আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

পেয়ারার চাষে পুষ্টি অর্থ দুটোই আসে

পেয়ারা ফলটি স্বাদ ও আকৃতিতে বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এ ফলের স্বাদের পরিধি মিষ্টি থেকে অম্ল টক পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া এ ফলের কস্তরির মতো গাঢ় গন্ধ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতে দেখতে পাওয়া যায়। এ রসালো ফলটির উপরের চামড়াটি দেখা যায় পাতার সবুজ রঙ্গের বলয় দিয়ে ঘেরা রয়েছে। এজন্য এ ফলকে বাংলাদেশের আপেল বলা হয়। এ ফলের আকার কখনো গোলাকৃতি আবার কখনো ডিম্বাকৃতি হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়। পেয়ারার আকার সাধারণত ৪ থেকে ১২ সেঃ মিঃ পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে থাকে।

এ ফলের বাহিরের অংশের রং হালকা সবুজ থেকে গাঢ় হলূদ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া পেয়াারার ভিতরের শাঁসযুক্ত মাংসাল অংেশের পরিমাণ বিভিন্ন জাতে বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এর রংও কোনো ফলে সাদা বা হলুদ আবার কোনো ফলে লাল বা গোলাপী হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়। এ ফলের বীজগুলো শাঁসের সাথে খুবই দৃঢ়ভাবে গেঁথে থাকে। পেয়ারা ফলের ভিতরে প্রচুর পরিমাণে হলুদাভ শক্ত বীজ থাকে। এসব বীজের আকার ৩ থেকে ৫ মি. মি. এবং এর সাথে একটি বাকানো ভ্রুণও দেখতে পাওয়া যায়।

পেয়ারা ফলটির মাংসাল অংশে এবং বীজে সাধারণত শতকরা ৮০ ভাগ পানি, এক ভাগ আমিষ, ১৩ ভাগ শ্বেতসার এবং প্রায় ৬ ভাগ আঁশ থাকে। এছাড়া পেয়ারা ফলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। এতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায় ১৪৬ থেকে ৪৯২ মিঃ গ্রঃ পর্যন্ত যার গড় পরিমান প্রায় ২৬০ মিঃ গ্রাম। ভিটামিন-সি ছাড়াও পেয়ারাতে ভিটামিন-এ, ক্যালসিয়াম, লোহা এবং ফরফরাস ও অনেক পাওয়া যায়। পেয়ারা ফলের ভিতরে শাঁসালো অংশ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পেকটিন। তা দিয়ে বীজগুলো ছাড়ানোর পর এ থেকে জ্যাম, , জেলি এসব তৈরি করা যায়।

এছাড়া পেয়ারার পাতার অনেক ভেষজগুণ ও রয়েছে। পেয়ারা পাতা সাধারণত ডায়রিয়া রোগের প্রতিষোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার অনেক সময় পেয়ারা পাতা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রং শিল্পেও ব্যবহৃত হয়। পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নাম Psidium guajava এবং এ ফলটি Myrtaceae পরিবার ভুক্ত। পেয়ারা আমাদের গ্রীষ্ম মন্ডলীয় এলাকা বিশেষ করে বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় ফল। তবে বাংলাদেশে উৎপাদিত ফলসমূহের মোট আবাদকৃত জমি ও মোট উৎপাদনের পরিমান বিশ্লেষণে পেয়ারার অবস্থান রয়েছে পঞ্চম স্থানে। বিগত কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষ পুস্তিকা- থেকে দেখা যায় বাংলাদেশে পেয়ারার আবাদকৃত জমির পরিমাণ প্রায় ২৪.৫১৫ হেক্টর এবং এর সর্বমোট উৎপাদন হয় ৪৫.৯৯০ মেট্রিক টন।

উৎপত্তি ও বিস্তার: আমেরিকা মহাদেশের উষ্ণ তাপযুক্ত এলাকা পেয়ারার উৎপত্তিস্থান বলে চিহ্নিত। সাথে সাথে অষ্ট্রেলিয়ার উষ্ণ অঞ্চলেও বিভিন্ন জাতের পেয়ারা হয়ে থাকে। ইতিহাসে দেখা যায়, আমেরিকা মহাদেশ থেকে প্রাচীনকালের নাবিকদের মাধ্যমে আমাদের দেশে পেয়ারা চাষের বিস্তার ঘটে থাকে। বাংলাদেশসহ ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে পেয়ারার উৎপাদন হয়ে থাকে। এখন বাংলাদেশের সব জেলাতেই পেয়ারার আবাদ হয়। তবে এর মধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম গাজীপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার উন্নতজাতের পেয়ারার ফলন বেশি হয়ে থাকে।

জাতঃ পেয়ারার জাত বিচারকালে যে বিষয়গুলোকে মুখ্য উপাদান হিসেবে ধরা হয় তাহলে বিভিন্ন গাছের বৃদ্ধি, ফলের উপাদন এবং এর সার্বিক গঠন প্রণালী। দেশে বিদেশে পেয়ারার প্রচুর জাত রয়েছে। তবে বাংলাদেশে বর্তমানে যেসব উন্নতজাতের আবাদ হয়ে থাকে, তা হচ্ছে কাঞ্চন নগর, স্বরূপকাঠি, মুকুন্দপুরি, লালশাঁক, কাজি পেয়াারা, বারি পেয়ারা-২, ইপসা পেয়ারা এসব। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএ আর আই) উদ্ভাবন করেছে কাজি পেয়ারা এবং বারি পেয়ারা-২ জাতটি এবং বঙ্গবন্ধু এস, এম, আর কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় (ইপসা) সালনা উদ্ভাবন করেছে ইপসা পেয়ারা জাতটি। এসব উন্নতজাতের পেয়ারা দেশের বিভিন্নস্থানে জাতভেদে খবই ভাল ফলন দিয়ে থাকে। এর মধ্যে এজন্য কাঞ্চন নগর জাতটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য আবাদ করতে সুপারিশ করা হয়েছ্ েএছারা কুমিল্লা ও বি, বাড়িয়া এলাকায় আবাদ করার জন্য স্বীকৃত দেয় হয়েচে মুকুন্দপুরি জাতকে। অপরদিকে বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলে চাষ করতে বলা হয়ে:েছ স্বরূপকাঠি জাতটিকে। তবে বাংলাদেশের সব এলাকাতেই বিশেষ করে লবণাক্ত অঞ্চল বাদে বি এ আর আই উদ্ভাবিত পেয়ারার জাত দুটি (কাজি পেয়ারা ও বারি পেয়ারা-২) আবাদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

পেয়ারার জাতের গুণাবলি ও উৎপাদনঃ বাংলাদেশের উন্নতজাতের পেয়ারার গুণাবলি এবং উৎপাদন বৈশিষ্ট্য এ দেখানো হলো।

ff

১। কাঞ্চননগর ১০৮.৬ ১৩১০ ১৪২.২৭
২। মুকুন্দপুরি ১০০.৮ ১০৯৫ ১১০.৩৭
৩। স্বরূপকাঠি ১১৬.৬ ১২২০ ১৩৬.১৫
৪। কাজি পেয়ারা ৩৬৬.৬ ৩৪৭ ১২৭.২২
৫। বারি পেয়ারা-২ ২৫০.১ ৪০৫ ১০১.২৫

মাটি ও আবহাওয়াঃ পেয়ারা ফলটি বেশ জলবায়ু সহনশীল। এছাড়াও এ ফলের খরা সহিষ্ণুতা ও লবনাক্ততা সহ্য শক্তি রয়েছে। পানি নিকাশের উত্তম ব্যবস্থা যুক্ত উর্বর দো-আশ পলিমাটি পেয়ারা চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

সারণি-১ঃ উন্নতজাতের পেয়ারার গুণাবলি ও উৎপাদন
জলাবদ্ধতা পেয়ারার আবাদের জন্য ক্ষতির করণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া এ ফলটি অম্ল বা ক্ষার এ উভয় ধরনের মাটিতেই ভাল ফলন দিয়ে থাকে।

উষ্ণ বা নাতিশীতোষ্ণ উভয় অঞ্চলেই পেয়ারার আবাদ ভাল হয়ে থাকে । এছাড়া পেয়ারা ফলটি সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে শুরু করে প্রায় ১৫০০ মিটার উচ্চতায়ও আবাদ করা যায়। যেসব এলাকায় বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত ১০০০ মি. মি. থেকে ২৫০০ মি.মি. পর্যন্ত সেসব জায়গা এমনকি ৩৫০০ মি. মি. থেকে ২৫০০ মি.মি পর্যন্ত সেস্ব জায়গা এমনকি ৩৫০০ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয় এমন এলাকাতেও পেয়ারার আবাদ হয়ে থাকে। এছাড়া পেয়ারার আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা থাকতে হবে ২৩ ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগেডের মধ্যে। তবে পেয়ারার চারা বা ছোট ছোট গাছ খরা ও ঠান্ডা আবহাওয়ার প্রতি খুবই সংবেদনশীল। পেয়ারা ফল গছের ফুল ধরা এবং ফলের বৃদ্ধির সময় শুনো আবহাওয়ার প্রয়োজন হলেও, ফলের বৃুদ্ধকালে তাপমাত্রার আধিক্যতা আবার কখনো ফল ঝরার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। এছা ফল বৃুদ্ধর প্রাক্কালে অনেক সময় আর্দ্র আবহাওয়ায় ফলের মিষ্টতাও হ্রাস পায়।

বংশ বিস্তার: পেয়ারার বীজ বা কলমের চারা ঊভয় পদ্ধতিতেই গাচের বংশবিস্তার হয়ে থাকে। বীজ থেকে যেসব গাছ হয় , সেগুলেঅতে সাধারণত দেরীতে ফুল আসে। এছাড়া এ সব রোগে বিভিন্ন আকারের বা বিভিন্ন ধরনের ফল ধরে। তবে এ ধরনের গাছগুলো বেশির ভাগই দীর্ঘজীবী হয়ে থাকে। সাধারণত বীজতলায় বা পলিথিন ব্যাগে চারা উৎপাদনের জন্য চলতি বৎসরের সম্পূর্ণ পরিপক্ব বীজ ব্যবহার করতে হয়। এরপর এসব চারা গাছে যখন ৬ থেকে ৮টি পরিপক্ব্ পাাতা থাকে, তখন তা মূল জমিতে রোপণ করতে হয়।
গাছে কলম তেরির মাধ্যমে চারা করা হলে সেসব গাছের মাতৃ গুণাগুণ পুরোপুরি বজায় থাকে। এছাড়াও কলমের গাছে তাড়াতাড়ি ফুল আসে, আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় আবার অপরদিকে গাছ ছোাট থকে। বেশ কয়েকটি কলম পদ্ধতিতে পেয়ারার চারা ুৎপাদন করা যায়। সেগুলো হচ্ছে-

ক) কাটিং বা অঙ্গচ্ছেদন পদ্ধতি- এটি সবচেয়ে সহজ বা সরল পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সব আবহাওয়াতেই গাছ থেকে কাটিং করা সম্ভব। তবে এর উন্নত কৌশল বের হবার কারণে বর্তমানে এ পদ্ধতিটি খুব বেশি কার্যকর নয়।

খ) লেয়ারিং বা গুটি কলম পদ্ধতি- এ পদ্ধতির মাধ্যমে মাতৃগােছের ডালে শিকড় গজানো হয় এবং তা সময়মত আলাদা করে অন্যত্র রোপণ করা হয়। পেয়ারার আবাদের জন্য এ পদ্ধতিটি বর্তমানে খবই জনপ্রিয়। সাধারণত বর্ষাকারৈই অন্যান্য সমেেয়ের চেয়ে এভাবে চারা উৎপাদনের জন্য উত্তম।

গ) গ্রাফটিং বা জোড়কলম পদ্ধতি- জোড়কলম পদ্ধতিটি ব্যবহার করে বর্তমানে আরো একটি উন্নত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করে এ থেকে প্রায় শতকরা ৯৫ ভাগ সুফল পাাওয়া যায়। তাবে এসবের মধ্যে ক্লেফট গ্রাফটিং করা খুব বেশি সহজ ও সরল।

চাষ পদ্ধতি- জমিতে চারা রোপণের জন্য খুবই ভালভাবে চাষ ও মই দিয়ে সমান করে নিতে হবে। এরপর চাষ করা জমিতে পেয়ারার চারা রোপনের জন্য গর্ত বা গিট তৈরি করতে হয়। প্রতিটি গর্ত থেকে গর্তের দুরত্ব থাকবে ৫-৬ মিটার। এর পর প্রতিটি গর্তের চওড়া রাখতে হবে ৬০ সে. মি. হিসেবে এবং গভীরতা রাখতে হবে ৪৫ সে; মিটার করে। চারা রোপণের জন্য এভাবে গর্ত তৈরি করে নিয়ে এসব গর্ত প্রায় ১৫-২০ দিন পর সার মিশানো মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে। প্রতিটি গর্ত এসব সার সহ মাটি দিয়ে ভরাট করার প্রায় ১০ ১৫ দিন পর এতে চারা রোপণ করতে হয়। এসব গর্তে যেসব সার মিশানো মাটি দেয়া হয়। তাহলো ১০-১৫ কেটি গোবর, ১-২ কেজি খৈল এবং ০.৫ কেজি পটাশ। পেয়ারার চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হচেছ বর্ষার শুরতে অর্থাৎ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে তবে চারা শ্রাবণ মাসে পর্যন্তও রোপণ করা যায়।

জৈব ও রাসায়নিক সার পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, পেয়ারা গাছে জৈব সারের সাথে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হলে ভাল ফলন দিয়ে থাকে। গাছে সার প্েরয়াগ করা হলে শুধুমাত্র পেয়ারার উৎপাদনই বৃদ্ধি হয় না এ সাথে ফলের গুণাগুণও উন্নত করে। প্রতি বছরেই পেয়ারা গাছে সার প্রয়োগ করতে হয়। তবে এসব সার দু কিস্তিতে প্রতি বছরে দু’বার হিসেবে প্রতি গাছে প্েরয়াগ করতে হবে। বছরে এভাবে প্রয়াগের নিয়ম হচ্ছে প্রথম অর্ধেক সার প্রয়োগ করতে হবে চৈত্র -বৈশাখ মাসে এবং বাকী অর্ধেক প্রয়োগ করতে হবে শ্রাবণ ভাদ্র মাসে। প্রতি গাছে সার প্রয়াগের আগে গাছের চার পাশে কোদাল বা ছোট লাঙ্গল দিয়ে জমি কুপিয়ে নিতে হবে। তারপর এভাবে শিকড়ের চারপাশের মাটির সাথে এ সার মিশিয়ে মাটিতে সেচ দিয়ে দিতে হবে। দসার ব্যবহারের বাৎসরিক মাত্রাঃ বছর প্রতিটি পেয়ারা গাছে সুপারিশকৃত জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার।

পরিমান সারণি-২ বছরওয়ারি জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগমাত্রা

াি

উৎস: প্রশিক্ষণ ম্যানুয়েল, জুলাই/ ২০০২, সমম্বিত উদ্যান ও পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প, খামার বাড়ি।

পেয়ারা গছে থেকে যে বছর নতুন শাখা গজায় তাতেই ফু-ফল ধরে। এজন্য গাছে যেনো নতুন গাল ঠিকতো গজায় এবং সেসাথে এসব ডালে যাতে বেশি বেশি ফুল আসে সেদিকে লক্ষ্য রাকতে হবে। তবে ফুল ধরার অন্তত একমাসে আগে গাছে সার প্রয়াগ করতে হয়।
পানি সেচ ঃ জমিতে চারা রোপণের প্রথমদিকে পেয়ারা গাছে ৮-১০ বার সেচ দিতে হয়। পেয়ারা গছে চৈত্র -জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রতি সপ্তাহেই এ সেচ দেয়া প্রয়াজন। এভাবে সেচ দেয়া হলে এতে গাছের ফল ঠিকমতো ঘরে এবং সাথ সাথে ফল ঝরাও রোধ হয়। গাছে এভাবে সেচ দেয়া হলে শীত মৌসুমে পেয়ারা ফল আকারেও বড় হয়।

পোকামাকড় ও এর দমন: পেয়ারা গাছ ও ফল পোকা মাকড় দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে মাছি পোকা ফলের গা ছিদ্র করে সেখানে ডিম পাড়ে। পরে ডিম থেকে মাছির কীড়া পেয়ারা ভিতরের অংশ খেয়ে ফেলে। এভাবে মাছি আক্রান্ত ফলে প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলিলিটার হিসেবে কিটনাশক মিশিয়ে স্প্রে করা হলে এ পোকা দমন করা যায়। এ জন্য যেসব কীটনাশক ছিটানো হয়, তাহলো রক্রিয়ন. পারফেকথিয়ন মার্শাল/ এজেড্রিন/ নুভাক্রন এসব। মিলিবাগের আক্রমণে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া পাতাও ঝরে যায়। এ পোকা দেখতে অনেকটা সাদা তুলার মত এরা পাতার সাথে জড়িয়ে থকে এবং এ থেকে রস চুষে খায়। এ পোকা দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি লিটার করে ডায়াজিনন ৬০ ইসি ভালভাবে স্প্রে করতে হয়।

রোগবালাই দমন: পেয়ারা গাছ পোকা মাকড় ছাড়া রোগবালাই দিয়েও আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ্যান্থ্রাকনোজ পেয়ারা গাছের একটি মারাত্মক রোগ। এ রোগে গাছ আক্রান্ত হলে ডায়াথেন এম ৪৫ প্রতি লিটার পানিতে ২.৫৪ গ্রাম অথবা টিল্ট প্রতিলিটার পানিতে ২ মিলি লিটার হারে ¯েপ্র করা হলে এ রোগ থেকে গাছকে বাঁচানো যায়। এছাড়া উইল্টা ঢলে পড়া রোগেও অনেক সময় পেয়ারা গাছ আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ রোগে আক্রান্ত হলে গাছের পাতা বাদামি রং হয়ে পুরো গাছ ঢলে পড়ে। এ ছাড়া কান্ডের রং এর পরিবর্তন হয়। পরে আস্তে আস্তে গাছ মারা যায়। এটা একটা মাটি বাহিত রোগ। এ রোগের এখনো কোন ভাল দমন ব্যবসথা নেই। এজন্য গাছ এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে তা তুলে নষ্ট করে ফেলা ভাল।

গাছে ফুল ধরার নিয়ম: পেয়ারা গাছে সাধারণত বছরে দু’বার ফুল ধরে। একবার ধরে শ্রাবণ মাসে এবং আরেকবার ফুল ধরে পৌষ মাসের দিকে। বছরে পেয়াারা গাছে দু’বারই ফুল ধরে তবে এসময় গাছের পরিচর্যা সঠিকভাবে করতে হয়।

গাছের ফল হ্রাস করা: পেয়ারার অনেক জাত যেমন কাজি পেয়ারা বারি পেয়ারা-২ ধরনের জাতগুলো আকারে অনেক বড় এবং ওজনেও বেশি হয়। তাই গাছে এসব পেয়ারা ধরলে সময় মতো গাছ থেকে কিছু পেয়ারা ফেলে দিতে হয়। এতে পেয়ারার আকার বড় হবে। এছাড়া সে সাথে অতিরিক্ত ফল ধরার কারণে গাছের ভেঙ্গে পড়া এবং গাছ বাকানো রোধ হবে।

গাছে ফল বেঁধে দেয়া: পেয়ারা ফলকে রোগ বালাই বা পোকা মাকড় থেকে রক্ষা করতে হলে ফলকে প্রাথমিক অবস্থায়ই বেঁধে দিতে হয়। এতে ফল তার সুবিধামতো ভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয। সাধরণত বাদামি রংয়ের কাপড় দিয়ে পেয়ারা ফলকে এভাবে বেঁধে রাখতে হয়।

পেয়ারা ফল সংগ্রহ: সাধারণত পেয়ারা পাকার সময় ফলের রং এর পরিবর্তন হয়। এসব ফলের রং হলদাভ সবুজ থেকে হলুদ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এধরণের রং ধরার সময়েই গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করতে হয়।

পেয়ারার উৎপাদন: পেয়ারা চারা রোপণের ১-২ বছরের মধ্যেই গাছে ফল দিয়ে থাকে। এছাড়া পেয়ারা প্রায় ১৫-২০ বছর পর্যন্ত গাছে ভাল ফলন দিয়ে থাকে। পেয়ারা গাছে ফুল আসার পাঁচ মাসের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফল সংগ্রহের সময় লক্ষ রাখতে হবে যাতে ফল মাটিতে না পড়ে। এতে গাছ থেকে ভাল ফল সংগ্রহ করা সহজ হয়।

দৈনন্দিন

শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন কয়টা আপেল খাবেন?

শরীর সুস্থ রাখার জন্য ফল ও সবজি খাওয়ার বিকল্প নেই। রোজ একটি করে আপেল খেলে রোগবালাই পালাবে এটি অতি পরিচিত একটা কথা। আপেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এ কথা সত্য। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আপেল খেলে তাহলে তৈরি হতে পারে নানা সমস্যা। 

চিকিৎসকরা বলছেন, এক জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ প্রতিদিন সর্বোচ্চ দু’টি করে আপেল খেতে পারেন। কিন্তু তার বেশি খাওয়া ভাল নয়। কারণ আপেলের সাথে ক্ষতিকর কীটনাশক আমাদের শরীরে যায় যা মারাত্মক ক্ষতিকর।

কী কী বিপদ হতে পারে অতিরিক্ত আপেল খেলে?

ক্স বেশি পরিমাণে আপেল খেলে তাতে থাকা কীটনাশক অন্ত্রের নানা সমস্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। এমনকি অন্ত্রের ক্যানসারের আশঙ্কাও বেড়ে যেতে পারে। এতে করে পাকস্থলির ক্ষতি হতে পারে। মলদ্বারের নানা অসুখ হতে পারে এর কারণে। এর পাশাপাশি রক্তে দূষিত পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াসহ শরীরে নানা ধরনের বিষক্রিয়া হওয়ার সমস্যা রয়েছেই।

ক্স শুধু কীটনাশক নয়, আপেল চকচকে করতে কৃত্রিম মোমও ব্যবহার করা হয় এর গায়ে। প্রাকৃতিক ভাবে আপেলের গায়ে অল্প মোম জাতীয় পদার্থ থাকে। কিন্তু সেটি বেশি দিন টিকে না। তারপরে আপেল তাজা এবং চকচকে করতে অনেকে এর গায়ে মোম এবং পেট্রোলিয়াম জেল লাগান। এগুলোও পেটে যায়। অন্ত্রে এই মোম এবং পেট্রোলিয়াম জেল জমা হয়ে ক্যান্সারসহ নানা রোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

ক্স প্রতিদিন দু’টির বেশি আপেল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে, হজমের সমস্যা হতে পারে এবং ওজন বাড়তে পারে।

ক্স অতিরিক্ত আপেল খেলে দাঁতের ক্ষতিও হতে পারে। যাদের দাঁত বা মাড়ির সমস্যা আছে, আপেল খাওয়ার আগে তাই তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

বারি মাল্টা-১ বদলে দিয়েছে দেশে ফল আমদানির চিত্র

মতিনুজ্জামান মিটু : [২] বর্তমানে এ জাতীয় মাল্টা চাষে দেশে চাষে নীরব বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে। মাল্টা চাষ সম্প্রসারণে বিদেশি মাল্টা আমদানির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমছে। দেশীয় জাতের মাল্টাকে যথাযথ ব্রান্ডিং করতে পারলে একদিকে ফল উৎপাদন বাড়ার মাধ্যমে জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ অন্যদিকে বিদেশি মাল্টার আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

[৩] সঠিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যথাযথ প্রক্রিয়াজাতকরণ, সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থা, ব্যাপক প্রচার প্রচারণা এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ বাংলাদেশকে মাল্টা আমদানিকারক দেশ হতে রপ্তানিকারক দেশের কাতারে উন্নীত করতে পারে।

[৪] আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশি জাতের মাল্টার চাষ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে রংপুরের তারাগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. রাসেল সরকার আরও বলেন, ২০০৪ সালে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে বারি মাল্টা-১ নামে দেশীয় মাল্টার একটি জাত উদ্ভাবন করা হয়। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলো (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) ও সিলেট অঞ্চল ছাড়াও বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা, বরেন্দ্রভূমি, উত্তরাঞ্চলসহ প্রায় সারা দেশে মাল্টার চাষাবাদ হচ্ছে। চারা রোপণের ১ থেকে ২ বছরের মধ্যেই মাল্টা গাছে ফুল ও ফল আসে এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে একাধারে ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত একেকটি গাছ থেকে পূর্ণমাত্রায় ফল সংগ্রহ করা সম্ভব। এ দেশের প্রায় সব অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া বারি মাল্টা-১ চাষের অনুকূল এবং খুব অল্প সময়ের মাঝেই ফল সংগ্রহ করা যায়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ছোট বড় নানা আকারের মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে। এসব ফলবাগান আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মাঝেই পূর্ণ উৎপাদনে যেতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

[৫] বিদেশি মাল্টা ও কমলার আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং দেশের মাটি ও জলবায়ু উপযোগী নতুন উদ্ভাবিত মাল্টার জাতের অধিক ফলনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সারাদেশে লেবুজাতীয় ফসলের (মাল্টা, কমলা, লেবু প্রভৃতি) চাষ সম্প্রসারণের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ২০২৩ সালে শেষ হতে যাওয়া ৫ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৩০ টি জেলার ১২৩টি উপজেলায় ৫৯ হাজার ১০০টি বিভিন্ন আয়তনের বাগান স্থাপিত হবে এবং প্রায় ৫০০০ পুরাতন মাল্টাবাগানের ব্যবস্থাপনা হবে। প্রকল্প শেষে দেশে মাল্টা ও কমলার উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়বে।

[৬] অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার টন মাল্টা ও কমলা উৎপাদিত হবে যাতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার অধিক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এ ছাড়াও, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রকল্পের মাধ্যমেও সাইট্রাস জাতীয় ফলের চাষাবাদ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ডিএইর তথ্য মতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশে কমলা ও মাল্টার উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৪০,৩১৭ টন ও ২৮,০৪১ টন। দেশে চাষকরা কমলার বার্ষিক উৎপাদন বাড়ার হার ৫ শতাংশ যেখানে মাল্টার ক্ষেত্রে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি।

[৭] বিভিন্ন সুত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই কৃষিবিদ জানান, মাল্টা অত্যন্ত সুস্বাদু, রসালো ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি ফল। ভিটামিন ‘সি’ সম্মৃদ্ধ ফলগুলোর মধ্যে মাল্টা অন্যতম। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের কাছে এটি সমান জনপ্রিয়। কথায় বলে, ফল খাই, বল পাই। ফল যত তাজা খাওয়া যায় ততই ভালো, এতে ফলের পুষ্টিমান অটুট থাকে। তাজা ফল ভক্ষণের মাধ্যমে একদিকে যেমন ফলের পরিপূর্ণ আস্বাদ গ্রহণ করা যায়, অন্যদিকে সঠিক পুষ্টিগুণও পাওয়া সম্ভব হয়। বর্তমানে দেশে আমদানিকরা বিদেশি ফলের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাল্টা। বিদেশি মাল্টা আমদানিতে প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে, অধিকন্তু দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকায় এসব ফলের স্বাদ ও পুষ্টিমান ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বিগত কয়েকবছরে সারাদেশে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ বেশ সম্প্রসারিত হয়েছে।

[৮] বাংলাদেশে সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকাল তথা মধ্য মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত মধুমাস ধরা হয় এবং এসময়ই নানান দেশীয় ফলের প্রাচুর্য থাকে। বছরের অন্যান্য সময়ে এত বেশি দেশীয় ফল পাওয়া যায় না। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে জানুয়ারি পর্যন্ত কুল ও পেয়ারা বাদে অন্য দেশীয় ফল বাজারে তেমন থাকে না। এসময় ফলের চাহিদা পূরণে বিদেশি ফলই একমাত্র ভরসা। একটি হিসেব মতে, দেশি জাতের ফলের মাধ্যমে দেশের মোট ফলের চাহিদার মাত্র ৩৫ শতাংশ পূরণ হয়। বাকি ৬৫ শতাংশ ফল বাহিরে থেকে আমদানি করতে হয়। মূলত ৬ ধরনের বিদেশি ফল (আপেল, কমলা, মাল্টা, আঙ্গুর, বেদানা, নাশপাতি) সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়।

[৯] দেশে কিছু কিছু বিদেশি ফলের উৎপাদন শুরু হয়েছে তবু এখনো বিদেশি জাতের ফল আমদানি নির্ভরতা প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি। দেশে আমদানিকরা ফলের ৮৫ শতাংশ আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙ্গুর-এই ৪ ধরনের ফল। পণ্যের বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ইনডেক্সমুন্ডি এর তথ্য অনুযায়ী মাল্টা ফল আমদানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫ম। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে ২০১২-১৩ অর্থবছরে আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙ্গুর ফলের শুল্ককরসহ আমদানি ব্যয় ৯৪৬ কোটি টাকা। যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৮০২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কাস্টমস এর তথ্যানুযায়ী দেশে ২০১৭-১৮ সালে শুধু মাল্টা ও কমলা আমদানি করা হয় ১,১৭,১৭০ মেট্রিক টন যাতে প্রায় ১ হাজার ৮৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

[১০] মূলত ৪৬টি দেশ থেকে উল্লিখিত ৬ ধরনের বিদেশি ফল আমদানি করা হয়। আমদানিকরা বিদেশি ফলের সিংহভাগই চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশে আসে। অল্পকিছু স্থলবন্দরের মাধ্যমে ভারত ও ভুটান থেকে আমদানি করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর এর হিসাব অনুযায়ী, বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বন্দর দিয়ে মোট ৪.৫৮ লাখ টন বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল আমদানি হয়েছে। শুল্ককরসহ যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৪২২ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট বিদেশি ফল আমদানি হয়েছে ৪.৬১ লাখ টন। পাঁচ বছরে আমদানি বেড়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৬ হাজার টন এবং মোট আমদানির প্রায় ৭৭ শতাংশই হচ্ছে আপেল ও মাল্টা।

[১১] দেশীয় মাল্টায় অনীহার কারণ উল্লেখ করে তিনি জানান, যদিও বিগত কয়েকবছরে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সারাদেশে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে তথাপি দেশীয় জাতের মাল্টার ক্ষেত্রে সিংহভাগ ভোক্তার অনীহা লক্ষ করা যায়। দেশীয় মাল্টার প্রতি অনীহার প্রধান কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। ১. কথায় বলে, ‘আগে দর্শনধারী, তারপর গুণ বিচারী’, একথা দেশি জাতের মাল্টার ক্ষেত্রে প্রায় পুরোপুরি খাটে। দেশি জাতের মাল্টা পরিপক্ব অবস্থায়ও সাধারণত হলুদাভ সবুজ থাকে। ২. সাধারণভাবে মনে করা হয় বিদেশি ফলের পুষ্টিমান অধিক মাত্রায় বিদ্যমান থাকে।

[১২] এজন্য বিদেশি ফলের প্রতি অতিমাত্রায় দুর্বলতা এবং দেশীয় ফলের ক্ষেত্রে অজ্ঞতাজনিত অনীহা কাজ করে। ৩. মাল্টা নন-ক্লাইমেকটেরিক ফল হওযায় গাছ থেকে সংগ্রহ করার পর তা আর পাকে না। অসাধু অনেক ব্যবসায়ী ও চাষি মাল্টা পরিপক্ব হওয়ার আগেই উচ্চমূল্য পাওয়ার জন্য গাছ থেকে সংগ্রহ করে বাজারজাত করে। এর ফলে মাল্টার পরিপূর্ণ স্বাদ পাওয়া যায় না এবং ভোক্তার মনে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। ৪. দেশীয় মাল্টার পুষ্টিগুণ ও স্বাদ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় ভোক্তাদের দেশি জাতের মাল্টার প্রতি অনীহা দেখা যায়।

[১৩] বিদেশি মাল্টার আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশি জাতের মাল্টার বাজার সৃষ্টির বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ভোক্তার কাছে একে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এই যুগপৎ বিষয়ের সম্মিলন ঘটিয়ে ভোক্তা এবং নতুন মাল্টা চাষি ও কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য কতিপয় সুপারিশ করা হয়েছে।

[১৪] এগুলো হলো: ১. গবেষণার মাধ্যমে ফল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং উজ্জ্বল কমলা বর্ণের উচ্চফলনশীল আগাম ও নাবী জাত উদ্ভাবন করা। ২. সরকারি হর্টিকালচার সেন্টার ও বেসরকারি নার্সারিগুলোতে বেশি সংখ্যক চারা উৎপাদনের মাধ্যমে চারার সহজলভ্যতা বাড়ানো। ৩. বসতবাড়িতে আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচুসহ অন্যান্য ফলের সঙ্গে মাল্টার চারা রোপণের জন্য জনগণের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো। ৪. বিদেশি মাল্টা আমদানিতে শুল্কহার বাড়িয়ে দেশীয় জাতের মাল্টার বাজারজাতকরণের সুযোগ বৃদ্ধি নিশ্চিত করা। ৫. জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ের ফল, সবজি কিংবা কৃষি প্রযুক্তি মেলা, প্রদর্শনী, মাঠ দিবসসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে দেশি জাতের মাল্টা ও এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক আলোচনা ও লিফলেট বিতরণ করা।

[১৫] ৬. প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ অন্যান্য সকল অন্তর্জাতিক মাধ্যমে দেশীয় মাল্টার পরিচিতি, পুষ্টিগুণ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন বা ভিডিওচিত্র প্রকাশ করা। ৭. দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও কৃষকের নিজস্ব উদ্যোগে বিগত কয়েক বছরে ছোট বড় যেসব মাল্টাবাগান গড়ে উঠেছে সেসব কৃষি উদ্যোক্তার সফলতার গল্প তুলে ধরা।

[১৬] ৮. জেলা, অঞ্চল বা জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ফল চাষিকে পুরস্কৃত করা। ৯. উৎপাদিত ফলের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণের পাশাপাশি উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি করা। ফল উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত কৃষক ও ব্যবসায়ীদের রপ্তানিযোগ্য ও মানসম্মত আধুনিক ফল উৎপাদন প্রযুক্তি, সংগ্রহ ও সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ প্রভৃতি বিষয়ে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়ানোর জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

বরই বাগানে মধু আহরণ

মৌ বাক্স বসিয়ে সরিষা, লিচু, কালিজিরা, মিষ্টিকুমড়া থেকে মধু আহরণ করা গেলেও এবার বরই বাগান থেকে মধু সংগ্রহ করে তাক লাগিয়েছেন মৌ খামারি মোসাদ্দেক হোসেন। ২ হাজার গাছের বরই বাগানে ৬০টি মৌ বাক্স থেকে ১০০ কেজি বরই ফুলের মধু আশা করছেন তিনি।

 দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় অনেক বরই বাগানে বিভিন্ন জাতের বরই চাষ করছেন চাষিরা। এসব বরই বাগানে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবর জুড়ে বর্ষাপরবর্তী শরৎ মৌসুমে অসংখ্য ফুল আসে। আধুনিকতার সঙ্গে মৌ চাষেও এসেছে বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা। অ্যাপিস ম্যালিফেরা প্রজাতির মৌমাছি বাক্সে পালন করে মৌ চাষ করছেন আধুনিক খামারিরা। তেমনই একজন মৌ পালক মোসাদ্দেক হোসেন। বছরে মধু উৎপাদন করেন প্রায় ৩ টন। সরিষা, লিচু, কালিজিরা, মিষ্টিকুমড়া থেকে মধু আহরণ করলেও এবার তিনি মধু উৎপাদনের জন্য বরই বাগানে বসিয়েছেন মৌ বাক্স। দিনাজপুর সদরের উত্তর শিবপুর ও রানীগঞ্জ হাট এলাকায় চাষি আনিসুর রহমান ২ হাজার গাছের বরই বাগানে মৌ বাক্স বসিয়ে সাফল্য পেয়েছেন। অতীতে মৌ খামারিরা বরই ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে না পারলেও তিনি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও উদ্ভিদতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে বরই ফুলের মধু পেয়েছেন।

বরই ফুল থেকে মৌমাছি মধু আহরণের ফলে ফুলে ফুলে পরাগায়ন হয় এবং শতকরা ২০-৩০ ভাগ বেশি ফলনও হয়। একদিকে মধু সংগ্রহ করে লাভবান অন্যদিকে মৌ মাছির মাধ্যমে ফুলে ফুলে পরাগায়ন ঘটায় বরই বাগানের ভালো ফলনের আশা। তাই বরই বাগানের চাষি ও মৌ চাষি উভয়েই লাভবান হচ্ছেন। 

উদ্ভিদবিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করা মৌ খামারি মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘সাধারণত অ্যাপিস ম্যালিফেরা বরই ফুলের নেকটার সংগ্রহ করে না। কিন্তু আমি বরই ফুলের পাতা ও নির্যাস করে তাদের ফিডিং দিয়ে অভ্যাস করিয়েছি। তারা সে ঘ্রাণের প্রতি অভ্যস্ত হওয়ায় মৌ বাক্স স্থাপনের পর মৌমাছিরা ফুল থেকে নেকটার সংগ্রহ করছে।’ 

তিনি বলেন, ‘বাউ ও আপেল কুল বা কাশ্মীরি বরই ফুলে নেকটার কম থাকায় মৌমাছি খুব বেশি নেকটার পায় না কিন্তু সিডল্যাস বরই জাতে প্রচুর নেকটার থাকায় বাগানটি থেকে প্রায় ৩ মণ মধু হবে আশা করছি।’ 

মৌ পালন কর্মসূচি বিসিক দিনাজপুরের মৌ পালন কারিগরি কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, ‘মোসাদ্দেকের মৌ খামার পরিদর্শন করেছি। তার খামারে প্রচুর বরই মধু সঞ্চয় করেছে। তার খামার বর্ষা-পরবর্তী প্রাকৃতিক খাদ্য পাওয়ায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে। তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ায় দ্রুত নতুন নতুন কৌশলে মৌ পালনে সাফল্য অর্জন করেছেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ড্রাগন চাষে নতুন স্বপ্ন বুনছেন আশরাফুল

ইব্রাহীম খলিল: [২] বেকার আশরাফুল এক সময় ড্রাগন ফল চিনতেনই না। পরে বিভিন্ন মানুষের কাছে ও অনলাইনে দেখে শুরু করে ড্রাগন চাষ। স্বাবলম্বী হতে নিজে স্বপ্ন দেখেন অন্যকে স্বপ্ন দেখান। বাজারে ড্রাগনের দাম শুনে চোখ কপালে উঠে আশরাফুলের। কেজি প্রতি সাড়ে পাঁচশ টাকা! তখন চিন্তা করলেন এই ফলের চাষ তিনিও তো করতে পারেন। এ ভাবনা থেকেই তিনি শুরু করেন ড্রাগন ফলের চাষ।

[৩] আশরাফুল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীঘর বগাহানী গ্রামের মজিবুর রহমানের ২য় ছেলে। পরীক্ষামূলকভাবে ৬ মাস আগে ৬ শতাংশ জায়গায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে ড্রাগন গাছ লাগিয়ে ৩৭৫টি পিলার তৈরি করে। সেই পিলারে এখন ড্রাগনের গাছগুলোতে ফলের অপেক্ষায় আশরাফুল।

৪] ড্রাগন ফলের বাগান ছাড়াও তার রয়েছে আরও অনেক পরিকল্পনা। ড্রাগন ফল বিক্রির বার্ষিক আয় ৬০ হাজার টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তিনি। যা দিনে দিনে আরও বাড়বে বলে আশা তার।

[৫] আশরাফুল বলেন, চাকুরী বা প্রবাসে যাওয়ার আশায় সময় নষ্ট করে দেয় কিন্তু আমি এসব বাদ দিয়ে পেশা হিসেবে নিয়েছি এই কৃষিকেই। গ্রামের মানুষের কৌতূহল কি হবে এসব করে। মানুষের কৌতূহলকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং অন্যরাও যাহাতে এই কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয় সেই পরিকল্পনায় এগিয়ে চলছি। নিজের সাধ্য দিয়ে এই পরিকল্পনা শুরু করেছি তবে কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা করলে আরো এগিয়ে যেতে পারবো।

[৬] নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বর্তমানে নবীনগরে ড্রাগন ফল চাষের তথ্য আমার কাছে নেই। কৃষি বিভাগ থেকে ড্রাগনের উপর কোন প্রণোদনা নেই তবে কেউ সহযোগিতা চাইলে কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কলার খোসা হতে পারে ব্রণ সমস্যার সমাধান

ব্রণ কমবেশি অনেকেরেই হয়ে থাকে। কারও মাস্কের কারণে ব্রণ বাড়ছে। কারও বা বাড়ছে ধুলা-ময়লায় বেরিয়ে। কারণ যা-ই হোক, সমাধান তো খুঁজতেই হবে।

অনেকেই ওষুধ কিংবা ক্রিম লাগিয়ে নানা ধরনের চেষ্টা করছেন সমস্যা সমধানে। তবে আরও একটি কাজ করা যেতে পারে। তার মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজ উপায়ে কমিয়ে ফেলতে পারেন ব্রণের সমস্যা।কলা খেয়ে খোসা ফেলে দেন তো? এবার থেকে আর ফেলবেন না। ওই খোসাতে আছে নানা ধরনের পুষ্টির উপাদান, যা ত্বকের যত্ন নেবে।

রোজ ত্বকে কলার খোসার সাদা অংশটি ভালভাবে ঘষে নিতে হবে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই কাজ করুন। তার পর মিনিট ১৫ সেভাবেই রেখে দিন। মুখ কিছুটা শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কলার খোসায় আছে বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, মিনারেল এবং ফাইবার। তা ত্বকের প্রদাহ কমায়। তার প্রভাবেই কমবে ব্রণ। এরই পাশাপাশি, কলার খোসা ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াবে। কমাবে বলিরেখা পড়ার আশঙ্কাও।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com