আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

ফসলের পোকা দমনে ফাঁদ তৈরি করবেন যেভাবে

ফসলের পোকা দমনে ফাঁদ তৈরি করবেন যেভাবে
ফসলের পোকা দমনে ফাঁদ তৈরি করবেন যেভাবে

কৃষিবিদ জিয়াউল হক

ফসলের অনিষ্টকারী শত্রু পোকা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বন্ধু পোকাও। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত উপায়ে ক্ষেতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের কারণে এসব বন্ধু পোকার বিনাশ ঘটতে চলেছে। ফসলের বন্ধু হিসেবে চিহ্নিত সেসব পোকা রক্ষার লক্ষ্য নিয়েই বাংলদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় সারাদেশের কৃষকদের আলোক ফাঁদ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আমন ধান ও সবজি খেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে ব্যবহার হচ্ছে ‘আলোক ফাঁদ’। পরিবেশবান্ধব ও খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা এ প্রযুক্তি ব্যবহারে অনেক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আমন ধানে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে ধানের থোড় বের হওয়ার সময় বেশি পোকামাকড় আক্রমণ হয়। এ সময়ে ধানে বাদামি ঘাস ফড়িং, সবুজ ঘাস ফড়িং, পাতামোড়ানো পোকা, গান্ধী পোকা ও মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা আক্রমণ করে। পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করতে আমন খেতে আলোক ফাঁদ ব্যবহার খুবই উপযোগী। কৃষকরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহায়তায় জমিতে এ আলোক ফাঁদ স্থাপন করে থাকেন।

কৃষিবিদদের মতে, ফসলি জমিতে অনিয়মিত ও মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে শত্রু পোকার পাশাপাশি মিত্র পোকাও ধ্বংস হচ্ছে। এতে ফসলি জমির পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। যা অদূর ভবিষ্যতে কৃষিক্ষেত্রের জন্য একটি বড় রকম বিপর্যয় হয়ে দেখা দিতে পারে। এ কারণেই ফসলি জমিতে পোকা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আলোর ফাঁদের গুরুত্ব অশেষ। কেবল প্রচলিত ধারণার উপর নির্ভর করে কীটনাশকের ব্যবহার থেকে কৃষককে দূরে রাখতে এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে।

আলোক ফাঁদ কী: ফাঁদ হলো কোনো কিছু আটকানোর একটি যন্ত্র। এ যন্ত্রে নানা রকমের কৌশল অবলম্বন করে শিকার ধরা বা আটকানোর ব্যবস্থা করা হয়। ফসলের বেশ কিছু ক্ষতিকর পোকা আছে, যারা আলোতে আকৃষ্ট হয়। তাই এসব পোকা আলোয় আকৃষ্ট করে মেরে ফেলা বা ধ্বংস করার জন্য যে ফাঁদ তৈরি করা হয়, তা-ই আলোর ফাঁদ।

উপকারিতা: আলোক ফাঁদ মূলত পরিদর্শন যন্ত্র, যা দিয়ে ফসলের ক্ষেতে কী কী পোকা আক্রমণ করছে, তা সহজে বোঝা যায়। আলোক ফাঁদ দিয়ে ফসলি জমিতে পোকামাকড়ের উপস্থিতি বোঝা যায়।

পোকাসমূহ: ফসলের শত্রু ও মিত্র সব ধরনের পোকাই আলোতে আকৃষ্ট হয়। বন্ধু পোকার মধ্যে বোলতা, লেগি বার্ড বিটল, ক্যারাবিড বিটল, ড্যামসেল ফ্লাই ইত্যাদি। তেমনি ফসলের বেশ কিছু প্রধান ক্ষতিকারক পোকাও আলোর ফাঁদ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেমন- ধানের মাজরা পোকা, সাদা পিঠ গাছফড়িং, সবুজ পাতাফড়িং, বাদামি গাছফড়িং, কমলা মাথা পাতাফড়িং, নলি মাছি, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা, থ্রিপস, খাটো শুঁড় ঘাসফড়িং ইত্যাদি। সবজি ফসলের কাটুই পোকা, সরুই পোকা, পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকা ইত্যাদিও আলোর ফাঁদ ব্যবহারে দমন করা যায়।

ফাঁদ তৈরির কৌশল: আলোক ফাঁদ তৈরির কলা কৌশল খুবই সহজ। এ ফাঁদ তৈরির খরচও কৃষকের হাতের নাগালে। এ ফাঁদ তৈরি করতে লাগে বৈদ্যুতিক বাতি বা হ্যাজাক বাতি, আবার চার্জার লাইট দিয়েও তৈরি করা যায় এ আলোক ফাঁদ। ফাঁদ তৈরির জন্য ৪-৫ ফুট লম্বা ৩টি বাঁশের টুকরা, গুনা তার, একটি প্লাস্টিক বা মাটির চারি বা গামলা, পানি, সাবানের গুড়া।

৩টি বাঁশের মাথা গুনা তার দিয়ে বেঁধে গোড়া ফাঁক করে তিন দিক দিয়ে তাতে বৈদ্যুতিক বাতি বা হ্যাজাক বাতি সেটিকে দাঁড় করিয়ে দিতে হয়। বাতির নিচে পানিভর্তি গামলা রাখতে হয়। গামলার পানিতে একটু তরল বা গুঁড়া সাবান গুলে দিতে হয়। এতে পোকা পানিতে পড়ে আর উঠতে পারবে না।

বাঁশের মাথায় বাতি ঝুলিয়ে দিলে তার আলোতে পোকা আকৃষ্ট হয়ে এসে পানিতে পড়বে। তবে পানিভর্তি গামলাটি মাটিতে না রেখে কিছুটা উঁচুতে আলোর কাছাকাছি রাখলে পোকা বেশি মরবে। আর এজন্য তিন বাঁশের খুঁটির সাথে আড়াআড়ি ভাবে আরও তিনটি কাঠ বা বাঁশের চটা পেরেক দিয়ে মেরে দিয়ে তার উপরও গামলাটি রাখা যাবে।

এগ্রোটেক

কৃষিযন্ত্রের কারিগর

ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের পাশে ওলি উল্লাহ (বাঁয়ে)। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা সদরের শাহাপুরে। প্রথম আলো
ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের পাশে ওলি উল্লাহ (বাঁয়ে)। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা সদরের শাহাপুরে। প্রথম আলো

তরুণ বয়সে নদীভাঙনে সব হারিয়েছেন। মাথা গুঁজতে গেলেন অন্য জেলায়। গায়ে-গতরে খেটে কোনোরকমে চলছিল। একসময় যন্ত্রপাতি মেরামতের একটি ওয়ার্কশপে যোগ দেন। কিছুদিনের মধ্যেই কাজটা রপ্ত করে ফেলেন। বছর চারেকের মাথায় নিজেই একটি ওয়ার্কশপ খুলে বসেন। মাত্র ৪ হাজার টাকা পুঁজি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু করা সেই ওয়ার্কশপ এখন দেশের অন্যতম কৃষিযন্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে ২০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বিক্রি হয়।

সাফল্যের এই গল্প চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মো. ওলি উল্লাহর। দেশি উপকরণ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি যন্ত্রপাতি বানান। এসব যন্ত্রপাতির দাম কম। আবার চাষাবাদে খরচও কম। বিদেশি যন্ত্র দেখে দেখে ওলি উল্লাহ এখন পর্যন্ত ১৮ রকমের কৃষিযন্ত্র বানিয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে এখন কাজ করছেন ৩২ জন। তাঁকে দেখে আশপাশের জেলার অনেকে কৃষি যন্ত্রপাতি বানানোর দিকে ঝুঁকেছেন।

গোড়ার কথা
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারে ওলি উল্লাহর প্রতিষ্ঠান; নাম জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং। ১৯৯২ সাল থেকে কারখানার যাত্রা শুরু। এলাকায় তিনি ‘ওলি হুজুর’ নামে পরিচিত। আদি বাড়ি তাঁর কুমিল্লার দেবীদ্বারে। ১৯৮৮ সালে নদীভাঙনে বসতভিটাসহ সব হারিয়ে চলে আসেন চুয়াডাঙ্গায়। তখন তিনি ২৪ বছরের তরুণ। শুরুতে দিনমজুরের কাজ করতেন। কিছুদিন পর সরোজগঞ্জ বাজারের ইসলাম মেকানিকে কাজ শুরু করেন।
বছর চারেকের মধ্যে তিনি যন্ত্র বানানো ও মেরামতের কাজ রপ্ত করে ফেলেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই একটি ওয়ার্কশপ দেবেন। কিন্তু পুঁজি তো নেই। চার বছরের কাজের অভিজ্ঞতা আর ৪ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করলেন ওলি। এরপর তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তিলে তিলে গড়া জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং এখন দেশের কৃষিপ্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি খাতের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। বীজ বপন যন্ত্র, কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন (ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র), খড় ও ঘাস কাটার যন্ত্র, আলু লাগানো ও উত্তোলনের যন্ত্র, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ ১৮ রকমের কৃষিযন্ত্র বানায় জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং। এর মধ্যে বাজারে ১৬টি যন্ত্রের চাহিদা বেশি। সারা দেশে তাদের আছে ৫০টি ডিলার।
বাজারের সাধারণ কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিনের দাম ১২ থেকে ২৮ লাখ টাকা। আর তাঁর তৈরি একটি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিনের দাম পড়ে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা। জানালেন ওলি।

জনতা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে একদিন
ওলি উল্লাহ এখন জনতা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দুটি কারখানা আছে তাঁর। তৃতীয় কারখানার কাজ শুরু হয়েছে। সেটি হবে স্বয়ংক্রিয়। ওলি জানান, নতুন কারখানায় উৎপাদন শুরু হলে কৃষিযন্ত্রের উৎপাদন খরচ কমবে এবং কৃষকেরা কম খরচে মানসম্মত যন্ত্র কিনতে পারবেন।
২০১০ সাল পর্যন্ত জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং কেবল প্যাডেল থ্রেশার বানাত। এটি দিয়ে ধান থেকে তুষ আলাদা করে চাল বের করা হয়। ওই বছর এই যন্ত্রটি বানাতে জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিরি) থেকে সহযোগিতা পায়। ওলি উল্লাহ ও তাঁর জনতা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উদ্যোগকে শুরু থেকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইড। সে সহযোগিতা এখনও অব্যাহত আছে। আর কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল মেইজ অ্যান্ড হুইট ইমপ্রুভমেন্ট সেন্টার (সিমিট) ও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এন্টারপ্রাইজ।জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিরি ২০১৫ সালে যৌথভাবে দেশি প্রযুক্তিতে বানানো কৃষিযন্ত্র দিয়ে চাষাবাদ করেছে। তাতে খরচ হয় ৭ লাখ টাকা। অথচ বিদেশ থেকে আনা যন্ত্র দিয়ে একই চাষাবাদ করলে খরচ পড়ত ১৫ লাখ টাকা।

২০১৫ সালের মধ্যেই জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং খুলনা ও বরিশাল বিভাগে কৃষিযন্ত্র বিক্রির বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে। ২০১৬ সাল নাগাদ তাদের বাজার ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। দারিদ্র্যের সঙ্গে মোকাবিলা করে সফল উদ্যোক্তা হওয়ায় চলতি বছরের ৩ মার্চ ওলিকে বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এসএমই ফাউন্ডেশন।

গত বুধবার সরোজগঞ্জ বাজারে জনতা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল, কাচের শোকেসে থরে থরে সাজানো শতাধিক ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক। এসবই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে ওলির পাওয়া নানা পুরস্কার। ওলি বলেন, ‘আমরা শুধু যন্ত্র বানাই না। এর পাশাপাশি যন্ত্র বানাতি ৪৫টি কর্মশালার মাধ্যমে ২২০ জনকে প্রশিক্ষণও দিয়েছি। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই, ইডা ঠিক। তবে আমরা কাজ করতি করতি মেলা কিছু শিখিছি।’

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কথা
ওলির কাছ থেকে একটি সিডার মেশিন, ধান কাটার রিপার মেশিন ও ধান মাড়াইয়ের ড্রাম থ্রেশার মেশিন কিনেছেন কুতুবপুর ইউনিয়নের কৃষক মাহবুবুর রহমান। নিজের জমিতে কাজের পর তিনি এসব যন্ত্র অন্যের জমিতে ভাড়ায় খাটান। মাহবুবুরের কথায়, ‘আমি তাঁর কাছ থেকে তিনটা মেশিন কিনিছি ৯৫ হাজার টাকায়। অন্য কোম্পানির একই মেশিন কিনতে আমার ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা লাগত। ওলি হুজুর মানুষ ভালো। এ এলাকায় তাঁর খুব নামডাক। এসব যন্ত্রে কোনো সমস্যা হলে উনি নিজেই ঠিক করে দেন।’

সরোজগঞ্জ বাজারের মীম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক মিলন মিয়া বলেন, ‘ওলি হুজুরের কারখানায় কাজ করার সুমায় উনি নিজি হাতে আমার সবকিচু শিখিয়েলো। অ্যাকন আমি নিজিই এট্টা কারখানার মালিক।’

ওলির সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা এবং পাশের ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরের অন্তত ৮৬ জন উদ্যোক্তা কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদন ও বিপণন করছেন। যাঁদের বেশির ভাগই একসময় ওলির কারখানার কর্মচারী ছিলেন।

কৃষিযন্ত্র বানাতে ৭০ শতাংশ যন্ত্রাংশ নিজেই বানান ওলি। আর ৩০ শতাংশ যন্ত্রাংশ দেশের বাইরে থেকে আমদানি করেন। দেশে তৈরি শতভাগ যন্ত্রাংশ দিয়ে কৃষিযন্ত্র বানানোর স্বপ্ন দেখেন ওলি উল্লাহ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত উপপরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, ওলি উল্লাহ স্বল্পমূল্যে কৃষককে কৃষিযন্ত্র সরবরাহ করছেন, তা কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

ধান শুকানোর নতুন যন্ত্র, খরচ কম

ধান শুকানো ও ধান থেকে চাল বানাতে শতকরা ১৪ ভাগ অপচয় হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে ধান শুকানো অনেকটা সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ। তা ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ধান শুকাতে প্রচুর দুর্ভোগও পোহাতে হয়।

এ পরিস্থিতিতে ‘বাউ-এসটিআর’ নামে ধান শুকানো যন্ত্র দিয়ে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টায় ৫০০ কেজি পর্যন্ত ধান শুকানো সম্ভব। বিদ্যুৎ ব্যবহারে এই যন্ত্রে এক মণ ধান শুকাতে খরচ হবে মাত্র ২৮ টাকা। আর জ্বালানি তেল ব্যবহারে খরচ পড়বে ৩৩ টাকা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত কর্মশালায় উদ্ভাবিত যন্ত্রের কর্মদক্ষতা সম্পর্কে এসব কথা বলেন গবেষক মো. মঞ্জুরুল আলম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলনকক্ষে গতকাল বুধবার ‘সাসটেইনেবল অ্যাগ্রিকালচার মেকানাইজেশন অ্যান্ড পোস্টহারভেস্ট প্রাকটিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে গবেষক মঞ্জুরুল আলম বলেন, স্বল্প খরচে কম সময়ে বিপুল পরিমাণ ধান শুকাবে বাউ-এসটিআর নামের যন্ত্রটি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ যন্ত্র পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার হয়েছে। এতে ধানবীজের অঙ্কুরোদ্‌গম ক্ষমতাও পাওয়া গেছে প্রায় ৯০ ভাগ। এখন এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা দরকার। এতে চালের উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. নুরুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এম এ সাত্তার মণ্ডল। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান।

কর্মশালার বৈজ্ঞানিক সেশনে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুস সাত্তার ও মো. আবদুল আওয়াল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বি কে বালা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মুখ্য প্রকৌশলী মো. লুৎফুর রহমান।

প্রধান অতিথি সাত্তার মণ্ডল বলেন, আগে বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রের গুণগত মান পরীক্ষা করা হতো না। এখন এ বিষয়গুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে। দেশে অনেক ভালো, টেকসই ও সাশ্রয়ী যন্ত্র উদ্ভাবন করা হচ্ছে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমলেও প্রযুক্তি সম্প্রসারিত হচ্ছে না। প্রযুক্তিগুলো কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষির উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষিযন্ত্রে গ্রামেই তরুণদের কর্মসংস্থান

কৃষিকাজের আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ছে। ইয়ানমার কম্বাইন্ড হারভেস্টরের সাহায্যে মাঠে ধান কাটছেন কৃষক। ছবি: সৌজন্যে
কৃষিকাজের আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ছে। ইয়ানমার কম্বাইন্ড হারভেস্টরের সাহায্যে মাঠে ধান কাটছেন কৃষক। ছবি: সৌজন্যে

দেশের কৃষিকাজে যুক্ত হচ্ছেন শিক্ষিত তরুণেরা। কৃষিকাজের প্রথাগত পদ্ধতির বিপরীতে তাঁরা করছেন আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার। এতে একদিকে কৃষিশ্রমিক–সংকটের চ্যালেঞ্জ যেমন মোকাবিলা করা যাচ্ছে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানও হচ্ছে। পাশাপাশি কমে আসছে ফসল উৎপাদনের খরচ ও সময়।

তেমনই এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সামসুল কবির। ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষে তিনি কৃষিকাজ শুরু করেন। তবে ধান কাটার সময় পড়তেন বিপাকে। চড়া দাম দিয়েও কৃষিশ্রমিক মিলত না। কষ্টের ফসল কখনো কখনো মাঠেই নষ্ট হতো, ক্ষতি হতো প্রায় প্রতি মৌসুমেই। পরে জানতে পারলেন এক নতুন কৃষিযন্ত্রের কথা, যা দিয়ে গত ধানের মৌসুমে তিনি আয় করেছেন ১১ লাখ টাকা। লাভ হয়েছে সাত লাখ টাকার বেশি।

যে কৃষিযন্ত্রটি সামসুলের ভাগ্য বদলাচ্ছে, সেটি হচ্ছে কম্বাইন্ড হারভেস্টর। সামসুল কিনেছেন জাপানের ইয়ানমার ব্র্যান্ডের হারভেস্টর। এ যন্ত্র দিয়ে একই সঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়া ও বস্তায় ভরা যায়। এতে ধান কাটার প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় সময় ও খরচ অনেক কম লাগে। মাঠে–ঘাটে ছড়িয়ে ধানের অপচয়ও হয় না।

দেশের বাজারে এই কম্বাইন্ড হারভেস্টর এসেছে বেশ কয়েক বছর হলো। তবে ইয়ানমার কম্বাইন্ড হারভেস্টর বাজারে এসেছে গত বছর। বাংলাদেশে এর একমাত্র পরিবেশক কৃষি খাতে যন্ত্র সরবরাহকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এসিআই মোটরস। এসিআইয়ের বাইরে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে কম্বাইন্ড হারভেস্টর দেশের বাজারে এনেছে, সেটা অন্য ব্র্যান্ডের। পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে ২০১২ সালের দিকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কৃষক আনোয়ার হোসেনও এমন একটি কৃষিযন্ত্র তৈরি করেছেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইউ) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের এক গবেষণা বলছে, ফসল আবাদে চাষ, সেচ, নিড়ানি, কীটনাশক প্রয়োগে ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে। অথচ ফসল রোপণ, সার দেওয়া, কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও শুকানোর ক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার ১ শতাংশের কম।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইউ) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম বলেন, গ্রামীণ শ্রমশক্তির ৪০ শতাংশ এখন কৃষিকাজ করে। ২০৩০ সাল নাগাদ তা কমে ২০ শতাংশ হবে। ফলে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ছাড়া আর বিকল্প নেই। কায়িক শ্রমের বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে কৃষিকাজে তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। এখনকার প্রান্তিক কৃষিকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর ঘটাতে তরুণেরা অন্যতম ভূমিকা পালন করতে পারেন।

উৎপাদন খরচ কমছে

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সামসুল কবির জানান, প্রথাগত পদ্ধতিতে কৃষিশ্রমিকদের দিয়ে ফসল কাটানো, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দী করতে এক একর জমিতে খরচ হয় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা। এতে প্রতি ১০০ কেজি ধানে প্রায় ৭ কেজি ধান নষ্ট হয়। অথচ ইয়ানমার কম্বাইন্ড হারভেস্টর ব্যবহারে একই কাজ করতে খরচ হয় পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। আর ধান নষ্ট হয় প্রতি একরে কেবল ১ কেজি। প্রথাগত পদ্ধতিতে যেখানে ১ একর জমির ধান কাটার সব কাজ করতে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিকের ২ দিন লাগত, কম্বাইন্ড হারভেস্টর দিয়ে একই কাজ করা যাচ্ছে কেবল এক ঘণ্টার মধ্যেই।

সামসুল কবির এ বছরের এপ্রিল মাসে ইয়ানমার কম্বাইন্ড হারভেস্টর যন্ত্রটি কেনেন। তিনি বলেন, ‘এই বছরের মে মাসে আমি নিজের ৭ একর জমিসহ প্রায় ১৭০ একর জমির ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দীর কাজ করেছি। সামনের মৌসুমে আমি আরেকটি কম্বাইন্ড হারভেস্টর কেনার চিন্তা করছি।’

দাম কত

কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসিআই মোটরস বলছে, সারা দেশে এ পর্যন্ত ৭০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টর বিক্রি হয়েছে। তাদের দুই ধরনের কম্বাইন্ড হারভেস্টরের মধ্যে ট্যাংক টাইপের দাম পড়বে ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যাগ টাইপের দাম পড়বে ২৮ লাখ টাকা। সারা দেশে এসিআই মোটরসের ডিলার ৮২টি।

এসিআই মোটরসের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস বলেন, সাড়ে ২৯ লাখ টাকা দিয়ে একটি হারভেস্টর কিনলে তিন মৌসুমে বিনিয়োগ উঠে যাবে। আরও পাঁচ বছরের (বছরে তিন মৌসুম) মতো এটি চালানো যাবে। তিনি আরও বলেন, কাস্তে দিয়ে ধান কেটে তরুণদের কৃষিতে আকৃষ্ট করা যাবে না। এ জন্য দরকার কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো। সরকার এ ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি খাতে স্বল্প সুদে যে ব্যাংকঋণ দেওয়া হয়, তার আওতায় হারভেস্টরকে আনতে হবে।

কাজ করা যায় কাদাপানিতেও

টাঙ্গাইলের আরেক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল ইমু এ বছরের শুরুতে একটি ইয়ানমার কম্বাইন্ড হারভেস্টর কিনেছেন। সোহেল বলেন, ‘জাপানি প্রযুক্তির এই হারভেস্টর দিয়ে জমিতে শুয়ে পড়া ধান এবং কাদাপানির ধানও কাটা সম্ভব। যন্ত্রটিতে ছয়টি সেন্সর আছে, যাতে কোনো ময়লা বা শক্ত কিছু আটকে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তখন এটি আবার পরিষ্কার করে কাজ শুরু করি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

যান্ত্রিকীকরণ বাড়াবে কৃষির উন্নয়ন

শ্রমিক সংকটসহ কৃষি কাজের সার্বিক উন্নয়নে যান্ত্রিকীকরণ ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সাত্তার মণ্ডল। সম্প্রতি মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার আজিমপুর গ্রামে ইয়ানমার কম্বাইন হারভেস্টারের মাঠ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

বরেণ্য এই কৃষি অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, আমাদের কৃষিতে যে কয়টি বড় সমস্যা আছে তার মধ্যে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়া একটি বড় সমস্যা যার ফলে কৃষকের খরচ বেড়ে যায়। ফসল সংগ্রহে যন্ত্র ব্যবহার করায় একদিকে যেমন শ্রমিকের খরচ বাঁচছে, অন্যদিকে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে শস্য ঘরে তোলা যাচ্ছে, কাজটা সূক্ষ্মভাবে হওয়ায় ফসল অপচয় কম হচ্ছে এবং দ্রুত মাঠ খালি হয়ে যাওয়ায় আরেকটি ফসলের জন্য মাঠকে তৈরি করা যাচ্ছে।

ড. সাত্তার মণ্ডল বলেন, ধান কাটার এসব যন্ত্র ব্যবহারে শুধু ধান উৎপাদন সহজতর হচ্ছে না বরং এসব যন্ত্র ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে একটি উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি হচ্ছে এবং এর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে।

উৎপাদনের অগ্রগতিতে বাংলাদেশে এখন ফসল কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট প্রকট হতে দেখা যাচ্ছে। গত আউশ মৌসুমে শ্রমিক সংকট ছিল পায় ৪০% যার ফলে কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়।

ইয়ানমার কম্বাইন্ড হারভেস্টারের আমদানিকারক এসিআই মটরস। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস বলেন, এই হারভেস্টার মেশিনটি ধান কেটে মাড়াই, ঝাড়াই করে খড় আস্ত রাখে। ফলে ধান উৎপাদন এবং খড়ের চাহিদা রয়েছে এমন দেশগুলোতে এটি ব্যবহৃত হয়।

তিনি আরও বলেন, কম্বাইন হারভেস্টারটি ঘণ্টায় এক একর ধান কেটে মাড়াই, ঝাড়াই করে বস্তাবন্দী করে দেয়। খরচ বাদ দেওয়ার পরে এক একর জমি থেকে তিন-চার হাজার টাকা লাভ করতে পারে। কেউ যদি যন্ত্রটি তিন মৌসুম চালায় তবে বিনিয়োগ উঠিয়ে আনা সম্ভব।

এসিআই মটরস, ইয়ানমার কম্বাইন হারভেস্টার যন্ত্রটি সঠিকভাবে চালানোর জন্য সার্ভিস এবং ট্রেনিং এর ব্যবস্থাও করছে।

ইয়ানমার কম্বাইন হারভেস্টারের একজন ব্যবহারকারী মানিকগঞ্জ জেলার শফিকুল ইসলাম জানান, আমি যন্ত্রটি ছয় মাস ধরে ব্যবহার করছি। এখন পর্যন্ত তিন শ একরের মতো ধান কাটা হয়েছে। যন্ত্রটি ভালো কাজ করছে। শফিকুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন জেলায় হারভেস্টার পাঠিয়ে ধান কাটানোর কাজও করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

ভাসমান বাজারে ফ্রি ওয়াইফাই!

ভাসমান বাজারে ফ্রি ওয়াইফাই!
ভাসমান বাজারে ফ্রি ওয়াইফাই!

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী ভাসমান হাটে শাক-সবজি ও ফলমূল বিক্রি হয়। সম্প্রতি ভাসমান এ বাজারে ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু হয়েছে। ফলে চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসল নৌকায় করে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি করতে পারবেন। এতে থাকবে পেয়ারা, আমড়া, পেঁপে, কলা, কাঠাল, আনারস, লেবু, কাকরোল, মরিচ, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ও ফল-মূল।

জানা যায়, মহামারী করোনায় মহাসংকটে পড়েছে ঝালকাঠির এ ভাসমান হাট-বাজার। কৃষিপণ্যের পাইকার না থাকায় উৎপাদিত সবজি আর ফল-মূল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। তাই ভাসমান বাজারে ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য অনলাইনে বিক্রি করতে পারবেন সারাদেশে।

স্থানীয়রা জানান, গতবছর এ ভাসমান হাট-বাজার পরিদর্শন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। পরিদর্শন শেষে তিনি ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে সম্প্রতি ঝালকাঠির ভীমরুলী বাজারে চালু হয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই জোন।

ভাসমান বাজারে ফ্রি ওয়াইফাই!
ভাসমান বাজারে ফ্রি ওয়াইফাই!

ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহারকারী সুজন হালদার শানু বলেন, ‘বিভিন্ন মানুষ এ ওয়াইফাই সম্পর্কে জেনে গেছে। বাসায় বসে থেকে মানুষ যদি পণ্য চায়, তা তিনি পেয়ে যাবেন।’

সবজি চাষি দেবব্রত হালদার বিটু বলেন, ‘এখানকার সবজি উৎপাদনে কোনরকম সার বা রাসায়নিক দ্রব্য না দিয়ে জৈব সার ব্যবহার করা হয়। এতে সবজিতে পোকার আক্রমণও কম হয়। স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্বাদু সবজি উৎপাদন করা যায়।’

কৃষকর পঙ্কজ বড়াল ও গৌতম মিস্ত্রি বলেন, ‘করোনার কারণে দুর্দশায় পড়ছি। পাইকাররা আসছেন না। তাই আমরা সমস্যায় পড়ছি। সরকার আমাদের দিকে নজর না দিলে আমরা শেষ হয়ে যাব।’

জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, ‘এলাকার জনগণকে আমরা সুবিধা দিতে পেরেছি। ফলে তারা তাদের পণ্যগুলো ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারবেন। কৃষকরা ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের কৃষিপণ্যের অনলাইন বাজার ধরতে পারবেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com