আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী
ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’ এই প্রবাদ আমরা সকলেই জানি তবে কেঁচো খুঁড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হতদরিদ্র এক নারী। এক সময় তিনি ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে অন্যের খেজুর গাছের রস চুরি করে খেয়ে রাত কাটিয়েছেন। গভীর রাতে সন্তানের ক্ষুধায় প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে পানি দেয়া ভাত চেয়ে এনেছেন। কিন্তু তিনি এখন কৃষিকাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ধান, সবজির আবাদ ছাড়াও শুধু কেঁচো কম্পোস্ট থেকেই প্রতি মাসে তার আয় ২০ হাজার টাকা।

বলছিলাম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বলাকান্দর গ্রামের শিরিষ খালের পাড়ে সরকারের খাস জমিতে একটি টিনের ঝুপড়ি বাড়িতে বসবাস কারা ফাতেমা বেগমের কথা। তার বাবা মৃত সৈয়দ আলী মন্ডল আর মা রুশিয়া বেগম। বড় ছেলে কায়েম আলী এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী আর ছোট মেয়ে তৃপ্তি খাতুন চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ফাতেমার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তার সংগ্রামী জীবনের কথা। অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা ফাতেমার বিয়ে হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে। স্বামীর সংসারে সুখে দিন কাটবে এমন আশা থাকলেও তাকে প্রতিনিয়ত অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে। স্বামীর সংসারে সুখের পরিবর্তে অনাহারে অথবা অর্ধহারে দিন কেটেছে তার। বিয়ের ১০ বছরের মাথায় দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে স্বামী মারা যায়। এরপর বিধবা ফাতেমার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার।

ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী
ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

স্বামী মারা যাওয়ার পর শশুর-শাশুড়ি আর দেবরের নির্যাতনে টিকতে না পেরে রাতের আঁধারে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন ফাতেমা। এরপর বাবার বাড়িতে অভাবের সংসারে খেয়ে না খেয়ে কেটে যায় পাঁচ বছর। পরে আবার বিয়ে হয় পাশের গ্রাম ষাটবাড়িয়া গ্রামের আশরাফুল হাদির ছেলে ইকবল হোসেনের সঙ্গে। এরপর গ্রামের শিরিষ খালের পাড়ে সরকারি খাস জমিতে টিনের ঝুপড়ি ঘরে বসবাস শুরু করেন তারা। অভাবের সংসারে মাদকাসক্ত স্বামীর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জীবন, পালাতে চাইলেও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কিছু সহ্য করতে হয়েছে ফাতেমাকে।

এরপর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ফাতেমার সংগ্রামী জীবন শুরু হয়। ধৈর্য এবং সততার সঙ্গে নিজের কর্ম প্রচেষ্টায় এখন সেই দিন পাল্টে গেছে তার। বাড়িতে কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি করে বিক্রির মাধ্যমে ফাতেমা সংসারে সুখ ফিরিয়েছেন। ২০০৫ সালে মাত্র একটি চাড়িতে (মাটির তৈরি বড় পাত্র) কেঁচো দিয়ে শুরু করেন জীবনযুদ্ধের পথচলা। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তার ৩৫০টি চাড়িতে কেঁচো কম্পোস্ট রয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদিত সার ও কেঁচো বিক্রি করে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করেন ফাতেমা। সেই টাকা দিয়ে মাঠে প্রায় এক বিঘা জমি কেনা ছাড়াও সাড়ে ৯ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ধান, গম, সরিষা, কলা, মরিচ, লাউসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করে এখন ভালোই চলছে তার সংসার।

ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী
ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

সরেজমিনে দেখা যায়, ফাতেমার বাড়িতে রয়েছে টিনের ছাউনির একটি লম্বা ঘর। সেখানে সারি সারি বসানো রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক গোবর ভর্তি মাটির চাড়ি। যার ভেতরে ছেড়ে দেয়া রয়েছে লাল রঙের এক জাতীয় কেঁচো। যে কেঁচোগুলো চাড়ির ভেতরে একদিকে বংশ বিস্তার করছে অন্যদিকে গোবর খাওয়ার পর শুকিয়ে তৈরি হচ্ছে অধিক উর্বর কেঁচো কম্পোস্ট সার। যা ফসলি ক্ষেতে ব্যবহার করে ভালো ফলন পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

ফাতেমা বেগম জানান, রাসায়নিক সার অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাছাড়াও রাসায়নিক সার দিয়ে উৎপাদিত ফসল খেয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত নানান জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া রাসায়নিক সার জমিতে মাত্রা অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাভাবিক স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০০৫ সালে জাপানভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের প্রশিক্ষণ কর্মশালা থেকে তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়িতে কেঁচো কম্পোষ্ট সারের উৎপাদন শুরু করেন। স্থানীয় মাটির চাড়িগুলোর মধ্যে গোবর দিয়ে এর মধ্যে ছেড়ে দেন এক ধরনের কেঁচো। কেঁচোগুলো গোবর খেয়ে যে পায়খানা করে সেটাই কোঁচো কম্পোস্ট সার। চাড়িগুলো বসত ঘরের পাশের একটি চালা ঘর তৈরি করে বসানো হয়েছে। এরপর থেকে বাড়িতে এ সার তৈরি করে এলাকার কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন।

ফাতেমা আরও জানান, প্রথম দিকে নিজের গরু না থাকায় গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে গোবর কুড়িয়ে ও কিনে কম্পোস্ট সার তৈরি করতেন। সে সময় লাভ অনেকটা কম হতো। বর্তমানে তার তিনটি গরু। ফলে বাইরের গোবরের আর প্রয়োজন হচ্ছে না। প্রতি কেজি সার ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করছেন। আর কেঁচো বিক্রি করছেন কেজি এক হাজার টাকা থেকে ১২শ টাকা। যেখান থেকে প্রতি মাসে তিনি কমপক্ষে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকার সার ও কেঁচো বিক্রি করতে পারছেন। এছাড়া ধান, গম, সরিষা, মরিচ, লাউসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ করছেন। যা দিয়ে এখন ভালোভাবে তার সংসার চলছে।

ফাতেমা বলেন, বাবার অভাবের সংসার থেকে স্বামীর সংসার পর্যন্ত কখনও অভাব পিছু ছাড়েনি। স্বামীর সংসারে এসে প্রথমে বেশ কিছুদিন হতাশার মধ্যে জীবন চলতো। পরে ভাবলাম নিজে উৎপাদনশীল কোনো কাজ করবো। যা দিয়ে সংসারের গতি ফেরানো যাবে। এ ভাবনা অনুসারেই সুযোগ পেয়ে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ নিই। এরপর নিজ বাড়িতেই শুরু করি কম্পোস্ট সার তৈরির কাজ।

ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী
ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

ফাতেমার প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম জানান, মাঠে ফাতেমার স্বামীর নিজের কোনো চাষযোগ্য জমি নেই। কিন্তু ফাতেমা কয়েক বছর ধরে কম্পোস্ট সার তৈরি করে বিক্রির মাধ্যমে বর্তমানে বেশ টাকার মালিক হয়েছেন। এক বিঘা জমি কেনা ছাড়াও আরও সাড়ে ৯ বিঘা জমি লিজ নিয়ে অর্গানিক পদ্ধতিতে ফসল চাষ করছেন ফাতেমা নিজেই। এক সময় সাংসারিক জীবনে তাকে অনেক কষ্ট মোকাবিলা করতে হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তার একক প্রচেষ্টায় একটি স্বনির্ভর সংসার গড়ে উঠেছে। ফাতেমা তার মাদকাসক্ত স্বামীকেও মাদক থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। তার স্বামী এখন কোনো কাজ না করলেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে।

ওই গ্রামের আমেনা বেগম জানান, আগে ফাতেমার সংসারে অনেক অভাব ছিল। দুই সন্তান নিয়ে জীবন চলা অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল তার। কিন্তু ফাতেমা কৃষি কাজ করার পর থেকে সংসারের অভাব দূর হওয়ার পাশাপাশি তার সন্তানদের পড়ালেখা করাতে পারছেন।

ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী
ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম বলেন , অবহেলিত নারীদের জন্য ফাতেমা একটি দৃষ্টান্ত। নারীরা আর পিছিয়ে নেই এটা ফাতেমাকে দেখলেই বোঝা যায়। কেঁচো সার উৎপাদন করে এই নারী যে শুধু স্বাবলম্বী হচ্ছেন তা নয়, পাশাপাশি ধান, গম, সরিষা, কলাসহ বিভিন্ন দেশি ফসল উৎপাদনেও তিনি ভূমিকা রাখছেন। আমরা সবসময় ফাতেমার পাশে আছি।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জাগো নিউজকে জানান, তিনি ফাতেমা বেগমের কৃষি ও কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন পদ্ধতি নিজে দেখেছেন। একজন কৃষাণীর চেষ্টায় শূন্য থেকে সফলতা অর্জন দেশের কৃষক ও কৃষাণীদের জন্য অনুকরণীয়। যখন দেশের অগণিত কৃষক কৃষি কাজে মাত্রা অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করে জমির উর্বরতা নষ্ট করছে তখন ফাতেমার জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ সবাইকে চমকে দিয়েছে।

  • ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

    ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

  • ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

    ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

  • ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

    ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

  • ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

    ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

  • ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

    ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

  • ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী
  • ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী
  • ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী
  • ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী
  • ক্ষুধা মেটাতে খেজুর রস চুরি করা সেই ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী

এগ্রোবিজ

হিলিতে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম

লেখক

আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতের কাঁচা মরিচ বাংলাদেশে প্রবেশ করায় খুব শিগগিরই স্থিতিশীল হবে উঠবে মরিচের বাজার।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ট্রাকে ট্রাকে প্রবেশ করছে কাঁচা মরিচবাহী ভারতীয় ট্রাক। আমদানিকারকরা জানান, দেশেরে বাজারে চলতি মৌসুমে বন্যার কারণে মরিচের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশে উৎপাদিত কাঁচা মরিচের সরবরাহ কমে যায়। এ কারণে দেশীয় বাজারে কাঁচা মরিচের দামও বেড়ে যায়। আর দেশের বাজারে ভারতীয় কাঁচা মরিচের চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরাও ভারত থেকে আমদানি শুরু করেছেন। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মরিচগুলো ভারতের মধুপুর থেকে আসছে। সময় লাগছে ২ থেকে ৩ দিন। আগে গাড়ি আসতো ২-৪টি করে, তবে এখন ৮-১০টি আসসে। কাঁচা মরিচগুলো ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় যাবে। 


ব্যবসায়ীরা আরও জানান, ভারত থেকে মরিচ আমদানি করে সরকারকে প্রতিকেজি মরিচে ২১ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। ভারতীয় কাঁচা মরিচ বাংলাদেশের বাজারে আসায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মরিচের বাজার স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছেন আমদানিকারকেরা।


হিলি স্থলবন্দরেরে আমদানিকারক হারুন উর রশীদ হারুন বলেছেন, দেশে মরিচের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে আমাদের ভারতের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়েছে। এতোমধ্যেই আমরা ব্যাপক পরিমাণে আমদানির প্রস্তুতি নিয়েছি। কাঁচা মরিচ আসা শুরু করেছে এবং এর প্রভাবে দাম কমাও শুরু করেছে।

হিলি কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গেল ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুরু হয় ভারত থেকে কাচাঁ মরিচের আমদানি। গেল ৮ কর্মদিবসে ভারতীয় ৪১ ট্রাকে ২৯১ মেট্রিক টন মরিচ আমদানি হলেও শুধু মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) একদিনেই ভারত থেকে ১১ ট্রাক কাঁচা মরিচ এসেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষিখাতে লাভজনক বাণিজ্যিকীকরণের চেষ্টা চলছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

লেখক

ঢাকায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ, বিশ্ববাজারে প্রবেশ সহায়তা, আমদানি ব্যয় ও সময় কমাতে সহায়তা প্রদানের জন্য ‘বাংলাদেশ ট্রেড ফেসিলিটেশন প্রজেক্ট’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের কৃষি খাতে সহায়তায় প্রকল্প গ্রহণের জন্য মার্কিন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার এ খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষিপণ্যের বাণিজ্য পদ্ধতির আইনি ও কাঠামোগত সংস্কার, পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করণের জন্য পরীক্ষা পদ্ধতির উন্নয়ন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত পণ্য সংরক্ষণে অবকাঠামো তৈরি ও উন্নয়নে বাংলাদেশ ট্রেড ফেসিলিটেশন প্রজেক্ট সহায়ক হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হবে।



উল্লেখ্য, প্রায় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারকে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার ট্রেড ফেসিরিটেশন এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এতে করে বাংলাদেশি পণ্যের বিশ্বের বাজারে প্রবেশে সহায়তা প্রদান এবং আমদানি ব্যয় ও সময় হ্রাস করতে সহায়ক হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এ প্রকল্প আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজতর, স্বয়ংক্রিয়করণ, ঝুঁকিভিত্তিক পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া ও পণ্য প্রবেশ সংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুন অবহিতকরণ ও প্রক্রিয়ার উন্নয়ন, পরীক্ষাগারগুলোর পণ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া ও সক্ষমতা উন্নয়ন এবং পচনশীল পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ সহজ করার জন্য কোল্ড-চেইন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে কাজ করবে।ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ইউএসডিএ এগ্রিকালচারাল এটাসি মিজ মেগান ফ্রানসিক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্ল আর মিলার, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, এফবিসিসিআই এর পরিচালক আবুল কাশেম খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্রেড ফেসিলিটেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মিকায়েল। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আগাম সবজি আসতে শুরু করলেও দামে ঊর্ধ্বগতি

লেখক

ভোররাত থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত সব ধরনের টাটকা সবজি নিয়ে আড়তে আসতে থাকেন কৃষকরা। সকাল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে জমে ওঠে সিরাজগঞ্জের সবচেয়ে বড় পাইকারি এই সবজির আড়ত। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা পাইকাররা এই আড়ত থেকে সবজি কিনে নিয়ে খুচরা দামে বিক্রি করেন।আড়তে শীতকালীন টাটকা সবজির মধ্যে আলু বিক্রি হচ্ছে ১২-১৫ টাকায়, কাঁচা মরিচ ১৩০ টাকায়, আদা ৫৫-৬০ টাকায়, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকায় এবং পাতা কপি ৫০ টাকায়। 


এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলার সদর থানার মধ্যে এ আড়ত। আশপাশের এলাকার প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি এখানে আসে। বর্তমানে শীতকালীন টাটকা সবজি মধ্যে সিমের দাম ৭০ টাকা কেজি, লাউ ১৫-২০ টাকা পিস এবং পেঁপে ৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু পেঁয়াজের দামটা একটু বেশি। পেঁয়াজের দাম ৫৬-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শসার দাম একটু কমেছে। তারা আরও বলেন, শীতকালের সবজি আস্তে আস্তে আসছে; তবে দামটা একটু বেশি। পুরো দমে মৌসুম এলে মূল্য কমে আসবে। আড়তে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। সেই সঙ্গে শীতকালীন আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম কিছুটা বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে এই আড়তে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

হিলিতে বাণিজ্য বন্ধ থাকবে ৬ দিন

লেখক

তবে স্বাভাবিক থাকবে বন্দর অভ্যন্তরে লোড-আনলোডসহ সকল কার্যক্রম।

বাংলাহিলি সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেন চলন্ত জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামীকাল ১১ অক্টোবর সোমবার থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৬ দিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। ভারতের হিলি এক্সপোটার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ধীরাজ অধিকারী স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপকে জানিয়েছেন। তারা এই ৬ দিন ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার পণ্য এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানি করবে না।

হিলি পানামা পোর্ট লিংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন প্রতাপ মল্লিক জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বন্দর অভ্যন্তরে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম সহ সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ওসি সেকেন্দার আলী বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাসপোর্ট যাত্রী ফেরত আসা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

লাগামহীন ভোগ্যপণ্যের মূল্য

লেখক

দ্রব্যমূল্যের বাজারে যেন লেগেছে আগুন। হঠাৎ করেই প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। নুন আনতে যাদের পানতা ফুরোয়, বাজার থেকে তারা ঘরে ফিরছে প্রায় শূন্য ব্যাগ নিয়ে।


বাজার করতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, সরকারি ছাড়া বেসরকারি চাকরিগুলোতে জানেনই যে বেতন অর্ধেক করে দিয়েছিল। এ অবস্থায় যদি এভাবে দাম বাড়ে, তাহলে আমি তো কিছু কিনতেই পারছি না। বার বার দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাই। আমাদের এখন কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কারণ আমরা দিন আনি দিন খাই। আরেকজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। দাম জিজ্ঞেস করলে আপনাদের বলবে এক কথা, আমাদের বলবে আরেক কথা।




সপ্তাহ খানেক আগেও পেঁয়াজের কেজি ছিল ৫০ টাকা। এখন সেটা ৭৫ টাকা। ১৪৮ টাকার সয়াবিন তেল ১০ দিনের ব্যবধানে বেড়ে ১৫৮ টাকা। সরিষার তেলে কেজি প্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মোটা মসুরের ডাল ৭০ টাকা থেকে হয়েছে ৯০ টাকা। চিনির দামও বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ টাকা। এছাড়াও আটা, ময়দা ও আদা-রসুনসহ প্রায় প্রতিটি মুদি পণ্যের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।



খুচরা বিক্রেতারা জানান, পেঁয়াজ গত সপ্তাহ ৫০ টাকায় বিক্রি করলেও এখন ৭০ টাকা কেজিতে। বাজারের এই নাভিশ্বাস পরিস্থিতিতে অসহায় তারাও। আলু, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, মসুরের ডাল, সয়াবিন তেল ও চাউল। সবকিছুর দামই বেড়েছে। বাজার রেট বেশি হওয়ায়, বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রয় করতে হচ্ছে বলে জানান তারা। 




আর ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, সরকারের পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাবেই এই পরিস্থিতি।


তারা বলছেন, অনেক হিমসিম খেতে হচ্ছে। আমরা তো সীমিত বেতনে চাকরি করি। বাজারে সব কিছুতেই একটু বেশি দাম। সবই আমাদের বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেট হয়ে যাচ্ছে, এরজন্য তদারকি করতে হবে। এই অবস্থা চলতে থাকলে রাস্তায় নামতে হবে মধ্যবিত্তদেরও।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com