আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

অধ্যক্ষের উদ্যোগে ফুলে ভরা ক্যাম্পাস

অধ্যক্ষের উদ্যোগে ফুলে ভরা ক্যাম্পাস
অধ্যক্ষের উদ্যোগে ফুলে ভরা ক্যাম্পাস

শীতের সকাল। দশটা বাজলেও কুয়াশা রয়ে গেছে চারদিকে। তবে শীতের মিষ্টি রোদ আছে। শিক্ষার্থীরা যে যার মতো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে। কলেজের গেট পেরিয়ে মাঠে যেতেই চোখে পড়লো ফুলের বাগান! বাহারি রঙের ফুল আর ফুল। ফুলঘেরা মাঠের মাঝখানে শিক্ষার্থীরা কথা বলছে। কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে মুঠোফোনে ফুলের ছবিও তুলতে দেখা গেল। প্রথম দেখায় যে কারো মনে হতে পারে- কোনো ফুলের বাগানে এসে পড়লাম বুঝি! যদিও মুহূর্তেই বিভ্রম কেটে যাবে। চাঁদপুর জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন পুষ্পশোভিত নান্দনিক ক্যাম্পাস আর চোখে পড়ে না।

বলছিলাম ডাকাতিয়া নদীর কোলঘেঁষে দাঁড়ানো পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসের কথা। একটু এগিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেল, কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদারের উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছে এ বাগান। প্রতিদিনই তিনি সকাল-বিকেল বাগানের পরিচর্যা করেন। কলেজের শিক্ষকরা জানান, ফুলের বাগান কলেজের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়েছে। শিক্ষার পরিবেশকেও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিমসহ ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্য।

কলেজের শিক্ষার্থী মো. আল আমিন, আবু সুফিয়ান ও কামরুল হাসান বলেন, ‘আগের চেয়ে আমাদের ক্যাম্পাস বহুগুণে সুন্দর হয়েছে। ক্যাম্পাসে এলেই মন জুড়িয়ে যায়। কলেজে এসে খুব ভালো সময় কাটে। একটি সুন্দর ক্যাম্পাস উপহার দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ স্যারকে ধন্যবাদ।’

মাঠেই দেখা হয় কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. হাবিবুর রহমান পাটওয়ারীর সঙ্গে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফুল সবাই ভালোবাসেন। কিন্তু ফুলের বাগান করা কষ্টসাধ্য। কলেজ ক্যাম্পাসে বাগান করা আরো কষ্টকর। আমাদের অধ্যক্ষ স্যারের আগ্রহে এবং ঐকান্তিক পরিশ্রমে ফুলের বাগান করা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও বাগান নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তারাও ফুলের বাগানটি রক্ষা করতে সহযোগিতা করছেন।’

অধ্যক্ষের উদ্যোগে ফুলে ভরা ক্যাম্পাস
অধ্যক্ষের উদ্যোগে ফুলে ভরা ক্যাম্পাস

অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার জানান, গাছগুলো চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বাগানে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, স্নো-বল, জিনিয়া, ভার্জিনা, সেলভিয়া, হলিওক, ডেনডান, গেজানিয়া, আমেরিকান ইনকা (গাঁদা), কসমস, স্টার, বেলি, কালার করবী, অ্যারোমেটিক জুঁই, দোপাটি, নয়নতারা, বাগান বিলাস, গোলাপ, জবা, মাধবীলতাসহ কয়েকশ’ ফুল গাছ রয়েছে। এরমধ্যে বিশ রকমের গোলাপ ও সাত রকমের জবা ফুল রয়েছে। রয়েছে কিছু ফলের গাছও।

বাগান সম্পর্কে তিনি বলেন, শৈশব থেকে আমার বাগান করার শখ। অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে ভাবলাম, ক্যাম্পাসটি সাজাই। আরো দৃষ্টিনন্দন করি। সেজন্য ক্যাম্পাসে ফুলের বাগান করার পরিকল্পনা করলাম। এছাড়া আরেকটি উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদেরকে ক্যাম্পাসে আকৃষ্ট করা এবং মনোরম পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করা।

অধ্যক্ষের উদ্যোগে ফুলে ভরা ক্যাম্পাস
অধ্যক্ষের উদ্যোগে ফুলে ভরা ক্যাম্পাস

তিনি বলেন, আমার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাসের জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীই নয়, এলাকাবাসীও ধন্যবাদ জানিয়েছে। শিক্ষার্থীরা আগে ক্লাসের ফাঁকে বাইরে যেতো। কিন্তু এখন তারা ক্যাম্পাসেই থাকে। ফুলগুলো তাদের আকৃষ্ট করে রাখে। আমি প্রতিদিন সকাল-সকাল কলেজে এসে বাগানের পরিচর্যা করি। কলেজ ছুটি হলে বিকেলে ফুলের গাছগুলোর যত্ন নেই। বাগানের যত্ন নেওয়ার জন্য একজন মালিও রেখেছি আমরা।

‘কেউ ফুল ছেঁড়ে না?’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মৃদু হেসে বলেন, যখন বাগান করা শুরু করি; তখন আশঙ্কায় ছিলাম! শত শত শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগান টিকিয়ে রাখা কঠিন। ভেবেছিলাম, ফুল ফুটলে ছেলেমেয়েরা ছিঁড়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। আমাকে অবাক করে দিয়ে তারা ফুলের বাগান করতে আমাকে সহযোগিতা করলো। এখন যে শত শত ফুল ফুটে আছে, আমার কোনো শিক্ষার্থী একটি ফুলও ছেঁড়ে না। আমার খুব ভালো লাগে। আমি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাই।

অধ্যক্ষের উদ্যোগে ফুলে ভরা ক্যাম্পাস
অধ্যক্ষের উদ্যোগে ফুলে ভরা ক্যাম্পাস

বাগান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ব্যাপারে রতন কুমার মজুমদার বলেন, প্রতি মাসেই নতুন নতুন ফুল গাছ আনছি। দুর্লভ ফুল গাছের চারা আনার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে বাগানের পরিসর আরো বাড়াবো। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

দৈনন্দিন

মাথার চুল বাড়ায় শিউলি ফুল!

লেখক

সকালে শিশির মাখা শিউলি ফুল দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। শিউলি মূলত শরতেরই ফুল। তবে শিউলির শোভা ও সৌরভ হেমন্তেও কিছুটা থাকে।

রূপেগুণে পরিপূর্ণ এই ফুল। সুবাস ছড়ানোর পাশাপাশি নানা রকম ওষুধি গুণে ভরপর এই ফুল। অনেকের কাছে এই ফুলটি খুবই প্রিয়। নানা কাজে শিউলি ফুল ব্যবহার করা হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক শিউলি ফুলে গুণগুলো।

আর্থারাইটিস ও সাইটিকার ব্যাথা সারাতে: প্রতিদিন সকালে চায়ের মতো এক কাপ পানিতে দুটি শিউলি ফুলের পাতা ও দুটি তুলসী পাতা ফুটিয়ে, ছেঁকে নিয়ে তা পান করুন। এতে আপনার আর্থারাইটিসের ও সাইটিকার ব্যাথা কমবে। নিয়মিত কয়েক সপ্তাহ খেলে এই ব্যাথা দূর হবে।

ব্রণের সমস্যা সমাধানে: ব্রণ দূর করতে দারুণ কাজ করে শিউলি। কারণ এতে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটারি গুণ। যা আমাদের ত্বকের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারি। এটি মুখের ব্রণ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

গলার আওয়াজ: কারণে-অকারণে গলার আওয়াজ বসে যায়? তবে আপনি শিউলি পাতার রস ২ চামচ পরিমিত মাত্রায় গরম করে দিনে দুইবার খেতে পারেন। উপকার পাবেন।

জ্বর কমাতে: জ্বর কমাতে বেশ সাহায্য করে শিউলি। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর কমাতে শিউলির চা পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

কৃমি ও মেদ সমস্যা সমাধানে: শিউলিফুলের পাতার  রস অল্প গরম করে নিয়মিত কয়েকদিন খান। কৃমি সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। এছাড়া শিউলি গাছের ছালের চূর্ণ সকালে ও বিকালে গরম পানিতে খেলে মেদ কমে।

ম্যালেরিয়ার পর: গবেষণা দেখা গেছে, ম্যালেরিয়ার সময় শিউলি পাতার বাটা খেলে এই রোগের উপসর্গগুলো কমতে শুরু করে। ম্যালেরিয়ার প্যারাসাইটগুলো নষ্ট হয়, রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ে। 

মাথার চুল বাড়ায়: শিউলি ফুলের পাতা নারকেল তেলের সঙ্গে ফুটিয়ে নিন। এরপর পাতা ফেলে দিয়ে তেল সংরক্ষন করুন। এই তেলের ব্যবহারে আপনার মাথার চুল বাড়তে পারে।

শিউলি গাছের নির্যাস প্রাণীদের পাকস্থলিতে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া মানব দেহে এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা গবেষণায় পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে শিউলি গাছের যাবতীয় অংশ সেবন করতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে পদ্ম চাষ করে দ্বিগুণ মুনাফা অর্জন করুন

পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র দেশ জুড়ে প্রায় সব জায়গাতেই এই ফুলের চাষ হয়। বাংলার ‘ক্ষীরাই’ অঞ্চল পদ্মফুলের উপত্যকা বলে বহুদিন ধরে বিখ্যাত। সমগ্র রাজ্যের পদ্ম ফুলের ৫০ শতাংশ এই অঞ্চলেই চাষ হয়। পশ্চিমবঙ্গের দুই মেদিনীপুর, বাগনান, হুগলী, দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং রূপনারায়ণ নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলিতে উন্নত মানের পদ্ম চাষ হয়। পদ্মফুল সাধারণ জমিতে বা জলাশয়ে চাষ হয়। বাড়িতেও অনেক সৌখিন মানুষ পদ্ম ফুলের চাষ করে থাকেন।  

পদ্ম চাষ (Lotus Farming) –

পশ্চিমবঙ্গের অনেক কৃষক নিজস্ব জলাভূমিতে পদ্মের চাষ করেন। পদ্ম ফুলের চাষ’ পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। ব্যবসায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে এটির জন্য বেশ চাহিদা রয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, বিভিন্ন রাজ্যের কৃষক পদ্ম চাষে প্রগতিশীলতা দেখিয়েছেন। বাংলার পদ্ম ফুল বাইরের বেশ কয়েকটি রাজ্যে রফতানি হয়, যারমধ্যে রাজস্থান, পাঞ্জাবের নাম উল্লেখযোগ্য।

চাষের উপযুক্ত সময় (Cultivation Time) –

জুলাই-অগাস্ট মাসে পদ্ম চাষ করা হয়। পদ্ম ফুল মূলত লাল, গোলাপী, হলুদ, সাদা এই রংগুলিতেই অধিক পরিমাণে বাজারে মেলে। গাছগুলি বীজ বা কন্দ থেকে জন্মাতে পারে। প্রথমে বীজগুলিকে ক্লোরিনমুক্ত উষ্ণ জলে রাখতে হবে। পদ্মের বীজ থেকে কন্দ না বের হওয়া পর্যন্ত নিয়ম করে জল পরিবর্তন করা উচিত। লক্ষ্য রাখতে হবে কন্দ যেন জলে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং যথেষ্ট সূর্যের আলো পায়। বীজ থেকে কন্দ বার হওয়ার সপ্তাহ কয়েক হওয়ার পরেই তা রোপণ করার জন্য তৈরী হয়ে যায়। পাতা বড় হতে শুরু করলে উদ্ভিদ গভীর জলে রোপণের জন্য সাধারণত তৈরী হয়ে যায়।

বীজ থেকে বৃদ্ধি –

পদ্ম ফুল সাধারণত বিভিন্ন আকার এবং লাল, গোলাপী, হলুদ, সাদা ইত্যাদি বর্ণে উপলব্ধ। গাছগুলি বীজ বা কন্দ থেকে জন্মাতে পারে। বীজ থেকে বৃদ্ধির জন্যে বীজগুলিকে উষ্ণ জলে রাখতে হবে, মনে রাখবেন, এই জলে যেন ক্লোরিন না থাকে এবং পদ্মের বীজ থেকে কন্দ না বের হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন অবশ্যই জল পরিবর্তন করতে হবে। কন্দ যেন জলে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায়। কন্দ বেরনোর পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা রোপণের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এর পাতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে উদ্ভিদ গভীর জলে রোপণের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। ছোট ধরণের পদ্মের জন্য মাটির উপরের অংশ থেকে কেবল ১ থেকে ৬ ইঞ্চি জল প্রয়োজন, তবে বড় জাতের গাছগুলিতে ১ মিটার পর্যন্ত জল প্রয়োজন হতে পারে।

পদ্ম চাষের জন্য কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত: (Lotus Cultivation Precautions)

বীজ থেকে পদ্মের চাষ করতে হলে বৃদ্ধির প্রথম বছরে নিষিক্ত করা যাবে না। পদ্ম কন্দে ছ’টি পাতা ফোটার পরে সার প্রয়োগ শুরু করা উচিত।প্রতি তিন থেকে চার সপ্তাহ বাদে বাদে সার প্রয়োগ করতে হবে। উদ্ভিদ সুপ্ততা প্রস্তুতির জন্য জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে প্রয়োগ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। তরল কীটনাশক পদ্ম চাষের উপযুক্ত নয়, এই বিশেষ শ্রেণীর কীটনাশক প্রয়োগে পদ্ম পাতা পুড়ে যেতে পারে। মিলডিউ এবং রটিং থেকে পদ্মকে বাঁচাতে লাইভ স্প্যাগনাম মশে সংরক্ষণ করা উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

সহজ উপায়ে জুঁই ফুলের চাষ পদ্ধতি

খুব সহজেই স্বল্প পরিশ্রমে সুগন্ধি জুঁই ফুলের চাষ সম্ভব | জুঁই একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফুল | এই ফুলের অনেকগুলো প্রজাতি পাওয়া যায় ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে | এই গাছগুলির উচ্চতা ১০-১৫ ফুট পর্যন্ত হয় | এর পাতা চিরসবুজ যা কিনা আড়াই ইঞ্চি লম্বা, সবুজ ও সরু কান্ডযুক্ত এবং এটি সাদা বর্ণের ফুল ধারণ করে। ফুলগুলি মূলত মার্চ থেকে জুন মাসে ফোটে। এটি মূলত মালা তৈরির জন্য, ফুল সজ্জায় এবং উপাসনার ডালা সাজানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এর দৃঢ় এবং সুগন্ধযুক্ত সুবাসের কারণে এটি আতর তৈরিতে এবং সাবান, ক্রিম, তেল, শ্যাম্পু এবং ওয়াশিং ডিটারজেন্টগুলিতে সুগন্ধ যোগ করতে ব্যবহৃত হয়। সারাবছর এই ফুলের চাহিদা থাকায় এই ফুল বেচে প্রচুর লক্ষ্মীলাভও হয় কৃষকদের৷

জমি তৈরী:

ভাল চাষ উপযোগী করার জন্য প্রথমে চারা রোপণের জমিটিকে আগাছামুক্ত করতে হবে। ক্ষেতের আগাছা মুক্ত করার জন্য এক-দু’টি প্রাথমিক চাষ প্রয়োজন। লাঙল করার পরে গর্তগুলি রোপণের এক মাস আগে ৩০ ঘনসেমি আকারে প্রস্তুত করা হয় এবং সূর্যের আলোর নিচে রেখে দিতে হবে। জমি তৈরির সময় ১০ কেজি গোবর সার মাটির সাথে মিশ্রিত করতে হয়।

বপণের সময়(Time of planting):

সাধারণত, জুন থেকে নভেম্বর মাসে বপণ করা হয় | বিভিন্ন ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের গাছ লাগানো হয়। সাধারণত গড়ে ১.৮*১.৮ মিটার ব্যবধান প্রয়োজন।

সার প্রয়োগ:

জমি তৈরির সময়, নাইট্রোজেন ৬০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ, পটাশিয়াম ১২০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ এবং ফসফরাস ১২০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদ আকারে সারের মিশ্রণ প্রয়োগ করতে হবে । এই স্যারের মিশ্রণটি সাধারণত দুটি ভাগে ভাগ করতে হবে | প্রথম ভাগটি জানুয়ারী মাসে দিতে হবে এবং দ্বিতীয় ভাগটি জুলাই মাসে দিতে হবে। অতিরিক্ত জৈব সার হিসাবে, নিমের খোল, সরিষার খোল  ইত্যাদি দেওয়া খুবই ভাল। এদেরকে ১০০ গ্রাম প্রতি উদ্ভিদে দেওয়া হয়। ফুলের ফলন বাড়াতে জিঙ্ক ০.২৫% এবং ম্যাগনেসিয়াম ০.৫% হরে স্প্রে করতে হবে । লৌহের  ঘাটতি থেকে রক্ষা পেতে, মাসিক বিরতিতে ফেরাস সালফেটের বড়ি ৫ গ্রাম প্রতি লিটারে স্প্রে করতে হবে |

আগাছা দমন:

ফসলের ভাল বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য আগাছা দমন অতি প্রয়োজনীয়।  রোপণের ৩-৪ সপ্তাহ পরে প্রথম আগাছা তোলা উচিত এবং তারপরে প্রতি ২-৩ মাসে একবার করে আগাছা পরিষ্কার করা উচিত।

সেচ:

ফুলের যথাযথ বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য সময়ের ব্যবধানে সেচ দেওয়া প্রয়োজন। গ্রীষ্ম কালে সেচ সপ্তাহে একবার করা হয়। ফুল আসার পরে, পরবর্তী সার দেওয়া এবং ছাঁটাই পর্যন্ত কোনও সেচের প্রয়োজন হয় না।

রোগবালাই ও দমন:

শিকড় পচা রোগ:

এই রোগের লক্ষণগুলি হল বাদামি বর্ণের ফুসকুড়ি পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায় এবং কখনও কখনও কান্ড এবং ফুলেও দেখা যেতে পারে।

প্রতিকার:

শিকড়ের পচা রোগ থেকে নিরাময় পেতে কপার oxychloride ২.৫ গ্রাম প্রতি লিটারে মিশিয়ে মাটিতে  প্রয়োগ করতে হয় |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

যে ফুলগুলো খাওয়া যায়…

ফুল সবাই ভালোবাসে। বাড়ির সামনে বা আশপাশে জায়গা না থাকলে বারান্দায় বা ঘরের কোণায় ফুলের গাছ লাগান এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। মজার ব্যাপার হলো ফুল শুধু চোখ নয়, পেটও ভরাতে পারে। এমন কয়েকটি ফুল রয়েছে, যেগুলো খাওয়া যায়। 

সজনে ফুল: সজনে ডাটা আর পাতা দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। এর ফুলও খাদ্য হিসেবে বেশ স্বাদের। গরম ভাতের সঙ্গে সজনে ফুলের বড়া খেতে অনেকেই পছন্দ করেন।  কুমড়ো ফুল: কুমড়ো ফুলের বড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয়। বেসন বা চালের গুঁড়োর ব্যাটারে কুমড়ো ফুল চুবিয়ে ডুবোতেলে ভেজে নেয়া হয়। এছাড়া কুমড়ো ফুল ভেজেও খাওয়া যায়। কেউ কেউ ঝোল ঝোল করে তরকারিও রান্না করে থাকে এই কুমড়ো ফুল দিয়ে। 

শিমের ফুল: কেউ কেউ শিমের ফুল চুলার হালকা আঁচে ভেজে ভর্তা বানানো যায়। পেঁয়জ, মরিচ আর সরিষার তেল মাখানো এই ভর্তা গরম ভাতের সাথে খেতে ভালো লাগবে।  

মোচা: কলাগাছের ফুল যা মোচা নামে পরিচিত, এটি তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। ডালের বড়ি বা চিংড়ি দিয়ে মোচার ঘণ্ট রান্না করা হয় কোনো কোনো অঞ্চলে। মোচা ভেজেও খাওয়া হয়। আর ময়দা বা বেসন মিশিয়ে বড়া বানালে খেতে মন্দ লাগে না। 

জুঁই ফুল: সাধারণত গ্রিন টি’র সঙ্গে জুঁই ফুল মেশানো হয়।

গাঁদা: গাঁদা ফুলের পাপড়িও চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়। এতে দৃষ্টিশক্তি ভাল থাকে।

গোলাপ: বিভিন্ন খাবারে গোলাপ জল মেশানো হয় সেই আদি যুগ থেকে। একসময় মানুষ কোনো কোনো খাবারে গোলেপের পাপড়ি শুকিয়ে গুঁড়ো করে দিতেন।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

নাটোরে এক রাতে ফুটলো তিনটি ‘নাইট কুইন’

নাটোরের লালপুরে একটি গাছে একসঙ্গে তিনটি রাতের নাইট কুইন ফুল ফুটেছে। সারাবিশ্বে রাতের রানী হিসেবে পরিচিত ‘নাইট কুইন’ ফুল। আমাদের দেশে দুর্লভ প্রজাতির ফুল হিসেবেই গণ্য করা হয় ‘নাইট কুইন’কে। 

মিষ্টি মনোহারিণী সুবাস, দুধসাদা রঙ ও পবিত্র পাপড়ি আর সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেই পরিচিত ‘নাইট কুইন’। ‘নাইট কুইন’ যে রাতে নিজেকে মেলে ধরে প্রকৃতির কাছে, সে রাতেই আবার ঝরেও পড়ে। তাও আবার একটি ফুলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় বছরের পর বছর।গভীর রাতে দুর্লভ এই ফুলটিরই দেখা মিলে বৃহস্পতিবার লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামে সাংবাদিক আশিকুর রহমান টুটুলের ফুল বাগানে। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি অপেক্ষায় ছিলেন একটি ফুলের জন্য। বেশ কয়েকবার কলি এসেও ফুল ফোটার আগেই ঝরে পড়ে গেছে। কিন্তু এবার একটি গাছে একসঙ্গে ৩টি রাতের রানীর দেখা মিলেছে। 

আশিকুর রহমান টুটুল জানান, ‘চার বছর আগে একটি বাড়ি থেকে নাইট কুইনের একটি পাতা এনে টবে লাগিয়েছিলেন তিনি। অপেক্ষার পরে গত জুলাই মাসে প্রথম একটি গাছে তিনটি ফুল ফুটে। তিন মাসের ব্যবধানে আরও তিনটি ফুল ফুটেছে। 

তিনি আরো বলেন, ‘পরিবারের সবাই মিলে মিষ্টি সুবাসের রাতের অতিথিকে উপভোগ করেছি। ফুলের মিষ্টি গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশিরা রাতের রানীকে একবার দেখার জন্য ছুটে আসে। তিন মাসের ব্যবধানে একসঙ্গে তিনিটি ফুল ফোটায় তার পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত।’

জানা গেছে, বহু আরাধ্য ও অপেক্ষার পর দেখা দেয় বলেই হয়তো নাইট কুইনকে সৌভাগ্যের প্রতীকও বলা হয়। তবে সৌভাগ্য আর কাহিনী ছাপিয়ে ফুলটির অপার সৌন্দর্যই একে ‘রানী’ উপাধি দিয়েছে। পাথরকুচির মতো পাতা থেকেই এ ফুল গাছের জন্ম হয়। আবার পাতা থেকেই প্রস্ফুটিত হয় ফুলের গুটি। 

নাইট কুইনের বৈজ্ঞানিক নাম পেনিওসিরাস গ্রেজ্জি (Peniocereus greggii)। বিরল ক্যাকটাস জাতীয় এ ফুলটির বৈশিষ্ট্য অন্যান্য ফুলের তুলনায় একটু আলাদা। ফুলটির আদিনিবাস আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চালে এবং মেক্সিকোতে। দেখতে অনেকটা পদ্মফুলের মতো, সাদা রং ও মিষ্টি গন্ধ যুক্ত।

বছরের মাত্র একদিন এবং মধ্যরাতে পূর্ণ বিকশিত হয়। আর শেষরাতেই জীবনাবসান ঘটে। ১৫ দিন পর গুটি থেকে কলি হয়। যে রাতে ফুলটি ফুটবে, সেই বিকেল থেকেই কলিটি সুন্দর রূপে সাজে। যেন বুজে থাকা পদ্মফুল। এর সুবাসে তীব্রতা না থাকলেও মিষ্টি এক মোহ আছে, যা পুষ্পপ্রেমীদের সবসময়ই টানে। নাইট কুইন নিয়ে নানা কাহিনী আছে।

ফুল দেখতে আসা ওয়ালিয়া তরুণ সমাজের কোষাধক্ষ্য আজিবর রহমান বলেন, আমি জীবনে অনেকবার নাইট কুইনের নাম শুনেছি আজ বাস্তবে দেখলাম, তার অপরূপ সৌন্দর্য দেখে আমি বিমোহিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com