আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

ফলের রসের চেয়ে ফল বেশি স্বাস্থ্যকর

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সুষম খাবারের কোনো বিকল্প নেই। ভিটামিনস ও মিনারেলসের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পৃথিবীতে অনেক রকমের ফল পাওয়া যায়। তবে দেশভেদে ভিন্ন রকম ও স্বাদের ফল দেখা যায়। ভিটামিন সি ও পটাশিয়ামের সবচেয়ে ভালো উৎস এই ফল থেকে আরও অনেক রকম পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। ফলে শর্করা অনেক। তাই ক্যালরিও পাওয়া যায় ফল থেকে। শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো ছাড়াও আরও অনেক কাজ করে থাকে ফল। রান্না করে খাওয়ার প্রয়োজন হয় না, তাই ফল থেকে এর পুরো পুষ্টি পাওয়া যায়।

ফল দুভাবে আমরা খেয়ে থাকি—তাজা আস্ত ফল আর ফলের জুস। উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে ফলের জুস দুই রকম—বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি ফলের জুস ও ঘরে হাতে বানানো ফলের জুস। ফলের রসের চেয়ে ফল অনেক স্বাস্থ্যকর। সুস্থতা রক্ষায় সবাইকে ফলের জুস না খেয়ে ফল খেতে বলা হয়। এর মূল কারণ হলো, ফলের ফাইবার বা খাদ্য আঁশ। মূলত ফল আস্ত খেলে অনেক ফাইবার বা খাদ্য আঁশ পাওয়া যায়। কিন্তু ফল থেকে জুস করা হলে তার আঁশ অনেক নষ্ট হয়। এ ছাড়া ফলে ন্যাচারাল সুগার থাকে কিন্তু বেশির ভাগ জুস বানাতে পানি দেওয়া হয়, ফলে এর স্বাদ বজায় রাখার জন্য চিনি যুক্ত করায় এর পুষ্টিগুণ অনেক নষ্ট হয়।

ফলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে ফলের জুসের তুলনায়। অর্থাৎ, ফল খেলে ফলের ভেতরকার শর্করা ধীরে ধীরে ভাঙে, এতে রক্তে দ্রুত সুগার বৃদ্ধি পায় না। কিন্তু ফলের জুসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি থাকায়, জুস খাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে খুব দ্রুত এর সুগার শরীরে যায়। তাই ডায়াবেটিক রোগীর জন্য ফলের জুস স্বাস্থ্যকর নয়।

কমার্শিয়াল ফলের জুসের সংরক্ষণের জন্য প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যকর নয়। তবে ঘরে বানানো ফলের জুসে এই প্রিজারভেটিভ থাকে না। তাই ঘরে বানানো ফলের জুস কিছুটা হলেও বাণিজ্যিক ভাবে প্রস্তুত জুসের তুলনায় ভালো। যদিও আজকাল বড় কোম্পানিগুলো মানুষের স্বাস্থ্য বিবেচনায় অরগানিক ফলের জুস তৈরি করছে, কিন্তু তা ব্যয়বহুল।

ফল অবশ্যই সঠিক মাত্রায় খেতে হয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, রোগ ভেদে এর পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিমিত ফল সঠিক সময়ে খেতে হয়। মনের রাখবেন, অতিরিক্ত ফল খেলে তা থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত ক্যালরি ওজন বাড়িয়ে ফেলতে পারে। আবার ফল অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যায় অনেকের। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাই ফল পরিমিত বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো খেতে হয়। যেমন কিডনি রোগীরা সব ফল খেতে পারে না। ডায়াবেটিসের রোগীদের অতিরিক্ত মিষ্টি ফল মেপে খেতে হবে। যারা মোটা, তাদেরও ফল বুঝে পরিমিত পরিমাণে খেতে হয়। হার্টের রোগীর জন্য টক ও টক-মিষ্টি ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাতলা পায়খানা হলে পাকা কলা, আপেল ও নাশপাতি খুব ভালো।

আবার যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, তাদের জন্য পেঁপে, আম, বেল ভালো। রক্তের পটাশিয়াম কমে গেলে ডাবের পানি ও কলা ওষুধের কাজ করে। রক্তস্বল্পতায় বেদানা, কমলা, লাল আঙুর ভালো। ফলও প্রয়োজনে ওষুধের মতো কাজ করে। ফলের চেয়ে ফলের জুসের হেলথ বেনিফিট কম হলেও কিছু শারীরিক কন্ডিশনে ফলের চেয়ে ফলের জুস উপকারী, যেমন সার্জারির পর, গলায় অস্ত্রোপচার হলে বা গলানালিজনিত যেকোনো সমস্যায়। আবার ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি চলাকালীন অনেকের নিউট্রোফিল কাউন্ট কমে গেলে তাদের জন্য কাঁচা ফল বা ফলের জুস মানা করা হয়। তাদের বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত ফলের রস বা অরগানিক ফলের রস দিয়ে ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ করা হয়। বাচ্চারা নিতান্তই ফল খেতে না চাইলে তাদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ফলের জুস দেওয়া হয়।

সুস্থ থাকার জন্য ফলের পুষ্টি খুব জরুরি। তাই নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই মনে রাখা জরুরি।

১. ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন। ছোটবেলায় জুস দিলে বাচ্চা বড় হলে আর ফল খেতে চায় না।

২. একান্তই ফলের জুস খেতে হলে বাড়িতে বানানো ফলের জুসে প্রাধান্য দিন। ব্লেন্ডারে না করে হাতে কচলে বা ম্যানুয়ালি জুস বানানো হলে তাও কিছুটা উপকারী।

৩. ঘরে জুস বানালে কম পানি দিন, তাতে ফলের ন্যাচারাল স্বাদ বজায় থাকবে। আর পাল্পসহ জুস করুন অর্থাৎ না ছেঁকে, তাতে কিছুটা ফাইবার পাওয়া যাবে।

৪. ফলের জুস বানাতে চিনি বা মধু না দেওয়াই ভালো। তাতে ফলের ন্যাচারাল মিষ্টি বজায় থাকে। বাড়তি ক্যালরি যুক্ত হবে না।

৫. দেশি ও মৌসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ও নিরাপদ। মৌসুমি ফল খেলে পুষ্টি শরীরে কাজে লাগে।

৬. ডেসার্ট হিসেবে ফলের জুড়ি নেই। ফলের কাস্টার্ড, সালাদ, স্মুদি ও ফল নিজেই মিষ্টান্ন হিসেবে কাজ করে।

৭. ফল বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে খেতে হয়। ফলের খোসাসহ খেলে অনেক ফাইবার বা আঁশ পাওয়া যাবে; যা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

নানা রঙের ফল আমাদের নানা রকম পুষ্টির জোগান দেয়। তাই সুস্থ থাকতে ফলের কোনো জুড়ি নেই। রোজ ফল খান ও সুস্থ থাকুন।

দৈনন্দিন

হারিয়ে যাচ্ছে দেশি চাঁদিঠোঁট পাখি

পাখিটির নাম ‘দেশি চাঁদিঠোঁট’। এর ইংরেজি নাম ‘ইন্ডিয়ান সিলভারবিল (Indian Silverbill)’। বৈজ্ঞানিক নাম ‘লঙ্কুরা মালাবারিকা’ (Lonchura malabarica)। এরা ‘ছোট মুনিয়া’ নামেও পরিচিত।

এরা চড়ুই আকৃতির পাখি। তাই অনেকেই চড়ুই ভেবে থাকেন। বসবাসের জন্য এরা নিরাপদ জায়গা পছন্দ করে। মানুষের সমাগম দেখলে পালিয়ে যায়। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে একসময় এ পাখি প্রচুর দেখা যেত।

তবে কাশবন, ছোট গুল্ম ও ঝোপঝাড় কমে যাওয়ায় দেশি চাঁদিঠোঁট বা মুনিয়া পাখি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকা থেকে।

এরা ধূসর ঠোঁট ও কালো লেজের পাখি। দেহের দৈর্ঘ্য ১০ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১২ গ্রাম। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির সাদা কোমর, দেহের পেছনের অংশ, ডানাসহ পিঠ ফিকে ও মেটে বাদামি।

লম্বা সুচালো লেজ কালো। দেহতল সাদাটে। ঠোঁট ত্রিকোণাকার ও ধূসরাভ। পা, পায়ের পাতা ও নখর ধূসরাভ-পাটল রঙের। ছেলে ও মেয়ে পাখির চেহারা অভিন্ন।

কাশবন, বালুময় শণবন, নদীতীরের আবাদি জমি ও কাঁটা ঝোপে এরা বিচরণ করে। ভারতীয় উপমহাদেশ, মধ্যপ্রাচ্যে এদের দেখতে পাওয়া যায়। প্রকৃতিগতভাবে এরা মুনিয়ার সমগোত্রীয়।

এ পাখি সচরাচর দলে থাকে। ভূমিতে, ঘাসবনে ও মেঠোপথে লাফিয়ে লাফিয়ে খাবার খোঁজে। খাদ্যতালিকায় রয়েছে বীজ ও ছোট পোকা। এরা কোনো কোনো সময় বাবুই পাখির পরিত্যক্ত বাসায় রাত কাটায়। প্রজনন সময় জুলাই থেকে ডিসেম্বর।

কাঁটা ঝোপের দুই-তিন মিটার উঁচুতে ঘাস, পাতা, পালক, পশম ও তুলা দিয়ে বলের মতো বাসা বানায় এবং ডিম পাড়ে। ডিমের রং সাদা, সংখ্যায় চার থেকে আটটি। ছেলে ও মেয়ে পাখি দুজনই ডিমে তা দেয় এবং ছানা পালন করে।

নওগাঁ সদর উপজেলার পার-নওগাঁ এলাকার এক ধানক্ষেত থেকে ছবিগুলো তুলেছেন ফটোগ্রাফার শামীনূর রহমান। তবে খুব বেশি একটা দেখা যায় না এদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

পদ্মায় ধরা পড়া ঘড়িয়াল এল বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে

রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীতে ধরা পড়া ঘড়িয়ালটিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আনা হয়েছে। বুধবার রাত সোয়া ৯টায় সাফারি পার্কে ঘড়িয়ালটি অবমুক্ত করা হয়। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আস সাদিক ঘড়িয়ালটিকে সাফারি পার্কে নিয়ে আসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের শাহাপাড়া গ্রামে পদ্মা নদীতে এক জেলের জালে ঘড়িয়ালটি ধরা পড়ে। জেলে বাদশা মিয়া এটিকে হাবাসপুর বাজারে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি গ্রুপে ঘড়িয়ালের ছবিটি প্রকাশ হয়। এ তথ্য পেয়ে বন সংরক্ষক (বন্য প্রাণী) মিহীর কুমার দো বিষয়টি বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের নজরে আনেন।
পরে আবদুল্লাহ আস সাদিক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল আলীমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চেয়ারম্যানকে প্রাণীটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে নিরাপত্তা দিতে বলেন। চেয়ারম্যান ঘড়িয়ালটিকে সামাজিক বন বিভাগ ফরিদপুরের কাছে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা করেন। বুধবার বেলা ২টায় প্রাণীটি বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় প্রাণীটিকে গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হয়।

বন বিভাগের সরীসৃপবিদ সোহেল রানা জানান, এটি পুরুষ ঘড়িয়াল। বয়স হতে পারে ১ বছর। দৈর্ঘ্য ৪ ফুট ২ ইঞ্চি। ওজন ১৫ কেজির মতো হবে।


সাফারি পার্কের ওয়াইল্ডলাইফ সুপারভাইজার মো. আনিসুর রহমান বলেন, এটিকে আনার পর পার্কের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ম মেনে অবমুক্ত করা হয়েছে। ঘড়িয়াল সারা পৃথিবীতেই মহা বিপদাপন্ন। বাংলাদেশের মিঠা পানিতে একসময় হরহামেশাই ঘড়িয়াল দেখা যেত। কিন্তু এখন একদমই কমে গেছে।


বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে জলচর এ ঘড়িয়াল অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির হয়। এরা দৈর্ঘ্যে ৪ থেকে ৭ মিটার হয়। বাংলাদেশে একসময় বিভিন্ন নদীতে ঘড়িয়াল দেখা যেত। বিশেষ করে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও এর শাখা-প্রশাখায় এদের দেখা মিলত। এদের দেখা যেত পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে। ঘড়িয়াল নদীর পাড়ে গর্ত খুঁড়ে সেখানে ডিম পাড়ে। ডিম পেড়ে তা মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়। এরপর সেগুলো থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর বাচ্চা বের হয়।


সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পার্কে আগে থেকেই ছয়টি ঘড়িয়াল আছে। এর মধ্যে একটি স্ত্রী। বাকি সব পুরুষ। আজ আরও একটি নতুন পুরুষ ঘড়িয়াল যোগ হয়েছে। বর্তমানে সাফারি পার্কে ঘড়িয়ালের সংখ্যা হলো সাতটি। তিনি বলেন, উদ্ধার করে আনা ঘড়িয়ালটি বিশেষ তত্ত্বাবধানে থাকবে। এটি কিছুটা শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের প্রধান খাবার হরিণের মাংস। কালেভদ্রে এরা শূকরও খেয়ে থাকে, এত দিন এটাই ছিল প্রতিষ্ঠিত ধারণা। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাঘের খাদ্যতালিকায় হরিণ, শূকরের পাশাপাশি গুইসাপ, কাঁকড়া ও মাছও রয়েছে।

সুন্দরবনের বাঘের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষক দলটি বাঘের মল ছাড়া হাড়গোড়ও পরীক্ষা করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপকের করা গবেষণার এ ফলাফল চলতি মাসের শুরুতে জার্মানির এনডেঞ্জারড স্পেসিস রিসার্চ নামের একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অংশে বাঘের খাবারের ৫০ শতাংশ হরিণের মাংস থেকে এবং বাকি ৫০ শতাংশ শূকরের মাংস থেকে আসে। আর খুলনা-বাগেরহাট অংশে বিচরণকারী বাঘ খাবারের ৭০ শতাংশ মেটে হরিণ থেকে। আর বাকি ৩০ শতাংশ আসে শূকর ও অন্যান্য প্রাণী থেকে। সামগ্রিকভাবে বাঘের খাবারের ৮৯ শতাংশ আসে হরিণ ও শূকর থেকে। গবেষকেরা বলছেন, বাঘ যদি মাছ ও কাঁকড়া খায়, তাহলে বুঝতে হবে সুন্দরবনে খাদ্যসংকট চলছে।

২০১৯ সালে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা নিয়ে একটি জরিপ করেন। এতে দেখা যায়, বনের আয়তন অনুযায়ী সেখানে ২৬৪টি বাঘ থাকতে পারে। তবে বাঘ আছে ১১৪টি

সুন্দরবনের প্রায় দুই হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা থেকে বাঘের ৫১২টি মলের নমুনা পরীক্ষা করে এ গবেষণা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জিম গ্রুমব্রিজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম যৌথভাবে গবেষণাটি করেছেন। যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে এসব মল পরীক্ষা করে মূলত সুন্দরবনের বাঘ কী ধরনের খাবার খায়, তা বোঝার চেষ্টা করেছেন গবেষকেরা।বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক আবদুল আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে বাঘের প্রধান খাবার সাধারণত বুনো মহিষ, সাম্বার, চিত্রা হরিণের মতো বড় প্রাণী। কিন্তু আমাদের সুন্দরবনে এ ধরনের বড় প্রাণী নেই। ফলে এখানে বাঘ বাধ্য হয়ে হরিণ ও শূকর খেয়ে থাকে। তবে বাঘ যে মাছ ও কাঁকড়া খায়, তা দেখে আমরা অবাক হয়েছি। কারণ, চরিত্র ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী বাঘের মাছ ও গুইসাপের মতো জলজ প্রাণী খাওয়ার কথা না।’

আবদুল আজিজ বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশের বাঘ সাধারণত এ ধরনের প্রাণী খায় না। কিন্তু আমাদের সুন্দরবনে তারা তা খাচ্ছে। বাঘ যে ধরনের প্রাণী, তাতে তার জন্য খাদ্য হিসেবে প্রচুর পরিমাণে মাংসল প্রাণীর দরকার।’ তাঁর ভাষ্য, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়ানো যাবে, যদি হরিণ সংরক্ষণের উদ্যোগ বাড়ানো হয়। সুন্দরবনের বাঘ খাদ্য হিসেবে বানরও খেয়ে থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অধ্যাপক আবদুল আজিজ ২০১৯ সালে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা নিয়ে একটি জরিপ করেন। এতে দেখা যায়, বনের আয়তন অনুযায়ী সেখানে ২৬৪টি বাঘ থাকতে পারে। তবে বাঘ আছে ১১৪টি। অর্থাৎ বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানো সম্ভব। সে ক্ষেত্রে হরিণের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।

বাঘের খাদ্যসংকটের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সুন্দরবনের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের খাবারের কোনো সংকট নেই। তবে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো সম্ভব। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই হরিণের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সে জন্য আমরা কাজ করছি।’

এত দিন ধারণা ছিল সুন্দরবনের বাঘ মায়া হরিণ খায় না। কিন্তু চাঁদপাই, হরিণটানাসহ বিভিন্ন স্থানের মল পরীক্ষা করে বাঘের মায়া হরিণ খাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি বাঘের পেটে প্রচুর পরিমাণে মাটিও পাওয়া গেছে। জলজ প্রাণী খেতে গিয়ে এসব মাটি বাঘের পেটে যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

অনিশ্চিত জীবন, উপকূল ছাড়ছে মানুষ

বারবার দুর্যোগে জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বসতবাড়ি হারানো মানুষ এলাকা ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছে শহরে।

পড়ন্ত বিকেলে সুন্দরবনের কাছে শাকবাড়িয়া নদীর তীরে একা বসে ছিলেন প্রমীলা মণ্ডল। দৃষ্টি নিজের পুরোনো বসতভিটার দিকে, যেটি ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পানিতে তলিয়ে যায়।

৪৫ বছর বয়সী এই নারী জানান, তাঁর জীবনেই বহুবার নিজেদের ঘর ভাঙতে দেখেছেন। কয়বার—সেটি সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারলেন না। গত মে মাসে আম্পানের পর বসতবাড়ি হারিয়ে একটি ঘেরের পাশে ঘর তুলে বাস করছে তাঁর পরিবার। আবার ঝড় এলে সেটিও থাকবে কি না, সেই শঙ্কা উঠে এল তাঁর কথায়।

প্রমীলা খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আংটিহারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি যে বাঁধটির ওপর বসে ছিলেন, সেটি নতুন করে তৈরি। ৩০০ গজের মতো দূরে আরেকটি বাঁধ ছিল, সেটির ধারেই ছিল তাঁদের বাড়ি। সেখানে এখনো বসতভিটার কিছু চিহ্ন রয়ে গেছে, যা ভাটার সময় দেখা যায়।বিজ্ঞাপন

উপকূলবাসীর এলাকা ছাড়ার প্রধান কারণ বসবাসের অনিশ্চয়তা। টেকসই বাঁধ হলে মানুষ অন্তত নিজের ভিটায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে। সেই নিশ্চয়তা পেলে এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে।

আইনুন নিশাত, ইমেরিটাস অধ্যাপক, ব্র্যাকবিশ্ববিদ্যালয়

দেড় দশকে ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, মহাসেন এবং সর্বশেষ আম্পানের আঘাতে প্রমীলাদের মতো উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত হয়েছে। একসময়ের সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলো জমি ও সম্পদ হারিয়ে দরিদ্র হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা ও বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকার অন্তত ১০টি ইউনিয়নের ৩০টির বেশি গ্রাম ঘুরে দেখা যায় মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র। জনপদে ঘোরার সময় প্রায় সবার মুখেই শোনা গেল এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা। স্থানীয়রা আরও জানান, দুর্যোগে টিকতে না পেরে অনেকে এলাকা ছেড়েছেন। অনেকে ছাড়ার পথে রয়েছেন।

প্রমীলা মণ্ডলের সঙ্গে আলাপ হয় গত ২৮ সেপ্টেম্বর। তিনি যে বাঁধটির ওপর বসে ছিলেন, তার পাশেই গোলপাতা আর বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট কুঁড়েঘর। কিছু কিছু আবার পাকা। দেখেই বোঝা যায় ঘরগুলো নতুন। সেগুলো আম্পানের আঘাতের পর তৈরি হয়েছে। মিঠাপানির কারণে আংটিহারা গ্রামের চারপাশে গাছপালা ভরে থাকায় এলাকায় প্রকৃতির রুক্ষতা নেই। তবে ভিন্ন চিত্র আশপাশের অনেক গ্রামে। লবণাক্ততার কারণে ওই গ্রামগুলোর মানুষকে খাওয়ার পানির জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়।

এলাকাবাসী জানান, নদীর পানিতে লবণ বেশি, তাই এলাকায় ধান বা অন্য ফসল খুব একটা হয় না। মাছের ঘের বেশি। কিন্তু সেখানে কর্মসংস্থান হয় খুব কম মানুষেরই। বেশির ভাগ মানুষের প্রধান জীবিকা সারা দিন কোমরপানিতে ডুবে রেণুপোনা সংগ্রহ, মাছ ও কাঁকড়া ধরা।

দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুর রহমান বলেন, ইউনিয়নটির তিন দিক ঘিরে রয়েছে সুন্দরবন। তাই যেকোনো ছোট-বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবার আগে আছড়ে পড়ে ওই ইউনিয়নে। তিনি বলেন, দক্ষিণ বেদকাশীতে মোট সাড়ে ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। আইলার সময় বাঁধ ভেঙে চার বছরের বেশি সময় পানিবন্দী থাকতে হয়েছে মানুষকে। তখন মাত্র ১০ শতাংশের মতো ঘরবাড়ি টিকে ছিল। তিনি আরও বলেন, আইলার পর আড়াই হাজারের মতো পরিবারকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে।বিজ্ঞাপন

জোয়ারে জীবন

কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাঠমারচর, কাশিরহাটখোলাসহ অন্তত চারটি গ্রামে মানুষের জীবন জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল। গ্রামগুলোর সঙ্গে সড়কপথের যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। জোয়ারের সময় পানি বাড়লে নৌকা নিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। নদীর পানি বাড়ার আগেই রান্না ও প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কাজ সারতে হয়।

প্রতাপনগর বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি পাকা সড়ক সাতক্ষীরা সদরের দিকে চলে গেছে। একটি জায়গায় (কালভার্ট এলাকা) সড়কটি ভেঙে নদীর পানি প্রবেশ করছে। চলাচলের একমাত্র উপায় ট্রলার বা নৌকা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, জোয়ার-ভাটা আসা-যাওয়া করায় ভাঙা বাঁধ এলাকায় গভীর খালের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেরামত করা সম্ভব নয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্ত প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ভূমিরূপ একেবারেই নতুন। পানিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মাটির কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে আঁকড়ে ধরে রাখার ক্ষমতা হারাচ্ছে, অর্থাৎ ঝুরঝুরে হয়ে যাচ্ছে। ফলে ভাঙন বাড়ছে, বাঁধগুলো টিকছে না। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অবাধ জোয়ার-ভাটার (টিআরএম) মাধ্যমে ভূমি উঁচু করার সুপারিশ করেন তিনি।বিজ্ঞাপন

আইলায় বাঁধ ভেঙে চার বছরের বেশি সময় পানিবন্দী থাকতে হয়েছে মানুষকে। আইলার পর আড়াই হাজারের মতো পরিবারকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে।

শামসুর রহমান, চেয়ারম্যান, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদ

ভালো নেই এলাকাছাড়া মানুষেরা

ঘূর্ণিঝড় আইলার পর বসতবাড়ি হারানো দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়সিং গ্রামের বাসিন্দা মো. হামিদ এক বছর বাঁধের ওপর টংঘর করে বসবাস করেন। এরপর পরিবার নিয়ে খুলনায় চলে যান। বর্তমানে খুলনা শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন। হামিদ রিকশা চালান। স্ত্রী অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। তিনি বলেন, ওই সময় কয়রা থেকে অনেক পরিবার খুলনায় চলে আসে। তাঁদের বেশির ভাগই রিকশা চালান ও দিনমজুরি করেন।

দাকোপের কালাবগি গ্রামের ফকিরের কোনাপাড়ার শেষ মাথায় বসবাস করেন আবুল হোসেন গাজী ও তাঁর বড় ভাই আবু বক্কর গাজী। তাঁদের মা-বাবা বেঁচে নেই। তবে দাদি ও এক প্রতিবন্ধী চাচা তাঁদের সঙ্গে থাকেন। দুই ভাই যেখানে বাস করেন, সেটি মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ। ওই দ্বীপের এক পাশে শিবসা ও অন্য পাশে সুতারখালী নদী। অন্য দুই পাশে সুন্দরবন। তাঁদের চলাচলের একমাত্র উপায় নৌকা। যদিও আম্পানের আগে এমনটি ছিল না। আম্পানের তাণ্ডবে হঠাৎ করেই বিচ্ছিন্ন হয় গেছে সেটি।

নৌকা নিয়ে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ঘরসহ ছোট উঠানের চারপাশে জোয়ারের পানি থইথই করছে। নদীতে ছোট একটি নৌকা। উঠানে শুকাতে দেওয়া হয়েছে মাছ ধরার জাল। শৌচাগার বলতে যা বোঝায়, তা হলো উঠান থেকে কিছুটা দূরে নদীর মধ্যে ঝুলন্ত একটি গোলপাতার ঘর। সেখানে যেতে বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। উঠানের এক কোনায় কয়েকটি বড় বড় প্লাস্টিকের ড্রামে খাওয়ার পানি রাখা।

আবুল হোসেনের দাদি কুলসুম বেগমের বয়স প্রায় ৮০ বছর। তিনি বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগেও ওই এলাকায় তাঁদের ১২ বিঘা জমি ছিল। চিংড়ি চাষ ও নদীতে মাছ ধরে খুব ভালোভাবেই সংসার চলে যেত তাঁদের। একসময় ভাঙন শুরু হলো। এখন কোনোরকমে মাথা গোঁজার জন্য ২০ হাতের মতো জমি ৫ হাজার টাকায় কিনে বসবাস করছেন।

ওই এলাকার মানুষের সুপেয় পানির একমাত্র উৎস বৃষ্টি। বাড়িতে বাড়িতে প্লাস্টিকের ড্রাম থাকে। সেখানে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা হয়। ফুরিয়ে গেলে অন্য জায়গা থেকে পানি কিনে আনতে হয় তাঁদের। চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যায় না। দ্রুতগতির একমাত্র বাহন ট্রলার। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ওই এলাকার একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও নদীতে বিলীন হওয়ার পথে। ভেঙে পড়ছে মসজিদও।বিজ্ঞাপন

বন্দরের জনপদেও ভাঙনের থাবা

খুলনার কয়রা ও দাকোপ হয়ে এবার রওনা হলাম উপকূলের আরেক জেলা বাগেরহাটের দিকে। সেখানকার মোংলা উপজেলায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দরটি রয়েছে। ওই জনপদের চিলা ইউনিয়নের চিলাবাজারের একটি অংশ পশুর নদে বিলীন হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়ও ভাঙনের মুখে রয়েছে। অনেকে নদের তীরে কোনোরকমে ঘর করে বসবাস করছেন। আবার অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, গত ২০ বছরে কালাবগি গ্রামের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা নদে বিলীন হয়েছে। গুনারী গ্রামের কিছু অংশ শিবসা নদীতে চলে গেছে। এ ছাড়া কয়রা, শ্যামনগর, আশাশুনি মোংলা এলাকার বাঁধ ভেঙেছে ৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মতো। নদীবেষ্টিত অন্যান্য এলাকায়ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

কাজের খোঁজে মানুষ

কয়রা থেকে খুব সহজে মহারাজপুর হয়ে দশাহালিয়া খেয়াঘাট পার হয়ে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় যাওয়া যায়। ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, চারজন মানুষ খেয়া পার হওয়ার জন্য অপেক্ষারত। তাঁদের একজন বাবুল গাজীর (২৩) হাতে একটি মাটি কাটার কোদাল। বাড়ি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের নাকলা গ্রামে। কয়েক দিন আগে কাজের সন্ধানে খুলনায় গিয়েছিলেন। না পেয়ে আবার বাড়ি ফিরেছেন।

বাবুল গাজী বলেন, ‘খুলনায় এখন দিনমজুরের কাজ অনেক কমে গেছে। কয়েক দিন অপেক্ষা করেও কোনো কাজ না পাওয়ায় ফিরে আসতে হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সাগরে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া। এখন মাছ ধরার দলের সঙ্গী হওয়ার চিন্তায় আছি।’

এলাকায় কর্মসংস্থান না থাকায় ইটভাটায় কাজ করতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় কয়রার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে। বেশির ভাগ কিশোর ও যুবক প্রতিবছরই ইটভাটায় কাজ করতে যান। এমনকি অনেকেই পরিবার নিয়ে চলে যান ইটভাটায়। অনেকে আগেই সরদারের কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে সংসার চালান।বিজ্ঞাপন

‘দরকার টেকসই বাঁধ’

উপকূলের মানুষের বেঁচে থাকার সমাধান খুঁজতে গিয়ে যে বিষয়টি সবার আগে উঠে এসেছে তা হলো টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ। ওই সব এলাকার লোকজন বলছেন, তাঁরা জন্মগতভাবেই প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করতে শিখেছেন। এ কারণে বড় ঝড়বৃষ্টি তাঁদের দমিয়ে রাখতে পারে না। কিন্তু নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে তাঁরা মনোবল হারিয়ে ফেলেন। কারণ, এটি তাঁদের সর্বস্বান্ত করে দেয়, এটি মোকাবিলার শক্তিও তাঁদের নেই।

নদী বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত মনে করেন, উপকূলবাসীর এলাকা ছাড়ার প্রধান কারণ বসবাসের অনিশ্চয়তা। টেকসই বাঁধ হলে মানুষ অন্তত নিজের ভিটায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে। সেই নিশ্চয়তা পেলে এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। আর উপকূল ঘিরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

৪ নদীতে ৩০ হাজার টন প্লাস্টিক

ওয়েস্ট কনসার্ন-এর জরিপের তথ্য। মানুষের ব্যবহার করা মাস্ক ও গ্লাভসের ৯২ শতাংশ খাল-বিল-নালা হয়ে নদীতে পড়ছে।

শিল্পকারখানা আর শহরের পয়োনিষ্কাশনের সব বর্জ্য নিয়ে ফেলা হচ্ছে নদীতে। বুড়িগঙ্গা–কর্ণফুলীর মতো একসময়ের টলটলে পানির নদীগুলো এ কারণে এখন মারাত্মক দূষণের শিকার। দেশের অন্য নদীগুলোরও দূষণের চিত্র প্রায় একই। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা এর চেয়েও ভয়াবহ বিপদের কথা উঠে এসেছে। আর তা হচ্ছে প্লাস্টিকের দূষণ। শুধু রাজধানীর চারপাশের চারটি নদীতে ৩০ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া গেছে। এর অর্ধেকই রয়েছে বুড়িগঙ্গায়।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা ওয়েস্ট কনসার্ন–এর এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে ২০১৮ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপির হিসাবে বুড়িগঙ্গা বিশ্বের অন্যতম দূষিত নদীর তালিকায় নাম লিখিয়েছিল। আর ২০২০ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যানুসারে, প্লাস্টিক দূষণের দিক থেকে গঙ্গা, পদ্মা, যমুনা যৌথভাবে বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত অববাহিকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।

এ ব্যাপারে ওয়েস্ট কনসার্নের নির্বাহী পরিচালক মাকসুদ সিনহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর মতো দেশের অন্য বড় শহরের নদীগুলোয়ও প্লাস্টিকের দূষণ তীব্র হয়েছে। আমরা ওই চার নদীর জরিপ করতে গিয়ে দেখেছি, সেখানে প্লাস্টিকসহ অন্য ময়লা ফেলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এই নদীগুলোকে ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে।’

করোনাকালে প্লাস্টিক দূষণ বাড়ছে

করোনাভাইরাসের মহামারির এ সময় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের বায়ুও আগের চেয়ে নির্মল হয়েছে। কার্বন নিঃসরণ ৪ শতাংশ কমেছে। প্রকৃতিতেও ফিরেছে নানা বৈচিত্র্য। কিন্তু এর মধ্যেও হতাশার চিত্র নিয়ে এসেছে নদীতে প্লাস্টিক দূষণ। করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মানুষের ব্যবহার করা মাস্ক ও গ্লাভসের ৯২ শতাংশ খাল–বিল–নালা হয়ে নদীতে পড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, সামগ্রিকভাবে প্লাস্টিক দূষণের দিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা, পদ্মা ও যমুনা নদী বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিলের গত আগস্টের হিসাবে, বিশ্বে গত এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে ১২ হাজার ৯০০ কোটি মাস্ক ও ৬ হাজার ৬০০ গ্লাভস নদী হয়ে সাগরে পড়ছে। এর আগে বিশ্বে বছরে ৮০ কোটি টন প্লাস্টিক নদী হয়ে সাগরে জমা হতো, যা বছরে ১০ লাখ সামুদ্রিক পাখি ও ১ লাখ মাছের মৃত্যু ডেকে আনে।

বঙ্গোপসাগরে ৩০০ ধরনের প্লাস্টিক

পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে করা ‘উৎস থেকে সাগরে’ শীর্ষক চলমান এক গবেষণায় আরও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবিষয়ক নারী বিজ্ঞানীদের নিয়ে গড়ে ওঠা ওই দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পদ্মা থেকে ৩০০ ধরনের প্লাস্টিক পণ্য বঙ্গোপসাগরে পড়ছে। কোমল পানীয়র বোতল থেকে শুরু করে থালা, প্রসাধনসামগ্রীর মোড়ক এবং নিত্যব্যবহার্য থালা ও জগ—সবই ছিল ওই তালিকায়। ব্যবহার করার পর তা বিভিন্ন জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। গবেষণাটি কয়েকটি ধাপে করা হচ্ছে। এর মধ্যে গত বছর দুটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

অধিক জনসংখ্যা আর অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশের মানুষ প্লাস্টিকের ব্যবহার বেশি করে। ফলে একই সঙ্গে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে সস্তা পরিবেশবান্ধব পণ্য উদ্ভাবন করতে হবে।

গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধূরী, সহকারী অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তা সংগ্রহ করে নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে। যেসব দেশ প্লাস্টিক তৈরি করছে, তাদেরও এই দূষণের দায় নিতে হবে। ফলে সব মিলিয়ে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি। আর পলিথিনের কারখানা ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযানও চালাচ্ছি।’

গত জুনে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপি ‘বিশ্বের প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিস্থিতি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, প্রতিদিন প্রায় ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে। পরিমাণের দিক থেকে এটি বিশ্বে পঞ্চম। এই বর্জ্যের উৎস গঙ্গা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা হয়ে এগুলো সাগরে যায়।

বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডিও) ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জলে-স্থলে বর্তমানে ৬৫ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়েছে। প্রতিদিন এর সঙ্গে ৩ হাজার টন করে যোগ হচ্ছে। সংস্থাটি দেশের পরিবেশের জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি হিসেবে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যাগকে চিহ্নিত করেছে। তারা বলছে, দেশে যেখানে জৈব বর্জ্য বৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ, সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধির হার সাড়ে ৭ শতাংশ। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক জেনেও দেশের ৬১ শতাংশ মানুষ পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করছে।

জানতে চাইলে ‘উৎস থেকে সাগরে’ শীর্ষক গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, অধিক জনসংখ্যা আর অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশের মানুষ প্লাস্টিকের ব্যবহার বেশি করে। ফলে একই সঙ্গে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে সস্তা পরিবেশবান্ধব পণ্য উদ্ভাবন করতে হবে। যাঁরা প্লাস্টিকের ব্যবহার করছেন, তাঁদের সচেতন করতে হবে। যাতে তাঁরা যত্রতত্র প্লাস্টিকসামগ্রী না ফেলে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com