আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

ফুটবলের সেই নান্দনিকতা কি হারিয়ে গেল?

সম্প্রতি গ্রামের বাড়ি থেকে একটি ছেলে আমার বাসায় এসেছে। নাম মুক্তার। চাঁদপুরের হাইমচরে তার বাড়ি। একেবারেই গ্রামীণ পরিবেশে বড় হওয়া এক তরুণ। চাষাবাদের কাজে সহযোগিতা করাই তার কাজ। খুব বেশি বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে তার ধারণা নেই। এমনকি ফুটবল নিয়ে বিশ্বব্যাপী এ মাতামাতি তার মোটেই গায়ে লাগে না। আমি গত সংখ্যার লেখায় বলেছিলাম, ফুটবল বিশ্বকাপের জ্বরে আক্রান্ত হয় না, এমন মানুষ নেই। ওকে দেখার পর বুঝলাম, এমন মানুষও আছে বিশ্বকাপের বাতাস যার গায়ে লাগে না। ওকে নিয়ে বেশ মজাই হলো।

বিশ্বকাপ এলে আমার একান্নবর্তী বাসার সবাই মিলে উৎসব করে খেলা দেখতে বসি। আমার ভাই-ভাবী, ছেলেপেলে, ভাস্তে-ভাস্তি, ভাগ্নে-ভাগ্নি সবাই মেতে উঠি আনন্দে। আমরা যে যে দলই সমর্থন করি না কেন খেলা দেখার আনন্দ সবাই সমানতালে উপভোগ করি। ফুটবল নিয়ে মুক্তারের একেবারেই নিরাসক্তিতে আমরা সবাই অবাক। মনে হলো জীবনে ফুটবল খেলাও ও দেখেনি। এ বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা দূরের কথা, ও যেন কিছুই টের পাচ্ছে না। ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত দেশে ও যেন ব্যতিক্রমী এক চরিত্র।

যাই হোক, গত ১৬ জুনের কথা। ওইদিন ছিল আইসল্যান্ড আর আর্জেন্টিনার খেলা। ঘরে বেশ কয়েকটি বিশ্বকাপের রেপ্লিকা ফুটবল ছিল। আমার ছোট ছেলে বিজয় ফুটবলের বিশেষ ভক্ত। সারাবছরই ও ফুটবল উত্তেজনায় মত্ত থাকে। ওর জন্যই রেপ্লিকার ওই সংগ্রহ। একটি বল এনে মুক্তারের হাতে দিলাম। বললাম, এই বল নিয়ে বসে তুই খেলা দেখবি। মুক্তার যথা আজ্ঞা হয়ে খেলা দেখতে বসল। বললাম, মাঠে যে ২২ জন খেলোয়াড় খেলছে এর মধ্যে একজন বিখ্যাত খেলোয়াড় আছে, যে সবচেয়ে ভালো খেলোয়াড়। নাম মেসি। তুই খেলা দেখে বলবি, ওই খেলোয়াড় কোনটা। যাই হোক, খেলার শেষ দিকে এসে আমরা আহত হলাম। এত হাঁকডাক আর অপেক্ষা করে খেলা দেখে আমরা নিজেরাই যেন আর্জেন্টিনাকে খুঁজে পেলাম না। মুক্তারকে জিজ্ঞাসা করলাম, বল সবচেয়ে ভালো খেলেছে কে? তার মানে মেসি কোনটা? মুক্তার যে খেলোয়াড়টিকে দেখাল সেটি হচ্ছে আইসল্যান্ডের গোলকিপার। সবাই হল্লা দিয়ে হেসে উঠল। আমিও যারপরনাই মজা পেলাম। মুক্তারের কাছে ওইটিই ‘মেসি’। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো ফুটবলে শতভাগ নিরাসক্ত এই গ্রামীণ তরুণ খেলা না বুঝলেও ভালোটাকে চিনে নিতে জানে। সত্যিই তো, আমরা কেউই কি সেই মেসিকে খুঁজে পেয়েছি, যেই মেসিকে নিয়ে এত হাঁকডাক? খুঁজে পাইনি। পাঠক! আমার মনে হয় মুক্তারের মতো এই ফুটবলে গেঁয়ো ছেলেটির মূল্যায়নই ফুটবলের এখনকার পরিস্থিতি বোঝার জন্য যথেষ্ট।

সত্যি সত্যিই একের পর এক খেলা দেখছি, কিন্তু ২০১০, ২০১৪ বা তারও আগের বিশ্বকাপ ফুটবলের সেই মজা পাওয়া যাচ্ছে না। যে ক্রীড়ানৈপুণ্য, ফুটবলের যে ছন্দ দেখেছিলাম তা যেন হারিয়ে গেছে। যে দল বা যে খেলোয়াড়ের কাছে যত বেশি আশা তত বেশি হতাশ হতে হচ্ছে। বার বারই আমার মনে হচ্ছে ষাটের দশকে আমাদের ঢাকার মাঠে যখন খেলা দেখতে যেতাম তখনকার খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যের কথা। সেই সময় থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত বাঘা বাঘা সব ফুটবলারের যে নৈপুণ্য দেখতাম, তার কাছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এ আয়োজনও যেন ম্লান মনে হচ্ছে। যদিও এটি একেবারেই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। আমার মনে পড়ে সেই মাখরানি ফুটবলারদের কথা। বিশেষ করে জব্বার, কালা গফুর, হাশেম দীন, আব্বাস, ওমর আর আমাদের বলাই, টিপু থেকে শুরু করে জাকারিয়া পিন্টু পর্যন্ত। স্বাধীনতার পর তো আধুনিক ফুটবল নিয়ে এলেন সালাউদ্দিন, নান্নু, চুন্নু থেকে শুরু করে আসলাম, মুন্না, কায়সার হামিদ পর্যন্ত। যাদের খেলা এ প্রজন্মের তরুণরাও অনেকে দেখে থাকবে। আমি ষাটের দশকে স্কুল বয়স থেকে ঢাকা স্টেডিয়ামের একজন নিয়মিত দর্শক ছিলাম। তখন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ছিল আজকের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জায়গাটিতে। তার পাশেই সুইমিং পুল। তার পরই স্টেডিয়াম। মোহামেডানের খেলোয়াড়রা সুইমিং পুলের পাশে গেটটি দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকত। অন্য সব খেলোয়াড় ঢুকত পল্টন প্রান্ত দিয়ে। এটিই ছিল প্লেয়ার্স গেট। সেই সময় আমি নিয়মিত মোহামেডান ক্লাবে যেতাম। অধিকাংশ প্লেয়ারের সঙ্গে আমার জানাশোনা ছিল। মাঝেমধ্যেই আমি খেলা দেখার জন্য ক্লাব পাস পেতাম। ফুটবলের এত বেশি ভক্ত ছিলাম যে, টিকিট থাক বা না থাক স্টেডিয়ামে যেতাম। স্টেডিয়ামের পেছন দিক থেকে রশিতে ঝুলেও গ্যালারিতে উঠেছি। দু-এক বার ছোটখাটো দুর্ঘটনারও শিকার হয়েছি। যাই হোক, তখনকার খেলা গ্যালারিতে দেখতাম বিধায় কোথায় ফাউল হলো বা অঘটন ঘটল তা খুব বেশি চোখে পড়ত না। আজ প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর গণমাধ্যমের বিকাশের যুগে মাঠের কোনো দৃশ্যই চোখের আড়াল হয় না। যারা মাঠে বসে খেলা দেখেন তাদের চেয়ে অনেক বেশি ভালো দেখেন যারা টেলিভিশন সেটের সামনে বসে খেলা দেখেন। কিন্তু বার বারই মনে হচ্ছে খেলোয়াড়দের অবস্থানটা কোথায়? তাদের কাছে যে নৈপুণ্যের প্রত্যাশা, নেই নৈপুণ্য কোথায়? সেই সৌন্দর্য কোথায়?

ষাটের দশকে ঢাকার মাঠে জব্বার, কালা গফুরদের দেখেছি মধ্যমাঠ থেকে প্রতিপক্ষের চার-পাঁচ জনকে কাটিয়ে নিয়ে একেবারে ডি এলাকার ভিতরে গিয়ে গোল করতে। আর এখন দেখছি বড় বড় দলের নামি নামি (বিশেষ করে জনপ্রিয়তা লাভকারী খেলোয়াড়রা) দুজনকে কাটাতে গিয়েই হিমশিম খায়, কখনো কাটাতে গিয়ে সামান্য ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। কখনো এই পড়ে যাওয়া সত্যি সত্যি আবার কখনো অভিনয়ও। এক ধরনের ভান। এবারই বেশি লক্ষ্য করছি নামি নামি খেলোয়াড়দের নামে অভিনয়, নাটক বা ভানের অভিযোগ উঠছে। ষাটের দশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এক জাদু নিয়ে আবির্ভূত হন পেলে। সেই সময় তো এসব অভিনয় আর ভান ছিল না! আবার ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনাও তো উপহার দিলেন চরম এক জাদু। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছয়জনকে কাটিয়ে বিস্ময়কর গোল তিনি উপহার দিলেন। এখনো দর্শকের চোখে সে দৃশ্য লেগে আছে। আবার ঢাকার ফুটবল মাঠের জাদুকর সামাদকে দেখেছি। জাদুকর সামাদের পায়ে এমন জাদু ছিল যে, একেবারে মেপে শট দিয়ে গোলপোস্টে বল করেছেন। কথিত আছে— একবার জাদুকর সামাদ বার বার শট দিচ্ছেন বার বারই বল গোলপোস্টের বারে লেগে ফিরে আসছে। তখন তিনি চ্যালেঞ্জ করলেন গোলপোস্টের বারের মাপে গণ্ডগোল আছে। পরে মেপে দেখা গেল তার কথাই ঠিক। মনে পড়ে মোহামেডানের খেলোয়াড় প্রতাপের কথা। মাঠে কখনো মোহামেডানের পক্ষে যদি কর্নার হতো, আর শটটা যদি প্রতাপ করত তাহলে গোল ছিল অবধারিত। স্টেডিয়ামের গ্যালারি বা মাঠে তখন পিনপতন নীরবতা বিরাজ করত। প্রতাপের সেই শটটা ছিল রংধনুর মতো। বল ঘুরে গোলপোস্টের ত্রিকোণাকৃতির মতো জায়গা দিয়ে জালে ঢুকত। যেখান থেকে বল রক্ষা করা গোলকিপারের জন্যও ছিল কঠিন এবং বেকায়দার ব্যাপার। যাই হোক, ফুটবলে যারা মাঠ মাতাতেন তাদের ঐশ্বর্য ছিল অন্যরকম। তারা যখন বল নিয়ে ছুটতেন তখন এক নান্দনিক দৃশ্যের অবতারণা হতো। সেখানে থাকত গতিময়তা, থাকত ছন্দ। দিনে দিনে এ ছন্দই যে হারিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, বিশ্বকাপে নান্দনিক ফুটবল উপহার দেওয়ার মতো বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই অবসরে চলে গেছেন। তা ছাড়া এখন খেলার ধরনেও এসেছে নানামুখী পরিবর্তন। দীর্ঘস্থায়ী নান্দনিকতা দিয়ে মাঠে খেলোয়াড়দের সেই উপস্থিতি আর চোখে পড়ে না। সত্যিকার অর্থে বলের সঙ্গে লেগে থেকে শেষ পর্যন্ত নান্দনিকতা প্রদর্শনের মতো সেই ‘ফিনিশার’ এখন আর নেই।  চ্যানেল আইতে এবার আমরা বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বেশকিছু আয়োজন করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সংবাদের ভিতরে ও বাইরে নিয়মিত মতামত ও বিশ্লেষণ। এ আয়োজনগুলোয় যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদের মধ্যে একজন গোলাম সরোয়ার টিপু। তিনি ষাট ও সত্তরের দশকে ঢাকার মাঠ কাঁপানো এক ফুটবলার। মোহামেডানে খেলতেন, স্টপার হিসেবে। তখন ডিফেন্ডারকে স্টপার বলা হতো। তিনি কাউকে আঘাত করতেন না। বল নিজের আয়ত্তে রাখতে নিজের পেশিবহুল পাকে দৃঢ়ভাবে দাঁড় করাতেন। সেটিই যেন হয়ে যেত প্রতিরক্ষার এক প্রাচীর। ওই দৃঢ় পায়ের প্রতিরক্ষাকে পরাস্ত করে বল কেড়ে নেওয়া ছিল কঠিন ব্যাপার। বরং ওই পায়ে ধাক্কা খেয়েই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ছিটকে পড়ত। সেদিন ব্রাজিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা নেইমারকে দেখলাম তার প্রতিপক্ষ কোস্টারিকার খেলোয়াড়ের হাতস্পর্শেই চিৎপটাং হয়ে পড়ে যেতে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির মাধ্যমে বার বার দেখানোর ফলে সবাই বুঝেছে সেটি ছিল নিছক অভিনয়। এ নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমগুলোও রসিয়ে রসিয়ে লিখেছে। এখন প্রযুক্তির অনেক উন্নয়ন ঘটেছে, মাঠে থার্ড আম্পায়ার ফোর্থ আম্পায়ার যুক্ত হয়েছে। কোনো কিছুই দর্শকদের জানতে বা দেখতে বাকি থাকে না। এবার বিশ্বকাপ অন্যবারের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রম এজন্য, অনেক দর্শকের আশা-ভরসায় পূর্ণ অনেক বড় দলও এবার হতাশ করেছে। খেলায় হার-জিৎ আছে, তার পরও মানুষের আশা-ভরসার একটি গণ্ডি থাকে। সেই গণ্ডিও যেন এবার পেরিয়ে গেল। গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিদায় তেমনই একটি ঘটনা। অনেকেই বলেছেন অবিশ্বাস্য। কারও মতে, জার্মানির কাছে এটি আশা করা যায় না। তার মানে বিশ্বাস করেই নিতে হয় যে, দক্ষিণ কোরিয়া ততটাই ভালো করেছে, জার্মানি যতটা খারাপ করেছে। জার্মানির ভক্ত-সমর্থক তো এবার চরমভাবেই হতাশ।

খেলোয়াড়রা মাঠে আসেন ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখাতে, তার দলকে জেতাতে। কিন্তু আজকালকার অনেক খেলোয়াড়ের আচরণ দেখে মনে হয় তার মাঠে আসার উদ্দেশ্য আলাদা। তাদের গ্ল্যামার প্রদর্শনটা খেলার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। চুলের বিভিন্ন রকমের কাটিং আর রঙের ব্যবহার দেখে প্রশ্ন জাগে তারা খেলতে না নিজেকে প্রদর্শন করতে এসেছেন? লক্ষ্য করি, তারা ফুটবলে লাথি দিয়েই পর্দার দিকে তাকান। লক্ষ্য করেন, ক্যামেরা তাকে ধারণ করেছে কিনা। তাহলে খেলোয়াড়ের মনোযোগ অন্য জায়গায় থাকলে, খেলার প্রতি মনোযোগের কী হবে? এখন ‘ফেয়ার প্লে’র কথা বলা হয়। কিন্তু খেলায় এখন ধাক্কাধাক্কি আর অযাচিত আক্রমণের হার দিনে দিনে বাড়ছে। এখন খেলায় প্রায় প্রতি মিনিটেই অপ্রীতিকর এ ধাক্কাধাক্কি আর একজন আরেকজনকে আক্রমণের দৃশ্য দেখা যায়। ফুটবলের চেয়ে যেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের শরীরে আক্রমণেই এখন আগ্রহ অনেক বেশি। আমার লেখাটি পড়ে অনেক দর্শক ব্যথিত হতে পারেন বা আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। বাল্যবেলা থেকেই আমি ফুটবল-অন্তঃপ্রাণ হওয়ার কারণে এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের খেলাগুলো দেখে আমার যা মনে হয়েছে তা-ই লেখার তাগিদ বোধ করেছি। প্রিয় পাঠক! আপনার কাছেও আমার প্রশ্ন থাকল, বিশ্বের অন্যতম ফুটবলভক্ত দেশের নাগরিক হিসেবে আপনি নিজেই কি কাঙ্ক্ষিত ফুটবল-নৈপুণ্য দেখতে পাচ্ছেন? আপনার প্রিয় দল বা প্রিয় খেলোয়াড়ের কাছে আপনার যা প্রত্যাশা, তা কি পূরণ হচ্ছে? হচ্ছে না। সত্যিকার অর্থে সারা বছর ক্লাব ফুটবল নিয়ে খেলোয়াড়রা যতটা ব্যস্ত থাকেন, সে হিসেবে স্ব স্ব দেশের জাতীয় দলটির জন্য মনোযোগী থাকেন না। তাদের জন্য ক্লাব ফুটবলই অনেক বেশি লাভজনক। বিশ্বকাপের আগে নিজের দেশের দলটির জন্য মাত্র ১৫ দিন থেকে এক মাস সময় তারা দিয়েছেন। এটি বিশ্বকাপের মতো বিশাল আয়োজনের জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। আমি ঢাকার ফুটবলের অনেক উদ্ধৃতি দিয়েছি। এতে অনেকেই হয়তো বলবেন, বাংলাদেশ ষাটের দশকে এত ভালো খেলেও কেন বিশ্বকাপে যেতে পারল না। আমি বলব, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, লিয়াজোঁ ও উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ছিল। কিন্তু এর ভিতরেও ব্যক্তি পর্যায়ে অনেক ভালো খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে যারা বিদেশের মাটিতে অন্য দেশের হয়ে খেলে নৈপুণ্য ও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। আশির দশকের শেষের দিকে আমাদের মুন্না, আসলাম ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে খেলতে গিয়ে সাফল্যের নজির গড়েন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের স্বপ্ন নিয়ে নিজেদের ফুটবল দলকে গড়ে তুলতে পারিনি। ভারত ঠিকই নিজেকে প্রস্তুত করছে। চীন চেষ্টা করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। পৃথিবীজুড়েই ফুটবল ও ক্রিকেট নয় শুধু সব খেলাই বাণিজ্যিক রূপ পাচ্ছে। মনে হচ্ছে, যতটা না খেলা, তার চেয়ে বেশি টেলিভিশন শো। ক্রিকেটের পর ফুটবলও বাণিজ্যিক দিকে এগিয়ে যাওয়ার কারণে মান শেষ হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। একজন ফুটবলভক্ত হিসেবে ষাট থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত স্টেডিয়ামে গিয়ে যেমন খেলা দেখেছি, একইভাবে যখন টেলিভিশনে বিশ্বকাপ প্রচার শুরু হলো সেই ১৯৮৬ থেকেই নিয়মিত বিশ্বকাপ দেখে আসছি। এখনো রাত জেগে প্রতিটি খেলাই দেখার চেষ্টা করি। দেখতে বসেই নানাভাবে হতাশ হচ্ছি। মনে হচ্ছে প্রতি চার বছর পর পর একটি নির্দিষ্ট হারে ফুটবল তার নৈপুণ্য হারাচ্ছে।

ইসলাম

ফেরেশতারা কি দিন-রাত আল্লাহর হুকুম পালন করেন?

মানবীয় দুর্বলতা, ক্লান্তি, কামনা-বাসনাসহ সব পাপ কাজ থেকে মুক্ত ফেরেশতারা। তারা অবিরাম মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করে থাকেন। মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন-

‘বরং তারাতো সম্মানিত বান্দা তারা আগ বাড়িয়ে কথা বলতে পারে না এবং তারা তাঁরই আদেশে কাজ করে তাদের সামনে এবং পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন তারা শুধু তাদের জন্য সুপারিশ করেযাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁর ভয়ে ভীত’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ২৬২৮)

আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ফেরেশতারা অনেক কাজ করে থাকেন। সব কাজই মহান আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসায় ভরপুর। কোরআন-সুন্নায় ফেরেশতাদের যেসব কাজের বর্ণনা এসেছে; তাহলো-

১. আল্লাহর ইবাদত  তাসবিহ পড়া

ক্লান্তিহীনভাবে মানবীয় সব দুর্বলতামুক্ত হয়ে ফেরেশতারা সব সময় আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসায় ব্যস্ত থাকে। তাদের কোনো ক্লান্তি নেই। আল্লাহর নির্দেশ পালনই তাদের কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন-

> ‘আল্লাহ তাদের যে নির্দেশ দেন, তা তারা লঙ্ঘন করে না এবং তাদেরকে যে নির্দেশ দেয়া হয় তা তাঁরা পালন করে।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৬)

> ‘আকাশ এবং জমিনে যারা আছে, তারা তাঁরই। আর যারা তাঁর সান্নিধ্যে আছে তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং অলসতাও করে না। তারা রাত-দিন তার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে এবং ক্লান্ত হয় না।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ১৯-২০)

> ‘নিশ্চয়ই যারা তোমার পরওয়াদেগারের সান্নিধ্যে রয়েছেন, তারা তাঁর বন্দেগির ব্যাপারে অহংকার করেন না এবং স্মরণ করেন তাঁর পবিত্র সত্তাকে। আর তাকেই সেজদা করেন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৬)

২. নির্ধারিত কাজে নিয়োজিত থাকা

আল্লাহর ইবাদত-তাসবিহ ছাড়াও তারা আল্লাহর হুকুমে কার্যনির্বাহে নিয়োজিত। তাদের কাজের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন-

শপথ সে ফেরেশতাদেরযারা ডুব দিয়ে নির্মমভাবে আত্মা বের করে আনে এবং যারা মৃদুভাবে আত্মার বাঁধন খুলে দেয় এবং যারা তীব্র গতিতে চলাচল করে আর যারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয় অতঃপর তারা সব কাজনির্বাহ করে’ (সুরা নাজিয়াত : আয়াত )

তাফসিরে এসেছে আয়াতে ফেরেশতাদের কজের বর্ণনা দেয়া হয়েছে যে, তারা অবিশ্বাসী কাফিরদের আত্মাকে নির্মমভাবে টেনে বের করে এবং মুমিন বান্দার আত্মার বাঁধন মৃদুভাবে খুলে দেয়। আল্লাহর নির্দেশ তারা নির্ধারিত কাজসমূহ দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়ে সম্পাদন করেন।

৩. মানুষের প্রহরী হিসেবে কাজ করা

ফেরেশতাদের অন্যতম একটি কাজ হলো তারা আল্লাহর হুকুমে তাঁরই মর্জি মতো মানুষের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। আল্লাহ বলেন-

‘মানুষের জন্য তার সামনে ও পেছনে একের পর এক প্রহরী থাকে। তারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।’ (সুরা রাদ : আয়াত ১১)

৪. কল্যাণের কাজে উৎসাহ প্রদান

শয়তান যখন মানুষকে অন্যায় ও খারাপ কাজের দিকে ধাবিত করে ফেরেশতারা তখন মানুষকে কল্যাণের দিকে যেতে প্রেরণা যোগায়। হাদিসে এসেছে-

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শয়তান মানুষের মনে প্রেরণা জাগায় আবার ফেরেশতারাও মানুষের মনে প্রেরণা জাগায়। শয়তানের প্রেরণা অশুভ ও অকল্যাণের ওয়াদা করা এবং সত্যকে অস্বীকার করার প্রেরণা। আর ফেরেশতার প্রেরণা হলো কল্যাণ ও মঙ্গলের ওয়াদা করা এবং সত্যকে মেনে নেয়ার প্রেরণা। অতঃপর তিনি কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করেন-

শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয় পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদের নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা  বেশি অনুগ্রহের ওয়াদা করেন আল্লাহ প্রাচুর্যময়সুবিজ্ঞ’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৬৮)

৫. মাগফেরাতের দোয়া করা

ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো, তারা মুমিন বান্দার কল্যাণের জন্য সুপারিশ ও ক্ষমা প্রার্থনায় দোয়া করতে থাকে। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ঘোষণা দেন-

‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে-

رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ওয়াসিতা কুল্লা শাইয়ির রাহমাতাও ওয়া ইলমাং ফাগফির লিল্লাজিনা তাবু ওয়ত্তাবাউ সাবিলাকা ওয়াক্বিহিম আজাবাল ঝাহিম

অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা মুমিন : আয়াত ৭)

৬. আমলনামা লেখার কাজ

কোরআনুল কারিমের অনেক আয়াত ও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদিস থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের সঙ্গেই তার সব ভালো-মন্দ লেখার জন্য ফেরেশতা নিয়োগ করেছেন। কোরআনুল কারিমে ‘কেরামান কাতিবিন বা সম্মানিত লেখকগণ’ হিসেবে তাদের আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ বলেন-

> ‘যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে (মানুষ) যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্য তার সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।’ (সুরা ক্বাফ : আয়াত ১৭-১৮)

> ‘অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ। তোমরা যা কর, তারা তা জানে।’ (সুরা ইনফিতার : আয়াত ১০-১২)

৭. মৃত্যুর সময় আত্মা বহন করা

মৃত্যুর ফেরেশতা মালাকুল মাউত ছাড়াও মানুষের মৃত্যুর সময় আত্মা বহনে রয়েছে একদল ফেরেশতা। যারা মানুষের মৃত্যু হলে আত্মা বহন করে থাকে। আল্লাহ বলেন-

> ‘তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা সাজদা : আয়াত ১১)

> ‘তিনি তোমাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রেরণ করেন। এমন কি, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন আমার পাঠানো ফেরেশতারা তার আত্মা হস্তগত করে নেয়।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৬১)

৮. আরশ বহন করা

ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো মহান আল্লাহ তাআলার আরশ বহন করা। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-

এবংফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।’ (সুরা হাক্বকাহ : আয়াত ১৭)

এ ছাড়াও ফেরেশতারা নানা কাজ পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন। চাঁদ-সূর্যের জন্য, পাহাড়-পর্বতের জন্য, আকাশের বিভিন্ন স্থানের জন্য, মেঘ প্রবাহিত করার জন্য, বৃষ্টি বর্ষন করার জন্য, মায়ের গর্ভে ভ্রণের জন্য, জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য, পাপীদের শাস্তি প্রদানের জন্য, জান্নাতিদের খেদমত ও শান্তির জন্যও অনেক ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে।

কোরআন ও হাদিসে মানুষকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ করতেই আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের এ সব বর্ণনা নিয়ে এসেছেন। আর এসব ফেরেশতা মানুষের কল্যাণেই নিয়োজিত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে দুনিয়া ও পরকালে ফেরেশতাদের যাবতীয় সহযোগিতা ও কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

মা ইলিশ রক্ষা করি ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করি

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। বাঙালির অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু এ মাছ যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিরাপদ আমিষ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ইলিশ দেশের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। ইলিশের সহনশীল উৎপাদন বজায় রাখার লক্ষ্যে ডিমওয়ালা মা ইলিশ রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা ইলিশ রক্ষা পেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আর এ লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর (১৯ আশ্বিন হতে ০৯ কার্ত্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত মোট ২২ দিন দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার জলসীমায় মা ইলিশ ধরা নিষেধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

“মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় হতে নিষিদ্ধকালীন এই ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিপনন নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দেশে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সর্বসাধারণ বিশেষ করে জেলে, মৎস্যজীবী সম্প্রদায় ও ইলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী, আড়তদার, বরফকল মালিক, বোট মালিক, দাদনদার এবং ভোক্তাসহ সবাইকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধকরণ করা। একইসঙ্গে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়া। আর এ প্রচারের কাজটি সর্বাধিক করে থাকে মন্ত্রণালয়ের মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর। দেশে ইলিরে অভয়াশ্রম রয়েছে (৫টিতে মার্চ-এপ্রিল মাছ ধরা বন্ধ) ৬টি যার মোট আয়তন-৪৩২ কি.মি. । আর ৬ টি অভয়াশ্রম হলো বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও শরিয়তপুর । বাংলাদেশে ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রের চারটি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। যা প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা জুড়ে রয়েছে। চারটি পয়েন্ট হলো- মীরসরাই, চট্টগ্রামের মায়ানি, তজুমুদ্দিন ও ভোলার পশ্চিমে সৈয়দ আওলিয়া, কুতুবদিয়া ও কক্সবাজারের উত্তর কুতুবদিয়া এবং পটুয়াখালির কলাপাড়া ও লতাচাপালী পয়েন্ট।

তাছাড়া সকল নদ-নদীতে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ২০২১ সালে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে দেশের ৩৮ টি জেলা ও ১৭৪ টি উপজেলাকে। নিষেধাজ্ঞা আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছর সশ্রম কারাদন্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। বর্তমানে ইলিশ ধরায় সরাসরি দেশের প্রায় ৬ লক্ষ জেলে নিয়োজিত । প্রধান প্রজনন মৌসুমে পরিবার প্রতি ২০ কেজি হারে ভিজিএফ দেয়া হচ্ছে। ২০২১ সালে ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৪৪ টি জেলে পরিবারে ১১ হাজার ১১৮ দশমিক ৮৮ মে.টন চাল বরাদ্ধ প্রদান করা হয়েছে।

ইলিশ মাছ প্রজননের ক্ষেত্রে চন্দ্রনির্ভর আবর্তন অনুসরণ করে। প্রতিবছর আশ্বিন মাসের প্রথম উদিত চাঁদের পূর্নিমার আগের চারদিন, পরের ১৭ দিন এবং পূর্ণিমার দিনসহ মোট ২২ দিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১১ দিন, ২০১৫ সালে ১৫ দিন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়। ইলিশ মূলত সারা বছর কমবেশি ডিম ছাড়লেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর হচ্ছে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এই সময়েই প্রায় ৮০ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়ে।

মা ইলিশ বলতে প্রজননক্ষম পরিপক্ব স্ত্রী ইলিশ মাছ বুঝায়। ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ। ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। বিশ্বে আহরিত ইলিশের প্রায় শতকরা ৮৬ ভাগ আহরণ করা হয় এই দেশে। ২০১৭ সালের ১৭ আগষ্ট বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।

বৈচিত্র্যময় জীবন ইলিশের। ইলিশ প্রধানত সামুদ্রিক মাছ হলেও প্রজনন কালীন সময়ে এ মাছ ডিম ছাড়ার জন্য বেছে নেয় স্বাদু পানির উজানকে। এ সময়ে ইলিশ দৈনিক প্রায় ৭১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। প্রজননের উদ্দেশ্যে ইলিশ প্রায় এক হাজার দুইশত কিলোমিটার উজানে পাড়ি দিতে সক্ষম। সাগর থেকে ইলিশ যত ভেতরের দিকে আসে, ততই শরীর থেকে লবণ কমে যায়। এতে স্বাদ বাড়ে ইলিশের। বাংলাদেশে প্রতিবছর ৯-১০ শতাংশ হারে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে ।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার জাটকা আহরণও নিষিদ্ধ করেছে । এবং এর সময়সীমা এবং দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। মৎস্য সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ অনুযায়ী ১ নভেম্বর-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ ইঞ্চির ছোট জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকে। জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ফেব্রুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত মোট ৪ মাস প্রদান করা হয় । ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে প্রতি অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে। ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে বরাদ্দের পরিমান ছিল ২ কোটি টাকা। বর্তমান অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার টন, সেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার মে. টনে উন্নীত হয়েছে। যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ। এর চলতি বাজার মূল্য প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ইলিশের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের ২০০২ সাল থেকে ২০১৮ সালে ইলিশের যোগান যেখানে ৫৬ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশে ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জাটকা আজ মেঘনা থেকে পদ্মা, যমুনা, ব্র²পুত্র, সুরমায় বিস্তৃতি লাভ করেছে। গত ১০ বছরের ব্যবধানে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা ফলাফল বলছে, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেতো। বর্তমানে ১৭৪ টি উপজেলার আশপাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীতে এই মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পদ্মার শাখানদী মহানন্দা থেকে শুরু করে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর এবং ব্রা²ণবাড়িয়ার মেদির হাওরেও ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, একটি ইলিশ একসঙ্গে কমপক্ষে ৩ লাখ ও সর্বোচ্চ ২১ লাখ ডিম ছাড়ে। এসব ডিমের ৭০-৮০ শতাংশ ফুটে রেণু ইলিশ হয়। এর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে, যা পরবর্তীতে ইলিশে রূপান্তরিত হয়।

ইলিশ দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশে রপ্তানি ছাড়াও ইলিশের নডুলস, স্যুপ ও পাউডার তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে ইতোমধ্যে তা বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। ইলিশ শুধু জাতীয় মাছ ই নয়।অর্থনীতিতেও রয়েছে বিরাট অবদান। পরিসংখ্যান মতে, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের ১২ ভাগ (যার আনুমানিক অর্থমূল্য আট হাজার ১২৫ কোটি টাকা) আসে ইলিশ মাছ থেকে। জিডিপিতে ইলিশ মাছের অবদান শতকরা ১ ভাগ। পৃথিবীর সব দেশেই এ মাছের চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর ইলিশ মাছ রপ্তানি করে প্রায় ৩, শ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

যদি প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা ও জাটকা নিধন বন্ধ থাকে তাহলে ২১ থেকে ২৪ হাজার কোটি নতুন পরিপক্ব ইলিশ পাওয়া যাবে। এতে বছরে সাত হাজার কোটি টাকা মূল্যের ইলিশের বাজার সৃষ্টি সম্ভব হবে বাংলাদেশে। এতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। বাড়বে চলছে কর্মসংস্থান। যা নিঃসন্দেহে দেশের গোটা অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলবে। পাশাপাশি দেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিপন্ন হচ্ছে জলের পাখি ডাহুক

মাঝারি আকৃতির জলের পাখি ডাহুক। ডাহুক খুব সতর্ক পাখি। আত্মগোপনে পারদর্শী। এই পাখিটি খুব ভীরু বলেই কি এত সুন্দর?

পুকুর, খাল, জলাভূমি, বিল, নদীর পাড়ের গর্ত তাদের বসবাসের জন্য প্রিয় স্থান। তবে দ্রুত নগর বিস্তৃতির ফলে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দর এই পাখি।

দুই দশক আগেও মৌলভীবাজার জেলার হাওর-বাওর, খাল, বিল-ঝিল, ডোবা, নালা-দীঘির পাশের ঝোপঝাড়ে দল বেঁধে বাস করতো ডাহুক পাখি।

jagonews24

গ্রামাঞ্চলের পুকুর পাড়ের ঝোপঝাড়ে সন্ধ্যেবেলা ডাহুকের ডাক শোনা যেত। গভীর রাতেও ডাহুকের ডাকে অনেকের ঘুম ভাঙতো। তবে আজকাল আর ডাহুকের কণ্ঠ শোনা যায় না।

একসময় বর্ষা ও শরতে ডাহুকরা বাড়ির গৃহপালিত হাঁস মুরগির সঙ্গে বেড়াতো। এখন আর তাদের আনাগোনা দেখা যায় না। চোখে পড়ে না। ডাহুক পাখি এখন হারিয়ে যেতে শুরু করেছে।

বর্ষাকাল এদের প্রজনন ঋতু। এসময় তারা বাসা করে পানির কাছেই ঝোপঝাড়ের ভেতরে অথবা ছোট গাছের ঝোপযুক্ত ডালে। নিরাপত্তা ঠিকঠাক থাকলে মাটিতেও বাসা করে এই পাখি। ৫-৭টি ডিম পাড়ে এরা, ডিমের রং ফিঁকে হলুদ বা গোলাপি মেশানো সাদা।

jagonews24

ডাহুক-ডাহুকি দু’জন মিলেই ডিমে তা দেয়। বাচ্চার রং সব সময় হয় কালো। ডিম ফোটে প্রায় ২১-২৪ দিনে। আর ২৪-৩০ ঘণ্টা পরই বাচ্চারা বাসা ছাড়ে।

মাস তিনেক পরে বাচ্চারা আলাদা জীবন বেছে নেয়। প্রজননের সময় একটি পুরুষ ডাহুক অন্য একটি পুরুষ ডাহুককে সহ্য করতে পারে না। দেখলেই তারা মারামারি করে। এই পাখি লড়াকু প্রকৃতির।

ডাহুকের প্রিয় খাদ্য জলজ পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ। এছাড়াও শাপলা-পদ্ম ফুলের নরম অংশ, কচি পানিফল, জলজ শেওলা, লতাগুল্মের নরম অংশ, ধান, কাউন, ডাল, সরিষা, শামুক, কেঁচো, জোঁক, মাছ, ছোট মাছ, শাকসবজি ও ফল খেয়ে থাকে।

jagonews24

পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এরা বিস্তৃত, প্রায় ৮৩ লাখ ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস।

তবে বর্তমানে তাদের আবাস্থল ধ্বংস হচ্ছে। খাদ্য সংকট ও প্রজননকালীন সময়ে শিকারীদের উৎপাতসহ নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব এ প্রজাতির পাখি। শিকারিদের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না গভীর বনজঙ্গলে বসবাসকারী ডাহুকগুলো।

সম্প্রতি আই.ইউ.সি.এন এই প্রজাতিটিকে নুন্যতম বিপদগ্রস্থ বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।

jagonews24

কাওয়াদীঘি হাওর পারের পৈতুরা গ্রামের সানা মিয়া বলেন, ‘ডাহুক অনেকটা বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে দেখা যায়। ঝোপঝাড় ধ্বংসের ফলে ডাহুকের বর্তমান অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। প্রকৃতিতে এদের নিরাপত্তা দিতে অবশ্যই এদের বাসস্থান ধ্বংস বন্ধ করতে হবে। না হলে সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন বিপন্নের লাল তালিকায় লেখা হবে ডাহুক পাখির নাম।’

রাজনগর উপজেলার বলদার সাগর দীঘির পারের সেলিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ওই দীঘিতে এক শিকারি এসে ডাহুক ধরার ফাঁদ পেতে ছিল। বিষয়টি রাজনগর থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে খাঁচার পাখিটি নিয়ে পালিয়ে যায় শিকারি।’

বনরেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকৃতিকে সুন্দর রাখতে পাখপাখালিকে নিরাপত্তা দিতে হবে। আমরা গত নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি ডাহুক পাখি শিকারির হাত থেকে উদ্ধার করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যোনে অবমুক্ত করেছি। কোথাও পাখি আটকের খবর পেলে আমরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে থাকি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বিশ্বে করোনা শনাক্ত ২৪ কোটি ছাড়ালো

বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট হাজার ৫১৯ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো ৪৮ লাখ ৯৭ হাজার ২২৭ জনে।

এছাড়া নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন চার লাখ ৬৯ হাজার ২৩৩ জন। এতে বিশ্বব্যাপী করোনা শনাক্ত ছাড়িয়েছে ২৪ কোটি তিন লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৭ জনে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টা চার লাখ ৩১ হাজার ৫৬৮ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। মোট সুস্থ হলেন ২১ কোটি ৭৬ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৯ জন।

jagonews24

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এসময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৯ হাজার ৬৮০ জন।

মারা গেছেন এক হাজার ৬৫৪ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে চার কোটি ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ১২ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন সাত লাখ ৪১ হাজার ৮৯৩ জন মারা গেছেন।

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে করোনা শনাক্ত হয়েছে মোট তিন কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৪ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে চার লাখ ৫১ হাজার ৮৪৭ জনের।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। দেশটিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে দুই কোটি ১৬ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ জনের। এরমধ্যে ছয় লাখ দুই হাজার ২০১ জন মারা গেছেন।

এ তালিকায় পরের স্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, তুরস্ক, ফ্রান্স, ইরান, আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ২৯ নম্বরে। দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২৭ হাজার ৭৩৭ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮৫ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৬৮ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। এরপর দ্রুত দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাসটি। গত বছরের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ ঘোষণা করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মাছের টিকা উদ্ভাবন করলেন সিকৃবি শিক্ষক ড. মামুন

দেশে মাছের রোগ প্রতিরোধী প্রথম টিকা উদ্ভাবন করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। টিকাটি মাছের রোগ প্রতিরোধে ৮৪ শতাংশ কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই মৎস্যবিজ্ঞানী। টিকাটি শরীরে পুশ করে নয় খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে মাছকে খাওয়াতে হবে।

মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মামুনের উদ্ভাবিত টিকাটি মাছের ব্যাকটেরিয়াজনিত একাধিক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া মাছের মৃত্যুহার কমিয়ে উৎপাদন বাড়াবে।

এমন আশার কথা জানিয়ে টিকার উদ্ভাবক জাগো নিউজকে বলেন, ২০১৬ সাল থেকে মাছের টিকা উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা করছিলেন তিনি। ২০২১ সালে এসে তিনি এর সফলতার মুখ দেখেন।

ড. মামুন জানান, এরোমোনাস হাইড্রোফিলা নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাছের ক্ষত রোগ, পাখনা পচাসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। এতে প্রতি বছর প্রচুর মাছ মারা যায়। তবে এই উপমহাদেশে মাছের টিকা নিয়ে তেমন কাজ হয়নি।আব্দুল্লাহ আল মামুন তার উদ্ভাবিত এই টিকার নাম দিয়েছেন বায়োফ্লিম।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে কিছু পাঙ্গাশ মাছের শরীরে এই টিকা প্রবেশ করিয়ে ৮৪ শতাংশ সফলতা পেয়েছি। এরপর মাঠপর্যায়ে এটি প্রয়োগ করা হবে।

‘আগামী মার্চ থেকে সিলেটের বিভিন্ন পুকুরের মাছের শরীরে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে। এর মধ্যে কয়েকটি পুকুরও নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগে সফলতা মিললেই বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

ড. মামুন বলেন, এই টিকা ব্যাপকভাবে উৎপাদনের সক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের যে সক্ষমতা আছে তাতে প্রতি মাসে ১০০ মিলিলিটার উৎপাদন করতে পারবো। এই পরিমাণ টিকা এক কেজি মাছের খাবারের সঙ্গে মেশানো যাবে।

‘এই গবেষণা কাজে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মাছই ক্ষত রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগকে মাছের ক্যান্সার হিসাবে দেখা হয়। প্রতি বছর অনেক মাছ ক্ষত রোগে মারা যায় বা পচে নষ্ট হয়।

তিনি বলেন, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে মাছের শরীরে টিকা প্রয়োগ করা হলেও বাংলাদেশে এখনও শুরু হয়নি। ক্ষত রোগ থেকে মাছ মুক্ত রাখতে আমরা সাধারণত জলাশয়ে চুন ও লবণ ব্যবহার করে থাকি। মাছের টিকাটি উদ্ভাবন পুরোপুরি সফল হলে মাছের উৎপাদন অনেক বাড়বে।

সিকৃবির মৎস্য অনুষদ সূত্রে জানা যায়, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, চিলিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাছের জন্য ২৮ ধরনের টিকা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের টিকা উদ্ভাবন হলো। স্বাদু পানিতে চাষযোগ্য মাছে এই টিকা প্রয়োগ করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান হাওলাদার জানান, মাছের এই টিকা তৈরিতে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই টাকায় আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। আশা করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপাদিত টিকা মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের আমিষের চাহিদা পূরণ করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। তবে বিভিন্ন রোগের কারণে প্রচুর পরিমাণ মাছ মারা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com