আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

ইটভাটার মাটি যোগাতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন ‘উৎসব’

ইটভাটার মাটি যোগাতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন ‘উৎসব’
ইটভাটার মাটি যোগাতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন ‘উৎসব’: ইটভাটার মাটি যোগাতে ফসলি জমিতে পুকুর খনন।

ইটভাটার মালিকরা তাদের প্রয়োজনে মাটি কেটে নিয়ে ফসলি জমিকে পুকুরে পরিণত করছে

“কৃষি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না” এমন সরকারি নীতিমালা থাকলেও সেই নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ফসলি জমিগুলোকে পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে। এক শ্রেণির অসাধু ইটভাটা মালিকেরা বিভিন্ন মহলকে “ম্যানেজ” করে পুকুর খনন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খননকে ঘিরে আবার গড়ে উঠেছে পুকুর খনন ব্যবসায়ী যারা এলাকায় “পুকুর ব্যবসায়ী” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

জানা গেছে, ইটভাটার মালিকরা তাদের প্রয়োজনে মাটি কেটে নিয়ে ফসলি জমিকে পুকুরে পরিণত করছে। এতে জমির মালিকেরা পুকুর খনন করতে খরচের পরির্বতে অতিরিক্ত টাকা পাচ্ছেন। এতে কৃষকেরা না বুঝেই তাদের পুকুরকে ইটভাটা মালিকদের হাতে তুলে দিচ্ছে। ফলে জেলায় দিন দিন কমেই চলেছে ফসলি জমি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলায় আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৭২ হাজার ২৭৬ হেক্টর। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল একই পরিমাণ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬১২ হেক্টর এবং ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ছিল ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯৯৮ হেক্টর। গত ৫ বছরে আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে ১ হাজার ৭২২ হেক্টর। আত্রাই উপজেলায় বর্তমানে ফসলি জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ১০০ হেক্টর। গত ৫ বছরের ব্যবধানে ২০০ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে। অপরদিকে, বর্তমানে সরকারি পুকুর রয়েছে ২২৪ টি এবং ব্যক্তিগত পুকুর রয়েছে ২ হাজার ৮৩৭টি। গত ৫ বছরের ব্যবধানে ব্যক্তিগত পুকুরে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৫০টি।

উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের দ্বীপ চাঁদপুর গ্রামে এলজিইডি রাস্তা সংলগ্ন প্রায় ২০ বিঘা এলাকা জুড়ে এস্কেভেটর দিয়ে পুকুর খনন করছেন গ্রামের সুমন তালুকদার। স্থানীয় মেসার্স এমইএম ইটভাটার মালিক আসাদুজ্জামান টপি মোল্লা ওই জমিতে পুকুর খনন করে তার ভাটায় মাটি নিয়ে যাচ্ছেন। একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খনন করে তার ইটভাটায় মাটি নেওয়া হচ্ছে।

পুকুর ব্যবসায়ী সুমন তালুকদার বলেন, প্রতি বছর ২৮ হাজার টাকা বিঘা হিসেবে ১২ বছরের জন্য ১৫ বিঘা জমি ইজারা নিয়েছি। পুকুর খননের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর একটা আবেদন করেছি। এরপর জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কৃষি ও মৎস্য অফিসারকে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়। তবে তিনি জানান, অনুমোদন পাওয়ার আগেই পুকুর খনন করছেন তিনি।   

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাওছার হোসেন বলেন, ফসলি জমির পরিমাণ কমছে। গত দেড় মাসে পুকুর খনন বিষয়ে প্রায় ৪৪টির মতো প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক বরাবর দিয়েছি। যেগুলোতে প্রায় এক ফসলের আবাদ হয়ে থাকে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ মুর্শেদ মিশু বলেন, “ডিসি স্যার যদি পুকুর খননের জন্য অনুমোতি দেয় তাহলে খনন করতে পারবে। দ্বীপচাঁদপুর গ্রামের পুকুর খননের প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তবে কি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে তা বলা যাবে না।”

এ ব্যাপারে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ছানাউল ইসলাম বলেন, “কেউ পুকুর খনন করতে চাইলে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে তিনিই বিষয়টি দেখবেন। এখানে আমাদের করার কিছু নেই।”

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঘরবাড়ি, ইটভাটা ও পুকুর খননের কারণে প্রতি বছরই কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এটি একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ভূমি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে আবাদি জমি রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

পরিবেশ

স্বাদে-ঘ্রাণে অনন্য কাপাসিয়ার গুড়

সুলতান উদ্দিনের বয়স এখন ৫২ বছর। ২২ বছর বয়স থেকেই তিনি আখের গুড়ের ব্যবসা করেন। এই ৩০ বছরের অভিজ্ঞতায় তাঁর ভাষ্য, কাপাসিয়ার আখের গুড়ের স্বাদই আলাদা। তিনি বলেন, ‘এই গুড়ের নিজস্ব একটা ঘ্রাণ আছে। অন্য গুড়ের মইদ্যে পাইতেন না।’

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জনপদ। এখানকার বেশির ভাগ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। কৃষির একটি বড় অংশজুড়ে আছে আখ চাষ। স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এই অঞ্চলে গত বছর ১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। এখানে পাঁচটি জাতের আখ চাষ হচ্ছে। কাপাসিয়া অঞ্চলের মাটি আখ চাষের জন্য উপযোগী। আখের মিষ্টতা অনেক বেশি। ঈশ্বরদী ১৬, ঈশ্বরদী ২১, ঈশ্বরদী ২/৫৪, টেনাই, অমিত জাতের আখ চাষ হয় এখানে। এর মধ্যে ঈশ্বরদী ১৬ জনপ্রিয়। এখানে বিস্তীর্ণ মাঠে আখ চাষ করতে দেখা যায়। কাপাসিয়ার তরগাঁও, রায়েদ, সিংহশ্রী, বারিষাব, টোক, কড়িহাতা, সনমানিয়া, ঘাগটিয়া, দুর্গাপুর, চাঁদপুরজুড়ে আখ চাষ হয়।

সম্প্রতি পথে যেতে যেতে দেখা হয় সুলতান উদ্দিনের সঙ্গে। কাপাসিয়ার রায়েদ ইউনিয়নে সড়কের পাশে কয়েকজনকে নিয়ে আখ খেতে গুড় তৈরির কাজ করছিলেন তিনি। দুটি বড় কড়াইয়ে আখের রস জ্বাল দেওয়ার কাজ করছিলেন তাঁরা। এসব কাজ দেখভাল করছিলেন আজিজুল হক। পাশে আখের ছোবড়াগুলো রোদে শুকানো হচ্ছিল। আখের রস জ্বাল দেওয়ার জন্য আখগাছের ছোবড়া ব্যবহৃত হয়।

আখ থেকে গুড় তৈরির বিষয়ে আজিজুল হক বলেন, আখ জ্বাল দেওয়ার পর তা ঘন হয়ে উঠলে টিনের তৈরি ড্রামের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়। উত্তাপ কমে এলে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে গুড় জমাট বাঁধে। এ ছাড়া তরল গুড়ের রশিও বাজারে বিক্রি হয়। তরল গুড় বাজারজাতের উদ্দেশ্যে আলাদা বোতলে সংরক্ষণ করা হয়।বিজ্ঞাপন

কয়েক দশক ধরে সুলতান উদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন জায়গার আখ কিনে তা থেকে গুড় তৈরি করেন। এ বছর তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকার আখ কিনেছেন। সেগুলো থেকে উৎপাদিত গুড় যাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সুলতান উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানের গুড়ের সঙ্গে কাপাসিয়ার গুড়ের একটা পার্থক্য আছে। এই এলাকার আখ যেমন মিষ্টি, তেমনি মিষ্টি গুড়। ঘ্রাণটাও মিষ্টি।

এসব গুড় পাইকারি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় বলে জানালেন সুলতান। তিনি বলেন, অনেকেই গুড়ের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে মিষ্টতা বাড়ান। কিন্তু কাপাসিয়ার গুড়ে চিনি না মিশালেও চলে। তিনি কখনোই চিনি মেশান না। আখের মান ভালো হলে প্রতি খোলা (গুড় জ্বাল দেওয়ার কড়াই) থেকে ৪০-৫০ কেজির মতো গুড় পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চার-পাঁচটি গুড়ের খোলা ওঠানো সম্ভব। তার এসব কাজে সারা বছর অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক সব সময় যুক্ত থাকেন।

বড় কড়াইয়ে আখের রস জ্বাল দেওয়া হচ্ছে। ছবিগুলো সম্প্রতি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ এলাকা থেকে তোলা
বড় কড়াইয়ে আখের রস জ্বাল দেওয়া হচ্ছে। ছবিগুলো সম্প্রতি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ এলাকা থেকে তোলা

এই এলাকায় আখ চাষ হয় বহু বছর ধরে বলে জানালেন রায়েদ গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়া। বলেন, শুধু গুড় না, চিবিয়ে খেতেও কাপাসিয়ার আখ খুব ভালো। এক একটা আখ আকারভেদে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। একই গ্রামের মো. মোজাম্মেল হক বলেন, কাপাসিয়া এলাকার মাটির একটা বিশেষ গুণ আছে। বিশেষ করে লাল মাটির আখ অনন্য স্বাদের হয়।

কাপাসিয়ায় প্রতিবছর আখ উৎপাদন বাড়ছে। ফলে আখচাষির সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানান কাপাসিয়া উপজেলার উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ শতাংশ উৎপাদন কম হয়েছে। তবে এ বছর উৎপাদন অনেক বেশি বাড়বে। গুড়ের দাম বেশি হওয়ায় এই খাতে উদ্যোক্তা পাওয়া যাচ্ছে। নতুন করে অনেক কৃষক আখ চাষে নামছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

আমার স্বামী একজন দিনমজুর। দিনমজুরি করে আমার চিকিৎসা খরচ চালান। এই দিনমজুরি টাকা দিয়ে ওষুধ কিনব, নাকি ঘর ঠিক করব, না সংসার চালাব? সরকারের কাছে আমার আবেদন যেন সরকার আমাকে একটা ঘর দেয়। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে যেন ওই ঘরে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে পারি। এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী নমিতা রানী (২৮)। তার স্বামীর নাম সাধন চন্দ্র (৩৫)।

নিজস্ব জমি না থাকায় পাঁচ বছর ধরে সরকারি খাসজমিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই প্রতিবন্ধী দম্পতি। নমিতা রানীর একটি হাত ও একটি পা বিকলাঙ্গ। তারপরও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। অভাবের কারণে অনেক সময় অভুক্ত থাকতে হয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামের খাসজমিতে বসবাস করেন দিনমজুর সাধন চন্দ্র ও তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী নমিতা রানী (২৮)। এই দম্পতির এক ছেলে নয়ন চন্দ্র ও এক মেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে তাদের অভাবের সংসার। ছেলে নয়ন পঞ্চম শ্রেণিতে ও মেয়ে বৃষ্টি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

শুধু খাওয়ার কষ্টই নয়, নমিতা বুকের ভাল্ভ ও ছেলে নয়ন হার্টের সমস্যায় ভুগছে। প্রতি সপ্তহে তাদের জন্য ওষুধ কিনতে লাগে প্রায় সাড়ে ৭০০ টাকা। তাদের চিকিৎসা করতে সব শেষ করছেন সাধন চন্দ্র।

ভূমিহীন এই পরিবারে থাকার একটি ঘর গত ছয় মাস আগে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে। সেই থেকে ভাঙা টিনের ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে ঠান্ডায় বসবাস করছেন এই দম্পতি। চার মাস আগে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে দেখা করে ঢেউটিনের জন্য আবেদন দিয়েও আজ পর্যন্ত টিন পাননি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কনকনে শীত আর ঠান্ডা বাতাসে ভাঙা টিনের ঘরে প্লাস্টিক মুড়িয়ে ছেলেমেয়েকে নিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন এই দম্পতি। ঘরের সব টিন জং ধরে ভেঙে পড়েছে। ঘরে থাকার কোনো

সাধন চন্দ্র বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই খাসজমিতে বসবাস করছি। স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা করে সব শেষ করছি। ঘর ভেঙে পড়েছে। ঘরটি তোলার কোনো উপায় নেই। আমি সরকারের কাছে একটি ঘর চাই। ইউএনওর কাছে টিনের জন্য দরখাস্ত দিয়েছি। ইউএনও বলেছেন, টিন এলে পাবেন। কিন্তু চার মাসেও টিন পাইনি। কেউ যদি আমার ঘরটি টিন দিয়ে ঠিক করে দিত, তাহলে ভগবানের কাছে আশীর্বাদ করতাম।’

ওই গ্রামের প্রতিবেশী আবু সাঈদ জানান, সাধান চন্দ্র একজন দিনমজুর, গরিব। তার স্ত্রী নমিতা শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ। টাকা-পয়সা না থাকায় ভাঙা ঘরটিতে ছেলেমেয়ে নিয়ে রাতযাপন করছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে তার একটি সরকারি ঘর পাওয়া উচিত বলে মনে করি।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আমিনুর রহমান জানান, সাধন চন্দ্র একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি। তিনি সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য। তবে সরকারি ঘর পাওয়ার তালিকা থেকে তিনি কেন বাদ পড়েছেন তা আমার জানা নেই।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরল আমিন বলেন, ওই পরিবারটির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে সরকারি ঘরের জন্য আবেদন দিলে বিষয়টি দেখা যাবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, তিনি ভূমিহীন হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য হলে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, টিনের জন্য আবেদনপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ফেসবুকে স্ট্যাটাস : খাট-লেপ-তোশক-খাবার পেলেন বৃদ্ধা

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে ৭৬ বছর বয়সী অসহায় এক বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণ বস্ত্র প্রকৌশলী আল ইমরান।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে বৃদ্ধা তুলো বেওয়ার দুর্দশার কাহিনী ফেসবুকে পোস্ট করেন স্থানীয় আবদুর রাজ্জাক মাহমুদ নামের এসডিজি জেলা নেটওয়ার্কের এক সদস্য।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) আল ইমরান তার প্রতিনিধির মাধ্যমে খাট, শীত নিবারণের জন্য লেপ, তোশক, বালিশ, খাবারের জন্য চাল ও নলকূপ ওই বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জের মেরুরচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামের মৃত জমুর শেখের বিধবা স্ত্রী তুলো বেওয়া একটি একচালা ছাপরা ঘরে বসবাস করেন। তার দুই ছেলেও অভাব ও দরিদ্রতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দুই ছেলে কাছে না থাকায় অনেক কষ্টে ও অন্যের কাছে খাবার চেয়ে কোনো রকমে দিন কাটান এই বৃদ্ধা। বিশেষ করে ছাপরা ঘরে অন্ধকার রাতে একা থাকেন তিনি। বিদ্যুৎ সংযোগও নেয়া সম্ভব হয়নি অর্থের অভাবে।

খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে বৃদ্ধাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ারও আশ্বাস দেন তরুণ সমাজসেবক আল ইমরান।

প্রকৌশলী আল ইমরান বলেন, বৃদ্ধার দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমি এগিয়ে এসেছি। যতদিন বেঁচে থাকব অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তিন মেয়েকে নিয়ে ভাঙা ঘরে রাত কাটে ফাতেমার

মোর আড়াই শতক ভুই (জমি)। ভালো একনা ঘর নাই। একনা ভাঙা টিনের চালা। ওকনা চালায় তিন কোনা বেটি (মেয়ে) নিয়া থাকোং (থাকি)’ বলেন ফাতেমা।

‘আইতে (রাতে) ঘুমির পাং না, বৃষ্টির দিনোত চালা দিয়ে পানি পড়ে। শীতের দিনোত বাতাস ঢোকে ঘরের ভেতরোত। স্বামী মরছে দেড় বছর হয় বিধবা ভাতার কার্ডও পাং নাই। মুই তো মোর কষ্টের কতা (কথা) চেয়ারম্যান-মেম্বারের কতবার কছুং ৷ কাও মোর ভাতা করে দেয় নাই৷ সরকার থেকে যদি একনা ঘর পানুং হয় তাইলে বাকি জীবনটা ভালো করে কাটনুং (কাটিল) হয়’।

এভাবেই নিজের কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ৪নং দলগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ দলগ্রাম (হাজীপাড়া) এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের মৃত্যু সামছুল হকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। দেড় বছর ধরে স্বামীহারা হলেও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি বিধবাভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। তবে সরকারি কাজের বিনিময় খাদ্য কর্মসূচিতে নাম রয়েছে তার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টিন দিয়ে তৈরি একটি টিনের ঘরে বৃষ্টি ও কনকনে ঠান্ডায় তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে কোনোমতে কষ্টে বসবাস করছেন ফাতেমা।

অভাবের তাড়নায় এক মেয়েকে অন্য বাড়িতে রেখে ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে। আর দুই মেয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতেও পারেন না তারা। ঘন কুয়াশায় ভিজে যায় বিছানাপত্র। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে জরাজীর্ণ ভাঙা টিনের চালায় রাতভর ছটফট করে তিন সন্তানকে নিয়ে থাকতে হয় ফাতেমাকে। মুজিববর্ষে সরকারি একটি ঘর পাওয়ার আকুতি জানান ফাতেমা বেগম।

এ বিষয়ে দলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান রবিদ্রনাথ বর্মণ জানান, মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। তবে এ অসহায় বিধবা সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতা, প্রথম পুরস্কার মোবাইল

ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতা, প্রথম পুরস্কার মোবাইল

ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, ঘৌড়দৌড়। এমনকি হালের বলদের দৌড় প্রতিযোগিতার কথা সবাই জানেন, দেখেছেন। তবে পোষা ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতার বিষয়টি একেবারেই নতুন। তাই তো ছাগলের দৌড় দেখতে ভিড় জমান এলাকার ছেলে-বুড়ো সবাই। করোনাকালীন একটু বিনোদনের ব্যবস্থা করতেই এমন আয়োজন আয়োজকদের।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আব্দুল্লাহপুরে ছাগল দৌড়ের এমন ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, কুলিয়ারচর উপজেলার ‘পশ্চিম মোজরাই শান্তি সংগঠন’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ দিন বিকেলে স্থানীয় ফেনাবাড়ি বন্দে অনুষ্ঠিত ছাগল দৌড় প্রতিযোগিতায় পালিত ১৬টি ছাগলসহ এর মালিকরা অংশ নেন। চারটি ধাপের ব্যতিক্রমী এ প্রতিযোগিতায় ছাগলের সঙ্গে দৌড়ান এর মালিকরাও।

প্রতিযোগিতায় পূর্ব আব্দুল্লাপুর গ্রামের সাকিব মিয়ার ছাগল প্রথম, মোজরাই গ্রামের মো. শফিক মিয়ার ছাগল দ্বিতীয় ও পূর্ব আব্দুল্লাপুর গ্রামের হিরু মিয়া ছাগল তৃতীয় স্থান অধিকার করে।

বিজয়ী ছাগলের মালিকদের যথাক্রমে একটি মোবাইল ফোন, একটি সাউন্ড বক্স এবং একটি হিটার জগ উপহার দেয়া হয়।

পশ্চিম মোজরাই শান্তি সংঘের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান মাছুম বলেন, করোনাকালীন শহরের মতো গ্রামে কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। তাই এলাকার মানুষকে নির্মল আনন্দ দিতেই এমন আয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com