আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি

প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি
প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি

বছরের ৬ মাস ৪৮ শতাংশ জমিতে লাভজনক সবজি লাউ চাষ করতে খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। সেই লাউ বিক্রি করা হচ্ছে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। লাউ বিক্রি করে সংসার পরিচালনা ও সন্তানদের লেখাপড়া চলছে। সব মিলিয়ে লাউ বিক্রি করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। বলছি ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের কানাই নগর গ্রামের মো. ফারুকের কথা। তার দেখাদেখি গ্রামের অনেক কৃষক লাউ চাষ শুরু করেছেন। ফলে বাড়ছে লাউ চাষির সংখ্যা।

সরেজমিনে জানা যায়, সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কানাই নগর গ্রামের কৃষক মো. ফারুক (৪০)। তিনি গত ৫ বছর আগে ১৮ শতাংশ জমিতে বছরের আশ্বিন মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত লাউ চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরই সফলতা পেয়েছেন। পরের বছর থেকে বড় পরিসরে লাউ চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ৪৮ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করছেন। এতে বছরের ৬ মাসে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা। বছরে সেই লাউ বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। বাকি ৬ মাস ধান চাষ করেন।

প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি
প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি

মো. ফারুক জানান, লাউ বিক্রির টাকা দিয়ে ৩ সন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার ভালোভাবে পরিচালনা করছেন। কয়েকটি গরু কিনেছেন। কয়েক শতাংশ জমিও কিনেছেন। এ সবজি চাষ করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।

ফারুকের ছোট ছেলে আলম জানায়, সে এ বছর দশম শ্রেণিতে পড়ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি লাউ ক্ষেতে পরিচর্যাসহ নানা কাজ করছে। ফলে কোনো শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। এতে তার বাবার টাকা বেঁচে যায়।

প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি
প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি

স্থানীয় কৃষক মো. আলাউদ্দিন মিয়া জানান, গত কয়েক বছর ধরে ফারুক লাউ চাষ করে অনেক টাকা লাভ করেছে। তার ঘর-বাড়ি ও চলাফেরায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তা দেখে গ্রামের অনেক চাষি এখন লাউ চাষ করছেন। অনেকেই সফল হচ্ছেন।

স্থানীয় লাউ চাষি মো. সেলিম (৪৫) জানান, তিনি ফারুকের দেখাদেখি ১৮ হাজার টাকা খরচ করে ৪৪ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করেছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সঠিকভাবে ক্ষেতে সার-ওষুধ দিয়েছেন। ক্ষেতে অনেক লাউ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। যে লাউ আছে তাতে আরও ১ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন।

প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি
প্রতি পিস লাউ ৭০ টাকা, ফারুকের মুখে হাসি

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা কৃষি বিভাগ সব কৃষককে প্রশিক্ষণ ও সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাবলম্বী করার চেষ্টা করছি। ফলে অনেক কৃষক আমাদের দিক-নির্দেশনা ও সঠিক পরামর্শে সাবলম্বী হয়েছে।’

শাকসবজি

কুমিল্লার চান্দিনায় পটল চাষে কৃষকের সাফল্য

লেখক

জেলার চান্দিনার শ্রীমন্তপুর গ্রামের মানুষ পটল চাষ করে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে। কয়েক বছর আগে ওই সব জমিগুলোতে কোন প্রকার চাষাবাদ হতো না এবং তাদের অভাব অনটন লেগে থাকতো। কিন্তু বর্তমানে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে পটল চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে ওইসব দরিদ্র সংসারে এসেছে স্বচ্ছলতা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চান্দিনা উপজেলায় ৭২ হেক্টর জমিতে পটলের আবাদ হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস হতে বীজ, সার দিয়ে কৃষকদের ধানের পাশাপাশি সবজি চাষে উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে। পটল চাষিরা জানান প্রতি শতাংশ জমিতে পটল চাষে শ্রেণীভেদে খরচ পড়ছে ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা এবং উৎপাদিত পটল বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে আয় হয় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। শ্রীমন্তপুর গ্রামের পটল চাষি কামরুল হোসেন বাসসকে জানান, এক সময় তাদের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। কিন্তু বর্তমানে পটল চাষ করে তার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। তাদের ৬৬ শতক জমিতে পটল চাষ করে খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ পটল বিক্রি করে প্রায় ৯৫ হাজার টাকা আয় করেছেন। কৃষক আমিনুল ইসলাম বাসসকে জানান, এবার তিনি ১৫ কাঠা জমিতে পটল চাষ করেছেন। চার মাস পটলের জমি পরিচর্যায় গাছে ফল আসতে শুরু করে। এ ১৫ কাঠা জমি আবাদে তিনি এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা খরচ করেছেন।

এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা পটল বিক্রয় করে ক্যাশ জমিয়েছেন। আগামীতে আরো ১ মাস এমনি ভাবে ফসল তুলে বিক্রয় করতে পারবেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, প্রতি সপ্তাহে এই জমি হতে ২-৩ মন পটল তুলেন। এখন যতই দিন যাবে ততই আরো বেশী ফসল তুলবেন। প্রতি কেজি পটল তিনি ২৫-২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। সামনের দিনে পটলের দাম আরো বাড়বে ফলে আরো বেশী লাভবান হবে বলে জানান। কৃষক আমিনুল ইসলাম  জানান, আগামীতে তিনি পটলের আবাদ বাড়িয়ে দিবেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিনা আক্তার বাসসকে বলেন, কৃষকদের অর্থনৈতিক ভাবে লাভবানে জন্য সরকারের পক্ষ হতে নিরাপদ সবজি চাষে কৃষকদের উদ্ভুন্ধ করা হচ্ছে। উপজেলায় অনেক জায়গাতে কৃষক পটল চাষ করে লাভের মুখ দেখছে। আগামিতে অত্র উপজেলায় পটলের আবাদ বেড়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

কুমিল্লার কৃষকরা শীতের আগাম সবজি ভালো দাম পাচ্ছেন

লেখক

শীতের আগাম জাতের সবজির ভালো দাম পাচ্ছেন কুমিল্লার চাষিরা। ফসলের কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। চাহিদা থাকায় ভোরেই সবজি কিনতে ভিড় করছেন পাইকাররা। কৃষকরা বলছেন, অতি বৃষ্টিতে এবার ফলন কিছুটা কম হলেও ভালো দামে তা পুষিয়ে যাচ্ছে। সকালে বিস্তৃত মাঠে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে আগাম জাতের সবজি শিমের ফোটা দৃষ্টি নন্দন ফুল। বিক্রির আশায় ভোরে ক্ষেত থেকে শিম তুলতে ব্যস্ততা বাড়ে রাশেদা দম্পত্তির। কুমিল্লা সদর উপজেলার বিবিরবাজার এলাকায় রাশেদার মতো অনেকেই ভালো দাম পাওয়ার আশায় চাষ করেন শীতের আগাম নানা জাতের সবজি। শিম, বেগুন, পটল, মিষ্টি লাউ, ফুলকপিসহ শীতের সব ধরনের সবজির মাঠ থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকাররা। অতি বৃষ্টিতে ফলন কিছুটা কম হলেও চড়াদামে ক্ষতি পুষিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন চাষিরা।


শিম চাষি তৈয়ব আলী বাসসকে জানান,  প্রতি সপ্তাহে বিঘা প্রতি ১-২ মণ শিম তোলা হয়। গত বছরে এর দাম ছিল ৩০-৩৫ টাকা। এ বছর  ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি। কীটনাশক মুক্ত সবজি চাষাবাদে কৃষকদের সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।  আর ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিতে প্রান্তিক পর্যায়ে বিপণন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জনপ্রতনিধির।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বাসসকে  বলেন, আগাম জাতের শীতের সবজি চাষ করে ভালো দাম পাচ্ছে কৃষকরা। এতে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

ফ্রেঞ্চ বীন চাষ পদ্ধতি

ফ্রেঞ্চ বীন ভারতবর্ষে খুবই জনপ্রিয় এবং ব্যাপকভাবে উৎপাদিত সবজি. ডাল হিসেবেও এর জনপ্রিয়তা রয়েছে. সাধারণত মহারাষ্ট্র,হিমাচল প্রদেশ,উত্তরপ্রদেশ,জম্মু কাশ্মীর,এবং উত্তরবঙ্গের জেলা গুলোতে ব্যাপক ভাবে চাষ করা হয়.

মাটি :-

ভালো জলনিকাশী ব্যাবস্থাযুক্ত, দোআঁশ মাটি বা কাদা দোআঁশ মাটি এবং PH ৫.৫ – ৬.০ থাকলে সেই মাটিতে ভালো ফলন পাওয়ায়.

জাত:-

ঝোপ (ঝাটি ) গাছ :- পুসা পার্বতী, বউনটিফুল, অর্ক সুবিধা,সূর্য, পান্থ অনুপম,অর্ক কোমল, O . T – 1 ইত্যাদি.

লতানো গাছ :- কেন্টুকি ওয়ান্ডার, পেন্সিল, পুসা হিমলতা, BLUE LACK ইত্যাদি.

বোনার সময় :-

গ্রীস্ম – ফাল্গুন – চৈত্র,
বর্ষা – জ্যৈষ্ঠ – আসার,
রবি – কার্তিক – অগ্রহন,

বীজের হার:-

ঝোপ গাছের জন্য:- ২০ – ৩০ কেজি প্রতি একর.
লতানো গাছের জন্য:- ১০-১৫ কেজি প্রতি একর.

বীজ বসানোর দূরত্ব :-

ঝোপ গাছের জন্য:- ১.৫ ফুট * ২ ইঞ্চি,
লতানো গাছের জন্য:- ৩ ফুট * ৩ ইঞ্চি,

বীজ শোধন:-
বীজ বসানোর ২৪ ঘন্টা আগে

TRICHODARMA VIRIDE @ 4-5 GM /1KG
CARBENDAZIM 50% WP 2 GM / 1 KG

সার প্রয়োগ :-

জমির মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী সার ব্যাবহার করা উচিৎ. সাধারণত বলা যায় একর প্রতি ৪ টন জৈব সার ও মূলসার হিসাবে একর প্রতি ১৫ কেজি না:,২৪ কেজি ফ: ২৪ কেজি প: এবং চাপান সার হিসাবে ৫ কেজি না : এবং গা কেজি প : ফুল আসার সময় প্রয়োগ করা হয়.এর সাথে প্রয়োজন মতো অনুখাদ্য ব্যাবহার করতে হবে.

ফলন :-

বীজ বোনার ২ মাস পর থেকে পরবর্তী ২ মাস পর্যন্ত ফসল তোলা যায়.

ফসল তোলা :-

সবজির জন্য – বীন সাধারণত জাত অনুযায়ী ৪০-৫০ দিন পর থেকে সবজির জন্য তোলা যায়.ফসল খুব সকালে বা বিকেলের পর তোলা ভালো.

ডাল হিসাবে :- বীন ১২৫-১৩০ দিনের মাথায় তোলা যায় এই সময় গাছের কান্ড কেটে দেওয়া হয় এবং জমিতেই ফেলে রাখা হয় যার ফলে দানার রঙের পরিবর্তন হয় এবং দানা পুষ্ট ও শক্ত হয় আর পাতা গুলো ঝরে পড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

টবে ঢেঁড়শ চাষ করবেন যেভাবে

শহরে বসবাস করেও অনেকে বিভিন্ন সবজি চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ইচ্ছে করলেই ছাদে কিংবা ব্যালকনিতে অল্প পরিসরে নানান রকমের সবজি চাষ করতে পারেন। চাইলে আপনি সহজ উপায়ে টবে ঢেঁড়শ চাষ করতে পারেন।

শহরের বাসা-বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় বড় বড় টবে, মাটির চাঁড়িতে, ড্রামে কিংবা একমুখ খোলা কাঠের বাক্সে সার, মাটি ভরে অনায়াসেই ঢেঁড়শ চাষ করা যায়।

ঢেঁড়শ আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে, তাছাড়া ভিটামিন -এসহ অন্যান্য উপাদানও রয়েছে। আমাদের দেশে যে কোনো সময় ঢেঁড়শ চাষ করা যায়।

গাছের বৃদ্ধি এবং ঢেঁড়শের ভালো ফলনের জন্য মাটি অবশ্যই উর্বর, হালকা এবং ঝুরঝুরে হতে হবে। পানি শুকিয়ে গেলে টবের মাটিতে যেন ফেটে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টবের মাটি ঝুরঝুরা রাখতে হলে সমপরিমাণে দো-আঁশ মাটি ও জৈব সার একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

এঁটেল মাটিতে জৈব সারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। সাধারণভাবে প্রতি টবের মাটিতে চা চামচের চার চামচ টিএসপি সার ও ৫ থেকে ৬ দিন আগে ভেজানো ১১৬ গ্রাম পরিমাণ সরিষার খৈল মেশানো যেতে পারে।

ঢেঁড়শের অনেক জাত রয়েছে। এর মধ্যে পুশা শাওনী, কাবুলি ডোয়ার্ফ, লক্ষ্ণৌ ডোয়ার্ফ, লং গ্রিন, লং হোয়াইট, পেন্টা গ্রনি-এসব বিদেশি জাত বেশ জনপ্রিয়।

গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত অর্থাৎ বছরের যে কোনো সময়ই ঢেঁড়শ গাছ লাগানো যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শীতের শেষভাগ থেকে বৈশাখ পর্যন্ত ঢেঁড়শ লাগানো যায়। এরপরও লাগানো যায় তবে নাবী ফসলে মোজাইক রোগ হয় বলে ফলন ভালো হয় না।

ঢেঁড়শের চারা রোপণকালীন সময় আঘাত সহ্য করতে পারে না বলে সরাসরি মূল টবে বুনতে হবে। ঢেঁড়শের জন্য মাঝারী ধরণের টব হলেই চলবে। প্রতি টবে ২ থেকে ৩টি বীজ বুনে দিতে হয়।

চারা গজানোর পর একটি সবল চারা রেখে বাকিগুলো ফেলে দিতে হয়। খোসা শক্ত বলে ঢেঁড়শের বীজ দেরিতে গজায়। তাই বোনার আগে ২৮ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

ঢেঁড়শ গাছ পানি সহ্য করতে পারে না। গাছের গোড়ায় দাঁড়ানো পানি তাড়াতাড়ি সরিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেকটি টবে পানি যাতে না বেধে থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

গাছ ১০ থেকে ১২ সে.মি. বড় হলে টবের কিনার ঘেঁষে ১ চা চামচ ইউরিয়া ও ১ চা চামচ মিউরেট অব পটাশ মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

শুঁয়া পোকা কচি কাণ্ড ছিদ্র করে গাছের ক্ষতি করে। ভাইরাস (মোজাইক) রোগ ঢেঁড়শে প্রায়ই দেখা যায়। এ রোগে পাতা হলদে হয়ে কুঁচকে যায়। রোগাক্রান্ত গাছ তুলে মাটিতে পুঁতে দিতে হয়। শুঁয়া পোকার আক্রমণ থেকে ঢেঁড়শ গাছকে বাঁচাতে হলে প্রতি লিটার পানিতে ১ মি. লি. ডায়াজিনন-৮০, নুভাক্রণ-৪০, একালাক্স-২৫ এর যে কোনোটি অথবা ১ লিটার পানিতে ১ মিলি লিটার সিমবুশ-১০ মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

বীজ বপনের দুই মাস পরেই ফল পাওয়া যায়। কচি অবস্থায় ঢেঁড়শ তুলতে হয়। দেরি হলে ফল শক্ত হয়ে যায় ও সেটা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়। ঘন ঘন ঢেঁড়শ তুললে গাছে বেশি পরিমাণে ঢেঁড়শ আসে। গাছের ঠিক মতো যত্ন নিলে এক একটি ঢেঁড়শ গাছ থেকে অনেকদিন ফসল পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

শীতকালীন টমেটো চাষ করবেন যেভাবে

আমাদের দেশে টমেটো একটি সুস্বাদু সবজি। এটি সালাদ হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। টমেটো পুষ্টি গুণে ভরা একটি সবজি। ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি-এর অন্যতম উৎসও বটে এই সবজিটি। এছাড়া এতে আছে বেটা কেরোটিন নামক এক প্রকার ভিটামিন যা রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে। তাই চিকিৎসকরা সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য টমেটে খাওয়ার পরামর্শ দেন। তাই আমাদের টমেটোর চাহিদা পূরণের জন্য উদ্যোগী হতে হবে। এবার জেনে নিন শীতকালীন টমেটো চাষ করবেন যেভাবে।

শীতকালীন টমেটো চাষের জন্য কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তৃতীয় সপ্তাহ (অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ ) পর্যন্ত বীজতলায় বপনের উপযুক্ত সময়। এই সময়ের মধ্যে বীজ বপন করতে হবে।

আমাদের দেশের প্রায় সব ধরনের মাটিতেই টমেটো চাষ করা যায়। তবে বেলে দোঁ-আশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। জমি চাষ শেষ হলে ভূমি হতে ১০-১৫ সে.মি. উঁচু বেড তৈরি করে বেডের চারপাশে ড্রেনের ব্যবস্থা রাখতে হয়। চারা লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে পানি দিতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৫০ সে.মি. এবং চারা হতে চারার দূরত্ব হবে ৫০ সে.মি.।

ভালো জাতের টমেটোর বীজ বপন করতে হবে। এ জাতের মধ্যে রয়েছে বাহার, বিনা টমেটো-৪, বিনা টমেটো-৫, বারি টমেটো-৩, ৪। অন্যদিকে হাইব্রিড এর মধ্যে সবল, মিন্টু ও বারি টমেটো-৫ বেশ ভালো জাতের। এই জাতের টমেটোর বীজের গাছ অধিক ফলন দিচ্ছে।

জমিতে তিন চারটি চাষ ও মই দিয়ে সাধারণভাবে জমি তৈরি করতে হয়। শেষ চাষের আগে নির্ধারিত পরিমাণ গোবর সারের অর্ধেক এবং পুরো টিএসপি সার ছিটিয়ে দিয়ে পুনরায় চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর চারা লাগানোর সময় গোড়ায় মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

ইউরিয়া ও পটাশ সমান দুই ভাগ করে চারা লাগানোর ১৫ দিন এবং ৩৫ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে। একর প্রতি ইউরিয়া ৮০-১০০ কেজি, টিএসপি ৬০-৮০ কেজি, এমপি ৬৮-৯২ কেজি, জিপসাম ২০-৩০ কেজি, বোরন ১-২ কেজি এবং ৪ টন গোবর প্রয়োগ করতে হবে।

শুষ্ক মৌসুমে চাষ করলে পানি সেচ দেয়া প্রয়োজন। ফসল ও মাটির অবস্থা বিবেচনা করে তিনবার সেচ দেয়া যেতে পারে।

জমির অবস্থা বুঝে হালকাভাবে ঝরনা দিয়ে গাছে পানি দিতে হবে। চারা লাগানোর পর আগাছা দেখা দিলে নিড়ানি দিয়ে জমির মাটি ঝুরঝুর করে দিতে হবে এবং হালকাভাবে আগাছাগুলো পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। ভালো ফলন ও নিখুঁত ফল পেতে টমেটো গাছে ঠেকনা দেয় প্রয়োজন।

পাশাপাশি দুইটি সারির মধ্যে ‘অ’ আকৃতির বাঁশের ফ্রেম তৈরি করে দিলে টমোটোর ফলন বৃদ্ধি পায়। গাছ যাতে অত্যধিক ঝোপালো না হয় সে জন্য প্রয়োজনে অতিরিক্ত ডালপালা ছাঁটাই করা উচিত। প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির সার প্রয়োগের আগে পার্শ্বকুশি ছাঁটাই করে দিতে হয়। এতে পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ কম হয় এবং ফলের আকার ও ওজন বৃদ্ধি পায়। নিড়ানি দিয়ে জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে।

টমেটোর ভালো ফলনের জন্য রোগ ও পোকামাকড় দমনের দিকেও নজর দিতে হবে। টমেটো ছিদ্রকারী পোকার জন্য ৫ শতাংশ জমিতে সবিক্রন ৪২৫ ইসি ২০ মি.লি. ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেতে কৃমি রোগ, গোড়া পচা রোগ দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে জমিতে চারা লাগানোর আগে ফুরাডন-৩ জি দিয়ে মাটি শোধন করে নিলে এ সব রোগের প্রকোপ কমে যায়। ঠিকমত পরিচর্যা করলে হেক্টরপ্রতি প্রায় ৭০- ৯০ টন পর্যন্ত ফলন হতে পারে।

জমি থেকে পাকা ফল তুলে ঘরে ২-৩ দিন রাখতে হবে যাতে ফলগুলো নরম হয়। নরম হওয়ার পর দুই ভাগে কেটে বীজগুলো একটি শুকনো কাচের অথবা প্লাস্টিকের পাত্রে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর বীজগুলো পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে কাচ বা প্লাস্টিকের পাত্রে মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে সংরক্ষণ করতে হবে।

জাতভেদে চারা লাগানোর ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পাকা টমেটো সংগ্রহ আরম্ভ করা যায়। টমেটো পাকা ও কাঁচা উভয় অবস্থাতেই সংগ্রহ করা যায়। প্রতি গাছ থেকে সাত থেকে আটবার টমেটো সংগ্রহ করা যায়।

ফলের নিচের দিকে একটু লালচে ভাব দেখা দিলে ফসল সংগ্রহের উপযোগী হয়। জাতভেদে টমেটোর ফলন শতাংশে ৮০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এভাবে নিয়ম মেনে টমেটো চাষ করলে বেশ ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com