আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

নিরাপদ দূরত্বে বসে ফল খাচ্ছে বানর!

নিরাপদ দূরত্বে বসে ফল খাচ্ছে বানর
নিরাপদ দূরত্বে বসে ফল খাচ্ছে বানর

করোনাভাইরাস রোধে এখনো চলছে লকডাউন। সাধারণ মানুষ এখনো গৃহবন্দি। সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা খুবই প্রয়োজন। যদিও অনেক ক্ষেত্রে লকডাউন ভঙ্গ করে মানুষ। অথচ বন্যপ্রাণি বানর মেনে চলছে সে নিয়ম। অবাক হলেও ঘটনা সত্য। সম্প্রতি এমন একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ছবিতে দেখা গেছে, নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখেই ফল খাচ্ছে বানরের দল। এক যুবক তরমুজ কেটে বানরের হাতে দিচ্ছেন। রাস্তাজুড়ে বসে আছে বানরের দলটি। তারা এক এক করে হাত বাড়িয়ে ফল নিচ্ছে। কোনো তাড়াহুড়া না করে দূরত্ব বজায় রেখেই খাবার খাচ্ছে।

অরূপ কালিতা নামে এক ব্যক্তি ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ভালুকপংয়ে ছবিটি তোলেন। ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই অবাক হয়ে লিখেছেন, ‘বানরেরা তো সামাজিক দূরত্ব সম্পর্কে কিছুই জানে না। তা সত্ত্বেও কীভাবে তা বজায় রাখছে তারা?’

যেখানে সাধারণ মানুষকে লকডাউন বোঝাতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনের। এতো কড়াকড়ির পরও মানুষ নিয়ম মানতে চায় না। অথচ বনের বানররা কিছু না জেনেও সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলছে। যা দেখে অবাক হওয়ারই কথা।

সুশীলরা মনে করেন, বনের এসব প্রাণির কাছ থেকে মানুষের শিক্ষা নেওয়া উচিত। বন্যপ্রাণির মধ্যে সবচেয়ে চঞ্চল বা দুষ্টু প্রকৃতির হওয়ার পরও তারা কীভাবে নিয়ম মানছে। তাই বলা যেতেই পারে, অবলা এ পশুদের কাছ থেকেও শিক্ষা নিতে পারি আমরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

ঘূর্ণিঝড় আম্পান: সাইক্লোনে বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত, কিন্তু বাংলাদেশে সংস্কারে সরকারি বরাদ্দের বাস্তবায়ন নেই

 প্লাবিত শ্যামনগরের জনপদ
প্লাবিত শ্যামনগরের জনপদ

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনা ভোলাসহ নয়টি জেলার কয়েকশ গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে।

এসব জেলার পাশ দিয়ে যে নদীগুলো বয়ে গেছে সেগুলোর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় মুহূর্তেই তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা।

অথচ প্রতিবছর বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং সংস্কার বাবদ বাজেটে মোটা অংকের বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় এলাকাবাসী এবং মাঠ পর্যায়ে যে কর্মীরা কাজ করেন তারা জানিয়েছেন, সেই বরাদ্দের কোন বাস্তবায়ন তারা দেখেননি।

যখন সরকারি কোন চুক্তি হয় তখন সেটার বরাদ্দকৃত অর্থ অনেকভাবেই ভাগাভাগি হয়ে যায় বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

বিদেশি দাতব্য সংস্থার কর্মকর্তা নাজমুন নাহার জানান, “বরাদ্দ অর্থগুলোর পুরোটা বাঁধ সংস্কার বাস্তবায়নে কাজে লাগে কিনা আমার সন্দেহ আছে। এমনও হয়েছে যে কাগজে কলমে দেখাচ্ছে যে কাজ হয়ে গেছে। আসলে কাজই হয় নাই।”

প্রকৌশলীরা কাজ হয়ে গেছে বলে রিপোর্ট জমা দিয়ে দিলেও সরেজমিনে দেখা গেছে সেই কাজের কোন অস্তিত্বই নেই, এমন অভিযোগ করেন মিসেস নাহার।

অথচ ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলার পরে এবারই সবচেয়ে প্রবল শক্তিতে উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান।

গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত

দীর্ঘ সময় ধরে ঝড় বয়ে যাওয়ায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় গ্রাম। দুমড়ে মুচড়ে গেছে কাঁচা ঘর, দোকানপাট, আধপাকা দালান।

উপড়ে পড়েছে গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি। এমন অবস্থায় গত দুইদিন ধরে সেখানকার বাসিন্দারা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।

স্থানীয়দের প্রায় কারও মোবাইলে চার্জ না থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় সাংবাদিক আহসানুর রহমান সাতক্ষীরার বিধ্বস্ত জনপদের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

তিনি বলেছেন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনা খালী গ্রামের চুনকুড়ি নদীর ২০০ ফুটের মতো বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। এ কারণে আশেপাশের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালী গ্রামের প্রায় ৩০০ ফুটের মতো বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়েছে। এরমধ্যে ২০০ ফুট এলাকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

ভাটা চলাকালীন, যখন পানির উচ্চতা অনেকখানি নেমে আসে, তখন স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধটি সংস্কার চেষ্টা করেন।

 ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি।
ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি।

কিন্তু জোয়ার এলেই এই বাঁধ টেকানো সম্ভব হবে কিনা সেটা নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মি. রহমান।

এছাড়া গাবুরা ইউনিয়নের চাদনিমুখা এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে আশেপাশের গ্রামগুলোয় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। স্থানীয় চেষ্টা করছেন বালিচাপা দিয়ে সেটি নিয়ন্ত্রণের।

জানা গেছে খোলপেটুয়া নদী, কপোতাক্ষ নদ এবং সীমান্ত ঘেঁষা ইছামতী নদীর ২৩টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে গিয়ে শুধুমাত্র সাতক্ষীরা জেলার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে।

লোনা পানিতে তলিয়ে গেছে মৎস্য ঘের, ফসলি জমি এবং সুপেয় পানির উৎস। একই অবস্থা পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, ভোলা, খুলনা, বাগেরহাটসহ আরও ৮ জেলা।

বাংলাদেশের উপকূলীয় সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বড় ধরণের ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত নয় জানিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় । বর্তমানে যে বাঁধগুলো রয়েছে সেগুলো নিয়মিত জোয়ার ভাটা প্রতিরোধে সক্ষম।

 ঘরবাড়ি হারিয়েছে অনেক মানুষ
ঘরবাড়ি হারিয়েছে অনেক মানুষ

বাঁধ সংস্কারে বরাদ্দ অপ্রতুল

প্রতি অর্থবছরের বাজেটে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার বাবদ যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় সেটা প্রয়োজনের দশ ভাগের এক ভাগ বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার।

তিনি বলেন, সরকার প্রতিবছর যে বরাদ্দ দেয় সেটা সামগ্রিক ১৭ হাজার কিলোমিটার বাঁধের উন্নয়নের জন্য দেয়া হয়।

অর্থাৎ সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ থেকে শুরু করে ৮০০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নদী তীরবর্তী বাঁধ এবং আড়াই হাজার কিলোমিটার হাওড় অঞ্চলের ডুবন্ত বাঁধ সংস্কারে সরকার এই অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। যা প্রয়োজন সাপেক্ষে অপ্রতুল বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশে উপকূলীয় বাঁধের পরিধি ৫,৭৫৭ কিলোমিটার। এরমধ্যে অন্তত পাঁচশ কিলোমিটার জুড়ে পাঁচ থেকে ছয় মিটার উঁচু বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মি. আনোয়ার যেন শক্তিশালী জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধ করা যায়।

এজন্য কক্সবাজার থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণে পাঁচটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছেন তিনি। যেগুলো এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এবং বাকি তিনটি বিদেশি দাতব্য সংস্থার আংশিক সহায়তার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে।

 উপড়ে গেছে গাছপালা
উপড়ে গেছে গাছপালা

পুরনো বাঁধ নষ্ট

প্রকল্প পাস হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ কাজ শুরু হতে পারে এবং সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

“গত ১০-১২ বছরে বাংলাদেশের উপকূলে বড় বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে, যা প্রতিবছর চলতে থাকবে। এজন্য আমাদের বড় উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যেটা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। এজন্য সময় লাগবে।”

পুরনো বাঁধগুলোর বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া এখানে প্রায় নয় হাজার অবকাঠামো রয়েছে যেমন: রেগুলেটর, স্লুইসগেট ইত্যাদি, যেগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন।

এগুলো এখনও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চলছে। যা অটোমেশন অর্থাৎ মটোরাইজড পদ্ধতিতে আনতে হবে। যার জন্য প্রয়োজন প্রচুর সময়, জনবল এবং বাজেটের।

এখন মূলত চলছে সংস্কার কাজ। আবার এই সংস্কার কাজে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সেটা আগের মতো নেই বলে জোর দাবি করেছেন মি. আনোয়ার।

তিনি বলেন, “গত বছর আমরা ৭০০টি মেরামত কাজ করেছি যার ৪০% উপকূলীয় অঞ্চলে। এবার সেই জায়গাগুলো ভাঙ্গে না। অন্য দুর্বল জায়গাগুলো ভেঙ্গেছে। এজন্য বাঁধের পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন।”

 আম্পান।
আম্পান।

‘দুর্নীতি ৮০ ভাগ কমে গেছে’

এছাড়া দুর্নীতি প্রতিহত করতে বিভিন্ন প্রযুক্তি যেমন: ওয়েবক্যাম, নজরদারি ক্যামেরা, লোকেশন ট্র্যাকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং এসব মনিটর করতে সরকারের ৪০টি টিম কাজ করছে বলে তিনি জানান।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে মি. আনোয়ার বলেন, “বরাদ্দ হয়েছে কিন্তু কাজ হয়নি, এটা এখন সম্ভব না। কারণ এই প্রকল্পগুলো যেন প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের কাগজে কলমে না থাকে সেজন্য প্রতিটি জিও ব্যাগ এখন সরকারের মনিটরিং টিম এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সামনে গুনে গুনে ফেলা হয়। আমি জোর গলায় বলতে পারে এখন দুর্নীতি ৮০ ভাগ কমে গেছে।”

সরকারের ডেল্টা পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে দেশের দুর্যোগ প্রবণ উপকূলীয় এলাকার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা।

কিন্তু প্রকল্প পরিকল্পনা, আবেদন, অনুমোদন সবশেষে বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বাধ সংস্কার প্রকল্পগুলো ফলপ্রসূ হচ্ছেনা বলে মনে করছেন উন্নয়নকর্মীরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বন্যার আঘাত বাংলাদেশে (২০১৯)

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

বুলবুল এর আঘাত বাংলাদেশে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

করোনা আম্ফান আর কালবৈশাখীতে দিশেহারা লিচুচাষিরা

 করোনা আম্ফান আর কালবৈশাখীতে দিশেহারা লিচুচাষিরা
করোনা আম্ফান আর কালবৈশাখীতে দিশেহারা লিচুচাষিরা

একের পর এক দুর্যোগে দিনাজপুরের লিচুচাষি ও ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। করোনার মাঝেই সুপার সাইক্লোন আম্ফান ও সর্বশেষ দফায় দফায় কালবৈশাখী ঝড়ে দিনাজপুরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন লিচুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। লিচুসহ নানা মৌসুমী ফল গাছ থেকে পাড়ার আগেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে গাছেই নষ্ট হয়েছে বেশি। ফলে ক্ষতির মুখে আম, কাঁঠাল, লিচু, ধান, পাট, ভুট্টা, শাকসবজি ও গ্রীষ্মকালীন তরিতরকারি চাষিরা। ফসল নষ্ট হওয়ায় সর্বশান্ত হওয়ার পথে দিনাজপুরের অধিকাংশ কৃষক।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল জানান, করোনা, আম্ফান আর দফায় দফায় কাল বৈশাখী ঝড়ে সাড়ে ৭ কোটি টাকা শুধু লিচুতেই ক্ষতি হয়েছে।

 করোনা আম্ফান আর কালবৈশাখীতে দিশেহারা লিচুচাষিরা
করোনা আম্ফান আর কালবৈশাখীতে দিশেহারা লিচুচাষিরা

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্যে জানা যায়, দিনাজপুরে এবার সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। আম্ফান আর দফায় দফায় কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় সাড়ে ৩শ হেক্টর জমির লিচু নষ্ট হয়েছে। দিনাজপুর সদর, বিরল ও চিরিরবন্দর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লিচুর ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য ফল ও ফসলের ক্ষতি নিরুপণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পঙ্গপাল দমন না করে বিক্রি, আয় করছেন কৃষকরা!

পঙ্গপাল দমন না করে বিক্রি, আয় করছেন কৃষকরা!
পঙ্গপাল দমন না করে বিক্রি, আয় করছেন কৃষকরা!

তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল ছড়িয়ে পড়েছে ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে। যেহেতু করোনাভাইরাসের মাঝে পঙ্গপালের আক্রমণ খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে এ সংকটের মাঝেও নতুন একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছেন পাকিস্তানের কৃষকরা।

সামাটিভি‘র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পঙ্গপাল শুধু দমন করাই নয়, তা বিক্রি করে আয়েরও বড় উপায় হয়ে উঠেছে পাঞ্জাবের ওকারা জেলায়। ক্ষুদ্র এ পতঙ্গটি ব্যবহার করা হচ্ছে মুরগির উচ্চপ্রোটিন যুক্ত খাবার হিসেবে।

ওকারা জেলায় উদ্ভাবনী এ প্রকল্প এনেছেন পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ খুরশিদ ও পাকিস্তান কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের জৈবপ্রযুক্তিবিদ জোহর আলী।

এরপর প্রকল্পের একটি শ্লোগান দেন তারা, ‘পঙ্গপাল ধর, আয় কর এবং ফসল বাঁচাও’। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রতি কেজি পঙ্গপালের বিনিময়ে ২০ পাকিস্তানি রুপি করে দেয়া হয়।

খুরশিদ ও আলী মিলে পাকিস্তানের জনসংখ্যাবহুল প্রত্যন্ত গ্রাম ওকারা জেলাতে তিনদিনের পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেন। প্রকল্পটি ছিল দেপালপুরে পেপলি পাহার বনে। গত ফেব্রুয়ারি থেকেই সেখানে বিপুল সংখ্যক পরিপক্ক পঙ্গপাল আসতে থাকে। আর ওই বন নির্বাচন করার কারণ ওখানে পঙ্গপালের ওপর কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি।

এ ধারণার অন্যতম প্রবর্তক পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা খুরশিদ বলেন, পঙ্গপাল সাধারণত দিনের আলোতে উড়ে বেড়ায়। রাতে ওরা গাছপালায় বা উন্মুক্ত ময়দানে বিশ্রাম নেয়। তখন একদম নড়াচড়া করে না। মৃতের মতো পড়ে থাকে। ওই সময় পঙ্গপাল ধরা অনেক সহজ। আমরা কৃষকদের সেই বুদ্ধি দিলাম। তাতেই কাজ হলো। কৃষকরা প্রথম রাতেই ৭ টন পঙ্গপাল ধরেছে। আমরা সেগুলো পার্শ্ববর্তী মুরগির খাবার তৈরির কারখানায় বিক্রি করেছি। ওই রাতে কাজ করে কোনো কোনো কৃষক ২০ হাজার রুপিও আয় করে।

এ ব্যাপারে পাকিস্তান কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের জৈবপ্রযুক্তিবিদ আলী বলেন, আমরা যখন শুরু করলাম তখন অনেকেই উপহাস করেছে। কারণ পঙ্গপাল ধরে বিক্রি করবে এ চিন্তা তখন পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। প্রথম রাতে ১০ থেকে ১৫ জন কৃষক কাজ করে। কিন্তু লোভনীয় এ আয়ের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে তৃতীয় রাতে কয়েকশ কৃষক জড়ো হয়। তারা নিজেরাই থলে নিয়ে আসে এবং সারারাত পঙ্গপাল ধরে থলে ভর্তি করে ফেলে। আমরাও তাদের বিনিময় দিয়ে দিলাম।

খুরশিদ আরো জানান, ইয়েমেনের ২০১৯ সালের একটি উদাহরণ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তারা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষ কবলিত ওই দেশটিতে শ্লোগান উঠেছিলো, পঙ্গপাল খেয়ে ফেল, ওরা ফসল খাওয়ার আগে।

পাকিস্তানে মুরগির খাবার তৈরির প্রতিষ্ঠান হাই-টেক ফিডসের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আতাহার বলেন, কীটনাশক ব্যবহার ছাড়া পঙ্গপাল ধরা গেলে এটি অত্যন্ত উচ্চপ্রোটিন যুক্ত খাবারে পরিণত হয়। এ খাবার হাস-মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুকে খাওয়ানো যায়।

তিনি আরো জানান, প্রাণীর খাবার তৈরি করতে যে সয়াবিন আমদানি করা হয়, তাতে প্রোটিন ৪৫ শতাংশ, আর পঙ্গপালে আছে ৭০ শতাংশ। এছাড়া পঙ্গপালে খরচও পড়ে অনেক কম।

প্রকল্পের এ সাফল্যে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও সাময়িক স্থগিত রাখতে হয় করোনা মহামারির কারণে। লকডাউন শিথিল হলে প্রকল্পটি আবার শুরু করা হবে। গ্রামে কাজহীন বহুমানুষ আছে, তারা আয়ের জন্য এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com