আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

ফিলেট ও সাসিমির সম্ভাবনা

ফিলেট ও সাসিমির সম্ভাবনা

ফিলেট ও সাসিমি বিদেশিদের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। তবে বাংলাদেশেও এর সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটিই জানাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি বিদেশে রফতানির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

যে সব মাছের মাংসল অংশে ছোট ছোট, কাটা নেই; সে সব মাছ থেকে তৈরি করা হয় ফিলেট (মাছের মাংসল অংশ)। এর জন্য আমাদের দেশের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, বিভিন্ন ক্যাটফিশ ও সামুদ্রিক মাছ ব্যবহার করা হয়।

সাসিমি তৈরিতেও এ ধরনের মাছ ব্যবহৃত হয়। তবে সাসিমি হলো- তাজা মাছের পাতলা মাংসল অংশ। এর দৈর্ঘ্য ২.৫ ইঞ্চি ও প্রস্থ দশমিক ৫ ইঞ্চি হয়ে থাকে। এটা সস বা বিভিন্ন সবজির সঙ্গে খাওয়া হয়।

পাঙ্গাস মাছ থেকে প্রথমে ফিলেট তৈরি করে সাসিমি বানাতে হয়। এজন্য প্রথমে মাছটির মাথার কাছে ছুরি রেখে মাছের মেরুদণ্ড বরাবর লেজের দিকে কাটতে হয়। কাটার পর এর উপরের চামড়া সতর্কতার সঙ্গে ছাড়াতে হয়। এরপর ফিলেট অংশটি পাতলা ছোট ছোট অংশে কেটে তৈরি করতে পারেন ফেলিট সাসিমি।

পরিবেশনের জন্য টমেটো, ধনেপাতা, পিঁয়াজ সাসিমির চারিদিকে শৈল্পীক রূপে সাজিয়ে নিতে হয়। আমাদের দেশের পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া ফিলেট ও সাসিমি তৈরি করে বিদেশে রফতানির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফল

৫০ হাজার টাকায় শরিফা চাষে ৩ লাখ টাকা আয়

ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা থেকেই বিলুপ্ত প্রায় শরিফা চাষে সফলতা পেয়েছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চেংগাড়া গ্রামের ব্যাংকার বাহাউদ্দীন। থোকায় থোকায় শোভা পাচ্ছে শরিফা ফল। বাতাসে দোল খাচ্ছে সেই সাথে দোল খাচ্ছে বাগান মালিকের স্বপ্ন। সুস্বাদু ও বেহেশতি ফল হিসেবে পরিচিত শরিফা চাষে লাভবান হয়েছেন তিনি। আট বিঘা জমিতে বাগান করে প্রতি বছর কয়েক লাখ টাকা আয় করেন তিনি। তার এই সফলতা এলাকার তরুণ যুবকদের শরিফা বাগান করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিশিষ্ট ব্যাংকার বাহাউদ্দীন। শখেরবশে ব্যতিক্রমি কিছু করার চিন্তা নিয়েই বছর চারেক আগে মাত্র দুই বিঘা জমিতে শরিফার বাগান করেন। স্থানীয়ভাবে বীজ সংগ্রহ করে তা রোপণ করেন। প্রথম বছর খরচ করেন মাত্র ২০ হাজার টাকা। পরের বছর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার। সে বছর শরিফা স্থানীয় ফল বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে আয় করেন ৪০ হাজার টাকা। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে বেশি লাভবান হওয়ায় আরো ৬ বিঘা জমিতে শরিফা বাগান করেন। এ বছর তিনি ৫০ হাজার টাকা খরচ করে পেয়েছেন তিন লাখ টাকা। অনুকুল আবহাওয়া, নিজের অদম্য পরিশ্রম এবং কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি শরিফা বাগান করে লাভবান হয়েছেন।

গাংনীর ভিটাপাড়ার কলেজ শিক্ষক রফিকুল আলম জানান, তিনি শরিফা চাষে সফলতার গল্প শুনেই পরামর্শ নিচ্ছেন বাগান করার। ইতোমধ্যে দুই বিঘা জমি প্রস্তুত করেছেন। বীজও সংগ্রহ করছেন। রফিকুল আলমের মতো অনেকেই বাহাউদ্দীন ও কৃষি অফিসের পরামর্শ নিচ্ছেন শরিফা বাগান করার জন্য।

স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী আ. রহমান জানান, মেওয়া বা শরিফা ফল সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে। নিজের হাতে বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজার ও ঢাকায় পাঠানো হয়। অনলাইনেও এর বেচাকেনা হয়। বাগান থেকে ২৫০ টাকা দরে কিনে সাড়ে চারশ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এতে লাভ হয় বেশি। একই কথা জানান ফল ব্যবসায়ী লিটন মিয়াও।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম সাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন, শরিফা একটি বিলুপ্তপ্রায় সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল। বাহাউদ্দীন এর বাগান করেছেন। এতে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই বাগান করার আগ্রহ ব্যক্ত করে পরামর্শ চাচ্ছেন। এ ফল আবাদে খরচ কম। রোগবালাই একেবারে নেই বললেই চলে। অথচ লাভ অনেক বেশি। কৃষি অফিস সব সময় চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছে। এ ফল আবাদে সম্প্রসারণ ঘটলে পুষ্টির চাহিদা অনেকখানি পূর্ণ হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

কৃষকের পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন স্থায়ী কৃষি মূল্য কমিশন

লেখক

কৃষকের পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন স্থায়ী কৃষি মূল্য কমিশন
কৃষকের পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন স্থায়ী কৃষি মূল্য কমিশন

করোনাকালে কৃষি খাতের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার ওপর কিছু ধারণা পাওয়া গেছে ব্র্যাকের একটি সমীক্ষা থেকে। সম্প্রতি প্রকাশিত ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে জানা যায়, করোনাকালের দেড় মাসে কৃষি খাতের ক্ষতি হয়েছে ৫৬ হাজার কোটি টাকা। তাতে দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। উল্লিখিত সময়ে শস্য খাতের ক্ষতি হয়েছে ১৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। মৎস্য খাতের ৩৮ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা, পোলট্রি খাতের এক হাজার ৭৬৯ কোটি এবং প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষতি হয়েছে ৫৮৫ কোটি টাকা। এই দেড় মাসে প্রতিটি কৃষক পরিবার গড়ে প্রায় ৩৪ হাজার টাকা গচ্চা দিয়েছে। এ পরিমাণ ক্ষতির হিসাব উঠে এসেছে মার্চের শেষ সপ্তাহ  থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এরপরও প্রায় এক মাস এ ক্ষতি অব্যাহত ছিল। ফলে ক্ষতির মোট পরিমাণ আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা যায়। এ ক্ষেত্রে করোনার সঙ্গে আম্পান ও সাম্প্রতিক বন্যার অভিঘাতও বিবেচনায় থাকা উচিত।

করোনা, আম্পান ও বন্যার অভিঘাতে এবার দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক। তাদের নগদ অর্থপ্রাপ্তি হ্রাস পেয়েছে। তাতে তারা সামর্থ্য ও উৎসাহ হারিয়েছেন পরবর্তী উৎপাদনের জন্য। এ সমস্যা সমাধানের সহজ উপায় হচ্ছে নগদ সহায়তা প্রদান। কিন্তু এর রেওয়াজ আমাদের দেশে খুবই কম।

দেশের অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, ব্যক্তি উদ্যোক্তা আছে; যারা প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করে থাকে। প্রদত্ত সাহায্যের মধ্যে থাকে চাল, ডাল, শুকনো খাবার, পানি ইত্যাদি। নগদ সহায়তার কথা অনেকেরই বিবেচনায় থাকে না। ফলে গরিব ও অসহায় মানুষকে চড়া সুদে মহাজনের ঋণ নেওয়া এবং জমি কিংবা ভিটেমাটি বন্ধক দেওয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর থাকে না। এরা যাতে এরূপ ঋণের জালে জড়িয়ে না পড়ে এবং দ্রুত পুনর্বাসন কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে, তার জন্য নগদ সহায়তা খুবই প্রয়োজন। এ নাগাদ কৃষকদের জন্য আলাদাভাবে কোনো নগদ সহায়তার ঘোষণা দেওয়া না হলেও উদার কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এবার প্রণোদনা হিসেবে কৃষককে ঋণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ছোট ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে তিন হাজার কোটি টাকা। তা ছাড়া নিয়মিত কৃষিঋণের আওতায় আছে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। এর পরও কৃষকদের অর্থায়নের সমস্যা আছে, থাকবে। কারণ, কৃষকদের জন্য কৃষিঋণের শিকে ছিঁড়ে না। এ ঋণ কেউ পায়, কেউ পায় না। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের জন্য বড় উপকার হতে পারে নগদ সহায়তা। এর পরিমাণ যদি প্রতি কৃষক দুই হাজার টাকা হয়, তাতে মোট টাকা লাগে প্রায় তিন হাজার ৩০০ কোটি। যদি চার হাজার টাকা হয়, তাহলে ছয় হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রয়োজন পড়ে। এ টাকার পরিমাণ আমাদের মোট বাজেটের তুলনায় খুবই সামান্য। মাত্র ১ দশমিক ১৬ শতাংশ।

একজন কৃষকের কোনো উৎপাদন মৌসুমে সার্বিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে তার কিয়দাংশ নগদ সহায়তা হিসেবে কৃষকদের দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এ ধরনের কোনো ঘোষণার পক্ষে যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। মহামারি ও দুর্যোগকালে কৃষি ভর্তুকি কৃষি উৎপাদনের জন্য খুবই সহায়ক। এবারের বাজেটে এ খাতে রাখা হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ টাকা খরচ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা সন্তোষজনক নয়। গত সাত বছরের কোনো বছরই কৃষি ভর্তুকির টাকা পুরোটা ব্যবহার করা হয়নি। কোনো বছর তিন হাজার, কোনো বছর দুই হাজার, আবার কোনো বছর এক হাজার কোটি টাকা কম খরচ হয়েছে কৃষি ভর্তুকি। উদাহরণস্বরূপ, সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত মোট ৯ হাজার কোটি টাকা কৃষি ভর্তুকির মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে খরচ করা হয়েছে সাত হাজার কোটি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছয় হাজার কোটি এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে আট হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এটা দেশের কৃষকদের বড় ক্ষতি। এর প্রতিকার দরকার। এর জন্য বছরের শুরুতেই কৃষি ভর্তুকি পুরোটা ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।

করোনা ও বন্যায় মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের জন্য কর্মসংস্থান করতে হবে গ্রামীণ এলাকায়। এ লক্ষ্যে বেশি করে ‘রুরাল ওয়ার্কস প্রোগ্রাম’ চালু করতে হবে। বন্যায় ভেসে যাওয়া রাস্তাঘাট, বাঁধ পুনর্নির্মাণ করতে হবে। পুকুর, খাল-বিল ও নদী পুনর্খনন করতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। তা ছাড়া ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার ঘটাতে হবে গ্রামীণ এলাকায়। ছোট ব্যবসা, দোকানদারি, গ্রামীণ যানবাহন পরিচালনা এবং কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবসায়িক ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে। গ্রামীণ যন্ত্রপাতি মেরামত ও পরিচালনায় প্রশিক্ষণ দিতে হবে বেকার যুবকদের। তাতে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

বন্যা-উত্তর কৃষি পুনর্বাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুর্গত এলাকায় বীজ-সার অতিদ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। উপকরণ ভর্তুকি বাড়াতে হবে। দেশের অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় বীজতলা তৈরি করে দুর্গত এলাকায় তা পাঠাতে হবে। মূল জমি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের সংস্থান করতে হবে। শীতকালীন সবজি চাষ ও আগামী বোরো চাষের জন্য এখনই উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে বিভিন্ন কৃষি অঞ্চলের জন্য। সম্প্রতি অনুমোদিত তিন হাজার ১৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারের কৃষি যন্ত্রায়ন প্রকল্পের অধীনে ভর্তুকি মূল্যে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। যাতে যিনি কৃষক, তিনি প্রয়োজনবোধে যন্ত্র কিনে নিতে পারেন এবং যিনি ব্যবসায়িক ভিত্তিতে কৃষিযন্ত্র পরিচালনা করবেন, তিনিও যন্ত্র কিনে নিতে পারেন। তাতে কৃষিযন্ত্রের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে গ্রামীণ অঞ্চলে। জমি চাষ কিংবা ফসল কাটার জন্য যন্ত্রের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতে হবে না কৃষককে।

করোনাকালীন লোকসান পুষিয়ে দেওয়ার আরেকটি পন্থা হলো কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। এর জন্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের সমর্থন মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। ভারতে বর্তমানে ২৩টি কৃষিপণ্যের সমর্থন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বাজারদর যাতে নির্ধারিত মূল্যের নিচে নেমে না যায়, সে জন্য কৃষকদের কাছ থেকে উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ক্রয় করে নেয় সরকার। এ ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচের ওপর শতকরা ৫০ শতাংশ মুনাফা হিসাব করে কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণের দৃষ্টান্ত আছে। ভারতে মোট উৎপাদিত পণ্যের শতকরা ১৫ শতাংশ ক্রয় করা হয় এরূপ পূর্বনির্ধারিত মূল্যে। বাংলাদেশে বিভিন্ন কৃষিপণ্যের নূ্যনতম সমর্থন মূল্য নির্ধারণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে প্রচলন আছে ধান-চাল ও গমের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণের। এটা সাধারণত উৎপাদন খরচের ওপর ৬ থেকে ১০ শতাংশ মুনাফা দেখিয়ে নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে প্রতিনিয়তই কৃষক বঞ্চিত হন। এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়, প্রতিবাদ হয়; কিন্তু এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। বর্তমান কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল আছেন। তিনি একজন অভিজ্ঞ কৃষিবিদ। তারও বোধকরি অনেক চিন্তাভাবনা আছে কৃষিপণ্যের ন্যায়সংগত মূল্য নিশ্চিত করার জন্য। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার হলো একটি ইতিবাচক কৃষি মূল্যনীতি প্রণয়ন করা। এ লক্ষ্যে গঠন করা দরকার একটি স্থায়ী কৃষি মূল্য কমিশন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে এটি আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় কৃষি মূল্য কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও কার্যাবলি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশে এরূপ একটি মূল্য কমিশন গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। আমাদের জাতীয় কৃষিনীতিতেও একটি মূল্য কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে; কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

কৃষি খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি: কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক

লেখক

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক
কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখার’ নির্দেশ বাস্তবায়নে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এজন্য অর্থাৎ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কৃষি খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই প্রথমবারের মতো ধানের উৎপাদন বাড়াতে বীজে ২০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সমকালকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যারা পোলট্রি, কৃষি ফার্ম, ফলমূল ও মসলা জাতীয় খাদ্যপণ্য উৎপাদন করবেন তারা এই তহবিল থেকে সহজ শর্তে মাত্র চার শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন। এ ছাড়াও নয় শতাংশ সুদের জায়গায় মাত্র চার শতাংশ সুদে কৃষকদের ঋণ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্রণোদনা দেবে।

করোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশেষ প্রণোদনা ছাড়াও বাজেটে কৃষকের স্বার্থে সারসহ সেচ কাজে বিদ্যুৎ বিলের রিবেট বাবদ কৃষি খাতে নয় হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাজেটে সারের জন্য নয় হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি, বীজের জন্য ১৫০ কোটি টাকা এবং কৃষকের জন্য আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার মতো মসলা উৎপাদকদের জন্য চার শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা চালু রয়েছে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষি উৎপাদনের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং শাকসবজির বিপণন, সরবরাহ ঠিক রাখা ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সার্বক্ষণিক উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।

এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ইঞ্চি জমিও ফাঁকা না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, আউশ এবং আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে রেকর্ড পরিমাণ আউশের আবাদ হয়েছে। ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬৬ হেক্টর জমিতে আউশ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দুই লাখের বেশি হেক্টর জমি। আউশ ধানের আবাদ বাড়ানোর জন্য চার লাখ ৬৫ হাজার ৮৩৪ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এ বছর প্রায় ৫৯ লাখ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক কোটি ৫৬ লাখ টন। এজন্য উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাতের ধান চাষ বাড়ানো, পর্যাপ্ত বীজ, সার ও সেচের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমনের উৎপাদন বাড়াতে সরকার এবারই প্রথম বীজে ভর্তুকি দিচ্ছে। বিএডিসির ১৯ হাজার ৫০০ টন আমন ধান বীজ চাষি পর্যায়ে বিক্রির জন্য ২০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।

পারিবারিক সবজি পুষ্টিবাগান

আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রতি ইঞ্চি জায়গা চাষের আওতায় আনতে প্রতি ইউনিয়নে ৩২টি করে পারিবারিক সবজি পুষ্টিবাগান তৈরির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এজন্য ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬৪ জেলায় এক লাখ ৪১ হাজার ৭৯২ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, চারা ও সার দেওয়া হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে পারিবারিক পুষ্টিবাগান তৈরির আওতায় ১৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪ জেলার ৪৯১টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৯৭টি ইউনিয়ন এবং ১৪০টি পৌরসভায় চার লাখ ৭৩ হাজার ৭০০ কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, চারা এবং সার সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে বোরো ধান কাটার উদ্যোগ চলছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এক হাজার ২৪০টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ৫০০টি রিপার সরবরাহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে এবং উপকূল ও হাওর এলাকায় ৭০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের মধ্যে এসব কৃষিযন্ত্র দেওয়া হয়েছে। প্রায় তিন হাজার ২০ কোটি টাকার ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৫২ হাজার কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টার নামের কৃষিযন্ত্র কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে।

বীজ সরবরাহ অব্যাহত

করোনার কারণে উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিএডিসি ও অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানির উৎপাদিত আউশ, সবজি ও পাটবীজ মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। রবি মৌসুমে উৎপাদিত আলুবীজ সংগ্রহ করে হিমাগারে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিএডিসির আলুবীজ সংগ্রহের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৫০০ টন এবং বেসরকারি কোম্পানির প্রায় ৮৫ হাজার টন, যা গত বছরের তুলনায় পাঁচ হাজার টন বেশি। চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এক লাখ টন বোরো বীজ ধান এবং ১০ হাজার টন হাইব্রিড ধানবীজ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

শাকসবজি বাজারজাতকরণ

করোনা পরিস্থিতিতে শাকসবজির বাজারজাতকরণ ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, শাকসবজি ও পচনশীল কৃষিপণ্যের চলাচল নির্বিঘ্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ত্রাণসামগ্রীতে আলু, সবজি, পেঁয়াজ ইত্যাদি কৃষিপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষিপণ্যের ভ্রাম্যমাণ বাজার পরিচালনা করেছে। নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও ভোলা থেকে ট্রাকযোগে শাকসবজি অন্য জেলায় পাঠানো হয়েছে।

কৃষিপণ্য পরিবহনে বিশেষ ব্যবস্থা

করোনার প্রভাবে শুরুর দিকে শাকসবজি, মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে বিরূপ প্রভাব পড়েছিল। কৃষিপণ্য বিক্রি করতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন কৃষক। বিশেষ করে তারা উৎপাদিত তরমুজের অধিকাংশই বিক্রি করতে পারেননি, যা বিক্রি হয়েছে তার ভালো দামও পাননি। আবার জনগণের আয় কমে যাওয়ায় কৃষিপণ্যের চাহিদাও কমেছিল। এসব কারণে কৃষিপণ্য কেনায় আগ্রহ হারিয়েছিলেন পাইকার ও আড়তদাররা। এ বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করেছে। আম, লিচু, আনারস, কাঁঠালসহ মৌসুমি ফল এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনের অবাধে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা হয়েছিল। এ ছাড়াও কৃষিপণ্য পরিবহনে ২৫ শতাংশ ভাড়া কমানো এবং আম পরিবহনে ম্যাংগো এক্সপ্রেস চালু করা হয়েছিল বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

ফুড ফর নেশন প্ল্যাটফর্ম চালু

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মহামারি করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে শাকসবজি, মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের স্বাভাবিক পরিবহন এবং সঠিক বিপণন ব্যাহত হয়েছিল। কৃষক তার উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করতে পারেননি। অনেক ক্ষেত্রে ন্যায্যমূল্যও পাননি। কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণও বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। ওই অবস্থায় প্রান্তিক কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন এবং সেই সঙ্গে ভোক্তারা যাতে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সহজে, স্বল্প সময়ে এবং সঠিক মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য ও কৃষিপণ্য পেতে পারেন সেজন্য বিপণনের অভাবে কৃষকের উৎপাদিত শাকসবজি, মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের একটা বিরাট অংশের অপচয় ঠেকাতে ‘ফুড ফর নেশন’ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।

মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা

করোনাকালে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে বন্যা এসেছিল বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৩৭ জেলায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এক লাখ ৫৮ হাজার ৮১৪ হেক্টর জমির প্রায় এক হাজার ৩২৩ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১২ লাখ ৭২ হাজার ১৫১। তবে সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ায় এই ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। বন্যায় আউশ, আমন, শাকসবজি, পাটসহ বেশ কিছু ফসলের অনেক ক্ষতি হলেও বিকল্প বীজতলা তৈরি এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে বিকল্প ফসল চাষের ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতি পূরণের চেষ্টা হয়েছে।

এ ছাড়াও প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে প্রায় দুই কোটি ১৫ লাখ টাকার কমিউনিটি ভিত্তিক রোপা আমন ধানের চারা বিতরণ, ৫০ হাজার কৃষকের মধ্যে প্রায় তিন কোটি ৮২ লাখ টাকার মাষকলাই বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, দুই লাখ ৩৯ হাজার ৬৩১ জন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে প্রায় ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এক লাখ ৫১ হাজার ৬০০ জন কৃষককে লালশাক, ডাটাশাক, পালংশাক, বরবটি, শিম, শশা, লাউবীজ ইত্যাদি বিনামূল্যে বিতরণের কার্যক্রম চলছে। সেই সঙ্গে ৩৩ জেলায় ৩৫ হাজার ১৬৬ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে প্রায় দুই কোটি ১৫ লাখ টাকার চারা বিতরণ করা হচ্ছে। প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ জেলায় পাঁচ হাজার ৬০টি ভাসমান বেডে রোপা আমন ধানের বীজতলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এতে এক হাজার ২৬৫ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।

সব মিলিয়ে কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রমে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আরও প্রায় ৭৫ কোটি টাকার কর্মসূচি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই টাকায় নয় লাখ ২৯ হাজার ১৯৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রত্যেককে গম, সরিষা, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী, খেসারি, পেঁয়াজ, মরিচ, টমেটো ইত্যাদি ফসল আবাদের জন্য বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে।

আরও উদ্যোগ

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সেচের মূল্য ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। ডিএপি সারের দাম প্রতি কেজি ২৫ থেকে কমিয়ে ১৬ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএডিসি উৎপাদিত প্রতি কেজি বীজের দাম ১০ টাকা কমানো হয়েছে। আউশের আবাদ বাড়াতে সেচ প্রণোদনা হিসেবে ১০ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে দুই কোটি ৬৩ লাখ টাকার আউশ বীজ বিতরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য ১৩১ কোটি টাকার প্রণোদনা, কাজু বাদাম, ড্রাগন ফল, কফি ইত্যাদি লাভজনক ও অপ্রচলিত ফসলের আবাদ এবং উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

‘প্রাণিসম্পদের উন্নত প্রজাতি ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সরকার’

লেখক

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেছেন, ‘আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রাণিসম্পদের উন্নত প্রজাতি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গবেষণার ফল আমরা পৌঁছে দিতে পারবো। এর ফলে মাংস, দুধ ও  ডিমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা মেটানোর পর তা আমরা রফতানি করতে পারবো।

রোববার সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এ আন্তর্জাতিক মানের অ্যান্টিমাক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) গবেষণাগার উদ্বোধন শেষে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গবেষণালব্ধ ফল গ্রামগঞ্জে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিলে গ্রামীণ জনগণ উৎসাহিত হবে। নিজেরা খামার করে তাদের বেকারত্ব দূর হবে, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে।’

বিএলআরআই মহাপরিচালক ড. নাথুরাম সরকারের সভাপতিত্বে সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবদুল জব্বার শিকদার এবং অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন ও সুবোল বোস মনিসহ মন্ত্রণালয় ও বিএলআরআই’র  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএলআরআই’র উদ্ভাবন গোটা জাতিকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন,  ‘ভবিষ্যতে বিশ্বে যে পরিমাণ প্রোটিন ও পুষ্টির প্রয়োজন হবে, সে চাহিদা অনুযায়ী আমাদের জোগান বাড়াতে হবে। যে জাতি নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চায় না, পরিশ্রম করে না, বিকশিত করার জন্য মেধাকে কাজে লাগায় না, সে জাতি এগোতে পারে না। এজন্য মেধা, বিচক্ষণতা ও যোগ্যতাকে বিকশিত করে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বিনিয়োগ করতে হবে। সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশকে লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ’

এর আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএলআরআই’র গবেষণা ও উন্নয়ন ভবনে বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছবি দিয়ে সজ্জিত ‘বঙ্গবন্ধু আলোকচিত্র গ্যালারি’ এবং বিএলআরআই ক্যাম্পাসে ফল গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে ফলদ বাগান উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এছাড়া বিএলআরআই ক্যাম্পাসে পাঁচুটিয়া খামার, বিদেশি ভেড়ার খামার ও মহিষ খামার পরিদর্শন করেন তিনি। এদিন বিকালে সাভারে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের আওতাধীন পোল্ট্রি ও ছাগল খামার, গবাদিপশুর খাদ্য তৈরির টিএমআর মিল এবং মৎস্য অধিদফতরের আওতাধীন মৎস্য মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগার পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

তিনদিনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেল ১৯৭ মেট্রিক টন ইলিশ

তিনদিনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেল ১৯৭ মেট্রিক টন ইলিশ
তিনদিনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেল ১৯৭ মেট্রিক টন ইলিশ

শারদীয় দুর্গোৎসবের আগেই বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে পদ্মার ইলিশ পৌঁছে গেছে ওপার বাংলায়। ফলে এবার দুর্গা পূজায় পদ্মার ইলিশের নানা পদের রান্না তৈরি হবে।

তবে তরকারিতে ভারতের পেঁয়াজের স্বাদ নিতে পারছে না এদেশের মানুষ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। তবে এদিন বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি হয়েছে ১২ মেট্রিক টন ইলিশ। ভারতে রফতানির আগে প্রকারভেদে ৫০০- ৭০০ টাকা কেজিতে ইলিশ পাওয়া গেলেও এখন দেশের বাজারে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।

অথচ ইলিশ রফতানির দিন ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে দুদেশের ব্যবসায়ীসহ জনসাধারণের মনে হাজার প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ যদি ইলিশ রফতানি বন্ধ করে দিতো তাহলে পেঁয়াজ রফতানির বিষয়টি বিবেচনা করতো ভারত।

কাস্টমস ও বন্দর সূত্রে জানা যায়, পূজা উপলক্ষে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশের মধ্যে গত তিনদিনে ১৯৭ দশমিক ৯ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রফতানি হয়েছে ভারতে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ৯৩ দশমিক ৬ মেট্রিক টন ইলিশের চালান কাস্টমস ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।

এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ৪১ দশমিক ৩ মেট্রিক টন ও মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ৬৩ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রফতানি হয়। বুধবার ইলিশের চালানটির রফতানিকারক ছিলেন ঢাকার রিপা এন্টারপ্রাইজ ও খুলনার জাহানাবাদ সি ফিশ লিমিটেড। প্রতি কেজি ইলিশের রফতানি দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ মার্কিন ডলার হিসেবে ৮০০ টাকা। এই দরে রফতানি করা প্রতিটি ইলিশের সাইজ ছিল এক কেজি থেকে ১২০০ গ্রাম ওজনের।

মৎস্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ও বেনাপোলের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার নয়জন রফতানিকারককে মোট এক হাজার ৪৭৫ টন ইলিশ ভারতে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। প্রতি কেজি ১০ মার্কিন ডলার দরে মোট এক লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি করা হচ্ছে। এ বছর ভারতে মোট এক হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি করা হবে।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শামিম হোসেন বলেন, প্রতি কেজি ১০ ডলার মূল্যে শুল্কমুক্ত সুবিধায় এ ইলিশ ভারতে রফতানি হচ্ছে।

২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সাত বছর। সম্পর্কের বরফ গলে দুদেশের। ২০১৯ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৫০০ টন ইলিশ পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। এক বছর পর ফের বেনাপাল-পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে পশ্চিম বাংলায় যাচ্ছে এক হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ।

বর্তমান সরকার এক হাজার ৪৭৫ টন ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আগেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী আগামী মাসের ১০ অক্টোবরের মধ্যে বাকি ইলিশ রফতানি করা হবে। পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে ইলিশ যাচ্ছে শিয়ালদহ, হাওড়া, পাতিপুকুর বাজারসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com