আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

প্রতি কেজি আলুতে ৯ টাকা ভর্তুকি চায় হিমাগার মালিকরা

দেশে উদ্বৃত্ত আলু রয়েছে, যা নষ্ট হচ্ছে হিমাগারে। এ পরিস্থিতিতে প্রতি কেজি আলুতে ৯ টাকা ভর্তুকি দাবি করেছে হিমাগার মালিকদের সমিতি। এছাড়া ৯টি প্রস্তাবনা দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, চলতি বছর আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় মার্চ-এপ্রিল মাসে চারশ হিমাগারে প্রায় ৪০ লাখ টন আলু সংরক্ষিত হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে ২০ মেট্রিক টন আলু বিক্রি না হলে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অ্যাসোসিয়েশন প্রস্তাবগুলো হলো

১. ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীদের যে আলু হিমাগারে আছে সেই আলুর ওপর আর্থিক সহায়তা প্রদানে সরকার থেকে প্রতি কেজিতে ৯ টাকা ভর্তুকি প্রদান।

২. হিমাগার শিল্পকে বাঁচিয়ে তুলতে ৪ শতাংশ সরল সুদে ২০ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল করা।

৩. দ্রুত আলুর ব্যবহার বাড়াতে ত্রাণকার্য, কাবিখা, ভিজিএফ-ভিজিডি কার্ড এবং ওএমএসে আলু বিতরণে পদক্ষেপ গ্রহণ, পাশাপাশি জাতীয়ভাবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, এতিমখানা, জেলখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলে আলু খাওয়া বাধ্যতামূলক করা।

৪. এছাড়া সময় মতো বাজারজাতের উদ্দেশ্যে সব জেলা প্রশাসককে অধীনস্থ সংশ্লিষ্ট ডিলারদের হিমাগার থেকে সরবরাহ নিয়ে আলু বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ, সারাদেশে টিসিবির আওতাভুক্ত সব ডিলার ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ওএমএসের মাধ্যমে আলু বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া।

৫. আলু রপ্তানি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আমদানিকারক দেশের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত জাতের বীজ আমদানি ও বীজ উন্নয়ণকরণ এবং আলুর মাটিজনিত রোগ দূর করতে পদক্ষেপ গ্রহণ, রপ্তানি বাড়াতে বিদেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে বাজার অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এছাড়া সরকারের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি রেফার ভেসেল ক্রয় করার প্রস্তাব করা হয়।

৬. আলু রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা ২০ শতাংশ থেকে উন্নীত করে ৩০ শতাংশ ধার্যকরণের জন্য প্রস্তাব করা হয়।

৭. আলুর উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপণন ও রপ্তানি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বিএডিসি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে, এফবিসিসিআই ও বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠনের জন্য প্রস্তাব।

৮. আলুকে দ্বিতীয় প্রধান খাবার হিসেবে জনপ্রিয় করা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি উদ্যোগে সব গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারে পদক্ষেপ নেওয়া। সব বিভাগ, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আলুর তৈরি খাদ্যমেলা ও সুশীল সমাজকে নিয়ে প্রচার পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রস্তাব করা হয়।

৯. হিমাগারসমূহের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বিদ্যুৎ বিল স্থগিত রেখে পরবর্তীতে সারচার্জ ছাড়া কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ প্রদানের জন্য প্রস্তাব করা হয়।

১০. এছাড়া হিমাগার কৃষিভিত্তিক শিল্প বিবেচনায় এই শিল্পের উৎস কর প্রত্যাহারের দাবি করা হয় প্রস্তাবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- এফবিসিসিআই’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসতিয়াক আহমেদ, পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুছ, ময়নাকুটি কোল্ড স্টোরেজের চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর মোহাম্মদ ও টিএমএসএসের প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজ-চিনি আমদানিতে শুল্ক কমল

বাজারে পেঁয়াজ ও চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে শুল্ক কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনির নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পর এ শুল্ক কমান হলো। 

বৃহস্পতিবার এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের স্বাক্ষর করা এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।


বাজারে পেঁয়াজ ও চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে শুল্ক কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনির নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পর এ শুল্ক কমানো হলো। 

বৃহস্পতিবার এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের স্বাক্ষর করা এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

চিনির নতুন শুল্কহার কার্যকর থাকবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পেঁয়াজের নতুন শুল্কহার কার্যকর থাকবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর পেঁয়াজের শুল্ক প্রত্যাহার, অপরিশোধিত সয়াবিন তেল, পাম তেল ও চিনির শুল্ক কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

রাজশাহীর স্থানীয় বাজারে সবজির সমারোহ

রাজশাহীর পবা মোহনপুর উপজেলার এলাকাগুলোতে সব ধরনের সবজির ফলন ভালো হয়েছে। আজ উপজেলার বিধিরপুর হাট বারে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের সবজি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

‘করোনাভাইরাস সংকট সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি বিস্ময়কর গতিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে’

এই গতি এখন আরও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান

ভয়াবহ করোনাভাইরাস পরিস্থিতি জয় করেই বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত গতিতে তার ছন্দে ফিরে আসছে। বিশ্ব মোড়লরা সহজে টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে না পারায় অর্থনেতিক পুনরুদ্ধারের এই প্রক্রিয়া আরও গতি অর্জন করে উঠতে পারেনি। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মাথা পিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি গতো দু’বছরে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। এই গতি এখন আরও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।

গতিময় আধুনিক কৃষি, প্রবাসী আয় এবং রপ্তানির ওপর ভর করেই বাংলাদেশের অর্থনীতি এই শক্তিমত্তা দেখাচ্ছে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

শনিবার (৯ অক্টোবর) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) আয়োজিত “কোভিড পরবর্তী কৃষির ভূমিকা” বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন করার সময় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।

 তিনি আরও বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরেই মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির বিচারে এশিয়ার সবচেয়ে গতিময় দেশটির নাম বাংলাদেশ।করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৭.৮%। চীনে এই বৃদ্ধির হার ৬.৯%, ভারতে ৩.১% এবং ভিয়েতনামে ৪%।”

কৃষির অসামান্য সমর্থন ছাড়াও রপ্তানি ও প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ার কারণে প্রচুর টাকা গ্রামে যাচ্ছে। তাই গ্রামের অর্থনীতিতে ভোগ বেড়ে চলেছে। গ্রামে কৃষি মজুরিও বাড়ন্ত। আর সেখানে মোট আয়ের ৬০%আসছে কৃষি সংশ্লিষ্ট অকৃষি খাত থেকে। গ্রামের অর্থনীতি আধুনিক ও বহুমুখি হবার পেছনে এই অকৃষি আয়ের ভূমিকা অসামান্য বলেও জানান তিনি ।

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে গ্রামের মানুষের এই বাড়ন্ত ভোগ প্রবণতা। তবে করোনাভাইরাস না এলে  গ্রামে বিনিয়োগ আরও বাড়ত। 

আর্থিক খাতের ডিজিটাল রূপান্তর, বিশেষ করে মোবাইল ভিত্তিক আর্থিক সেবা, বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির এই গতিময়তাকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সমর্থন জুগিয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এ অর্থবছরে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৪%। কয়েক মাস আগেও এর চেয়ে ঢের কম বলেছিল। এডিবি বলেছে, আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮%। স্টান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক কয়েকদিন আগে বলেছে এই হার হবে ৭.২%।

অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, “আমি মনে করি প্রবৃদ্ধির হার সাত শতাংশের বেশিই হবে।এই প্রবৃদ্ধি যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় সেজন্য কৃষি, এমএসএমই এবং সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখা বেশ জরুরি।”

চলতি অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশের বেশি হবে আশাবাদ জানিয়ে ড. রহমান বলেন, “ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ যাতে আরও বাড়ে সেদিকে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। এক কোটি তিরিশ লক্ষ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের যে সমর্থন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন তার ইতিবাচক প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে পড়েছে।”

তবে সামাজিক পাটাতনের নীচের দিকের মানুষগুলোর কাছে সরকার সামাজিক সুরক্ষা দিলেও এদিকে আরও সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে। নতুন করে প্রণোদনার রোডম্যাপ গ্রহণ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। 

বুধবার (২০ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ। 

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ জানান, সরকারি নির্দেশনায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম যথারীতি চালু হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দামে আগুন

বিশ্বব্যাপী পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হারে বেড়েছে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম। গত বছরের তুলনায় জ্বালানির দাম গড়ে ৮০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। এখন কিছুটা কমে এলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ত্রৈ-মাসিক প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর গড়ে ৭০ ডলার থাকলেও আগামী বছর গড়ে ৭৪ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। আগামী বছর নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে বলে প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোস বলেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে শিগিগরই বিশ্বে মূল্যস্ফীতির উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হবে। যদি দাম বাড়তেই থাকে সে ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে চাপ বাড়বে। করোনার কারণে নিত্যপণ্যের দাম যে হারে কমেছিল এখন সেটি খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল থাকলে দেশগুলোর নীতি নির্ধারণে চাপ বাড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর কিছু নিত্যপণ্যের দাম ২০১১ সালের তুলনায় বেশি লক্ষ করা গেছে। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা এখন করোনার আগের পর্যায়ে ফিরেছে, তাই জ্বালানির চাহিদাও বেড়েছে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে চাহিদা স্বাভাবিক হলে দাম স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর (ব্রেন্ট, ডব্লিউটিআই এবং দুবাই) এ বছর গড়ে ৭০ ডলার (প্রায় ৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত থাকতে পারে। আগামী বছর এই দাম গড়ে ৭৪ ডলার (প্রায় ছয় হাজার ৩০০ টাকা) থাকতে পারে। উল্লেখ্য, করোনার প্রকোপ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম তরতর করে নামতে থাকে। চাহিদা না থাকায় এক পর্যায়ে ঋণাত্মক পর্যন্ত হয়ে যায়। গত বছর গড়ে যে দামে বিক্রি হয় এ বছর সেটি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জন বাফেস বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায়। তা ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়লে সার উৎপাদনের খরচও বেড়ে যায়। ফলে ফসল উৎপাদনে খরচও বাড়ে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে এলুমিনিয়াম এবং জিংকের উৎপাদন কমে গেছে। প্রতিবেদনে কৃষিপণ্যের বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ বছরের শুরুর দিকে বিশ্ববাজারে আগের বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ ভাগ। করোনার প্রকোপে গত বছর একেবারেই কমে গিয়েছিল নিত্যপণ্যের দাম। গত দুই প্রান্তিকে মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে কৃষিপণ্যের বাজার। এখন স্থিতিশীল থাকলেও কৃষিপণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে গড়ে ২৫ শতাংশ বেশি রয়েছে। করোনার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে কৃষিপণ্যের বাজার। আট বছরের মধ্যে এখন খাদ্য মূল্যসূচক সবচেয়ে বেশি। ভুট্টার দাম অতি সম্প্রতি কিছুটা কম হলেও গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ দাম বেড়েছে। গত মে মাসে প্রতি মেট্রিক টন ভুট্টা ৩০০ ডলার পর্যন্ত চড়েছিল। মূলত উৎপাদন কম হওয়া, পশুখাদ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভুট্টার দর বেড়েছিল। এখন সেপ্টেম্বরে ২৩০ ডলারে নেমে এসেছে ভুট্টার দর। সরবরাহ সংকটে চালের দাম এ বছরের শুরুর দিকে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়ে গিয়েছিল। গত ত্রৈ-মাসিক হিসাবে এটি ১৮ শতাংশ কমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গড়ে প্রতি মেট্রিক টন চাল এখন ৪০৬ ডলারে নেমেছে।

ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমে এলেও এখনো গত বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। মূলত দক্ষিণ আমেরিকার সয়াবিন ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পাম উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছিল। তা ছাড়া চীন সয়াবিনের আমদানি বাড়িয়েছে ব্যাপক হারে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com