আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে খামারিদের ১১ দফা দাবি

শনিবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ মিলনায়তনে প্রান্তিক খামারি সভায় এসে এসব কথা জানান খামারিরা। একই সঙ্গে দেশের পোলট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়নে কার্যকরী জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং চলমান সংকট দূরীকরণে ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। খামারিরা বলছেন, ফিডের দাম বৃদ্ধি, বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দেয়াসহ নানামুখী সিন্ডিকেট সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। পোলট্রি খাতে ব্যয় করে কোনো লাভ নেই। তাহলে বেকাররা কীভাবে এগিয়ে আসবে আর খামারিরা টেকসইভাবে এ ব্যবসা করবে বলে প্রশ্ন করেন তারা। আরও

 এ জন্য এ খাতের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, ফিড ও বাচ্চার দাম যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি বন্ধ করা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান, ওষুধ ও ভ্যাকসিন সহজলভ্য করাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে জোর দাবি জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব কৃষিবিদ ড. শেখ মহ. রেজাউল ইসলাম, প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য বিজ্ঞানী ড. লতিফুল বারী,  বিশেষ অতিথি ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ এর সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম । সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এসএমই ফোরাম প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা চাষি মামুন। সভায় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ থেকে আগত করোনা ও অন্যান্য সংকটে বিপর্যস্ত প্রান্তিক খামারিরা।

এগ্রোবিজ

কেমন হবে আগামীর কৃষি:

বিভিন্ন কৃষি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে কৃষিবিদদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে আমরা পেয়েছি অধিকাংশ ফসলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উন্নত ফলনশীল জাত। এর ফলে বেড়েছে ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা এবং দেশের মোট খাদ্য উৎপাদন।

বর্তমানে যেভাবে সরকারী এবং বেসরকারীভাবে কৃষির উপর গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন করবে ইনশাল্লাহ।

যদিও আমাদের কৃষি আমার মতে সঠিক পথেই এগোচ্ছে, কিন্তু কথা হলো আগামী দিনে কেমন হবে আমাদের কৃষি। আমাদের কৃষি উৎপাদন কি দিন দিন বাড়তেই থাকবে? বিজ্ঞান সম্মত উত্তর হবে বাড়তেই থাকবে না কিন্তু আরো উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। কেননা আমাদের ফসলের জাত সমূহের উৎপাদন ক্ষমতা উপযুক্ত পরিবেশে আরো বেশি। প্রশ্ন এখানেই যে, আমরা চাষাবাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ কি ধরে রাখতে পারব? প্রতিবছর কৃষি জমি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে বাড়ি-ঘর ও শিল্প কারখানা নির্মানের জন্য। নিবিড় চাষাবাদের ফলে আমাদের মাটির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে। চাষযোগ্য জমিতে লবনাক্ততা বাড়ছে দিন দিন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষির উপর, ফলে উৎপাদন দিন দিন কমছে। এসব সমস্যার বাহিরে যে সমস্যা আমাদের জন্য অদূর ভবিষ্যতে প্রকট হয়ে দাড়াবে তা হলো আর্সেনিক বিষাক্ততা।

জমিতে ফসল ফলানোর জন্য শতকরা ৫ ভাগ জৈব পদার্থ থাকা জরুরী। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ জমিতে এর পরিমাণ মাত্র শতকরা ২ ভাগ এর কাছাকাছি। এছাড়াও আমাদের মাটিতে গাছের বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদন এর পরিমাণ আশংকাজনক হারে কমে গেছে। ৯০ এর দশকে আমাদের জমিতে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট সার প্রয়োগ করার প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু এখন আমাদের জিংক, বোরন সার জমিতে প্রয়োগ করতে হচ্ছে এবং আশংকা করা হচ্ছে যে, অদূর ভবিষ্যতে মাটি থেকে গ্রহণকৃত ১৪টি খাদ্য উৎপাদনের অধিকাংশ সার হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে। এর ফলে আমাদের জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাবে।

বাংলাদেশের ২০ ভাগ অঞ্চল উপকূলীয় এবং দেশের চাষযোগ্য জমির ৩০ ভাগ এই উপকূলীয় অঞ্চলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো যে, আমাদের অধিকাংশ উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমান দিন দিন বাড়ছে। ফলে এসব অঞ্চলে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। উপকূলীয় অধিকাংশ অঞ্চলে শুধুমাত্র কিছু স্থানীয় লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত বছরে একবার চাষ করা হয়। ফলে আশানুরুপ ফলনও পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এসব কিছু ছাড়িয়ে আর্সেনিক বিষাক্ততা আমাদের কৃষির জন্য। স¤প্রতি এক গবেষনা সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের ৬১টি জেলায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে। অপরিকল্পিতভাবে ভুগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এই আর্সেনিক দূষণের প্রধান কারণ। কৃষিবিদদের জন্য চিন্তার কারণ হলো যে, আর্সেনিক দূষিত পানি দ্বারা যে সকল ফসলে সেচ প্রদান করা হয় সেসব ফসলের খাদ্যপোযোগী অংশে থাকে আর্সেনিকের উপস্থিতি।

অতি সমপ্রতি আমরা পাটের জিনোম আবিষ্কার করেছি। এ থেকে প্রতীয়মান হয়ে যে, গবেষণা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। কিন্তু এসব সমস্যা মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সরকারের কৃষি বান্ধব নীতিমালা এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ নিশ্চিত করা। আমার বিশ্বাস প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ সুবিধা পেলে আমাদের কৃষি গবেষকরা এসব সমস্যা সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করে কৃষিকে আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

“বসতবাড়িতে সবজি চাষ সুস্থ থাকি বারো মাস”

বসতবাড়িতে সবজি চাষ সুস্থ থাকি বারো মাস”
 দেহের পুষ্টির চাহিদা পূরনের জন্য এবং শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখার জন্য আমরা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় প্রচুর সবজি রাখি। বাংলাদেশে বর্তমানে অপুষ্টি একটি প্রধান সমস্যা যদিও আমরা খাদ্যে স্বয়ং সর্ম্পূনতা অর্জন করতে পেনেছি। আর বাড়ির আশেপাশে সবজি চাষ কওে খুব সহজেই আমরা এ অভাব পূরণ করতে পারি। যেহেতু আমাদের জনসংখ্যা অধিক এবং কৃষিভূমি তুলনামূলকভাবে অনেক কম তাই বসতবাড়ির আশেপাশে পতিত জমিতে এবং বাসার ছাদে সবজি চাষ করেত পারি। এভাবে নিজেরা নিজেদের পরিচর্যায় নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত পুষ্টিকর সবজি চাষ করে আমরা সুস্থ ও সবল দেহ ও মনের অধিকারী হতে পারি।

মাথাপিছু সবজির প্রাপ্যতাঃ
FAO এর মতে প্রতিদিন মাথাপিছু ২২০ গ্রাম সবজি গ্রহণ করা উচিত । কিন্তু আমাদের দেশে তার অর্ধেকও গ্রহন করা হয় না। তাই এই হার বাড়াতে হলে বাড়ির আশে-পাশে সবজি উৎপাদনের কোন বিকল্প নাই।

পুষ্টি নিরাপত্তার ভূমিকাঃ
দেশের বিপুল দরিদ্র্য জনগোষ্ঠির পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে হলে অবশ্যই বাড়ির আশে-পাশে অধিক পরিমাণে সব ধরনের সবজি চাষ করতে হবে । কারন সব ধরণের সবজিতে বিভিন্ন রকমের ভিটামিন , খনিজ লবণ , প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। যা আমাদেরকে সুস্থ, সবল এবং রোগমুক্ত রাখার জন্য খুব বেশী দরকার।

নিরাপদ খাদ্যে ভূমিকাঃ
বসতবাড়ির আশে-পাশে পতিত জমিতে বিভিন্ন রকম সবজি চাষ করে আমরা আমাদের নিজেদের পুষ্টি চাহিদা নিজেরাই পূরণ করতে পারি। এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত সবজি কীটনাশক ও অন্যান্য ভেজালমুক্ত ফলে আমরা সহজেই নিরাপদ খাদ্র পেতে পারি। কেননা বাজার থেকে প্রাপ্ত সবজি বিভিন্ন ভেজালযুক্ত হওয়ায় আমাদেরকে বিভিন্ন ধরণের মারাত্বক রোগের হুমকীর মধ্যে পড়তে হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছি। এমতাবস্থায় নির্ভেজাল সবজি এবং পুষ্টির চাহিদা পূরনে বসতবাড়ির আশে-পাশে সবজি চাষের কোন বিকল্প নাই।

দারিদ্র্য -বিমোচনে ভূমিকাঃ
আমাদেও গ্রামঞ্চলে বাড়ির আশে-পাশে যেসব জায়গা পড়ে তাকে আর অল্প অংশেই বিভিন্ন রকম সবজি চাষ কওে আমরা যেমন আমাদের চাহিদা পূরণ করতে পারি তেমনি বাজারে বিক্রি করে নগদ অর্থও পেতে পারি। আর এটা করতে পারলে গ্রামাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠির দারিদ্র্য বিমোচন করাও সম্ভব হবে।

মোট সবজি উৎপাদনে ভূমিকাঃ
বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও জনসংখ্যার তুলনায় তা প্রায় অপ্রতুল।জনসংখ্যা বড়ছে এবং চাষযোগ্য ভূমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। মাঠে সবজি উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। তাই দেশের মোট সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হলে বসতবাড়ির আশে-পাশে সবজি চাষই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন এটা আমাদেও নিঃসন্দেহে একটা বড় অর্জন। কিন্তু দারিদ্র্য পীড়িত বিপুল জনগোষ্ঠির এই দেশে পুষ্টির ব্যাপক ঘাটতি রয়ে গেছে। এই ঘাটতি পূরণ এবং সুস্থ-সবল ও সমৃদ্ধ জাতি গড়তে হলে বসতবাড়ির আশে-পাশে সবজি চাষের ওপর সর্বাত্বক গুরুত্ব দেয়া উচিত। আর এটা করতে পারলে পুষ্টির চাহিদা পূরনের পাশাপাশি নির্ভেজাল ও নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করে দেশের মানুষকে রোগমুক্ত রাখা সম্ভব। এজন্য বসত –বাড়ির আশে-পাশে  সবজি চাষের কোন বিকল্প নেই। আজ আমাদের একটাই স্লোগান হওয়া উচিত “বসতবাড়িতে সবজি চাষ সুস্থ থাকি বারো মাস ”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পরিবেশ আলোকচিত্রী ২০২১: এ বছরের পুরস্কার বিজয়ী ও চূড়ান্ত পর্বে আসা ছবির তালিকায় আছেন বাংলাদেশের আলোকচিত্রীরা

এনভায়ারমেন্টাল ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার ২০২১ – বর্ষসেরা পরিবেশ আলোকচিত্রী ২০২১ – নির্বাচিত হয়েছেন স্পেনের আলোকচিত্রী আন্তোনিও অ্যারাগন রিনানসিও। তার তোলা গানার আফিয়াডেনিইগবা সমুদ্র সৈকতে উপকূলীয় ভাঙনে বিধ্বস্ত একটি বাসাবাড়ির মেঝেতে ঘুমন্ত এক শিশুর ছবি এবছরের সেরা পরিবেশ আলোকচিত্রের পুরস্কার পেয়েছে।

এনভায়ারমেন্টাল ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার ২০২১ - বর্ষসেরা পরিবেশ আলোকচিত্রী ২০২১ - নির্বাচিত হয়েছেন স্পেনের আলোকচিত্রী আন্তোনিও অ্যারাগন রিনানসিও। তার তোলা গানার আফিয়াডেনিইগবা সমুদ্র সৈকতে উপকূলীয় ভাঙনে বিধ্বস্ত একটি বাসাবাড়ির মেঝেতে ঘুমন্ত এক শিশুর ছবি এবছরের সেরা পরিবেশ আলোকচিত্রের পুরস্কার পেয়েছে।
এনভায়ারমেন্টাল ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার ২০২১ – বর্ষসেরা পরিবেশ আলোকচিত্রী ২০২১ – নির্বাচিত হয়েছেন স্পেনের আলোকচিত্রী আন্তোনিও অ্যারাগন রিনানসিও। তার তোলা গানার আফিয়াডেনিইগবা সমুদ্র সৈকতে উপকূলীয় ভাঙনে বিধ্বস্ত একটি বাসাবাড়ির মেঝেতে ঘুমন্ত এক শিশুর ছবি এবছরের সেরা পরিবেশ আলোকচিত্রের পুরস্কার পেয়েছে।

এই ছবির নাম ফটোগ্রাফার দিয়েছেন ‘দ্য রাইজিং টাইড সান্স’ (জোয়ার পানির শিশুপুত্ররা)। ছবিতে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।

মি. রিনানসিও পুরস্কার মূল্য হিসাবে পেয়েছেন দশ হাজার পাউন্ড।

‘এনভায়ারমেন্টাল ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার’ বা বর্ষসেরা পরিবেশ আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার এটা ১৪তম বছর। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিবেশের ওপর বিশ্বের সবচেয়ে উদ্দীপনামূলক ফটোগ্রাফিগুলো তুলে ধরা হয়।

এই পুরস্কারের মধ্যে দিয়ে মানুষের বেঁচে থাকার ক্ষমতা, এই লক্ষ্যে তাদের সৃজনশীলতা এবং পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানে সাড়া দেবার প্রয়াসকে উৎসাহিত করা হয়।

এ বছরের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে গ্লাসগোয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬এ।

নিচে রয়েছে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী অন্যান্য ছবিগুলো। আলোকচিত্রীদের নিজেদের দেয়া ছবির বর্ণনাসহ ছবিগুলো পরিবেশ প্রতিকূলতার নানা দিক তুলে ধরেছে।

ইয়াং এনভায়ারমেন্টাল ফটোগ্রাফার অফ দ্যা ইয়ার: বর্ষসেরা তরুণ পরিবেশ আলোকচিত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন আমান আলী, দিল্লির যমুনা ঘাটে তার তোলা ছবির নাম – আগুন।

''ভারতের দিল্লিতে যমুনা নদীর ঘাটে ধেয়ে আসা দাবানল নেভানোর চেষ্টা করছে এক কিশোর।"
”ভারতের দিল্লিতে যমুনা নদীর ঘাটে ধেয়ে আসা দাবানল নেভানোর চেষ্টা করছে এক কিশোর।”

”ভারতের দিল্লিতে যমুনা নদীর ঘাটে ধেয়ে আসা দাবানল নেভানোর চেষ্টা করছে এক কিশোর।”

রেজিলিয়েন্ট ক্যাটেগরিতে পুরস্কার: ‘সহনশীলতা’ সিরিজের সেরা ছবি হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছেন বাংলাদেশের নোয়াখালিতে তোলা আশরাফুল ইসলামের ছবি – সার্ভাইভ ফর অ্যালাইভ (বেঁচে থাকার জন্য)

শুষ্ক ফেটে যাওয়া জমির ফাঁকে একটু ঘাসের সন্ধানে ভেড়ার পাল।  বাংলাদেশে চরম খরার কারণে সব ধরনের প্রাণীর জীবন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুষ্ক ফেটে যাওয়া জমির ফাঁকে একটু ঘাসের সন্ধানে ভেড়ার পাল। বাংলাদেশে চরম খরার কারণে সব ধরনের প্রাণীর জীবন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুষ্ক ফেটে যাওয়া জমির ফাঁকে একটু ঘাসের সন্ধানে ভেড়ার পাল।

বাংলাদেশে চরম খরার কারণে সব ধরনের প্রাণীর জীবন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্লাইমেট অ্যাকশন ক্যাটেগরিতে বিজয়ী: ছবির নাম ‘দ্য লাস্ট ব্রেথ’- তুলেছেন কেনিয়ার নাইরোবিতে কেভিন অনিয়ানগো।

এক কিশোরের পেছনে দেখা যাচ্ছে বালির ঝড় উঠেছে- এর মধ্যে সে নিঃশ্বাসের জন্য অক্সিজেন নিচ্ছে গাছ থেকে। আগামী দিনে যে পরিবর্তন আসছে এই ছবিতে তা নিয়ে রয়েছে শিল্পীর কল্পনা।
এক কিশোরের পেছনে দেখা যাচ্ছে বালির ঝড় উঠেছে- এর মধ্যে সে নিঃশ্বাসের জন্য অক্সিজেন নিচ্ছে গাছ থেকে। আগামী দিনে যে পরিবর্তন আসছে এই ছবিতে তা নিয়ে রয়েছে শিল্পীর কল্পনা।

“এক কিশোরের পেছনে দেখা যাচ্ছে বালির ঝড় উঠেছে- এর মধ্যে সে নিঃশ্বাসের জন্য অক্সিজেন নিচ্ছে গাছ থেকে। আগামী দিনে যে পরিবর্তন আসছে এই ছবিতে তা নিয়ে রয়েছে শিল্পীর কল্পনা।”

পানি এবং নিরাপত্তা ক্যাটেগরিতে বিজয়ী: সন্দীপনি চট্টেপাধ্যায়- ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দামোদর নদের ছবি তুলেছেন তিনি । ছবির নাম – গ্রিন ব্যারিয়ার- সবুজের বাধা

অস্বাভাবিক বর্ষা মরশুম আর খরার কারণে ভারতের দামোদর নদ ভরে উঠেছে শ্যাওলার আস্তরণে। শ্যাওলার বিস্তারের কারণে নদীর জলে আলো ঢুকতে পারে না, ফলে জলের নিচে জলজ জীবগুলো অক্সিজেন শুষে নিতে পারে না। এর প্রভাব পড়ছে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য আর পরিবেশের ওপর।
অস্বাভাবিক বর্ষা মরশুম আর খরার কারণে ভারতের দামোদর নদ ভরে উঠেছে শ্যাওলার আস্তরণে। শ্যাওলার বিস্তারের কারণে নদীর জলে আলো ঢুকতে পারে না, ফলে জলের নিচে জলজ জীবগুলো অক্সিজেন শুষে নিতে পারে না। এর প্রভাব পড়ছে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য আর পরিবেশের ওপর।

“অস্বাভাবিক বর্ষা মরশুম আর খরার কারণে ভারতের দামোদর নদ ভরে উঠেছে শ্যাওলার আস্তরণে।

“শ্যাওলার বিস্তারের কারণে নদীর জলে আলো ঢুকতে পারে না, ফলে জলের নিচে জলজ জীবগুলো অক্সিজেন শুষে নিতে পারে না। এর প্রভাব পড়ছে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য আর পরিবেশের ওপর।”

এনভায়রমেন্টস অফ দ্যা ফিউচার ক্যাটেগরি: ভবিষ্যতের পরিবেশ বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন ইতালির মিশেল লাপিনি। মডেনার নোনানতোলায় পানারো নদীতে তোলা এই ছবির নাম তিনি দিয়েছেন ‘ফ্লাড’।

অতিবৃষ্টি আর গলে যাওয়া বরফের পানির ঢলে প্লাবিত পো উপত্যকার পানারো নদীতে ডুবে যাওয়া একটি বসতবাড়ি।
অতিবৃষ্টি আর গলে যাওয়া বরফের পানির ঢলে প্লাবিত পো উপত্যকার পানারো নদীতে ডুবে যাওয়া একটি বসতবাড়ি।

“অতিবৃষ্টি আর গলে যাওয়া বরফের পানির ঢলে প্লাবিত পো উপত্যকার পানারো নদীতে ডুবে যাওয়া একটি বসতবাড়ি।”

সাসটেনেবল সিটিস পর্যায়ে বিজয়ী: আইসল্যান্ডের রেইকানেসব্যায়ারএ এই ছবিটি তুলেছেন সিমন ট্রামন্টি। ছবির শিরোনাম – নেট জিরো ট্রানজিশন- ফোটোবায়োরিঅ্যাক্টার (সার্বিক নিগর্মন শূন্যে রূপান্তর – আলোকসংশ্লেষ প্রযুক্তির চুল্লি)

আইসল্যান্ডের রেইকানেসব্যায়ার-এর আলগালিফ জ্বালানি কেন্দ্রে আলোক সংশ্লেষ প্রযুক্তির একটি জৈব চুল্লি। ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা থেকে পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি ব্যবহার করে এই চুল্লি টেকসই অ্যাস্টাজ্যান্থিন উৎপাদন করে। আইসল্যান্ড জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করছে।
আইসল্যান্ডের রেইকানেসব্যায়ার-এর আলগালিফ জ্বালানি কেন্দ্রে আলোক সংশ্লেষ প্রযুক্তির একটি জৈব চুল্লি। ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা থেকে পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি ব্যবহার করে এই চুল্লি টেকসই অ্যাস্টাজ্যান্থিন উৎপাদন করে। আইসল্যান্ড জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করছে।

“আইসল্যান্ডের রেইকানেসব্যায়ার-এর আলগালিফ জ্বালানি কেন্দ্রে আলোক সংশ্লেষ প্রযুক্তির একটি জৈব চুল্লি। ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা থেকে পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি ব্যবহার করে এই চুল্লি টেকসই অ্যাস্টাজ্যান্থিন উৎপাদন করে।

“আইসল্যান্ড জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করছে।”

নদীতে মাছ ধরা- ছবিটি তুলেছেন আশরাফুল ইসলাম বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে।

পুরো নদী ভরে উঠেছে সবুজ শ্যাওলায় - তারই মধ্যে বহু জেলে এখানে আসেন মাছ ধরতে। নদীর পানির নিচে ভরাট সবুজ শ্যাওলা।
পুরো নদী ভরে উঠেছে সবুজ শ্যাওলায় – তারই মধ্যে বহু জেলে এখানে আসেন মাছ ধরতে। নদীর পানির নিচে ভরাট সবুজ শ্যাওলা।

“পুরো নদী ভরে উঠেছে সবুজ শ্যাওলায় – তারই মধ্যে বহু জেলে এখানে আসেন মাছ ধরতে।

“নদীর পানির নিচে ভরাট সবুজ শ্যাওলা।”

ধূপ কাঠি শুকাচ্ছে- ছবি তুলেছেন ভিয়েতনামের হ্যানয়তে আজিম খান রনি।

ভিয়েতনামে হ্যানয়ের একটি গ্রাম কোয়াং ফু সাউ-তে হাজার হাজার ধূপ কাঠি পরিবেষ্টিত হয়ে কাজ করছেন কর্মীরা। এখানে কয়েক শত বছর ধরে প্রথাগত পদ্ধতিতে ধূপ কাঠি তৈরি করা হয়ে আসছে। ভিয়েতনামে মানুষের ধর্ম পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ধূপ কাঠি।
ভিয়েতনামে হ্যানয়ের একটি গ্রাম কোয়াং ফু সাউ-তে হাজার হাজার ধূপ কাঠি পরিবেষ্টিত হয়ে কাজ করছেন কর্মীরা। এখানে কয়েক শত বছর ধরে প্রথাগত পদ্ধতিতে ধূপ কাঠি তৈরি করা হয়ে আসছে। ভিয়েতনামে মানুষের ধর্ম পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ধূপ কাঠি।

“ভিয়েতনামে হ্যানয়ের একটি গ্রাম কোয়াং ফু সাউ-তে হাজার হাজার ধূপ কাঠি পরিবেষ্টিত হয়ে কাজ করছেন কর্মীরা। এখানে কয়েক শত বছর ধরে প্রথাগত পদ্ধতিতে ধূপ কাঠি তৈরি করা হয়ে আসছে।

“ভিয়েতনামে মানুষের ধর্ম পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ধূপ কাঠি।”

প্লাস্টিকে বিপন্ন পরিবেশ- বাংলাদেশের চট্টগ্রামে তোলা সুব্রত দে-র ছবি

আমি এই ছবিটি তুলেছি বাংলাদেশে চট্টগ্রামের একটি প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানায়। প্লাস্টিক আবার ব্যবহারযোগ্য করলে তা প্লাস্টিক দূষণ এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের নিগর্মন থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে।
আমি এই ছবিটি তুলেছি বাংলাদেশে চট্টগ্রামের একটি প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানায়। প্লাস্টিক আবার ব্যবহারযোগ্য করলে তা প্লাস্টিক দূষণ এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের নিগর্মন থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে।

“আমি এই ছবিটি তুলেছি বাংলাদেশে চট্টগ্রামের একটি প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানায়।

“প্লাস্টিক আবার ব্যবহারযোগ্য করলে তা প্লাস্টিক দূষণ এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের নিগর্মন থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে।”

হুকড পাপ – বঁড়শিতে গাঁথা শাবক- মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া এলাকায় করোনাডো দ্বীপে ছবিটি তুলেছেন সিলিয়া কুজালা।

আমি এই সিন্ধুঘোটক শাবককে দেখি মুখের ভেতর বঁড়শি গাঁথা অবস্থায়। আমি যতক্ষণ সাঁতার কাটছিলাম শাবকটা আমার কাছে কাছে ছিল এবং মনে হচ্ছিল সে আমার কাছে সাহায্য চাইছে।
আমি এই সিন্ধুঘোটক শাবককে দেখি মুখের ভেতর বঁড়শি গাঁথা অবস্থায়। আমি যতক্ষণ সাঁতার কাটছিলাম শাবকটা আমার কাছে কাছে ছিল এবং মনে হচ্ছিল সে আমার কাছে সাহায্য চাইছে।

“আমি এই সিন্ধুঘোটক শাবককে দেখি মুখের ভেতর বঁড়শি গাঁথা অবস্থায়।

“আমি যতক্ষণ সাঁতার কাটছিলাম শাবকটা আমার কাছে কাছে ছিল এবং মনে হচ্ছিল সে আমার কাছে সাহায্য চাইছে।”

নিমোর বাগান- আলোকচিত্রী গিয়াকোমো ডি’অরলান্দো, ইতালি

নিমোর বাগান হল একটি বিকল্প কৃষি পদ্ধতি। যেখানে পরিবেশগত কারণে গাছপালার বৃদ্ধি খুবই কঠিন, সেখানে মূলত এই কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনে ক্রমশ আরও চাপের মুখে পড়া আমাদের ভবিষ্যত পরিবেশগত সমস্যা মোকাবেলায় এই পরিবেশ বান্ধব সমাধান ব্যবহার করে পানির নিচে কৃষিকাজের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে এই টেকসই প্রকল্প।
নিমোর বাগান হল একটি বিকল্প কৃষি পদ্ধতি। যেখানে পরিবেশগত কারণে গাছপালার বৃদ্ধি খুবই কঠিন, সেখানে মূলত এই কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনে ক্রমশ আরও চাপের মুখে পড়া আমাদের ভবিষ্যত পরিবেশগত সমস্যা মোকাবেলায় এই পরিবেশ বান্ধব সমাধান ব্যবহার করে পানির নিচে কৃষিকাজের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে এই টেকসই প্রকল্প।

“নিমোর বাগান হল একটি বিকল্প কৃষি পদ্ধতি। যেখানে পরিবেশগত কারণে গাছপালার বৃদ্ধি খুবই কঠিন, সেখানে মূলত এই কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

“জলবায়ুর পরিবর্তনে ক্রমশ আরও চাপের মুখে পড়া আমাদের ভবিষ্যত পরিবেশগত সমস্যা মোকাবেলায় এই পরিবেশ বান্ধব সমাধান ব্যবহার করে পানির নিচে কৃষিকাজের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে এই টেকসই প্রকল্প।”

ক্লিন এনার্জি – পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি শিরোনামে এই ছবি তুলেছেন পেদ্রো ডি অলিভিয়েরা সিমোস এস্তেভেস, পর্তুগালের সেরা ডি সাও মাকারিও-তে

মেঘলা দিনে পাহাড়ের পেছন দিয়ে সূর্য অস্ত যাবার কয়েক মুহূর্ত আগে বায়ু-চালিত টার্বাইনের ছবি।
মেঘলা দিনে পাহাড়ের পেছন দিয়ে সূর্য অস্ত যাবার কয়েক মুহূর্ত আগে বায়ু-চালিত টার্বাইনের ছবি।

“মেঘলা দিনে পাহাড়ের পেছন দিয়ে সূর্য অস্ত যাবার কয়েক মুহূর্ত আগে বায়ু-চালিত টার্বাইনের ছবি।

পলিগোনাল ফরেস্ট – স্পেনের সালামাঙ্কার সিয়েরা ডি বেজারে বহুমাত্রিক বর্ণময় এই জঙ্গলের ছবি তুলেছেন রবের্তো বুয়েনো

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলার একটা মৌলিক পথ হল জঙ্গলকে ভালভাবে বাঁচিয়ে রাখার পদ্ধতি। এটি চেস্টনাট গাছের অরণ্য- জঙ্গল মালিকরা টেকসই পদ্ধতিতে এই অরণ্যকে সজীব রাখেন। তারা জঙ্গলের গাছ কাটেন এক বিশেষ পদ্ধতিতে। বিশেষভাবে তৈরি এই এলাকাকে বলা হয় পলিগোনাল এলাকা- সেখানে বড় বড় গাছের ফাঁকে ছোট ছোট জায়গা খালি রাখা হয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বনায়নের জন্য।
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলার একটা মৌলিক পথ হল জঙ্গলকে ভালভাবে বাঁচিয়ে রাখার পদ্ধতি। এটি চেস্টনাট গাছের অরণ্য- জঙ্গল মালিকরা টেকসই পদ্ধতিতে এই অরণ্যকে সজীব রাখেন। তারা জঙ্গলের গাছ কাটেন এক বিশেষ পদ্ধতিতে। বিশেষভাবে তৈরি এই এলাকাকে বলা হয় পলিগোনাল এলাকা- সেখানে বড় বড় গাছের ফাঁকে ছোট ছোট জায়গা খালি রাখা হয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বনায়নের জন্য।

“জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলার একটা মৌলিক পথ হল জঙ্গলকে ভালভাবে বাঁচিয়ে রাখার পদ্ধতি।

“এটি চেস্টনাট গাছের অরণ্য- জঙ্গল মালিকরা টেকসই পদ্ধতিতে এই অরণ্যকে সজীব রাখেন।

“তারা জঙ্গলের গাছ কাটেন এক বিশেষ পদ্ধতিতে। বিশেষভাবে তৈরি এই এলাকাকে বলা হয় পলিগোনাল এলাকা- সেখানে বড় বড় গাছের ফাঁকে ছোট ছোট জায়গা খালি রাখা হয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বনায়নের জন্য।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ছোলার ফলছিদ্রকারী পোকা

  • রোগের নামঃছোলার ফলছিদ্রকারী পোকা
  • লক্ষণঃ১। এ পোকা ছোলার ফল ও বীজ ছিদ্র করে নষ্ট করে ।
  • ব্যবস্থাপনাঃ১। পোকার ডিম ও কীরা সংগ্রহ করে মেরে ফেলা । ২। মিশ্র ফসল হিসাবে ধনে পাতা বা তিসির চাষ করা । ৩। আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক যেমন: রিপকর্ড বা সিমবুশ ১ মি.লি. / লি. হারে বা এমামেকটিন বেনজোয়েড গ্রুপের কীটনাশক যেমন: প্রোক্লেইম বা সাহাম ১ গ্রাম/ লি হারে পানিতে মিশিয়ে শেষ বিকেলে স্প্রে করা।
  • সাবধানতাঃ১। বিলম্বে বপন করবেন না
  • করনীয়ঃ১। সঠিক দরত্বে বপন করুন ২। উন্নত জাতের চাষ করুন ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নারিকেলের তুষ (কোকোডাস্ট) থেকে জৈব সার তৈরি।কোকোপিটের ব্যবহার

নারিকেলের তুষ (কোকোডাস্ট) থেকে ভালোমানের জৈব সার তৈরি হয়ে থাকে। নারিকেল গাছের ফুল, ফল, কাণ্ড পাতা বছরব্যাপী কোনো না কোনোভাবে আমাদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। কৃষকের কাছে তাই নারিকেল সবচেয়ে সমাদৃত গাছ। নারিকেল থেকে উত্তম পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ডাবের পানি পাওয়া যায়। নারিকেলের ছোবড়া থেকে আঁশ এবং আঁশজাত দ্রব্য তৈরি করা যায়।

বরিশাল অঞ্চলের স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর),খুলনার ফুলতলা, বাগেরহাট ও যশোর জেলার মনিরামপুর অঞ্চলে নারিকেলের ছোবড়া বা খোসা থেকে বংশানুক্রমে নারিকেলের খোসা,আঁশ ও আঁশজাত দ্রব্য করা হয়ে থাকে।

নারিকেলের খোসাঃ নারিকেলের খোসা থেকে আঁশ তৈরির সময় খোসার ৬৬% তুষ বা Cocodust বের হয়। নারিকেলের তুষে ৩১% সেলুলোজ ও ২৭% লিগনিন জাতীয় জৈব পদার্থ আছে এবং এর কার্বন ও নাইট্রোজেনের অনুপাত ১০৪:১ (Shekar, 1999)।  সেলুলোজ খুব শক্ত বা Stable পদার্থ এবং এ কারণে নারিকেলের তুষ ১০-১৫ বছর পরও মাটিতে অক্ষতাবস্থায় থাকে।  লিগনিন পচন-সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা অনুজীবের কার্যক্ষমতা কমায়। নারিকেলের তুষে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় সব রকম পুষ্টি থাকে বলে তুষ পচালে উৎকৃষ্ট জৈব সারে রূপান্তরিত হয়। ভারত, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে নারিকেলের তুষের সাথে চুন (প্রতি ১০০০ কেজি তুষে ৫ কেজি চুন) ও মাশরুম স্পন (Spawn) বা বীজ মিশিয়ে পচানো হয়। নারিকেলের তুষের মধ্যে মাশরুম চাষ করেও তা পচানো যায়। মাশরুমে ক্লোরোফিল না থাকায় সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না। দৈহিক বাড়-বাড়তির জন্য মাশরুম  নারিকেলের তুষের সেলুলোজ হতে শর্করা জাতীয় খাদ্য সংগ্রহ করে, ফলে নারিকেলের তুষের সেলুলোজ কঠিন পদার্থ হতে সরলতম পদার্থে রূপান্তরিত হয় ও সহজে পচে যায়। তুষে মাশরুম spawn ও চুন প্রয়োগ করলে ১ মাসের মধ্যে হিউমাস জাতীয় কালো পদার্থে পরিণত হয়। হিউমাস রাসায়নিক সারের মতো পুষ্টি সমৃদ্ধ নয়, তবে মাটিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থেকে মাটির অনুজীবের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, মাটির ভৌত গুণাবলি ধরে রাখে এবং গাছের জন্য প্রয়োজনীয় মুখ্য ও গৌণ সব ধরনের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে। হিউমাস মাটির Ca++, Zn++, Cu++ Fe++ ধাতব আয়ন ধরে রাখতে সাহায্য করে। এসব আয়নগুলো গাছের আয়ন বিনিময় ক্ষমতা বাড়ায়, মাটি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্ষতিকর ফ্রি-রেডিকেল অপসারণ করে গাছের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। ফ্রি-রেডিকেল এক ধরনের ক্রিয়াশীল যৌগমূলক যা গাছের ক্লোরোফিল নষ্ট করে দেয়। গাছের স্বাভাবিক রেচন প্রক্রিয়া (Metabolism) থেকেই ফ্রি-রেডিকেল তৈরি হয়। জমিতে বেশি বেশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে ফ্রি-রেডিকেলও বেশি তৈরি হয়। ফল জাতীয় সবজি যেমন টমেটো, করলার ক্ষেত্রে ফ্রি-রেডিকেলের কারণে একবার ফল আসলেই গাছের পাতা শুকিয়ে মারা যায়। এসব ধাতব আয়ন গুলো Super oxide dismutage (SOD) নামে এক ধরনের এনজাইম তৈরির মাধ্যমে ফ্রি-রেডিকেলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

নারিকেলের তুষের বিশেষ গুণ হচ্ছে ওজনের ৮-১০ গুণ পানি ধারণক্ষমতা। তাই সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি জানা থাকলে নারিকেলের অব্যবহৃত এ তুষ সরাসরি নার্সারি ব্যবসা ও ফুল চাষে ব্যবহার করে যায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণ কেন্দ্র যশোরের কর্মরত বিজ্ঞানীরা ২০০৮ সালে যশোর শহরতলীর চাচড়া এলাকায় কোকো ফাইবার মিল নামক কোম্পানির সহায়তায় নারিকেলের আঁশ তৈরি ও তুষ পচানোর ওপর এক গবেষণা পরিচালনা করেন। ওই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মাশরুমের বীজ ও চুন প্রয়োগ করে দ্রুত নারিকেলের তুষ পচানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। হাইড্রোলিক মেশিনে নারিকেলে তুষের ব্লক তৈরি করে তাতে চারা লাগানোর ওপরও বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেন।

নারিকেল থেকে জৈব সার তৈরিঃ নারিকেলের তুষ ফলের অংশ হওয়ায় গাছের বৃদ্ধির জন্য দরকারি সব পরিমাণ পুষ্টি বিশেষ করে পটাশিয়াম জাতীয় পদার্থ থাকে। পচানোর পর মাটিতে প্রয়োগ করলে মাটির পানি ধারণক্ষমতা ও অন্যান্য ভৌতিক গুণাবলি বৃদ্ধিসহ অনুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে দীর্ঘমেয়াদে গাছের পুষ্টি সরবরাহ ও বৃদ্ধি-সহায়তা প্রদান করে।  তাছাড়া নারিকেল থেকে তৈরি জৈব সারে আছে অনেক রকমের এনজাইম (Enzyme) ও কোষীয় পদার্থ যা শিকড় দিয়ে গাছের মধ্যে প্রবেশ করে ও গাছের রোগ প্রতিরোধ ও পোকার আক্রমণ প্রতিহত করার বাড়তি ক্ষমতা প্রদান করে। নারিকেল থেকে তৈরি জৈব সারে আছে ৬০-৭৫% জৈব পদার্থ, ০.৭৬/ নাইট্রোজেন, ০.৪% হারে ফসফরাস ও পটাশ, ০.২% সালফার ও ০.০০৪ বোরন।

কোকোপিটের ব্যবহারঃ

  • ক্রমবর্ধমান হাইড্রোপোনিক উপায়ে সবজি চাষের জন্য কোকোপিট ব্যবহার করা হয় যেন কোনোভাবেই গাছ বা চারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়;
  • কোকোপিট উদ্ভিদের শিকড় উন্নয়নের জন্য একটি চমৎকার স্তর এবং গাছ বা চারা রোপণ করার সময় কোনো এজেন্ট প্রয়োজন হলে জৈব সারের সাথে কোকোপিটের সংমিশ্রণে একটি গ্রোয়ার মিডিয়া তৈরি করে সরাসরি চারা তৈরি করা যেতে পারে;
  • কোকোপিট মাটির তুলনায় অনেক হালকা এবং টবে ব্যবহারের সময় খুব সহজেই কোকোপিটের ভেতর বাতাস চলাচল করতে পারে যার ফলে গাছ বেশি বেশি অক্সিজেন নিতে পারে;
  • কোকোপিট শোষক সময়কাল অনেক : ফলে এটা গাছে ধীরে ধীরে শোষিত হয়;
  • কোকোপিট একটি উচ্চ বাফার ক্ষমতাসম্পন্ন জৈব পদার্থ যা মাটির গুণাগুণ বজায় রাখতে বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে। কাকোপিটের পিএইচ (pH) সবসময় ৫.৫ থেকে ৭ থাকে যা সুস্থ উদ্ভিদ তৈরি করে এবং খুব সহজেই উন্নত মানের গাছপালা তৈরি করতে সাহায্য করে  এবং এর ফলে অনেক বেশি পরিমাণে ফসল সংগ্রহ করা যায়;
  • টবে মাটি ব্যবহার করলে ওজন বেশি হয়, কিন্তু  কোকোপিট ব্যবহার করলে কম হয়। ছাদের ওপর অনেক  টব ব্যবহার করলে লোড ক্যাপাসিটি কম হয়;
  • কোকোপিট দিয়ে যে কোনো প্রকার চারা তৈরি বা গাছ লাগানো যেতে পারে, নির্দিষ্ট কোনো ধরা বাঁধা নিয়ম নেই। আধুনিক গ্রিন হাউসে কোকোপিটকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে

ফসল উৎপাদন করে থাকেঃ কোকোপিট দিয়ে টবে গাছপালা লাগালে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং পানি দিলে টবের ভেতর কখনও জলাবদ্ধতা তৈরি হয় না, পানি সাথে সাথে দ্রুত সব জায়গাতে ছড়িয়ে দেয় এবং নির্দিষ্ট পরিমাণমতো পানি ধরে রেখে গাছকে সতেজ রাখে  এবং কখনও পানি আবদ্ধ হয়ে গাছ মারা যায় না।

নিত্য প্রয়োজনীয় সব চাহিদার জোগান দিলেও আমাদের দেশে নারিকেল অনেকটা অবহেলিত রয়ে গেছে। নারিকেল গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে নারিকেলের ফলন ও উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। একই সাথে নার্সারির চারা তৈরি কলম লাগানোর ক্ষেত্রে কোকোডাস্ট নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। একে কাজে লাগিয়ে কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com