আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

ফলের বিশ্বে সফল বাংলাদেশ

  • অন্যতম পুষ্টিকর ফল কাঁঠালকে বলা হয় মাংসের বিকল্প
  • ফল থেকে আসা পুষ্টির চাহিদার বড় অংশের জোগান দেয় আম
  • মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ

আয়তনে বিশ্বের অন্যতম ছোট দেশ বাংলাদেশ ফল উৎপাদনে সফলতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এ মুহূর্তে বিশ্বে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হারের রেকর্ড বাংলাদেশের। আর মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ।

২০ বছর আগে আম আর কাঁঠাল ছিল এই দেশের প্রধান ফল। এখন বাংলাদেশে ৭২ প্রজাতির ফলের চাষ হচ্ছে। আগে হতো ৫৬ প্রজাতির ফল চাষ।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে, ১৮ বছর ধরে বাংলাদেশে সাড়ে ১১ শতাংশ হারে ফল উৎপাদন বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চারটি ফলের মোট উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয়, আমে সপ্তম ও পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে আছে বাংলাদেশ। আর মৌসুমি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে দশম। আম, কাঁঠালের বাইরে মৌসুমি ফলের মধ্যে আছে জাম, লিচু, কুল, কামরাঙা, পেঁপে, বেল, লেবু, আনারস, আতা, সফেদা, লটকন, তরমুজ, ফুটি ইত্যাদি। 

আয়তনে বিশ্বে ৯৪তম; কিন্তু জনসংখ্যায় অষ্টম বাংলাদেশ। সবচেয়ে কম জমি, আর বেশি মানুষের এই দেশ ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নিত্যনতুন ফল চাষের দিক থেকেও বাংলাদেশ সফলতা পেয়েছে। এত কম আয়তনের দেশ হয়েও ফল চাষে জমি বৃদ্ধির দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। বছরে ১০ শতাংশ হারে ফল চাষের জমি বাড়ছে।

শুধু ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির দিক থেকে নয়, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু ফল খাওয়ার পরিমাণও গত এক যুগে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের মানুষ দিনে ৫৫ গ্রাম করে ফল খেত। চলতি বছর তা ৮৫ গ্রামে উঠে এসেছে। একসময় দেশে কাঁঠাল ও আম ছিল প্রধান ফল। এখন অন্তত ২২ প্রজাতির ফল বাংলাদেশের মানুষ নিয়মিত খায়।

গত ১০ বছরে দেশে আমের উৎপাদন দ্বিগুণ, পেয়ারা দ্বিগুণের বেশি, পেঁপে আড়াই গুণ এবং লিচু উৎপাদন ৫০ শতাংশ বেড়েছে। চার-পাঁচ বছরের মধ্যে নতুন ফল ড্রাগন ও অ্যাভোকাডো এবং দেশি ফল বাতাবিলেবু, তরমুজ, খরমুজ, লটকন, আমড়া ও আমলকীর মতো পুষ্টিকর ফলের উৎপাদনও ব্যাপক হারে বাড়ছে। এসব ফলের প্রায় পুরোটাই দেশে বিক্রি হচ্ছে।

 জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সাত্তার মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ফল চাষে বাংলাদেশে রীতিমতো একটি বিপ্লব ঘটে গেছে। গত ১০ বছরে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও সড়কের পাশে ফলের গাছ রোপণের প্রবণতা বেড়েছে। বাংলাদেশ যে খাদ্যনিরাপত্তায় বিশ্বের অন্যতম সফল দেশ হয়েছে এবং বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে তিন বছরে ছয় ধাপ এগিয়েছে; তার পেছনে ধান, সবজি ও মাছের পাশাপাশি ফলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে জানান তিনি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এক যুগ আগেও দেশে ৫৬ প্রজাতির ফলের চাষ হতো। বর্তমানে ৭২ প্রজাতির ফল চাষ হচ্ছে। আরও ১২ প্রজাতির ফল বাংলাদেশের চাষ উপযোগী করার জন্য গবেষণা চলছে। এর মধ্যে চার প্রজাতির ফল ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মাটিতে সফলভাবে চাষ হয়েছে।

নতুন করে চাষ শুরু হওয়া ফলের মধ্যে ড্রাগন ফলের ২৩টি আলাদা প্রজাতি, খেজুরের ১৬টি, নারকেলের ২টি প্রজাতি, কাঁঠালের ১টি, আমের ৩টি নতুন প্রজাতি চাষের প্রাথমিক সফলতা পাওয়া গেছে। আগামী দু–এক বছরের মধ্যে তা কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মেহেদী মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশের সীমিত জমিতে আরও বেশি ফল উৎপাদনের জন্য আমরা উন্নত জাতের ফলের চারা উৎপাদনকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ১১টি জাতের প্রায় ৩০ প্রজাতির ফলের চারা উৎপাদনের জন্য গবেষণা চলছে। এগুলো অবমুক্ত করলে আমরা খুব দ্রুত ফলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারব বলে আশা করি।’

 কোন ফলে বাংলাদেশ কী অবস্থানে

কাঁঠাল

২০১৬ সালে বিশ্বের ফল উৎপাদনের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এফএও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে তারা বলেছে, অন্যতম পুষ্টিকর ফল কাঁঠালকে বলা হয় মাংসের বিকল্প। সারা বিশ্বে বছরে ৩৭ লাখ টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। সবচেয়ে বেশি কাঁঠাল হয় ভারতে, ১৮ লাখ টন। দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ, ১০ লাখ টন। পুষ্টিমানের দিক থেকে অন্যতম সেরা এই ফলের আমদানি খুব দ্রুত হারে বাড়াচ্ছে চীন। তারা মূলত উৎপাদনে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে কাঁঠাল আমদানি করে। জাপান, মালয়েশিয়ার মতো পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো কাঁঠাল আমদানির দিকে ঝুঁকছে।

এই দেশগুলোর বাংলাদেশ ও ভারত থেকে কাঁঠাল আমদানি না করার অন্যতম কারণ হচ্ছে, এই দুই দেশের কাঁঠালে আঠা থাকে। আর এখানকার কাঁঠালে একধরনের বুনো গন্ধ থাকে, যা পূর্ব এশিয়ার মানুষের পছন্দ নয়।

তবে শীতকালীন কাঁঠালে এ ধরনের গন্ধ ও আঠা কম থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি রাঙামাটিতে একটি শীতকালীন কাঁঠালের জাত খুঁজে পেয়েছেন। এই জাত থেকে চারা উৎপাদনের জন্য গবেষণাও শুরু করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফল চাষ প্রকল্প থাইল্যান্ড থেকে আঠাবিহীন কাঁঠালের চারা আমদানি করেছে। বর্তমানে তা দেশের উপযোগী করার গবেষণা চলছে। আগামী দু–এক বছরের মধ্যে তা কৃষক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে ফল বিশেষজ্ঞ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফল প্রকল্পের পরামর্শক এম কামারুজ্জামান বললেন, ‘আঠাবিহীন কাঁঠালের চাহিদা বিশ্ববাজারে দিন দিন বাড়ছে। আমাদের দেশের মধ্যবিত্তদের মধ্যে আঠালো হওয়ার কারণে কাঁঠাল খাওয়া নিয়ে একধরনের নেতিবাচক মানসিকতা তৈরি হয়েছে। আঠাবিহীন ও সুগন্ধি কাঁঠালের চাষ বাড়লে অত্যন্ত পুষ্টিকর এই খাবার দেশের সব শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পাবে।’

 আম

এফএওর হিসাবে, গত ১৮ বছরে বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হারে আমের চাষ বেড়েছে। বছরে ১৬ শতাংশ হারে আমের উৎপাদন বাড়ায় এর মাথাপিছু ভোগের পরিমাণ ১০ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। ১০ বছর আগে বিশ্বের আম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দশম। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে উঠে এসেছে। দেশের ফল থেকে আসা পুষ্টির চাহিদার বড় অংশের জোগান দেয় আম।

আম ছিল শুধু বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ফল। বর্তমানে ৩০ জেলায় আমের চাষ হচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালে দেশে প্রায় ২৪ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। ১০ বছর আগে যা ছিল ১২ লাখ ৫৫ হাজার টন। তবে কাঁঠালের মতো আমও বাংলাদেশে মৌসুমি ফল হিসেবে চাষ হচ্ছে। সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থাইল্যান্ড থেকে বারো মাসের আমের জাত আমদানি করেছে। বাংলাদেশের উপযোগী করে এই জাতের চারা পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে।

তবে আমের ক্ষেত্রে দেশে একটি পরিবর্তন ঘটে গেছে। একসময় শুধু রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে হিমসাগর, গোপালভোগ, ল্যাংড়া ও ফজলি আমের ওপর দেশের চাষিরা নির্ভরশীল ছিলেন। এক যুগ আগে আম্রপালি আমের উদ্ভাবন আম চাষের সব ভৌগোলিক বাধা যেন গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেশের মোট উৎপাদিত আমের ৪০ শতাংশ এই জাতের। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে আম্রপালির চাষ ব্যাপক হারে বেড়েছে।

 পেয়ারা

এফএওর হিসাবে, পেয়ারা উৎপাদনে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। এই অর্জন হয়েছে গত ১০ বছরে। ২০০৭-০৮ সালে দেশে পেয়ারা হয়েছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার টন। চলতি অর্থবছরে তা প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার টনে উন্নীত হয়। একসময় শুধু দেশি পেয়ারার চাষ হতো। এক যুগ আগে আসে কাজি পেয়ারা। বিদেশি জাতের সঙ্গে মিশ্রণে উদ্ভাবিত ওই জাতের চাষ বেড়ে যাওয়ার পর থাইল্যান্ড থেকে বেশ কয়েকটি জাত আসে। গত ছয় বছরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টার থেকে উদ্ভাবিত হয়েছে ১০ প্রজাতির পেয়ারা, যার মধ্যে সাত প্রজাতির পেয়ারা থাইল্যান্ড থেকে আসা।

একসময় পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে সবচেয়ে বেশি পেয়ারা হতো। বর্তমানে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশির ভাগ জেলায় পেয়ারার চাষ হয়। দেশের মোট উৎপাদিত পেয়ারার ৭০ শতাংশই এখন থাই জাতের পেয়ারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বিচি ছাড়া পেয়ারার বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা করছেন। দেশের সাতটি কোম্পানি বর্তমানে পেয়ারার জুস তৈরির জন্য প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ থেকে পেয়ারা ও পেয়ারার জুস রপ্তানিও হচ্ছে।

 নতুন ফলে নতুন আশা

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে চলতি বছর ১ কোটি ২১ লাখ টন ফল উৎপাদিত হয়েছে। ১০ বছর আগের তুলনায় উৎপাদন ১৮ লাখ টন বেড়েছে। চাষের জমির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি জমিতে চাষ হচ্ছে কলা। তারপর যথাক্রমে আম, পেঁপে ও কাঁঠাল। সবচেয়ে দ্রুত হারে বাড়ছে পেয়ারা ও লিচুর আবাদ।

এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম পুষ্টিকর ফল ড্রাগন ফ্রুট, অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, স্ট্রবেরি, ডুমুর, মাল্টা, বেল, নারকেল, জাম্বুরা, রংগন, সূর্য ডিম ও খেজুরের বেশ কয়েকটি জাতের চাষও দেশে দ্রুত বাড়ছে।

এগ্রোবিজ

বাজারে আলু খুঁজছে প্রশাসন

আড়ত থেকে খুচরা বাজার—কুষ্টিয়ার বাজারে আলু পাওয়া যেন কঠিন হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে আলুর সংকট। হিমাগারে আলু থাকলেও সেখানে দাম বেশি। তাই আড়তদারেরা সেখান থেকে কিনছেন না। আবার আড়তে না থাকায় খুচরা বাজারেও মিলছে না হঠাৎ করে দামি পণ্যে পরিণত হওয়া এই সবজি।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারে অন্তত ১১টি সবজি আড়তে আলু কেনাবেচা হয়ে থাকে। গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে আড়তে দুই ট্রাক আলু নিয়ে এসেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা সরিয়ে ফেলা হয়। কিছু আলু থাকলেও সেগুলোও সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়নি। এ নিয়ে বিপাকে পড়েন খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতারা। সোমবার সকালে সবগুলো আড়ত মিলে মাত্র ৩০০ বস্তা আলু ছিল। এক ঘণ্টার মধ্যে সেগুলো কেজিপ্রতি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে যায়। এই আড়তে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ টন আলুর চাহিদা। আলুর বাজারে এমন অবস্থা আর কত দিন চলবে, তা বলতে পারছেন না কেউ।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কদিন ধরে আলুর দাম বেড়েছে সেটা জানা আছে। কিন্তু আজই জানতে পারলাম আলুর সংকট। আলু কোথায় আছে, খুঁজে বের করা হচ্ছে। প্রয়োজনে টিসিবির মাধ্যমে আলু বিক্রি করা হবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।’

এদিকে সকাল থেকে আলুর সন্ধানে মাঠে নামে প্রশাসনের একটি দল। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী রকিবুল হাসান ও জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম। তাঁরা কুষ্টিয়া পৌর বাজারের আড়ত, খুচরা বিক্রেতা, বড় বাজার ও কুষ্টিয়া বিআইডিসি হাট ঘুরে দেখেন।

তাঁরা দুজনেই বলেন, আড়তগুলো ফাঁকা। কোথাও কোনো আলু নেই। আলুর সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। যদি জেলার কোথাও মজুতের সন্ধান পাওয়া যায়, সেখানে অভিযান চালানো হবে।

হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলু সরবরাহ ছিল। কিন্তু রোববার হঠাৎ করে আলুর সরবরাহ কমে যায়। সোমবার আলুশূন্য হয়ে পড়েছে আড়তগুলো।

রবিউল ইসলাম, বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা

সোমবার সকাল ৯টায় পৌর বাজারে গিয়ে আড়তদার, খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়। খুচরা বিক্রেতারা জানান, আলুর দাম চড়া। জরিমানা দেওয়ার ভয়ে আলু কেনাবেচা বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁরা। পৌর বাজারের নূর ভান্ডার, সোহাগ ভান্ডার, রুপালী ভান্ডার, মিলন ভান্ডার, মোল্লা ভান্ডার গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো আলু নেই।

জানতে চাইলে আড়তে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, হিমাগারে দাম বেশি থাকায় সেখান থেকে কোনো আলু কিনছেন না ব্যবসায়ীরা। এ জন্য আড়তেও আলু নেই।

খুচরাতে ৩০, পাইকারিতে ২৫ ও হিমাগার থেকে ২৩ টাকা প্রতি কেজি আলুর দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। কুষ্টিয়া পৌর বাজারে গত শনিবার থেকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজার তদারকি করে সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি করার হুঁশিয়ারি দেন। এরপর থেকেই আড়তে আলু আসা বন্ধ হয়ে যায়।

বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলু সরবরাহ ছিল। কিন্তু রোববার হঠাৎ করে আলুর সরবরাহ কমে যায়। সোমবার আলুশূন্য হয়ে পড়েছে আড়তগুলো। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী রকিবুল হাসান বলেন, শনিবার দুটি ট্রাকে ব্যবসায়ীরা আলু নিয়ে উত্তরবঙ্গে ফেরত গেছেন। তাঁরা এখানে আসার পর বেশি দামে আড়তদারেরা আলু কিনতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা চলে যান। তাঁদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আড়ত থেকে সরে গেল আলু!

সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দরে বিক্রি না করতে কুষ্টিয়া পৌর বাজারের আড়ত থেকে আলু সরিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিছু আলু থাকলেও সেগুলোও সরকারনির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়নি। এতে খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন।

আজ রোববার এখানকার খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি আলু বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা দরে। কাঁচা মরিচ, বেগুন, ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজিও ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি করা হয়। এতে ক্রেতাদের মাথায় হাত পড়েছে।

হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলুর সরবরাহ ছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ করে আলু সরবরাহ কমে যায়। কেন এটা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রবিউল ইসলাম, বাজার তদারক কর্মকর্তা

গত বুধবার তিন পর্যায়ে আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কেজিপ্রতি খুচরায় ৩০, পাইকারিতে ২৫ ও হিমাগারে ২৩ টাকা করে আলু বিক্রি করতে বলা হয়। এরপর গত শনিবার কুষ্টিয়া পৌর বাজারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজার তদারকি করেন। তিনি সরকারনির্ধারিত দামে আলু বিক্রির কড়া হুঁশিয়ারি দেন। আজ সকাল থেকে সেটা বাস্তবায়নের কথা।

আজ সকাল নয়টায় পৌর বাজারে গিয়ে আড়তদার, খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়। জানা গেল, প্রতিদিন এ বাজারে অন্তত ৩০ টন আলু কেনাবেচা হয়। সেখানে আজ মাত্র ৫ টন আলু রয়েছে। সেগুলো ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

বাজারের নূর ভান্ডারে গিয়ে দেখা যায়, আড়তে কোনো আলু নেই। সেখানে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, হিমাগারে দাম বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা আলু আনছেন না। হিমাগারেই ৩১ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। সরকার যদি বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) থেকে আলু সরবরাহ করে, তাহলে ভালো হয়।বিজ্ঞাপন

আড়তে দাম কমাচ্ছে না। তাই কাল থেকে আলু বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তবু জরিমানা দিতে রাজি না।

ইনসান আলী, আলুর খুচরা বিক্রেতা

খুচরা বিক্রেতারা জানান, গতকাল সকালে ম্যাজিস্ট্রেট কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর বিকেলে আড়ত থেকে তিনটি ট্রাকে করে আলু সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর যে পরিমাণ আলু রয়ে যায়, সেগুলো আড়তে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। খুচরা বিক্রেতারা সেই আলু ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, অনেক আড়তদার বিক্রি করা আলুর মেমো দিতে রাজি হননি। এ জন্য খুচরা বিক্রেতারা অনেকে আলু কেনেননি। অনেকে জরিমানার ভয়ে আলু বিক্রি করেননি।

খুচরা বিক্রেতা ইনসান আলী বলেন, আড়তে দাম কমাচ্ছে না। তাই কাল থেকে আলু বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তবু জরিমানা দিতে রাজি না।

জানতে চাইলে বাজার তদারক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, হাটবাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলুর সরবরাহ ছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ করে আলু সরবরাহ কমে যায়। কেন এটা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

১০ হাজার টাকা খরচে মাল্টা চাষে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা

কয়েক বছর আগেও লাভজনক মাল্টার আবাদ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। এখন সে শঙ্কা কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তারা। কম জায়গায় এবং অল্প পুঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় মাল্টার বাণিজ্যিক আবাদের দিকে ঝুঁকছে বেকার যুবকরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় এ বছর ৬৩ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। আগামীতে মাল্টা চাষের পরিধি বাড়াতে তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক সেলিম উদ্দিন ও জাকির হোসেন নামে দুই যুবক দুই বছর আগে দুই বিঘা জমিতে শুরু করেছিলেন মাল্টার আবাদ।

এ বছর প্রথম ফল এসেছে তাদের গাছে। এ বাগানের বিক্রির উপযোগী ফলের মান ভালো রাখতে নিচ্ছেন বাড়তি পরিচর্যা। এখন পর্যন্ত বাগানে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ফল বিক্রিতে লাভের আশা করছেন কয়েকগুণ। ইতিমধ্যে তারা এ বাগান থেকে লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রিও করেছেন। এসব বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক কৃষক পেয়ারার সাথে মিশ্র পদ্ধতিতে মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বাগান দেখতে আসা সাহেব আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, গ্রামে বিদেশি ফল মালটার আবাদ করেছে দুই যুবক- এটা জানতে পেরে আমি বাগানটি দেখতে এসেছি। এসে দেখি খুবই সুন্দর ফল ধরেছে। একটি ফল খেয়ে দেখেছি বাজারে যে ফল পাওয়া যায় তার থেকে অনেক বেশি সুস্বাদু।

মাল্টা চাষি জাকির হোসেন জানান, মাল্টা একটা বিদেশি ফল। আমাদের দেশের ফলের মার্কেট ভালো এবং মাল্টা চাষ অনেক লাভবান। আমার বাগানে প্রথম ফল এসেছে, ফল ইতিমধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়েছে। অনেক পাইকার ফল কেনার জন্য যোগাযোগ করছেন। ৮০ থেকে ৯০ টাকা করে তারা বলছেন। কিন্তু আমি চাচ্ছি আরেকটু বেশি।

মাল্টা চাষি সেলিম উদ্দিন জানান, আমরা দুজন মিলে দুই বছর আগে মাল্টা বাগান করেছি। এ বছর প্রথম ফল এসেছে। ফলের মান অনেক ভালো। এখন বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত। কিছুদিন পরই এগুলো বিক্রি করার উপযুক্ত হবে। তিনি জানান, অন্যান্য ফলের তুলনায় একটা মাল্টা বাগানের খরচ খুবই কম। যেমন আপনি এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা খরচ করেন সেখানে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করতে পারেন।

এসব বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় অনেক চাষিই মিশ্র পদ্ধতিতে এ চাষ শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে মসলেম হোসেন জানান, গ্রামের পাশের দুটি ছেলে মাল্টা বাগান করেছে। পাশাপাশি তারা চারা বিক্রির জন্য নার্সারি গড়ে তুলেছে। আমি তাদের কাছ থেকে কিছু চারা কিনে আমার পেয়ারা বাগানের সাথে মিশ্র চাষ শুরু করেছি।

আরেক মাল্টা চাষি রেজুয়ান বলেন, আমি ডিগ্রি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। চাকরি না পেয়ে গ্রামের জাকির ও সেলিম ভাইয়ের কাছ থেকে ৫০ টাকা দরে মাল্টার চারা কিনে ৮ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, বেলে দো-আঁশ মাটিসমৃদ্ধ এলাকায় বারি মাল্টা-১ চাষ সম্প্রসারণে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এটি অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি মাল্টা চারা রোপণ করে একটানা ২০ বছর ফল সংগ্রহ করা যায়।

প্রতিটা গাছ থেকে প্রথম বছর ১০ থেকে ২০ কেজি হারে ফল পাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় বছর থেকে গড়ে এক মণের বেশি ফল সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত চারা রোপণের দুই বছর পর গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

নওগাঁয় করলা চাষে সফল জলিল

এক সময় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন আব্দুল জলিল। পরিবার পরিজন ছেড়ে ঢাকায় থাকতে হতো। একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর গ্রামের বাড়িতে আসতেন। আসা-যাওয়ায় কাজে মন টিকতো না। এক প্রকার বাধ্য হয়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ ছেড়ে দিয়ে গত জানুয়ারি মাসে নিজ গ্রাম নওগাঁর মান্দা উপজেলার বড়পই চলে আসেন।

এরপর থেকে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। জমানো টাকায় পৌনে তিন বিঘা জমি ইজারা (চুক্তি) নিয়ে রানী জাতের করলার আবাদ করে তার ভাগ্য বদলেছে। বাজারে ভালো দাম পেয়ে খুশি তিনি।

চাষি আব্দুল জলিল বলেন, গত ১৩ বছর ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করেছেন। সেখানে স্বল্প পরিসরে খাবার জন্য শাক-সবজির আবাদ করতেন। মাঝে মধ্যে বাড়ি আসা-যাওয়া করতে হতো। এবার আর ঢাকায় কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জমি বন্ধক নিয়ে গ্রামে তিনি শাক-সবজি চাষ করছেন। দুই দফায় পৌনে তিন বিঘা জমি ইজারা নিয়েছেন। ২২ কাঠা জমি ২ বছরের জন্য নিয়েছেন ৩২ হাজার টাকায়। বাকি জমি ১৪ হাজার এবং ১৬ হাজার টাকা বছর। মোট জমি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন। এ বছর এক বিঘা জমির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, জমি প্রস্তুত করে গত ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহে জমিতে করলার চারা রোপণ করেন। মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। সুযোগ বুঝে এরই মাঝে মাচা তৈরি করে চারা রোপণ করেন। এক বিঘা জমিতে বাঁশ ও সুতা দিয়ে মাঁচা তৈরিতে এবং শ্রমিকসহ খরচ হয়েছে ২৬-২৭ হাজার টাকা। মোট জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। চারা রোপণের ২০ দিনের মধ্যে ফুল এবং ৩৫-৪০ দিনের মধ্যে ফল ধরা শুরু হয়।

সপ্তাহে ২ দিন ক্ষেত থেকে প্রায় সাড়ে ৭ মণ করলা উঠানো হয়। যেখানে প্রথম দিকে ৩ হাজার টাকা মণ পাইকারী দাম পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান বাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে ২৪শ-২৬শ টাকা মণ। সর্বোচ্চ সাড়ে তিনমাস পর্যন্ত এ মাচায় করলা থাকবে। এরপর পটল। সব খরচ বাদ দিয়ে করলা মৌসুমে সাড়ে তিন মাসে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ থাকবে।

ইতোমধ্যে করলার মধ্যে পটলের গাছ লাগানো হয়েছে। করলা শেষ হওয়ার পর পটলের গাছ মাচায় উঠে যাবে। একই মাচায় পটলের আবাদ করা হলে মাচা তৈরির খরচটা লাগবে না। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার কারণে সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। এ কারণে দাম কিছুটা ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পৌত্রিক সূত্রে পাওয়া ২ কাঠা জমিতে বসত বাড়ি। ৫ জন ছেলে এবং বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৯ জন। বড় দুই ছেলে শ্রমিকের কাজ করে এবং ছোট তিন ছেলে পড়াশুনার পাশাপাশি তাকে সহযোগীতা করে।

তিনি মনে করেন ধানের আবাদের চেয়ে সবজির আবাদ লাভজনক। স্বল্প সময়ে সবজি বাজারজাত করা যায় এবং নিয়মিত টাকা পাওয়া যায়।

মান্দা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

অসময়ের শিম চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

‘রূপভান’, ‘রানী’- দুটি আগাম জাতের শিমের নাম। চলতি মৌসুমে রূপভান ও রানীর মতো বিস্কুট, অটো, ইপসা-১,২ এবং বারী-১, ২ ও ৪ এ আগাম জাতের শিম চাষ হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি হিসেবে শিমের আবাদ করছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে শাদা ও বেগুনি ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাচা। এর মাঝে মাঝে
উঁকি দিচ্ছে নতুন শিম।

চোখ জুড়ানো দৃশ্য। আসি আসি করছে শীত। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় শীতকালীন সবজি হিসেবে শুরু হয়েছে শিমের আবাদ শিমের মাচা ভরে গেছে শাদা-বেগুনি ফুলে। আসতে শুরু করেছে শিমও। এসব আগাম জাতের শিম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা অনুকূল আবহাওয়ায় শিমের ভালো ফলন ও বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়ায় বেশ খুশি চাষিরাও।

ইতোমধ্যেই আগাম জাতের শিম উঠতে শুরু করেছে বাজারে। ভালো দামও মিলছে। পুষ্ট গাছ ও প্রচুর ফুল ফোটায় চলতি মৌসুমে শিমের ভালো ফলন হবে বলে মনে করছেন চাষিরা। ফলে করোনার দুঃসময়েও তাদের মুখে এখন মিষ্টি হাসি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এ বছর জেলার চার উপজেলায় মোট ৭১৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের শিমের আবাদ হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় ৬৮ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩৭১ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩০ হেক্টর ও জীবননগর উপজেলায় ১১২ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করেছেন কৃষকরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শিম তুলতে ব্যতিব্যস্ত দেখা গেছে চাষিদের। গ্রামীণ সড়কে দাঁড়িয়ে যতো দূর চোখ যায় শুধুই শিমের সবুজ ক্ষেত। সবুজ পাতা আর বেগুনি ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে আদিগন্ত মাঠ।

ক্ষেতের পরিচর্যা ও নতুন শিম তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। শিম বিকিকিনির জন্য গ্রামে গ্রামে বসেছে অস্থায়ী বাজার। এসব বাজার থেকে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন-করিমন ও ট্রাকবোঝাই করে শিম যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে। এখানে বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। প্রথম দিকে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরেও শিম বিক্রি করেছেন বলে জানান কৃষকরা।

দামুড়হুদা উপজেলার ভগিরথপুর গ্রামের চাষি বাদশা মন্ডল বলেন, তার ২ বিঘা জমিতে শিমের লতায় ও ফুলে ভরে গেছে মাচা। ফুল ভরে গেছে প্রতিটি ডগা। ইতোমধ্যে শিম আসতে শুরু করেছে গাছে। প্রথম দিকে প্রচন্ড রোদ ও পোকার আক্রমণের কারণে ফুলে পঁচা লাগতো।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে কঠোর পরিশ্রম, নজরদারি, সার ও বালাইনাশক স্প্রে করার পর ফল দেখা দিয়েছে। এখন আর পঁচা লাগে না। একই উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম জানান, শিম মূলত শীতকালীন সবজি। বেশি দামের আশায় একটু আগেভাগে শিমের আবাদ করেছেন তিনি।

বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি শিম বিক্রি হতো ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে। বর্তমানে উৎপাদন বাড়ায় কিছুটা কমেছে শিমের দাম। নতিপোতা গ্রামের পাইকারি শিম ব্যবসায়ী সোলায়মান হক জানান, স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে শিম কিনে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠানো হয়।

ইতোমধ্যেই নতুন শিম পাঠানো শুরু হয়েছে। খুচরা বাজারেও চাহিদা ও দাম ভালো আছে শিমের। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষকরা এখন সচেতন হওয়ায় যেকোনো সমস্যায় সরাসরি স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নেন তারা। সাধারণত আগাম সবজি চাষ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে, অসময়ে এ আবাদ থেকে চাষিরা বাড়তি আয় করতে পারেন। এসময় পোকা মাকড়, শাদা মাছি, শিম ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ বেশি থাকে।

নিয়মিত পরিচর্যা ও নজরদারিতে রেখে বালাই নাশক স্প্রে করলে ফলন ভালো পাওয়া সম্ভব। তিনি আরও জানান, এবার চলতি মৌসুমেরর শুরুতেও শিম ক্ষেতে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সুষ্ঠু পরিচর্যায় শেষ পর্যন্ত শিমের ফলন ভালো হচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার দামও ভালো। শিমের উৎপাদন বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com