আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

ফিলিস্তিনে হজরত ঈসার (আ.) বাড়ির সন্ধান!

ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাজেরাহতে হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের বাড়ির সন্ধান মিলেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন, ক্রিপ্টে থাকা ‘স্ট্রং কেস’ বাড়িটি যীশু তথা হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের। খবর বিবিসি, নিউইয়র্ক পোস্ট ডটকম এবং ইজিপ্ট টুডে ডটকম।

বাড়িটি ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাজেরাহ এলাকায় অবস্থিত। এটি বেথলেহম এবং জেরুসালেমের পর তৃতীয় শহর সেখানে হজরত ঈসা আ. তার জীবনের ১৪ বছর অতিবাহিত করেছেন। বাইবেলের ভাষ্য মতে, হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম শৈশব এবং কৈশোরে এ সব শহরে অতিবাহিত করেন।

প্রত্নতাত্ত্বিকেরা দাবি করেছেন যে, তারা এমন একটি বাড়ির সন্ধান পেয়েছেন যেখানে হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম তার শৈশবকাল কাটিয়েছেন।

লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের প্রফেসর ‘কেন ডার্ক’ ২০০৬ সালে প্রথম এই অঞ্চলে অনুসন্ধান শুরু করেন। ২০১৫ সালে তিনি নিশ্চিত হন যে, এই বাড়িটিতেই হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর শৈশবকাল কাটিয়েছিলেন। আধুনিক প্রযুক্তি বিজ্ঞানীদের প্রমাণ করতে দিয়েছেন যে এই বাড়িটি খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল কিনা।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মূলত যীশুর বাড়ি খুঁজতে নাজেরাহতে যাইনি; আমি আসলে বাইজেন্টাইন খ্রিস্টান তীর্থস্থান হিসাবে নগরীর ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছিলাম। অধ্যাপক ডার্ক বিশ্বাস করেন যে, সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণ দ্বার এটাই বিদ্যমান যে, তার অনুমানই সঠিক হয়েছে। আর এতে আমার চেয়ে আর কেউ বেশি অবাক হতে পারেনি।’

বাইবেলেও তার এ অনুমানের বৈধতার প্রমাণ রয়েছে। ব্রিটিশ এই প্রত্নতাত্ত্বিকের মতে, বাড়িটি দক্ষ ও পেশাদার রাজমিস্ত্রি দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৮৮০’র দিকে বাড়িটি প্রথম নাজেরাহতে খ্রিস্টান নানদের দ্বারা আবিষ্কার হয়েছিল। ১৯৩০’র দিকে বাইবেলের পণ্ডিত ভিক্টর গেরিন বলেন, নাজেরাহ শহরে ১৮৮৮ সালেও গবেষণার জন্য খননকাজ অব্যাহত ছিল। পরে তা আবার ১৯৩৬ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সেই সময়, নানরা যীশু তথা হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের সেখানে বসবাস করার কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি, তবে এখন একজন প্রত্নতাত্ত্বিক নিশ্চিত হয়েছেন যে. এটিই যীশুর তথা হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের বাড়ি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বিশ্ব

এবার দেশে চীন-ভারতের নতুন টিকার পরীক্ষা

চীন ও ভারতের টিকা একই সঙ্গে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। পরীক্ষার বিধিবিধান (ট্রায়াল প্রটোকল) পর্যালোচনার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, দুটি টিকাই এ দেশে পরীক্ষার অনুমোদন পাবে।

টিকা দুটির পরীক্ষার নীতিগত অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলে (বিএমআরসি) আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএমআরসির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, দুটি দেশের দুটি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের নীতিগত অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে আইসিডিডিআরবি। তাদের দেওয়া কাগজপত্র পর্যালোচনা চলছে।

ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেক এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ যৌথভাবে করোনার টিকা উদ্ভাবন করেছে। এর নাম ‘কোভ্যাক্সিন’। ভারতে এই টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। এই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করতে চাইছে আইসিডিডিআরবি। এই পরীক্ষার প্রধান গবেষক আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী কে জামান।

দুটি দেশের দুটি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের নীতিগত অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে আইসিডিডিআরবি। তাদের দেওয়া কাগজপত্র পর্যালোচনা চলছে।

অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিএমআরসির সভাপতিবিজ্ঞাপন

অন্যদিকে চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের উদ্ভাবিত টিকাটির পরীক্ষার প্রধান গবেষক আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরি। নিউইয়র্ক টাইমস-এর তথ্য অনুয়ায়ী, গত ডিসেম্বরে চীনের এই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের গবেষণা শুরু হয়েছে ব্রাজিল ও মালয়েশিয়ায়। সেখানে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরীক্ষার সম্ভাবনা আছে।

গতকাল দুপুরে বিএমআরসি কার্যালয়ে করোনার টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ও গবেষণা নিয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাহামুদুজ্জাহানের সঙ্গে । তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহামারির গুরুত্ব বিবেচনায় পর্যালোচনার কাজে বেশি সময় লাগবে না।’ তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যালোচনার পর কাগজপত্র পাঠানো হবে ন্যাশনাল রিসার্চ এথিকস কমিটির কাছে। এথিকস কমিটি সন্তুষ্ট হলে টিকা পরীক্ষার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই পরীক্ষা থেকে দেশ লাভবান হবে কি না এবং এ ক্ষেত্রে সক্ষমতা গড়ে উঠবে কি না, সে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভারতের টিকাটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে রাজধানীর আটটি হাসপাতালের চিকিৎসকসহ মোট ৬ হাজার ৪০০ স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর। হাসপাতালগুলোর তালিকায় আছে: শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি ইম্পালস হাসপাতাল। অন্যদিকে চীনের টিকাটি প্রয়োগ করা হবে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বাংলাদেশে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হওয়া দরকার বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও ওষুধ বিজ্ঞানীরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার ফলাফল ভোগ করব, নিজেরা কোনো পরীক্ষায় অংশ নেব না—এটা খুব একটি সম্মানজনক কথা নয়। পরীক্ষায় অংশ নিলে টিকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আমাদের সক্ষমতা তৈরি হবে, দক্ষতা বাড়বে। পরীক্ষায় অংশ নিলে ওই টিকার ওপর একধরনের অধিকার জন্মে। টিকা উৎপাদনে সক্ষমতা তৈরির একটা সুযোগ তৈরি হবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে কাজে লাগবে।’

আমরা পরীক্ষার ফলাফল ভোগ করব, নিজেরা কোনো পরীক্ষায় অংশ নেব না—এটা খুব একটি সম্মানজনক কথা নয়। পরীক্ষায় অংশ নিলে টিকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আমাদের সক্ষমতা তৈরি হবে, দক্ষতা বাড়বে।

মো. সায়েদুর রহমান, বিএসএমএমইউর অধ্যাপক

এর আগে চীনা কোম্পানি সিনোভেকের টিকা ‘করোনাভেকের’ পরীক্ষামূলক প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছিল আইসিডিডিআরবি। পরীক্ষার নীতিগত অনুমোদনও দিয়েছিল বিএমআরসি। তবে অনুমোদনের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছিল, মহামারি পরিস্থিতিতে টিকার জন্য বিএমআরসির অনুমোদন যথেষ্ট নয়। এর মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যখন পরীক্ষার অনুমতি দেয়, তখন সিনোভেক পরীক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা চায় বাংলাদেশ সরকারের কাছে। সরকার তাতে রাজি হয়নি। প্রস্তুতি থাকলেও পরীক্ষা চালাতে পারেনি আইসিডিডিআরবি। সিনোভেকের টিকা এখন চীনে ব্যবহার হচ্ছে।

এরপর ফরাসি ওষুধ কোম্পানির স্যানোফির টিকার পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় বিএসএমএমইউ। এই পরীক্ষার প্রধান গবেষক ছিলেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া। কিন্তু স্যানোফি মাঝপথে পরীক্ষা স্থগিত করায় বিএসএমএমইউ আর অগ্রসর হয়নি।

বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানি গ্লোব বায়োটেক টিকা উদ্ভাবন করছে। এর নাম ‘বঙ্গভ্যাক্স’। এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ এখনো শুরু হয়নি। তবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর তিন দিন আগে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য টিকা উৎপাদনের অনুমোদন দিয়েছে গ্লোব বায়োটেককে।

এ ছাড়া চীনের অন্য একটি প্রতিষ্ঠান আনুই জিফেইয়ের একটি টিকা পরীক্ষায় সম্মতি দেওয়ার কথা সরকার ভাবছে। বিএসএমএমইউ এই টিকার পরীক্ষা করবে, এমন সম্ভাবনা আছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বিশ্ব

দ্রুত টিকা আনার চেষ্টা চলছে, আগে পাবেন সম্মুখযোদ্ধারা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। দেশে দ্রুত টিকা আনার চেষ্টা চলছে। সম্মুখসারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে।


জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। এ ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশে এখনো সংক্রমণ এবং মৃত্যুহার অনেক কম। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখার। আশার কথা, বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯-এর টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও আমরা দ্রুত টিকা নিয়ে আসার সব ধরনের চেষ্টা করছি। টিকা আসার পরপরই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সম্মুখসারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হবে।’বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসনের সদস্যসহ সম্মুখসারির করোনাযোদ্ধাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দরিদ্র-অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। আমি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, আমি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের যে মহাসড়ক বেয়ে দুর্বার গতিতে ধাবিত হচ্ছে, তা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হতে না পারে, সেদিকে আপনাদের সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। উন্নয়নের পথে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর গত ১২ বছরে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ‘আর্থসামাজিক এবং অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন সাধিত হয়েছে,’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ আজ একটি সমীহের নাম। জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আজ চোখে পড়ার মতো। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আজ অনেক দূর এগিয়েছি সত্য। আমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে। হতে পারে সে গন্তব্য পথ মসৃণ, হতে পারে বন্ধুর।’ ‘বাঙালি বীরের জাতি। পথ যত কঠিনই হোক, আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। আমরা যদি পরিশ্রম করি, সততা-দেশপ্রেম নিয়ে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে আমরা সফলকাম হবই ইনশা আল্লাহ’, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইনের শাসন সমুন্নত রেখে মানুষের নাগরিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কঠোর হস্তে জঙ্গিবাদের উত্থানকে প্রতিহত করেছি। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।’


প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কোভিড-১৯ বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় জনগণের প্রতি তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে কোভিড-১৯ চলাকালে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারি উদ্যোগ, ভ্যাকসিন প্রাপ্যতা নিশ্চিতে সরকারের প্রচেষ্টা, রোহিঙ্গা সমস্যা, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র, মুজিব বর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গেরও উল্লেখ করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

খাতা-কলম ও মাঠের চিত্রে ‘মিলছে না’ চাল উৎপাদনের হিসাব

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে সরকার

কৃষি বিভাগের দাবি, চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ, চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু মাঝে মাঝেই অস্থির হয়ে উঠছে চালের বাজার। লাগামহীন চালের দাম দুর্ভোগে ফেলছে সাধারণ মানুষকে। তাই চাল উৎপাদনের তথ্য নিয়ে ‘প্রশ্ন’ উঠেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হলে কেন চাল আমদানিতে যেতে হচ্ছে? মাঠ পর্যায় থেকে ফসল উৎপাদনের সঠিক চিত্র আসছে না বলে সম্প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায় থেকে নমুনা নিয়ে তারা উৎপাদনের তথ্য দেন। যদিও লোকবলের সংকট আছে। করোনাভাইরাসের কারণে তারা এবার মাঠ পর্যায়ে সেভাবে যেতে পারেননি। চালের চাহিদার তথ্য সঠিক না হলে প্রকৃত উৎপাদনের তথ্য দিয়েও সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে না বলেও জানিয়েছেন তারা।

গত বছরের আগস্টে চালের মজুত নিয়ে এক সেমিনারে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) পূর্বাভাস দিয়েছিল, চাহিদা মেটানোর পরও সাড়ে ৫৫ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। নভেম্বরের (২০২০ সালের) মধ্যে আউশ ও আমনের উৎপাদন যুক্ত হলে খাদ্য ঘাটতির কোনো আশঙ্কায় থাকবে না।

পরে ডিসেম্বরে ব্রি এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদা পূরণ করেও আগামী বছরের (২০২১) জুন পর্যন্ত  কমপক্ষে ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। একই সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোও (বিবিএস) উৎপাদনের তথ্য দেয়।

চলতি মৌসুমে এক কোটি ৫৬ লাখ টন আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কিন্তু এবার আমনের ভর মৌসুমে মোটা চালের কেজিপ্রতি দাম ৫০ টাকায় পৌঁছেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করা হচ্ছে ।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয় বলেন আর বিসিএস-ই বলেন, তারা প্রতি জেলায় ৫ কাঠা, ১০ কাঠার ডেমোনেস্ট্রেশন (প্রদর্শন) ফার্ম করেন, প্লট করেন। সেই প্লটে যে প্রোডাকশন হয়, এর ওপরই তারা হিসাব দিয়ে দেয়। এই হিসাবে তো আমাদের চলবে না।’

উৎপাদনের যে হিসাব আসছে তা সঠিক কি-না, এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তা জোর গলায় বলব না। সেটা এগ্রিকালচার ও বিসিএসই বলুক।’

মাঠ প্রশাসন থেকে চাল উৎপাদনের সঠিক তথ্য না দেয়ার অভিযোগ

গত ৭ জানুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মাঠ প্রশাসন থেকে চাল উৎপাদনের বিষয়ে সরকারকে সঠিক তথ্য না দেয়ার অভিযোগ ওঠে। অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের কারণে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ-৯ আসনের সাংসদ আনোয়ারুল আবেদীন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত মিটিংয়ে এটা (উৎপাদনের ত্রুটিপূর্ণ তথ্য) নিয়ে কথা হয়েছে। মাঠ থেকে যে তথ্য আসে সেই তথ্যের সাথে বাস্তবের অমিল খুঁজে পেয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ কারণে কমিটির সভাপতি (মতিয়া চৌধুরী) ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাস্তব ও মাঠের চিত্রের মধ্যে অনেক অমিল, এটা ঠিক রাখার চেষ্টা করুন। এত চাল উদ্বৃত্তের কথা যদি আপনারা বলেন, তবে সরকারকে চাল আমদানি করতে হবে কেন? পরবর্তী সময় এটা যাতে আর না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলেছেন তিনি (সভাপতি)।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমিও মনে করি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ যারা আছে তারা আসলে উৎপাদনের বিষয়ে সঠিক তথ্য দেয়নি। উদ্বৃত্তের কথা বলা হচ্ছে আবার কিনতে হচ্ছে, কথা তো দিনরাত তফাৎ হয়ে গেল! এ বিষয়টি এবার ধরা পড়ল।’

অনেক ব্যবসায়ী লাভের আশায় ধান ধরে রাখছেন

উৎপাদনের তথ্যের বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের জনবল সঙ্কট রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা সঠিক হিসাব দেয়ার চেষ্টা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমনের উৎপাদনের হিসাব এখনও আমরা চূড়ান্ত করিনি। ফসল কাটা এখনও শেষ হয়নি। এবার উৎপাদন তো কম হবেই, বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে– এটা তো আমরা বলেছি। এক লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এবার আমনে এক কোটি ৪০ থেকে ৪২ লাখ টন চাল উৎপাদন হতে পারে বলে আমরা মনে করছি। আমাদের হিসাবের পর আবার বিসিএসের সঙ্গে মিলিয়ে থাকি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা একভাবে রিপোর্ট তৈরি করি, বিবিএস আরেকভাবে করে। আমাদের স্যাম্পল (নমুনা) নেয়ার পরিমাণ বেশি, কারণ আমাদের মাঠ পর্যায়ে লোক আছে। স্যাম্পল বেশি নেয়ার কারণে আমাদের হিসাবটা যুক্তিসঙ্গত মনে করি।’

আসাদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এই (উৎপাদনের হিসাব) প্রক্রিয়াটায় আরও কাজ করব। যাতে আরও বেশি স্যাম্পল নিয়ে অ্যাভারেজ (গড়) করে উৎপাদনের হিসাবটা দিতে পারি।’

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘উৎপাদন বেশি হলেই যে চালের দাম বাড়বে না, এমন তো কোনো কথা নেই। মজুত করেও তো দাম বাড়ানো যায়। মজুতের মাধ্যমে বাজারে চালের সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যাবে। অনেকে লাভের আশায় ধান ধরে রাখছেন। এটা তো একটা ফ্যাক্ট।’

চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় আমদানি নিয়ে প্রশ্ন

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উৎপাদনের হিসাবের প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নমুনা হিসেবে কিছু কৃষকের সঙ্গে কথা বলি– এক বিঘা জমিতে কত মণ ধান হয়েছে। আমরা ১০-১২ জন মানুষ আমাদের পক্ষে তো সারাদেশে যাওয়া সম্ভব নয়। যাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছি তারা যদি ভুল তথ্য দেয় সেটা ধরা তো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে তথ্য নেই। কোথাও ফোনে কথা বলি। আমরা কোনো কোনো স্থানে ধান কেটে মেপে, ময়েশ্চার অ্যাডজাস্ট করে হিসাব করি। এবার করোনার কারণে তো মাঠ পর্যায়ে যাওয়া যায়নি, অনলাইনে কাজ করতে হয়েছে।’

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জনসংখ্যা যেটা ধরে হিসাব করি, প্রকৃত সংখ্যা সেটার থেকে বেশি হলেও সমস্যা থাকবে, হিসাব মেলানো যাবে না। এবার আমনের উৎপাদন কম হয়েছে এটা সরকার স্বীকৃত। ১০ শতাংশ কম হলেও ১৫ লাখ টন কম হবে। যেটুকু নষ্ট হয় তা বাদ দিলেও তো খাদ্যের অভাব হওয়ার কথা নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন প্রতিজন ৩৬৭ গ্রাম চাল খায়। করোনার কারণে অনেক মানুষ বিদেশ থেকে এসেছে। তারা খাচ্ছে। জনসংখ্যার হিসাব অনেক দিন আগের। হিসাব ঠিকঠাক থাকলে ২০ থেকে ২৫ লাখ টন খাবার উদ্বৃত্ত থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

রাবার তৈরি হয় যেভাবে

শেখ আনোয়ার
রাবারের ব্যাপারে মানুষ শুরু থেকেই উৎসুক ছিল। কারণ রাবার হলো ওয়াটার প্রুফ। পানি চোয়ায় না। টেনে লম্বা করা যায়। তাপে গলিয়ে যে কোনো আকৃতিতে পরিণত করা সম্ভব। প্রথমদিকে রাবার ব্যবহারে কতগুলো মৌলিক অসুবিধা ছিল। যেমন- ঠান্ডা আবহাওয়ায় রাবার শক্ত হয়ে সংকুচিত হয়। আবার গরমে গলে নরম আঠালো হয়ে যায়।

রাবার থেকে তৈরি জিনিস ২৪ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যেত না। হাজার হাজার বছর ধরে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার মানুষ বিভিন্ন আকারের রাবারের জিনিস তৈরি করতো। এর মধ্যে ছিল জুতা, বল, পানি ধারক পিপাসা নিবারনী আলখাল্লা ইত্যাদি।

রাবার পাওয়া যায়, রাবার গাছের রস থেকে। এ রস দেখতে সাদা। একদম দুধের মতো। রাবার গাছের সাদা কষ রাবারের মূল উপাদান। রাবারের এ কষকে বলা হয় সাদা সোনা। রাবার গাছ জন্মে পৃথিবীর নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের দেশগুলোতে।

বাংলাদেশের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ভাটেরা, সাতগাঁও শাহজীবাজার ও রূপাইছড়া রাবার বাগান রয়েছে। রাবার গাছের কাণ্ড চেছে কাঠের অংশটি ছিলে দেয়া হয়। সেই চাছা অংশ থেকে রস টপ টপ করে পড়তে থাকে। দেখা যায় যে, চাছা অংশে যদি একটি কাঠি পুতে দেয়া হয়, তবে রস ফোঁটায় ফোঁটায় পরতে থাকে। রস এভাবে সংগ্রহ করাটিই উত্তম।

রাবার আবিষ্কার হওয়ার পর এবং তরল রাবারকে শক্ত করার পদ্ধতিও বের করে মানুষ। এদিকে শক্ত রাবারকে ইউরোপীয়রা পুনরায় তরলে পরিণত করার একটি উপায়ের কথা ভাবতে শুরু করে। ক’দিন আগেও ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট আলোকিত করার জন্য ব্যবহার করা হতো কয়লা গ্যাস। এর প্রধান উপজাত হলো ন্যাফথা।

ন্যাফতা শক্ত রাবারকে গলে দেয় এবং রাবারকে তরল করে। চার্লস স্যাকিনটোল দু’টুকরো কাপড়ের মাঝখানে তরল রাবারের দ্রবণ সেটে সে সময় সুন্দর রেইনকোট বানান। যদিও এই রেইনকোট খুব ভারি এবং শক্ত ছিলো। তবে এটিই হলো পৃথিবীর প্রথম রেইনকোট বা বর্ষাতি।

এই সময় লন্ডনে, টমাস হ্যানকক দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কিছু রাবার সংগ্রহ করেন। সে রাবার দিয়ে তিনি রাবার ব্যান্ড, দস্তানা, বুট জুতা ইত্যদির সম্প্রসারণ (ইলাস্টিক) অংশগুলো তৈরি করেন। তবে রাবার তাপে গরম করলে বা পুনরায় তরল করলে আগের যে শক্তি তা নষ্ট হয়ে যেতো এবং বিকৃত হতো তাড়াতাড়ি।

তাই রাবারকে অনেককাল পর্যন্ত নানাভাবে রদবদল করলেও কি করে শক্ত, মজবুত, মসৃণ, সম্প্রসারণশীল, আঠালো, অর্থাৎ এর স্বাভাবিক গুণাবলী অক্ষুণ্ন রাখা যায় এ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু হলো।

আমেরিকায় ওভারশু প্রচলন হবার পর আমাজানের ভারতীয়রা ওইসব ওভারশু তৈরি করে রফতানি করতো। খুব শিগগিরই পানি নিরোধী কোট, জীবন রক্ষাকারী টিউব, ওয়াগনের ঢাকনা, হোস পাইপ ইত্যাদিও রাবার দিয়ে তৈরি শুরু হলো। বাজার ছেয়ে গেলো রাবারের জিনিসে। তবে রাবার শক্ত হওয়া, আঠালো, চটচটে, বিশ্রী গন্ধ ইত্যাদি সমস্যা কিন্তু তখনো ছিলো।

গরম ঠান্ডায় রাবারের দোষগুলো কাটিয়ে নেয়ার উপায় বের করার চেষ্টা বিভিন্ন সময়ে নানানজন করেছেন। চার্লস গুডইয়ার হলেন এদের মধ্যে সবচে সার্থক। গুডইয়ারের কথা বলবার আগে অন্যান্যদের কথা কিছু বলে নেয়া উচিত।

চার্লস গুডইয়ার নিউইয়র্কের এক দোকানে একদিন রাবারের তৈরি লাইফ প্রিজারভার দেখেন। জিনিসটি তার খুব ভালো লাগলো। এটি আরো উন্নত করার জন্য উন্নতমানের একটি ভাল্ব তৈরি করে দোকানদারকে দেন। গুডইয়ারের আর্থিক অবস্থা তখন খুব খারাপ। ভেবেছিলেন এ থেকে কিছু পয়সা পাবেন। কিন্তু দোকানদার গুডইয়ারকে বললো, রাবারই ভালো নয়, তো ভালো ভাল্ব দিয়ে কি হবে?

সেই থেকে শুরু। গুডইয়ার রাবার স্বাভাবিক গুণাবলি অক্ষুণ্ন রাখার কৌশল আবিষ্কারে মনোনিবেশ করলেন। রসায়নের কোনো জ্ঞান তার নেই। যন্ত্রপাতি সমন্ধেও কোনো ধারণা নেই। সবচে বেশি যা দরকার- টাকা। তাও নেই তার। তবু চললো গবেষণা।

পরবর্তী পাঁচ বছরে বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন। নানা রকম বাঁধা বিপত্তির পর নিজের একক প্রচেষ্টায় রাবার সমস্যার সমাধান করলেন। নিজের আবিষ্কারকে বললেন, মেটালিক গাম ইলাস্টিক। এটিই পরবর্তীকালে ভলকানাইজেশন নামে পরিচিত হয়। অগ্নিদেবতার নাম ভলকান। তার থেকেই এই নামের উৎপত্তি।

ভলকানাইজিং আবিষ্কার হবার পর রাবার থেকে বুট জুতা, কাপড়, ডাক্তারি যন্ত্রপাতি, প্রকৌশল যন্ত্রপাতি ইত্যাদিসহ গাড়ির টায়ার সবই তৈরি সহজ হয়ে গেলো। সেই থেকে শুরু। এখনো গুডইয়ারের ভলকানইজড রাবার সেরা রাবার হিসেবে বিখ্যাত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ঘন কুয়াশায় রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

রবি মৌসুমে যেভাবে ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে তাতে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা। ঘন কুয়াশা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে রবি শস্য বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে ধারণা করছেন তারা।

সদর উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে এ আবহাওয়ার কারণে বোরো ধানের চারা হলদে রং হয়ে যাবে।

সরিষা, টমেটো ও আলু খেতে লেট রাইট রোগের প্রকোপ বাড়বে। শাক-সবজির সাধারণ বৃদ্ধি ব্যাহত হবে। আম ও কুল গাছ রোগাক্রান্ত হয়ে যাবে। কারণ কুয়াশায় সবুজ পাতার স্ট্রোমা ছিদ্র হয়ে যায়।

এতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না। কুয়াশার কারণে আমের মুকুলে এনথ্রাক্স ও পাউডারি মিলভিউ রোগ দেখা যায় এবং পাউডারি মিলভিউ রোগে মুকুল পচে যায়।

এছাড়া আম গাছের হোপার পোকার আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। এধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে কুলেও এনথ্রাক্স রোগ দেখা দিতে পারে। এ রোগে কুলের বহিরাবরণে কালো দাগের সৃষ্টি হবে এবং এক সময় কুল পচে যাবে।

কৃষিবিদ কামরুন্নাহার তামান্না জানান, ঘন কুয়াশার কারণে ঘটিত রোগ প্রতিরোধে টমেটো, আলু ও শীতকালীন লতা সবজিতে রেডোমিন গোল্ড স্প্রে করে দিতে হবে।

আমের মুকুল ও কুল ফসলে ভালো করে পানি স্প্রে করে দিতে হবে যাতে করে কুয়াশার পানি ও থেমে থাকা জীবাণু ধুয়ে ফেলতে হবে। যাতে করে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম হবে বলে জানান কৃষিবিদ কামরুন্নাহার তামান্না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com