আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

তপ্ত মরুভূমির দেশ কাতার ফুলের সৌন্দর্য্যে সেজে উঠেছে। ২০২২ এর ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে কাতারের নিসর্গ নতুন করে সাজানোর দায়িত্ব নিয়েছে বড় বড় কৃষি শিল্প প্রতিষ্ঠান।

পৃথিবীর সেরা দৃষ্টান্তগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে তাদের বিশাল আয়োজন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফুল

জেনে নিন জিনিয়া ফুলের চাষাবাদ পদ্ধতি ও পরিচর্যা

গ্রাম বাংলার এক অতি পরিচিত সুন্দর ফুল হলো জিনিয়া | এই ফুলের চাষ বাণিজ্যিকভাবে যেমন হয়ে থাকে তেমনি অনেকে বাড়ির ছাদে টবে এই ফুলের চাষ করে থাকেন | জিনিয়ার চাষ করা মোটেই ব্যয়বহুল নয়। এবং, খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে এই ফুল | তাই, কৃষকরা এই ফুল চাষে খুবই আগ্রহী হয় | সারা বছর এই ফুলের চাষ করা যায় | ফুলের রং লাল, গোলাপি, বেগুনি ও হলুদ প্রভৃতি হয়ে থাকে।  ফুলদানিতে সাজাবার জন্য এবং তোড়া তৈরির জন্য এই ফুল বহুল ব্যাবহৃত হয় |

জাত:

জিনিয়া ফুল বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে | তবে, সিঙ্গেল ও ডাবল জাতের জিনিয়া সাধারণত চাষ হয়ে থাকে | এর জনপ্রিয় জাত হচ্ছে ডাবল ফুল, যা চন্দ্রমল্লিকার মতো দেখতে |

মাটি(Soil):

হালকা উর্বর দো-আঁশ মাটি এই ফুল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। জলাবদ্ধ,  ভিজে  ও স্যাঁতসেতে জমিতে এই ফুল চাষ একদম ভালো হয় না |

জলবায়ু(Climate):

জিনিয়া ফুল চাষে  উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়া প্রয়োজনীয়। কিন্তু ক্রমাগত ও অত্যাধিক বৃষ্টিপাতে গাছের পাতা কুঁকড়িয়ে যেতে পারে  ও ফুল ছোট হয়ে যায়। সমভাবে ব্যাপ্ত ১০০-১২৫ সেমি. বৃষ্টিপাত ও ৩০-৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন মৌসুমি ফুলের পক্ষে বিশেষ অনুকূল।

চাষের সময়(zinia flower cultivation):

জুন মাসের মাঝামাঝি এবং অক্টোবর মাসে বীজ বপণ করে চারা প্রস্তুত করা হয় |

জমি তৈরী:

সাধারণত, এই ফুল চাষের জন্য হালকা উর্বর দোআঁশ মাটি, উঁচু, শুষ্ক ও সহজে জল নিষ্কাশিত হয় এমন জমির প্রয়োজন হয় | দক্ষিণ খোলা জমি এ ফুল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। জমিতে লাঙ্গল দেওয়া বা কোপানোর সময় জমিতে পরিমাণমতো পাতাপচা সার, গোবর পচা সার, হাড় গুঁড়ো  বা সুপার ফসফেট সার প্রয়োগ করে জমির সাথে মেশাতে হবে। জমিকে সম্পূর্ণভাবে কর্ষণ করে মাটি ঝুরঝুরে ও নরম করে  ১ফুট বা ৩০ সেমি. দুরে দুরে চারা বসাতে হবে। চারা রোপনের পর জমিতে উপযুক্ত পরিমাণে ও নিয়মিতভাবে সেচ প্রয়োগ করতে হবে |

চারা রোপণ পদ্ধতি:

বীজতলার চারাগুলি ২/৩ ইঞ্চি বা ৫-৮ সেমি. এর মত লম্বা হলেই রোপণ করতে হবে। বাগানে রোপণ  করলে ১.৫ফুট বা ৪৫ সেমি. দূরে দূরে রোপন করতে হবে। রোপণের কিছু দিনের মধ্যে গাছে ও নিকৃষ্ট ধরনের ফুল ফুটতে আরম্ভ করে। কিন্তু বর্ষাকালের মাঝামাঝি ও শেষের দিকে গাছ যখন ৩ ফুট বা ৯০ সেমি. এর মত লম্বা হয় তখন গাছে বড় বড় ফুল হয়।

সার প্রয়োগ:

চারা রোপণের  প্রায় ১৫-২০ দিন পর থেকে গাছের গোড়ায় ৭ দিন পর পর তরল সার (খোল ও কাচা গোবর ১০ দিন মাটির পাত্রে ভিজিয়ে রেখে তার জল), পাতাপচা সার বা আবর্জনা সার, হাড় গুঁড়ো  দিতে হবে। ফুল আসার সময় এ তরল সারে প্রতি লিটারে ১০০ গ্রাম সুপার ফসফেট মিশিয়ে দিলে ফুলের রং ও গড়ন ভালো হয় | গাছে কুঁড়ি আসার সময় ইউরিয়া, আমোনিয়াম সালফেট সার প্রয়োগ করতে হবে |

সেচ:

গাছের গোড়া শুকিয়ে গেলে সেচ দিতে হবে | এরপর, প্ৰয়োজন অনুযায়ী গাছে সেচ দেওয়া আবশ্যক |

আগাছা দমন:

নিয়মিতভাবে আগাছা পরিষ্কার করা বাঞ্চনীয় | গাছ বড় হলে প্রতি গাছ থেকে ৩ বা ৪ তে বড় শাখা রেখে বাকিগুলি ছেঁটে দিতে হবে | তাতে গাছে ফুল বড় হবে |

ফুল সংগ্রহ:

ফুলের আকার বড় হলে তা সংগ্রহ করে নিতে হবে | ফুল গাছে ১০ থেকে ১২ দিন থাকার পর শুকিয়ে যায় | বোঁটাসহ ফুল সংগ্রহ করতে হয় |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

রাজধানীতে লাল শাপলা

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষাকাল অন্যতম। এসময় নদী-নালা, খাল-বিল পানিতে ডুবে যায়।

বিলের পানিতে ফোটে দেশের জাতীয় ফুল শাপলা। গোলাপী, লাল ও সাদা রঙের শাপলা দেখা মেলে বেশি। জাতীয় ফুলের রঙ সাদা হলেও লাল শাপলা মানুষকে আকর্ষিত করে বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব কাছেই আছে লাল শাপলার বাহার। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একপাশে রমনা কালী মন্দির। সেটির সঙ্গে লাগোয়া আছে একটি ছোট্ট ঝিল, যেখানে ফুটেছে অসংখ্য লাল শাপলা ফুল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসা দর্শনার্থীরা প্রতিদিনই এই লাল শাপলা দেখতে ভিড় করে ওই ঝিলে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন অপূর্ব সৌন্দর্য আছে, তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। বিষয়টি না জানার ফলে মানুষ এই শাপলা দেখতে ছুটে যান শহরের বাইরে।

বর্ষার সময় যখন বিলের পানিতে শাপলা ফুল ফোটে, তখনও সেটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেখানে ফুলের সৌন্ধর্য দেখতে বা ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে ছুটে যান অনেক পর্যটক।
সাধারণত বর্ষা মৌসুমে খাল, বিল, ঝিল, দিঘী, নালা ও পুকুরে এমনকি জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায় শাপলা। মানুষ শাপলা তুলে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে, কেউ আবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকাও নির্বাহ করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

বিদেশি জাতের মাল্টা বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে জয়পুরহাটে

জয়পুরহাট: জেলার বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে ধান-আলু উৎপাদনে কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলার খ্যাতি প্রাচীনকাল থেকেই। তবে নতুনভাবে পরিচিতি ঘটতে যাচ্ছে এ অঞ্চলের। উত্তরবঙ্গে সর্ববৃহৎ এবং জয়পুরহাট জেলায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন ক্ষেতলাল উপজেলার সমন্তাহার গ্রামের আদর্শ কৃষক এস এম রওশন জামিল।

তিনি নিজস্ব উদ্যেগে ১ হেক্টর (৭.৫ বিঘা) বন্যামুক্ত উঁচু জমিতে উন্নত জাতের বিদেশী ‘বারী মাল্টা-১’ মাল্টা ফল চাষ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে শ্রম আর ঘামের প্রতিফলন হিসেবে তিনি বর্তমানে বাগান থেকে কাঙ্খিত মাল্টা ফল বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা শুরু করেছেন।

সরেজমিনে ও ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেতলাল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬/৭ কিলোমিটার দক্ষিণে মামুদপুর ইউনিয়নে ভাসিলা-পূরানো গোপীনাথপুর রাস্তার দক্ষিণ পার্শ্বে সমন্তাহার গ্রাম। সেই গ্রামের আদর্শ কৃষক এসএম রওশন জামিল ‘মনোয়ারা রজিব এগ্রো ফার্ম’ নামে ১ হেক্টর (৭.৫ বিঘা) বন্যামুক্ত উঁচু জমির উপর বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে নতুন উদ্ভাবিত ‘বারী মাল্টা-১- চাষ শুরু করেছেন।

এই ফল বাগানে গত ২০১৭ সালে জানুয়ারি মাসে প্রায় ৬০০টি ‘বারী মাল্টা-১’ মাল্টা গাছ রোপন করেন। বর্তমান কাঙ্খিত মাল্টা ফলগুলো গাছে গাছে বাতাসে বাতাসে দুলছে এবং ফলগুলো ফুট প্যাকিং শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যে কাঙ্খিত বিদেশি জাতের মাল্টা ফল বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছেন। কলম করে মাল্টা ফলের প্রতিটি চারা প্রায় ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এই মাল্টা ফলের বাগান এক নজর দেখার জন্য প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে কৃষক, বৃক্ষপ্রেমি, ফলচাষি ও বাগান মালিকরা আসেন। জামিলের ওই দৃষ্টি নন্দন মাল্টা ফলের বাগান এখন সবার মুখে মুখে।

ক্ষেতলাল উপজেলার সমন্তাহার গ্রামের আদর্শ মাল্টা ফল চাষি এস এম রওশন জামিল বলেন, উত্তরবঙ্গে সর্ব বৃহৎ এবং জয়পুরহাট জেলার এই প্রথম আমি ১ হেক্টর জমিতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ব্যয়ে বাংলাদেশে নতুন উদ্ভাবিত উন্নত জাতের বিদেশি ‘বারী মাল্টা-১’ ফলের বাগান বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেছি। আমার এই মাল্টা ফল বিষ ও ফরমালিন মূক্তসহ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। টাটকা ফলগুলো নিজ এলাকাতে চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতে সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমান বাজারে ২শ থেকে ২২০/-টাকা পর্যন্ত কেজি বিক্রি হচ্ছে এই মাল্টা। আশা রাখি এই মাল্টা ফলগুলো প্রায় ৬ লাখ টাকা বিক্রি হবে। এই বাগানে প্রতিদিন ৫ জন কর্মচারী কাজ করেন। আমার এই মাল্টা ফলের বাগান এলাকাতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ক্ষেতলাল উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলমগীর কবির বলেন, এই এলাকার কৃষকেরা ধান ও আলুর চাষ করতে বেশি অগ্রহী হয়। এই সব চাষাবাদ ছাড়াও অনেক ধরনে ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে আধিক লাভবান হওয়া যায়। সেই চেষ্টাই করেছি এবং আমরা জামিলের মাল্টা ফলের বাগানের মাধ্যমে তা দেখছি। আমরা যা চেয়েছি, তার চেয়ে অনেক বেশি সফল হয়েছি। তিনি আর্থিকভাবে অনেক লাভবান হবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

শাপলা বেচে জীবন চলে ৩০০ পরিবারের

গাজীপুরের কাপাসিয়া ও শ্রীপুর উপজেলায় বেশ কয়েকটি বিল রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব বিল ও পারুলী নদী থেকে শাপলা তুলে জীবিকা নির্বাহ করে আশপাশের অন্তত ৩০০ পরিবার। সাদা শাপলা স্থানীয় বাজারগুলোতে খাদ্য উপকরণ হিসেবে বিক্রি হয়। আর বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকায় পাঠানো হয় লাল শাপলা। 

দুই উপজেলার নলগাঁও, প্রহলাদপুর, ডুমনী ও লক্ষ্মীপুর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির পাশে বাঁশের আড়ায় কাঁচা শাপলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। গ্রামের রাস্তায় ও বাড়ির উঠানে রোদে শুকাতে দেওয়া হয়েছে ছোট ছোট করে কাটা শাপলা। আর প্রক্রিয়াজাত শুকনো শাপলাগুলো বড় ব্যাগে ভর্তি করে বসতঘরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের গৃহিণী অঞ্জনা দাস বলেন, চার হাজার টাকায় একটি নৌকা আছে তার। শাপলা তুলে বিক্রি করে প্রতি মৌসুমে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন। দুই ছেলের পড়াশোনার খরচসহ সংসারের অন্য খরচও চলে শাপলা বিক্রির টাকায়।

একই গ্রামের দিপালী রানী জানান, নৌকা দিয়ে নদী থেকে শাপলা তুলে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করেন। ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে শাপলা বিক্রি হয়। তবে বৃষ্টিতে ভিজে বা পচে গেলে দাম কমে যায়।

গৃহিণী আশানন্দ রানী বলেন, নৌকা না থাকলে বিল থেকে শাপলা উঠাতে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকতে হয়। এতে চুলকানিসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। একটা করে বাছাই করে শাপলা তুলতে হয়। বৃষ্টি হলে পচে যায়। গত বছর সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজি দরে ১৬০ কেজি শাপলা বিক্রি করেছিলেন তিনি।

রীনা রানী বলেন, তার স্বামী ও ছেলে ভোর থেকে বিলে শাপলা উঠানো শুরু করে। একটা নৌকা পর্যায়ক্রমে একাধিক পরিবার ব্যবহার করেন। শুকনো শাপলা সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ১০ বছর ধরে শাপলা বিক্রি করে আসছেন তারা। 

তিনি আরও বলেন, এলাকায় উঁচু মাঠ-ঘাট না থাকায় রাস্তায় রোদে শুকাতে হয়। অনেক সময় বাঁশ বেঁধে তার ওপর আঁটি ঝুলিয়ে রোদে শুকাতে দেন। একজন নারী প্রতি মৌসুমে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। ময়লা ফুলের দাম কম। সক্ষমতা অনুযায়ী পাঁচ থেকে ৩০ মন পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারেন একেক জন। বিলের জায়গা মালিকানা থাকলেও শাপলা উঠাতে বাধা দেয় না কেউ।

নলগাঁও গ্রামের গৃহিণী শেফালী রানী বলেন, কমপক্ষে চার মাস পর্যন্ত শাপলা সংগ্রহ করতে পারেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে শাপলা কেটে রোদে শুকাতে বিক্রিযোগ্য করতে কমপক্ষে পাঁচদিন সময় লাগে। বিলে পানি থাকে যতদিন শাপলা পাওয়া যায় ততদিন।

প্রহলাদপুরের কৃষক লিটন দাস বলেন, গত ১০ বছর ধরে এসব এলাকায় লাল শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রি করা হচ্ছে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একজন ব্যক্তি অনেকগুলো শাপলা সংগ্রহ করতে পারেন। সেগুলো শুকানোর পর কমপক্ষে পাঁচ কেজি হয়। সাধারণত পুরুষরা শাপলা সংগ্রহ করেন। শুকানোর কাজ করেন নারীরা। মাস দেড়েক পর পর ঢাকা থেকে লোকজন এসে ট্রাকযোগে শুকনো শাপলা নিয়ে যাবে। বর্তমানে শাপলা ফুলের বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় এলাকার প্রায় সবাই সংগ্রহের কাজ করে

চতর বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল কাদির (৫৬) জানান, এক কেজির আঁটি সাদা শাপলা প্রতি মুড়ি (আঁটি) সাত টাকায় কিনে ১০ টাকায় বিক্রি করেন। একদিন পর পর স্থানীয়রা শাপলা তুলে বাজারে নিয়ে আসেন।

ক্ষেত্র মোহন মন্ডল (৯০) জানান, তিনিই প্রথম শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রি শুরু করেন। শুকনো শাপলা পাইকাররা ওষুধ বানানোর জন্য বাড়ি থেকে এসে কিনে নিয়ে যায়। তিনি এক মণ আট হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এস এম মুয়ীদুল হাসান বলেন, পারুলী নদী ও পাশের বিলগুলোতে বর্ষাকালে প্রচুর শাপলা ফোটে। গত প্রায় ১০ বছর ধরে এলাকার শত শত পরিবার শাপলা ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ঔষধি উপাদান হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে শাপলার। 

তিনি আরও বলেন, সংগ্রহকারীরা ঢাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাপলা বিক্রি করেন। সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি শাপলা এখন ফুলের বিপরীতে জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

রূপসী এক বুনো ফুল

গভীর ঘুমে হারিয়ে যেতে যেতে মাঝেমধে৵ এমন কিছু বাড়ি, পথ, দৃশ্য বা স্থানের দেখা পাই, যেগুলো খুবই চেনা মনে হয়। জেগে ওঠার পর এসব দৃশ্য সারা দিন মন নিয়ে খেলা করে, অদ্ভুত এক মায়াবী আবেশ ছড়িয়ে রাখে। বান্দরবান থেকে রাঙামাটি যাওয়ার এই সুদৃশ্য পাহাড়ি পথটুকু অনেকটা ঘুমের ভেতর আবছা আলোয় দেখা তেমনই একটি স্বপ্নখচিত শৈলরেখা। মনে হচ্ছিল এমন একটি পথ ঘুমের ঘোরে কতবার যে পাড়ি দিয়েছি! দুপাশের প্রতিটি ফুল-পাতার সঙ্গে কথা বলে বলে দিনমান কাটিয়ে দিতে চেয়েছি। কিন্তু বাস্তবে কি আর তা সম্ভব? গাড়িচালক যেন সর্বশক্তি দিয়ে গাড়িটি টেনে নিয়ে যাচ্ছেন গন্তব্যের দিকে! তবু যতটা সম্ভব দুপাশের দৃশ্যগুলোয় চোখ রাখছি।বিজ্ঞাপন

যানজট, কোলাহল, ধোঁয়া ও ধুলা কিছুই নেই। গাছের পাতাগুলো লোভনীয় সবুজে মোড়ানো। চোখজুড়ানো এর রং। কান পাতলে শুধুই বাতাসের শব্দ শোনা যায়। ঘোরের মধ্যে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে সময়। গাড়ি এসে দাঁড়াল কর্ণফুলী নদীর ঘাটে। সামনেই কাগজকলের জন্য বিখ্যাত চন্দ্রঘোনা বাজার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুপুরের খাওয়া সেখানেই সেরে নিলাম। খাবারের বর্ণনা এখানে নাই–বা দিলাম। তবে ‘বাংলা কদু’র কথা স্মরণে থাকবে অনেক দিন! খাওয়ার পর আবার ছুটল গাড়ি। এবারের আকর্ষণ কাপ্তাই লেক। হঠাৎ পথপাশের একমুঠো রং থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করল। মুহূর্তেই মনে হলো কিছুটা ভিন্ন এই রং। গাড়ি থামিয়ে ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে এলাম। কিছুটা পেছনে এসে সেই রঙের উৎস খুঁজে পাওয়া গেল। চিনতে অসুবিধা হলো না। এ যে বন-নীল! তবে নাম নীল হলেও ফুলে নীলের ছিটেফোঁটাও নেই। বরং আছে বেগুনি আভা। সম্ভবত নীলগাছের পাতার সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্য থাকায় এমন নামকরণ। গাছটি আগে আরও কয়েকবার দেখলেও ফুলসহ প্রথম দেখলাম।বিজ্ঞাপন

বন-নীল (Tephrosia purpurea) একধরনের বহুবর্ষজীবী বুনো উদ্ভিদ। এটি শাখা-প্রশাখাযুক্ত ছোট ধরনের ঝোপালো গাছ। পাতা ৫ থেকে ১০ সেন্টিমিটার লম্বা, ছোট ও শিরাযুক্ত পত্রক সর্বোচ্চ ২১টি হতে পারে। প্রস্ফুটনকাল শরৎ থেকে শীতের প্রথম ভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। ফুলের রং গাঢ় বেগুনি। ফল শিমের মতো, ৪ থেকে ৬ সেন্টিমিটার লম্বা, আংশিক বাঁকানো, বীজের সংখ্যা ৫ থেকে ৯টির মতো। একসময় ঢাকাসহ প্রায় সারা দেশেই দেখা যেত। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত উদ্ভিদ ও প্রাণিজ্ঞানকোষ-এর তথ্যমতে, গাছটির পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সহজে দেখা মেলে। বিশেষত রাঙামাটির কাপ্তাই এলাকার বনাঞ্চলে সংখ্যায় বেশি। Fabaceae পরিবারের এ উদ্ভিদ মূলত আবাসস্থল ধ্বংসের কারণেই এখন সংখ্যায় কমেছে। ইংরেজি নাম ওয়াইল্ড ইনডিগো, পার্পল টেপ্রোসিয়া, ফিশ পয়োজন ইত্যাদি।

আদি আবাস পূর্ব ভারত। সেখান থেকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া, উষ্ণমণ্ডলীয় আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে গাছটি আপাতদৃষ্টে আগাছা হলেও এর অর্থনৈতিক ও ভেষজ গুণ অনেক। সাধারণত পতিত জমি, পাহাড়ের গায়ে ও সড়কের ধারে জন্মে। কোনো কোনো দেশে জমিতে সারের বিকল্প হিসেবে চাষ করা হয়। কারণ, এ উদ্ভিদ বায়বীয় নাইট্রোজেন সংরক্ষণ করতে পারে, যা জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে।

বন-নীল রক্ত পরিষ্কারক ও কৃমিনাশক। আবার আলসার ও অ্যাজমা চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা হয়। পাতা অন্ত্রীয় টনিক, ক্ষুধাবর্ধক, ফুসফুস ও বক্ষব্যাধির সমস্যায় কার্যকর। পেটের অসুখ ও ডায়রিয়ায় ব্যবহার করা হয়। গেঁটেবাত, পাইলস ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়েও কার্যকর। বীজতেল চুলকানি, অ্যাকজিমা ও চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার্য। তবে এ গাছে সীমিত পরিমাণ বিষাক্ত উপাদান টেপ্রোসিন আছে, যা মাছ ধরতে ব্যবহার করা হয়। এই উপাদান মাছকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। কিন্তু এ বিষাক্ত উপাদান স্তন্যপায়ী প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভেষজ উপাদান ও কৃষিজমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির জন্য অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্ভিদ বাণিজ্যিকভাবেও চাষ করা যেতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com