আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

বগুড়ায় গুদামে চাল দিতে পারবেন না ৭৪৩ কলমালিক

বগুড়ায় চলতি আমন মৌসুমে ৭৪৩ জন চালকলের মালিককে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বোরো মৌসুমে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেও গুদামে চাল না দেওয়ায় ৩২২ জনকে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আর বোরো মৌসুমে চাল সরবরাহের চুক্তি না করায় আরও ৪২১ জনকে নিষিদ্ধ করা হয়।

চলতি আমন মৌসুমে বগুড়ায় সরকারি গুদামে চালকলমালিকদের কাছ থেকে ৪৮ হাজার ২৪১ মেট্রিক টন চাল এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ১১ হাজার ৭৯২ মেট্রিক টন আমন ধান কেনা হবে। গত রোববার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম সাইফুল ইসলাম দুপচাঁচিয়া উপজেলা খাদ্যগুদামে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের মধ্য থেকে লটারি করে এবার ১১ হাজার ৭৯২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। একজন কৃষক গুদামে সর্বোচ্চ ৬ মেট্রিক টন ধান দিতে পারবেন। এবার ১ কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা। বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে চুক্তিবদ্ধ চালকলমালিকদের কাছ থেকে ৪৮ হাজার ২৪১ মেট্রিক টন চাল কেনা হচ্ছে। ১ কেজি মোটা চাল সরবরাহের জন্য চালকলমালিকদের ৩৭ টাকা দেওয়া হবে। ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবেন কলের মালিকেরা। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুদামে ধান ও চাল সরবরাহ করা যাবে। এই সংগ্রহ অভিযানে ৭৪৩ জন কলমালিককে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২২ জন মালিকের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

একই সূত্রে আরও জানা যায়, বগুড়ায় ১ হাজার ৯৬০টি চালকল রয়েছে। গত বোরো মৌসুমে গুদামে চাল সরবরাহের জন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে দেড় হাজার জন হাস্কিং মিলমালিক ও ৫৬ জন অটোমেটিক চালকলের মালিক চুক্তিবদ্ধ হন। চালের বাজারমূল্য বেশি—এমন অজুহাতে গত মৌসুমে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেনি ৪২১ জন মালিক। গেল মৌসুমে বোরো চাল সংগ্রহ করার কথা ছিল ৭১ হাজার ৮৪৮ টন। এর মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার মেট্রিক টন। ৩৬ টাকা কেজি দরে সেদ্ধ চাল সরবরাহের জন্য ২৬ এপ্রিল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৩২২ জন মালিক চুক্তি করেও চাল সরবরাহ করেনি।

এগ্রোবিজ

নির্ভরতার কৃষিতে ছুটছে অর্থনীতির চাকা

কৃষিতে আশাতীত সাফল্যের দেশ বাংলাদেশ। দেশে লোকসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি কৃষিজমি বরং প্রতি বছর এক শতাংশ হারে কমেছে। এর পরও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বেড়েছে পুষ্টির নিরাপত্তাও। তাতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। বাংলাদেশের কৃষিকে মডেল হিসেবে অনুসরণ করছে বিশ্ব।

খাদ্যশস্য, সবজি, ফলসহ বিভিন্ন শস্যে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ । চাল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। স্বাধীনতার পর দেশে যে চাল উৎপাদন হতো এখন তার চেয়ে তিনগুণ বেশি উৎপাদন হয়। ওই সময় যেখানে প্রতি হেক্টরে চালের উৎপাদন ছিল দেড় টন, তা এখন চার টনেরও বেশি।

একইভাবে গমে উৎপাদন দ্বিগুণ আর ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ১০ গুণ। ২০২০ সালে গম উৎপাদন হয়েছে ১২ লাখ ৫০ হাজার টন, যা স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে পরিমাণে অর্ধেক ছিল। ভুট্টায় সর্বোচ্চ সফলতা এসেছে শেষ দশকে। ২০০৯ সালে ভুট্টার উৎপাদন ছিল সাড়ে সাত লাখ টন, যা ২০২০ সালে ৫৪ লাখ টন। আগামী ৫ বছরের মধ্যে শস্যটির উৎপাদন এক লাখ টনে উন্নীত করতে কাজ চলছে।

প্রধান খাদ্যশস্যের বাইরে নিবিড় চাষের মাধ্যমে দেশে সবজি উৎপাদনে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। স্বাধীনতার পর দেশে সবজির উৎপাদন বেড়েছে পাঁচগুণ। শস্যের জমি কমলেও গত এক দশকে সবজির আবাদি জমির পরিমাণ ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ আবাদি জমি বৃদ্ধির হার বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা (এফএও)।

এমন অবস্থায় গত বছর সবজি উৎপাদন বেড়ে ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ উদ্বৃত্ত এবং বিশ্বে সপ্তম। গত বছর আলু উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ৯ লাখ টন। এছাড়া এখন দেশে ৬০ ধরনের ও ২০০ জাতের সবজির মধ্যে বেশির ভাগের বাণিজ্যিক উৎপাদিন হচ্ছে। কয়েক দশক আগেও হাতেগোনা কিছু সবজির বাণিজ্যিক উৎপাদন হতো। পাশাপাশি সবজি রফতানি করেও মিলছে বৈদেশিক মুদ্রা। গত এক বছরে শুধু সবজি রফতানি থেকেই আয় বেড়েছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

বড় সফলতা এসছে ফল উৎপাদনে । দেশ মোট ফল উৎপাদনে বিশ্বে ২৮তম। কিন্তু মৌসুমি ফল উৎপাদনে গত বছর বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। এফএওর হিসাবে, ১৮ বছর ধরে বাংলাদেশে সাড়ে ১১ শতাংশ হারে ফল উৎপাদন বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চারটি ফলের মোট উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে।

কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয়, আমে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে বাংলাদেশ। অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, বছরে ১০ শতাংশ হারে ফল চাষের জমি বাড়ছে। এক দশকে দেশে আমের উৎপাদন দ্বিগুণ, পেয়ারা দ্বিগুণের বেশি, পেঁপে আড়াই গুণ এবং লিচু উৎপাদন ৫০ শতাংশ হারে বেড়েছে।

বড় সাফল্য রয়েছে পানীয় উৎপাদনে। এক সময় উৎপাদন থেকে চায়ের চাহিদা বাড়ায় আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছিল পণ্যটি। সে পরিস্থিতি কেটে এখন চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেড়েছে। শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালে ১৬৬ বছরের চা চাষের ইতিহাসে উৎপাদনেও রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ওই বছর উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি, যা তার আগের বছরের চেয়ে এক কোটি ৩৯ লাখ কেজি বেশি। লন্ডনভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল টি কমিটি’ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে নবম।

যে কারণে বড় সাফল্য

কৃষিতে অভাবনীয় এ সাফল্যের পেছনে উন্নত প্রযুক্তি, বীজ, সার ও যন্ত্রের ব্যবহার প্রধান উজ্জীবক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া বিশেষ অবদান রাখছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। দেশে বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় প্রচুর উচ্চ ফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি ও পরিবেশসহিষ্ণু নতুন জাত উদ্ভাবন হয়েছে।

এর মধ্যে ধানের জোগানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এ সংস্থার বিজ্ঞানীদের হাত ধরে কৃষকরা ১০০টি নতুন জাতের ধান পেয়েছেন। ধানের সিংহভাগের জোগান আসছে ব্রি উদ্ভাবিত জাতগুলো থেকে।

ছয়টি হাইব্রিডসহ ৯৪টি আধুনিক ধানের জাত উদ্ভাবন কৃষিতে অন্যতম সাফল্য এনেছে। ব্রির এসব জাতের মধ্যে ১০টি লবণাক্ততা সহনশীল, রোপা আমনের খরা সহনশীল তিনটি, জলাবদ্ধতা সহনশীল চারটি, পুষ্টিসমৃদ্ধ পাঁচটি এবং রফতানিযোগ্য বিশেষ চারটি জাতের ধান রয়েছে।



এদিকে অন্যান্য ফসলের জাত উদ্ভাবনে বড় অবদান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি)। এ প্রতিষ্ঠান দানাশস্য, কন্দাল, ডাল, তৈলবীজ, সবজি, ফল, মসলা, ফুল প্রভৃতির উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করে আসছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বারি বিভিন্ন ফসলের ৫৮৭টি উচ্চ ফলনশীল জাত ও ৫৫১টি ফসল উৎপাদন প্রযুক্তিসহ ৯০০টিরও বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

হিলি স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

লেখক

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বুধবার ৪৯তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে  এই স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় বন্দরের সকল কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে বন্দরের বাংলাহিলি কাষ্টমস সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন জানান, সারাদেশে ৪৯তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সরকারি ছুটি থাকায় বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে সকাল থেকে বন্দরটি দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, বন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্টেও পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ আছে। বৃহস্পতিবার থেকে ফের সকল কার্যক্রম শুরু হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দাম স্থিতিশীল রাখতে চালের আমদানি শুল্ক কমালো সরকার

লেখক

বেসরকারিভাবে চালের আমদানি শুল্ক ৬২.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সরকারের এ পদক্ষেপ। রোববার সকালে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বৈধ আমদানিকারকরা বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করবেন। একটা নীতিমালার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে চাল আমদানির অনুমতি দেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়। নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানান।

মন্ত্রী বলেন, গত ২৪ ডিসেম্বর বেসরকারিভাবে চাল আমদানি শুল্ক কমানোর অনুমতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১০ জানুয়ারি মধ্যে আবেদন জমা নিয়ে এরপর যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কাকে কতটুকু আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকারিভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি ও জিটুজি পদ্ধতিতে চার লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হচ্ছে।

খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক আজিজ মোল্লাসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

লাভ মিল মালিকের, ক্ষতি হবে কৃষকের

আমনের ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ানোর মূল সুবিধাভোগী মিল মালিকরা। এখন কম শুল্কে আমদানি করা চালের মুনাফার একটি বড় অংশ তারাই পাবেন। এদিকে মৌসুমের শুরুতে এবার কৃষকরা ভালো দাম পেলেও বেসরকারি আমদানি শুরু হলে ধানের দাম কমে যেতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষক। অন্যদিকে ভর মৌসুমের সময়ে চড়া দামে চাল কিনছেন ক্রেতারা। কম শুল্কে চাল আমদানি হলে বাজারে দাম কমার কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন আড়তদার ব্যবসায়ীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমনের ঘাটতি মেটাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল আগেভাগে সরকার আমদানি করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এতদিনে সরকারি গুদামে মজুদ বেড়ে যেত। চালের দাম নিয়ে কারসাজির সুযোগ পেতেন না মিল মালিকরা। মিলগুলো চড়া দামে চাল বিক্রি করেছে। অথচ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে চাল দেয়নি। এখন আবার তারাই আমদানির সুযোগ নিয়ে অতি মুনাফা করবে।

বর্তমানে বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়, যা চলতি মাসের শুরুতে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা ছিল। মাঝারি চাল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা ছিল। এখন তা বেড়ে ৫২ থেকে ৫৬ টাকায় উঠেছে। আর সরু চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা ছিল ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা। চালের দাম কমাতে সরকার আমদানি শুল্ক্ক সাড়ে ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। গত রোববার খাদ্যমন্ত্রী সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্য সচিব গোলাম রহমান সমকালকে বলেন, এতদিন মিলগুলো অতিরিক্ত মূল্য নিয়েছে। সরকারের মজুদ কম থাকার এ সুযোগ নিয়েছে তারা। সরকার আগে চাল আমদানি করলে এ সুযোগ পেতেন না মিল মালিকরা। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্ক্ক কমানোর সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে। নিয়ন্ত্রিতভাবে দ্রুত আমদানি করতে হবে। পাশাপাশি যারা বাজারে কারসাজি করেছেন, তাদের আমদানির সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না। পরিকল্পিতভাবে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু আমদানি করতে হবে। তা না হলে আবারও ঠকবেন কৃষকরা। অতিরিক্ত আমদানি হলে কৃষকরা ধানের দাম পাবেন না।

বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. এম আসাদুজ্জামান সমকালকে বলেন, মৌসুমের সময়ে এবার বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করতে হচ্ছে। আগেভাগে সরকার তা আনলে এমন পরিস্থিতি হতো না। এখন সুযোগ নিয়ে মিল মালিকরা চালের আমদানি করবেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষক। গতবার কৃষক দাম পাননি। এবার ভালো দাম পাচ্ছেন। এখন মিলগুলো চাল আমদানি করলে কৃষকরা দাম পাবেন না। এতদিন মিল মালিকরা বেশি দামে চাল বিক্রি করছেন। সরকারকে চাল দেননি। এখন তারাই আমদানি করবেন। ফলে দু’দিক থেকে চালকল মালিকরা লাভবান হবেন।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমদানির সিদ্ধান্ত সরকারকে আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। তাহলে ভর মৌসুমে চালের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ পেতেন না ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, করোনা ও বন্যার কারণে সরকার বিতরণ বাড়িয়েছে। এতে মজুদ কমেছে। অন্যদিকে মিলগুলো সরকারকে খুব কম চাল সরবরাহ করেছে।

এতে সরকারের মজুদ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাজারে যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করতে মিলগুলোর ওপর তদারকি জোরদার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী মইন উদ্দিন মানিক ও মো. ইউনুস মিয়া সমকালকে বলেন, কম শুল্ক্কে আমদানি হলেও চালের দাম কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। শুল্ক্ক কমানোর ঘোষণার পরও মিলগুলোর দাম কমানোর কোনো লক্ষণ নেই। এখনও মিল থেকে আগের মতো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। তার মতে, বিশ্ববাজারে চালের দাম বেশি। আমদানি করা চাল ২৫ শতাংশ শুল্ক্ক দিয়ে আনার পরে খুচরায় বর্তমান দামই থাকতে পারে। তখন দেশি চালের দাম আরও বাড়াবেন মিল মালিকরা। এতে শুল্ক্ক কমানোর সুবিধা মিলাররা নেবেন। অন্যদিকে আমদানি বেশি হলে কৃষকরা আবার ধানের দাম পাবেন না।

বর্তমানে সারাদেশে ৫৫৩টি বড় স্বয়ংক্রিয় চালকল রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে তিন শতাধিক মিল ভালোভাবে চালু আছে। এই চালকল মালিকদের মধ্যে অনেকেই আবার আমদানিকারক। বিশেষ করে কুষ্টিয়া, পাবনা, যশোর, বগুড়া, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নওগাঁর মিলগুলো আমদানি করতে পারে। বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কেএম লায়েক আলী সমকালকে বলেন, মিল মালিকদের মধ্যে আমদানিকারক আছেন। তবে আমদানির জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে অনুমতি নিতে হবে। কারা আমদানির অনুমতি পাবেন, তা এখন বলা যাচ্ছে না। এ ছাড়া আমদানির চাল আসতে সময় লাগবে। এতে আগামী মৌসুমে কৃষকের বোরোর দামে ক্ষতি হতে পারে।

অনিশ্চয়তার সংগ্রহ অভিযান: দেশে বছরে সাড়ে তিন কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদন হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখ টন আসে আমন থেকে। আমন মৌসুমে খাদ্য মন্ত্রণালয় দুই লাখ টন ধান ও সাড়ে ছয় লাখ টন চাল কেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে। গত ৭ নভেম্বর থেকে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬ হাজার ৩২৮ টন চাল ও ৩৫১ টন ধান কিনেছে খাদ্য অধিদপ্তর। মাত্র ১ লাখ ২৮ হাজার টন চাল সংগ্রহের জন্য মিলগুলো চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী চাল সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি গুদামে চালের মজুদ গত বছরের চেয়ে অর্ধেকে নেমে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টনে ঠেকেছে।

ওএমএসের আওতা বাড়ছে: খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ সমকালকে বলেন, চলতি বছরে করোনার কারণে চাল বিতরণ বেশি হয়েছে। এখন মৌসুমের সময়ে মজুদ বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে সংগ্রহ চলছে। এবার ধানের দাম বেশি থাকায় স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ কম হলে আমদানির মাধ্যমে মজুদ বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ লাখ টন চাল আমদানি প্রক্রিয়াধীন। আন্তর্জাতিক দরপত্র দিয়ে এ চাল আমদানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণ পরিবারের চালের চাহিদা মেটাতে ঢাকায় খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস) চলছে। চালের দাম বৃদ্ধির কারণে চট্টগ্রামসহ আরও তিন জেলা শহরে ওএমএস দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে ওই তিন জেলায় ওএমএস চালু করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

৫০ হাজার টন গম আমদানি করছে সরকার

খাদ্যের মজুদ বাড়াতে চালের পর এবার গম আমদানি করছে সরকার। এজন্য খাদ্য অধিদপ্তরের ৫০ হাজার টন গম আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই সঙ্গে বিপিসির চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য ৩০ হাজার টন ডিজেল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই দুই প্রস্তাবসহ মোট ৫টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। 

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফাকামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুটি সভায় উত্থাপিত সব প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ মোস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘খাদ্য অধিদপ্তরকে চলতি অর্থবছরে সিঙ্গাপুরের এমএস এগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৩৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। প্রতি টন গমের দাম পড়ছে ৩২৭ ডলার। ডলারের বিনিময় হার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা ধরে প্রতি কেজি গমের দাম হয় ২৭ টাকা ৭২ পয়সা। 

এছাড়া আগামী ছয় মাসের জন্য ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিডেট থেকে সরকারি পর্যায়ে ১০৭ কোটি ৭২ লাখ টাকায় ৩০ হাজার টন ডিজেল আমদানিরও অনুমোদন দেওয়া হয়। নুমালিগড় থেকে বছরে ৬০ হাজার টন ডিজেল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান আবু সালেহ মোস্তফা কামাল।

প্রতি লিটার ডিজেলের আমদানি ব্যয় পড়বে ৩৫ টাকা ৯০ পয়সা। বর্তমানে দেশের বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ৬৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ‘পল্লী জনপদ নির্মাণ’ প্রকল্পের পূর্তকাজের জন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির ১৫৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার দরপ্রস্তাব ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীন ন্যাশনাল হাউজ হোল্ড ডেটাবেইজ এনএইচডি প্রকল্পের পরামর্শক সেবার জন্য জেরন ইন্ডিয়া, আইওই বাংলাদেশ ও জার্মানির টিওপি ইমেজ সিস্টেমের জয়েন্ট ভেঞ্জারের কাছ থেকে সেবা কেনার ভেরিয়েশন ব্যয় হিসেবে অতিরিক্ত ১৩ কোটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। 

সচিবালয়ের ২০ তলা নতুন অফিস ভবন নির্মাণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের কাজ ১৯৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিডেট, ন্যামনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স ও বঙ্গ বিল্ডার্সের জয়েন্ট ভেঞ্চারকে দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় গ্রিসের এথেন্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেন্টেনিয়াল স্কুল স্থাপনে গ্রিসের স্থানীয় আইন অনুসরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান সালেহ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com