আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

মাদ্রাসায় ধর্ষণ, ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলা আর সুদানে শিশু নির্যাতন নিয়ে প্রশ্ন

নারী পণ্য নয়: ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ।
নারী পণ্য নয়: ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ।

বাংলাদেশে ধর্ষণ সহ নারীর প্রতি বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা নিয়ে খবর ক্রমাগত বেরিয়ে আসছে, যা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। উদ্বেগ বাড়ছে বিভিন্ন মাদ্রাসায় ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়নের খবর নিয়ে।

আজ শুরু করছি বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়ন নিয়ে একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে বিলকিস আক্তার:

”অপরাধীরা সব সময় অপরাধের সুযোগ খোঁজে, আর এসকল ঘটনা সাধারণত অল্প ছাত্র-ছাত্রী পড়ে এমন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে বেশি হয়। কারণ এগুলোর দায়িত্বে তেমন যোগ্যতা সম্পন্ন কেউ থাকেন না, এখানে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সুযোগকে তারা ব্যবহার করেন। তাই বর্তমান সরকারের উচিৎ যোগ্য মানুষ ছাড়া কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যাতে অনুমোদন দেওয়া না হয়।

”আলেমদের সমন্বয়ে একটা বোর্ড গঠন করে দিলে এ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে বলে একজন নারী হিসেবে আমি মনে করছি। অপরাধ যে কেউ করুক না কেন, যদি সমাজে কঠোর শাস্তির বিধান থাকতো তাহলে কেউই হয়তো সহজে মেয়েদের দিকে খারাপ নজরে তাকাবার সাহস পেত না।”

ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের কাছে ধর্ষণ-বিরোধী বিক্ষোভ।
ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের কাছে ধর্ষণ-বিরোধী বিক্ষোভ।

কঠোর শাস্তির বিধান কিন্তু বাংলাদেশের আইনে সব সময়ে ছিল মিস আক্তার, এখন সেটা আরো কঠোর করা হয়েছে। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, পুলিশ কি দক্ষতার সাথে এবং নির্ভয়ে যৌন অপরাধের তদন্ত করে দোষীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবে? এই মুহূর্তে আমাদের সামনে যা উদাহরণ আছে তা দেখে উত্তরটা ইতিবাচক হবার সম্ভাবনা দেখছি না। কোন কমিটি গঠন করে কাজ হবে বলেও আমার মনে হয় না। আগে আইন এবং বিচার প্রক্রিয়া সংস্কার করা উচিত যাতে নির্যাতিত নারী অভিযোগ করতে এগিয়ে আসার ভরসা পান এবং অপরাধীকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা যায়।

এ বিষয়ে বিবিসির করণীয় আছে বলে মনে করেন ঢাকার বনশ্রী থেকে এমদাদুল হক বাদশা:

”ইদানীং বাংলাদেশে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে গেছে –এমনকি পবিত্র স্থান মসজিদ-মাদ্রাসাতেও ছোট ছোট মেয়েরা ধর্ষিত হচ্ছে। এর সমাধান আসলে কীভাবে হতে পারে — এই ব্যাপারে বিবিসি একটি সমীক্ষা চালাতে পারে।”

আমি আপনার সাথে একমত মি. হক, ধর্ষণের বিষয়টা বাংলাদেশে এমন এক পর্যায়ে গেছে যে, তাকে আর অন্য দশটা অপরাধের সাথে তুলনা করা যায় না। ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন নিয়ে বড় মাপের কাজ করার পরিকল্পনা আমরা করছি, যেখানে ধর্ষণের কারণ, সামাজিক দায়িত্ব এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে।

সুদানে খালওয়া নামক ইসলামী স্কুলগুলোতে শিশু নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে বিবিসি
সুদানে খালওয়া নামক ইসলামী স্কুলগুলোতে শিশু নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে বিবিসি

গত সোমবার বিবিসির নিউজ আরবি বিভাগের এক অনুসন্ধানী ভিডিও আমরা প্রকাশ করি, যেখানে দেখা যায় সুদানের ইসলামী স্কুলগুলোয় শিশুদের কীভাবে পায়ে শেকল বেঁধে নিয়মিত নির্যাতন, নিপীড়ন করা হয়। সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

”আমার মতে, শুধু মাদ্রাসা বা ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র নয়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা যে জায়গাই হোক, এটা উদ্বেগজনক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা চরম ঘৃণিত অপরাধ। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, স্থান কাল পাত্র নয়, অপরাধীকে অপরাধের দৃষ্টিতে বিবেচনা করতে হবে। অপরাধীকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র বা সমাজের দায়িত্ব। কিন্তু আমি লক্ষ্য করেছি, বিবিসি মাদ্রাসা বা ইসলামী শিক্ষা নিয়ে যেভাবে কোন ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে নেতিবাচকভাবে প্রচার করে, তা অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে করে না। এটা কী এক ধরণের বৈষম্য নয়?

”তাছাড়া, বিবিসি গোপন ক্যামেরা বসিয়ে এই ধরনের ২৩টি স্কুলে শিশুদের মারধর ও নির্যাতনের ছবি তুলেছে। এ ধরণের কাজ তো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হওয়ার কথা এবং সেটা প্রচারের দায়িত্ব সংবাদমাধ্যমের কিন্তু বিবিসির মতো একটি সংবাদ মাধ্যম কী গোপন ক্যামেরা বসিয়ে এ ধরণের গোপন ভিডিও করতে পারে?”

যে কোন মিডিয়া গোপনে ভিডিও রেকর্ডিং করতে পারে মি. রহমান। তবে বিবিসিতে গোপন রেকর্ডিং এর বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রথমত, কোনো বিভাগ গোপন রেকর্ডিং করতে চাইলে বিবিসির এডিটোরিয়াল পলিসি-র কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি শুধু তখনি দেয়া হয়, যখন ঘটনা জনস্বার্থে প্রকাশ করা জরুরি বলে ধারণা করা হয় এবং গোপন রেকর্ডিং ছাড়া ঘটনার প্রমাণ সংগ্রহ করা অসম্ভব বলে মনে হয়।

বিবিসির আরবি বিভাগ সেভাবেই কাজটি করেছে, এবং শিশুদের ওপর এই নির্মম অত্যাচারের ঘটনা প্রকাশ করা যে জনস্বার্থে জরুরি ছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর আপনার বক্তব্য, যে বিবিসি অন্য ধর্মের বেলায় এরকম অনুসন্ধান করে না, সেটা আমি গ্রহণ করতে পারছি না। বিবিসি বছরের পর বছর ধরে ক্রিশ্চিয়ান, বিশেষ করে রোমান ক্যাথলিক যাজকদের শিশু নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ করে আসছে।

ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত স্যামুয়েল প্যাটি জনপ্রিয় একজন শিক্ষক ছিলেন
ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত স্যামুয়েল প্যাটি জনপ্রিয় একজন শিক্ষক ছিলেন

ধর্মের বিষয়েই যখন আছি, তখন ধর্ম সংক্রান্ত আরেকটি চিঠি নেয়া যাক। ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ লিখেছেন একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং হত্যাকারীর পরিচয় নিয়ে:

”ফ্রান্সে এক শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করার একটি ঘটনাকে ‘ইসলামী সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বর্ণনা করেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ। আমার প্রশ্ন হল, ঠিক কীভাবে এটাকে “ইসলামী সন্ত্রাসী হামলা” হিসাবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে? এখনও তো হত্যাকারী সম্পর্কে কিছুই জানেন না ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তাছাড়া যদিও বা কোন মুসলিম নামধারী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকেন, তাহলেই কি এটা ইসলামী সন্ত্রাসী হামলা?”

ফরাসী পুলিশ হত্যাকারী সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পেরেছে মি. সাঈদ। হত্যাকারী মুসলিম হলেই সেটা ইসলামী সন্ত্রাস হয় না, সে কথা ঠিক। কিন্তু একই সাথে, গত কয়েক বছরে ফ্রান্সে ইসলামের কথা বলে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। ফরাসী পুলিশ এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোন হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছে না। তারা মনে করছে হত্যাকারী ইসলামপন্থী রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ডটি করেছে। এই ঘটনায় উস্কানি দেবার অভিযোগ স্থানীয় একটি মদজিদ ছয় মাসের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেজন্য ফরাসী রাষ্ট্রপতি এই ঘটনাকে ইসলামী সন্ত্রাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।

হতাশা: করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর এরকম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
হতাশা: করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর এরকম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

বর্তমান সময়ের মূল্যবোধ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে লিখেছেন বাগেরহাটের কচুয়া থেকে শিবাজী মণ্ডল:

”বর্তমান সময়ের সর্বাধিক আলোচিত সামাজিক বিষয়বস্তুর মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে ধর্ষণ, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতি প্রভৃতি। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিশেষ অবদান, সাফল্য কিংবা অনুপ্রেরণামূলক অর্জনের বিষয়ে শেষ কবে আলোচনা শুনেছি বা আলোচনা করেছি মনে করতে গিয়ে একটু হোঁচটই খেলাম। উন্নতির খরস্রোতে গা ভাসিয়ে যদি আমাদের চরিত্র আর নৈতিকতা ডুবেই গেল, তবে কেবলমাত্র পোশাক আর অবকাঠামোগত উন্নতিকে সঙ্গী করে ঠিক কতটা পথ পাড়ি দিতে পারব জানি না। পারিপার্শ্বিক ভাবে শুদ্ধ চিন্তা, শুদ্ধ বুদ্ধি আর শুদ্ধ অনুপ্রেরণার জগতটা দিন দিন যেন ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে।”

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. মণ্ডল, আজ-কাল আলোচনায় শুধু আছে মৃত্যু, সেটা করোনাভাইরাসেই হোক আর খুনই হোক। আর আছে ধর্ষণ সহ নারীর ওপর নানা রকমের সহিংসতা। তবে পুরোপুরি হতাশ হবার কোন কারণ আমি দেখছি না। এই বিশ্বে আরো অনেক খারাপ দিন গেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে, মহামারিতে মারা গেছে, কোটি কোটি মানুষ যুদ্ধ-বিগ্রহে প্রাণ দিয়েছেন। তারপরও শান্তি এসেছে, মানুষের শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক উন্নতি হয়েছে। আমরা তো আশা করতেই পারি যে, এক সময় ধর্ষণ, খুন, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে দেশ বেরিয়ে আসবে?

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি ভোট কেন্দ্রে ভোটারের জন্য অপেক্ষা।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি ভোট কেন্দ্রে ভোটারের জন্য অপেক্ষা।

বাংলাদেশে হতাশার আরেকটি লক্ষণ দেখা যাচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থার বিপর্যয়ে। গত মঙ্গলবার উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে শ’দুয়েক আসনে যে নির্বাচন হয়, তাতে ভোটার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। সে বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

”আমার মতে, বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে সারা পৃথিবীর সব বিশ্লেষক বিশ্লেষণ করলেও হয়তো কোনো সমাধান বের করতে পারবেন বলে মনে হয় না! কারণ আমরা সব সময়ই পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে পছন্দ করি। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে আজ অবধি কোন নির্বাচন বৈধ হয়েছে কি-না আমার জানা নেই।

রাতের অন্ধকারে নির্বাচন, ব্যালট বাক্স ভর্তি, ভিন্ন মতাবলম্বীদের কঠোর হস্তে দমন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয়করণের ফলে উৎসব মুখর পরিবেশটা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন চাইলেই কেউ আর প্রার্থী হতে পারেন না, দলীয় ক্যাডারদের ভয়ে মানুষ ভোট কেন্দ্রে যেতে উৎসাহী হচ্ছেন না। ক্ষমতাসীনদের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুফল আমরা পেয়েছি ইউনিয়ন পরিষদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান-মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে।”

শুধু স্থানীয় নির্বাচনই নয় মি. ইসলাম, সম্প্রতি জাতীয় সংসদের কয়েকটি আসনে উপনির্বাচনেও ভোটারদের অনাগ্রহ দেখা গিয়েছে। সব দেখে মনে হচ্ছে সাধারণ মানুষ গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্য এটা যে একটা বড় বিপর্যয়, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

অতি বৃষ্টির কারণে এবারে আলুর ফলন হয়েছে কম।
অতি বৃষ্টির কারণে এবারে আলুর ফলন হয়েছে কম।

বাংলাদেশে হঠাৎ করে আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বিচলিত হয়েছেন। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

”বাংলাদেশে বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী দরিদ্র, আয়ের সিংহভাগ খাদ্যের জন্যে ব্যয় করতে হয়। তাই তাদের প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় আলুর ব্যবহার হয়ে থাকে । বাজারে তরি তরকারির দাম বেশি বলে অনেক দরিদ্র মানুষ আলু ভর্তা, আলু ভাজা, খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে বেশির ভাগ সময় ক্ষুধা নিবারণ করে । সরকার কর্তৃক আলুর দাম ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, কিন্তু বাজারে তা ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। সরকার বলছে, আলুর কোন ঘাটতি নেই আর ব্যবসায়ীরা বলছে মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আলুর চাহিদার কারণে আলুর ঘাটতি দেখা দিয়েছে । এখন যে যার দায় সেরে যাচ্ছেন।”

আমরা জানি মি. ইসলাম, বাংলাদেশে বহু বছর ধরেই আলুকে চালের বিকল্প হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু মানুষ আলুকে একটি স্বল্প দামের সবজি হিসেবেই দেখেছে। এখন আলুর দাম নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেলে অনেক পরিবারই খাদ্য সঙ্কটে পড়তে পারেন। সরকার বাজার দর নির্ধারণ করে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা তদারকি করার মত লোকবল বা অবকাঠামো তাদের আদৌ আছে কি?

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি আশ্রয়ণ ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি আশ্রয়ণ প্রকল্প।প্রকল্প।
ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি আশ্রয়ণ প্রকল্প।

আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহতে প্রচারিত প্রতিবেদন সম্পর্কে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

”বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রবাহে আকবর হোসেনএর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন দেখলাম ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়ে। বাংলাদেশ সরকার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে মূলত রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য। কিন্তু রোহিঙ্গারা যেমন ভাসানচরে যেতে রাজি নয় তেমনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের বিরোধিতা করে চলেছে।

আকবর হোসেন এর এই প্রতিবেদন দেখে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করেছে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পটিকে নিরাপদ করে তুলতে। ভবন গুলি নির্মাণের ক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের দিকটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলি চাইছে না রোহিঙ্গারা ভাসানচরে পুনর্বাসিত হোক। তাহলে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ কেন নিচ্ছে না?”

ভাসানচর থেকে আকবর হোসেন রিপোর্ট করছেন।
ভাসানচর থেকে আকবর হোসেন রিপোর্ট করছেন।

বলতে গেলে কোন রোহিঙ্গাই ভাসানচরে যেতে চাইছে না মি. সরদার। ওখানে শ’তিনেক শরণার্থীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিন্তু তারাও সেখানে থাকতে চাইছে না। ভাসানচর যতই নিরাপদ হোক না কেন, সাগরের মাঝে ছোট নিষ্প্রাণ একটি দ্বীপে থাকাটা তাদের জন্য কারাগারের সমতুল্য। সেখানে তারা নি:সঙ্গ হয়ে পড়বে, মূল শরণার্থী সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে বহুদূর চলে যাবে।

আমার মনে হয় আন্তর্জাতিক সংগঠন গুলি চায় না যে রোহিঙ্গাদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে ভাসানচরে পাঠানো হোক। আর তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারটা কোন আন্তর্জাতিক সংগঠনের ওপর নির্ভর করে না, কারণ প্রত্যাবর্তনের চাবি-কাঠি মিয়ানমার সরকারের হাতে।

এ'বছরের এমবিবিএস পরীক্ষার্থীরা সেশন জট নিয়ে শঙ্কিত।
এ’বছরের এমবিবিএস পরীক্ষার্থীরা সেশন জট নিয়ে শঙ্কিত।

বাংলাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা না নিয়ে পরীক্ষার্থীদের পাস করে দেবার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এখনো থেমে যায়নি। এরই মধ্যে মেডিকেল স্টুডেন্টস, অর্থাৎ এমবিবিএস পরীক্ষার্থীরা একই ধরণের অটো পাসের কথা বলছেন। তাদের অনেকেই একটি অভিন্ন চিঠি পাঠিয়েছেন, যেমন প্রজ্ঞা চক্রবর্তী, মাহবুবা খানম এবং তাসনিম আনিকা:

”আমরা মেডিকেল শিক্ষার্থীরা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় দিন গুনছি। ইতোমধ্যে আমরা ১ম, ২য়, ৩য় পেশাগত পরীক্ষার শিক্ষার্থীরা ২০২০ সালের মে মাসের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়ে সাত মাস পিছেয়ে গিয়েছি । যেখানে আমাদের ২০২১ সালের মে মাসে ৩য় পেশাগত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা সেখানে আমরা এখনো ২য় পেশাগত পরীক্ষাই দিতে পারিনি। এখন যদি ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যেও পরীক্ষার তারিখ ফেলা হয়, তাও আমরা পুরো এক বছরের মত পিছিয়ে যাচ্ছি। যার ফলে আমরা ধেয়ে চলেছি এক ভয়াবহ সেশন জটের দিকে।

”আপনারা জানেন যে, করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ ডিসেম্বর জানুয়ারি নাগাদ সবচেয়ে প্রকট হবে। এমতাবস্থায় যদি পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবাও হয়, তা কতটা যুক্তিযুক্ত? আর পরীক্ষা যদি করোনার তীব্র ঝুঁকির মধ্যেই দিতে হয়, তাহলে এই সিদ্ধান্ত সাত মাস আগেই নেয়া দরকার ছিল নয় কি?

”আমরা এটাও দেখেছি যে আমাদের প্রতিবেশী দেশ আরো অনেক আগেই এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশনের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে ৷ সম্প্রতি কেমব্রিজেও অটো প্রমোশন দিয়ে মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপে উন্নীত করা হয়েছে। তাহলে আমরা কেন নয়?”

অটো প্রমোশন যখন এক গ্রুপকে দেয়া হয়, তখন অন্যান্য পরীক্ষার্থীরাও সেটা চাইবে। এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবার সময় সরকার নিশ্চয়ই এমবিবিএস পরীক্ষার্থীদের কথাও ভেবেছে? তবে সরকার হয়তো এইচএসসি আর এমবিবিএস কে একই কাতারে ফেলতে চাইছে না। দুটো ভিন্ন কুয়ালিফিকেশন, তাদের মর্যাদা ভিন্ন এবং পেশা জগতে তাদের গুরুত্বর আকাশ পাতাল তফাৎ আছে। দেখা যাক, সরকার কী পদ্ধতি বের করে।

পুরষ্কার বিজয়ী পাঁচজন ডাক্তার, মাঝে মরিস হিলেম্যান (বাঁ দিক থেকে তৃতীয়)।
পুরষ্কার বিজয়ী পাঁচজন ডাক্তার, মাঝে মরিস হিলেম্যান (বাঁ দিক থেকে তৃতীয়)।

পরের চিঠি লিখেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর থেকে অণুতম বণিক, যিনি পেশায় একজন ডাক্তার:

”রবিবার আপনাদের প্রচারিত ইতিহাসের সাক্ষীতে ড. মরিস হিলেম্যান-এর উপর প্রতিবেদন শুনে আপ্লুত হলাম। আমার সন্তানকে বললাম মানুষের জন্ম কতখানি মহান হলে তাঁর মৃত্যুর ১০০ বছর পরেও মানুষ তাঁকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে। আজকে জীবিত প্রতিটি শিশু ওঁনার কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ এই মহান মানুষটির জন্যই ভয়ংকর এবং জীবন সংহারক জীবাণুর কাছ থেকে আমাদের সন্তানেরা, সেই সাথে আমরা নিজেরাও লড়াই করতে শিখেছি এবং প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছি। উনি জীবিত থাকলে হয়ত অতি দ্রুতই কোভিড-১৯ এর টিকা আবিষ্কার করে ফেলতেন।

”আপনাদের হয়তো খুব বেশি সময় ব্যয় হত না যদি ওঁনার আবিষ্কার করা টিকাগুলির নাম একটুখানি বর্ণনা করতেন। সবাই আমরা ওঁনার আবিষ্কার করা টিকার নাম শুনে আরও বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারতাম।”

ড. মরিস হিলেম্যানের আবিষ্কার করা সব টিকার নাম বলা সম্ভব না মি. বনিক, কারণ তিনি ৪০টিরও বেশি ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করেছিলেন। তবে যে সব রোগের টিকা তিনি আবিষ্কার করেছিলেন, তার মধ্যে রয়েছে হাম, মাম্পস, গুটি বসন্ত, মেনিনজাইটিস, হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস বি এবং নিউমোনিয়া।

তার কেটে এভাবে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।
তার কেটে এভাবে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।

পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

”কেবল টিভি নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের তার অপসারণ করা এখন সময়ের দায়িত্ব। আমরা সাধারণ নাগরিকরাও চাই ঢাকার এই জঞ্জাল অপসারিত হোক। কিন্তু, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন গ্রাহকদের/নাগরিকদের কথা চিন্তা না করেই হঠাৎ করে তার কাটা শুরু করে দিয়েছিল, যাতে গ্রাহকদের অনেক ভোগান্তি এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

নেটওয়ার্ক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার বলার পরও যখন সিটি কর্পোরেশনের আদেশ মানছিলোনা তখন গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের দিকটি হাতে রেখে তার অপসারণ অভিযানে নামতে হতো। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলো তার অপসারণ নিয়ে ইঁদুর-বিড়াল খেলা খেলছে। গ্রাহকরা নিরবিছিন্ন নেটওয়ার্ক সেবা না পেলেও চার্জ লাগছেই আগের মতোই।”

তার কি হঠাৎ করেই কাটা হয়েছে মি. শামীম উদ্দিন শ্যামল? আমি তো জানতাম কয়েক মাস ধরেই সিটি কর্পোরেশন বলে আসছে ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো তার না সরালে সেগুলো কেটে দেয়া হবে। তবে এ’কথা ঠিক যে, ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর গাফিলতির কারণে সাধারণ গ্রাহক না পাচ্ছে সেবা, না পাচ্ছে কোন ক্ষতিপূরণ। তবে ক্ষতিপূরণ কে দেবে সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে।

এবারে আমাদের ফোন-ইন নিয়ে একটি অভিযোগ করে লিখেছেন যশোরের মনিরামপুর থেকে জাহাঙ্গীর আলম:

”বিবিসি বাংলার একটি চমৎকার উদ্যোগ হল ফোন ইন অনুষ্ঠান। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে ইদানীং অনুষ্ঠানে মহিলাদের প্রাধান্য দেওয়ার কারণে অনুষ্ঠানের মূল তাৎপর্য নষ্ট হচ্ছে। আমি মহিলাদের ছোট করার জন্য কথাটি বলছি না। উদাহরণ হিসেবে বলছি গত ১৪ই অক্টোবর প্রচারিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট একজন রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ অথচ লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তার কাছে অবান্তর প্রশ্ন এত বেশি করা হয়েছিল যে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছিল। এরকম একজন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে আমরা অনেক কিছুই জানতে পারতাম। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করলেও আমাদের অনেক বিষয় জানা হয়ে যেত যদি সেখানে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করা হতো।”

আপনি বলছেন, মহিলাদের প্রাধান্য দেওয়ার কারণে অনুষ্ঠানের মূল তাৎপর্য নষ্ট হচ্ছে, তাহলে সেটা কি নারীদের খাটো করা হচ্ছে না? আপনি অভিযোগ করছেন ফোন-ইন অনুষ্ঠানে অতিথির কাছে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করা হয়েছে। সেটা মোটেই কাম্য নয় এবং সেদিকে আমরা ভবিষ্যতে খেয়াল রাখবো। কিন্তু সেই দোষটা আপনি নারী অংশগ্রহণকারীদের ঘাড়ে চাপাবেন কেন? অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন কি কোন পুরুষ কখনো করেনি? তাই বলে কি তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে? অবশ্যই যাবে না।

শেষ করার আগে একটি প্রশংসামূলক চিঠি, লিখেছেন সাতক্ষীরার টেকাকাশিপুর থেকে মুঈন হুসাইন:

”অন্যদের মতো আমিও বিবিসি বাংলা বেতারের একজন মুগ্ধকর শ্রোতা। সময়ের অভাবে বা ব্যস্ততার কারণে বিবিসির সংবাদ সব সময় শুনতে পারি না। কিন্তু আপনাদের ফেসবুক পাতায় গিয়ে প্রতিদিন ঠিকই কিছুটা সময় করে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখাগুলো পড়ি। কারণ, এ সব তথ্যবহুল লেখা পড়তে আমার অনেক ভাল লাগে। ব্যাপক অজানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভও করতে পারি। আর আপনাদের নির্ভীক কর্মী ও বেতারে প্রচারিত নিরপেক্ষ খবরে আমরা অগাধ ভরসা পাই।”

আপনাকে ধন্যবাদ মি. হুসাইন, বিবিসি বাংলা শোনার জন্য এবং আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী খান, নরসিংদী সদর।

মোহাম্মদ মাসুদ রানা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

মোবারক হুসাইন, মাতুয়াইল, যাত্রাবাড়ি।

অর্ক রায়, ভারত।

মোহাম্মদ আব্দুল মাতিন, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ।

মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, রংপুর সদর।

  • তার কেটে এভাবে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।

    তার কেটে এভাবে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।

  • পুরষ্কার বিজয়ী পাঁচজন ডাক্তার, মাঝে মরিস হিলেম্যান (বাঁ দিক থেকে তৃতীয়)।

    পুরষ্কার বিজয়ী পাঁচজন ডাক্তার, মাঝে মরিস হিলেম্যান (বাঁ দিক থেকে তৃতীয়)।

  • এ'বছরের এমবিবিএস পরীক্ষার্থীরা সেশন জট নিয়ে শঙ্কিত।

    এ'বছরের এমবিবিএস পরীক্ষার্থীরা সেশন জট নিয়ে শঙ্কিত।

  • ভাসানচর থেকে আকবর হোসেন রিপোর্ট করছেন।

    ভাসানচর থেকে আকবর হোসেন রিপোর্ট করছেন।

  • ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি আশ্রয়ণ ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি আশ্রয়ণ প্রকল্প।প্রকল্প।

    ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি আশ্রয়ণ প্রকল্প।

  • অতি বৃষ্টির কারণে এবারে আলুর ফলন হয়েছে কম।

    অতি বৃষ্টির কারণে এবারে আলুর ফলন হয়েছে কম।

  • গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি ভোট কেন্দ্রে ভোটারের জন্য অপেক্ষা।

    গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি ভোট কেন্দ্রে ভোটারের জন্য অপেক্ষা।

  • হতাশা: করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর এরকম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

    হতাশা: করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর এরকম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

  • ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত স্যামুয়েল প্যাটি জনপ্রিয় একজন শিক্ষক ছিলেন

    ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত স্যামুয়েল প্যাটি জনপ্রিয় একজন শিক্ষক ছিলেন

  • সুদানে খালওয়া নামক ইসলামী স্কুলগুলোতে শিশু নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে বিবিসি

    সুদানে খালওয়া নামক ইসলামী স্কুলগুলোতে শিশু নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে বিবিসি

  • ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের কাছে ধর্ষণ-বিরোধী বিক্ষোভ।

    ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের কাছে ধর্ষণ-বিরোধী বিক্ষোভ।

  • নারী পণ্য নয়: ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ।

    নারী পণ্য নয়: ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ।

  • তার কেটে এভাবে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।
  • পুরষ্কার বিজয়ী পাঁচজন ডাক্তার, মাঝে মরিস হিলেম্যান (বাঁ দিক থেকে তৃতীয়)।
  • এ'বছরের এমবিবিএস পরীক্ষার্থীরা সেশন জট নিয়ে শঙ্কিত।
  • ভাসানচর থেকে আকবর হোসেন রিপোর্ট করছেন।
  • ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি আশ্রয়ণ ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি আশ্রয়ণ প্রকল্প।প্রকল্প।
  • অতি বৃষ্টির কারণে এবারে আলুর ফলন হয়েছে কম।
  • গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি ভোট কেন্দ্রে ভোটারের জন্য অপেক্ষা।
  • হতাশা: করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর এরকম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
  • ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত স্যামুয়েল প্যাটি জনপ্রিয় একজন শিক্ষক ছিলেন
  • সুদানে খালওয়া নামক ইসলামী স্কুলগুলোতে শিশু নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে বিবিসি
  • ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের কাছে ধর্ষণ-বিরোধী বিক্ষোভ।
  • নারী পণ্য নয়: ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ।

এগ্রোবিজ

১ কেজি নতুন আলুর দাম ৮০ টাকা

নীলফামারীতে জমি থেকে আগাম আলু উত্তোলনে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এখানকার আগাম আলু জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। বাজারে দাম বেশি থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

আগাম আলু চাষের জন্য বিখ্যাত নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলা। দেশের আগাম আলুর সিংহভাগ উৎপাদন হয় এখানে। আগাম আমন ধান কাটার পর এখানকার কৃষকরা এক খণ্ড জমিও পতিত রাখেন না। মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উৎপাদিত সেভেন গ্র্যানুলা জাতের আগাম আলু চাষ করেছে এখানকার কৃষকরা। মাঠে এখন আগাম আলু তোলার ধুম পড়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বাম্পার। শুরুতে দাম ভালো পাচ্ছেন আলু চাষিরা। সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, একদিকে চলছে আলু উত্তোলনের কাজ, অন্যদিকে কেউ কেউ মৌসুমি আলু লাগানোর কাজে ব্যস্ত, আবার কেউবা খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলু চাষি স্বপন বলেন, তিনি ৫০ শতক জমিতে আগাম আলু উৎপাদন করে পেয়েছেন ৭৮০ কেজি, যা ৮০ টাকা কেজি দরে ফসলের মাঠেই বিক্রি করেছেন। আগাম আলু আবাদে তার ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও তিনি এই আলু বিক্রি করে পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ টাকা। এতে তার লাভ হয়েছে ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের খালিশা খুটামারা গ্রামের নুরুজ্জামান (৪০) বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে এ বছর আলু চাষ করেছি। আলুর বয়স এখন ৫৫ দিন। আরও ১০ দিন পরে আলু তুলবো। এবার আলু দাম বেশ ভালো। তিনি বলেন, দুদিন আগে দেড় বিঘা জমির আলু তুলে বিক্রি করেছি ৯০ টাকা কেজি দরে। ওই আলু একদিনের ব্যবধানে কমেছে ১০ টাকা কেজিতে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার পোড়াকোট গ্রামের আলু চাষি লুৎফর রহমান (৪২) বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে এবার আলু চাষ করেছি। আগাম আলুর দাম ভালো থাকায় এক বিঘা জমির আলু বিক্রি করেছি ৮৫ টাকা কেজি দরে। এতে তার ব্যাপক লাভ হবে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা খেতে এসে নগদ টাকায় আলু নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ী রোস্তম আলী জানান, নীলফামারীতে আগাম আলু উঠতে শুরু করেছে। প্রথমদিকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে আলু বিক্রি হলেও এখন আলুর প্রকারভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করা হচ্ছে। আগাম আলু ট্রাকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার আগেই নীলফামারীর আগাম আলু উঠে এবং আগাম বাজারদরে লাভবান হন এখানকার কৃষকরা।

চলতি বছর এ জেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রতি হেক্টরে ২৫ দশমিক ৩৬ মেট্রিক টন। এ জেলায় ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগাম আলু উঠবে। এরপর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে আলুর ভরা মৌসুমে বাম্পার আলু বেশি পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতায় রোড ম্যাপ

আগামী চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই পেঁয়াজের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। এ কারণে আমদানির মাধ্যমে চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করা হয়। আর পেঁয়াজ আমদানি মূলত ভারত নির্ভর। ভারত রফতানি বন্ধ করে দিলে অস্থির হয়ে ওঠে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার। এই প্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এরপর পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য একটি রোডম্যাপের খসড়া প্রণয়ন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। প্রথম খসড়াটি তিন বছর মেয়াদি। এটি উপস্থাপন করা হলে কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে ডিএইকে পরিমার্জনের নির্দেশনা দেয়। সে অনুযায়ী ডিএই চার বছরের রোডম্যাপ প্রণয়ন করে। গত ২৩ নভেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ে এক সভায় রোডম্যাপটি উপস্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি এখনও আমরা চূড়ান্ত করতে পারিনি। এ নিয়ে কাজ করছি। আমরা চার বছরের মধ্যে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাচ্ছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আসাদুল্লাহ বলেন, ‘আগামী চার বছরের মধ্যে আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো ইনশাআল্লাহ। আমরা পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াব, একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পেঁয়াজের যে ক্ষতি, সেটা কমিয়ে আনব। রোডম্যাপের অংশ হিসেবে পেঁয়াজে স্বংয়ংসম্পূর্ণতা আনতে বিভিন্ন কৌশল নেয়া হবে। আমরা চাষিদের পেঁয়াজ সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেব। হাইটেক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু হবে।’

রোডম্যাপ অনুযায়ী এবার পেঁয়াজের ফলন ২ লাখ টন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হবে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘পরের বছর (২০২১-২২) ৩ লাখ ২২ হাজার টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক লাখ টন পেঁয়াজ অতিরিক্ত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সব ঠিকঠাক হলে ৪ বছর পর এখনকার তুলনায় পেঁয়াজের উৎপাদন ১০ লাখ টন বেশি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে হেক্টরপ্রতি পেঁয়াজের উৎপাদন ১০ লাখ টনের মতো। উচ্চ ফলনশীল বীজ পেলে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ১৩ থেকে ১৪ লাখ টনে নিয়ে আসা যাবে। অন্যান্য দেশে তাই হচ্ছে। এতে আবাদের জমি বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। আমরা সেদিকে যাচ্ছি। বীজের ক্ষেত্রেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইং ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজ চাষের আওতায় জমির পরিমাণ ২ লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর। এসব জমিতে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৫ লাখ ৬৬ হাজার টন। উৎপাদিত পেঁয়াজের মধ্যে রবি ৮১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, মুড়িকাটা ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ০ দশমিক ১১ শতাংশ। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১০ দশমিক ৮২ টন।

২৫ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হলেও এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। তাই উৎপাদন ১৯ লাখ টনের মধ্যে থাকে। বীজ ও অপচয় বাদে মোট চাহিদা ২৫ লাখ ৯৬ হাজার টন। ২৫ শতাংশ সংগ্রহোত্তর ক্ষতি বিবেচনায় উৎপাদন দরকার ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টন। সে অনুযায়ী পেঁয়াজের ঘাটতি ৮ লাখ ৯৫ হাজার টন। প্রতি বছর মোটামুটি ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।

পেঁয়াজ আমদানির চিত্র

ডিএইর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি হয় ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯২০ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪০ টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানি করা হয় ১০ লাখ ৯১ হাজার টন। গত অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ১০ লাখ ৭ হাজার ২২০ টন। আমদানি করা পেঁয়াজের প্রায় পুরোটাই ভারত থেকে এসেছে। আর সামান্য পরিমাণ এসেছে চীন, মিশর, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনআরবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯৫ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শতভাগ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শতভাগ পেঁয়াজ এসেছে ভারত থেকে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) ২৫ লাখ ৯৬ হাজার টন নিট চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ শতাংশ ক্ষতিসহ পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টন। উৎপাদনশীলতা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে ৬ লাখ ২৫ হাজার টন। ২ লাখ ৭০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা হবে।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ

পরের বছর (২০২০-২১) চাহিদা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ২৫ হাজার টন। ক্ষতিসহ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এভাবে চতুর্থ বছরে কোনো পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না। বরং পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকবে।

যেসব কৌশল নেয়া হবে

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন কৌশল নেয়া হবে জানিয়ে ডিএই’র মহাপরিচালক বলেন, ‘উচ্চ ফলনশীল জাত এবং উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হবে। এজন্য প্রচলিত জাতের তুলনায় হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাড়ানো হবে। পেঁয়াজ চাষের এলাকা বাড়িয়ে বা ফসল প্রতিস্থাপন করে আবাদ সম্প্রসারণ করা হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরে অনাবাদি এলাকা ও চরের জমি অন্তর্ভুক্ত করে সম্ভাব্য ১২ হাজার ১২ হেক্টর বর্ধিত জমি থেকে উৎপাদন বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সমন্বিত চাষাবাদ ও আন্তঃফসল চাষের উদ্যোগ নেব। এক্ষেত্রে আখ ও ভুট্টার সঙ্গে শীতকালীন পেঁয়াজ এবং আদা, হলুদ, কচুমুখীর সঙ্গে চাষ করা হবে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ। মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো হবে। দেশব্যাপী এক লাখ কৃষককে প্রতি এক শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ৩ টন বীজ বিতরণ করা হবে।’

যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণ না করায় নষ্ট হয় ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পেঁয়াজ

উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে পেঁয়াজের উন্নত জাতের বিকল্প নেই জানিয়ে ডিজি আসাদুল্লাহ বলেন, ‘বারি পেঁয়াজ-৪, বারি পেঁয়াজ-৫, বারি পেঁয়াজ-৬, লাল তীর কিং— এসব উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ সহজলভ্য নয়। এগুলো কৃষক পর্যায়ে নিয়ে যেতে কয়েকটা বছর সময় লাগবে।

উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থায় কমবে ক্ষতি

বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজে পেঁয়াজ সংরক্ষণের মাধ্যমে সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমিয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, বর্তমানে পেঁয়াজের যে সংরক্ষণ ব্যবস্থা তা সনাতন এবং মোটেও বিজ্ঞানসম্মত নয়। ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পেঁয়াজকে হয় ঘরের চিলেকোঠায়, না হয় মাটির মেঝেতে বিছিয়ে, অথবা পাটের বস্তায় মার্চ থেকে নভেম্বর, অর্থাৎ চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের প্রাণান্তর চেষ্টা করা হয়। এ অবস্থায় পেঁয়াজের জাত বা জিনোটাইপ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা উপযুক্ত না হওয়ায় ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। এতে সংরক্ষণকালীন শরীরতাত্ত্বিক কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে ওজন কমে যায় (যেমন- আর্দ্রতা কমে পেঁয়াজ সংকুচিত হয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, পচনে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ এবং অসময়ে অঙ্কুরিত হয়ে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়)। বিশেষ করে জুন ও জুলাই মাসে যখন অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বিরাজ করে, তখন পেঁয়াজ নষ্ট হয়।

তাই রোডম্যাপ অনুযায়ী বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া ক্ষতি কমাতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ছাদে বা টবে করলা চাষ করবেন যেভাবে

কৃষিবিদ জিয়াউল হক

করলা আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি গ্রীষ্মকালীন সবজি। এখন সারা বছরই করলা চাষ হয়। করলা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী সবজি। এটাকে ভাজি করে অথবা তরকারি হিসেবে রান্না করেও খাওয়া যায়। আসুন জেনে নেই কীভাবে ছাদে বা টবে করলা চাষ করবেন-

মাটি তৈরি: করলা প্রায় সব মাটিতেই চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থসমৃদ্ধ দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে চাষ করলে ফলন ভালো হয়। করলা চাষ করার জন্য প্রথমে দুই ভাগ দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ২০-৩০ গ্রাম টিএসপি সার, ২০-৩০ গ্রাম পটাশ একত্রে মিশিয়ে ড্রামে ভরে পানিতে ভিজিয়ে সপ্তাহখানেক রেখে দিতে হয়। তারপর মাটি কিছুটা ওলটপালট করে বা ঝরঝরে করে আবার চার-পাঁচ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে।

বীজ বপন: করলার বীজ বপনের একদিন অথবা ২৪ ঘণ্টা আগে ড্রাম বা টবের মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। বীজ বপন করার পর মাটি হাত দিয়ে সমতল করে চেপে দিতে হবে।

সেচ: করলার বীজ বপন করার পর এতে নিয়মিত পানি দিতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, টবে বা গাছের গোড়ায় যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে। তাহলে গাছের গোড়া পচে যাবে। সঠিক পরিমাপে পানি দিতে হবে।

পরিচর্যা: করলা গাছ বড় হলে অপ্রয়োজনীয় বা মরা লতাপাতা বেছে ফেলে দিতে হবে। টব বা ড্রামের মাটি হালকা নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে, তাহলে শেকড় বাড়বে। আগাছা জন্মালে তা উপড়ে ফেলতে হবে। গাছের গোড়া পরিষ্কার রাখলে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উৎপাত কম হয়। গাছ একটু বড় হলে মাচা করে দিতে হবে। গাছে নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

সঠিক পরিমাণ সার দিতে হবে। করলার বীজ থেকে চারা বেরোনোর পর মাঝে মধ্যে পানি দিতে হবে। চারার যত্ন নিতে হবে। করলা ধরা শুরু করলে সরিষার খৈল পচা পানি পাতলা করে গাছে ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর নিয়মিত দিতে হবে। টবে জৈব সার দিতে হবে, যেন গাছ মাটি থেকে খাদ্য উৎপাদন করে বাড়তে পারে। প্রয়োজনে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী রাসায়নিক সার ব্যবহার করা যায়।

রোগবালাই দমন: করলা গাছে মাছিপোকা, পামকিন বিটলসহ বিভিন্ন পোকা ও ভাইরাসজনিত মোজাইক রোগ, পাউডারি মিলডিউসহ বিভিন্ন বালাইয়ের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। গাছে রোগ বা পোকামাকড় আক্রমণ করলে কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী বালাইনাশক স্প্রে করতে হবে। পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচতে সেক্স ফেরোমন ও বিষটোপ ফাঁদের যৌথ ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফল সংগ্রহ: করলা ছোট অবস্থায়ও সংগ্রহ করতে পারেন অথবা বড় হলেও সংগ্রহ করতে পারেন। তবে করলা কাঁচা থাকতেই সংগ্রহ করতে হবে। পাকা করলা তরকারি হিসেবে খাওয়া যায় না। ফল পরিপক্ব হওয়ার আগেই সংগ্রহ করতে হবে।

গুণাগুণ: করলায় প্রচুর পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা মানবদেহের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ দিয়ে থাকে। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় ৯২.২ গ্রাম জলীয় অংশ, ২.৫ গ্রাম আমিষ, ৪.৩ গ্রাম শর্করা, ১৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১.৮ মিলিগ্রাম আয়রন, ১৪৫০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন, ভিটামিন বি১- ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.০২ মিলিগ্রাম, অন্যান্য খনিজ পদার্থ ০.৯ গ্রাম ও খাদ্যশক্তি ২৮ ক্যালরি থাকে।

উপকারিতা: নিয়মিত করলা খাওয়ার অভ্যাস করলে নানা রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। করলা খাওয়ার ফলে রক্তের সমস্যা, চোখের সমস্যা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসাসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ড্রাগন চাষে স্বপ্ন পূরণ সফিউল্লাহর

চাঁদপুরে ড্রাগন চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন সফিউল্লাহ হাওলাদার নামের এক কৃষক। মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে ড্রাগন চাষ করে মাসে আয় করছেন প্রায় ১০ হাজার টাকা। এ কারণে তিনি ড্রাগনের আবাদ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন।

প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় করে ৩০ শতাংশ জমিতে ২০১৯ সালে ড্রাগন আবাদ শুরু করেন চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ভিঙ্গুলিয়া গ্রামের প্রবাসফেরত সফিউল্লাহ হাওলাদার। মাত্র আট মাসের মধ্যেই তিনি প্রথম ফলন পান।

এরপর থেকে প্রতি মাসে যে ফলন পাচ্ছেন তাতে লাভ হচ্ছে অন্তত ১০ হাজার টাকা। ড্রাগনের আবাদ আরো বাড়াতে চান তিনি।

ড্রাগন চাষি সফিউল্লাহ ৪০০ চারা দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তার ড্রাগন গাছ ২ হাজার। বাংলাদেশে ২০০৭ সালে প্রথম থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এ ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। এর জাত তিনটি, বারি-১ এবং বারি-২, বারি-৩। একবার গাছ লাগালে প্রায় ২০ বছর এর ফল পাওয়া যায় বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

অপরদিকে তার দেখাদেখি ড্রাগন চাষে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিচ্ছেন।

সফিউল্লাহ হাওলাদার প্রবাসী হওয়ায় ড্রাগন বাগানের দেখাশোনা করেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম। তার হাত ধরেই ড্রাগন চাষে এতটা সফলতার মুখ দেখেছেন সফিউল্লাহ হাওলাদার। চাষের বিষয়ে আয়েশা বেগম বলেন, ড্রাগন বাগান তৈরি করতে আমার বেশকিছু রেডি ফিলার এবং চারাগাছের প্রয়োজন হয়। যাতে মোট এক লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছিল। এখন আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি।

এই ফলের বাগানের আরেকটা দিক হলো ড্রাগন গাছ উপরে থাকায় এবং এর কোন পাতা না থাকায় নিচের অংশে অন্যান্য সবজির চাষও করা যায়, যা অত্যন্ত লাভজনক। আমার এই বাগান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিশোধক হিসেবে কাজ করে। এ বিষয়টি নিয়ে খুব গুরুত্বসহকারে কাজ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরদার জানান, চাঁদপুরের একমাত্র ড্রাগন চাষি হিসেবে কৃষক সফিউল্লাহকে সার্বিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

১১ বছর পর দেখা দিল আফ্রিকান কম্বডাক

প্রতিবছর শীতের শুরুতেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড় করে পরিযায়ী পাখিরা। এ বছরও ক্যাম্পাসের ৪টি লেকে আশ্রয় নিয়েছে এরা। তবে এবার ক্যাম্পাসের ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেকে দেখা মিলেছে বিরল প্রজাতির আফ্রিকান কম্বডাকের। ক্যাম্পাসে ১১ বছর পর দেখা মিলল এই পাখির।

২০০০ সালে ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো আফ্রিকান কম্বডাকের দেখা মেলে। এরপর মাঝে মাঝেই এই পাখি দেখা যেত। তবে ২০০৯ সালের পর আর এই পাখির দেখা মেলেনি বলে জানিয়েছেন পাখি বিশেষজ্ঞরা।

গত ৮ নভেম্বর ক্যাম্পাসের ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেকে এই পাখির একটি ঝাঁক দেখা যায়। সুদূর সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে এই পাখি এসেছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

আফ্রিকান কম্বডাককে নাকতা হাঁস ও বুঁচা হাস নামেও ডাকা হয়। এটি অতি বিপন্ন প্রজাতির বড় হাঁস। এই হাঁসের দেহের উপরিভাগ নীলচে কালো। পিঠের পেছনভাগ ধূসর। মাথা ও ঘাড়ে সাদার ওপর কালো রঙের ফুটকি রয়েছে। ডানার গৌণ পালক ব্রোঞ্জ রঙের। বুকের অর্ধেক জুড়ে একটি কালো রঙের ফালি। স্ত্রী হাঁস অপেক্ষাকৃত মলিন ও ছোট। এরা উড়তে দক্ষ ও ডুবসাঁতারে নিপুণ।

ভারত, নেপাল, সাইবেরিয়া, চীন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এদের দেখা যায়। শীতে দেশের হাওর অঞ্চলের বড় বড় জলাশয়ে এদের দেখা যায়।

৮ ও ৯ নভেম্বর ক্যাম্পাসে পাখির উপর প্রাথমিকভাবে শুমারি করা হয়। এতে ক্যাম্পাসে ৭ প্রজাতির প্রায় পাঁচ হাজার পাখি এসেছে বলে জানা গেছে। গত বছর পাখির প্রজাতির সংখ্যা ছিল ৫টি। এবার আফ্রিকান কম্বডাকের সঙ্গে গার্গেনি বা জিরিয়া হাঁস জাতের পাখিও এসেছে।

অনেকদিন পর ক্যাম্পাসে আফ্রিকান কম্বডাকের দেখা পাওয়ায় খুশি পাখি বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও পাখি বিশেষজ্ঞ ড. মো. কামরুল হাসান বলেন, বিরল প্রজাতির এই পাখি সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের বড় বড় জলাভূমিতেও এদের দেখা মেলে। পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত ও মানুষের উৎপাত কমানো গেলে পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com