আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

পোলট্রি খাতে আবারো বড় ক্ষতির শঙ্কা

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের লকডাউন ও সাধারণ ছুটিতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল পোলট্রি খাতে। ক্রেতাশূন্যতা ও বাজারে প্রবেশ করতে না পারায় লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগির বিক্রি কমে গিয়েছিল। একদিনের মুরগি বিক্রি ও ডিমের দামও কমে যায়। এ বছরও নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ায় এক সপ্তাহের লকডাউন চলমান থাকাকালেই আরো এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনে যাওয়ার চিন্তা করছে সরকার। সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এ লকডাউনের মেয়াদ আরো বাড়তে পারে। এ অবস্থায় লকডাউন আতঙ্কে ভুগছেন দেশের পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও খামারিরা। তারা আবারো পোলট্রি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। এজন্য লকডাউন হলে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর গত বছরের মার্চের শেষদিকে দেশে লকডাউন শুরু হয়। দফায় দফায় এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। দীর্ঘ এ লকডাউনের সময় লেয়ার মুরগি বিক্রি ৩৫ শতাংশ, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি ৬০ শতাংশ এবং একদিনের মুরগি বিক্রি কমে গিয়েছিল প্রায় ৫০ শতাংশ। পোলট্রি খামার বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছিলেন একদিনের বাচ্চা উৎপাদনকারীরা। এক মাসের ব্যবধানে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শতাধিক ফার্মে বাচ্চা উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছিল। এছাড়া নষ্ট করতে হয়েছিল প্রায় এক কোটি পিস একদিনের বাচ্চা। সব মিলিয়ে এ খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এদিকে চলতি মাসে ঘোষিত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সামনের দিনে কঠোর লকডাউনের ঘোষণায় গত কয়েক দিনে একদিনের মুরগির বাচ্চার দাম কমে গেছে। এর প্রভাবে বাজারে মুরগির দামও কমতির দিকে। ডিমের দামও কমেছে। এতে ক্রেতার স্বস্তি মিললেও খামারিদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, কঠোর লকডাউন হলে পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে খুচরা বাজার-হাটে ক্রেতার উপস্থিতি ব্যাপক হারে কমবে। এ কারণে সব ধরনের পোলট্রি পণ্য বিক্রিতে ধস নেমে আসতে পারে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য বলছে, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষ চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করছে পোলট্রি খাত। আত্মকর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দৈনিক ডিম উৎপাদন ছাড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ পিস, দৈনিক মুরগির মাংস উৎপাদন তিন হাজার টন, একদিন বয়সী বাচ্চা প্রতি সপ্তাহে উৎপাদন হচ্ছে ১ কোটি ৮০ লাখ, দৈনিক পোলট্রি ফিড উৎপাদন হচ্ছে ৯ হাজার ৮৬৩ টন। খাতটিকে ঘিরেই দুই শতাধিক শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। আশির দশকে বছরে একজন মানুষ মাংস গ্রহণ করত মাত্র দুই কেজি আর এখন সেটি ছয় কেজিতে উন্নীত হয়েছে। আবার সেই সময়ে ডিম গ্রহণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৮ পিস, এখন সেটি ১০৫ পিসে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে নিবন্ধিত খামার প্রায় ৭০ হাজার আর অনিবন্ধিত খামার প্রায় এক লাখ। ব্রিডার ফার্ম, হ্যাচারি, মুরগির খাবার তৈরির কারখানার মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। পোলট্রি শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে লিংকেজ শিল্প, কাঁচামাল ও ওষুধ প্রস্তুতকারক এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। সামনের দিনে দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে পোলট্রি শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বিপিআইসিসি সভাপতি ও প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান বলেন, গতবারের লকডাউনে আমাদের ২ টাকায় ডিম ও একদিনের বাচ্চা বিক্রি করতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একদিনের বাচ্চা মেরে ফেলতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য আগে থেকেই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পোলট্রি খাতের উৎপাদিত পণ্যগুলো বাজারে প্রবেশের সব ধরনের সুযোগ ও সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন। আর জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গেলে বাজারে পণ্যের চাহিদা তৈরি করা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, এবার আগে থেকেই নানা উদ্যোগ নেয়া শুরু করেছে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও খামারি এবং উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মাছ, দুধ, ডিম ও পোলট্রি পণ্য বাজারজাত করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে বাজারজাত সংকটে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদক, খামারি ও উদ্যোক্তাদের কথা মাথায় রেখে এবং ভোক্তাদের প্রাণিজ পণ্য প্রাপ্তির চাহিদা বিবেচনা করে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ৬ এপ্রিল বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত চলমান নিষেধাজ্ঞাকালে মাছ, হাঁস-মুরগি, গবাদি পশু, দুধ, ডিম, মাছের পোনা, মুরগির বাচ্চা, পশু চিকিৎসা সামগ্রী, টিকা, কৃত্রিম প্রজনন সামগ্রী, মত্স্য ও পশু খাদ্য, ওষুধ ইত্যাদি পরিবহন এবং বিপণন কার্যক্রম নিশ্চিতকরণ বিষয়ে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ভার্চুয়াল সভায় সারা দেশের মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় চালুর নির্দেশ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে সেদিন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানিয়েছেন, আমরা সবকিছু বন্ধ করে দিলে মানুষের মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না। আবার উৎপাদক, খামারি, বিপণনকারীসহ এ খাতসংশ্লিষ্ট অন্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গত বছর এ খাতের সংকট উত্তরণে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, পরিবহনের বাধা দূর করা হয়েছে। বন্দরে মত্স্য ও প্রাণী খাদ্য ছাড়করণেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এ বছরও প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদিত পণ্য ভ্রাম্যমাণ বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ বিক্রির জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করার জন্য সভায় সংশ্লিষ্ট মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের তত্পর থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

গত বছর করোনা সংকটে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা মূল্যের খামারিদের উৎপাদিত মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম ভ্রাম্যমাণ ব্যবস্থায় বিক্রি করা হয়েছিল। এবারো যদি সেই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়, তাহলে এ শিল্পের ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু লুেফ ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার বলেন, পোলট্রি খাতে নিয়োজিতদের প্রায় ৪০ শতাংশই নারী। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট মাংসের ৪৫ শতাংশই আসছে পোলট্রি খাতের মাধ্যমে। গ্রামীণ অর্থনীতির রূপান্তর, নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি গ্রামীণ উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে বড় ভূমিকায় এখন পোলট্রি খাত। ফলে সামনের দিনে দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে এ শিল্পে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে। তাই বিকল্প পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এ শিল্প রক্ষায় উদ্যোগ প্রয়োজন। 

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

লাইভস্টক

কুমিল্লায় বেড়েছে মাশরুমের চাহিদা

লেখক

জেলায় করোনায় মাশরুমের চাহিদা বেড়েছে। তবে উৎপাদন কম হওয়ায় ভোক্তারা চাহিদা অনুযায়ী মাশরুম পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মাশরুমের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে কুমিল্লায় প্রচুর মাশরুমের উৎপাদন থাকলেও এর চাহিদা ছিলো না। প্রচারণা না থাকায় মানুষ মাশরুম খেতে চাইতো না। এখন মাশরুম খেতে চাইলেও পাওয়া যাচ্ছে না। কুমিল্লা সদর উপজেলার ছত্রখিল গ্রামের চাষি চন্দন কুমার সাহা। তিনি ১৫ বছর ধরে মাশরুম উৎপাদন করেন। তিনি বাসসকে বলেন, ৫/৬ বছর আগে কুমিল্লায় শতাধিক চাষি মাশরুম উৎপাদন করতেন। বর্তমানে তা ৫/৬ জনে নেমে এসেছে। প্রচারণা না থাকায় আগে মানুষ মাশরুম খেতো না। এখন মাশরুমের অনেক চাহিদা। গরমকালে মাশরুমের উৎপাদন কম হয়। তার খামারে দুই থেকে তিন কেজি মাশরুম পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু চাহিদা রয়েছে ১০০ ্রকেজিরও বেশি। কৃষি বিভাগ মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ করলে তরুণদের বেকারত্ব দূরের সাথে মানুষ পুষ্টিকর মাশরুম খেতে পারবে।


কৃষিবিদ গোলাম সারোয়ার ভুইয়া বাসসকে বলেন, পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা মাশরুমকে সুপার ফুড হিসাবে বিবেচনা করেন। নিয়মিত মাশরুম খাওয়ার অভ্যাস করলে এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অনেক বাড়িয়ে দেয়। এতে করোনাসহ সকল রোগের বিরুদ্ধে মাশরুম সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। আগে কুমিল্লায় মাশরুম উন্নয়ন ও জোরদারকরণ প্রকল্প ছিলো। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখানে ভাটা নেমে আসে। মাশরুম উন্নয়ন ও জোরদারকরণ প্রকল্প কুমিল্লার সাবেক কর্মকর্তা, বর্তমানে নোয়াখালী বেগমগঞ্জ কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এখানে স্থবিরতা নেমে আসে। ইচ্ছে করলে সেই উদ্যোম ধরে রাখা যেত। মানুষের প্রয়োজনে মাশরুম চাষ জনপ্রিয় করা প্রয়োজন।
হর্টিকালচার সেন্টার কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাশরুম একটি পুষ্টিকর খাবার। এটি কম জায়গায় অল্প পঁজিতে চাষ করা যায়। প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে। এ সংক্রান্ত বড় বরাদ্দ পাওয়া গেলে আরো বেশি মানুষের মাঝে মাশরুম চাষ ছড়িয়ে দেয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

সহায়তা হিসেবে গরু পেলেন পটুয়াখালীর জেলেরা

পটুয়াখালীর বাউফলে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকাকালে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ১০ জেলেকে গাভী বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ মে) দুপুর ১২টার দিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ মাঠে এসব গাভী দেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মৎস্য অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আনিছুর রহমান, বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম ঝান্টা।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম ঝান্টা জানান, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থা প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টিতে জেলেদের মাঝে এসব গাভী বিতরণ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার আরও ১০ জেলেকে গাভী দেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

পেশা বদলে মহুবার এখন হাঁসের খামারি

রংপুরের বদরগঞ্জের চম্পতলি গ্রামের মহুবার আলী (৫০) ঢাকার সাভারে রিকশা চালাতেন। পরিবার নিয়ে থাকতেন ভাড়া বাসায়। কিন্তু বাদ সাধে মহামারি করোনা। গত বছর মহামারির কারণে অঘোষিত লকডাউন শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর আয়ের পথ। একসময় ফুরিয়ে যায় জমানো টাকা। বাধ্য হয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকা ছাড়েন মহুবার।

পরিবার নিয়ে টিকে থাকতে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফেরেন মহুবার। সেখানেও লকডাউনে রিকশা-ভ্যান চালাতে দেয়নি পুলিশ। তখন তিনি ভাবতে থাকেন, ঘরে বসে কীভাবে আয় করা যায়। মাথায় আসে হাঁস পালনের কথা। হাতে থাকা কিছু টাকা ও নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে আরও কিছু টাকা ধার নিয়ে গত বছরের অক্টোবরে বাড়ির পাশে গড়ে তোলেন হাঁসের খামার। এখন সেই খামারে হাঁসের সংখ্যা আট শতাধিক। এই হাঁস ও ডিম বিক্রি করে লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

মহুবারের পাঁচ শতক জমিতে বসতভিটা আছে। তিন বছর আগে ৫৫ শতক কৃষিজমি দেড় লাখ টাকায় বন্ধক নিয়ে ধান চাষ করে আসছেন। বড় দুই ছেলে বিয়ে করার পর আলাদা সংসার পেতেছেন। ছোট ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে মহুবারের আলাদা সংসার।

মহুবারেরা চার ভাই। পৈতৃক সূত্রে তাঁদের নামে বাড়ির পাশে ৯ শতক জমিতে একটি পুকুর আছে। ওই পুকুরে মাছ চাষ করতেন অন্য তিন ভাই। হাঁস পালনে পুকুরটি কাজে লাগিয়েছেন মহুবার।

মহুবার জানান, খামার করার শুরুতে তাঁর হাতে জমানো টাকা ছিল ৫০ হাজার। ৩০ হাজার টাকা ধার নেন। পুকুরের ওপর হাঁসের ঘর তৈরিতে তাঁর খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। আর এক হাজার হাঁসের বাচ্চা কিনেছিলেন ৩০ হাজার টাকায়। স্থানীয় বাজারের পরিচিত এক পশুখাদ্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাকিতে খাদ্য নেন। প্রশিক্ষণ না থাকায় মাসখানেক পর ১৯৬টি হাঁসের বাচ্চা অসুস্থ হয়ে মারা যায়।

গত সপ্তাহে তিনি ১০০ হাঁস বিক্রি করেছেন ৩৮ হাজার টাকায়। অন্য হাঁসগুলো ঈদের বাজারে বিক্রির চিন্তা করছেন। বর্তমানে তাঁর খামারে থাকা হাঁসের বাজারমূল্য দুই লাখ টাকার বেশি।

মহুবার বলেন, ‘মোর নেকাপড়া আর যদি হাঁস পালনের নিয়ম জানা থাকিল হয়, তা হইলে লাভটা আরও বেশি হইলো হয়। গেরামের (গ্রামের) ডাক্তারেরা মোক ঠগাইছে। একবার ডাক্তার আনলে ৫০০ টাকার কম মানে না। এক হাজার টাকার ওষুধ দিয়া দুই হাজার টাকা নেছে।’

বদরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, করোনায় কর্মহীন না থেকে মহুবারের হাঁস পালন করে লাভবান হওয়ার উদ্যোগটি অনুসরণীয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

কেঁচো সার উৎপাদনে স্বাবলম্বী তানিয়া

ফরিদপুরে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই। ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন করে অন্যদের মতো তানিয়া পারভীনও হয়েছেন স্বাবলম্বী। জৈব এই সার মাটিকে তাজা করে, নেই কোনো ক্ষতিকর দিক, দামেও সস্তা। তাই কৃষকেরও পছন্দ এই সার। ফলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই সারের চাহিদা।

ফরিদপুর পৌর এলাকার শোভাররামপুর মহল্লার বাসিন্দা তানিয়া পারভীন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২০১৭ সালে তিনি ৩টি রিং স্লাব দিয়ে শুরু করেন এ সারের উৎপাদন। ধীরে ধীরে সার উৎপাদনের পরিধি বাড়িয়েছেন। এখন রিং স্লাবে সীমাবদ্ধ নেই তানিয়া। বাড়ির উঠোনে বিশাল টিনের সেড ও আরেক পাশে ছাপড়ার নিচে তৈরি করেছেন ২৪টি হাউজ বা চৌবাচ্চা। প্রতিটি হাউজ ৪ ফুট বাই ১০ ফুট আকারের।

প্রতিটি হাউজে ৪০ মণ গোবর, শাকসবজির উচ্ছিষ্টাংশ ও কলাগাছের টুকরো মিশ্রণ করে প্রতিটি হাউজে ১০ কেজি কেঁচো ছেড়ে দেয়া হয়। তারপর চটের বস্তা দিয়ে হাউজ ঢেকে রাখা হয়। এভাবে এক মাস ঢেকে রাখার পর তৈরি হয় ভার্মি কম্পোস্ট সার। প্রতি মাসে তানিয়ার ২৪টি হাউজ থেকে এক থেকে দেড় টন সার উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি কেজি সার খুচরা ১৫ টাকা ও পাইকারি ১২টা করে বিক্রি করা হয়। এতে খরচ বাদে প্রতি মাসে আয় হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

এদিকে তানিয়ার উৎপাদিত কেঁচো সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাষিরা এসে তানিয়া পারভীনের বাড়ি থেকে সার কিনে নিয়ে চাষাবাদ করছেন।

ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহারকারী চাষি জুয়েল মল্লিক বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট সার জমির উর্বরতা বাড়ায়, ফলনও বেশি হয়। এছাড়া দামও কম। আর রাসায়নিক সারের দাম ও ক্ষতিকারক বেশি। এজন্য আমরা এখন জৈব সার ভার্মি কম্পোস্ট সার তানিয়া পারভীনের থেকে কিনে জমিতে ব্যবহার করছি। ফলে অল্প খরচে অধিক লাভবান হচ্ছি।

উদ্যোক্তা তানিয়া পারভীন বলেন, এই সার বিক্রি করে আমার প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। সারের চাহিদা থাকায় দিন দিন উৎপাদন বাড়িয়েছি। এখন এলাকার অনেকেই আমার কাছ থেকে সার উৎপাদনের কৌশল রপ্ত করছেন। তারাও আগামীতে ভার্মি কম্পোস্ট সারা উৎপাদন করবেন। তবে এজন্য সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আবুল বাসার মিয়া বলেন, কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জেলার প্রায় ৩শ’ কৃষক এই সার উৎপাদন করছেন। বর্তমানে রাসায়নিক সারের অতি ব্যবহারে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এই সার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমেছে। মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পের সুরক্ষায় নীতিমালা করছে সরকার

লেখক

পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পের সুরক্ষায় সরকার নীতিমালা তৈরী করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
তিনি আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আহকাব) এবং বাংলাদেশ এগ্রো ফিড ইনগ্রেডিয়েন্টস ইমপোর্টার্স এন্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফিটা)-এর প্রতিনিধিদের সাথে অনুষ্ঠিত এক সভায় একথা জানান।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ আবদুল জব্বার শিকদার, মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আহকাব’র সভাপতি ডাঃ এম নজরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ সায়েদুল হক খান, মোঃ অনোয়ার হোসন ও মোঃ মোশারফ হোসেন চৌধুরী, বাফিটা’র সভাপতি সুধীর চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি এ এম আমিরুল ইসলাম ও মহাসচিব মোঃ হেলাল উদ্দিন সভায় উপস্থিত ছিলেন।


মন্ত্রী বলেন, “নীতিমালার মাধ্যমে পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পকে সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান করা হবে। এ শিল্পের উন্নয়নে সাধ্যমতো সবকিছু করা হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা অতিক্রম করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে পদক্ষেপ নেয়া হবে।। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোভিড-১৯ এর কারণে দেশীয় অনেক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময়ে বাংলাদেশের গ্রামীন অর্থনীতিকে সচল করা, দারিদ্র্য দূর করা, মানুষকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরী করা, মানুষের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা মেটানো এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পের উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই।”
আহকাব ও বাফিটা’র প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা ব্যবসা করবেন ঠিক আছে। কিন্তু দেশ, বাজার ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর খাদ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখাসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ভূমিকা রাখতে হবে। যাতে সরকার বাজার মনিটরিং করতে না হয়। পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে হবে।”

পরে অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা দ্রুততার সাথে দায়িত্ব নিয়ে পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর খাদ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য কাজ করবেন বলে সভায় আশ্বস্ত করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চীনা রকেট: পৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাকাশে ঘুরছে দুইশ ‘টাইম বোমা’

চীনা রকেট: পৃথিবীকে কেন্দ্র করে মহাকাশে ঘুরছে দুইশ ‘টাইম বোমা’

জামালপুরের ছোট্ট মেয়ে আসিয়ার সুখের স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

জামালপুরের ছোট্ট মেয়ে আসিয়ার সুখের স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

ঢাকার উত্তরখানে মরিয়ম বেগম হেনার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮২

ঢাকার উত্তরখানে মরিয়ম বেগম হেনার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮২

দৃষ্টিনন্দন কোলন সেন্ট্রাল মসজিদে গম্বুজের পুরোটাই কাঁচ আর কংক্রিটের

দৃষ্টিনন্দন কোলন সেন্ট্রাল মসজিদে গম্বুজের পুরোটাই কাঁচ আর কংক্রিটের

চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে যেভাবে অভাবনীয় সফলতা পেলেন মানিক

চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে যেভাবে অভাবনীয় সফলতা পেলেন মানিক

মায়ার বন্ধন আর মানবতার এক স্বর্গ ভ্যালেরি এন টেইলরের সিআরপি

মায়ার বন্ধন আর মানবতার এক স্বর্গ ভ্যালেরি এন টেইলরের সিআরপি

ঢাকার উত্তরখানে মেহেরুন্নেসার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮১

ঢাকার উত্তরখানে মেহেরুন্নেসার ছাদকৃষি,পর্ব ১৮১

যুক্তরাষ্ট্রে মারুফা হায়াৎ ও মোহ. হায়াৎ আলী দম্পতির আঙিনা কৃষি,পর্ব ৭৮

যুক্তরাষ্ট্রে মারুফা হায়াৎ ও মোহ. হায়াৎ আলী দম্পতির আঙিনা কৃষি,পর্ব ৭৮

আশানুরূপ ইলিশ না পেলেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আড়তে

আশানুরূপ ইলিশ না পেলেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আড়তে

‘লাউড়ের রাজধানী’ এখন ‘কাঁঠালের রাজ্য’

‘লাউড়ের রাজধানী’ এখন ‘কাঁঠালের রাজ্য’

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com