আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশের মুরগির বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ আর ডিমের বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশই বিদেশি জাতের মুরগির দখলে।

পোল্ট্রি বা খামারে লালনপালন করা বিদেশি জাতের বা শংকর করা মোরগ-মুরগি, এখন বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য তালিকার প্রায় নিয়মিত একটি অংশ।

বাংলাদেশে অনেকের কাছে এসব মুরগি ফার্মের মুরগি, পোলট্রি, সোনালী বা কক হিসাবে পরিচিত।

কিন্তু খাদ্য তালিকায় ফার্মে লালনপালন করা মোরগ-মুরগির অন্তর্ভুক্তি খুব সহজে হয়নি। প্রথমদিকে বাংলাদেশের মানুষের এ ধরণের মুরগি খাওয়ার প্রতি এক ধরণের অনীহাও কাজ করতো।

কিন্তু গত কয়েক দশকের মধ্যে সেই পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। এখন দেশের মুরগির বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ আর ডিমের বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশই এই জাতীয় মুরগির দখলে।

প্রথম দফার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল

বাংলাদেশে প্রথম বিদেশি জাতের মোরগ-মুরগি চাষের চেষ্টা শুরু হয় ১৯৭১ সালের আগে থেকেই। সেই সময় সরকারি প্রকল্পের আওতায় বিদেশি জাতের মোরগ বা মুরগি দেশীয় জাতের মোরগ-মুরগির সঙ্গে সংমিশ্রণ করানোর একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি সায়েন্সের অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”ষাট ও সত্তরের দুই দশক ধরে সরকার চাইছিল, খামারি বা কৃষকরা যেন তাদের দেশি মুরগির সঙ্গে বিদেশি জাতের মোরগ লালনপালন করবেন। তাহলে প্রাকৃতিকভাবে নতুন উন্নত জাতের তৈরি হবে।”

দেশী ও পাকিস্তানি মুরগী চিনুন

জেলা-উপজেলা পশুপালন দপ্তরগুলোর মাধ্যমে বিদেশি উন্নত জাতের মোরগ স্থানীয়দের বিতরণ করা হতো, যাতে সেগুলো দেশীয় মুরগির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় এসে বেশিরভাগ বিদেশি মোরগ মারা যায়। এক পর্যায়ে সেই প্রকল্প ব্যর্থ হয়ে যায়।

তখন গবেষকরা ভাবতে শুরু করলেন, বিদেশি কোন জাতের মোরগ-মুরগি বাংলাদেশের পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারবে।

এই গবেষণার সূত্র ধরে ইটালির হোয়াইট লেগ মুরগির সঙ্গে আমেরিকান রোড আইল্যান্ড মোরগের শংকর করা শুরু হয়। সেই জাতের নামকরণ করা দেয়া হয় ককরেল।

আর মিশরের ফায়োমিন মুরগির সঙ্গে আমেরিকান রোড আইল্যান্ড মোরগ মিশিয়ে যে জাত তৈরি করা হয়, সেটার নাম দেয়া হয় সোনালী।

অনেকটা দেশি মুরগির মতো দেখতে ও স্বাদ হওয়ায় সোনালী মুরগিটি বেশ বাজার পায়।

বাংলাদেশে এখন সবমিলিয়ে মুরগির খামারিদের সংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি।

খামারে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”স্বাধীনতার পরপর বাংলাদেশে এগস এন্ড হেনস নামে গাজীপুরের জয়দেবপুরে একটি ব্রয়লার মুরগির প্রতিষ্ঠান ছিল। তবে বাংলাদেশে ব্রয়লার মুরগির জনপ্রিয় হতে শুরু করে বিমান বাংলাদেশের হাত ধরে। ”

গবেষকরা জানিয়েছেন, সেই সময় বিমান বাংলাদেশে তাদের নিজস্ব ক্যাটারিংয়ের জন্য সাভারের গণকবাড়িতে একটি ব্রয়লার মুরগির খামার স্থাপন করে। বিদেশ থেকে উন্নত জাতের বাচ্চা এনে সেখানে মাংসের জন্য বড় করা হতো। বিমানের নিজস্ব খাবারের জন্য সেইসব মাংস ব্যবহার করা হতো।

এসব মুরগির টিকে যাওয়া দেখে বিমানের খামার থেকে সেসব বাচ্চা নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করে বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। আরও অনেকেই বিমান থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করতে শুরু করেন।

এর কয়েক বছরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে সামিউল হোসেন নামের একটি পোলট্রির বড় খামার তৈরি হয়। ফিনিশ পোলট্রি নামের আরেকটি খামারও ছিল। এসব খামার থেকে অনেকেই একদিনের বাচ্চা নিয়ে ব্রয়লার মুরগির লালনপালন করতে শুরু করেন।

সরকারিভাবেও বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় এরকম খামার তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করা হতো। স্বল্প সুদে ঋণ, প্রণোদনা, পরামর্শ দেয়া হতো।

কিন্তু বড় পরিবর্তন আসে নব্বইয়ের দশকে।

২০১৯ সালে বাংলাদেশের খামারগুলোয় মোট ডিম উৎপাদিত হয়েছে ১ হাজার ৭১১ কোটি।

অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী বলছেন, ”মূলত নব্বইয়ের দশক থেকে পোলট্রি মুরগির পালনে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন হতে শুরু করে। আগে বিমানে করে বিদেশ থেকে একদিনের বাচ্চা আনতে হতো। কিন্তু নব্বুইয়ের দশকের দিকে দেশের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান এই মোরগ-মুরগীর ব্যবসায় এগিয়ে আসে। তারা বড় বড় খামার করে বিদেশি জাতের মুরগি নিয়ে এসে দেশেই বাচ্চা উৎপাদন করতে শুরু করলেন।”

সেই সঙ্গে মুরগীর খাবার ও ওষুধের সহযোগী অনেক প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠতে শুরু করে।

কম খরচে খামার তৈরি করে লালনপালন, সহজে বাচ্চা পাওয়া, অল্প দিনের ভেতর বিক্রি করে মুনাফা করতে পারা- ইত্যাদি কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অনেকেই পোলট্রি মুরগির খামার গড়ে উৎসাহিত হয়ে উঠলেন।

বরিশালের একটি পোলট্রি ফার্মের মালিক আঁখি আক্তার বলছেন, ”একটি চাকরির পাশাপাশি আমি একশো মুরগি নিয়ে একটি ছোট খামার দিয়েছি। বাড়ির সবাই মিলে সেটা দেখাশোনা করে। তাতে একদিকে আমাদের মাংসের চাহিদাও মিটছে, আবার বাড়তি কিছু আয়ও হচ্ছে।”

উনিশশো নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশে ফার্মের মুরগি ও ডিম খাওয়ার ব্যাপারে মানুষের মধ্যেও একটা আগ্রহ গড়ে উঠতে শুরু করলো।

বাংলাদেশে এখন সব মিলিয়ে মুরগির খামারিদের সংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের পোলট্রি ব্যবসার আকার ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে ডিম কিনতে মানুষের ভিড়

প্রথমে অনেকেই ব্রয়লার মুরগী খেতে চাইতেন না

উনিশশো আশির দশকের প্রথমদিকে যখন আস্তে আস্তে ব্রয়লার মুরগির খামার গড়ে উঠতে শুরু করলো, তখন অনেকেই এরকম মুরগি খেতে চাইতেন না। কারণ দেশীয় মুরগির মাংসের তুলনায় এগুলোর মাংস নরম ছিল, রান্নার সময় অনেক সময় মাংস হাড় থেকে ছুটে যেতো।

অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী বলছেন, ”শুরুর দিকে মানুষ ব্রয়লার বা লেয়ার মুরগি পছন্দ করতেন না। তখনো বাজারে দেশি মুরগিও পাওয়া যেতো। মানুষ সেটাই বেশি পছন্দ করতো। আবার অনেকের ধারণা ছিল, এটা বিদেশি জাতের মুরগি, খেলে আবার কী হবে, এরকম অনেক ভ্রান্ত ধারণা ছিল।”

তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সেই মানসিকতায় পরিবর্তন আসতে শুরু করে।

ড. চৌধুরী বলছিলেন, ”স্বাধীনতার পর দেশে যে জনসংখ্যা ছিল, এখন তা দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে। ফলে মানুষের খাবারের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু দেশী মুরগি বা ডিম তো আর সেভাবেই বাড়েনি।”

”বরং ফার্মের মুরগির কারণে মাংস আর ডিম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ভেতরে রয়েছে। মানুষ যখন দেখেছে, অন্য মাংসের তুলনায় কম মূল্যে মুরগির মাংস ও ডিম পাওয়া যাচ্ছে, তখন তারা এটি খাওয়ার প্রতি আগ্রহী হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের ব্যস্ততা আর শহরমুখী হওয়ার কারণে দেশীয় মুরগির লালনপালনও কমেছে। এসব কারণে মানুষ আস্তে আস্তে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম খেতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।”

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালে একদিনের ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয়েছে ৭০ কোটির বেশি আর লেয়ার উৎপাদিত হয়েছে ৪ কোটি ৭০ লাখ।

গত বছর বাংলাদেশের খামারগুলোয় মোট ডিম উৎপাদিত হয়েছে ১ হাজার ৭১১ কোটি।

ব্রয়লার মুরগী বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়

পোলট্রিশিল্প

শুরুর দিকে বিদেশ থেকে সরাসরি একদিনের বাচ্চা নিয়ে এসে দেশের খামারে বড় করে বিক্রি করা হতো। তবে এখন বাংলাদেশেই মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে।

ইউরোপীয় এবং কানাডার বিভিন্ন উন্নত জাতের মুরগি বাংলাদেশে নিয়ে এসে শংকরায়ন করে ডিম ফুটিয়ে শংকর জাতের বাচ্চা তৈরি করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে বলা হয় গ্র্যান্ড প্যারেন্টিং ফার্ম। বাংলাদেশে এরকম ১৬টি ফার্ম রয়েছে।

এদের কাছ থেকে সেইসব একদিনের বাচ্চা কিনে নিয়ে বড় করে এগুলোর ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরি করে খামারিদের কাছে বিক্রি করা হয়। এগুলোকে বলা হয় প্যারেন্টিং ফার্ম। বাংলাদেশে এরকম কয়েকশো প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তাদের কাছ থেকে একদিনের মুরগির বাচ্চা কিনে খামারিরা অন্তত চার সপ্তাহ লালন পালন করার পর বাজারে বিক্রি করে থাকেন। এটাই সাদা ব্রয়লার মুরগি হিসাবে পরিচিত।

যারা ডিম পাড়া মুরগি পালন করেন, তারাও একদিনের মুরগি কিনে এনে বড় করেন।

বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটির হিসেবে প্রায় ৭০ হাজারের মতো পোলট্রি ফার্ম রয়েছে সারাদেশে। এখন বাংলাদেশে এই খাত সরকার স্বীকৃত একটি শিল্প খাত।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার বলছেন, ”পোলট্রি মুরগি নিয়ে অনেক সময় অনেক বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, যার বেশিরভাগের ভিত্তি নেই। ফলে কখনো কখনো এই খাতটি অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পড়েছে। কিন্তু কম মূল্যে মাংস ও ডিমের জোগান দেয়ার কারণে এই খাতটি দেশের আমিষের বড় একটি চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে।”

বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের পোলট্রি মার্কেটে আকার ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

খামারের মোরগ-মুরগির প্রকারভেদ

বাংলাদেশে খামারে এখন মূলত চার ধরণের মোরগ-মুরগির লালন-পালন করা হয়।

  • ব্রয়লার
  • লেয়ার
  • কক
  • সোনালী

শুধুমাত্র মাংসের জন্য যেসব মুরগি লালনপালন করা হয়, সেগুলো ব্রয়লার। ডিম পাড়া মুরগিকে বলে লেয়ার। তবে ডিম পাড়ার বয়স শেষ হয়ে গেলে সেগুলোকেও মাংসের জন্য বিক্রি করা হয়ে থাকে।

মূলত কানাডা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মুরগির জাত থেকে লেয়ার বা ব্রয়লারের জাত তৈরি করা হয়।

মিশরের ফায়োমিন মুরগির সঙ্গে আমেরিকান রোড আইল্যান্ড মোরগ মিশিয়ে যে জাত তৈরি করা হয়, সেটার নাম দেয়া হয় সোনালী। এগুলোও খামারে বড় করা হয়। এগুলো যেমন মাংসের জন্য বিক্রি করা হয়, আবার অনেকে ডিমের জন্য লালন পালন করেন। এগুলোর ডিম অনেকটা দেশি মোরগের ডিমের মতোই হয়।

প্যারেন্টিং ফার্ম থেকে এরকম একদিনের মুরগির বাচ্চা বড় করে সেগুলোকে ব্রয়লারের মতোই লালনপালন করে বিক্রি করা হয়।

কক বা পাকিস্তানি মুরগি বলে যেটা পরিচিত, সেটাও আসলে খামারে পালন করা মোরগ।

ডিম পাড়া মুরগির সঙ্গে যখন বাচ্চা ফোটানো হয়, যেখানে প্রথমেই ছেলে-মেয়ে জাত আলাদা করে ফেলা হয়। মুরগি বড় হয়ে হয় ডিম পাড়া লেয়ার। আর মোরগগুলোকে আলাদাভাবে বড় করে পরবর্তীতে বিক্রি করা হয়, যা অনেকের কাছে কক বা পাকিস্তানি মুরগি বলেও পরিচিত।

অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী বলছেন, একসময় মিশরীয় স্ত্রী জাতের মুরগির বাচ্চা পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হতো। এই কারণে এগুলোকে অনেকে পাকিস্তানি মুরগি বলে চেনেন। তবে এখন এগুলো বাংলাদেশেই উৎপাদিত হয়।

  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

    পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

    পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

    পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

    পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

    পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

    পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

    পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো
  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো
  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো
  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো
  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো
  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো
  • পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

এগ্রোটেক

কৃষিযন্ত্রের বাজার বাড়ছে

কৃষিযন্ত্রের বাজার বাড়ছে

একসময় ভারী কৃষিযন্ত্র বলতে শুধু ট্রাক্টরকেই চিনত দেশের কৃষক। সেটাও খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। কিন্তু এখন কৃষিতে ডজনখানেক বড় যন্ত্রের ব্যবহার করছেন কৃষকরা। চাষাবাদ থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত সবখানেই যন্ত্র তাদের সাহায্য করছে। এসব ক্ষেত্রে ৮০-৯৫ শতাংশ পর্যন্ত যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে দেশের কৃষিখাত।

কৃষিখাত যান্ত্রিকীকরণ হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই বেড়েছে কৃষিযন্ত্রের বাজারও। সরকার সংশ্লিষ্ট কৃষিযন্ত্রের আমদানিকারক ও স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের হিসাবে বর্তমানে এ বাজার ১০-১২ হাজার কোটি টাকার। যার মধ্যে স্থানীয় প্রস্তুতকারীরা প্রায় পাঁচশ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির জোগান দিচ্ছেন। বাকিটা আমদানিনির্ভর। সরকারি হিসাবে এ বাজার ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে।

দেশের বড় কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান কৃষিযন্ত্র তৈরির পাশাপাশি আমদানিও করছে। দেশে জাপানি ও চীনা কৃষিযন্ত্র বাজারজাত করছে চার-পাঁচটি কোম্পানি। পাশাপাশি দেশে কৃষিযন্ত্র তৈরির কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কয়েকটি বিদেশি কোম্পানিও। এর মধ্যে জাপানের ইয়ানমার ও ভারতের মাহিন্দ্র অ্যান্ড মাহিন্দ্র লিমিটেড শিগগিরই কারখানার কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে।

দেশে কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারীদের সংগঠন এগ্রিকালচার মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির তথ্যমতে, বেসরকারি পর্যায়ে ছোট বড় মিলে দেশে প্রায় ৭০ প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে কৃষিযন্ত্র তৈরি ও সংযোজনের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে মাঝারি ও বড় কারখানা ১০-১২টি।

সংগঠনের সভাপতি আলীমুল এহছান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারের ভর্তুকি ও কৃষকের হাতে টাকা থাকায় এ বাজার বড় হচ্ছে। ইতিমধ্যে কৃষি উদ্যোক্তা অথবা কৃষক সমিতি হারভেস্টর কেনার ক্ষেত্রে অর্ধেক ভর্তুকি ঘোষণা করেছে সরকার। হাওরে এটা ৭০ শতাংশ। অন্যান্য এলাকায়ও ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। ফলে বাজার আরও বাড়ছে।

জানা গেছে, ঘোষিত ভর্তুকির আওতায় একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টর ২৮ লাখ টাকা দিয়ে কিনলে সরকার দেবে ১৪ লাখ টাকা। হাওরে ৭০ শতাংশ হারে কৃষকরা ভর্তুকি হিসেবে পাবেন ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

আলীমুল এহছান চৌধুরী আরও বলেন, ‘কৃষি ভর্তুকি বড় যন্ত্রের ক্ষেত্রে। যেসব যন্ত্র দেশে উৎপাদন হচ্ছে এমন বড় যন্ত্রে ভর্তুকি না দেয়া ভালো। কারণ তাতে দেশি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এক তথ্যে দেখা গেছে, কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ফসল লাগানোর আগে জমি তৈরির ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর ব্যবহার হচ্ছে ৯০-৯৫ শতাংশ জমিতে। শস্য রোপণে যন্ত্রের ব্যবহার এখনও কম। কারণ এ যন্ত্রটি দামি ও ভারী। ফলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আনা-নেয়া বড় সমস্যা। এছাড়া ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা প্রচুর ওয়ার্কশপ না থাকা, দক্ষ চালক না পাওয়া এ যন্ত্রের প্রসারে বড় সমস্যা।

এছাড়া সব ধরনের ফসল চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ লাগানো বা রোপণ, পাকা ফসল মাড়াই-ঝাড়াইয়ের নানা ধাপে কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার হচ্ছে। পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের বাইরে ভারী যন্ত্র বলতে মাড়াইয়ের কাজে বিভিন্ন ধরনের থ্রেশারের ব্যবহার বাড়ছে।

তথ্য বলছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সারাদেশে ৮৮৩টি থ্রেশার বিক্রি হয়েছিল, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক হাজার ৪৫টিতে ঠেকেছে। ধান কাটার যন্ত্র রিপার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিক্রি হয়েছিল ৩৪৮টি, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক হাজার ৭৬৯টিতে দাঁড়িয়েছে। ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়া ও বস্তাবন্দির জন্য ব্যবহার হয় কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার, যার ব্যবহার মূলত শুরু হয় ২০১৬-১৭ তে। শুরুর বছরে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার বিক্রি হয়েছিল ৭৮টি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সারাদেশে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার বিক্রি হয় ৭৬৯টি। গত অর্থবছরের শেষে করোনার প্রভাবে এটির বিক্রি অনেক বেড়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়া গেলেও শেষ বছরের প্রায় দেড়গুণ হবে বলে জানান বিক্রেতারা।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইউ) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের এক গবেষণা বলছে, চাষ, সেচ, নিড়ানি, কীটনাশক প্রয়োগে ৮০-৯৫ শতাংশ যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে। যদিও ফসল রোপণ, সার দেয়া, কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও শুকানোর ক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার এক শতাংশের কম।

এদিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত কৃষি যন্ত্রপাতি মাঠ পর্যায়ে প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মো. মঞ্জুরুল আলমের এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে ছোট-বড় প্রায় ৮০০ কারখানা এখন বারি ও ব্রির মডেলে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি করছে। এছাড়া ৭০টি ফাউন্ডারি, প্রায় দেড় হাজার যন্ত্রাংশ তৈরি কারখানা ও প্রায় ২০ হাজার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কারখানা এ কাজে জড়িত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

নির্ভরতার কৃষিতে ছুটছে অর্থনীতির চাকা

কৃষিতে আশাতীত সাফল্যের দেশ বাংলাদেশ। দেশে লোকসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি কৃষিজমি বরং প্রতি বছর এক শতাংশ হারে কমেছে। এর পরও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বেড়েছে পুষ্টির নিরাপত্তাও। তাতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। বাংলাদেশের কৃষিকে মডেল হিসেবে অনুসরণ করছে বিশ্ব।

খাদ্যশস্য, সবজি, ফলসহ বিভিন্ন শস্যে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ । চাল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। স্বাধীনতার পর দেশে যে চাল উৎপাদন হতো এখন তার চেয়ে তিনগুণ বেশি উৎপাদন হয়। ওই সময় যেখানে প্রতি হেক্টরে চালের উৎপাদন ছিল দেড় টন, তা এখন চার টনেরও বেশি।

একইভাবে গমে উৎপাদন দ্বিগুণ আর ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ১০ গুণ। ২০২০ সালে গম উৎপাদন হয়েছে ১২ লাখ ৫০ হাজার টন, যা স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে পরিমাণে অর্ধেক ছিল। ভুট্টায় সর্বোচ্চ সফলতা এসেছে শেষ দশকে। ২০০৯ সালে ভুট্টার উৎপাদন ছিল সাড়ে সাত লাখ টন, যা ২০২০ সালে ৫৪ লাখ টন। আগামী ৫ বছরের মধ্যে শস্যটির উৎপাদন এক লাখ টনে উন্নীত করতে কাজ চলছে।

প্রধান খাদ্যশস্যের বাইরে নিবিড় চাষের মাধ্যমে দেশে সবজি উৎপাদনে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। স্বাধীনতার পর দেশে সবজির উৎপাদন বেড়েছে পাঁচগুণ। শস্যের জমি কমলেও গত এক দশকে সবজির আবাদি জমির পরিমাণ ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ আবাদি জমি বৃদ্ধির হার বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা (এফএও)।

এমন অবস্থায় গত বছর সবজি উৎপাদন বেড়ে ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ উদ্বৃত্ত এবং বিশ্বে সপ্তম। গত বছর আলু উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ৯ লাখ টন। এছাড়া এখন দেশে ৬০ ধরনের ও ২০০ জাতের সবজির মধ্যে বেশির ভাগের বাণিজ্যিক উৎপাদিন হচ্ছে। কয়েক দশক আগেও হাতেগোনা কিছু সবজির বাণিজ্যিক উৎপাদন হতো। পাশাপাশি সবজি রফতানি করেও মিলছে বৈদেশিক মুদ্রা। গত এক বছরে শুধু সবজি রফতানি থেকেই আয় বেড়েছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

বড় সফলতা এসছে ফল উৎপাদনে । দেশ মোট ফল উৎপাদনে বিশ্বে ২৮তম। কিন্তু মৌসুমি ফল উৎপাদনে গত বছর বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। এফএওর হিসাবে, ১৮ বছর ধরে বাংলাদেশে সাড়ে ১১ শতাংশ হারে ফল উৎপাদন বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চারটি ফলের মোট উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে।

কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয়, আমে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে বাংলাদেশ। অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, বছরে ১০ শতাংশ হারে ফল চাষের জমি বাড়ছে। এক দশকে দেশে আমের উৎপাদন দ্বিগুণ, পেয়ারা দ্বিগুণের বেশি, পেঁপে আড়াই গুণ এবং লিচু উৎপাদন ৫০ শতাংশ হারে বেড়েছে।

বড় সাফল্য রয়েছে পানীয় উৎপাদনে। এক সময় উৎপাদন থেকে চায়ের চাহিদা বাড়ায় আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছিল পণ্যটি। সে পরিস্থিতি কেটে এখন চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেড়েছে। শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালে ১৬৬ বছরের চা চাষের ইতিহাসে উৎপাদনেও রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ওই বছর উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি, যা তার আগের বছরের চেয়ে এক কোটি ৩৯ লাখ কেজি বেশি। লন্ডনভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল টি কমিটি’ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে নবম।

যে কারণে বড় সাফল্য

কৃষিতে অভাবনীয় এ সাফল্যের পেছনে উন্নত প্রযুক্তি, বীজ, সার ও যন্ত্রের ব্যবহার প্রধান উজ্জীবক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া বিশেষ অবদান রাখছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। দেশে বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় প্রচুর উচ্চ ফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি ও পরিবেশসহিষ্ণু নতুন জাত উদ্ভাবন হয়েছে।

এর মধ্যে ধানের জোগানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এ সংস্থার বিজ্ঞানীদের হাত ধরে কৃষকরা ১০০টি নতুন জাতের ধান পেয়েছেন। ধানের সিংহভাগের জোগান আসছে ব্রি উদ্ভাবিত জাতগুলো থেকে।

ছয়টি হাইব্রিডসহ ৯৪টি আধুনিক ধানের জাত উদ্ভাবন কৃষিতে অন্যতম সাফল্য এনেছে। ব্রির এসব জাতের মধ্যে ১০টি লবণাক্ততা সহনশীল, রোপা আমনের খরা সহনশীল তিনটি, জলাবদ্ধতা সহনশীল চারটি, পুষ্টিসমৃদ্ধ পাঁচটি এবং রফতানিযোগ্য বিশেষ চারটি জাতের ধান রয়েছে।



এদিকে অন্যান্য ফসলের জাত উদ্ভাবনে বড় অবদান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি)। এ প্রতিষ্ঠান দানাশস্য, কন্দাল, ডাল, তৈলবীজ, সবজি, ফল, মসলা, ফুল প্রভৃতির উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করে আসছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বারি বিভিন্ন ফসলের ৫৮৭টি উচ্চ ফলনশীল জাত ও ৫৫১টি ফসল উৎপাদন প্রযুক্তিসহ ৯০০টিরও বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

ধান চাষে বেড়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার

ধান চাষে বেড়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার

শষ্য ভাণ্ডারখ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁয় বসতবাড়ি ও পুকুর খনন করায় কমছে আবাদি জমি। ফসলি জমি কমায় স্বল্প সময়ে একাধিক ফসল উৎপাদনের চেষ্টা করছে কৃষক। ফসল উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নত জাত ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি অফিস। তাদের পরামর্শে স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহারে ঝুঁকছেন চাষীরা।

এক সময় চাষাবাদ হতো গরু ও মহিষ দিয়ে। এতে জমি প্রস্তুত থেকে রোপণ পর্যন্ত লাগতো দীর্ঘ সময়। আবার শ্রমিক সংকটে পড়তে হতো বিড়ম্বনায়। সময়ের ব্যবধানে গত কয়েক বছর থেকে প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারে কৃষকদের সেই কষ্ট অনেকটা লাঘব হয়েছে। এখন শ্রমিকদের অপেক্ষায় দিন গুণতে হয় না কৃষকদের। প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারের ফলে স্বল্প সময়ে কয়েক বিঘা জমি চাষাবাদ করা হচ্ছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছরের ব্যবধানে আবাদ কমেছে ইরি-বোরো আট হাজার ৫৫০ হেক্টর ও গম পাঁচ হাজার ৬৩০ হেক্টর। বেড়েছে আমনের আবাদ ৩৫ হাজার ৫৮০ হেক্টর, আম ১২ হাজার ১০৫, আলু ৬১০, সরিষা তিন হাজার ৭৫৫, সবজি ৬৬৬, ভুট্টা ১ হাজার ৪৬৫ ও পেঁয়াজ ৮৭০ হেক্টর।

এছাড়া জমি প্রস্তুতে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার প্রায় ৯৫ শতাংশ, ফসলে স্প্রে মেশিন ৯৫ শতাংশ, মাড়াই মেশিন ৭৫ শতাংশ, ধান রোপন ১ শতাংশ, কর্তন মেশিন ৩ শতাংশ এবং কম্বাইন হার্ভেস্টার ১০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে।

বদলগাছী উপজেলার দাউতপুর গ্রামে কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, আগে গরু দিয়ে হালচাষ করতে খরচ বেশি পড়তো। এখন পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষবাদ করা হচ্ছে। যেখানে এক বিঘা জমি চাষাবাদ করতে তিন-চার গরুর হাল (নাঙ্গল) লাগতো। সেখানে কয়েক মিনিটের মধ্যে এক বিঘা জমি চাষ করা হয়। যন্ত্রের ফলে সময় এবং টাকা দুটোই কম লাগছে।

একই গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, জমিতে কখন কী প্রয়োগ করতে হবে, রোগবালাই দমনে কী কীটনাশক দিতে হবে তার সার্বিক পরামর্শ কৃষি অফিস দেয়। এতে বাড়তি খরচ হয় না। আবার ফসলও ভালো হয়। ফলে লাভবান হচ্ছি।

সদর উপজেলা পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক মাবুদ হোসেন বলেন, আগে গরু দিয়ে চাষাবাদ করতাম। এতে সময় এবং খরচ বেশি পড়তো। গত তিন-চার বছর থেকে ট্রাক্টর/পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষবাদ হচ্ছে। এতে টাকাও কম আবার দু-একদিনের মধ্যেই রোপণ করা যায়।

এ সময় একই গ্রামের মাঠে গরু দিয়ে চাষ করছেন কৃষক আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, গরুর হালের জোড়া দিয়ে নিজের চাষের পাশাপাশি অন্যের জমিও চাষ করি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১০ কাঠা জমি চাষে ৪০০ টাকা চুক্তি নিয়েছি। পাশের জমি আগেই রোপণ করা হয়েছে, সেখানে ট্রাক্টর দিয়ে আর হাল চাষ সম্ভব নয়। এজন্য গরুর হাল চাষে চুক্তি নিয়েছি বলে জানান তিনি।

বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, অল্প জমিতে কীভাবে বেশি উৎপাদন করা যায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে তা কৃষকদের হাতে কলমে শেখানো হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় ফলনের জাত বাদ দিয়ে, উন্নত জাতের ব্যবহার বাড়ছে। এছাড়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই চাষাবাদে প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার হচ্ছে। ফলে প্রতি ইঞ্চি জমির ব্যবহার হওয়ায় উৎপাদন যেমন বাড়ছে খরচও তেমনি কমছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শামছুল ওয়াদুদ বলেন, জমি রয়েছে আগের মতোই। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একই পরিমাণ জমিতে বাড়তি ফসল উৎপাদন হচ্ছে। রফতানিকৃত ফসলের জন্য কম বালাইনাশক প্রয়োগে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সবজির ক্ষেত্রে সেক্স ফেরোমেন এবং আমের ক্ষেত্রে ব্যাগিং পদ্ধতি কৃষকরা ব্যবহার করছে। আশা করছি আগামীতে এর ব্যবহার বাড়বে।

এছাড়া বর্তমান সরকার কৃষিক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বৃহৎ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এ মৌসুম থেকে আমরা শুরু করতে যাচ্ছি। প্রতিটি জেলায় একটা ব্লক তৈরি করা হবে। যেখানে কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের যন্ত্রাংশ রাখা হবে, যা দিয়ে ধান লাগানো থেকে শুরু করে কাটা-মাড়াই কাজে ব্যবহৃত হবে। যাকে ‘সমলায়’ চাষ বলা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

‘উত্তরবঙ্গ এখন দেশের দ্বিতীয় চা অঞ্চল’

উত্তরবঙ্গে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হয়েছে। চট্টগ্রাম চা অঞ্চলকে ছাড়িয়ে উত্তরবঙ্গ এখন দেশের দ্বিতীয় চা অঞ্চল।

রোববার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ড আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও নর্দান বাংলাদেশ চা প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. শামীম আল মামুন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২০ সালে পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার সমতল ভূমিতে ১০টি চা বাগান ও সাত হাজারের বেশি ক্ষুদ্রায়তন চা চাষির বাগান থেকে এক কোটি ৩ লাখ বা ১০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে।

এ বছর চায়ের জাতীয় উৎপাদন হয়েছে ৮৬ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন কেজি। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের সমতলের চা বাগান থেকে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ জাতীয় উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও এ বছর চা উৎপাদনে সবোর্চ্চ রেকর্ড করেছে উত্তরবঙ্গ। ফলে উত্তরবঙ্গ এখন সিলেটের পরই চা উৎপাদনে দ্বিতীয়।

ড. মো. শামীম আল মামুন বলেন, উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার ১০টি নিবন্ধিত ও ১৭টি অনিবন্ধিত চা বাগান, ৭ হাজার ৩১০টি ক্ষুদ্রায়তন চা বাগানে (নিবন্ধিত ১ হাজার ৫১০টি) মোট ১০ হাজার ১৭০ দশমিক ৫৭ একর জমিতে চা চাষ করা হয়। এসব চা বাগান থেকে ২০২০ সালে ৫ কোটি ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৩৮৬ কেজি চা পাতা উত্তোলন করা হয়, যা থেকে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের ১৮টি চলমান চা কারখানায় ১ কোটি ৩ লাখ কেজি চা উৎপন্ন করা হয়। বিগত বছরের তুলনায় ২০২০ সালে ১ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৮৯ একর চা আবাদি জমি বৃদ্ধি পায় এবং ৭ দশমিক ১১ লাখ কেজি বেশি চা উৎপন্ন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন- উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমির হোসেন, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের খামার তত্ত্বাবধায়ক ছায়েদুল হক, চা বাগান ও কারখানারা মালিক জাহেদুল ইসলাম, চা বাগান মালিক মতিআর রহমান বক্তব্য দেন।

এ সময় বাংলাদেশ স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম খোকন, আনিসুজ্জামান নতুন চা পাতার ন্যায্যমূল্য, সেচ সুবিধা ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বাজারে পাওয়া গেল মালিকবিহীন ৩৩ মণ জাটকা

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৩ মণ জাটকা উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এসব মাছের মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার মিরকাদিম কাঠপট্টি বাজার এলাকায় এই বিপুল পরিমাণ মাছ উদ্ধার করা হয়।

মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ স্টেশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্টেশন ইনচার্জ মো. কবির হোসেন খাঁনের নেতৃত্বে মিরকাদিম কাঠপট্টি বাজার এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় আনুমানিক ১ হাজার ৩২০ কেজি (৩৩ মণ) অবৈধ জাটকা উদ্ধার করা হয়। পরে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীমের উপস্থিতিতে বিভিন্ন এতিমখানায় এসব মাছ বিতরণ করা হয়েছে।

মুক্তাপুর নৌ-পুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ মো. কবির হোসেন বলেন, আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com