আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

লিয়াং জুন: চীনের প্রথম নারী ট্রাক্টর চালক ও আইকন মারা গেছেন

চীনের মুদ্রায় লিয়াং জুনের ছবি
চীনের মুদ্রায় লিয়াং জুনের ছবি

চীনের প্রথম নারী ট্রাক্টর চালক, যিনি পরবর্তীতে একজন জাতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন, ৯০ বছর বয়সে সোমবার তিনি মারা গেছেন।

১৯৪৮ সালে লিয়াং জুন যখন ট্রাক্টর চালানো শেখার ক্লাসে যোগ দেন, সেখানে তিনি ছিলেন একমাত্র নারী।

তার এক যুগেরও বেশি সময় পরে, চীনের এক ইউয়ান (চীনের মুদ্রা) ব্যাংক নোটের গায়ে তার ছবি ছাপানো হয়, যেখানে তাকে হাসিমুখে ট্রাক্টর চালাতে দেখা যাচ্ছে।

“কেউই গাড়ি চালাতে পারত না, আমিও না” পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আর সেটা শিখেছিলাম বলে জীবনে আমার কোন আফসোস নেই।”

লিয়াং জুনের জন্ম ১৯৩০ সালে চীনের প্রত্যন্ত হেইলংজিয়াং প্রদেশের এক হতদরিদ্র পরিবারে।

শুরুতে কৃষিজমিতে সাহায্য করার পাশাপাশি গ্রামের একটি স্কুলে পড়াশোনা করতেন তিনি।

১৮ বছর বয়সে তিনি ট্রাক্টর চালানো শেখেন
১৮ বছর বয়সে তিনি ট্রাক্টর চালানো শেখেন

১৯৪৮ সালে স্থানীয় একটি স্কুলে ট্রাক্টর চালানো প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হলে তিনি তাতে ভর্তি হয়ে যান।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঐ ক্লাসে ৭০জন প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন, যেখানে লিয়াং জুন ছিলেন একমাত্র নারী।

প্রশিক্ষণ শেষে তিনি হন চীনের প্রথম প্রশিক্ষিত নারী ট্রাক্টর চালক।

এর এক বছর পরে কমিউনিস্ট নেতা মাও জেদং গণ-প্রজাতান্ত্রিক চীন গঠনের ঘোষণা দেন।

দারিদ্র পীড়িত শৈশব ছাড়িয়ে অনেকটা পথ

এক সময় চীনে কেবল অভিজাত পরিবারের সদস্য, কবি এবং সামরিক নেতাদের কদর ছিল।

কিন্তু ১৯৪৯ সালে যখন কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতা গ্রহণ করে, সে সময় সমাজের ভিন্ন ধরণের মানুষ অর্থাৎ বিভিন্ন পেশার কর্মজীবী মানুষদের কদর বাড়ল।

সোভিয়েত ইউনিয়নে ইতিমধ্যে সে মডেলের চর্চা শুরু হয়েছিল।

বার্ধক্যেও তিনি ট্রাক্টর চালানো বন্ধ করেননি
বার্ধক্যেও তিনি ট্রাক্টর চালানো বন্ধ করেননি

চীনে তখন দরিদ্র, কঠোর পরিশ্রমী মানুষ যারা সমাজতান্ত্রিক দেশটির গঠনে কাজ করছিলেন তাদের কথা বেশি বেশি প্রচার করা হচ্ছিল।

লিয়াং জুন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম প্রথম এবং সর্বাধিক পরিচিত মডেল কর্মী।

দেশটির মুদ্রার ওপর তার হাসিমুখের ছবি দেখে অনেকে এমন কাজে উৎসাহিত হবে ভাবা হত।

তিনি কেবল সমাজের শ্রেণিভেদকে ভেঙ্গেছিলেন এমন নয়।

লিয়াং জুন চীনের সব নারীর প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন এবং আজকে তাদের যে নানা রকম কাজের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে তারও শুরুটা লিয়াং জুনের হাত ধরেই হয়েছে।

তিনি নিজের সেসব সুযোগের পুরোটাই কাজে লাগিয়েছেন।

তিনি পরবর্তীতে একজন প্রকৌশলী এবং রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছিলেন, তার দারিদ্র পীড়িত শৈশবে যা ছিল অকল্পনীয়।

রাজনীতিতে লিয়াং

লিয়াং জুন চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সিসিপিতে সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন, এবং পরে তাকে বেইজিং এ কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর পড়াশোনা করতে পাঠানো হয়েছিল।

পড়াশোনা শেষে তিনি হেইলংজিয়াং প্রদেশে ফেরত যান এবং তাকে অ্যাগ্রিকালচারাল মেশিনারি রিসার্চ ইন্সটিটিউটে কাজ করেন।

১৯৬২ সালে চীনে ট্রাক্টর চালানো অবস্থায় তার ছবিসহ ব্যাংক নোট ছাপানো শুরু হয়।

কমিউনিস্ট পার্টি নারীদের, বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের দেশটির শ্রমবাজারে বেশি করে যুক্ত করতে চেয়েছিল।

আর সেজন্য ভিন্ন ভিন্ন পেশায় নারীদের যুক্ত করার প্রচারণা হিসেবে তারা একজন ট্রাক্টর চালক নারীর প্রতিচ্ছবি উপস্থাপন করতে চেয়েছিল।

এমনকি অক্সফোর্ড হ্যান্ডবুক অব দ্য হিস্টোরি অব কমিউনিজম এ বলা হয়েছে, ‘নারী ট্রাক্টর চালকের চেয়ে বেশি প্রমোট কোন পেশাকে করা হয়নি।’

এক সময় চীনের পাঠ্যবইগুলোতে লিয়াং জুনের জীবনের গল্প উঠে আসে এবং বহু নারী ট্রাক্টর চালাতে হয়ে ওঠেন।

১৯৯০ সালে হার্বিন মিউনিসিপাল ব্যুরো অব অ্যাগ্রিকালচারাল ম্যাশিনের প্রধান প্রকৌশলীর পদ থেকে অবসরে যান।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিয়াং জুন নানারকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

প্রায়ই তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলতেন এবং অনেকদিন ধরেই শয্যাশায়ী ছিলেন।

তার ছেলে ওয়াং ইয়ানবিং জানিয়েছেন, সোমবার তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছেন।

“তিনি মেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন। আর চীনের প্রথম ট্রাক্টর চালক হিসেবে লোকে যখন তার কথা বলতো তিনি খুবই খুশি হতেন।”

সামাজিক মাধ্যমে টপ ট্রেন্ড

দেশটির সামাজিক মাধ্যম ওয়েইবোতে তার মৃত্যুর বিষয়টি এখন টপ ট্রেন্ড এবং সেখানে সবাই তাকে সম্মান জানাচ্ছেন।

একজন লিখেছেন, “তিনি দেখিয়েছেন, একজন পুরুষ যা করতে পারে, নারীর পক্ষেও তা করা সম্ভব।”

নারীপুরুষ সমতা নিয়ে মাও জেদং এর বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে আরেকজন লিখেছেন, “চীনের অর্ধেক আকাশ জুড়ে থাকা নারীকে বিদায়।”

আরেকজন লিখেছেন, “নিজের প্রজন্মের হিরোইন হয়ে ওঠার জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। বিদায় লিয়াং জুন, আপনাকে অভিবাদন।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

এগ্রোবিজ

বেগুনের কেজি ৮ টাকা, চাষিরা হতাশ

বেগুনের কেজি ৮ টাকা, চাষিরা হতাশ
বেগুনের কেজি ৮ টাকা, চাষিরা হতাশ

চলতি মাসে যশোরের শার্শা উপজেলায় বেগুন চাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। উৎপাদন বেশি হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন তারা। এছাড়া চলতি মৌসুমে বেগুনে পোকার আক্রমণের সাথে সাথে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার করায় খরচ ও লোকসানের ভাগ বেশি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

সাদা পোকা (হোয়াইট ফ্লাই) পাতার রস শুষে নেওয়ায় পাতা কুঁকড়ে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নলি পোকা বেগুনের মধ্যে ছিদ্র করে ঢুকে পড়ছে। এ অবস্থায় লোকসানের আশঙ্কায় কীটনাশক ব্যবহার করছেন চাষিরা। তাতে মানুষের শরীরে রোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বাজারের কীটনাশকের বিষাক্ততা কৌটার গায়ে লাল, নীল, হলুদ ও সবুজ চিহ্ন দিয়ে উল্লেখ করা থাকে। লাল হীরক চিহ্ন মানে সেটির ব্যবহার সীমাবদ্ধ। হলুদ, নীল, সবুজ মানে সেটি নিরাপদ। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে চাষিরা লোকসানের আশঙ্কায় বিষাক্ত কীটনাশকগুলোই ব্যবহার করেন। এ ধরনের কীটনাশকের বিষক্রিয়া বেগুন ও অন্য সবজির মধ্যে অন্তত ১৫ দিন থেকে ৬ সপ্তাহ থাকে। এ সময়ের মধ্যে সেই সবজি বাজারে বিক্রি করলে, তা খেয়ে অসুস্থ হতে পারেন লোকজন।

চাষিরা বলেন, ‘কীটনাশকে কতটা বিষ, তা নিয়ে গবেষকরা ভাবুক। এখন বেগুনে পোকার আক্রমণ। তার মধ্যে বাজারে তিন দিন আগে বেগুন পাইকারি ৩-৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি স্থানীয় বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৬-৮ টাকা কেজিতে। কীটনাশক ব্যবহারে অনেক খরচ। সব মিলিয়ে আমরা খুব হতাশায় পড়েছি।’

চাষিরা আরও বলেন, ‘বেগুন খোলা বাজারে ১৫-২০ টাকা কেজি হলেও আমরা পাচ্ছি মাত্র ৬-৮ টাকা। আমাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে তারা উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে। অথচ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমরা সবজি উৎপাদন করে লসের মধ্যে আছি। ন্যায্য দামটুকু পাচ্ছি না।’

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৌতম কুমার শীল বলেন, ‘কীটনাশক ব্যবহার নিয়ে যতটা অজ্ঞতা সবজি চাষে আছে, তা অন্য কোনো চাষে নেই। এ নিয়ে চাষিরা সচেতন না হলে ফসলের রোগ আটকাতে গিয়ে মানুষের শরীরে ভয়ঙ্কর বিষ ছড়াবে। এখনো বহু চাষি তা বুঝতে চায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া বিষযুক্ত বেগুন কিনে বাড়িতে ফুটানো পানিতে লবণ মিশিয়ে ১৫ থেকে আধাঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে প্রায় ৯০ শতাংশ বিষমুক্ত হতে পারে। চলতি মৌসুমে যশোরের শার্শায় ২৫০ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষ হয়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়

 টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়
টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়

পাবনার সুজানগরে পদ্মার চরে শীতকালীন টমেটো চাষ করে ভাগ্য বদলে গেছে কয়েকশ’ কৃষকের। ওই চরে এবার শুধু টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয় করবেন কৃষকরা। এতে একসময় সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও এখন কৃষকদের সংসারে স্বচ্ছলতা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সুজানগর উপজেলা মূলত পেঁয়াজ চাষের জন্য সমৃদ্ধ এলাকা। দেশের মধ্যে ২য় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা পাবনা। জেলার মধ্যে সুজানগরে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে সবচেয়ে বেশি। উপজেলার সাগরকান্দী ইউনিয়নের খলিলপুর, চরখলিলপুর এবং কালিকাপুর গ্রামে রয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। সেসব চরাঞ্চলের জমিতে ধান-পাট তেমন ভালো হয় না। কৃষকরা বেশিরভাগ সময় সেসব জমিতে ধান-পাট চাষ করে লোকসানে পড়েন।

সূত্র আরও জানায়, ওই জমিতে প্রথমবারের মত শীতকালীন টমেটো চাষ করে সফল হয়েছেন চাষিরা। এ বছর প্রায় ৩শ কৃষক মিন্টু সুপার ও হিরো সুপারসহ বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড টমেটো চাষ করেন। অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক সময়ে সার-কীটনাশক দেওয়ায় অধিকাংশ জমিতে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে।

 টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়
টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়

খলিলপুর গ্রামের চাষি ইয়াছিন আলী বলেন, ‘এ বছর প্রতিবিঘা জমিতে ১২০-১৩০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। বাজারে টমেটোর দামও বেশ ভালো।’

কালিকাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ মণ্ডল বলেন, ‘১ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে সার, বীজ ও শ্রমিকসহ খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা। বাজারে প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭-৮শ টাকা দরে। উৎপাদন খরচ বাদে প্রতিবিঘা জমির টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ হাজার টাকা।’

কৃষক আক্কাছ আলী বলেন, ‘আগে সংসারে অভাব-অনটন ছিল। চরাঞ্চলের ওই জমিতে চাষ করা টমেটো বিক্রি করে বর্তমানে সংসার বেশ ভালোভাবে চলছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ময়নুল হক সরকার বলেন, ‘প্রথমবারের মতো কৃষকরা চরের খাস জমিতে টমেটো চাষ করে চমক দেখিয়েছেন। এতে কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। এরপর থেকে টমেটো চাষে কৃষকদের সাপোর্ট দেওয়া হবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চাকরি না পেয়ে কলা চাষ, স্বপ্ন শেষ করে দিল দুর্বৃত্তরা

চাকরি না পেয়ে কলা চাষ, স্বপ্ন শেষ করে দিল দুর্বৃত্তরা
চাকরি না পেয়ে কলা চাষ, স্বপ্ন শেষ করে দিল দুর্বৃত্তরা

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় আবু তালেব নামের এক চাষির ১২০টি কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতে উপজেলার কুটুরিপাড়া দক্ষিণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এতে চাষির ৭০-৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আবু তালেব সরদার ওই গ্রামের মৃত আবু তাহের সরদারের ছেলে।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আবু তালেব সরদার বলেন, লেখাপড়া শেষ করে কোনো চাকরি না পেয়ে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া কুটুরিপাড়া মাঠে ১০ শতক জমিতে ১২০টি কলাগাছ লাগাই। প্রতিটি কলাগাছে বড় বড় সাইজের কলা ধরেছে। কলাগুলো বাজারে বিক্রি করলে ৭০-৮০ হাজার টাকা পেতাম। কিন্তু শনিবার রাতে বাগানের ৮০টি কলাগাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। বাকি ৪০টি গাছের কলা কেটে মাটিতে ফেলে রেখে যায় তারা।

আবু তালেব আরও বলেন, আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। কারা এমন কাজ করেছে আমি জানি না। আমার এতদিনের স্বপ্ন শেষ করে দিল তারা। এসব কথা বলে কেঁদে ফেলেন আবু তালেব।

নলডাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়

বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়
বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়

লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ইরি-বোরো চাষাবাদে ব্যস্ত নওগাঁর চাষিরা। শীতের মৌসুমে কয়েক দফা বৃষ্টি, ঘন কুয়াশা, শীত ও আবহাওয়া বিপর্যয়ে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেরিতে শুরু হয়েছে চাষাবাদ। কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে তাদের ঘরে ধান নেই। বাজারে যা বিক্রি হচ্ছে তা বড় বড় ব্যবসায়ীদের। সরকার ধান কিনলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এ বছর ১ লাখ ৮০ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। চলতি রোপা-আমন মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল।

চাষিরা জানান, গত কয়েক বছরে ধানের আবাদ করে লোকসানে পড়েছেন চাষিরা। গত বছর বোরো ধান ঘরে ওঠার আগেই ফনীর প্রভাবে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। একদিকে ধানের উৎপাদন কম, অন্যদিকে শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি এবং বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন কৃষকরা। প্রতিবিঘা জমিতে আবাদ করতে ১২-১৪ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছিল ১৫-১৯ মণ।

অপরদিকে সার, ওষুধ ও কাটা-মাড়াইসহ আমন ধানের আবাদ করতে প্রায় ৮-৯ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এ বছর ফলনও ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি প্রায় ১৮-২২ মণ। প্রথমদিকে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও পরে কীটনাশক প্রয়োগে রক্ষা পায়। সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে আগাম আমন ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে খোলা বাজারে দাম নিয়ে সারা বছরই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। বর্তমানে বাজারে জিরাশাইল ১০৩০-১০৪০ টাকা, কাটারি ১১০০-১১৫০ টাকা, চিনিগুড়া ১৯০০-১৯৫০ টাকা, আমন স্বর্ণা-৫, ৭২০-৭৪০ টাকা। গত ১৫ দিনে প্রতিমণ ধানে ৫০-১০০ টাকা বেড়েছে।

বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়
বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়

বদলগাছী উপজেলার ভাতশাইল গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে আছে। পানি, সেচ ও হাল চাষ করে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত শীতের কারণে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে আবারও বীজ রোপণ করতে হয়েছে। যে কারণে রোপণের কাজ ধীর গতিতে হচ্ছে।’

চাকরাইল গ্রামের কৃষক আলতাব হোসেন বলেন, ‘গত বছর বোরো ধানের আবাদ করতে গিয়ে খরচ বেশি ও ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সরকার যে ধান কিনছেন, তা পর্যাপ্ত না। যে কারণে খোলা বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হয়। সরকারের উচিত কৃষকদের ধানের দাম দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা। বেশি ধান কিনলেও কৃষকরা উপকৃত হবে।’

বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়
বেড়েছে ধানের দাম, তবুও লোকসানের ভয়

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ) মো. মাহবুবার রহমান বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান রোপণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি রোপণ হয়েছে। শীতের কারণে বীজতলা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষকরা পরবর্তীতে পুষিয়ে নিয়েছেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক

মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক
মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক

মধু চাষের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে চার লাখ কৃষক জড়িত। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মধু চাষের কারণেই আজ এত কৃষকের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা ১০ বছর আগেও ছিল না। এসব কৃষক বছরে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টন মধু উৎপাদন করেন। একসময় গ্রামে কৃষিকাজ করে যাদের সংসার চলত না তারা এখন মধু চাষ করছেন। মধু উৎপাদন করে তাদের সংসার ভালো চলছে। দেশের অনেক এলাকায় মধু চাষ গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে  ও রাজধানীতে চলা জাতীয় মৌমেলায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিচার্স কাউন্সিল (বিএআরসি) প্রাঙ্গণে চলছে এই মেলা। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। চতুর্থবারের মতো এ মেলার আয়োজন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চলবে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

মঙ্গলবার মেলা ঘুরে দেখা গেছে, আদিল মৌ খামার, সুন্দরবন বি অ্যান্ড হানি ফার্ম, সজীব মৌ খামার, সোনারগাঁও মৌ খামার, মৌচাক এগ্রো ফুড, সলিড মধু, তাওহিদ মধু, আজাদ মোল্লার মধু, আল্লার দান মৌ খামারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে মধু চাষিরা তাদের উৎপাদিত মধু নিয়ে মেলায় এসেছেন। শুধু চাষিরাই নন। দেশের নামিদামি ব্রান্ড এপি, ডাবর হানি, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি তথ্য সার্ভিস ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ মোট ৭৪ টি স্টল স্থান পেয়েছে এ মেলায়। মেলার দ্বিতীয় দিনে দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল জোখে পড়ার মতো।

মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক
মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক

দেশে মধু উৎপাদন প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষির আধুনিকায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণে মধু একটি নতুন সংযোজন, যা আমাদের রফতানি বহুমুখীকরণে সহযোগিতা করবে। আগে মধু সীমিত আকারে উৎপাদন হলেও এখন বাণিজ্যিকভিত্তিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পুষ্টিচাহিদা নিশ্চিত করতে মধু একটি অন্যন্য খাদ্য। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে মৌমাছি পালন, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। মধু চাষ সম্প্রসারণ পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরাগায়ণের মাধ্যমে ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্র মতে, সারাদেশে মধু চাষ করেন চার লাখ, ২২ হাজার ৬৩৬ জন কৃষক। এ ছাড়া তালিকার বাইরেও অনেকে চাষ করছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ১০২২ দশমিক ৩০৬ টন, ১৬-১৭ তে ১০৫৬ দশমিক ৯৪৯, ১৭-১৮ তে ৭৪৩ দশমিক ৯৬৩ ও ১৮-১৯ অর্থবছরে ৮৯৬ দশমিক ৫৭১ টন মধু উৎপাদন হয়েছে।

মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক
মধু চাষে সাড়ে চার লাখ কৃষক

মেলায় স্টল নিয়ে মধু বিক্রি করছে দামি ব্র্যান্ড এপি। এ স্টলে জাপানে মধু রফতানির বিষয়টি বিশাল ব্যানারে স্পষ্ট করে লেখা আছে। কথা হয় এপির কর্মকর্তা রিয়াজুল হাসানের সঙ্গে। জাপানে মধু রফতানি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এবার জাপানে ৪০০ টন মধু রফতানির অর্ডার পেয়েছি। দেশের চাষিদের অধিকাংশ মধু আমরা কিনে নেই। এগুলো মেশিনের মাধ্যমে পিউরিফাইন করে রফতানি করতে হয়। যারা ভালো মধু উৎপাদন করেন, তাদের মধুই আমরা কিনি।’

তিনি বলেন, ‘এখনও ৫০০ টন মধু আমাদের মজুদ রয়েছে।’

আদিল মৌ খামারের মালিক আহসান হাবিব খোকন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার প্রিন্টিংয়ের ব্যবসা আছে। তারপরও বিসিক থেকে ট্রেনিং নিয়ে মধু চাষ শুরু করি। ধীরে ধীরে এ ব্যবসা ভালো লাগতে শুরু করে। কারণ, মানুষকে একটা ভালো জিনিস খাওয়াতে পারছি। প্রিন্টিং ব্যবসার মধ্যে ভেজাল ও দুই নম্বরি আছে। ফলে ওই ব্যবসা করে শান্তি পাই না। কিন্তু মধু উৎপাদনের ব্যবসা করে আমি বেশ শান্তি পাই। কারণ, ভেজালের এই যুগে মানুষকে একটা ভালো খাবার দিতে পারছি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com