আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

ইটভাটার মাটি যোগাতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন ‘উৎসব’

ইটভাটার মাটি যোগাতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন ‘উৎসব’
ইটভাটার মাটি যোগাতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন ‘উৎসব’: ইটভাটার মাটি যোগাতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন।

ইটভাটার মালিকরা তাদের প্রয়োজনে মাটি কেটে নিয়ে ফসলি জমিকে পুকুরে পরিণত করছে

“কৃষি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না” এমন সরকারি নীতিমালা থাকলেও সেই নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ফসলি জমিগুলোকে পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে। এক শ্রেণির অসাধু ইটভাটা মালিকেরা বিভিন্ন মহলকে “ম্যানেজ” করে পুকুর খনন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খননকে ঘিরে আবার গড়ে উঠেছে পুকুর খনন ব্যবসায়ী যারা এলাকায় “পুকুর ব্যবসায়ী” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

জানা গেছে, ইটভাটার মালিকরা তাদের প্রয়োজনে মাটি কেটে নিয়ে ফসলি জমিকে পুকুরে পরিণত করছে। এতে জমির মালিকেরা পুকুর খনন করতে খরচের পরির্বতে অতিরিক্ত টাকা পাচ্ছেন। এতে কৃষকেরা না বুঝেই তাদের পুকুরকে ইটভাটা মালিকদের হাতে তুলে দিচ্ছে। ফলে জেলায় দিন দিন কমেই চলেছে ফসলি জমি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলায় আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৭২ হাজার ২৭৬ হেক্টর। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল একই পরিমাণ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬১২ হেক্টর এবং ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ছিল ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯৯৮ হেক্টর। গত ৫ বছরে আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে ১ হাজার ৭২২ হেক্টর। আত্রাই উপজেলায় বর্তমানে ফসলি জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ১০০ হেক্টর। গত ৫ বছরের ব্যবধানে ২০০ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে। অপরদিকে, বর্তমানে সরকারি পুকুর রয়েছে ২২৪ টি এবং ব্যক্তিগত পুকুর রয়েছে ২ হাজার ৮৩৭টি। গত ৫ বছরের ব্যবধানে ব্যক্তিগত পুকুরে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৫০টি।

উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের দ্বীপ চাঁদপুর গ্রামে এলজিইডি রাস্তা সংলগ্ন প্রায় ২০ বিঘা এলাকা জুড়ে এস্কেভেটর দিয়ে পুকুর খনন করছেন গ্রামের সুমন তালুকদার। স্থানীয় মেসার্স এমইএম ইটভাটার মালিক আসাদুজ্জামান টপি মোল্লা ওই জমিতে পুকুর খনন করে তার ভাটায় মাটি নিয়ে যাচ্ছেন। একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খনন করে তার ইটভাটায় মাটি নেওয়া হচ্ছে।

পুকুর ব্যবসায়ী সুমন তালুকদার বলেন, প্রতি বছর ২৮ হাজার টাকা বিঘা হিসেবে ১২ বছরের জন্য ১৫ বিঘা জমি ইজারা নিয়েছি। পুকুর খননের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর একটা আবেদন করেছি। এরপর জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কৃষি ও মৎস্য অফিসারকে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়। তবে তিনি জানান, অনুমোদন পাওয়ার আগেই পুকুর খনন করছেন তিনি।   

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাওছার হোসেন বলেন, ফসলি জমির পরিমাণ কমছে। গত দেড় মাসে পুকুর খনন বিষয়ে প্রায় ৪৪টির মতো প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক বরাবর দিয়েছি। যেগুলোতে প্রায় এক ফসলের আবাদ হয়ে থাকে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ মুর্শেদ মিশু বলেন, “ডিসি স্যার যদি পুকুর খননের জন্য অনুমোতি দেয় তাহলে খনন করতে পারবে। দ্বীপচাঁদপুর গ্রামের পুকুর খননের প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তবে কি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে তা বলা যাবে না।”

এ ব্যাপারে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ছানাউল ইসলাম বলেন, “কেউ পুকুর খনন করতে চাইলে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে তিনিই বিষয়টি দেখবেন। এখানে আমাদের করার কিছু নেই।”

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঘরবাড়ি, ইটভাটা ও পুকুর খননের কারণে প্রতি বছরই কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এটি একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ভূমি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে আবাদি জমি রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

চীন

করোনাভাইরাস মহামারির উৎস কি চীনে চোরাচালান হওয়া প্যাঙ্গোলিন থেকে?

প্যাঙ্গোলিন
প্যাঙ্গোলিন

প্যাঙ্গোলিন নামে একটি প্রাণী যা চোরাই পথে চীনে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয় – তার দেহে এমন একটি ভাইরাস পাওয়া গেছে যা কোভিড নাইনটিনের সাথে ‘ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।’

প্যাঙ্গোলিন হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি চোরাই পথে পাচার হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণী।

এটা খাদ্য হিসেবে যেমন ব্যবহৃত হয়, তেমনি ব্যবহৃত হয় ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরির জন্য। ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে প্যাঙ্গোলিনের গায়ের আঁশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং তাদের মাংসও চীনে একটি উপাদেয় খাবার বলে গণ্য করা হয়।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. টমি ল্যাম বলেছেন, চীনে পাচার হওয়া মালয়ান প্যাঙ্গোলিনের মধ্যে এমন দুই ধরনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে – যা মানুষের মধ্যে দেখা দেয়া মহামারির সাথে সম্পর্কিত।

নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব প্রাণী নিয়ে নাড়াচাড়া করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, এবং ভবিষ্যতে করোনাভাইরাসের মতো কোন মারাত্মক রোগ বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে হলে বুনো প্রাণীর বাজারে প্যাঙ্গোলিনের মত জন্তু বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।

তারা এটাও বলছেন যে , মানুষের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির ক্ষেত্রে প্যাঙ্গোলিনের ভুমিকা বুঝতে হলে আরো পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা প্রয়োজন।

“যদিও সার্স-কোভ-টু-র প্রাদুর্ভাবের সরাসরি ‘হোস্ট’ হিসেবে প্যাঙ্গোলিনের ভুমিকা আরো নিশ্চিত হবার দরকার আছে, তবে ভবিষ্যতে যদি এরকম প্রাণী-থেকে-মানুষে মহামারি ছড়ানো ঠেকাতে হয় তাহলে বাজারে এসব প্রাণীর বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত” – বলেন ড. ল্যাম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাদুড়ের দেহেও করোনাভাইরাস আছে, এবং তার সাথে মানুষের দেহে সংক্রমিত ভাইরাসের আরো বেশি মিল আছে। কিন্তু একটি অংশ – যা মানুষের দেহের কোষ ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে ভাইরাসটিকে সহায়তা করে – তার সাথে এর মিল নেই।

করোনাভাইরাস
করোনাভাইরাস

সহ-গবেষক সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এডওয়ার্ড হোমস বলেন, এর অর্থ হলো বন্যপ্রাণীদের মধ্যে এমন ভাইরাস আছে যা মানুষকে সংক্রমিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।

তিনি বলছেন,”করোনাভাইরাসের সাথে বাদুড়ের নিশ্চয়ই সম্পর্ক আছে, হয়তো প্যাঙ্গোলিনও সম্পর্কিত, তবে অন্য কোন প্রাণীর জড়িত থাকারও জোর সম্ভাবনা আছে।”

ঠিক কীভাবে ভাইরাসটি একটি জন্তুর দেহ থেকে বেরিয়ে অন্য একটি প্রাণীর দেহে এবং তার পর সেখান থেকে মানুষের দেহে ঢুকলো – তা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্য হয়েই রয়েছে।

খুব সম্ভবত: হর্সশু প্রজাতির বাদুড় এবং প্যাঙ্গোলিন – দুধরণের প্রাণীই এতে জড়িত কিন্তু এর ঘটনাক্রম এখনো অজানা।

ডা. ল্যাম বলছেন, চোরাই পথে আসা মালয়ান প্যাঙ্গোলিনে এ ভাইরাস পাওয়া যাবার পর এই প্রশ্নটাও উঠছে যে – এই প্যাঙ্গোলিনের দেহেই বা ভাইরাস ঢুকলো কীভাবে? সেটা কি পাচারের সময় আশপাশে থাকা বাদুড় থেকে এসেছিল – নাকি দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়ায় তাদের যে প্রাকৃতিক আবাসস্থল সেখানেই ঘটেছিল?

প্রাণী সংরক্ষণবিদরা বলছেন, এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচার রোধের জন্য সরকারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

চীন অবশ্য কোভিড নাইনটিন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর বন্যপ্রাণীর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে, এবং ভিয়েতনামেও এমন কিছু পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

লন্ডনের জুলজিক্যাল সোসাইটির অধ্যাপক এন্ড্রু কানিংহ্যাম বলছেন, এই গবেষণাপত্র থেকে একলাফে কোন সিদ্ধান্তে পৌছে যাওয়া ঠিক হবে না। তার কথায়, কোভিড নাইনটিনের উৎস আসলে এখনো অজানা। হয়তো এটা কোন প্রাকৃতিক প্যাঙ্গোলিন ভাইরাসই ছিল, বা হয়তো প্যাঙ্গোলিন ধরা এবং হত্যা করার সময় অন্য কোন প্রাণী থেকে এসেছিল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

সাদা রঙের বিরল প্রজাতির এই জিরাফটি পৃথিবীতে এখন একা

সাদা রঙের বিরল প্রজাতির এই জিরাফটি পৃথিবীতে এখন একা
সাদা রঙের বিরল প্রজাতির এই জিরাফটি পৃথিবীতে এখন একা

সাদা রঙের এই বিরল প্রজাতির জিরাফ কয়েকদিন আগেও সংখ্যায় তিনটি ছিল। এদের মধ্যে দুটিকে শিকারিরা মেরে ফেলেছে। মা জিরাফ ও তার শাবককে কেনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর গারিসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিরল প্রজাতির এই সাদা জিরাফ শুধু কেনিয়াতেই আছে। এতদিন তারা সংখ্যায় তিনটি ছিল। শিকারিরা তার সঙ্গীকে আর বাচ্চাকে মেরে ফেলায় এখন পৃথিবীতে একা পুরুষ জিরাফটি।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা কেনিয়ার ইশাকবিনি হিরোলা কমিউনিটি কনজারভেন্সি নামের একটি সংগঠন বৃহস্পতিবার জানায়, সশস্ত্র শিকারিদের হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে সাদা প্রজাতির দুটি জিরাফ। জিরাফ দুটির কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সংগঠনটির ম্যানেজার মোহাম্মদ আহমেদনূর বলেছেন, ইজারা (গারিসার একটি অঞ্চল) ও সমগ্র কেনিয়াবাসীর জন্য এটা একটি দুঃখজনক ঘটনা। আমরাই একমাত্র জাতি যারা বিরল প্রজাতির এই জিরাফের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছি।

তিনি বলেন, বিরল ও একক প্রজাতির এই জিরাফের হত্যাকাণ্ড প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টার পদক্ষেপের ক্ষেত্রে একটি মারাত্মক আঘাত। একই সঙ্গে, এটি কেনিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পর্যটন ও গবেষণা শিল্পের জন্য চরম আঘাত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের যেমন শ্বেত রোগের কারণে শরীরের রঙ সাদা হয়ে যায়, এই জিরাফের গায়ের রঙ কিন্তু সেভাবে সাদা হয়নি।

লিউসিজম প্রক্রিয়ায় এই সাদা রঙ পেয়েছে বিরল প্রজাতির এই জিরাফ। লিউসিজম প্রক্রিয়ার কাজ হলো টিস্যুর অভ্যন্তরে উজ্জ্বল রঙ তৈরি করা, যেমন-সাদা, ফ্যাকাশে ইত্যাদি।

বিরল প্রজাতির দুটি জিরাফকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হিরোলা কমিউনিটি কনজারভেন্সির কর্মীরা। কারণ তারাই দেখভাল করছিলেন জিরাফ তিনটিকে। তারা বলেন, ‘তারা খুবই শান্ত প্রকৃতির ছিল এবং খুব কাছাকাছি গেলেও বিরক্ত হতো না। আমাদের কয়েক গজের মধ্যেই পায়চারী করতে মা জিরাফ আর এ সময় ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে পড়ত জিরাফ শাবক।’

এর আগে ২০১৬ সালে তানজানিয়ার একটি জাতীয় পার্কে সাদা রংয়ের জিরাফের দেখা পাওয়া যায় বলে কথিত রয়েছে। তবে ওই প্রাণীটির ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দ্য জিরাফ কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ১৯৮০ সালের পর থেকে আফ্রিকায় জিরাফের সংখ্যা ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং কিছু কিছু অঞ্চলে ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ডেঙ্গুর মশা তাড়ানোর ওষুধ বানাবেন যেভাবে

 ডেঙ্গুর মশা তাড়ানোর ওষুধ বানাবেন যেভাবে
ডেঙ্গুর মশা তাড়ানোর ওষুধ বানাবেন যেভাবে

বর্তমানে ডেঙ্গুজ্বর মহামারি আকার ধারণ করতে যাচ্ছে। হিমশিম খাচ্ছে দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। আতঙ্কে দিন-রাত পার করছে সর্বস্তরের জনগণ। এমন মুহূর্তে ডেঙ্গুজ্বরের ভাইরাস বহনকারী মশা তাড়ানোর ওষুধ বানানোর নিয়ম জানিয়েছেন ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি লেখক ও গবেষক রবিশঙ্কর মৈত্রী।

জেনে নিন ঘরে বসেই কীভাবে বানাবেন মশা তাড়ানোর ওষুধ-

মশা তাড়ানোর ক্রিম: ছোট্ট একটি কৌটা বা কাচের বয়াম নিন। একটি মোমবাতি থেকে দুইশ গ্রাম মোম গুঁড়ো করে নিয়ে কৌটায় বা কাঁচের বোতল বা বয়ামে রাখুন। এবার ৩০ মিলি নিম তেল এবং ৩০ মিলি গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। সঙ্গে ৫০ মিলি পানিও পাত্রে ঢেলে দিন। একটি গামলায় ১ লিটার পানি ১০ মিনিট ধরে গরম করুন। গরম পানিতে নিম তেল, মোম ও পানিভর্তি পাত্রটি বসিয়ে রাখুন। লক্ষ্য করুন, পাত্রের মধ্যে মোম গলছে কি-না। যদি না গলে তাহলে গামলার পানি আরও একবার গরম করুন।

 ডেঙ্গুর মশা তাড়ানোর ওষুধ বানাবেন যেভাবে
ডেঙ্গুর মশা তাড়ানোর ওষুধ বানাবেন যেভাবে

গরম পানির গামলা থেকে সাবধানে নিম, তেল, গ্লিসারিন, মোম আরও পানি মেশানো পাত্রটি তুলে এনে টেবিলে রাখুন। ৫-৭ মিনিট পর পাত্রের মধ্যে লেবুর রস ৫ ফোঁটা এবং যে কোন পারফিউম বা সুগন্ধি ৫ ফোঁটা ঢেলে দিন। এবার ছোট্ট একটি চামচ দিয়ে পাত্রের মিশ্রণটি ৫-৭ মিনিট নাড়তে থাকুন। দেখবেন মশা তাড়ানোর ক্রিম তৈরি হয়ে গেছে। একটু মন্দ গন্ধযুক্ত হলেও সামান্য একটু ক্রিম হাতে পায়ে মেখে নিন। মশা আপনার ধারেকাছেও ভিড়বে না। মশা তাড়ানোর ক্রিম ফ্রিজে অথবা অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রায় রাখতে হবে। তৈরির দিন থেকে ৬ মাস পর্যন্ত এ ক্রিম ব্যবহার করা যাবে।

নিম সাবান: শুধু এডিস মশা নয়, কোন মশা-মাছিই আপনার শরীরে বসবে না। যদি আপনি নিম পাতার পেস্ট অথবা নিম সাবান গায়ে মাখেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার শরীরে নিমের গন্ধ থাকবে ততক্ষণই আপনি মশা-মাছিমুক্ত থাকবেন। এছাড়া ঘরের কোণায় কোণায় নিম পাতা ছড়িয়ে রাখুন। তাহলে মশা-মাছি ঘরে ঢুকবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা

জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা
জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা

চিনা সভ্যতায় বাঁশ শুভশক্তির প্রতীক। বাড়ির আশেপাশে বা ভেতরে বাঁশ রোপণ তাদের ঐতিহ্য। তবে বাঙালি বাঁশ নিয়ে খুব সংবেদনশীল। সহজে বাঁশের ধারেকাছে যান না। আসুন তবে দেখে নেই বাঁশ রোপণের উপকারিতা।

জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা
জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা

১. বাড়িতে বাঁশ রোপণ করলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হয়।
২. কচি বাঁশের সবুজ রং দৃষ্টিশক্তি সতেজ রাখে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে স্নিগ্ধতা দেয়।
৩. সেরিব্রাল কর্টেক্স ও রেটিনার পক্ষে এ রং অতি উপকারী।
৪. বাঁশও এক ধরনের গাছ। বাঁশও অক্সিজেন ত্যাগ করে বাতাস শুদ্ধ করে।
৫. ভেতরে ফাঁপা ও বাইরে শক্ত এ গাছ নেগেটিভ এনার্জিকে প্রতিহত করে।
৬. ৩৫-১২০ বছরে বাঁশগাছে ফুল আসে। এ ফুল সৌভাগ্যের প্রতীক।
৭. ঋতু অনুযায়ী বাঁশের রং বদল ঘরের একঘেয়েমি দূর করে। মনকে সতেজ রাখে।
৮. বাড়ির ভেতরে বাঁশ রোপণ করলে তা অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করে।

জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা
জেনে নিন বাঁশের উপকারিতা

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন

কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন
কুরআনে বর্ণিত ফল ও উদ্ভিদগুলো দেখতে যেমন

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কুরআনুল কারিম এক জীবন্ত বিশ্বকোষ। এতে রয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞান সমাহার। অতিত ইতিহাস-ঐতিহ্য, বিধি-বিধান থেকে শুরু করে বাদ যায়নি উদ্ভিদ, ফল, তরু-লতা ও গাছ-গাছালির বিবরণ। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক। আমিই প্রচুর বারি বর্ষণ করি। পরে আমি ভূমি প্রকৃষ্টরূপে বিদীর্ণ করি এবং আমি তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাক-সবজি, জাইতুন, খেজুর, বহু বৃক্ষবিশিষ্ট বাগান, ফল ও গবাদি খাদ্য। এটা তোমাদের ও তোমাদের জীবজন্তুর ভোগের জন্য।’ (সুরা আবাসা : আয়াত ২৪-৩২)

প্রাকৃতিক বৈচিত্রের নয়নাভিরাম সাদৃশ্য ও কুদরতের কথা মানুষের সামনে তুলে ধরতে আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন-
‘যিনি তোমাদের জন্য তা (পানি) দিয়ে শস্য, জাইতুন, খেজুরগাছ, আঙুর ও সব ধরনের ফল ফলান। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।’ (সুরা নাহল : আয়াত ১১)

এছাড়াও কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন উদ্ভিদের নাম ও শ্রেণি উল্লেখ করেছেন। কয়েকটি সুরার নামকরণও করা হয়েছে উদ্ভিদের নামে। আবার কোনো কিছুর প্রমাণস্বরূপ কিংবা সাধারণ বর্ণনা হিসেবে এসেছে উদ্ভিদের নাম। যার কিছু তুলে ধরা হলো-

>> মান্না
এক প্রকার খাদ্য, যা আল্লাহ তা‘আলা বনি ইসরাইলের জন্য আসমান থেকে অবতীর্ণ করতেন। তা ছিল দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। এটি দিয়ে মানুষের রুটির অভাব মিটতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‘الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ ‘কামআহ হ’ল মান্ন-এর অন্তর্ভুক্ত’। (তিরমিজি, মিশকাত)

মান্না
মান্না

আধুনিক গবেষণায় বলা হয় যে, মান্ন একপ্রকার আঠা জাতীয় উপাদেয় খাদ্য। যা শুকিয়ে পিষে রুটি তৈরী করে তৃপ্তির সাথে আহার করা যায়। দক্ষিণ ইউরোপের সিসিলিতে, আরব উপদ্বীপের ইরাকে ও ইরানে, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতবর্ষে মান্না জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন হয়।’ (ডঃ ইকতেদার হোসেন ফারুকী, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে কুরআনে বর্ণিত উদ্ভিদ ই,ফা,বা, ২০০৮, পৃঃ ১৩-২০)

>> খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)
খেজুর গাছ থেকে যে খেজুর উৎপন্ন হয় তা অনেক শক্তিশালী খাদ্য। যা মানুষের জন্য অনেক উপকারি। খেজুর বান্দার জন্য মহান আল্লাহ তাআলার এক মহা নেয়ামত।

খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)
খেজুর গাছ (আন-নাখিল/আর রাতাব)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করেন, ‘এবং শস্যক্ষেত ও দুর্বল ও ঘন গোছাবিশিষ্ট খেজুর বাগানে।’ (সুরা শুআরা : আয়াত ১৪৮)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড ধরে নাড়া দাও। তোমার ওপর তা ফেলবে পাকা তাজা খেজুর।’ (সুরা মরিয়াম : আয়াত ২৫)।

>> জলপাই (আজ-জায়তুন)
মহা ঔষুধিগুণে ভরপুর জলপাই। জলপাই অনেক ধরনের হয়ে থাকে। এ থেকে তৈরি হয় অনেক উন্নতমানের তেল। যার কদর রয়েছে বিশ্বব্যাপী। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে এ জয়তুন তথা জলপাইয়ের শপথ করে বলেছেন, ‘ডুমুর ও জলপাই (বা তার গাছের) এর শপথ।’ (সুরা ত্বীন : আয়াত ১)

জলপাই (আজ-জায়তুন)
জলপাই (আজ-জায়তুন)

আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন, ‘যিনি তোমাদের জন্য তা (পানি) দিয়ে শস্য, জাইতুন, খেজুরগাছ, আঙুর ও সব ধরনের ফল ফলান। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।’ (সুরা নাহল : আয়াত ১১)

>> আঙুর ফল (আল-ইনাব)
লতাজাতীয় উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন ফল হলো আঙুর। অনেক সুমিষ্ট ও উপকারি ফল এটি। একই থোকায় ৬ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত উৎপন্ন হয়। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা এ ফলের কথা তুলে ধরেছেন।

আঙুর ফল (আল-ইনাব)
আঙুর ফল (আল-ইনাব)

বিজ্ঞানে প্রমাণিত যে, অনেক জটিল ও কঠিন রোগের প্রতিষেধক রয়েছে লতা জাতীয় উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন ফল আঙুরে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং আঙুর ও শাক-সবজি।’ (সুরা আবাসা : আয়াত ২৮)

>> আনার (আর-রুম্মান)
ডালিম নামে পরিচিত ফলই কুরআনের ভাষায় রুম্মান। গুল্ম জাতীয় গাছ থেকে উৎপন্ন হয় এ ফল। এটাকে অনেকে আনার হিসেবেই জানে।

আনার (আর-রুম্মান)
আনার (আর-রুম্মান)

এ ফলটির কথাও কুরআনে এসেছে- ‘সেখানে রয়েছে ফলমূল; খেজুর ও আনার।’ (সুরা আর-রাহমান : আয়াত ৬৮)

>> ডুমুর (আত-ত্বীন)
বিশ্বব্যাপী বহু প্রজাতির ডুমুর রয়েছে। এক ধরনের মিষ্টি জাতীয় পাতলা আবরণযুক্ত নরম ফল ডুমুর। গাছ, লতা, গুল্ম জাতীয় ভিন্ন ভিন্ন গাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ডুমুর উৎপন্ন হয়। কুরআনুল কারিম এ নামে একটি সুরাও নাজিল হয়েছে।

ডুমুর (আত-ত্বীন)
ডুমুর (আত-ত্বীন)

আর তাহলো সুরা ত্বীন। ত্বীন শব্দের অর্থেই হলো ডুমুর। আল্লাহ বলেন, ‘ডুমুর ও জলপাই (বা তার গাছের) এর শপথ।’ (সুরা ত্বীন : আয়াত ১)

>> শস্য (আজ-জারউ)
নানান ধরনের বীজচারা বা শস্যের কথা কুরআনে তুলে ধরেছেন।

শস্য (আজ-জারউ)
শস্য (আজ-জারউ)

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘এবং যিনি সৃষ্টি করেছেন খেজুর গাছ ও বিভিন্ন স্বাদের খাদ্যশস্য।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৪১)

>> ঝাউ গাছ (আল-আছলু)
চিরসবুজ নয়নাভিরাম দৃষ্টিনন্দন পাতা বিশিষ্ট উদ্ভিদ ঝাউ গাছ। এর কোনোটি গাছ বিশিষ্টি আবার কোনোটি লতাগুল্ম বিশিষ্ট। এটির কথাও আল্লাহ তাআলা কুরআনে তুলে ধরেছেন-

ঝাউ গাছ (আল-আছলু)
ঝাউ গাছ (আল-আছলু)

‘আমি তাদের বাগান দুইটিকে এমন দুই বাগানে পরিবর্তন করলাম, যেখানে রইল কিছু বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ।’ (সুরা সাবা : আয়াত ১৬)

>> ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)
মেসওয়াক করার জন্যও আল্লাহ তাআলা গাছ সৃষ্টি করেছেন। এ গাছকে কেউ কেউ জয়তুন গাছ আবার ইংরেজিতে টুথব্রাশ ট্রি বলে থাকে।

ডালবিশিষ্ট এ গাছকে কুরআনের ভাষায় (আস-সাজারু) বলা হয়। আল্লাহ বলেন, ‘লতাপাতা ও বৃক্ষরাজি তাকে সিজদা করে।’ (সুরা আর-রহমান : আয়াত ৬)

>> মেহেদি গাছ

মেহেদি গাছ
মেহেদি গাছ

মেসওয়াক করার জন্যও আল্লাহ তাআলা গাছ সৃষ্টি করেছেন। এ গাছকে কেউ কেউ জয়তুন গাছ আবার ইংরেজিতে টুথব্রাশ ট্রি বলে থাকে।

ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)
ডালা বিশিষ্ট (মেসওয়াক) গাছ (আস-সাজারু)

>> আদা (আজ-জানজাবিলু)
এক ধরনের মূল্যবান সুগন্ধি হলো আদা বা আজ-জানজাবিলু। মানুষ এটিকে মসল্লা ও ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। পরকালে এ আদা হবে মানুষের শুরা পানের উপকরণ।

আদা (আজ-জানজাবিলু)
আদা (আজ-জানজাবিলু)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, ‘তারা সেখানে এমন শূরা পান করবে, যাতে মেশানো থাকবে ‘জানজাবিল’।’ (সুরা দাহর : আয়াত ১৭)

>> মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)
মসুর, মটরকলাই সম্পর্কে কুরআনুল কারিমের উল্লেখ করা হয়েছে। যা মানুষ খাদ্যশস্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। মানুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)
মটর-কলাই বা মসুর (আল-ফুমু)

আল্লাহ তাআরা বলেন, ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য— তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৬১)

>> পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)
পেঁয়াজ-রসুন মসল্লা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে অনেক উপকারিতা।

পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)
পেঁয়াজ-রসুন (আল-বাসালু)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য— তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৬১)

>> লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)
লাউ মানুষের জন্য অনেক উপকারি তরকারি হিসেবে পরিচতি। অনেকে লাউবা কদু তরকারিকে সুন্নাত মনে করে খায়। লাউ বা কদু সম্পর্কে কুরআনে রয়েছে বর্ণনা।

লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)
লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন)

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আমি তার ওপর একটি লাউ গাছ উদ্গত করলাম।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ৪৬)

>> শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)
আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র শস্যদানার কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলোর উল্লেখ করে একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-

শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)
শস্যদানা (শরিষা) বা বীজ (আল-হাব্বু)

– ‘নিশ্চয় আল্লাহ বীজ ও আঁটিকে অঙ্কুরিত করেন।’ (সুরা আনআম- আয়াত ৯৫)
– শীষ বা মুকুল (আস-সানাবিলু) ‘যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের দৃষ্টান্ত হলো বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শিষ বের হয় এবং প্রত্যেক শিষে থাকে ১০০ বীজ।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৬১)
– উদ্ভিদ (আন-নাবাতু) ‘যেন আমি তা (পানি) দিয়ে উৎপন্ন করি শস্যদানা ও উদ্ভিদ।’ (সুরা নাবা : আয়াত ১৫)

>> পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)

পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)
পুদিনা সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু)

সুগন্ধ গুল্ম বিশিষ্ট পাতা পুদিনা মানুষের জন্য অনেক উপকারি। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আরও আছে খোসাবিশিষ্ট শস্য ও সুগন্ধি ফুল।’ (সুরা আর-রহমান : আয়াত ১২)

>> কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস

কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস
কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস

কাঁটাযুক্ত ‘আল খামতু’ বা ‘আরাক’ নামক বিশেষ লতা গাছ। এ বিষয়ে কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-

বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ
বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ

‘আমি তাদের বাগান দুইটিকে এমন দুই বাগানে পরিবর্তন করলাম, যেখানে রইল কিছু বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ।’ (সুরা সাবা : আয়াত ১৬)

>> তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)
তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্‌কুম) ফল। যা জাহান্নামিদের জন্য হবে। এসব ফল হবে তেঁতো, বিস্বাদ ও কাঁটাযুক্ত।

তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)
তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আজ-জাক্কুম)

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আপ্যায়নের (জাহান্নামিদের) জন্য এটাই না উত্তম কাঁটাযুক্ত গাছ?’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ৬২)

>> ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)
এমন গাছ যার রয়েছে বড় ডালা ও ঘণ পাতা। বিশাল বৃক্ষরাজি। এসব ডাল, পাতা ও বিশাল বৃক্ষরাজি মহান আল্লাহকে সিজদা করে।

ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)
ডাল-পাতা বিশিষ্ট গাছ (আন-নাজমু ওয়াশ শাজারু)

আল্লাহ তাআলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন- ‘লতাপাতা ও বৃক্ষরাজি তাকে সিজদা করে।’ (সুরা আর-রাহমান : আয়াত ৬)

>> শসা (আল-কিসসাউ)

শসা (আল-কিসসাউ)
শসা (আল-কিসসাউ)

আল্লাহ বলেন, ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৬১)

এছাড়াও কুরআনুল কারিমের ফুল, পাতা, ফল, লতা-গুল্ম, বৃক্ষ, উদ্ভিদ বুঝাতে অনেক শব্দের উল্লেখ রয়েছে। আর তাহলো-
– আল কিনওয়ানু এবং আত-তালউ। উভয় শব্দ দ্বারা খেজুর গাছের শীর্ষ কাঁদি বা শিষ বুঝিয়ে ‍থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘এবং খেজুর গাছ, যার শীর্ষদেশ কাঁদির ভারে নুয়ে থাকে।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৯৯)
– আস-সিদরু বা কুল বা বরই গাছ। কুরআনে এসেছে, ‘কাঁটাবিহীন বরই গাছ তলায়।’ (সুরা ওয়াকিয়া : আয়াত ২৮)
– আল-আব্বু : গৃহপালিত ও বন্যপশু যে ফল খায়, পশুখাদ্য। আল্লাহ বলেন, ‘তাতে উৎপন্ন করেছি ফলমূল ও ঘাস।’ (সুরা আবাসা : আয়াত ৩১)
– আল-কাদবু (শাকসবজি) ‘আমি তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাকসবজি…।’ (সুরা আবাসা : আয়াত ২৪-৩২)
– আল-কাফুরু (কর্পূর ) ‘নিশ্চয় সৎ মানুষ জান্নাতে এমন পাত্রে পান করবে, যাতে মেশানো থাকবে কর্পূর।’ (সুরা দাহর : আয়াত ৫)

এসবই সৃষ্টিজগতের জন্য মহান প্রভুর একান্ত দান ও মহা অনুগ্রহ। মুমিন বান্দার উচিত আল্লাহ তাআলা কর্তৃক দানকৃত এসব নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার অগণিত অসংখ্য নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com