দুইটি মতামত জানানো হয়-
হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাষ্ট্রীয় সফরে মহামারি প্লেগ আক্রান্ত অঞ্চলে যাবেন নাকি মদিনায় ফিরে যাবেন এ নিয়ে ৩টি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়-

– প্রথমটি ছিল : প্রবীণ সাহাবাদের পরামর্শ
কিছু সাহাবা মতামত দিলেন যে, আপনি যে উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, সে উদ্দেশে সফর অব্যাহত রাখেন। অর্থাৎ সিরিয়ায় যাওয়ার পক্ষে মত দেন। আবার কিছু সাহাবা বললেন, ‘খলিফার সিরিয়া যাওয়া উচিত হবে না।

– দ্বিতীয় ছিল : আনসার ও মুহাজিরদের পরামর্শ সভা
হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রবীণ সাহাবাদের কাছ থেকে দুইটি মতামত পাওয়ায় পুনরায় পরামর্শের জন্য আনসার ও মুহাজির সাহাবাদের ডাকলেন। তারাও মতপার্থক্য করলেন।

– সবশেষে ছিল : প্রবীন কুরাইশদের পরামর্শ সভা
খলিফা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সবশেষে প্রবীণ কুরাইশদের ডাকলেন। তারা কোনো মতানৈক্য না করে সবাই এ মর্মে মতামত ব্যক্ত করলেন যে-
‘সিরিয়ার সফর স্থগিত করে আপনার মদিনায় প্রত্যাবর্তন করা উচিত। আপনি আপনার সঙ্গীদের মহামারি প্লেগের দিকে ঠেলে দেবেন না।’

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রবীণ কুরাইশদের এ মতামতটি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সিরিয়ার সফর স্থগিত করে মদিনায় ফিরে গেলেন।

খলিফার মদিনায় ফেরত যাওয়া দেখে অনেক সাহাবায়ে কেরাম তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন- هل تفر من قدر الله – (أفرار من قَدَر الله) فقال عمر: نعم، نَفِر من قَدَر الله إلى قدر الله
‘হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তাকদির থেকে পলায়ন করে ফিরে যাচ্ছেন? তখন তিনি বললেন, আমি তাকদির থেকে তাকদিরের দিকেই রওয়ানা হলাম।’

সেনাপতি হজরত আবু উবাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুও খলিফা হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এ প্রশ্ন করেছিলেন। আর তা শুনে হজরত ওমর মনে কষ্ট পেলেন। প্রিয় মানুষের কাছে যেভাবে আপনজন কষ্ট পায়। কেননা হজরত আবু উবায়দাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন খলিফার অনেক পছন্দ ও ভালোবাসা পাত্র। তাছাড়া সেনাপতি আবু উবায়দাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবাদের অন্যতম একজন।

তখন হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘হে আবু উবায়দাহ! এ কথাটি তুমি না বলে যদি অন্য কেউ বলতো! তিনি সেনাপতির কথার উত্তরে বললেন- ‘হ্যাঁ’, আমরা আল্লাহর এক তাকদির থেকে আরেক তাকদিরের দিকে ফিরে যাচ্ছি।’ হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সেনাপতি আবু উবায়দাহকে এ কথা বুঝাতে একটি উদাহরণ তুলে ধরেন এবং বললেন-
‘তুমি বলতো, তোমার কিছু উটকে তুমি এমন কোনো উপত্যকায় নিয়ে গেলে যেখানে দুইটি মাঠ আছে। মাঠ দুইটির মধ্যে একটি মাঠ সবুজ শ্যামলে ভরপুর। আর অন্য মাঠটি একেবারে শুষ্ক ও ধূসর। এখানে উট চরানো নিয়ে বিষয়টি কি এমন নয় যে, ‘তুমি সবুজ-শ্যামল মাঠে উট চরাও। আর তা আল্লাহর নির্ধারিত তাকদির অনুযায়ীই চরিয়েছ। আর যদি শুষ্ক মাঠে চরাও, তা-ও আল্লাহর তাকদির অনুযায়ী চরিয়েছ।

এ উপমায় হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সেনাপতিকে এ কথাই বলতে চাচ্ছেন যে, হাতে সুযোগ থাকতে ভালো গ্রহণ করার মানে এই নয় যে, আল্লাহর তাকদির থেকে পালিয়ে যাওয়া।’

সে সময় হজরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি হাদিস বর্ণনা করেন। সে হাদিসের বর্ণনায় হজরত আবু উবায়দাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর জিজ্ঞাসার পরিপূর্ণ সমাধান ওঠে এসেছে। তাহলো-
হজরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস শোনালেন। আর তাহলো-
‘তোমরা যখন কোনো এলাকায় মহামারি প্লেগের বিস্তারের কথা শুনো, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি কোনো এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব নেমে আসে, আর তোমরা সেখানে থাকো, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়েও যেও না।’ (বুখারি)

এ হাদিস থেকেও প্রমাণিত যে, মহামারি শুধু সাধারণ মানুষ কিংবা অমুসলিমদের হবে আর মুমিন-মুসলমানের হবে না। বিষয়টি এমন নয়; বরং যে কারো মহামারি, রোগ-ব্যধি হতে পারে। ইসলামে এ নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে করোনাসহ সব সংক্রামক মহামারি ও রোগ-ব্যাধি থেকে হেফাজত করুন। ইসলামের দিকনির্দেশনার প্রতি সম্মান ও মর্যাদা দেখানোর তাওফিক দান করুন। মহামারিরোধে হাদিসের ওপর আমল ও সতর্ক থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

পারিবারিক গোপনীয়তা ফাঁস অমার্জনীয় পাপ

ফ্যামিলি সিক্রেটস বা পারিবারিক গোপনীয়তা বলে একটি কথা আছে। বিশেষভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বহু গোপন কথা থাকে।সেসব কথা হয়তো পরস্পরের, নয়তো একেবারে নিজস্ব। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবন পার হয়েও মনের গভীরের গোপন কথাটি হয়তো জানা হয় না। এই গোপন বিষয় প্রকাশিত হলে তা নিয়ে টানাপড়েন, অশান্তি, বিবাদ-কলহ তৈরি হয়। কারো গোপন কথা প্রকাশ করা তার জন্য বিব্রতকর, বিপজ্জনকও বটে। এসব ঘটনা বর্তমানকে যেমন তিক্ত ও বিষময় করে তোলে, তেমনি ভবিষ্যতকে করে তোলে অনিরাপদ। পরম্পরায় ছড়িয়ে পড়ে নীরব সংক্রমণ। সন্তানদেরও ভুগতে হয়। তারা যখন বড় হয়, ওই জটিল মনঃকাঠামো থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না অনেকে।

স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয়তা ফাঁস জঘন্যতম পাপ : ইসলামে মানুষকে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর একান্ত বিষয় অন্যের কাছে প্রকাশ করা গর্হিত অপরাধ। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম মানুষ হবে ওই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয় এবং স্ত্রীও তার সঙ্গে মিলিত হয়, অতঃপর সে তার স্ত্রীর গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়। (মুসলিম, হাদিস : ৩৪৩৪)

অন্য বর্ণনায় হাদিসটি এভাবে এসেছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ওই ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বড় আমানত খিয়ানতকারী বিবেচিত হবে, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয় এবং স্ত্রীও তার সঙ্গে মিলিত হয়। অতঃপর সে তার স্ত্রীর গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়। (মুসলিম, হাদিস : ৩৪৩৫)

পারিবারের সদস্যদের গোপনীয়তা রক্ষা জরুরি : শুধু স্বামী-স্ত্রী নয়, পরিবারের যেকোনো সদস্যের এ ধরনের গোপন কথা প্রকাশ করা খুবই অন্যায়। নবী-পরিবারের সদস্যরা এ ব্যাপারে খুবই সজাগ ও সতর্ক ছিলেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার আমরা নবী (সা.)-এর সব স্ত্রী তাঁর কাছে জমায়েত হয়েছিলাম। আমাদের একজনও অনুপস্থিত ছিলাম না। এমন সময় ফাতেমা (রা.) হেঁটে আসছিলেন। আল্লাহর কসম! তাঁর হাঁটা রাসুল (সা.)-এর হাঁটার মতো ছিল। তিনি যখন তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি ‘আমার মেয়ের আগমন শুভ হোক’ বলে তাঁকে সংবর্ধনা জানালেন। এরপর তিনি তাঁকে নিজের ডান পাশে অথবা বাম পাশে বসালেন।

মেয়ের সঙ্গে মহানবীর গোপন আলাপ : অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গে কানে কানে কিছু কথা বলেন। তিনি (ফাতেমা) খুব বেশি কাঁদতে লাগলেন। এরপর তাঁকে চিন্তিত দেখে দ্বিতীয়বার তাঁর সঙ্গে তিনি কানে কানে আরো কিছু কথা বললেন। তখন ফাতেমা (রা.) হাসতে লাগলেন। তখন নবী (সা.)-এর স্ত্রীদের মধ্য থেকে আমি বললাম, আমাদের উপস্থিতিতে রাসুল (সা.) বিশেষ করে আপনার সঙ্গে বিশেষ কী গোপনীয় কথা কানে কানে বললেন, যার ফলে আপনি খুব কাঁদছিলেন? এরপর যখন নবী (সা.) উঠে চলে গেলেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি আপনাকে কানে কানে কী বলেছিলেন? ফাতেমা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর ভেদ (গোপনীয় কথা) ফাঁস করব না।

মৃত্যুর পর মহানবীর গোপন সুসংবাদ প্রকাশ : এরপর রাসুল (সা.)-এর ওফাত হলো। তখন আমি তাঁকে বললাম, আপনার ওপর আমার যে দাবি আছে, আপনাকে আমি তার কসম দিয়ে বলছি যে আপনি কি গোপনীয় কথাটি আমাকে জানাবেন না? তখন ফাতেমা (রা.) বললেন, হ্যাঁ, এখন আপনাকে জানাব। সুতরাং তিনি আমাকে জানাতে গিয়ে বলেন, প্রথমবার তিনি আমার কাছে যে গোপন কথা বলেন, তা হলো এই যে তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেন যে জিবরিল (আ.) প্রতিবছর এসে পূর্ণ কুরআন একবার আমার কাছে পেশ করতেন। কিন্তু এ বছর তিনি এসে তা আমার কাছে দুইবার পেশ করেছেন। এতে আমি ধারণা করছি যে আমার চির বিদায়ের সময় সন্নিকট। সুতরাং তুমি আল্লাহকে ভয় করে চলবে এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ করবে। নিশ্চয়ই আমি তোমার জন্য উত্তম অগ্রগমনকারী। তখন আমি কাঁদলাম যা আপনি নিজেই দেখলেন। তারপর যখন আমাকে চিন্তিত দেখলেন, তখন দ্বিতীয়বার আমাকে কানে কানে বলেন, তুমি জান্নাতের মুসলিম নারীদের অথবা এ উম্মতের নারীদের নেত্রী হওয়াতে সন্তুষ্ট হবে না? (আমি তখন হাসলাম)। (বুখারি, হাদিস : ৬২৮৫)
এভাবেই স্বামী-স্ত্রী ও পরিবারের গোপন কথা সংরক্ষিত রাখা ইসলামের অনুপম সৌন্দর্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com