আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

সাগরে বড় সাইজের প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে

চলতি ইলিশের মৌসুমে জেলেদের জালে বেশ বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে। বরগুনার আড়তদার, ট্রলার মালিক ও ট্রলার মালিক সমিতিকে সাগরে মাছ ধরারত জেলেরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুখবর জানাচ্ছেন। সাগরে ঝড়-বাদল যদি না থাকে তাহলে এ বছর ইলিশ ধরার রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। জেলেরা জানান, প্রতিটি ট্রলারে ৮০০ গ্রাম থেকে পৌনে দুই কেজি ওজনের প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও স্থানীয় বাজারে বড় সাইজের ইলিশ মাছ পাওয়া যাবে। সাগরে ঝড়-বাদল যদি না থাকে তাহলে এ বছর ইলিশের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।


বরগুনা জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, দেশের উৎপাদিত মোট ইলিশের ১৩% বরগুনা জেলায় আহরণ করা হয়। গত অর্থবছরে এ জেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ টন ইলিশের আহরণ ছিলো। বরগুনার পাথরঘাটায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইলিশ মৎস্য বন্দর এবং এখানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটিও (বিএফডিসি) অবস্থিত। ইলিশ মৌসুমে এ অবতরণ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে দুইশ’ টন রুপালি ইলিশ বেচা-কেনা হয়। গত দুই দিনে বিএফডিসি পাইকারি মাছ বাজারে যে ট্রলারগুলো এসেছে সেগুলোর জেলেরা ৮০০ গ্রাম থেকে পৌনে দুই কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি করেছে। তবে দামটা ছিল খুব চড়া। এক কেজি ওজনের ওপরের ইলিশের মণ ছিল ৪৬ হাজার টাকা এবং এক কেজি ওজনের নিচের ইলিশের মণ ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। প্রতিটি ট্রলারই ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করেছে জানালেন, পাথরঘাটা বিএফডিসি পাইকারি মাছ বাজারের মার্কেটিং অফিসার মো. অলিউল্লাহ। তিনি আরও জানান, গত এক সপ্তাহে এই বাজারে নদী ও সাগরের ৯১ হাজার ৭২৪ মণ ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। সাগরে ঝড়-বাদল যদি না থাকে তাহলে এ বছর ইলিশের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

নদীগুলোতে কম সংখ্যক হলেও বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে। ইলিশের আকার বড় হওয়ায় স্থানীয় বাজারে দামও খুব চড়া। এ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার দ’শ টাকা দরে আর তার চেয়ে একটু বেশি ওজন হলেই তা বেড়ে দেড় হাজার টাকায় উঠে যাচ্ছে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান। পাথরঘাটায় অতি সম্প্রতি ২ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি মাছ বেচাকেনা হয়েছে পাঁচ হাজার ৯০০ টাকায়।
পাথরঘাটা বিএফডিসি পাইকারি মৎস্য বাজারের বাবুরাম কর্মকার জানান, এ বছর ইলিশ মৌসুমের প্রথমেই ইলিশ মাছ শিকারের ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা পালন করেছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ২৩ জুলাই জেলেরা সাগরে গিয়ে ইলিশ মাছ ধরা শুরু করেন। প্রতিটি ট্রলারে কমবেশি সবারই জালে ইলিশ ধরা পড়েছে। বিএফডিসি পাইকারি মাছ বাজারে ৯৯ জন আড়তদার। সবাই ট্রলার মালিকদের কমবেশি দাদন দিয়ে ট্রলার সাগরে পাঠিয়েছেন। পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মো. মারুফ হোসেন জানান, সাগরে ৬৫ দিন ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকায় মাছের সাইজ বড় হয়ে গেছে এবং মাছগুলো কিনারের দিকে এসেছে। এখন মাছের যে চড়া দাম তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


সরকারি নিষেধাজ্ঞায় প্রতিবছর ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ শিকার বন্ধ থাকে। আবার ৩০ জুন পর্যন্ত আট মাসের বেশি সময় ধরে জাটকা ধরা, বিক্রি, পরিবহণ নিষিদ্ধ থাকে। এরমধ্যে গতবছর থেকে সাগরে ২০ মে হতে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২৪ জুলাই থেকে ১১ অক্টোবর তিন মাস এবং ৩ নভেম্বর থেকে ১৯ মে পর্যন্ত জেলেরা ইলিশ ধরতে পারবে। সরকারি বিধি নিষেধের সাথে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে লকডাউনে কর্মবিরতি এবং ফলশ্রুতিতে দূষণমুক্ত হয়েছে নদীর পানি। প্রতিকূল অবস্থায় বরাবরের মতো নদীতে জেলেদের জালও পড়েনি খুব একটা। সেই সাথে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে নদীগুলো থেকেছে কানায় কানায় পূর্ণ। জেলেরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে সার্বিক পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে; ব্যাপক ইলিশ আহরণে বলে ইলিশের জেলা বরগুনার জেলে, ব্যবসায়ী, সাধারন ক্রেতা, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন।
বরগুনা জেলা মৎস্য বিভাগের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুব আলম জানান, মৌসুমি বায়ু সময়মতো সক্রিয় হওয়ায় এবার সার্বিক আবহাওয়া ইলিশের অনুকূলে।


বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক ও মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান,এবছর নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে। ইলিশ চলাচলের পথও সুগম ও সাবলীল। নদীগুলোতে ইলিশ আগমনের পরিমাণও অনেক বেড়েছে। তাই এ ইলিশ মৌসুমে প্রচুর ইলিশ প্রাপ্তিসহ ভালো বাণিজ্যেরও আশা করছি।
বরগুনার জেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, অনুকুল পরিবেশ-প্রতিবেশ, প্রাকৃতিক বৈরীতা ও সুবিধা, সরকারি বিধি-নিষেধ, করোনাকাল এবং সর্বোপরি জেলেদের সচেতনতা মিলিয়েই প্রচুর ইলিশ আহরণের সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে। বেকার সময়ে সরকার যেভাবে জেলেদের সহায়তা দিয়ে আসছে সে কারনে জেলেদের মধ্যে অবৈধ মাছ শিকারের প্রবনতা একেবারেই কমে এসেছে। ইলিশের বাম্পার উৎপাদনের আশায় রয়েছি।

মৎস্য

কুশিয়ারায় ধরা পড়ল ১৫০ কেজির বাঘাইড়

সিলেটের কুশিয়ারা নদীতে ধরা পড়েছে প্রায় ১৫০ কেজি ওজনের বাঘাইড়। গতকাল শুক্রবার রাতে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ কুশিয়ারা নদী থেকে জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে সেটি শনিবার ভোরে সিলেটের কাজীরবাজার আড়তে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়।

কাজীরবাজার থেকে আজ শনিবার সকালে মাছটি লালবাজারে নিয়ে যান ব্যবসায়ী বেলাল আহমদ। মাছটি দেখতে শনিবার সকাল থেকে ভিড় জমিয়েছিলেন উৎসুক মানুষ। এ সময় অনেককে মুঠোফোনে মাছটির ছবি তুলতে দেখা যায়।বিজ্ঞাপন

লালবাজারের ব্যবসায়ী বেলাল আহমদ জানান, ‘শুক্রবার রাতে ফেঞ্চুগঞ্জ অংশের কুশিয়ারা নদী থেকে জেলেরা মাছটি ধরেন। পরে সেটি বিক্রির জন্য আড়তে নিয়ে এলে আমি তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করে লালবাজারে নিয়ে আসি। আস্ত মাছটি সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রির জন্য দাম হাঁকানো হয়েছিল। তবে আস্ত মাছ কেনার ক্রেতা না থাকায় কেজি দরে বিক্রি করতে বেলা দুইটার দিকে মাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এর আগে অনেকেই কেজি দরে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে নাম ও মুঠোফোন নম্বর দিয়ে গিয়েছিলেন। দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত ২৩ মার্চ লালবাজারে প্রায় ২০০ কেজি ওজনের এবং ১১ এপ্রিল ৬০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে আস্ত মাছ কেনার কেউ না থাকায় সেগুলো কেটে কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছিল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পদ্মায় ধরা পড়েছে ১৩ কেজির পাঙাশ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কুশাহাটা এলাকায় পদ্মা নদীতে গতকাল সোমবার মধ্যরাতে খালেক সরদার ও তাঁর সহযোগীদের জালে ১৩ কেজি ওজনের একটি পাঙাশ মাছ ধরা পড়েছে। মাছটি স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ১৬ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নেন। মাছটি বর্তমানে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে আটটার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দেখা যায়, ৫ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের সঙ্গে রশি দিয়ে একটি বড় পাঙাশ মাছ বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় মাছের ক্রেতা শাকিল-সোহান মৎস্য আড়তের পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আজ সকালে দৌলতদিয়া ঘাট বাজারের দুলাল সরদারের আড়তে তিনি ও সম্রাট শাহজাহান শেখ মাছটি দেখে নিলামে অংশ নেন। এ সময় পাঙাশ মাছটি ওজন দিয়ে দেখেন ১৩ কেজি ১০০ গ্রামের মতো হয়েছে। পরে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে মোট ১৬ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে তাঁরা কিনে নেন।বিজ্ঞাপন

শাকিল-সোহান মৎস্য আড়তের পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, মাছটি দেখতে ঢাকাফেরত অনেক উৎসুক মানুষ ভিড় করেন। মাছটি বিক্রি করতে ঢাকা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে তিনি মাছটি বিক্রি করতে চান।

গোয়ালন্দ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল শরীফ বলেন, পদ্মা নদীর মাছ এমনিতেই সুস্বাদু। বড় কোনো মাছ হলে তো কথাই নেই। পদ্মার বড় মাছের চাহিদা সব সময়ই বেশি। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কাতলা–জাতীয় বড় মাছ ধরা পড়ছে বেশি। পাঙাশ মাছ মাঝেমধ্যে ধরা পড়ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

চট্টগ্রামের হালদাতে নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ

চট্টগ্রাম, ২৫ মে (ইউএনবি)- দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। শনিবার ভোর থেকে ডিম আহরণকারীরা ডিম সংগ্রহ শুরু করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ শুরু হলে নদীর পাড়ে অবস্থান নেন ডিম আহরণকারীরা। ভারি বর্ষণের ফলে হালদার সঙ্গে সংযুক্ত খাল, ছরা ও নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয় এবং রুইজাতীয় (রুই, মৃগেল, কাতল, কালবাউশ) মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে। সাধারণত, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে প্রবল বর্ষণ হলে মা মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় ঢলের প্রকোপ হয়নি। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝিতে নদীতে মা মাছ নগন্য পরিমাণ ডিম ছেড়েছিল। মা মাছ সাধারণত অমাবস্যা, অষ্টমী ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে ডিম ছাড়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মা মাছ সংরক্ষণ, ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়া সংস্কার, কুয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগের কারণে হালদায় ডিম সংগ্রহের পরিমাণ এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। হালদা থেকে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা। এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ কারণে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই হালদাকে গুরুত্ব দিয়ে নানা উদ্যোগ নিই। তিনি বলেন, ডিম সংগ্রহকারীরা যাতে ভালো ডিম সংগ্রহ করতে পারেন এ জন্য মা মাছ সংরক্ষণের উপর জোর দিই। ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ, নিষিদ্ধ জাল ধ্বংসসহ হালদার দূষণ কমাতে নিয়মিত অভিযান চালাই। ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়াগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিই। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করি। তিনি আরও বলেন, মাছুয়া ঝর্ণা, শাহ মাদারি এবং মদুনা ঘাটসহ ৩টি হ্যাচারির ১০৮টি কংক্রিট ও ১০টি প্লাস্টিকের কুয়ায় হালদার ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিলো। তবে প্রায় ৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এসব কুয়ার ৪৫টি নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হওয়া কুয়াগুলো সংস্কার করেছি আমরা। প্রয়োজন হলে আরও কুয়া তৈরি করে দেবে উপজেলা প্রশাসন- এ কথা জেলেদের বলেছি। হালদায় জেলেদের ডিম সংগ্রহে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে চাই আমরা।

চট্টগ্রাম, ২৫ মে (ইউএনবি)- দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। শনিবার ভোর থেকে ডিম আহরণকারীরা ডিম সংগ্রহ শুরু করছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ শুরু হলে নদীর পাড়ে অবস্থান নেন ডিম আহরণকারীরা। ভারি বর্ষণের ফলে হালদার সঙ্গে সংযুক্ত খাল, ছরা ও নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয় এবং রুইজাতীয় (রুই, মৃগেল, কাতল, কালবাউশ) মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে।


সাধারণত, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে প্রবল বর্ষণ হলে মা মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় ঢলের প্রকোপ হয়নি। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝিতে নদীতে মা মাছ নগন্য পরিমাণ ডিম ছেড়েছিল। মা মাছ সাধারণত অমাবস্যা, অষ্টমী ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে ডিম ছাড়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মা মাছ সংরক্ষণ, ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়া সংস্কার, কুয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগের কারণে হালদায় ডিম সংগ্রহের পরিমাণ এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।


হালদা থেকে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।


হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা। এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ কারণে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই হালদাকে গুরুত্ব দিয়ে নানা উদ্যোগ নিই।

তিনি বলেন, ডিম সংগ্রহকারীরা যাতে ভালো ডিম সংগ্রহ করতে পারেন এ জন্য মা মাছ সংরক্ষণের উপর জোর দিই। ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ, নিষিদ্ধ জাল ধ্বংসসহ হালদার দূষণ কমাতে নিয়মিত অভিযান চালাই। ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়াগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিই। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করি।

তিনি আরও বলেন, মাছুয়া ঝর্ণা, শাহ মাদারি এবং মদুনা ঘাটসহ ৩টি হ্যাচারির ১০৮টি কংক্রিট ও ১০টি প্লাস্টিকের কুয়ায় হালদার ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিলো। তবে প্রায় ৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এসব কুয়ার ৪৫টি নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হওয়া কুয়াগুলো সংস্কার করেছি আমরা। প্রয়োজন হলে আরও কুয়া তৈরি করে দেবে উপজেলা প্রশাসন- এ কথা জেলেদের বলেছি। হালদায় জেলেদের ডিম সংগ্রহে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে চাই আমরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

দাম কমলো ভোজ্য তেলের

লেখক

ভোজ্য তেলের দাম প্রতি লিটারে ৩ টাকা কমানো হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন দাম হ্রাস করেছে। সে অনুযায়ী বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারের ৩ টাকা কমে হবে ১৪১ টাকা।
সোমবার সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রোজা এবং করোনার এই সংকটে ভোক্তা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধে ঈদ পর্যন্ত ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ৩ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন গত ২৫ এপ্রিল লিটারে ৫ টাকা দাম বৃদ্ধি করে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আজ দাম লিটারে ৩ টাকা কমানো হলো। ফলে ১৪৪ টাকার তেল এখন ১৪১ টাকায় পাওয়া যাবে।


সংগঠনটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এর প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়েছে। তবে বাজার যেন কোনভাবে অস্থিতিশীল না হয়, এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উৎপাদন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও স্থানীয় বাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারে এর সমন্বয় করা হবে বলে তারা জানিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

সৈয়দপুরে অর্গানিক কৈ মাছ বাজারজাত শুরু

লেখক

জেলার সৈয়দপুরে বাজারজাত শুরু হয়েছে অর্গানিকভাবে চাষকরা কৈ মাছ। রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়া কালচার (রাস) পদ্ধতিতে বানিজ্যিক চাষ করে ওই মাছ বাজারজাত করছে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মছে হাজীপাড়া গ্রামের জামান অ্যাকুয়া ফিশ ফার্ম। গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিক ওই বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করে ফার্মটি।


ওই ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী মো. কামরুজ্জামান কনক জানান, রাস পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছ ট্যাঙ্কে চাষ করা হয়। এ মাছ চাষে কোন রকম রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয় না। এর ফলে উৎপাদিত মাছ খেতে খুব সুস্বাদু ও দুর্গন্ধমুক্ত হয়।
তিনি বলেন, “চলতি বছরে আমরা বানিজ্যিক আকারে রাস পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছি। গতকাল বুধবার থেকে উৎপাদিত ভিয়েতনামী জাতের কৈ মাছ আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সানী খান মজলিস বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। এখন প্রতিদিন ফার্মে ও হোম ডেলিভারীর মাধ্যমে কৈ মাছের বিক্রি কার্যক্রম চলছে।


সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সানী খান মজলিস বলেন, “বর্তমানে দেশের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে রাস পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ পদ্ধতিতে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায়। পানি বার বার পরিশোধিত হয়ে মাছের জন্য উপযোগী করা হয়। এর ফলে পানি অপচয় হওয়ার সুযোগ নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চীনা রকেট: পৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাকাশে ঘুরছে দুইশ ‘টাইম বোমা’

চীনা রকেট: পৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাকাশে ঘুরছে দুইশ ‘টাইম বোমা’

জামালপুরের ছোট্ট মেয়ে আসিয়ার সুখের স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

জামালপুরের ছোট্ট মেয়ে আসিয়ার সুখের স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

ঢাকার উত্তরখানে মরিয়ম বেগম হেনার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮২

ঢাকার উত্তরখানে মরিয়ম বেগম হেনার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮২

দৃষ্টিনন্দন কোলন সেন্ট্রাল মসজিদে গম্বুজের পুরোটাই কাঁচ আর কংক্রিটের

দৃষ্টিনন্দন কোলন সেন্ট্রাল মসজিদে গম্বুজের পুরোটাই কাঁচ আর কংক্রিটের

চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে যেভাবে অভাবনীয় সফলতা পেলেন মানিক

চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে যেভাবে অভাবনীয় সফলতা পেলেন মানিক

মায়ার বন্ধন আর মানবতার এক স্বর্গ ভ্যালেরি এন টেইলরের সিআরপি

মায়ার বন্ধন আর মানবতার এক স্বর্গ ভ্যালেরি এন টেইলরের সিআরপি

ঢাকার উত্তরখানে মেহেরুন্নেসার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮১

ঢাকার উত্তরখানে মেহেরুন্নেসার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮১

যুক্তরাষ্ট্রে মারুফা হায়াৎ ও মোহ. হায়াৎ আলী দম্পতির আঙিনা কৃষি,পর্ব ৭৮

যুক্তরাষ্ট্রে মারুফা হায়াৎ ও মোহ. হায়াৎ আলী দম্পতির আঙিনা কৃষি,পর্ব ৭৮

আশানুরূপ ইলিশ না পেলেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আড়তে

আশানুরূপ ইলিশ না পেলেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আড়তে

‘লাউড়ের রাজধানী’ এখন ‘কাঁঠালের রাজ্য’

‘লাউড়ের রাজধানী’ এখন ‘কাঁঠালের রাজ্য’

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com