আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

ফল ফলছে বারো মাস

ফল ফলছে বারো মাস
ফল ফলছে বারো মাস

বারো মাসই নতুন নতুন জাতের ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের কৃষক। ভালো দাম পাওয়ায় অনেক কৃষক ধানী জমিতে ফলের বাগান গড়ে তুলছেন। এ কারণে প্রতি বছরই ফল চাষের জমি বাড়ছে এবং ফল উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের বিজ্ঞানীরাও চেষ্টা করছেন বারো মাসই ফল উৎপাদন করা যায় কিনা। অনেক ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়েছেন।

যেমন বৈশাখ-জৈষ্ঠ্যের আম এখন সাত মাসই পাওয়া যায়। বারো মাস থাই পেয়ারা উৎপাদন এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আধুনিক প্রযুক্তি তথা হরমোন ব্যবস্থা করে বারো মাস আনারস উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ফল উৎপাদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে ফলের জমি ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৪৫ হেক্টর। এই পরিমাণ জমিতে ফলের উৎপাদন হয়েছে ৯৯.৭২ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৩ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে ফল উৎপাদন হয়েছে ১০৬.০৮ লাখ মেট্রিক টন। এক বছরের ব্যবধানে ফলের উৎপাদন বেড়েছে ৬.৩৬ লাখ মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হটিকালচার উইংয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারাদেশে ১৭৩টি হটিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে সেন্টারের কর্মীরা বিভিন্ন ফলের কোটি কোটি চারা ও কলম উৎপাদন করে তা কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থানীয় আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে বিজ্ঞানীরা ফল গাছের শ্রেণি বিন্যাস করেছে।

যেমন উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে কোন কোন ফল ভালো উৎপাদন হবে সে অনুযায়ী ৫০-৬০ প্রকার বিভিন্ন ফলের চারা ও কলম সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব চারা কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষকও লাভবান হচ্ছে।ভালো জাতের কলম ও চারার নিশ্চয়তা পাচ্ছে। ড্রাগন, স্ট্রবেরি, থাই পেয়ারার নাম যারা কখনই শোনেনি তারাই আজ এ ফলের চাষ করে উচ্চমূল্যে বাজারে বিক্রি করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কিছুদিন আগেই মালটা সম্পূর্ণ বিদেশনির্ভর ফল ছিল। এখন দেশে উৎপাদিত এ ফল দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। এক সময় বাংলাদেশের মাল্টা বিদেশে রফতানি হবে সেদিন বেশি দূরে নয়। গবেষণার মাধ্যমে আমের ‘আরলি ও লেট ভ্যারাটি’ উদ্ভাবন করা হয়েছে। ফলে প্রথম আম পাকার শুরু থেকে প্রায় সাত মাস পর্যন্ত আম পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুযায়ী, গত চার বছরে আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পেয়ারা ও আনারসের মতো দেশি ফল উৎপাদন দ্রুত হারে বাড়ছে। সংস্থাটির ২০১৫ সালের প্রধান ফসলের পরিসংখ্যান-বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ১৮ প্রজাতির ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এবং উৎপাদন নিয়মিতভাবে বাড়ছে।

বিবিএসের তথ্যমতে, গত চার বছরে দেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন বেড়েছে পেয়ারার। এই সময়ে দেশে পেয়ারার ফলন দ্বিগুণ হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে কাজী পেয়ারা চাষের মধ্য দিয়ে উন্নত জাতের পেয়ারা চাষ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত ছয়টি উন্নত জাতের পেয়ারা এবং বেসরকারিভাবে আমদানি হওয়া থাই পেয়ারা চাষে দেশে রীতিমতো বিপ্লব ঘটে গেছে।

বিবিএসের হিসাবে, ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে পেয়ারার ফলন হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে প্রায় ২ লাখ টন লিচু, ৪ লাখ ৭০ হাজার টন পেঁপে, ৪০ হাজার টন কমলা, ৩ লাখ ৭০ হাজার টন আনারস ও ১ লাখ ৫৫ হাজার টন কুল উৎপাদিত হয়েছে। আর মোট ফল উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি টন।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে, দেশে বর্তমানে ৪৫ প্রজাতির ফল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে মোট ১ কোটি টন ফল উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আমের উৎপাদন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে আম উৎপাদিত হয়েছিল ১২ লাখ ৫০ হাজার টন। আর ২০১৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৫ লাখ টন। শুধু উৎপাদনই বৃদ্ধি হয়নি, বাংলাদেশ থেকে ফল রফতানিও প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে ফল রফতানি থেকে আয় আড়াই গুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৮৮ কোটি টাকার ফল রফতানি করে। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ এই দুই অর্থবছরে তা বেড়ে ৭৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ফল উৎপাদন ৩ থেকে ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। আম, পেয়ারা ও কুল বা বরইর বেশ কয়েকটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষকরা গত পাঁচ বছরে ৮৪টি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। এ কারণে হেক্টরপ্রতি ফলন আগের তুলনায় অনেক গুণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হটিকালচার উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. কুদরত-ই-গণী জাগো নিউজকে বলেন, ফল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ফলে প্রতি বছরই ফলের উৎপাদন বাড়ছে। এছাড়া ফল উৎপাদনে অধিক লাভ দেখে কৃষকও আগ্রহী হয়ে উঠছে। বারি-৬ আম উদ্ভাবন করা হয়েছে পাহাড়ি এলাকার জন্য। এ বছর দেশের তিন পার্বত্য জেলায় ব্যাপকভাবে আম চাষ হয়েছে। পাহাড়ে আগে কখনই পরিকল্পিতভাবে আম চাষ হতো না।

তিনি বলেন, থাই পেয়ারা কৃষকের সুদিন ফিরিয়েছে। কৃষকদের ট্রেনিংসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতার কারণে কৃষকরা এখন পলিব্যাগ পরিয়ে ফলের উৎপাদন বাড়াচ্ছে।

হটিকালচার উইংয়ে কর্মরত কৃষিবিদ মাহবুবা মুনমুন জাগো নিউজকে বলেন, পিরোজপুরে একজন মানুষের ৫০ একরের মালটা বাগান রয়েছে। এ এলাকায় ৩২০টি মালটা বাগান গড়ে উঠেছে। মালটা চাষে সফলতার কারণে এখানে একটি গ্রামের নাম করণ হয়েছে ‘মালটা গ্রাম’।

তিনি বলেন, নতুন উদ্ভাবিত খাটো নারিকেলের চারা বিতরণ করা হচ্ছে কৃষকদের মাঝে। নারিকেল গাছে ফলন বেশি। তাছাড়া ঝড়েও এ ধরনের চারা ভেঙে পড়ে না। এছাড়া গাছের পরিচর্যা, নারিকেল সংগ্রহ খুবই সহজ। নারিকেলের প্রতিটি অংশই গুরুত্বপূর্ণ এবং কাজে লাগে বলে জানান এই কৃষিবিদ।

ফল

পথ দেখাচ্ছে মুন্নার ‘ড্রাগন’

পথ দেখাচ্ছে মুন্নার ‘ড্রাগন’
বাগানের গাছ থেকে ড্রাগন ফল তুলছেন তরুণ চাষি ইউসুফ আজাদ মুন্না। সম্প্রতি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের আদর্শগ্রামে। প্রথম আলো

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের আদর্শগ্রাম। বেশির ভাগ মানুষ কৃষিজীবী। জমিতে ধান, সবজির পাশাপাশি কেউ কেউ জড়িয়েছেন তামাক চাষে। তাঁদের মধ্যে ব্যতিক্রম তরুণ ইউসুফ আজাদ মুন্না (৩৩)। তিনি হেঁটেছেন ভিন্ন পথে। চাষ করছেন ড্রাগন ফলের। এখানেই শেষ নয়, মুন্নার ড্রাগন পথ দেখাচ্ছে অন্যদের। তাঁর দেখাদেখি ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেছেন অনেকে।

সম্প্রতি মুন্নার ড্রাগন ফলের বাগান ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ ফুট উচ্চতার খুঁটি পেঁচিয়ে উঠেছে ড্রাগন ফলের গাছ। গাছে ঝুলছে তিন থেকে চারটি কাঁচা-আধা পাকা ড্রাগন ফল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে ড্রাগনের চাষপদ্ধতি জেনে নিচ্ছেন।

বাগানে কথা হয় মুন্নার সঙ্গে। তিনি বলেন, আদর্শগ্রামে নিজের ৪০ শতক জায়গাজুড়ে তিনি ২০১৬ সালে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। এর আগে তিনি কিছুই করতেন না। ছিলেন বেকার। তখন নাইক্ষ্যংছড়ি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে বিনা মূল্যে পেয়েছিলেন ১৬০টি ড্রাগন ফলের চারা। পরবর্তী সময়ে বাগানে যুক্ত করা হয় আরও ৩০টি চারা। চারা রোপণের এক থেকে দেড় বছরের মাথায় গাছে ফল আসে। গত ডিসেম্বর মাসেও সব কটি গাছে ফল এসেছে। প্রতিটি গাছে তিন থেকে চারটি ফল ধরেছে। ফল বিক্রি করে ডিসেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন। গাছের অবশিষ্ট ফল বিক্রি করে আরও ৪০-৫০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। বাগান সৃজনের বিপরীতে তাঁর খরচ গেছে ৮০ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়।

মুন্না বলেন, একটি গাছ পরিপক্ব হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগে। পরিপক্ব গাছে ২৫ থেকে ৭০টি ড্রাগন ফল ধরে। পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য আসায় তিনি ড্রাগন ফলের চাষ আরও বাড়াচ্ছেন। বাজারে ড্রাগন ফলের চাহিদাও অনেক।

মুন্নার দেখাদেখি নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে বাড়ির আঙিনায় পরিত্যক্ত জমিতে ২০১৮ সালের মে মাসে ৩৫টি ড্রাগনগাছের চারা রোপণ করেন উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন। এখন কয়েকটি গাছে ফুল এসেছে। ফুল আসার ২০-২৫ দিনের মধ্যে ফল ধরে। তিনি বলেন, এটি পরীক্ষামূলক চাষ। ফলন ভালো হলে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষে নামবেন তিনি।  

উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কৃষক পলক বড়ুয়াও ড্রাগন চাষে নেমেছেন। তিনি বলেন, ড্রাগন চাষে ঝুঁকি কম, ফলের দামও বেশি দেখে অনেকে উৎসাহিত হচ্ছেন। কৃষি ব্যাংক অথবা বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ড্রাগন চাষের বিপরীতে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে তামাকচাষিরা ড্রাগনে ঝাঁপিয়ে পড়তেন।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুহিবুল ইসলাম বলেন, ড্রাগন দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে জন্ম নেওয়া লতানো ক্যাকটাসগাছের ফল। বর্তমানে থাইল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের উপযোগী। চার প্রকারের ড্রাগনের মধ্যে বাণিজ্যিক চাষের জন্য বাউড্রাগন-১ (সাদা) ও বাউড্রাগন-২ (লাল) উপযোগী।

নাইক্ষ্যংছড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যান কর্মকর্তা দুলাল দাশ বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ির আশপাশে ড্রাগন চাষের সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। মুন্নার দেখাদেখি অনেকে ড্রাগন চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করা বিষয়ে কৃষি বিভাগ চাষিদের উৎসাহিত করছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, সব ধরনের মাটিতে ড্রাগন চাষ হয়। তবে উঁচু জমিতে ভালো ফলন পাওয়া যায়। তিন মিটার পরপর গর্ত করে চারা রোপণ করতে হয়। বছরের যেকোনো সময় চারা রোপণ করা যায়। তবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হলে ভালো। সিমেন্ট অথবা বাঁশের খুঁটিতে গাছ বেঁধে দিতে হয়। গাছে ফুল আসার ২০-২৫ দিনের মধ্যে ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন হয় ২০০-৬০০ গ্রাম। ১২-১৮ মাস বয়সী একটি গাছে ৫-২০টি ফল ধরে। পরিপক্ব একটি গাছে সর্বোচ্চ ৮০টি ফল পাওয়া যায়। ছাদবাগানের টবেও ড্রাগন ফল উৎপাদন করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

বরই চাষে ভাগ্যবদলের গল্প

কোটালীপাড়ার জহরকান্দি গ্রামে গাছ থেকে কুল সংগ্রহ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ছবি। প্রথম আলো
কোটালীপাড়ার জহরকান্দি গ্রামে গাছ থেকে কুল সংগ্রহ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ছবি। প্রথম আলো

বরিশালের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডের ফুটপাতে বসে বরই বিক্রি করছিলেন এক যুবক। বাজারে ভালো মানের বরই ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও ওই যুবকের বরই ১০০ টাকা দরেও লুফে নিচ্ছেন ক্রেতারা। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে বিষয়টি দেখার পরে যুবকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ব্যাখ্যা করলেন কারণ।

বাসুদেব রায় নামের ওই যুবকের ব্যাখ্যায় উঠে এল কোটালীপাড়ার রামশীল ইউনিয়নের জহরকান্দি গ্রামের মানুষের ভাগ্যবদলের গল্প। বরই চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে গ্রামের ৩৫টি পরিবার। কীটনাশক ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বরই উৎপাদন করায় দামও মেলে বেশি।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সার হাট থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তরের সীমান্তবর্তী কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়নের জহরকান্দি গ্রাম। প্রত্যন্ত পল্লির বিল এলাকা হিসেবে পরিচিত এলাকার মানুষের অভাব–অনটনই ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। গ্রামের মৃত মধুসূদন রায়ের ছেলে মণি মোহন রায়কে ঘিরেই জেগে উঠেছেন গ্রামের মানুষ। তাঁরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

মণি মোহন রায় জানান, ২০০২ সালে তিনি স্ত্রীর বড় ভাই অরুণ ঢালীর কাছে মাগুরা বেড়াতে যান। সেখান থেকে রাজশাহীর আপেল কুলের দুটি কলমচারা কিনে বসতঘরের সামনে লাগান। দুই-তিন বছর পরেই তাতে প্রচুর ফল ধরে, যা খাওয়ার পরে বিক্রিও করেন। এরপর তিনি আরও গাছ বাড়ানোর জন্য নিজ উদ্যোগে কলম কেটে ১০টি গাছ লাগান। ওই গাছে ফল ধরার পরেই তিনি বরই চাষকে ঘিরে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন। শুরু হলো বরই চাষ অবলম্বন করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন।

২০০৮ সালে মণি মোহন পৈতৃক ২০ শতক জমিতে পুকুর করে পুকুরের চারপাশে আপেল কুলের কলম লাগান। সেই কুল বিক্রি করেই তাঁর ভাগ্যের পরিবর্তন করেন মণি মোহন। কুল চাষের আয় দিয়েই ধীরে ধীরে বাড়ান বাগান। জমি কিনে ১৫৬ শতক জমিতে পুকুর কেটে মাছ চাষ করেন। পুকুরের পাড়ে ৮০টি নারকেল ও আপেল কুলের বাগান করে বরই চাষ করেন। প্রতিবছরই কলম চারা করে বাগান বৃদ্ধি করে চলেছেন।

মণি মোহন বলেন, তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূ মিলে নিজেরাই বাগান পরিচর্যা করেন। ছেলে বাসুদেব রায় বিভিন্ন বাজারে ঘুরে বরই বিক্রি করেন। বাড়িতে বসে পাইকারি বিক্রি করলে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় আর বাজারে নিজেরা বিক্রি করলে ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়। তাই ছেলে বাসুদেব বাজারে বরই বিক্রি করেন। বাগানের বরই চাষে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। তাই স্বাদ বেশি হওয়ায় বাজারে চাহিদা বেশি। চলতি মৌসুমে বরই বিক্রি করে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন। বর্তমানে তাঁর বাগানের পরিধি ২০০ শতক। বাগানে যুক্ত হয়েছে লিচু ও আম বাগান। তাঁর সফলতা দেখে ২০১০ সালের পরে গ্রামের অন্যরাও এগিয়ে আসেন বরই চাষে।

বাসুদেব রায় বলেন, বড়ই চাষের পাশাপাশি ১৪ প্রজাতির লিচুর বাগান করেছে। আম বাগানে রয়েছে কিউজাই, পালমাই, গৌরমতি, ন্যাংড়া, হিমসাগর, লক্ষ্মণভোগসহ নানা প্রজাতির আম। বিভিন্ন শহর থেকে এসব গাছের কলম সংগ্রহ করে আম বাগান করেছেন। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার গরুর ফার্ম করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ বছর দুটি গরু পালন শুরু করেছেন।

মণি মোহন বলেন, ‘এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের কোনো পরামর্শ বা সহায়তা পাইনি। তাঁরা পরামর্শ দিলে বাগানকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করে ক্ষতি কমিয়ে আনতে পারতাম।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ব্রজেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পরামর্শ দেওয়া হয় না কথাটি সঠিক নয়। খবর নিয়ে চাষিদের সব ধরনের সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে নতুন ফল ‘মেলন’

খেত থেকে ‘মেলন’ তুলছেন আদিবাসী শ্রমিক চন্দনা রানী। বরেন্দ্র এলাকায় নতুন এই ফলের চাষ করছেন কৃষক মনিরুজ্জামান। গতকাল রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতান্নপুরে। প্রথম আলো
খেত থেকে ‘মেলন’ তুলছেন আদিবাসী শ্রমিক চন্দনা রানী। বরেন্দ্র এলাকায় নতুন এই ফলের চাষ করছেন কৃষক মনিরুজ্জামান। গতকাল রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতান্নপুরে। প্রথম আলো

চেনা রং, অচেনা ফল। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুর মাঠে এই ফলের চাষ হয়েছে। এই ফলের নামও এলাকাবাসী জানেন না। শুধু জানেন, এগুলো তরমুজজাতীয় ফল। দুই ধরনের নতুন ফল এবার চৈতন্যপুরের মাঠে হয়েছে। একধরনের ফল পাকলে হলুদ রঙের হচ্ছে। আরেক ফল সাদা রঙের।

এই ফলের চাষ করেছেন রাজশাহী নগরের মহিষবাথান এলাকার শৌখিন চাষি মনিরুজ্জামান। তাঁর ভাষায়, যে ফলটা পেকে হলুদ রং ধারণ করেছে, তাকে সৌদি আরবে ‘শাম্মাম’ বলা হয়। দেশে এর আলাদা নাম আছে কি না, তা তিনি জানেন না। সাদা রঙের ফলটাকে ‘রক মেলন’ বলা হয়। ঢাকার সুপারমার্কেটগুলোতে এর চাহিদা রয়েছে। মনিরুজ্জামান তাঁর সব ফল ঢাকায় বিক্রি করেছেন। পাকা ফল কাটলে ভেতর গোলাপি রঙের। খেতে মিষ্টি ও সুন্দর ঘ্রাণ আছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয়ের উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, এ দুই ধরনের ফলই মেলন। হলুদ রঙের ফলটাকে ইংরেজিতে শুধু ‘মেলন’ বলা হয়। আর সাদা রঙেরটাকে নেটেড মেলন বা কেন্টালোপ বলা হয়। বাংলায় এর কোনো নাম নেই। তিনি বলেন, রাজশাহীতে মনিরুজ্জামান নতুন ধরনের ফসল ও ফলের চাষ করে থাকেন। এবার তিনি মেলন চাষ করেছেন। এতে তাঁর বেশ মুনাফা হয়েছে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ঢাকার ব্যবসায়ী উজ্জ্বল মুনির বলেন, দেশে এই ফল নতুন। আগে আমদানি করা এই ফল সুপারমার্কেটগুলোতে রাখা হতো। চার–পাঁচ বছর ধরে দেশেই এই ফলের চাষ হচ্ছে। এবার রাজশাহী থেকে মনিরুজ্জামান তাঁর আড়তে এই ফল পাঠাচ্ছেন। এগুলো আসলে তরমুজ। হলুদ রঙেরটাকে তাঁরা ‘হানিডু’ বলছেন। সাদা রঙেরটা ‘রক মেলন’ নামে পরিচিত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোদাগাড়ী কার্যালয় থেকে জানা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলের মধ্যে ‘হাই বারিন্ড’ অর্থাৎ উঁচু বরেন্দ্র নামে পরিচিত রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকা। প্রচণ্ড খরাপ্রবণ এই এলাকায় চাষিরা শুধু বৃষ্টিনির্ভর আমন ধানের চাষ করতেন। শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের আওতায় গোদাগাড়ীর কৃষকেরা এখন ধানের পাশাপাশি অন্যান্য ফল ও ফসলের আবাদ করছেন। এ এলাকায় এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত জমি খালি পড়ে থাকে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুর এলাকায় মনিরুজ্জামান জমি ইজারা নিয়ে এই অসময়ে নানা রকম নতুন জাতের ফসল ও ফলের চাষ করে থাকেন।

মনিরুজ্জামানের নিজের কোনো জমি নেই। ‘আনকমন’ ফসল চাষের বিষয়ে তাঁর খুব আগ্রহ। তিনি রাজশাহীতে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে বীজ আলু চাষ করেছেন। স্ট্রবেরি চাষ করেছেন। বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ করেছেন। প্রাকৃতিকভাবে গাছে পাকানো পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করছেন। দুই বছর ধরে তিনি ‘মেলন’ চাষ করেছেন। দুই বছর পর এবার তিনি সফল হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার চৈতন্যপুরে মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, আদিবাসী দিনমজুর চন্দনা রানী খেতের পরিচর্যা করছেন। তরমুজের গাছের মতোই লতানো গাছ বাঁশের কাঠি বেয়ে উঠে গেছে। ফল ধরে আছে মাটিতে। মনিরুজ্জামান বলেন, গত দুই বছর পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করতে গিয়ে তিনি ব্যর্থ হন। এবার সফল হয়েছেন। তাঁর ১২ কাঠা জমিতে প্রায় এক হাজার মেলন হয়েছে। প্রতিটি প্রায় দুই কেজি ওজনের হয়েছে। এবার তাঁর ভালো মুনাফা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি বীজতলায় এর চারা রোপণ করেছিলেন। ৭৫ দিনের মাথায় ফল উঠতে শুরু করেছে। এটি একটি লাভজনক ফসল হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের রাজ্যে লটকন চাষ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের হর্টিকালচার সেন্টারের আমবাগানের বড় বড় গাছের ফাঁকে আধো আলো আধো ছায়ায় স্যাঁতসেঁতে মাটিতে পাঁচ-ছয় বছরের ছোট ছোট কয়েকটি লটকনগাছে এখন ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল। আর এ ফল আমের বিশাল রাজ্যে সাথি ফসল হিসেবে লটকন চাষের সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের আম বাগানের মধ্যে একটি ছোট গাছে থোকায় থোকায় ধরে আছে লটকন। ছবি: প্রথম আলো
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের আম বাগানের মধ্যে একটি ছোট গাছে থোকায় থোকায় ধরে আছে লটকন। ছবি: প্রথম আলো

হর্টিকালচার সেন্টারের পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য ও সম্ভাবনা দেখে এবার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর সহায়তায় হর্টিকালচার সেন্টার লটকনের দুই হাজার কলমের চারা উৎপাদন করেছে। লটকনের সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এগুলো আগ্রহী কৃষকদের মধ্যে দেওয়া হবে।

হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক উদ্যানতত্ত্ববিদ সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর আমবাগানের অর্ধেকেও যদি গাছের ফাঁকে ফাঁকে লটকনের গাছ লাগানো যায়, তবে শতকোটি টাকার বেশি আয় হতে পারে। তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোট আমগাছের সংখ্যা ২৬ লাখ। এর অর্ধেক অর্থাৎ ১৩ লাখ গাছের মধ্যে চারটি গাছের ফাঁকে ফাঁকে লটকনগাছ লাগালে গাছের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ লাখ। এ ছাড়া জেলার প্রায় আড়াই লাখ কৃষক পরিবারের বসতবাড়িতেও একটি করে লটকনগাছ লাগানো সম্ভব। ১০–১২ বছরের একটি গাছে ৪০ কেজির মতো লটকনের ফলন হতে পারে। আর তিন-চার বছরের গাছেই ফলন দিতে শুরু করে।

সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমরা হিসেব করে দেখেছি, আমবাগানগুলোতে লটকনের চাষ করা গেলে বছরে ২০০ কোটি টাকার লটকন উৎপাদিত হতে পারে। আধো আলো আধো ছায়ায় স্যাঁতসেঁতে মাটিতেই লটকন ভালো ফলে। সেই হিসেবে আমবাগানে সাথি ফসল হিসেবে লটকন চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এ ছাড়া লটকনও পাকে জুন মাসে। আমের মৌসুমে আমবাগানগুলোতে যে শ্রমিকেরা নিয়োজিত থাকেন, তাঁদের দিয়েই লটকনের পরিচর্যা ও গাছ থেকে লটকন সংগ্রহের কাজ করানো যাবে। আলাদা শ্রমিক নিযুক্ত করতে হবে না। এতে করে লটকন থেকে অতিরিক্ত আয় হবে। কয়েক বছর ধরে যেভাবে আমচাষিদের দুর্দিন চলছে, তাতে হতাশ হয়ে অনেকেই বাগানের আমগাছ কেটে ফেলার চিন্তা করছেন। সে ক্ষেত্রে লটকন চাষ আমচাষিদের আমবাগানে আয় বৃদ্ধির জন্য একটি বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সাইফুর রহমান আরও বলেন, বিশ্বের ৬৭৫টি অপ্রচলিত ফলের মধ্যে লটকন অন্যতম। লটকন একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। লটকনের রস মিষ্টি ও শ্বাস সামান্য টক। এটি আর্থরাইটিস, ফোড়া ও চর্মরোগের জন্য দারুণ উপকারী। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও ভালো কাজ করে। দক্ষিণ এশিয়ার এ ফল ভারত ও মালয়েশিয়ায় প্রচুর উৎপাদিত হয়। দেশের মধ্যে নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ ও পঞ্চগড়ে লটকনের চাষ হয়। অথচ আমবাগানের মধ্যে সাথি ফসল হিসেবে এর উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও¡চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ ফলের চাষ হয় না। হর্টিকালচার সেন্টার থেকে লটকন চাষকে জনপ্রিয় করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

পাহাড়ের ফল চিনাল

বিক্রির জন্য চিনাল এনেছেন এই নারী। সম্প্রতি রাঙামাটি শহরের বনরূপা বাজারে
বিক্রির জন্য চিনাল এনেছেন এই নারী। সম্প্রতি রাঙামাটি শহরের বনরূপা বাজারে।

অনেকে বাঙ্গি ভেবে ভুল করতে পারেন। কিন্তু ফলটির নাম চিনাল।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের ঢালুতে এ ফলের আবাদ হয়। সুস্বাদু বলে চিনালের বেশ কদর রয়েছে।

চিনালকে পাহাড়িরা সম্প্রদায়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকে। চাকমারা চিন্দিরা, মারমারা সুগুসি ও ত্রিপুরা থাইচুমু নামে ডাকে। সমতলের মানুষ চেনে চিনাল নামে। এ ফলের চাষ হয় পাহাড়ের তিন জেলাতেই।

এখন চিনালের মৌসুম। জুমচাষিরা বিভিন্ন সড়কের ধারে, গ্রামের দোকান ও বাজারে বিক্রি করার জন্য এই ফল নিয়ে আসেন। বিক্রিও হয় বেশ। 

চিনাল কাঁচাও খাওয়া যায়। কাঁচা খেতে অনেকটা শসার মতো। তবে স্বাদ আলাদা। আর পাকা চিনাল লাল, সবুজ, কমলা ও হলুদ রঙের হয়। পাকা ফল বেশ সুগন্ধযুক্ত, খেতে হালকা মিষ্টি। সবজি ও সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়।

পাঁচ–ছয় প্রকার চিনাল রয়েছে। কোনোটি লম্বা, কোনোটি গোলাকার। একেকটি গাছে পাঁচ থেকে ছয়টি ফল হয়। একটি পাকা চিনালের ওজন আধা কেজি থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

বলা হয়ে থাকে, চিনালে চিনির পরিমাণ সহনীয় থাকায় ডায়াবেটিসে কোনো ক্ষতি হয় না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এপ্রিল বা মার্চ মাসের শুরুতে বৃষ্টি হলে জুমে গর্ত খুঁড়ে বীজ বপন করা হয়। ধান, তিল, ভুট্টা, মরিচ, শিম, বেগুনসহ অন্তত ২০ থেকে ৩০টি সবজির সঙ্গে মিশিয়ে চিনালের বীজ বপন করা হয়। ধান, বেগুন ও মরিচ গাছের নিচে চিনালের লতা মাটি বেয়ে ফল দেয়। বীজ বপনের তিন মাস পর ফুল ও ফল ধরে। আর পাঁচ মাস পর ফল পাকা শুরু করে।

বাঘাইছড়ি সাজেক ইউনিয়নে জুমচাষি কালাধন চাকমা ও শান্তিময় চাকমা চিনালের চাষ করেন। সম্প্রতি তাঁদের খেতে গেলে তাঁরা বলেন, জুমের চিনাল একসময় বিক্রি হতো না। এখন পাকা চিনালের চাহিদা বেশি, দামও বেশি। প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু পাহাড়ে বিভিন্ন হাটবাজারগুলোতে নয়, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারেরা নিয়ে যাচ্ছেন। এই দুই চাষি এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকার চিনাল বিক্রি করেছেন। আরও এক মাস পাকা চিনাল বিক্রি করা যাবে।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পবন কুমার চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, চিনাল মূলত জুমে মিশ্র সবজির সঙ্গে চাষ করা হয়। তবে এককভাবে চাষ ভালো হয় না। জুমচাষের ধান ও অন্যান্য সবজির সঙ্গে চিনালের ফলন ভালো হয়। তাঁর তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ৩৫ একর জমিতে সাত মেট্রিক টন চিনাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। চিনাল চাষে বাড়তি কোনো খরচ নেই।

এই কৃষি কর্মকর্তা জানান, আদিকাল থেকে চাষ হলেও চিনাল এখনো জাতীয় ফলের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কয়েক বছর ধরে ফলটি নিয়ে গবেষণা চলছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com