আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি

ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি
ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি

বেশিরভাগ ফল গাছই দেশের সব জায়গায় কম-বেশি জন্মে। কারণ দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানের আবহাওয়ার পার্থক্য খুব বেশি নয়। আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান এবং মাটির গুণাবলী ফল গাছের ফল ধারণ, বৃদ্ধি এবং সংরক্ষণের বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করে। আসুন জেনে নেই আবহাওয়া নির্ভর মাটির গুণাবলী সম্পর্কে—

গুণাবলী
সাধারণত উঁচু জমি ফল চাষের জন্য বেশি ভালো। দেশের বিভিন্ন স্থানের জমির গুণাবলীতেও অনেক পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও মাটি লালচে, কোথাও কালচে, কোথাও বালি বেশি, কোথাও কর্দমাক্ত। কোথাও লবণের ভাগ বেশি, কোথাও অম্লমান বেশি। কোথাও কম নিষ্কাশিত, কোথাও সু-নিষ্কাশিত। পানির স্তর কম-বেশি হয়।

ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি
ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি

ঋতুচক্র
ফল উৎপাদনের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার উপাদানগুলোর মধ্যে ঋতুচক্র একটি বিষয়। কারণ তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত ঋতুচক্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে ঋতুভেদে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

তাপমাত্রা
ফল গাছের বৃদ্ধি এবং ফল ধারণের জন্য তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। তাপমাত্রা কম-বেশি হলে ফল চাষে বিঘ্ন ঘটে। একই ফলের বিভিন্ন জাতের মধ্যেও তাপমাত্রার প্রয়োজন ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হতে পারে।

ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি
ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি

বৃষ্টিপাত
সব ফল গাছের বৃষ্টিপাতের চাহিদা এক নয়। বৃষ্টিপাত কম-বেশি অনেক ফল গাছের ক্ষতি করে। গাছে ফুল ফোটার সময় বেশি বৃষ্টি হলে পরাগ রেণু ও গর্ভমুণ্ডের আঠালো রস ধুয়ে যায়। ফুলে কীট-পতঙ্গের আনাগোনা কমে যায়। ফলে নিষেকক্রিয়া ব্যাহত হয়ে ফল উৎপাদন হ্রাস পায়।

আলো
গাছের বৃদ্ধি, ফল উত্পাদন এবং গুণগতমান অক্ষুণ্ন রাখতে আলো বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে বিভিন্ন ধরনের ফল গাছের জন্য আলোর চাহিদায় ভিন্নতা রয়েছে।

ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি
ফল গাছের জন্য মাটির গুণাবলি

আর্দ্রতা
ফলের আকার, আকৃতি, রং, গুণগতমান বাতাসের আর্দ্রতার ওপর নির্ভর করে। কিছু ফল শুষ্ক আবহাওয়ায় এবং কিছু ফল আর্দ্র আবহাওয়ায় ভালো জন্মে।

গতিবেগ
ফল চাষের জন্য বাতাসের গতিবেগ গুরুত্বপূর্ণ। গতিবেগ বাড়লে গাছ এবং মাটির রস দ্রুত নিঃশেষ হয়। এজন্য ঘন ঘন পানি সেচের প্রয়োজন হয়। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ে। তাছাড়া ঝড়ো বাতাসে ফল গাছের এবং ফলের অনেক ক্ষতি হয়।

পরিবেশ

পঙ্গপাল দমন না করে বিক্রি, আয় করছেন কৃষকরা!

পঙ্গপাল দমন না করে বিক্রি, আয় করছেন কৃষকরা!
পঙ্গপাল দমন না করে বিক্রি, আয় করছেন কৃষকরা!

তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল ছড়িয়ে পড়েছে ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে। যেহেতু করোনাভাইরাসের মাঝে পঙ্গপালের আক্রমণ খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে এ সংকটের মাঝেও নতুন একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছেন পাকিস্তানের কৃষকরা।

সামাটিভি‘র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পঙ্গপাল শুধু দমন করাই নয়, তা বিক্রি করে আয়েরও বড় উপায় হয়ে উঠেছে পাঞ্জাবের ওকারা জেলায়। ক্ষুদ্র এ পতঙ্গটি ব্যবহার করা হচ্ছে মুরগির উচ্চপ্রোটিন যুক্ত খাবার হিসেবে।

ওকারা জেলায় উদ্ভাবনী এ প্রকল্প এনেছেন পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ খুরশিদ ও পাকিস্তান কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের জৈবপ্রযুক্তিবিদ জোহর আলী।

এরপর প্রকল্পের একটি শ্লোগান দেন তারা, ‘পঙ্গপাল ধর, আয় কর এবং ফসল বাঁচাও’। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রতি কেজি পঙ্গপালের বিনিময়ে ২০ পাকিস্তানি রুপি করে দেয়া হয়।

খুরশিদ ও আলী মিলে পাকিস্তানের জনসংখ্যাবহুল প্রত্যন্ত গ্রাম ওকারা জেলাতে তিনদিনের পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেন। প্রকল্পটি ছিল দেপালপুরে পেপলি পাহার বনে। গত ফেব্রুয়ারি থেকেই সেখানে বিপুল সংখ্যক পরিপক্ক পঙ্গপাল আসতে থাকে। আর ওই বন নির্বাচন করার কারণ ওখানে পঙ্গপালের ওপর কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি।

এ ধারণার অন্যতম প্রবর্তক পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা খুরশিদ বলেন, পঙ্গপাল সাধারণত দিনের আলোতে উড়ে বেড়ায়। রাতে ওরা গাছপালায় বা উন্মুক্ত ময়দানে বিশ্রাম নেয়। তখন একদম নড়াচড়া করে না। মৃতের মতো পড়ে থাকে। ওই সময় পঙ্গপাল ধরা অনেক সহজ। আমরা কৃষকদের সেই বুদ্ধি দিলাম। তাতেই কাজ হলো। কৃষকরা প্রথম রাতেই ৭ টন পঙ্গপাল ধরেছে। আমরা সেগুলো পার্শ্ববর্তী মুরগির খাবার তৈরির কারখানায় বিক্রি করেছি। ওই রাতে কাজ করে কোনো কোনো কৃষক ২০ হাজার রুপিও আয় করে।

এ ব্যাপারে পাকিস্তান কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের জৈবপ্রযুক্তিবিদ আলী বলেন, আমরা যখন শুরু করলাম তখন অনেকেই উপহাস করেছে। কারণ পঙ্গপাল ধরে বিক্রি করবে এ চিন্তা তখন পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। প্রথম রাতে ১০ থেকে ১৫ জন কৃষক কাজ করে। কিন্তু লোভনীয় এ আয়ের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে তৃতীয় রাতে কয়েকশ কৃষক জড়ো হয়। তারা নিজেরাই থলে নিয়ে আসে এবং সারারাত পঙ্গপাল ধরে থলে ভর্তি করে ফেলে। আমরাও তাদের বিনিময় দিয়ে দিলাম।

খুরশিদ আরো জানান, ইয়েমেনের ২০১৯ সালের একটি উদাহরণ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তারা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষ কবলিত ওই দেশটিতে শ্লোগান উঠেছিলো, পঙ্গপাল খেয়ে ফেল, ওরা ফসল খাওয়ার আগে।

পাকিস্তানে মুরগির খাবার তৈরির প্রতিষ্ঠান হাই-টেক ফিডসের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আতাহার বলেন, কীটনাশক ব্যবহার ছাড়া পঙ্গপাল ধরা গেলে এটি অত্যন্ত উচ্চপ্রোটিন যুক্ত খাবারে পরিণত হয়। এ খাবার হাস-মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুকে খাওয়ানো যায়।

তিনি আরো জানান, প্রাণীর খাবার তৈরি করতে যে সয়াবিন আমদানি করা হয়, তাতে প্রোটিন ৪৫ শতাংশ, আর পঙ্গপালে আছে ৭০ শতাংশ। এছাড়া পঙ্গপালে খরচও পড়ে অনেক কম।

প্রকল্পের এ সাফল্যে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও সাময়িক স্থগিত রাখতে হয় করোনা মহামারির কারণে। লকডাউন শিথিল হলে প্রকল্পটি আবার শুরু করা হবে। গ্রামে কাজহীন বহুমানুষ আছে, তারা আয়ের জন্য এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মৌসুমি ফল অনলাইনে বিক্রি

মৌসুমি ফল অনলাইনে বিক্রি
মৌসুমি ফল অনলাইনে বিক্রি

কৃষকের বাগান ও খেতে পেকে ওঠা আম–লিচু ও তরমুজ যাতে নষ্ট না হয়, ফলগুলো যাতে দ্রুত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য বিপণনের নতুন এক কৌশল নিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ভোক্তা ও চাষিদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে প্রথমত হাটবাজারগুলোকে কাজে লাগানো হবে। সেই সঙ্গে এবার এ কাজে অনলাইন পণ্য বিপণনের প্ল্যাটফর্ম ও সুপারশপগুলোকে কাজে লাগানো হবে।

সম্মিলিত এ উদ্যোগ নিয়ে গতকাল শনিবার এক ব্যতিক্রমী সভার আয়োজন করে কৃষি মন্ত্রণালয়। সভায় সরকারের চারজন মন্ত্রী, ১৭ জন সাংসদ, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দেশের শীর্ষস্থানীয় ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানি, পরিবহনমালিক ও শ্রমিকনেতারা উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুমে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রত্যেকেই কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও তরুণদের উদ্যোগে তৈরি হওয়া পণ্য বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সভার শুরুতে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের শাকসবজি ও মৌসুমি ফলসহ কৃষিপণ্যের পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। বড় শহরের বাজারে ক্রেতার আগমন প্রায় না থাকায় ও জনগণের আয় কমে যাওয়ায় বাজারে কৃষিপণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষিপণ্যের বিপণন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পাঠাও, চালডালের মতো পণ্য বিপণন প্রতিষ্ঠান, স্বপ্ন ও আগোরার মতো সুপারশপগুলোকে কাজে লাগানো হবে।

সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রাকের জ্বালানির ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে, যাতে ট্রাকের ভাড়া কম হয়। পুলিশ ব্যারাক, সেনাবাহিনীর ব্যারাক, হাসপাতাল, জেলখানাসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে কৃষকের কাছ থেকে আম কিনে সরবরাহ করা গেলে আমের বাজারজাতকরণে কোনো সমস্যা হবে না বলেও মনে করেন তিনি।

আম–লিচু নিয়ে চাষি ও ভোক্তার মধ্যে সংযোগ ঘটাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।
পাঠাও, চালডাল, স্বপ্ন ও আগোরাকে কাজে লাগানো হবে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, বিদেশি ফল যেমন আপেল, আঙুর প্রভৃতি আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, গত কয়েক বছরে আমের ভালো দাম না পাওয়ায় রাজশাহীতে আম চাষ কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পরিচয়পত্র ইস্যু, তাঁদের যাতায়াতে হয়রানি কমানো, ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা বাড়াতে হবে।

সভায় জানানো হয়, এ বছর ১ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। লিচুর আবাদ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার হে

ক্টর জমিতে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ২ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থাপ্রধান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর ও সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, দেশের শাকসবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতি, সুপারশপ মালিক সমিতি, আম-লিচু চাষি, ব্যবসায়ী ও আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা সংযুক্ত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

‘বাঙ্গির গ্রামে’ ম-ম ঘ্রাণ

তখনো সূর্যের আলো ঠিকমতো ফোটেনি। কৃষকেরা ব্যস্ত জমি থেকে বাঙ্গি তুলতে। সকাল সাড়ে সাতটার আগে বাঙ্গিগুলো হাটে নিতে হবে। তা না হলে বাঙ্গিগুলো বিক্রি করার জন্য দিনভর অপেক্ষা করতে হবে।

এ অবস্থা ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের ভাঙ্গাভিটার। গত শনিবার ভোরে বাঙ্গির গ্রাম হিসেবে পরিচিত জায়গাটিতে গিয়ে দেখা যায়, সকালের হাট ধরতে কৃষকদের তোড়জোড়। খেত থেকে বাঙ্গি উঠিয়ে ভ্যানে রাখছেন। কৃষকেরা জানান, তাঁদের এলাকার বাঙ্গির সুনাম সারা দেশে রয়েছে। শুধু এই ফলকে কেন্দ্র করে এ মৌসুমে ভাঙ্গাভিটা ইছামতীর পাড়ে প্রতিদিন সকাল-বিকেল দুই বেলা বসে বাঙ্গির হাট।

গ্রামের ২০০ বিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ হয় বলে জানান কৃষকেরা। প্রায় ১৮০টি পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে এর ওপর। তাঁরা জানান, মূলত ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত বাঙ্গি চাষ হয়। বাকি সময় চলে আমন ধানের আবাদ।

সড়কপথে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় ইছামতী নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয় গ্রামটিতে। ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের পাশে মরিচা ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা নৌকা নিয়ে যাওয়া যায় ভাঙ্গাভিটার বাঙ্গির হাটে। নদীপথে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের পথ। সরেজমিনে দেখা যায়, বাঙ্গির ম-ম গন্ধ এলাকাজুড়ে। গাঁয়ের মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে গেলে বাঙ্গির ঘ্রাণ নাকে আসে। কৃষক মধুসূদন মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের এই এলাকার বাঙ্গি চাষ হয় কোনো ধরনের সারের ব্যবহার ছাড়া। এটা বাঙ্গির গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এই হাট থেকে বাঙ্গি রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় যায়।’

কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ন্যায্যমূল্য পান না বলে জানান মধুসূদন। বলেন, ‘এক ঝাঁকা বাঙ্গি (৩০টি) পাইকারদের কাছে নিয়ে আমরা বিক্রি করি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু এগুলো বাজারে গিয়ে প্রতিটি বিক্রি হতো ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। রাস্তাঘাট ভালো হলে আমরা সদরে নিয়ে বিক্রি করতে পারতাম। ন্যায্যমূল্যও পেতাম।’

বাঙ্গিচাষি বিনন্দ বদ্দি জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই জমিতে রোপণ করা হয় বাঙ্গিবীজ। একটি বাঙ্গি গাছ বড় হতে সময় লাগে চার-পাঁচ মাস। নিয়মিত পরিচর্যা করার পর ফাল্গুন মাসের প্রথম দিকে গাছে ফুল আসে এবং ফল ধরা শুরু হয়। চাষিরা পুরো চৈত্র মাস বাঙ্গি তুলতে পারেন। স্থানীয় কৃষক চিত্তরঞ্জন মণ্ডল জানান, তাঁর জমিতে বাঙ্গির ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় বেশির ভাগ বাঙ্গি পচে গেছে। ফলে লোকসান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে বাঙ্গি কিনতে আসা মো. শাহাজউদ্দিন বলেন, তিনি সাত-আট বছর ধরে ভাঙ্গাভিটা থেকে বাঙ্গি কিনে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন হাটে বিক্রি করেন। যোগাযোগব্যবস্থা খুবই খারাপ। তাই কোনো গাড়ি সেখানে যেতে পারে না। বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় গাড়ি আনতে হয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এ বছর বাঙ্গির ফলন ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, ভাঙ্গাভিটা এলাকায় বাঙ্গির ফলন বেশ ভালো হয়। ওই এলাকার প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে বাঙ্গির চাষ হয়। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় কৃষকেরা মূল্যটা ভালো পাচ্ছেন না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পাহাড়ে ফলছে রসাল চায়না থ্রি লিচু

হৃদয় জীবন চাকমা একসময় ধান চাষ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। এখন চায়না থ্রি লিচু চাষ করে তিনি স্বাবলম্বী। তাঁর বাগানের লিচু রসাল ও সুস্বাদু হওয়ায় বাগান থেকে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন। চলতি মৌসুমে শুধু চায়না থ্রি লিচু বিক্রি করে দুই লাখ টাকা আয় করছেন। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ১০ নম্বর এলাকায় হৃদয় জীবনের বাড়ি। শুধু হৃদয় জীবন চাকমা নন, সাজেক ইউনিয়নে কয়েক শ বাগানি চায়না থ্রি লিচু চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন।

হৃদয় জীবন চাকমা বলেন, এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করে কৃষক বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে লেগে যান তিনি। কিন্তু ধান চাষ করেও পরিবারের অভাব যায়নি। ২০১৩ সালে উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ১০ নম্বর এলাকায় চার একর জমিতে মিশ্র ফলদ বাগান করেন। বাগানে সাড়ে তিন শ চায়না থ্রি লিচু, ৫০টি আম্রপালি আম, ৪০টি করে লটকন, সফেদা, আমড়া ও বেলের চারা রোপণ করেছেন। এর মধ্যে গত বছর থেকে চায়না থ্রি লিচু ফল দেওয়া শুরু করে। প্রথম বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার লিচু বিক্রি হয়েছে। আর এ বছর এখন পর্যন্ত এক লাখ টাকার লিচু বিক্রি হয়েছে। বাগানে এখনো কমপক্ষে এক লাখ টাকার লিচু রয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফলন ভালো হওয়ায় চায়না থ্রি লিচু চাষে কৃষকেরা ঝুঁকছেন। রসাল এই লিচু ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে এখন আকারভেদে প্রতিটি লিচু দুই থেকে চার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে চায়না টু প্রতিটি লিচু এক থেকে দেড় টাকা, বোম্বে প্রতিটি এক টাকা এবং দেশি লিচু এক শ ২০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ে দেশি, বোম্বে, চায়না টু ও চায়না থ্রি লিচু চাষ হয়। এর মধ্যে চাহিদা ও ফলন ভালো হওয়ায় চায়না থ্রি লিচুর চাষ বেশি করা হচ্ছে। এ বছর জেলায় ৪ হাজার ৫৭৫ একর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় লিচু চাষ হয়েছে ৬০০ একর জায়গায়। জেলায় চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ৫৫৫ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ফলন ভালো হওয়া লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় জানিয়েছে।

বনরূপা বাজারের পাইকারি লিচু ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলাম ও বিপিন চন্দ্র প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রামের চায়না থ্রি লিচুর চাহিদা বেশি। একটি লিচু আকারভেদে তিন থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত করে বিক্রি করা যায়। দেশি, চায়না টু ও বোম্বে লিচু চাহিদা ও দাম কম। এখন আমরা চায়না থ্রি লিচু বেশি নিয়ে যাচ্ছি।’

বাঘাইছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভৃংক চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলা কয়েক শ লিচু বাগানি রয়েছেন। চাহিদা ও ফলন ভালো হওয়ায় চাষিরা এখন চায়না থ্রি লিচু চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, এ বছর লিচু ফলন ভালো হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। পাহাড়ে কয়েক জাতের লিচু চাষ হলেও বাজারে চায়না থ্রি লিচুর কদর বেশি। এখানে আবহাওয়া চায়না থ্রি লিচুর জন্য উপযোগী। তাই মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা চায়না থ্রি লিচু চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ফল এনেছে সুফল

ফল উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ১ নম্বরে। অথচ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন এ দেশের মানুষকে প্রধানত বনজঙ্গল থেকেই ফল সংগ্রহ করে খেতে হতো। সামন্ত সভ্যতার সময় জমিদার–জোতদারেরা আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফলের বাগান তৈরি করেছিলেন। সাধারণ কৃষকেরা বাড়ির আশপাশে, পুকুরপাড়ে ফলগাছ লাগিয়ে ফল উৎপাদনে সচেষ্ট থাকতেন। সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অনিবার্য পুষ্টি উপাদান হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফল খাওয়ার ব্যাপারে মোটেই সচেতন ছিলেন না। শহর বা গ্রামে বড় ফলের বাজারও তেমন ছিল না। শুধু হাসপাতালের আশপাশে রোগীর পথ্য হিসেবে ফলের দোকান দেখা যেত। অথচ এখন শহরগুলোতে, পাড়ায় পাড়ায়, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজারেও ফল বিপণনের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এতে প্রমাণিত হয়, ফল এখন আমাদের দৈনন্দিন খাবারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। চলতি বছর আমরা উৎপাদন করেছি সর্বোচ্চ পরিমাণ ফল—১ কোটি ২১ লাখ মেট্রিক টন।

কী করে এই বিস্ময়কর অগ্রগতি সাধিত হলো? এই প্রশ্নের জবাব হলো আমাদের সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত কর্মপ্রয়াস। আমাদের পরিশ্রমী কৃষক, নার্সারিমালিক, কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষি সম্প্রসারণকর্মী এবং সরকারের সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত চেষ্টার ফলে এসেছে এই অর্জন। আমাদের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ৩৪ প্রজাতির ফলের ৮১টি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জার্মপ্লাজম সেন্টার ২৫ প্রজাতির ফলের ৮৪টি উচ্চ ফলনশীল জাতসহ এসব ফলের দ্রুত প্রজনন ও চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এসব প্রযুক্তি কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসি এবং প্রায় ১২ হাজার নার্সারিমালিকের এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ফল উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে মৌলিক অবদান রেখেছে। বেশ কিছু বিদেশি ফল বাংলাদেশে সফলভাবে চাষ করার প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে ফল এখন বাংলাদেশের অন্যতম পুষ্টিসমৃদ্ধ বাণিজ্যিক কৃষিপণ্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com