আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

খাবার টেবিলে ১২ মাস ফল রাখতে ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প

খাবার টেবিলে ১২ মাস ফল রাখতে ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প
খাবার টেবিলে ১২ মাস ফল রাখতে ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প

ফলের গুরুত্ব বিবেচনায় ও জনগণের টেকসই নিরাপত্তার লক্ষ্যে একশত ৬১ কোটি ব্যয়ে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জাতীয় নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ফলের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। পুষ্টিবিদদের মতে প্রতিদিন গড়ে ২০০ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে যে পরিমান ফল উৎপাদন হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় মাত্র ৪০ শতাংশ। উৎপাদিত ফলের ৬০ শতাংশ পাওয়া যায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই চার মাসে। শীত মৌসুমে ফল প্রাপ্তির সুবিধা কম থাকায় গ্রামীন ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষ পুষ্টির অভাবে ভোগে। এর ফলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে শিশুদের বিকাশ।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া ২য় সংশোধিত প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৩ সালের জুন মাসে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৩টি পাহাড়ি জেলাসহ অন্যান্য উপজেলার অসমতল, পাহাড়ি, অব্যবহৃত ও বসতবাড়ির চারপাশের জমি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে উৎপাদন ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে। এর আওতায় ৭৪টি হার্টিকালচার সেন্টারে আওতাধীন দেশের ৮ বিভাগের ৫১টি উপজেলায় ৪০২টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পে আওতায় এক হাজার একশত ব্যাচ কৃষককে প্রশিক্ষণ, এক হাজার ব্যাচ নারী কৃষক, নার্সারীম্যান, মালীসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এছাড়া ১১ হাজার বাণিজ্যিক মিশ্র ফলের প্রদর্শনী, ৪ হাজার ৫ শত বাণিজ্যিক ফলের বাগান, ১৭ হাজার বসতবাড়িতে ফলের বাগান, ৫ হাজারটি ক্যাশোনাট, এক হাজারটি ড্রাগন ফলের বাগান, এক হাজার ২ শত ৮৮টি বিদেশি ফল বাগানসহ একাধিক বাগান করা হবে। এছাড়া ১৪ লক্ষ ঘন মিটার কৃষি উন্নয়ন, ৩০ হাজার রানিং মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটি সম্পর্কে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী বিভাগের সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘দেশিয় ও বিদেশি ফলের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানো ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এই প্রকল্প ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি চাষীদের প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও আয় বৃদ্ধিতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশে মধুমাসে ফলের প্রাচুর্য থাকে অন্য সময় ফল থাকেনা। আমরা এখন ড্রাগন, স্ট্রবেরি চাষ করছি। আম, জাম, কাঁঠালতো আছেই। আমরা চাচ্ছি এগুলোকে সারা বছর কিভাবে আমাদের টেবিলে আনতে পারি সেই ব্যবস্থা নিতে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ফল উৎপাদন বাড়ায় বিদেশি ফলের ইম্পোর্ট কমে গেছে। আমাদের নিজস্ব দেশিয় ফল বিক্রিও বাড়ছে।’

ফল

আমের মুকুল ঝরে পড়ার কারণ ও প্রতিকার

 আমের মুকুল ঝরে পড়ার কারণ ও প্রতিকার
আমের মুকুল ঝরে পড়ার কারণ ও প্রতিকার

মোটামুটি মার্চ মাসেই আম গাছে মুকুল আসতে থাকে। এ মুকুলের মধ্যে থাকে হাজার হাজার ফুল। তা থেকে জন্ম নেয় আমের গুটি। কিন্তু গাছে গুটি আসার পর নানা কারণে তা ঝরে যায়। তাই এসব কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরি-

ঝরে পড়ার কারণ: বেশ কয়েকটি কারণে আমের মুকুল ঝরে পড়তে পারে-
১. অতিরিক্ত কুয়াশা, বৃষ্টি, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে
২. মাটিতে রসের অভাব হলে
৩. হপার পোকার আক্রমণে
৪. আমের মুকুলে অ্যানথ্রাকনোজ রোগ হলে।

 আমের মুকুল ঝরে পড়ার কারণ ও প্রতিকার
আমের মুকুল ঝরে পড়ার কারণ ও প্রতিকার

প্রতিকার: আমের মুকুল ঝরে পড়া রোধে করণীয়-
* আমবাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, আগাছামুক্ত ও খোলামেলা অবস্থায় রাখতে হবে।
* মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে। রোগাক্রান্ত ডাল, পাতা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
* এছাড়া গাছের নিচ থেকে মরা পাতা কুড়িয়ে তা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
* এ সময়ে গাছের গোঁড়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি রাখতে হবে।
* ফল মটরদানার মতো হলে হপার পোকা দমনের জন্য স্প্রে করতে হয়।
* সাধারণত মুকুল আসার আগে হপার পোকার জন্য স্প্রে করতে হয়।
* সালফার জাতীয় কীটনাশক গুটিতে স্প্রে করতে হবে, যাতে ছত্রাক আক্রান্ত না হয়।
* আম মারবেলের মতো হলে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

লক্ষণীয়: গাছে যখন ৫০% ফল ধরবে; তখন কোনো প্রকার স্প্রে করা যাবে না। মুকুল ফোটার পর স্প্রে করার জরুরি নয়। কেননা এ সময়ে অনেক উপকারী পোকা পরাগায়নের জন্য আসে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মাল্টা চাষের পর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের

মাল্টা চাষের পর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের
মাল্টা চাষের পর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের: নিজ বাগানে মাল্টা পরিচর্যায় ব্যস্ত শাহ আলম।

বর্তমানে ৭ বিঘা জমিতে ৭০০ শতাধিক মাল্টা গাছসহ নানাবিধ ফলের বাগান রয়েছে শাহ আলমের। তার কাছ থেকে মাল্টার চারা নিয়ে দেড় শতাধিক বাগান করেছেন এলাকার যুবকেরা

ঝালকাঠিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাল্টা চাষ। এখানকার মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলনও হচ্ছে ভালো। কম জমিতে খুব অল্প পুঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় ঝালকাঠির যুবকরা ঝুঁকছেন মাল্টার বাণিজ্যিক আবাদে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে আগামীতে মাল্টা চাষের পরিধি বাড়াতে তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। 

জেলায় সবচেয়ে বড় মাল্টা বাগান হচ্ছে নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের শাহ আলম হাওলাদারের শারিনা মাল্টা বাগান। তিনি প্রথমে কৌতুহলবশত নিজ বাড়ির উঠানে পরীক্ষামূলক ১০০ মাল্টা চারা রোপণ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। অল্প জমিতে কম টাকা খরচ করে অধিক মুনাফা হওয়ায় পরবর্তীতে তিনি চার একর জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে আরও একটি মাল্টার বাগান করেছেন। তার বাগান দেখে এ উপজেলার অনেকেই এখন মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। রাসায়নিক মুক্ত হওয়ায় বাজারে এ ফলের বেশ চাহিদাও রয়েছে। বাগান থেকে প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে।

নলছিটির শারিনা মাল্টা গার্ডেনের মালিক শাহ আলম হাওলাদার জানান, টেলিভিশনে পিরোজপুর জেলার মাল্টা চাষের উপর একটি প্রতিবেদন দেখে তিনি মাল্টা চাষে আগহী হন। ২০১৬ সালে বাবার দেওয়া মাত্র ১০ শতক জমিতে ১০০টি গাছ দিয়ে মাল্টার বাগান শুরু করেন। সেই থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র তিন বছরেই তিনি আজ সফল মাল্টা চাষী। বছরে তার বাগান থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হয়। বর্তমানে ৭ বিঘা জমিতে ৭০০ শতাধিক মাল্টা গাছসহ নানাবিধ ফলের বাগান রয়েছে শাহ আলমের। তার কাছ থেকে মাল্টার চারা নিয়ে দেড় শতাধিক বাগান করেছেন এলাকার যুবকেরা।

শাহ আলমের বাগানে মাল্টার পাশাপাশি রঙিন আমসহ ৮০ জাতের দেশি-বিদেশি আম, সৌদি আরবের খেজুর, মিষ্টি কমলা ও দিনাজপুরের লিচু আবাদ করা হয়। তবে মাল্টার উপর তিনি বিশেষ নজর দিয়েছেন। তার বাগানে বারিমাল্টা-১ (পয়সা মাল্টা), থাইল্যান্ডের বেড়িকাটা মাল্টা ও ভারতীয় প্রলিত মাল্টা এই তিন জাতের মাল্টা চাষ করে থাকেন। চারা রোপণের দুই বছরের মধ্যে গাছের ফলন শুরু হলেও মূলত তিন বছরে একটি গাছে পূর্নাঙ্গভাবে ফল ধরা শুরু করে। তিন বছর একটি বয়স্ক গাছে প্রতি মৌসুমে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪৫০টি মাল্টা ধরে। বর্তমানে তার বাগান পরিচর্যার জন্য ৫ জন লোক কাজ করেন। শাহ আলমের মাল্টা নিজ এলাকা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী বাকেরগঞ্জও বরিশাল শহরের ফলের বাজারে বিক্রি হয়। দূর-দুরন্তের ফল ব্যবসায়ীরা তার বাগানের মাল্টা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন। অনেকে আগাম বুকিং দিয়ে তার বাগানের মাল্টা কিনে নিয়ে যান। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণ পেলে তিনি মাল্টা বাগানকে আরও বৃহত্তর পরিসরে উৎপাদন করে সারা দেশে তার নার্সারীর ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। পাশাপাশি একটি গরুর খামার গড়ারও ইচ্ছাও রয়েছে তার।

শাহ আলম আরও বলেন, আমার বাগানে শুধু বিষমুক্ত মাল্টাই নয় কিছু দিন পর সৌদির খেজুরসহ বিদেশি জাতের আমের ফলন শুরু হবে। আমি চাই আমার দৃষ্টান্ত দেখে এলাকার বেকার যুবকরাও এ ধরনের বাগান তৈরি করে সাবলম্বী হোক। এ বিষয়ে যে কেউ আমার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারে। 

সরেজমিনে শাহ আলমের মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, শাহ আলম তার মাল্টা বাগানে পাইকারদের কাছে মাল্টা বিক্রি করতে ব্যস্ত। বিভিন্নস্থান থেকে আসা পাইকাররা তার বাগানের মাল্টা ওজন বরে মেপে প্যাকেটজাত করছেন। 

এছাড়াও ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিকনা গ্রামের খন্দকার ইকবাল মাহামুদের বাগানে গিয়ে দেখো যায় তিনি বাগানে মাল্টা গাছের পরিচর্ষা করছেন। ২০১৭ সালে তিন একর জমিতে ৮০০ মাল্টা চারা রোপণ করেন। গত বছর থেকেই প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে। তিনি জানান গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তিনি এ বছর পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন। ভবিষ্যতে তিনি বাগানের পরিধি আরও বাড়াবেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান মিলি বলেন, “নলছিটি কৃষি বিভাগ এ উপজেলার সবচেয়ে বৃহৎ মাল্টা চাষি শাহ আলমের বাগান থেকে চারা কিনে বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করে থাকে। শাহ আলমের বাগানে উৎপাদিত মাল্টা জাতে বড় ও মিষ্টি । সে আমাদের কৃষি অফিসের সাথে সার্বক্ষণিক যোগযোগ রাখে। আমরাও সব সময় তাকে আধুনিক কৌশল প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে থাকি।”

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরউপ-পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, “অল্প পুঁজিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় মাল্টা চাষে ঝুকছে এলাকার যুবসমাজ। মাল্টা চাষিদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগীতাও করা হচ্ছে। এ বছর জেলায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে।” 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ধনবাড়ীতে জনপ্রিয় হচ্ছে কলার চাষ

ধনবাড়ীতে জনপ্রিয় হচ্ছে কলার চাষ
ধনবাড়ীতে জনপ্রিয় হচ্ছে কলার চাষ: টাঙ্গাইলের কুতুবপুর হাট জেলার অন্যতম কলাবাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।

একবার কলা চারা রোপণ করলে একটানা তিন বছর ভালোভাবে ফলন দিতে পারে। যা অন্য কোনো ফসলে সম্ভব হয় না

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলার চাষ। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় কলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কৃষকেরা জানান, ধান আবাদ করে লোকসান হওয়ায় তারা কলা চাষে দিকে ঝুঁকছেন। কলা চাষ করে এ উপজেলায় সাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই।

উপজেলার একাধিক কলা চাষি জানান, কলা চাষ করে অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভবান হওয়া যায়। কলা চাষে প্রথম অবস্থায় সাথী ফসল হিসাবে মসলা জাতীয় ফসল, সকল ধরনের সবজি, ধানসহ অন্যন্যা ফসলও আবাদ করা যায়। কলা চারা গাছ লাগানোর অল্প দিনের মধ্যে বেড়ে উঠে এবং দ্রুত ফল পাওয়া যায়। বৈশাখ মাসে কলা চারা রোপণ করলে অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফলন পাওয়া যায়।

যে সব জমিতে পানি জমে না সে সব জমিতে কলা চাষ ভালো হয়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষের জন্য জাতভেদে আড়াইশ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ কলা চারা রোপণ করা যায়। একটি কলা গাছ ২ থেকে আড়াই মণ পর্যন্ত কলা দিতে পারে। এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হলেও তিন-চার গুণ টাকার কলা বিক্রি করা যায়। একবার কলা চারা রোপণ করলে একটানা তিন বছর ভালোভাবে ফলন দিতে পারে। যা অন্য কোনো ফসলে সম্ভব হয় না।

চাষিরা জানান, এই এলাকার কলা ভালোমানের হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে কলা ক্রয় করে ঢাকা, সিলেট, চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাণাজ্যিক ভিত্তিতে চাঁপা, মহেরে সাগর, মানকিসহ বিভিন্ন জাতের কলা চাষ করেন টাঙ্গাইলের চাষিরা। এসব জাতের কলা গাছ রোপণের অল্প দিনেই ফল পাওয়া যায়।

উপজেলার কড়য়া গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, এবার ৪ বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সকল খরচ বাদে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকার মত লাভ হবে। কলা বিক্রি করতে কোনো ঝামেলা হয় না। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে কলা পাইকাররা এসে যেমন নিয়ে যায় তেমনই স্থানীয় বাজারে কলা বিক্রি করা যায়।

 চাষি সুমির হোসেন ও লিটন মিয়া বলেন, আমাদের অঞ্চলে কলার ভালো ফলন হয়। কলা আবাদ করে এখানকার চাষিদের কোনো লোকসান না হওয়ায় দিনদিন আগ্রহ বেড়েই চলছে। এখানকার প্রতি ছড়ি কলা প্রকারভেদে সাগর কলা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, সবজি কলা (আনাজ) ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাপা কলা ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা যায়।

ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “উপজেলায় এবার ৭০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। কলা চাষে লাভবান হওয়ায় কলা চাষি ও কৃষকরা কলা চাষের দিকে আগ্রহ বেড়েই চলছে। কলা চাষে তেমন কোনো ঝামেলা না থাকার কারণে স্থানীয়রা কলা চাষ করেছে। চাষের জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কলা চাষিদের নানা ধরনের পরামর্শও প্রদান করছে। যাতে করে চাষিরা লাভবান হতে পারেন।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য

কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য
কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য

*** দেখতে অনেকটা মাঝারি সাইজের আপেলের মতো
*** নুরানি আপেল কুল চাষ দেশে এবারই প্রথম
*** ইউটিউব দেখে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষ
*** ১০ মাসের মাথায় দেখতে পেলেন সাফল্য
*** প্রতি গাছে ধরছে ২০ কেজি নুরানি আপেল কুল

দেখতে অনেকটা মাঝারি সাইজের আপেলের মতো। রঙ আপেলের মতো সবুজ ও হালকা হলুদের ওপর লাল। খেতে অনেক মিষ্টি। অনেকটা বাউকুলের মতো দেখা গেলেও এটি মূলত কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল।

আপেল কুল বাংলাদেশে চাষ হলেও নতুন জাতের কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষ দেশে এবারই প্রথম। প্রচলিত আপেল কুল ও বাউকুলের থেকে আকারে বড় কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল। গাছের ডালে ডালে ধরে এ কুল।

প্রথম বারের মতো দেশে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষ করে সফল হয়েছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের উত্তর বাঁশকান্দি গ্রামের বেলজিয়ামপ্রবাসী লিয়াকত ব্যাপারী।

কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য
কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য

ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক প্রতিবেদন দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেলজিয়ামে থাকা অবস্থায় লিয়াকত ব্যাপারী সিদ্ধান্ত নেন দেশে এসে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষ করবেন। দেশে ফিরে তাই করেছেন তিনি। চারা রোপণের ১০ মাসের মাথায় দেখতে শুরু করেন সাফল্যের মুখ। তার বাগানে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুলের বাম্পার ফলন হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের বেলজিয়ামপ্রবাসী লিয়াকত ব্যাপারী ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক প্রতিবেদন দেখে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষে উদ্বুদ্ধ হন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের উত্তর বাঁশকান্দি গ্রামে নয় লাখ টাকা ব্যয়ে চার বিঘা জমিতে ৮০০ কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুলের চারা ও ৫০০ মাল্টা গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য
কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য

রোপণের ১০ মাসের মাথায় চারাগুলো পরিপক্ব হয়। ১২ মাসের মাথায় গাছে ফুল আসে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে গাছে ধরে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল। প্রতি গাছে ১৫-২০ কেজি করে ধরেছে আপেল কুল। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে তার বাগানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি না হলে প্রত্যেক গাছে ৫০ কেজি করে ধরত কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল।

এরই মধ্যে ৭০ টাকা কেজি পাইকারিতে আপেল কুল বিক্রি শুরু করেছেন লিয়াকত ব্যাপারী। বেড়েছে ক্রেতাদের চাহিদা। তার বাগানে ৭-৮ জন কর্মচারী রয়েছেন। তারা গাছ ও বাগানের পরিচর্যা করেন।

কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য
কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য

বাগানের মালিক লিয়াকত ব্যাপারী বলেন, বেলজিয়ামে থাকা অবস্থায় ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক প্রতিবেদন দেখে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চার বিঘা জমিতে নয় লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০০ কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুলের চারা ও ৫০০ মাল্টা গাছের চারা রোপণ করি। গত বছরের ডিসেম্বরে গাছে ফুল আসে। জানুয়ারি মাসে ফল ধরে। এখন পাকাপোক্ত ফল বিক্রি শুরু করেছি। একেকটি গাছে ১৫-২০ কেজি ফল ধরেছে। পাইকারি ৭০ টাকা কেজিতে আপেল কুল বিক্রি করছি। বলা যায় ভাগ্য বদলে গেছে আমার। আমি সফল। গাছগুলো আরও পরিপক্ব হলে ১০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে। গাছে ফল ধরার পরিমাণও বাড়বে।

লিয়াকত ব্যাপারী বলেন, শিবচরের মাটিতে কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুলের বাম্পার ফলন হবে। যেমনটি হয়েছে আমার। এখানের মাটি অনেক ভালো। যে কেউ সহজে এটি চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য
কাশ্মীরি আপেল কুল চাষে ১০ মাসে বদলে গেল প্রবাসীর ভাগ্য

তিনি বলেন, আমার এমন উদ্যোগের শুরুতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। তারা যদি এসব উদ্যোগে সহযোগিতা করেন তাহলে অনেকেই কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষ করে ভাগ্য বদলে ফেলতে পারবেন।

জানতে চাইলে শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপ রায় বলেন, শিবচরের মাটিতে নতুন জাতের কাশ্মীরি নুরানি আপেল কুল চাষ করে প্রথমবারের মতো সাফল্য দেখিয়েছেন প্রবাসী লিয়াকত ব্যাপারী। সামনে কেউ এ ফল রোপণ ও চাষ করতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই

 অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই
অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই

অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষ করে সফল হওয়া যায়। আর সেটাই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা ইনিয়নের মূলগ্রামের আব্দুল হাই শেখ। বাড়ির আঙিনায় বা পতিত জমিতে আমলকি চাষ করে সফল হওয়া যায় বলে জানালেন তিনি। সুযোগ পেলে এ চাষ এলাকায় বাণিজ্যিক কৃষিতে পরিণত হতে পারে।

জানা যায়, দক্ষিণ বঙ্গের সমতল ভূমিতে আমলকি চাষ অবাক হওয়ার মতোই। রসালো এই ফল ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে দুর্লভ। এ অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন আব্দুল হাই। আমলকি চাষ করে সফল চাষিদের মধ্যে তিনি একজন।

 অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই
অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই

আব্দুল হাই জানান, এ জেলার আমলকি গাছ ৮-১৮ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে এরকমই দেখা যায়। আমলকি গাছে প্রায় ৪ বছর ফল দেয়। আগস্ট-নভেম্বর পর্যন্ত এ ফল পাওয়া যায়। বীজ দিয়ে আমলকির বংশবিস্তার করে বাগান গড়ে তোলা যায়। বর্ষাকালে চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়।

তিনি জানান, চাষিরা ফলটি আগের চেয়ে অনেক বেশি চাষ করছেন। প্রতিবছর এ সময়ে জেলায় আমলকি বেচাকেনা বেশি হয়ে থাকে। এ জেলার আমলকি ঢাকার ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে। এছাড়া জেলায় বাম্পার ফলনে সবাই আগ্রহী হয়েছে। জেলার কৃষি বিভাগ থেকে শুরু করে কৃষক ও বৃক্ষপ্রেমী লোকজন তার বাগান দেখে মুগ্ধ।

 অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই
অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই

আমলকি চাষ সম্পর্কে আব্দুল হাই শেখ জানান, প্রথমে ১০০টি চারা রোপণ করেন তিনি। সাড়ে ৪ বছর পর তার বাগান থেকে ২৫ মণ আমলকি উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য ছিল ২৬ হাজার টাকা। এ বছরও অনেক বেশি বিক্রির আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় চাষিরা জানান, এ ফল বিভিন্ন দেশে রফতানি করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি একটি সুসংবাদ হতে পারে। যদিও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ফল চাষে উদ্যোগী হলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

 অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই
অনাবাদী জমিতে আমলকি চাষে সফল আব্দুল হাই

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু হেনা মোহাম্মদ জাফর বলেন, ‘জেলায় কম করে হলেও প্রতিটি বাড়িতে ২-৩টি করে আমলকি গাছ দেখা যায়। এখন অনেক পরিবার বাণিজ্যিকভাবে আমলকি চাষ করায় এ বছর আবাদ হয়েছে ৪৪ হেক্টর এবং উৎপাদন হয়েছে ৩৭৩ মেট্রিক টন। গত বছর থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। যা হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৮.৪৭ মেট্রিক টন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com