আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

ফুলকপি চাষে লাভবান দাউদকান্দির কৃষকেরা

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কাটারাপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া, বিটেশ্বর গ্রামের রফিক ভূঁইয়া, নৈয়ার গ্রামের রফিক মিয়াসহ অনেকে এবার ফুলকপি চাষ করে লাভবান হয়েছেন। গতকাল শনিবার উপজেলার তিনটি গ্রামের মাঠ ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া যায়।

কথা হয় নৈয়ার গ্রামের কৃষক রফিক মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, নিজের ৪০ শতক জমিতে এবার ফুলকপি চাষ করেছেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। প্রতিটি ফুলকপি পাইকারি ১৬ টাকা হিসাবে বিক্রি করায় খরচ বাদ দিয়ে তিনি লাভ করেছেন ৫৭ হাজার টাকা।

কাটারাপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া জানালেন, তিনি ২৫ শতক জমিতে ফুলকপির চাষ করেছেন। তাঁর খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে তিনি লাভ করেছেন ২৫ হাজার টাকা।বিজ্ঞাপন

বিটেশ্বর গ্রামের কৃষক রফিক ভূঁইয়া বলেন, তিনি নিজের ১২ শতক জমিতে ফুলকপির চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে আট হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন ২২ হাজার টাকা। তাঁর লাভ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা।

উপজেলার পেন্নাই বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, করোনার বছরে সবজির গুণগত মান অন্যান্য বছরের তুলনায় খুবই ভালো।

ফুলকপির খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক। শনিবার বিকেলে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কাটারাপাড়া গ্রামের মাঠে
ফুলকপির খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক। শনিবার বিকেলে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কাটারাপাড়া গ্রামের মাঠে

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা কমিটির সদস্য মতিন সৈকত বলেন, চলতি বছর সবজির জমিগুলোতে কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে দাউদকান্দি তাই এগিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার জামান বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়, পোকার আক্রমণ না হওয়ায় এবং বাজারে সবজির চাহিদা থাকায় কৃষক সবজি চাষে বেশ লাভবান হচ্ছেন। চলতি বছর দাউদকান্দিতে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে।

ফসল

সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষ, নোয়াখালীর কৃষকদের সফলতা

নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের জমি অতিরিক্ত লবণাক্ত হওয়ায় ফসল উৎপাদনে আশানূরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই উৎপাদনে ভালো ফলের আশায় পেতে ইন্দেনেশিয়ার এক চাষাবাদ পদ্ধতি চালু করা হয় এ অঞ্চলে। যার নাম সর্জন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ করে জেলাটিতে সফলতাও এসেছে।

বর্তমানের জেলার সুবর্ণচর ও হাতিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলায় এ পদ্ধতিতে প্রতিবছর প্রায় ৫৫ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলার ২০৭১ হেক্টর (৫৫১৫ একর) জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে সবজির চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত সবজি জেলার চাহিদা পূরণ করে পাশ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সর্জন পদ্ধতিতে জেলার সুবর্ণচরে ১৮৫০ হেক্টর, হাতিয়ায় ২১০ হেক্টর, সদরে ৬ হেক্টর, কবিরহাটে ২ হেক্টর, কোম্পানীগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলায় ১ হেক্টর করে মোট ২০৭১ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে শশা, করলা, বরবটি, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে অন্তত ১৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে শশা। এছাড়া ২০৭১ হেক্টর জমির মাচার নিচে চাষ হচ্ছে তেলাপিয়া, রুই, কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। আগামী মৌসুমে আরও ৪০০-৫০০ একর জমি সর্জন পদ্ধতির আওতায় আনা হবে।

জানা গেছে, সর্জন পদ্ধতিতে সবজি ও মাছ চাষ এখন চরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। স্বল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় নতুন এ পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উপকূলের কৃষদের মাঝে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, সারি সারি আইল, তার উপর মাচা। মাচায় লাগানো হয়েছে শিম, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া, শসাসহ নানা সবজি। সেই সবজির মাচার নিচে পানি। দেখতে লেক মনে হলেও সেখানে চাষ করা হয়েছে দেশীয় নানান প্রজাতির মাছ।

কৃষকরা জানান, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলে সর্জন পদ্ধতিতে সবজির আবাদ হয়। ফলে ভাগ্য পরিবর্তন শুরু হয় এ অঞ্চলের কৃষকদের। স্বল্প খরচে অধিক আয়ের কারণে কৃষকদের কাছে এ পদ্ধতি হয়ে ওঠে জনপ্রিয়। প্রতি একর জমিতে প্রায় এক লাখ টাকার সবজি উৎপাদন হয়। সর্জন পদ্ধতির এ উদ্যোগকে জেলা জুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কৃষক তৈরি ও কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋণ ব্যবস্থা বা প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষিবিদরা।

চরক্লার্ক ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মনির হোসেন বলেন, আগে আমাদের ক্ষেতে তেমন কোনো ফলন হতো না। বর্তমানে সর্জন পদ্ধতি সবজি চাষ করে খরচ বাদ দিয়ে প্রতিবছর আমাদের দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভ থাকে। যা দিয়ে আমাদের সংসার ভালোভাবে চলছে।

কৃষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে এক একর জমিতে শশা, সিম ও মাছ চাষ করছি। নিজের জমিতে উৎপাদিত সবজি ও মাছ বিক্রি করে যা আয় হয় তা নিয়ে আমরা অনেক সুখে আছি।

জাফর আহমেদ নামের একজন পাইকার বলেন, আমরা চরের কৃষকদের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করে সুবর্ণচর, মাইজদী, দত্তেরহাটসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করি। চলতি মৌসুমে আট টাকা করে ৪০ হাজার কেজি শশা, ২০ টাকা করে এক হাজার ১০০ কেজি শিম, ১৮ টাকা করে তিন হাজার কেজি চিচিঙ্গা ও লাউসহ পাঁচ লাখ টাকার সবজি কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করেছি।

সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, এ অঞ্চলের প্রায় দুই হাজার একর জমিতে বর্তমানে সর্জন পদ্ধতিতে শশা, বরবটি, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা’সহ উৎচফলনসিল সবজি উৎপাদন হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষীদের প্রশিক্ষণ, বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শহীদুল হক জানান, নোয়াখালীর চরাঞ্চলে সর্জন পদ্ধতিতে স্থানীয়দের আগ্রহ বাড়ায় আগামী মৌসুমে চাষের জমি আরও বাড়ানো হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

মিষ্টি আলু চাষে সফল ডুমুরিয়ার চাষিরা

মিষ্টি আলু আবাদে সফলতার মুখ দেখছেন খুলনার ডুমুরিয়ার চাষিরা। এবছর ডুমুরিয়া উপজেলায় কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রথম বারের মত এক হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর আবাদ হয়েছে। বারি মিষ্টি আলু ৮ এবং ১২ জাতের এ আলু চাষ করে কৃষক অত্যন্ত খুশি।

ডুমুরিয়া উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের কৃষক মৃত্যুঞ্জয় বাংলানিউজকে বলেন, কৃষি অফিস থেকে প্রথম বারের মত লতি ও সার পেয়ে ২০ শতক জমিতে বারি মিষ্টি আলু ১২ জাতের চাষ করি।  আগে লবণাক্ততার কারণে  যেখানে কেবলমাত্র একটি ফসল হতো এবং আমন পরবর্তী সময়ে পতিত থাকত, সেই জমিতে ৬২ মন আলু পেয়েছি। উৎপাদন খরচ কম ও ভালো মূল্য পাওয়ায় আগামীতে অনেক কৃষক এটির চাষ করবে।

সলুয়া গ্রামের কৃষক রনজিত মণ্ডল বলেন, প্রদর্শনী সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পেয়ে আমি ২০ শতক জমিতে প্রথম বারের মত বারি মিষ্টি আলু ৮ জাতের আলুর আবাদ করেছিলাম এবং ৪২ মণ আলু পেয়েছি। বাজার মূল্যও গোল আলুর তুলনায় ভালো এবং ঝুঁকি কম, এজন্য আগামীতে এর আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকরা অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করেই লাভের মুখ দেখছেন বলে জানান চাষিরা।

তারা জানান গত কয়েক বছর ধরে বাজারে মিষ্টি আলুর চাহিদা বেড়েছে। ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী বাজারে মিষ্টি আলুর দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। মিষ্টি আলু চাষাবাদে তেমন একটা সার প্রয়োগ করতে হয় না বলে খরচ কম। এ ফসলে তেমন কোনো রোগ বালাইও দেখা যায় না। তাই এই আবাদে অল্প পুঁজি ও শ্রমে অধিক লাভ পাওয়া যায়। যে কারণে মিষ্টি আলু চাষ করে ভাগ্যবদলের স্বপ্ন দেখছেন এই উপজেলার কৃষকরা।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উচ্চ ফলনশীল, ঝুঁকি ও রোগ পোকামাকড় কম, অল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়া যায়।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোছাদ্দেক হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, এটি স্বল্প জীবন কালীন এবং অত্যন্ত পুষ্টি সমৃদ্ধ উচ্চ মূল্যের একটি সবজি। ডুমুরিয়ার আবহাওয়া এবং মাটি এটি চাষের জন্য উপযোগী এবং এ ফসলে ঝুঁকিও কম। এটি মাটিকে ঢেকে রাখে বলে মাটিতে অনেক দিন রস থাকে, আগাছা কম হয় এবং এর পাতা পচে উৎকৃষ্ট সার হয়।

তিনি আরও বলেন, এটি সম্প্রসারণের জন্য আমরা কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষককে নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রদর্শনী সহায়তা দিচ্ছি এবং এটি সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতে এর আবাদ ও এলাকা বৃদ্ধি পাবে।  

কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের পিডি কৃষিবিদ মো. মোখলেছুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন,  আগে কন্দাল ফসল অনাদর অবহেলায় বিভিন্ন বাগান বাদাড়ে বিক্ষিপ্ত ভাবে জন্মাতো, কন্দাল ফসল বলতেই নিরাপদ এবং উচ্চ মূল্যের, এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা কৃষককে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করে এটি বাণিজ্যিক চাষাবাদ ও উদ্যোক্তা তৈরির কাজ করছি এবং কৃষকের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির জন্য এটি বাইরে রপ্তানির জন্যও কাজ করছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

সৈয়দপুরে বারোমাসি পেঁয়াজের পরীক্ষামূলক চাষ

বারোমাসি পেঁয়াজের পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। এই চাষ সফল হলে পেঁয়াজ নিয়ে যে সংকট সেটি আর থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।এরকম টার্গেট নিয়ে কাজ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।  

উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রথমে ৩০ জন কৃষক ও জমি বাছাই করা হয়। সরকারি প্রণোদনার আওতায় তাদের দেওয়া হয় পেঁয়াজের বীজ, সার ও আর্থিক সহায়তাসহ অন্যান্য সুবিধা।  

উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর, বাঙালিপুর ও বোতলাগাড়ি ইউনিয়নে কৃষকরা সেই বীজ নিয়ে অংকুরোদগম করেন। তারপর জমি তৈরি করে বপন করেন। প্রতিকুল আবহাওয়া যাতে ক্ষতি করতে না পারে তার জন্য পলিথিন দিয়ে তৈরি করেন ডোল।  

কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও পরামর্শে পেঁয়াজ চাষ নিয়ে অনেকটা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ওইসব চাষিরা। বাঙালিপুরের বালাপাড়া ও বোতলাগাড়ির সোনাখুলিতে দেখা যায়, পেঁয়াজ চাষে মনোনিবেশ করেছেন চাষিরা। কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউবা বপন করছেন, কেউবা পলিথিনের ডোল তৈরি করছেন। কিভাবে বপন করতে হবে তা দেখিয়ে দিচ্ছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।  

এ কাজে কৃষি অফিসার শাহিনা বেগম, কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুনীল কুমার দাস, সৈয়দপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. সালাহউদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মমতা সাহাসহ মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলার ৩০ জন কৃষকের মাধ্যমে ১০ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ পেঁয়াজের চাষ শুরু হয়েছে। এর থেকে সফলতা আসলে আগামীতে গোটা উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে এ পেঁয়াজের আবাদ।  

কৃষি বিভাগের মতে, নাসিক বেড-৫৩ জাতের পেঁয়াজ সংক্ষেপে এন-৫৩ দুই মৌসুমে আবাদ করা যাবে। শীত ও গ্রীষ্ম দুই মৌসুমেই এ জাতের পেঁয়াজ চাষের উপযোগী। বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি মোকাবিলায় এটি কার্যকরী হবে। ওরিয়ন কোম্পানির এই পেঁয়াজের বীজ মানসম্মত ও পরীক্ষিত বলছে কৃষি বিভাগ।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহিনা বেগম জানান, কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও পরামর্শে কৃষকরা এই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এ জাতের পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছেন। টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।  

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মাটি এই জাতের পেঁয়াজ চাষের উপযোগী। তা আগেই পরীক্ষা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। সব ধরনের সাপোর্ট কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

নতুন জাতের আমন উদ্ভাবন, কম সময়ে বেশি ফলন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নতুন জাতের আমন ধান উৎপাদন করেছেন জিন বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরী। নতুন জাতের আমন ধানের চারা রোপণের পর নির্ধারিত সময়ের দেড়মাস আগেই এ ধান কাটা সম্ভব বলে দাবি উদ্ভাবকের।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) এই নতুন জাতের আমন ধান কেটে ঘরে তোলা শুরু করেন বিজ্ঞানীর নিয়োগকৃত কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নের কৃষক রাসেল মিয়া। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরীর নিয়োগকৃত কৃষক রাসেল মিয়া ৩০ শতক জমিতে প্রদর্শনী হিসেবে কানিহাটি-১ থেকে কানিহাটি-১৬ আমন ধান চাষ করেন। জীন বিজ্ঞানীর নিজ গ্রামের নামে নতুন জাতের ধানের নাম রাখেন কানিহাটি। সাধারণত আমন ধানের বীজতলা তৈরি থেকে ফসল কাটা পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় সাড়ে চার মাস। এরপর আমন কেটে ঘরে তুলতে হয়। অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটা হয়। 

রাসেল মিয়া জানান, এ বছর আমন প্রদর্শনী মাঠে ৩০ শতক জমিতে ১৪ মণ ধান হয়েছে। এ ধানে চিটা’র পরিমাণ নেই। এলাকার কৃষকরা এই জাতের আমন ধানের ফলন দেখে আগামী মৌসুমে চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়েছেন। কম সময়ে ভালোমানের ধান উৎপাদন সম্ভব বলেও জানান তিনি।

অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী জিন বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী বলেন, আমার উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধানের নাম আমার গ্রামের নামে কানিহাটি ১ থেকে ১৬ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। আউশের সময় একজমি থেকে তিন বার ধান কেটে ঘরে তোলা হয়েছে। সঠিক পরিচর্যায় ও অল্প সার প্রয়োগে তিন বার ফসল কেটে ঘরে তোলা সম্ভব। সে জমিতে এখন চতুর্থবারের মতো ফসল এসেছে। এই পদ্ধতিতে সারা বছর ধান চাষ করলে ভালো ফলন হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

১১০ দিনে বিনা-১৭ ধানের বাম্পার ফলন

ময়মনসিংহ অঞ্চলে চলতি আমন মৌসুমে চাষ করা স্থানীয় জাতের ধানের এখনো থোর বের হয়নি অথচ বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউ (বিনা) উদ্ভাবিত আগাম জাতের বিনাধান-১৭ এর কর্তন শুরু হয়েছে। স্বল্প সময়ে ভালো ফলনে এ ধানকে ঘিরে কৃষকদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। খরা সহিষ্ণু, স্বল্প জীবনকালীন ও অধিক ফলনশীল বিনাধান-১৭ এর বাম্পর ফলন দেখে বেজায় খুশি কৃষক।

পাখির চোখে এমন দৃশ্য দেখে সহজেই বুঝা যায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে সবুজের মাঝে এক খণ্ড জমিতে সোনালী বিনাধান-১৭ যেন চাঁদর বিছিয়ে রেখেছে। চলতি আমন মৌসুমে ময়মনসিংহ অঞ্চলে স্থানীয় জাতসহ রোপন করা বিভিন্ন জাতের ধান গাছে এখনো থোরই বের হয়নি। মাঝে মধ্যে একটা দুইটা শীষ গজালেও পরিপক্ক হতে আরো দেড় মাস লেগে যাবে। অথচ একই সময়ে চাষ করা বিনাধান-১৭ এখনই পেকে গেছে। ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিনাধান-১৭ কর্তন শুরু হয়েছে।

জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের কোনাগাঁও কেজাইকান্দা গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউ (বিনা) থেকে ১০ কেজি বীজ নিয়ে ১৫ শতাংশ জমিতে বিনাধান-১৭ রোপন করেছিলেন। এখন ক্ষেতে বাম্পার ফলন হয়েছে। আশপাশের অন্য ক্ষেতের ধানে থোর না আসলেও বিনাধান-১৭ পেকে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামীতে পুরো জমিতে বিনাধান-১৭ লাগানোর ইচ্ছা রয়েছে।  

কৃষিবিদ একেএম আজিজুল হক দুদু বলেন, ৫২ শতক জমিতে বিনা-১৭ চাষ করেছি। প্রথমে একটু ভয় ছিল ধানকে ঘিরে। রোপনের পর ফলন ভালো হওয়ায় আশা জাগিয়ে তুলেছে বিনাধান-১৭। এলাকার অনেক কৃষক আগামীতে এ ধান চাষ করার জন্য পরামর্শ নিচ্ছেন। আশা করা যাচ্ছে কয়েক বছরের মধ্যে এটি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আশ্বিন মাসে বিনাধান-১৭ কর্তন করতে পেরে ভালো লাগছে। সাধারণত অগ্রায়ন মাসে আমরা আমন ধান কর্তন করে থাকি। এ ধানগুলোর ছড়া অন্য ধানের ছড়ার চেয়ে বেশ বড়। ধানের রংও ভালো। আশা করছি দামও ভালো পাব।

কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, অনেকেই বিনাধান-১৭ রোপন করার সময় তাদেরকে নিয়ে হাসাহাসি করেছি। কিন্তু আজকে তারা ধান কাটছে। আর আমাদের ক্ষেতে এখনও থোরই হয়নি। আগামীতে আমরাও বিনাধান-১৭ রোপন করব।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ও বিনাধান-১৭ এর উদ্ভাবক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, চীন, ইরি এবং বিনা যৌথ গবেষণা করে অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে বিনাধান-১৭ উদ্ভাবন করা হয়েছে। এই ধানটি রোগ বালাই সহনশীল, এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া সার ও অর্ধেক পানি সাশ্রয়ী এবং খরা সহিষ্ণু হওয়ায় আগাম ও অধিক ফলনশীল বিনাধান-১৭ কে ‘গ্রীণ সুপার রাইস’ বলা হয়। এই ধানটি ‘মেগা ভ্যারাইটি’ হবে।

প্রতি হেক্টর জমিতে ৮ টন ধান পাওয়া যায়। রোপনের ১১০ দিনে ধান কাটা যায়। একই জমিতে বিনাধান-১৭ করে আরো কমপক্ষে তিন থেকে চারটি ফসল অতিরিক্ত করে বোরো আবাদ করা সম্ভব। এতে করে কৃষকদের আয় বাড়বে। ২০৩০ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে চ্যালেঞ্জ নেয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে বিনাধান-১৭ সারা দেশ ব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলেও এই ধানটি দিনদিনই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com