আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

এক সময়ের লঞ্চের ফেরিওয়ালা আজ কোটিপতি

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয় রাজাকার খলিল শেখের সহযোগিতায় পাক সেনারা বাবা কুমুদ রায়কে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গুলি করে নবগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। তখন আমার বয়স প্রায় ১২ বছর। অনেক খোঁজ করেও বাবার লাশ পাইনি। সংসারে মা ও দুই বোন। তাদের বাঁচাতে লেখাপড়া ছেড়ে লঞ্চে কলা, বিস্কুট, পাউরুটি বিক্রি করে সংসার চালাতাম। অনেক দিন না খেয়ে কেটেছে। এক পোয়া আটা কিনে পাতলা জাউ রান্না করে সবাই মিলে খেয়েছি। শাক-পাতা কুড়িয়ে তেল-লবণ ছাড়াই সেদ্ধ করে খেয়েছি। অনেকের কাছে হাত পেতেছি। কোনো সহায়তা পাইনি।’ কথাগুলো বলছিলেন কালিয়া উপজেলার বাসিন্দা শিবুপদ রায়। লঞ্চের সেই ফেরিওয়ালা এখন কোটিপতি। শুধু তাই নয় কালিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিকবার নির্বাচিত কাউন্সিলরও তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালিয়া উপজেলা শহরের জিরোপয়েন্ট থেকে গোবিন্দনগর গ্রামের ভক্তডাঙ্গা বিলের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। এখানেই শিবুপদ রায় ২৬৭ একর জমির ওপর গড়ে তুলেছেন মৎস্যসহ সমন্বিত কৃষি খামার। খামারে টমেটো, মিষ্টিকুমড়া, ঢেড়স, পেঁপে, করোলা, লাউসহ বিভিন্ন শাক-সবজির আবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশাল ঘেরে চিংড়ি, বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ আমন ও বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে।

এসব কৃষিপণ্য রাজধানী ঢাকাসহ পাশের গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, বাগেরহাট, খুলনা, বরিশালের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এখানে ২২ জন শ্রমিক নিয়মিত এবং এক থেকে দেড়’শ শ্রমিক খণ্ডকালীন কাজ করে থাকেন। এই খামার থেকে বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার কৃষিপণ্যসহ মাছ বিক্রি করা হয়। পণ্য পরিবহন খরচ, শ্রমিক, ইজারা নেয়া জমির মালিকদের টাকা পরিশোধ করে শিবুপদ রায়ের বছরে লাভ থাকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা।

শিবুপদ বলেন, লঞ্চে কলা, বিস্কুট, পাউরুটি বিক্রি করে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ টাকা আয় হতো। এ টাকা দিয়ে সংসার চালাতাম। লঞ্চেই একদিন আমার দেখা হয় বড়দিয়া মোকামের (বড়দিয়া নৌ-বন্দর) ভূষিমাল ব্যবসায়ী নিত্যানন্দ সাহার সঙ্গে। তিনি আমার কষ্টের কথা শুনে তার গদিতে (ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে) থাকা-খাওয়াসহ মাসে ৩০০ টাকা বেতনে কাজ দেন। সাত বছর দোকানে কর্মচারীর কাজ করেও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। সবশেষ ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনও পেয়েছি।

তিনি জানান, বেতনের টাকা জমিয়ে ১৯৭৮ সালের দিকে কালিয়া পৌর এলাকায় ১৬ হাজার ৬০০ টাকা পুঁজি নিয়ে ভূষিমালের দোকান দেন। ১৯৯৮ সালে ১০ একর জমি বন্দোবস্ত নিয়ে বাড়ির পাশে চিংড়ি চাষ করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ঘেরের পাশাপাশি ধানছাটাই মেশিন (রাইচমিল) কেনেন। ২০১৫ সালে ভক্তডাঙ্গা বিলেই সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলেন। প্রথমে ২২৬ একরে পরে তা বাড়িয়ে ২৬৭ একর জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। এ বছর ১০০ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন।

ভক্তডাঙ্গার বিল সারা বছরই পানিতে তলিয়ে থাকে। ফসলাদি তেমন একটা হতো না। এ সমস্ত জমির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে ২০ বছর চুক্তিতে তাদের জমি বন্দোবস্ত নেয়া হয়। এ রকম প্রায় ৫০০ কৃষকের জমি বন্দোবস্ত নেয়া হয়। জমির মালিকদের বছরে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয় বলে জানান এ সফল উদ্যোক্তা।

ছোট কালিয়া গ্রামের অশোক কুমার ঘোষ বলেন, প্রতিদিনই তিন থেকে চার ট্রাক মালামাল এই খামার থেকে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে।

নড়াইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, ২৬৭ একরের এ বহুমুখী খামারটি নয়নাভিরাম এবং দৃষ্টিনন্দন। জীবনে অনেক স্থানে চাকরি করেছি কিন্তু গোছালো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এমন কৃষি খামার কোথাও চোখে পড়েনি। এটি শুধু অনুকরণীয়ই নয় আমাদের দেশে একটি মডেল হতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

ভোমরা বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করল ভারত

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ভারতীয় কোনো পেঁয়াজের ট্রাক ভোমরা স্থলবন্দরে প্রবেশ করেনি। তবে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ব্যাপারে লিখিতভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। সকাল থেকেই কোনো পেঁয়াজের ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি।

তিনি বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে গেলে দাম নির্ধারণ করে দেয় ন্যাপেট নামে একটি সংস্থা। বর্তমানে এক টন পেঁয়াজের রেট চলছে ৩০০ ডলার। সেটি সম্ভবত বাড়িতে ৫০০ বা ৭০০ ডলার নির্ধারণ করবে। সে কারণে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মাকসুদ খান বলেন, বর্তমানে যে রেটে ভারতীয় রফতানিকারকরা পেঁয়াজ রফতানি করছেন সেটিতে তাদের লোকসান হচ্ছে। যে কারণে ন্যাপেট পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে। এছাড়াও ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন কম। মূলত উৎপাদন কম ও কম মূল্যে রফতানি করতে না পারায় ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে।

ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টমস সহকারী কমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ৮৫টি ট্রাকে ১৮৭০ মেট্রিক টন, ৭ সেপ্টেম্বর ৭৮টি ট্রাকে ১৮৯৭ মেট্রিক টন, ৮ সেপ্টেম্বর ৭৪টি ট্রাকে ১৭৩০ মেট্রিক টন, ৯ সেপ্টেম্বর ৮৮টি ট্রাকে ২১৪৩ মেট্রিক টন, ১০ সেপ্টেম্বর ৫৪টি ট্রাকে ১২৬২ মেট্রিক টন, ১২ সেপ্টেম্বর ৮২টি ট্রাকে ১৭৯৮ মেট্রিক টন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৭৪টি ট্রাকে ১৭৩৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

এদিকে ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। সকাল থেকে কোনো পেঁয়াজের ট্রাক ভোমরা বন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি।

ভোমরা স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মহসিন হোসেন বলেন, সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্তও ভারতীয় কোনো পেঁয়াজের ট্রাক বন্দর দিয়ে প্রবেশ করেনি। পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের কোনো কারণও জানা যায়নি। লিখিতভাবে ভারতের ঘোজাডাঙা বন্দর কর্তৃপক্ষও কিছু জানায়নি। তবে শুনছি ভারত পেয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান

পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান
পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান

ভারতের রফতানি বন্ধ করার সংবাদে হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। একদিনে নিত্যপণ্যটির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। তাই পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর পাইকারি বাজার ও আড়তে বিশেষ অভিযানে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মোবাইল টিম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, পুরান ঢাকার শ্যামবাজারসহ পেঁয়াজের আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান করা হচ্ছে।

অভিযান প্রসঙ্গে অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও অধিদফতরের মহাপরিচালকের পরিকল্পনায় আজ রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে অভিযান করা হচ্ছে। অধিদফতরের চারটি টিমসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি মনিটরিং টিম এই অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি জানান, কিছু অসৎ ব্যবসায়ী আছে, তারা সবসময় সুযোগ পেলেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলে। এই সুযোগ আর দেয়া যাবে না। পেঁয়াজের বড় পাইকারি আড়ত শ্যামবাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো ব্যবসায়ী যদি অনৈতিকভাবে দাম বাড়িয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান
পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান

এদিকে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভারত গতকাল হুট করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এরপর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই দেশের বাজারে পেঁয়াজ দাম সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে।

গত বছরও সেপ্টেম্বর মাসে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এতে হু হু করে দাম বেড়ে পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। এবারও সেই সেপ্টেম্বরেই ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিল।

পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান
পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি : আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান

এতে পেঁয়াজের দাম আবারও অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে- এমন আশঙ্কায় কেউ কেউ বাড়তি পেঁয়াজ কেনা শুরু করে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। অথচ গতকাল দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

এক ফোনেই পেঁয়াজের দাম বাড়ে কয়েকগুণ

লেখক

পেঁয়াজ
পেঁয়াজ

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। স্থলবন্দর থেকে এক দামে পেঁয়াজ কিনে খাতুনগঞ্জে পাঠান তারা। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হওয়া পেঁয়াজের সরবরাহের হার, মজুদ এবং খাতুনগঞ্জের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তারা আড়তদারদের দাম নির্ধারণ করে দেন। এক ফোনেই হঠাৎ তারা প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেন ২০ টাকা পর্যন্ত। এর সঙ্গে খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা যোগ করেন আরও কিছু টাকা। এভাবে কম টাকার পেঁয়াজ হাতবদল হয়ে বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তাদের এমন কারসাজিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ঠেকেছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। এভাবেই হুটহাট দাম বাড়িয়ে বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন কিছু আমদানিকারক।

শুধু ফোনে দাম নির্ধারণ করে খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের বাজার অস্থির করার পেছনে আমদানিকারকদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসন। হিলি স্থলবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে আমদানিকারকদের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন।

খাতুনগঞ্জে প্রধানত হিলি স্থলবন্দর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ও ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আসে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানিতে জড়িত আছেন ১৫ জন। তারা হলেন- মেসার্স রায়হান ট্রেডার্সের মো. শহিদুল ইসলাম, মেসার্স এম আর ট্রেডার্সের মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, মেসার্স সততা বাণিজ্যালয়ের মো. বাবলুর রহমান, মেসার্স সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মো. সাইফুল ইসলাম, মেসার্স জগদীশ চন্দ্র রায়ের শ্রীপদ, মেসার্স মারিয়া করপোরেশনের মো. মোবারক হোসেন, মেসার্স টুম্পা ইন্টারন্যাশনালের মো. মামুনুর রশিদ লেবু, মেসার্স গোল্ডেন এন্টারপ্রাইজের মো. লাবু মল্লিক, মেসার্স সালেহা ট্রেডার্সের মো. সেলিম রেজা, মেসার্স ধ্রুব ফারিহা ট্রেডার্সের মো. নাজমুল আলম চৌধুরী, মেসার্স সাদ ট্রেডার্সের মো. গোলাম মোর্শেদ শাহিন, মেসার্স বাবু এন্টারপ্রাইজের মো. মাহফুজার রহমান বাবু, মেসার্স লাবীব ট্রেডার্সের মো. নুর আলম বাবু, মেসার্স মনির ট্রেডার্সের মো. তোজাম্মেল হোসেন এবং মেসার্স তুবা এন্টারপ্রাইজের মো. শাহজামাল হোসেন। এসব আমদানিকারকের মধ্যে কারা ফোনে ফোনে খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেন ও কারসাজিতে জড়িত তা চিহ্নিত করতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। সকল তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করার কথা সমকালকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক।

খাতুনগঞ্জে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক সমকালকে বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বাড়তি লাভের আশায় হঠাৎ আমদানিকারকের এক ফোনেই কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছি আমরা। লেনদেনের কাগজপত্র নিজেদের কাছে না রেখে আমদানিকারকের ফোন কলে দাম নির্ধারণ করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন খাতুনগঞ্জের কিছু ব্যবসায়ী ও আড়তদার। হিলি স্থলবন্দরের ১৫ আমদানিকারকের মধ্যে কারা খাতুনগঞ্জে কারসাজি করছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এক সপ্তাহ আগেও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। কাঁচাপণ্যের ব্যবসায় জড়িত খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ী বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজিতে জড়িত আমদানিকারকদের চিহ্নিত করা গেলে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের নামও বেরিয়ে আসবে।

গত বছরের শেষের দিকে আমদানি করা প্রতি কেজি ৪২ টাকা দরে কেনা পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের আড়তে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রির প্রমাণ পায় জেলা প্রশাসন। এতে খাতুনগঞ্জ ও কক্সবাজারের ১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। এবারও দাম বাড়ার পেছনে তাদের কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

এবার ঝাঁজ আদায়

লেখক

আদা
আদা

দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কয়েক দিন আগেও আমদানি করা প্রতি কেজি আদা ৮০ থেকে ৯০ টাকা বিক্রি হয়। একই আদা এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। এজন্য আমদানি কম ও সরবরাহ সংকটকে দুষছেন ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা। আর এটি কৃত্রিম সংকট নাকি কারসাজি তা খুঁজে বের করতে মাঠে নামার কথা বলছে জেলা প্রশাসন।

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর কারসাজি ও সিন্ডিকেট করে ৮০ টাকার আদার দাম বাড়িয়ে ৩৬০ টাকা করার সঙ্গে জড়িতরা এবারও জড়িত কিনা সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে স্থলবন্দরগুলোতে তদারকি জোরদারের জন্য মনিটরিং টিম গঠন করেছে প্রশাসন।

সরেজমিন খাতুনগঞ্জের কাঁচাপণ্যের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ আড়তে আমদানি করা পেঁয়াজ ও রসুন থাকলেও নেই আদা। যেসব আড়তে আদা আছে তার মানও তেমন ভালো নয়। প্রতি কেজি আদা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। পাইকারিতে পণ্যটির দাম হঠাৎ এত বেশি বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। বন্দর নগরের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা আদা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা। দু-এক দিনের মধ্যে পুরো খাতুনগঞ্জ আদাশূন্য হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক সমকালকে বলেন, পেঁয়াজের ঝাঁজ পড়েছে আমদানি করা আদার ওপর। কয়েক দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারেই এটি ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি করার প্রমাণ পেয়েছি। হঠাৎ আমদানি করা আদার দাম বাড়ার কারণ চিহ্নিত করতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম দ্রুত মাঠে নামবে। সরবরাহ সংকট নাকি কারসাজি, তা খতিয়ে দেখা হবে। করোনা মৌসুমে আদার দাম নিয়ে কারসাজি করাদের কেউ এবারও জড়িত আছে কিনা সেটিও দেখব আমরা।

ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের কারসাজি তদারকি করতে স্থলবন্দরগুলোতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। হিলি স্থলবন্দরের সচিব (আমদানি-রপ্তানি ব্যুরো) রাশেদ আলী সমকালকে বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও আদার সরবরাহ একেবারে হচ্ছে না। চলতি মাসের শুরুতে যেসব আদা আমদানি হয়েছিল, তার বেশিরভাগই ঢাকা ও বগুড়ায় চলে গেছে। গত কয়েক দিনে আদাবোঝাই একটি গাড়িও বন্দর দিয়ে প্রবেশ করেনি। সরবরাহ সংকটের কারণে খাতুনগঞ্জে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কেন এমনটি হচ্ছে তার যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস রোধে আদা চায়ের উপকারিতা নিয়ে প্রচার থাকায় এটিকে পুঁজি করে ৮০ টাকার আদা ৩৬০ টাকায় নিয়ে যায় একটি সিন্ডিকেট। হঠাৎ আদার দাম এত বেশি বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও টনক নড়ে। পরে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে আদার দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার পেছনে ৩২ জনের একটি সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততা পান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আদার দাম বাড়ানোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে অন্যতম হলেন- আজিজ, সিরাজ, কাদের ও জিয়াউর রহমান। ২০১৯ সালে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল করার পেছনেও জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় প্রশাসন। তিনি আদার পাশাপাশি পেঁয়াজও আমদানি করেন। খাতুনগঞ্জের হাজি সোনা মিয়া মার্কেটে তার প্রতিষ্ঠান আছে। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৩২ জন আমদানিকারক ৩৫টি চালানে তিন হাজার ১৪৪ টন আদা আমদানি করেন। এর মধ্যে খাতুনগঞ্জের ফরহাদ ট্রেডিং ও মেসার্স ইউনিভার্সেল অ্যাগ্রো করপোরেশন, জুবলী রোডের ওকেএম ট্রেডিং করপোরেশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

খাতুনগঞ্জে কাঁচাপণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী বোলাই কুমার পোদ্দার সমকালকে বলেন, বেশিরভাগ আড়তে আমদানি করা আদা নেই। যেসব আদা আছে তার মানও তেমন ভালো না। সরবরাহ সংকটে ৮০ টাকার প্রতি কেজি আদার দাম ২২০ টাকায় ঠেকেছে। গরমের কারণেও আবার আদার একটি অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। তবে আমদানি করা চীনা আদার চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দাম আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে আদাশূন্য হয়ে পড়বে খাতুনগঞ্জ।

ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, পেঁয়াজের দাম এখনও বাড়তি। এরই মধ্যে পেঁয়াজের ঝাঁজ পড়েছে আদার ওপর। করোনার এমন সময়ে হুটহাট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। সরবরাহ সংকট, কারসাজি নাকি কৃত্রিম সংকট- এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে প্রশাসনকে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

নগরের কর্ণফুলী বাজারে আসা আকলিমা জান্নাত বলেন, কয়েক দিন আগেও প্রতি কেজি আদা কিনেছি ৯০ টাকা দিয়ে। এখন সেই আদার দাম নাকি ২৬০ টাকা। হঠাৎ এভাবে দাম বেড়ে গেলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা কীভাবে চলবে? খাতুনগঞ্জে হিলি স্থলবন্দর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ ও ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আদাসহ যাবতীয় কাঁচাপণ্য আসে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

খাদ্য নিরাপত্তা গড়বে যারা তারাই পৃথিবীকে নেতৃত্ব দেবে

খাদ্য নিরাপত্তা গড়বে যারা তারাই আগামী বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

তিনি বলেন, দক্ষ এবং সৎ মানুষ দ্বারাই সমাজ পরিচালিত হবে এবং করোনাকাল তা বুঝিয়ে দিচ্ছে।

করোনার প্রভাব এবং আগামীর বিশ্ব নিয়ে জাগো নিউজের কাছে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এই বিশ্লেষক।

সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘করোনা মহামারি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে আসছে। মানুষ মরছে। কিন্তু অদৃশ্য এমন কিছু সমস্যা হাজির হবে করোনা পরবর্তী সময়ে, যা মানুষ হয়তো ভাবতে পারছে না। সাতশ কোটি মানুষের মধ্যে অল্পসংখ্যক মানুষ মারা যাবে হয়তো। এই মৃত্যু গাণিতিক হারে ঘটছে। কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে জ্যামিতিক হারে।’

অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হয়তো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব স্বাভাবিক হতে থাকবে। কিন্তু আগের মতো হবে না। যারা এতদিন পৃথিবীকে বিষিয়ে তুলেছে, মানুষের ক্ষতি করেছে, পৃথিবীর ক্ষতি করেছে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি একেবারে নিষ্ঠুরভাবে বলছি। খারাপ মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে। যারা মানবিক, যারা সুন্দর পৃথিবীর জন্য বদ্ধপরিকর তারা এগিয়ে আসবে। যদিও আমরা করোনা থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষা নিতে পারিনি।’

এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘অর্থনীতির জন্য নানা চ্যালেঞ্জ ইতোমধ্যেই সামনে এসেছে। নানা উদ্যোগ নিচ্ছে মানুষ। কিন্তু আমি মনে করি, বিশ্ব হবে দক্ষদের। দুর্বলরা হারিয়ে যাবে নির্মমভাবে। এটি বাংলাদেশ এবং বিশ্বের জন্য বিশেষবার্তা। প্রযুক্তিতে হয়তো আরও উৎকর্ষসাধিত হবে। কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকার জন্য উৎপাদনে আরও উন্নয়ন ঘটবে এবং ঘটাতে হবে। বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় যারা বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেখাতে পারবে, তারাই বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। আর এটি যারা দ্রুত বুঝতে পারবে, তারাই প্রস্তুতি নিতে থাকবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com