আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

বিবিসি বাংলার জরিপে শ্রেষ্ঠ বাঙালি: শেখ মুজিবুর রহমান – ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির মাধ্যমে যিনি হয়ে উঠেছিলেন জনগণের অবিসংবাদিত নেতা

 শেখ মুজিবুর রহমান (১৯৭২ সালে বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেবার সময় তোলা ছবি)
শেখ মুজিবুর রহমান (১৯৭২ সালে বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেবার সময় তোলা ছবি)

দু’হাজার চার সালে বিবিসি বাংলা একটি ‘শ্রোতা জরিপ’-এর আয়োজন করে। বিষয়টি ছিলো – সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কে? তিরিশ দিনের ওপর চালানো জরিপে শ্রোতাদের ভোটে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ২০জনের জীবন নিয়ে বিবিসি বাংলায় বেতার অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় ২০০৪-এর ২৬শে মার্চ থেকে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত।

বিবিসি বাংলার সেই জরিপে শ্রোতাদের মনোনয়নে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। আজ তাঁর জীবন-কথা।

শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠ ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগোষ্ঠিকে মুক্তি ও স্বাধীনতার পথ নির্দেশনা দিয়েছিল।

“…মনে রাখবা- রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।” ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেস কোর্স ময়দানের এক জনসভায় এই বজ্রঘোষণার মাধ্যমে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন এবং জনগণকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।

শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান ছিলেন গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার এবং মা সায়েরা খাতুন।

 বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুনের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান।
বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুনের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান।

ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয় সন্তান। ১৯২৭ সালে শেখ মুজিব গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তাঁর সাত বছর বয়সে।

খুবই অল্প বয়সে তিনি বিয়ে করেছিলেন সম্পর্কে আত্মীয় বেগম ফজিলাতুন্নেসাকে।

নয় বছর বয়সে তিনি ভর্তি হন গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে এবং পরে ম্যাট্রিক পাশ করেন গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে।

গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় ১৯৩৯ সালে স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক এবং পরবর্তীতে বাংলার প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। কাশ্মিরী বংশোদ্ভুত বাঙালি মুসলিম নেতা মি.সোহরাওয়ার্দী পরবর্তীকালে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবনকে গভীরভাবে প্রাভাবিত করেছিলেন।

উনিশশ’ ৪২ সালে এট্রান্স পাশ করার পর শেখ মুজিব ভর্তি হন কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে যেটির বর্তমান নাম মাওলানা আজাদ কলেজ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই কলেজটি তখন বেশ নামকরা ছিল। এই কলেজ থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন।

 রাজনৈতিক জীবনে শেখ মুজিবকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। (ছবি ১৯৪৯)
রাজনৈতিক জীবনে শেখ মুজিবকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। (ছবি ১৯৪৯)

তবে স্কুল জীবন থেকেই তিনি তাঁর নেতৃত্ব দেবার দক্ষতা প্রমাণ করেছেন।

তিনি ১৯৪৩ সালে যোগ দেন বেঙ্গল মুসলিম লীগে এবং ১৯৪৪ সালে বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্র লীগের সম্মেলনে যোগদানের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন।

শেখ মুজিব ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৪৬ সালে এবং এ সময়েই তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহকারী নিযুক্ত হয়েছিলেন। ওই বছরই প্রাদেশিক নির্বাচনে তিনি মুসলিম লীগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এসময় তিনি পাকিস্তানে আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে বেঙ্গল মুসলিম লীগের হয়ে সক্রিয় আন্দোলনে অংশ নেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকেই ১৯৪৭ সালে তিনি বি.এ. পাশ করেন এবং ভারত ও পাকিস্তান পৃথক হয়ে যাওয়ার পর শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্মীদের বিক্ষোভে ‘উস্কানি’ দেবার অভিযোগ এনে কর্তৃপক্ষ তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করায় আইন পড়া তাঁর শেষ হয়নি।

 কলকাতায় যে বেকার হোস্টেলে ছাত্রাবস্থায় থেকেছেন শেখ মুজিবুর রহমান।
কলকাতায় যে বেকার হোস্টেলে ছাত্রাবস্থায় থেকেছেন শেখ মুজিবুর রহমান।

তিনি ১৯৪৮ সালে জানুয়ারির ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ যার মাধ্যমে তিনি একজন অন্যতম প্রধান ছাত্র নেতায় পরিণত হন। এ সময় তিনি ঝুঁকে পড়েন সমাজতন্ত্রের দিকে এবং মনে করতেন দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য একমাত্র পথ সমাজতন্ত্রের বিকাশ।

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেবার পর এর বিরুদ্ধে যে গণ আন্দোলন শুরু হয়, সে আন্দোলনে একটা অগ্রণী ভূমিকা ছিল শেখ মুজিবের।

বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার জন্য ১৯৪৮ সাল থেকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাভোগ করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মওলানা ভাসানী ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করার পর শেখ মুজিবুর রহমান মুসলিম লীগ ছেড়ে দিয়ে এই নতুন দলে যোগ দেন এবং তাঁকে পূর্ব পাকিস্তান অংশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নামে যে বিরোধী রাজনৈতিক মঞ্চ গঠিত হয়েছিল, তার মূল দাবি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য অধিকতর স্বায়ত্তশাসন। এই জোটের টিকেটে ১৯৫৪র নির্বাচনে গোপালগঞ্জ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন শেখ মুজিব। তাঁকে তখন কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

 ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে নির্বাচনে জেতার পর শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিচ্ছেন। তাঁকে শপথ পড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে নির্বাচনে জেতার পর শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিচ্ছেন। তাঁকে শপথ পড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক।

কিন্তু নির্বাচনের কয়েক মাসের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ওই যুক্তফ্রন্ট ভেঙে দেয়।

এই অনুষ্ঠান তৈরির সময় ঢাকায় প্রবীণ সাংবাদিক আতাউস সামাদ বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন মি. সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগে এসে শেখ মুজিব মওলানা ভাসানীর সঙ্গে দলটিকে শক্তিশালী করেছিলেন।

উনিশশ’ ৫৫ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগের বিশেষ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে দলের নাম থেকে “মুসলিম” শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। শেখ মুজিব আবার দলের মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন।

পাকিস্তানে ১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারি করা হয়। সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সংগ্রামের কারণে তাঁকে কয়েক বছর আবার জেল খাটতে হয়েছিল।

এরপর ১৯৬১ সালে অন্যান্য সাধারণ ছাত্রনেতাদের নিয়ে গোপনে তিনি স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ নামে এক সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করা।

 ১৯৬২ সালে এক জনসভায় আইয়ুব খানের শাসনের বিরোধিতা করে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৬২ সালে এক জনসভায় আইয়ুব খানের শাসনের বিরোধিতা করে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান।

বিবিসি বাংলাকে আতাউস সামাদ বলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর ১৯৬৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্ব নেন। ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “ছয় দফা দাবি” পেশ করেন।

“শেখ সাহেব সাহস করে ছয় দফা ঘোষণা করলেন, তাও করলেন তিনি লাহোরে। পশ্চিম পাকিস্তানে একটা সম্মেলনে গিয়ে তিনি ওই ছয় দফা ঘোষণা করলেন, যার ফলে ওঁনাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে যে মামলাটি হয় তাতে এক নম্বর আসামী করা হলো ১৯৬৮ সালের ৩রা জানুয়ারি,” বলেন আতাউস সামাদ।

এই মামলায় বলা হয়েছিল শেখ মুজিব ও তাঁর সহযোগী বাঙালি কর্মকর্তারা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা শহরে ভারত সরকারের সাথে এক বৈঠকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছে।

ওই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দেশব্যাপী যে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয় তা এক সময় গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। সেই গণ আন্দোলন বা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান চরম রূপ ধারণ করলে পাকিস্তান সরকার শেষ পর্যন্ত এই মামলা প্রত্যাহার করে নেয় এবং শেখ মুজিবসহ অভিযুক্ত সকলকে মুক্তি দেয়া হয়।

এটা আমি বলব একটা পালাবদল। কারণ পল্টনে তাঁকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়ার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠলেন জনগণের অবিসংবাদিত নেতা। কামাল হোসেন রাজনীতিক
এটা আমি বলব একটা পালাবদল। কারণ পল্টনে তাঁকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়ার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠলেন জনগণের অবিসংবাদিত নেতা। কামাল হোসেন রাজনীতিক

“ওঁনাকে ছাড়ানোর জন্য যে আন্দোলন হয়েছিল যেটা ছাত্রদের ১১ দফায় রূপ নিয়েছিল, সেইখান থেকে মুক্তি পাওয়ার পরদিনই তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হলো,” বলেন আতাউস সামাদ।

রেস কোর্স ময়দানে ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ এক বিশাল জনসভায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে শেখ মজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়া হয়েছিল।

উনিশশ’ ৭০-এর নির্বাচনে শেখ মুজিব তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়টিকে মূল বক্তব্য হিসাবে তুলে ধরেছিলেন, বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন সাংবাদিক আতাউস সামাদ। তিনি বলেন শেখ মুজিবুর রহমানের অনেকগুলো নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি গিয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে। তিনি দেখেছেন সব জায়গাতেই তাঁকে ছয় দফা নিয়ে কথা বলতে।

“ছয় দফা না বলে আঙুল তুলে বলতেন আমার দাবি ‘এই’ অর্থাৎ দেশ স্বাধীন করতে হবে,” বলেছিলেন মি. সামাদ। এই দাবিকে শেখ মুজিব ব্যাখ্যা করেছিলেন ”আমাদের বাঁচার দাবি” হিসাবে।

শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড. কামাল হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ”১৯৬৯ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পল্টনে তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়ার মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হয় জনগণের কত কাছাকাছি তিনি চলে এসেছেন। এটা আমি বলব একটা পালাবদল। কারণ এই বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়ার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠলেন জনগণের অবিসংবাদিত নেতা।

“আরেকটি হচ্ছে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। নির্বাচনের সিদ্ধান্ত, নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্টই প্রমাণ করেছিল যে বাঙালির তিনি একমাত্র মুখপাত্র। এটা কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তিকে অনেক শক্ত করে দিয়েছিল বলে আমি মনে করি,” বলেছিলেন ড. কামাল হোসেন।

এই ছয় দফা দাবির পক্ষে ১৯৬৬ সালের ৭ই জুন দেশব্যাপী শুরু হয়েছিল তীব্র গণ আন্দোলন ।

রাজনৈতিক ভাষ্যকার সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের তিনটি বড় গুণ ছিল তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, দৃঢ়চেতা এবং আপোসহীন।

 শেখ মুজিবুর রহমান
শেখ মুজিবুর রহমান

“পাকিস্তান রাষ্ট্রে প্রধান দ্বন্দ্ব কী সেটাকে তিনি খুব সঠিকভাবে চিহ্ণিত করতে পেরেছিলেন। অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েই তিনি জেনে নিয়েছিলেন যে বাঙালির সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বন্দ্বটাই ছিল প্রধান দ্বন্দ্ব। তাঁর মধ্যে অসাধারণ একটা আকর্ষণী শক্তি ছিল- ক্যারিশমা। তিনি জনগণকে বুঝতেন, জনগণের সঙ্গে মিশতে পারতেন, তাদের ভাষা জানতেন, তাদের উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন।”

মি. সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর আয়োজিত এক জনসভায় শেখ মুজিব যখন ঘোষণা করলেন যে এখন থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে “বাংলাদেশ” নামে অভিহিত করা হবে, তখন পশ্চিম পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ ও সামরিক কর্তারা তাঁকে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার তকমা দিলেন।

শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, প্রাদেশিক আইনসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে ওই নির্বাচনী ফলাফল পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে মেরুকরণ তৈরি করল। পশ্চিম পাকিস্তানের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতা জুলফিকার আলি ভুট্টো, শেখ মুজিবের স্বায়ত্বশাসনের নীতির প্রবল বিরোধিতা করলেন।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা বুঝতে পারল যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও শেখ মুজিবুর রহমানের দলকে সরকার গঠন করতে দেয়া হবে না।

 তাজউদ্দীন আহমেদ এবং আওয়ামী লীগের সাতজন নারী নেত্রীর সঙ্গে ১৯৭০এ নির্বাচনের ফলাফল রেডিওতে শুনছেন শেখ মুজিবুর রহমান।
তাজউদ্দীন আহমেদ এবং আওয়ামী লীগের সাতজন নারী নেত্রীর সঙ্গে ১৯৭০এ নির্বাচনের ফলাফল রেডিওতে শুনছেন শেখ মুজিবুর রহমান।

ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এক জনসভায় শেখ মুজিব স্বাধীনতার ডাক দিলেন এবং জনগণকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হবার আহ্বান জানালেন। যার মধ্যে দিয়ে শুরু হল বাংলাদেশের নয় মাস ব্যাপী সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম।

শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সম্পর্কে আতাউস সামাদ বলেছিলেন, “রেস কোর্সে তিনি এমন একটা বক্তৃতা দিলেন যা সবার মন ছুঁয়ে গেল, সবাই ওঁনার নির্দেশ মানতে লাগল। ওঁনার নামেই স্বাধীনতা যুদ্ধ চলল নয় মাস।”

শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হলো পশ্চিম পাকিস্তানে এবং ফয়সালাবাদের একটি জেলে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হলো। এরপর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২-এর দশই জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে গেলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

 রেস কোর্সে শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ
রেস কোর্সে শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

অল্পদিনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি থাকার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

শেখ মুজিব ১৯৭২ সালে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন, বলেছিলেন জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের কথা।

কিন্তু স্বাধীনতার পর দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে ক্রমশ বাড়তে থাকা অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে শেখ মুজিব তাঁর ক্ষমতা বাড়াতে থাকলেন। ১৯৭৫-এ কয়েকটি দল মিলে গঠন করা হলো বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা সংক্ষেপে বাকশাল নামে রাজনৈতিক দল। বহুদলীয় সংসদীয় সরকার পদ্ধতি বদলে শেখ মুজিব নিজেকে আমৃত্যু রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করলেন।

 পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২-এর দশই জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে যান শেখ মুজিবুর রহমান।
পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২-এর দশই জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে যান শেখ মুজিবুর রহমান।

বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান প্রচারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন তার মূল্যায়নে বলেছিলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে, গণতন্ত্র অর্থাৎ পশ্চিমী ধাঁচের যে গণতন্ত্র, যার উপর বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবন গড়ে উঠেছিল, সেই অবস্থান থেকে তিনি ক্রমাগত সরে এসেছিলেন।

“একদলীয় যে শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তা নির্দ্বিধায় বলা যায় গণতন্ত্র পরবর্তী ব্যবস্থা। সারা দেশে যখন একটা চরম বিশৃঙ্খলা, সেই সময় অন্তত আমার কাছে মনে হয় যে, বঙ্গবন্ধু এমন একটা ভাবনায় পরিবেষ্টিত থাকতেন যে, গোটা পরিস্থিতিটি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর আগে পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন ঢাকার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের যে বাড়িটি থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যে বাড়ি থেকে পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে গ্রেফতার করেছিল ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চের রাতে, স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন ১৯৭৫-সালে ১৫ই অগাস্টের রাতে সেই বাড়িতেই সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হাতে নিহত হয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে।

অনেক নেতাকে আমরা পেয়েছি। কিন্তু জনগণের মুখপাত্র হয়ে ওঠা, জনগণের ভাবনা, চেতনা, অভিলক্ষ্য, স্বপ্ন সবকিছুকে ধারণ করতে পেরেছিলেন একজনই- তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন অধ্যাপক
অনেক নেতাকে আমরা পেয়েছি। কিন্তু জনগণের মুখপাত্র হয়ে ওঠা, জনগণের ভাবনা, চেতনা, অভিলক্ষ্য, স্বপ্ন সবকিছুকে ধারণ করতে পেরেছিলেন একজনই- তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন অধ্যাপক

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মূল্যায়নে: ”বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্রীয় সত্তার যে উদ্ভব সেটির চূড়ান্ত পর্যায়ে ‘অনুঘটক নেতৃত্বের’ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কাজেই তিনি ইতিহাসের সঙ্গেই লগ্ন হয়ে আছেন। বাঙালির ইতিহাসের সঙ্গে।”

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেছিলেন, “১৯৪৭ থেকে ‘৭১ এই সময়টুকুতে অনেক নেতাকে আমরা পেয়েছি। যাদের অবদান কম নয়। কিন্তু সবকিছু ছাড়িয়ে জনগণের মুখপাত্র হয়ে ওঠা, জনগণের ভাবনা, চেতনা, অভিলক্ষ্য, স্বপ্ন সবকিছুকে ধারণ করতে পেরেছিলেন একজনই- তিনি শেখ মুজিবুর রহমান।”

  • শেখ মুজিবুর রহমান (১৯৭২ সালে বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেবার সময় তোলা ছবি)

    শেখ মুজিবুর রহমান (১৯৭২ সালে বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেবার সময় তোলা ছবি)

  • বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুনের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান।

    বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুনের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান।

  • রাজনৈতিক জীবনে শেখ মুজিবকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। (ছবি ১৯৪৯)

    রাজনৈতিক জীবনে শেখ মুজিবকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। (ছবি ১৯৪৯)

  • কলকাতায় যে বেকার হোস্টেলে ছাত্রাবস্থায় থেকেছেন শেখ মুজিবুর রহমান।

    কলকাতায় যে বেকার হোস্টেলে ছাত্রাবস্থায় থেকেছেন শেখ মুজিবুর রহমান।

  • ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে নির্বাচনে জেতার পর শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিচ্ছেন। তাঁকে শপথ পড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক।

    ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে নির্বাচনে জেতার পর শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিচ্ছেন। তাঁকে শপথ পড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক।

  • ১৯৬২ সালে এক জনসভায় আইয়ুব খানের শাসনের বিরোধিতা করে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান।

    ১৯৬২ সালে এক জনসভায় আইয়ুব খানের শাসনের বিরোধিতা করে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান।

  • এটা আমি বলব একটা পালাবদল। কারণ পল্টনে তাঁকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়ার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠলেন জনগণের অবিসংবাদিত নেতা। কামাল হোসেন রাজনীতিক

    এটা আমি বলব একটা পালাবদল। কারণ পল্টনে তাঁকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়ার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠলেন জনগণের অবিসংবাদিত নেতা। কামাল হোসেন রাজনীতিক

  • শেখ মুজিবুর রহমান

    শেখ মুজিবুর রহমান

  • তাজউদ্দীন আহমেদ এবং আওয়ামী লীগের সাতজন নারী নেত্রীর সঙ্গে ১৯৭০এ নির্বাচনের ফলাফল রেডিওতে শুনছেন শেখ মুজিবুর রহমান।

    তাজউদ্দীন আহমেদ এবং আওয়ামী লীগের সাতজন নারী নেত্রীর সঙ্গে ১৯৭০এ নির্বাচনের ফলাফল রেডিওতে শুনছেন শেখ মুজিবুর রহমান।

  • রেস কোর্সে শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

    রেস কোর্সে শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

  • পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২-এর দশই জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে যান শেখ মুজিবুর রহমান।

    পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২-এর দশই জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে যান শেখ মুজিবুর রহমান।

  • অনেক নেতাকে আমরা পেয়েছি। কিন্তু জনগণের মুখপাত্র হয়ে ওঠা, জনগণের ভাবনা, চেতনা, অভিলক্ষ্য, স্বপ্ন সবকিছুকে ধারণ করতে পেরেছিলেন একজনই- তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন অধ্যাপক

    অনেক নেতাকে আমরা পেয়েছি। কিন্তু জনগণের মুখপাত্র হয়ে ওঠা, জনগণের ভাবনা, চেতনা, অভিলক্ষ্য, স্বপ্ন সবকিছুকে ধারণ করতে পেরেছিলেন একজনই- তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন অধ্যাপক

  • শেখ মুজিবুর রহমান (১৯৭২ সালে বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেবার সময় তোলা ছবি)
  • বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুনের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান।
  • রাজনৈতিক জীবনে শেখ মুজিবকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। (ছবি ১৯৪৯)
  • কলকাতায় যে বেকার হোস্টেলে ছাত্রাবস্থায় থেকেছেন শেখ মুজিবুর রহমান।
  • ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে নির্বাচনে জেতার পর শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিচ্ছেন। তাঁকে শপথ পড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক।
  • ১৯৬২ সালে এক জনসভায় আইয়ুব খানের শাসনের বিরোধিতা করে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান।
  • এটা আমি বলব একটা পালাবদল। কারণ পল্টনে তাঁকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়ার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠলেন জনগণের অবিসংবাদিত নেতা। কামাল হোসেন রাজনীতিক
  • শেখ মুজিবুর রহমান
  • তাজউদ্দীন আহমেদ এবং আওয়ামী লীগের সাতজন নারী নেত্রীর সঙ্গে ১৯৭০এ নির্বাচনের ফলাফল রেডিওতে শুনছেন শেখ মুজিবুর রহমান।
  • রেস কোর্সে শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ
  • পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২-এর দশই জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে যান শেখ মুজিবুর রহমান।
  • অনেক নেতাকে আমরা পেয়েছি। কিন্তু জনগণের মুখপাত্র হয়ে ওঠা, জনগণের ভাবনা, চেতনা, অভিলক্ষ্য, স্বপ্ন সবকিছুকে ধারণ করতে পেরেছিলেন একজনই- তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন অধ্যাপক
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের দাম কমেছে খুলনায়

শুক্রবার খুলনার খুচরা ও পাইকারি বাজারে এমন চিত্র দেখা যায়।
চার দিন আগে খুলনার বাজারগুলোতে হু হু করে বেড়েছিল পেঁয়াজের দাম। সে সময় দেশি পেঁয়াজের দাম খুচরা বাজারে ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।


পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, বার্মা থেকে পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। ২১ দিনের মধ্যে আরও কমবে।
তবে কেউ কেউ বলছেন, আসন্ন দুর্গাপূজার কারণে ভারতে থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে না। যে কারণে দাম বেড়েছিল। পেঁয়াজ এখন ভারত নির্ভর পণ্য। আমাদের দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তা দিয়ে দেশের মানুষের চাহিদা মেটানো অসম্ভব। ভারত পেঁয়াজ দেওয়া বন্ধ করে দিলে এ পণ্যটির দাম বেড়ে যায়।


ময়লাপোতাস্থ সন্ধ্যা বাজারের সুমী স্টোরের মালিক কাউসার আলী হোসেন বলেন, দেশি জাতের পেঁয়াজ ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকায় উঠেছিল। এখন সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৭ টাকা কেজি দরে।
পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা খুলনার বড় বাজারের মেসার্স ফরাজী ট্রেডিংয়ের স্বত্ত্বাধিকারী মো. মিলন ফরাজী বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারতীয় পেঁয়াজের পাইকারি দাম ছিল কেজি প্রতি ৩৪-৩৬ টাকা। যা শনিবার বিক্রি হয়েছে ৪০-৪২ টাকা। সোম ও মঙ্গলবার সেই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৭-৪৮ টাকায়। অনুরূপ ভাবে ৩৮-৩৯ টাকা কেজি দরের দেশি পেঁয়াজ ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা বুধবারও অব্যাহত ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।


তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মিয়ানমারের থেকে পেঁয়াজ এসেছে। যে কারণে ২-৩ টাকা কেজি দরে দাম কমে গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পদ্মায় ইলিশ মাছ নিধনের অপরাধে ৩২ জেলেকে দণ্ড

সরকারী নিষেধাজ্ঞা লংঘন করে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মায় ইলিশ মাছ নিধনের অপরাধে ৩২ জন জেলেকে ১ বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

মৎস বিভাগ ও পুলিশের একটি টিম শুক্রবার গভীররাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত এ সাজা প্রদাণ করেন। এসময় ইলিশ মাছ ক্রয়ের অপরাধে ৩ নারী ক্রেতাকে মোট ২৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানকালে জব্দকৃত প্রায় ৩০ হাজার মিটার জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংশ করা হয় ও ২০ কেজি ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম রকিবুল হাসান বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিনিয়ত আমাদের অভিযান চলছে এবং অব্যাহত থাকবে।

মাদারীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ওঝাঁ জানান, এর আগে ৩৮ জেলেসহ এ পর্যন্ত ৭০ জন জেলেকে এক বছরের দণ্ড দেয়া হয়। এরপরও অপরাধ অব্যাহত থাকলে আরো কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কোনভাবেই অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা মা ইলিশ রক্ষা করতে পারলে সারা বছর ইলিশ খেতে পারবো বলে কর্মকতার্র অভিমত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পারিবারিক ভেষজ বাগান

বকুল হাসান খান
আগেই বলে রাখি শত সহস্য ওষধি গাছের বর্ণনা আমরা দেব না। মোটামুটিভাবে অধিক পরিচিত প্রচলিত এবং সহজপ্রাপ্য ওষুধি গাছের বর্ণনা তুলেধরবো।

অর্জুনঃ বিশেষ বাবে ছাল ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ নরম শিকড়ও ব্যবহার করে থাকেন। হৃদরোগ, রক্ত আমাশয়, রক্তচাপ, উদরাময়, অর্শরোগ, মূত্র বর্ধক এসব রোগ সারায়। ছারের রস বা ক্বাথ খালি বা চিনি ও দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। মেছতা ও ক্ষয়কােেশ মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

আমলকিঃ আমলকি ত্রিফলার এক সদস্য ফল। বহুগুণে গুণান্বিত আমলকি একক বা ত্রিফলা গোত্রের অন্য দু’ সদস্যের সাথে অনেক রোগের উপশম করে। পেটের পীড়া, রক্তহীনতা, চর্মরোগ, গণোরিয়া, জ্বর, চুল উঠা, রুচিবর্ধন, আমাশয়, জন্ডিস, অজীর্ণত, কাশি, পেট ফাফা, বমির জন্য দারুণ কাজ করে। কাঁচা পাতা বা শুকনা ফল সর্বঅবস্থায়ই উপকারী।

বহেড়াঃ ত্রিফলা গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য। সাধারণত ফলই ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমলকির মতো কাজ ছাড়াও হৃদরোগ ফুসফুস, চক্ষু, নাসিকা ও গলঅর রোগে ভালো উপকার করে।
হরিতকিঃ ত্রিফলা গোত্রের তৃতীয় সদস্য জন্ম বৈশিশষ্ঠ্য গুণাগুণে বহেড়ার খুব কাছাকাছি। আমলকি বহেড়ার মতো কাজ করে। তাছাড়া হাঁপানী পিত্তরোগ, ডেটেবাত, গলার রোগ, দন্তরোগ ও চক্ষুপ্রতদাহে ব্যবহৃত হয়।

আকন্দ: আকন্দ পাতা, ছাল, শিকড়, ফুল এবং কষ ব্যবহৃত হয়। বুকের সর্দি এবং অন্যান্য ব্যথায় সেক উত্তম। ফুল হাপানিতে ও যকৃত রোগে ব্যবহৃত হয়। আঠা দাদে পাতা সিদ্ধ পানি ঘায়ে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া কানব্যথা, শরীরের অন্যান্য ব্যথা, ফুলা কমাতে পাতা ব্যবহৃত হয়। পাতা ও মূলের নির্য়াস তলপেটে টিউমার, ফোঁড়া, ক্যান্সার, সিফিলিস, কুষ্ঠ, অর্শ, চর্মরোগ সারাতে সেবন করা হয়।

অশোকঃ ছাল, পাতা, ফুল ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ছাল এবং পাতার রস ঋতুস্রাব, রক্তাক্ত পাইলস, রক্ত আমাশয় নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া ফুল যকৃতের অসুখ, সিফিলিস, গভাশয়ের অসুখ সারায়।

উলটকম্বল: পাতা, ছাল, কান্ড, মূল, ঋতুস্রাব, গনোরিয়া, ফোঁড়ায় ব্যবহৃত হয়। ডাটার রস, মূলের চূর্ণ ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে দিনে ২বার ৩-৭ দিনে সেব্য।

বাসক: বাসক কাশি হাপানি, যক্ষা, বক্ষব্যাধি, আমাশয়, ম্যালেরিয়া, সর্দি হাঁপানি, যক্ষপিত্তনাশক, রক্ত পরিশোধন, ক্ষয়কাশ, অম্লপিত্ত, মুখের দুর্গন্ধে দারুণ কাজ করে। বাসকের ছাল, পাতা সিদ্ধকরে মধু বা মিছরির সাথে মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কালোমেঘ: সম্পূর্ণ গাছ ব্যবহৃত হয়। পাতার রস পেটেরপীড়া, জ্বর, অরুচি, আমাশয়, কুষ্ঠ বলবর্ধক স অন্যান্য সমস্যঅয় ব্যবহৃত হয়। কালোমেধের পাতার রস, মুথাচূর্ণ, সিদ্ধ করা পানির সাথে কাঁচা হলদ মিশিয়ে দিনে ২-৩বার করে ২ থেকে ৫ দিন পর্যন্থ সেব করলে উপকার পাওয়া যায়।

সর্পগন্ধা: শিকড় পাতা ও গাছের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন দাওয়াই হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রক্তচাপ, অনিদ্রা, মস্তিস্ক বিকৃতি, ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, আমাশয়, অনিদ্র, সর্পদংশনে মহাওেষুধ। সর্পগন্ধার মূল, ছালের গুড়া, কচি পাতার রস, মূলের রস ২-৩ চামচ দিনে ২-৩ ার ৫-৭ দিন পর্যন্ত সেব্য।

অর্শ্বগন্ধা: শ্বস রোগ, শেথরোগ, বাত, পিত্তরোগ, রিকেট রোগ, অনিদ্রা এসব রোগে উপকার পাওয়া যায়। অর্শ্বগন্ধার মূল চুর্ণ ক্বাত গাওয়া ঘি, মধু গরম পানি ও কাঁচা দধের সাথে -২-৩ চামচ দিনে ২-৩ বার ৫ থেকে ৭দিন পর্যন্ত সেবন করলে কাঙ্খিত উপকার পাওয়া যায়।

ঘৃতকুমারি/ঘৃতকাঞ্চন: পাতার নির্যাস সাধারণত ব্যবহার করা হয়। যে কোরন পোড়ায়, হাত পা জ্বালা পোড়া, মাথা ব্যথা, পেটের পীড়া, চোখের রোগ, জ্বর ও লোল রোগ, যকৃতের রোগ, রক্ত পিত্ত, পেটে বায়ূ এসব ক্ষেত্রে ঘৃতকাঞ্চন বেশ কাজ করে। ঘৃত কুমারির শাঁস, রস, প্রলেপ দিয়ে অথবা রস মিশরির সাথে সেবন করা যায়। দিনে ২-৩ বার করে ৩-৫ দিন সেব করলে উপকার পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে দরকার সমন্বিত কৃষি চাষ পদ্ধতি

কৃষিজমি কমলে নিঃসন্দেহে আমাদের ফসল উৎপাদন কম হবে। আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হবে ফসলি জমি যাতে না কমে। কিন্তু বাড়িঘর, কলকারখানা তৈরির জন্য কিছু জমি নষ্ট হবেই। তারপরও আমরা পরিকল্পিত উপায়ে এটি এ হার কমাতে পারি।

যেমন: সমন্বিত উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতে পারি। বাইরের দেশে অনেক আগে থেকে এ ধারণাটি কাজে লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশে বছরে এক শতাংশ হারে কমছে কৃষিজমি। বিপরীতে প্রতিবছর প্রায় ২২ লাখ নতুন মুখ জনসংখ্যার সঙ্গে যোগ হচ্ছে। এটি চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে দরকার সমন্বিত কৃষি চাষ পদ্ধতির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রকল্প ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি। আবার কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলেও সেগুলো কতখানি পরিবেশবান্ধব, সেগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে। বাংলাদেশের কৃষিতে এ ধরনের চিন্তাভাবনা একদম করা হয় না বলে জানান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. এহসানুল কবীর। এই গবেষক বলেন, কৃষি জমি কমলে নিঃসন্দেহে আমাদের ফসল উৎপাদন কম হবে। আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হবে ফসলি জমি যাতে না কমে। কিন্তু বাড়িঘর, কলকারখানা তৈরির জন্য কিছু জমি নষ্ট হবেই। তারপরও আমরা পরিকল্পিত উপায়ে এটি এ হার কমাতে পারি। যেমন: সমন্বিত উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতে পারি।

বাইরের দেশে অনেক আগে থেকে এ ধারণাটি কাজে লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো কম আয়তনের দেশেও বর্তমানে বিষয়টি ভাবার সময় এসেছে। কৃষিতে এখন অনেক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে তবে তা পরিবেশের জন্যও কিছুটা হুমকি হয়ে পড়বে যদি সেগুলো ঠিকমত ব্যবহার করতে না পারি। অনেক সময় মেশিনের জন্য যে অ্যানার্জি/ফুয়েল ব্যবহার করা হয় যেমন ব্যাটারি, ডিজেল মাটির সঙ্গে মিশে মাটির ক্ষতি করে, সেগুলো খেয়াল রাখতে হবে। কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কৃষকের পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। আর এ দায়িত্ব তাদেরই বেশি ভূমিকা পালন করা দরকার, যারা এ প্রযুক্তিগুলো মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। দেখা যায়, কৃষকের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের যথাযথ জ্ঞান না থাকায়, একটি যন্ত্র একটানা বেশি সময় ব্যবহার করার কারণে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা কমে যাচ্ছে। আবার একটি যন্ত্র কর্মদক্ষতা হারানোর পর ব্যবহার করা হলে সেটি তখন পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এগুলো আমাদের ভাবতে হবে। কোনো প্রযুক্তি কিংবা যন্ত্রপাতি মাঠপর্যায়ে ছড়ানো আগে আমাদের অবশ্যই বাজার পর্যালোচনা করতে হবে।

বাজারে অর্থাৎ কৃষকের কল্যাণে কাজে লাগবে এমন প্রযুক্তিই কেবল সম্প্রসারণ করতে হবে। নয়তো উল্টো সেটি আমাদের উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটাবে। অনেক সময় দেখা যায় মাটি পরীক্ষা না করেই কৃষক ফসল ফলাচ্ছেন। কিন্তু এটি কোনোভাবেই ঠিক না। কোন জমিতে কোন ফসল উপযোগী সেটিও আমরা মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে জেনে নিতে পারি। তখন সেই ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারি। অন্যদিকে জমিতে অধিক উৎপাদনের জন্য মাত্রারিক্ত সার ব্যবহার করায় মাটির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, একইসঙ্গে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। সার ব্যবহারের এ জ্ঞান না থাকার দরুণ প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ সারেরও অপচয় হচ্ছে বলেও জানান এই গবেষক। গবেষক আরো বলেন, একটা সময় আমরা খাদ্যশস্য উৎপাদনে পরিমাণের ওপর জোর দিয়েছিলাম, সেটি বলতে গেলে আমরা সফল হয়েছি। বতর্মানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূণর্তার দেশে পরিণত হয়েছে। এখন আমাদের খাদ্যমান অর্থাৎ নিরাপদ খাদ্যের দিকে অগ্রসর হতে হবে। ব্যবহার করতে হবে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নিজেই তৈরি করুন বনসাই

বকুল হাসান খান
বনসাই শখের ও আয়ের উপায় হতে পারে। আসুন আমরা বনসাইয়ের পদ্ধতি জেনে নেই ।

চারা তৈরি: সাধারণত বনসাইয়ের চারা নার্সারি থেকে সংগ্রহ করতে হয। বীজসংগ্রহ করেও চারা তৈরি করে নিতে পরেন। যেসব প্রজাতির বীজ পাওয়া যায় না তাদের বেলঅয় অঙ্গজ পদ্ধতি অবলম্বন করে চারা তৈরি করতে হয়। বীজ সংগ্রহ বীজ সংগ্রহ করেও চারা তৈরি করে নিতে পারেন। অর্থাৎ কাটিং , ঝড় বিভাজন, তেউড় বিভাজন, দাবাকলম, গুটিকলম, চোখ কলম প্রভৃতি পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে চারা তৈরি করে নিতে হয। টব বাছাই ক্যাাসকেটড বা উচু বনসাই ছাাড় সবরকম বসনসাইয়োর জন্য চাই চায়ের ফেটের মরেত কিংবা চোট বাটির মতো টব। টবের আকার হওয়া উচিত গাচের শাখা প্রশাকাসহ তার বিস্তারের চেয়ে কিছুটা ছোট। আকৃতি দৃষ্টিনন্দন হওয়া চাই। টবের আকৃতি সবসময় কৃত্তকার হবে। এমন ধরণ ঠিক নয়। আয়তাকার, বর্গাকার বা ত্রিভজাকারও হতে পারে।

টবের সারমাটি প্রয়োগ: বনসাই টবের জন্য সারমাটি তৈরি করা খুব সহজ। প্রধানত দোআশ মাটির সঙ্গে জৈবসারে মিশিয়ে বনসাইয়ের মাটি তৈরি করা হয় নিম্নোক্ত ভাবে-
দোঁআশ মাটি- পরিমাণ মতো, কম্পোস্ট- ১/২ কেজি হাড়গুড়ো ৫০ গ্রাম খড়িমাটি গুড়ো ৫০ গ্রাম ইট গুড়ো ১৩০ গ্রাম, কাঠের ছাই- ৭৫গ্রাম ।

চারা লাগানো: কাটিং গুটি কলম বা বীজের চারা বনসাইয়ে সারমাটি ভরে যখারীতি লাগাতে হবে। টবে জল নিষ্কাশরে ছিদ্রের ওপর ইটের কুচির পবির্তে এক টুকরো তারের জালি রেখে তা কিছু কাঁকর দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। তারপর যথারীতি সারমাটি ভরে চারা লাগাতে হবে।
বনসাই তৈরির ধাপঃ বনসাই তৈরির জন্য কান্ড শেকড়, শাখা প্রশাখা ও পাতার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট নয়। টবের ছোট গেছে প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা বয়োবৃদ্ধ গাছের সুঠাম ভঙ্গিমায় আনার চেষ্ট করতে হবে।

ঘাপসমূহ: কুড়ি ভাঙ্গা: চারাকে অতিমাত্রায় বোটে করে রাখতে ও ঝোপালো করতে কুড়ি বা পত্রমুকুল ভেঙে দিতে হয়। ক্ষুদে বনসাইয়ের বেলায় তা করতে হয় বা নিরস্তর। কারণ, সবসময় বাড়ন্ত ডগা মাত্র দুটি পাতা রেখে কুটে দিতে হবে। কুড়িভঙ্গার প্রধান উদ্দেশ্যহল নিচের পাতার কাক্ষিক মুকুলকে বাড়তে বাধ্য করা। কারণ ওগুলো বাড়লে গাছের শাখার সংখ্যা বেড়ে গাছ ঝোপলো হবে।

শাখা বাছাই: বনসাইকে যে মডেলের রূপ দেয়াহবে তা স্থর করে শাখা বাছাই করা দরকার। জোড়া পাতার কক্ষ তেকে কান্ডের দু’পাশে দুিিট শাখা গজায়। বাছাই পদ্দধতি অনুসারে এর একটিকে রাখতে হবে। নিচেরটি ডানদিকে রাখলে তার ওপরেরটি বামদিকে রাখতে হবে। আসলে বনসাউয়ের কান্ডের রুপ যাতে সামনের দিকে কো ন শাখা থাকবে না। থাকবে কেবল ডান ও বাম েিদকে এবং পেছনে কান্ডের মাথার দিকেও সর্বদিকেই শাখা থাকতে হবে।

শাখা ছাটাই: প্রায়শই বনসাইয়ের বয়স ৩-৪ বছর হলে তখন প্র“নিংয়ের প্রয়োজন হয়। বাছাই করা মোটা শাখাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটতে হয়। এর জন্য যে অস্ত্রটি ব্যবহার করা উচিত তার নাম কনকেভ কাটিং প্লায়ারস এর কাটার ধরন পৃথক। কাটার স্থানের চার দিকে থেকে ছাল বেড়ে তাাতাড়ি তা ঢেকে দেয়।

তার বাঁধা: কান্ড বা শাখাকে সুন্দরন সুঠাম ভঙ্গিমায় আনতে যেসব কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করা হয় তার ভাঁধা তাদের মধ্যে অন্যতম। সরল শাখায় তার জড়িয়ে আঁকা বাকা রূপ দেয়া যায়। কান্ডের জন্য মোটা তার ও শাখার জন্য সরু তার প্রয়াজন। সাধারণত এজন্য তামার তার ব্যবহার করা হয। অনেকে গ্যালভানাজিংয়ের তারও ব্যবহার করেন। মনে রাখা দরকার, তার জড়ানোর ফলে গাছ বেশ দুর্বল হয়ে পড়্ তোর খোলার পর গাছকে ছায়ায় বা হালকা ছায়ায় অন্তত সপ্তাহ খানেক রাখা দরকার। প্রয়োজন রোধে দু’তিনবার তার জড়ানো যেতে পারে, কিন্তু তা অন্তত ছয় মাস অন্তর হওয়া দরকার। বনসাই তৈরির জন্য উপযুক্ত প্রজাতির গাছ। বট, পাকু, হিজল, অশ্বথ, ডুমুর, ডারিম, কদম, বাগানবিরাস, বোতল ব্রাশ, নীম, জামরুল, তেতুল ইত্যাদি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com