আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

পেঁয়াজ চাষিদের জন্য সুখবর নিয়ে এলেন কৃষি বিজ্ঞানীরা

পেঁয়াজ চাষিদের জন্য সুখবর নিয়ে এলেন কৃষি বিজ্ঞানীরা
পেঁয়াজ চাষিদের জন্য সুখবর নিয়ে এলেন কৃষি বিজ্ঞানীরা

কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান, একবিঘা জমিতে যেখানে পাঁচ থেকে ছয় মণ পেঁয়াজের বাল্ব বা কন্দ লাগে সেখানে কৃষক যদি পেঁয়াজের বীজ পান তাহলে তারা এককেজি বীজে পাঁচ থেকে ছয় হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে পারবেন

পেঁয়াজচাষিদের জন্য সুখবর নিয়ে এলেন যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।

এখন থেকে কৃষকদের বীজ হিসেবে আর পেঁয়াজের বাল্ব বা কন্দ ব্যবহার করতে হবে না। সরাসরি বীজ বপন করেই অল্প খরচে মানসম্মত পেঁয়াজ উৎপাদন করতে পারবেন তারা।

কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য বিপুল পরিমাণ বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী মৌসুমে সহজ শর্তে কৃষকদের মাঝে এসব পেঁয়াজের বীজ সরবরাহ করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, প্রতিবছরই দেশে পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয়। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে পেঁয়াজের বীজ সংকট ও সংরক্ষণের অভাব। জমিতে বীজ হিসেবে বিঘা প্রতি প্রায় ২০০ কেজি বাল্ব বা কন্দ ব্যবহার হয়ে থাকে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। একারণে কৃষকের ইচ্ছা থাকলেও খরচের ভয়ে বিপুল পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে চান না।

কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান, এই পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ করতে গিয়ে একদিকে কৃষককে যেমন বাড়তি খরচ গুণতে হয় তেমনি ফলনও কম হয়। তাছাড়া পেঁয়াজক্ষেত ছত্রাকজনিত নানা রোগ আক্রান্ত হয়। এই অবস্থায় পেঁয়াজ চাষকে সহজলভ্য করতে বিজ্ঞানীরা নানা গবেষণা শুরু করেন। বিশেষ করে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, এক বিঘা জমিতে যেখানে পাঁচ থেকে ছয় মণ পেঁয়াজের বাল্ব বা কন্দ লাগে সেখানে কৃষক যদি পেঁয়াজের বীজ পান তাহলে তারা এক কেজি বীজে পাঁচ থেকে ছয় হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে পারবেন। তাতে কৃষকের বিঘা প্রতি পেঁয়াজের বীজের খরচ ৩০ থেকে ৪০ হাজারের পরিবর্তে খরচ মাত্র পাঁচ থেকে ছয়শ’ টাকায় নেমে আসবে।

তিনি বলেন, “আমাদের দেশে যে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তা দিয়ে দেশের মোট চাহিদার ৫৭.১৪ শতাংশ মেটানো সম্ভব। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে ৭.৬৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।”

“এসব দিক বিবেচনা করেই পেঁয়াজ চাষকে সহজলভ্য করার জন্য আমরা বীজ উৎপাদন করে কৃষকের কাছে সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছি। উন্নতজাতের বারি-১ জাতের এই পেঁয়াজের বীজ খুব অল্প সময়ের মধ্যে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে যশোরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে,” বলেন কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের এ কর্মকর্তা।

এগ্রোটেক

বিশ্বের প্রথম ভাসমান দুগ্ধ খামার

 বিশ্বের প্রথম ভাসমান দুগ্ধ খামার
বিশ্বের প্রথম ভাসমান দুগ্ধ খামার

নেদারল্যান্ডসে ভাসমান দুগ্ধ খামার নির্মাণ করা হয়েছে। ভাসমান খামারটি সে দেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা পূরণ করবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ফার্মটির অবস্থান রটারডামে। বিশেষ স্থাপনাটি ডাচদের আইকনিক স্থাপনার একটি। এ খামারের ধারণা দেন ডাচ প্রকৌশলী পিটার ভ্যান ভিনডেগারডেন।

জানা যায়, বেলাডন নামের প্রপার্টি কোম্পানি বন্দরনগরী রটরডামে বিশেষ খামারটি বানাচ্ছে। খামার পরিচালনায় উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হবে। গরু থেকে দুধ দোহন, দুধ পরিবহনে বিশেষ পরিবহন ও বিশেষ এলইডি বাতি ব্যবহার করা হবে।

তিনতলা উচ্চতার খামারটি সমুদ্রতীরে নোঙর করা থাকবে। চলতি বছরের শেষ দিকে খামারটি চালু হবে। এতে দৈনিক ৮শ’ লিটার দুধ উৎপাদন হবে বলে দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা।

ডাচ প্রকৌশলী পিটার ভ্যান ভিনডেগারডেন জানান, খামারে ব্যবহৃত উপকরণ পুনর্ব্যবহার করা হবে। খাবার আসবে রটারডামের ৮০ ভাগ খাদ্য শিল্প থেকে। এছাড়াও খামারে উৎপাদিত হবে ঘাসও। স্থানীয় গম মিল থেকে কিছু উপজাত সংগ্রহ করা হবে। এখানকার শক্তির চাহিদা মেটানো হবে সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে।

পিটার জানান, বিশেষ সেলফ ব্যবহার করে ঘাস উৎপাদন করা হবে। খামারে উৎপাদিত দুধ বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাস্তুরিত করা হবে। এখানে দইও উৎপাদিত হবে। গোবর ব্যবহার করা হবে সার হিসেবে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, এটি হবে আইকনিক স্থাপনা ও মাইলফলক। যা ভবিষ্যতে এ ধরনের খামার করতে উদ্বুদ্ধ করবে। পানি, সার ও কীটনাশক কম লাগায় আদর্শ হয়ে উঠতে পারে খামারটি। তবে ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদায় এ ধরনের খামার কতটা জোগান দিতে পারে, সেটা এখন দেখার বিষয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন

ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন
ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন

ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। উদ্ভাবিত এ নতুন জাত ‘ব্রি ধান-৮১’ কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ড অবমুক্ত করেছে।

এ নিয়ে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ধান জাতের সংখ্যা হলো ৮৬টি। এর মধ্যে ছয়টি হাইব্রিড ধানের জাত রয়েছে। দেশের ৮০ ভাগের বেশি ধানি জমিতে এসব জাতের ধান চাষ হয় এবং এ থেকে আসে দেশের মোট ধান উৎপাদনের শতকরা ৯১ ভাগের বেশি।

ব্রি সূত্র জানায়, ইরান থেকে সংগৃহীত জাত Amol-৩ এর সঙ্গে ব্রি ধান-২৮ এর সংকরায়ণের মাধ্যমে নতুন জাত ব্রি ধান-৮১ উদ্ভাবন করা হয়েছে। ব্রি ধান-৮১ বোরো মৌসুমের জনপ্রিয় ও মেগা জাত ব্রি ধান-২৮ এর একটি পরিপূরক জাত। এটি প্রতিকূল পরিবেশে ঢলে পড়া প্রতিরোধী। জাতটির জীবনকাল ১৪০ থেকে ১৪৫ দিন।

এ জাতের ১০০০ পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২০ দশমিক ৩ গ্রাম। ব্রি ধান-৮১ জাতে অ্যামাইলোজ রয়েছে শতকরা ২৬ দশমিক ৫ ভাগ এবং এতে উচ্চ মাত্রায় আমিষ রয়েছে (১০ দশমিক ৩ শতাংশ)।

এ ধানের চালের আকার লম্বা ও চিকন বিধায় ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রান্নার পর এর ভাত ১ দশমিক ৬ গুণ লম্বা হয়। জাতটিতে সুগন্ধ ছাড়া উন্নত গুণমাণ সম্পন্ন ধানের সকল বৈশিষ্ট্যই বিদ্যামান থাকায় এটি রফতানি সম্ভাবনাময়। নতুন উদ্ভাবিত জাতটির গড় ফলন হেক্টরে ৬ দশমিক শূন্য থেকে ৬ দশমিক ৫ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এটি হেক্টরে ৮ টন ফলন দিতে সক্ষম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

সিলেটের গবেষক বাবলার আরও ৩টি নতুন যন্ত্র

সিলেটের গবেষক বাবলার আরও ৩টি নতুন যন্ত্র
সিলেটের গবেষক বাবলার আরও ৩টি নতুন যন্ত্র: নিজের কারখানায় আব্দুল হাই আজাদ বাবলা।

নতুন এ তিনটি যন্ত্রের উদ্ভাবক আব্দুল হাই আজাদ বাবলা বলেন, ‘পরিশ্রমের মাধ্যমে যন্ত্রগুলো তৈরি করি। যন্ত্রগুলো ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা যখন লাভবান হন তখন প্রাণটা ভরে যায়’

ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আরও তিনটি নতুন যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন সিলেটের গবেষক আব্দুল হাই আজাদ বাবলা।

এরই মধ্যে বৃক্ষ, পরিবেশ ও কৃষি প্রযুক্তি গবেষণার উদ্ভাবক বাবলা প্রায় ৪০টি যন্ত্রপাতি তৈরি করে বাজারজাত করেছেন। তার তৈরি এ যন্ত্রগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।

২০১৯ সালে তৈরি করা ৩টি যন্ত্রের একটি হলো স্বল্প ব্যয়ে বিদ্যুৎ চালিত ভুট্টা মাড়াই মেশিন। এ মেশিন ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কেজি ভুট্টা মাড়াই করতে পারে।

দ্বিতীয়টি হলো পরিবেশ দূষণ রোধে ডাস্টবিন। এ ডাস্টবিন যে কোনো স্থানে রেখে ময়লা আবর্জনা জমা করে পরে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা যায়। এর বিশেষত্ব হলো এ ডাস্টবিন থেকে কোনো দুর্গন্ধ ছড়ায় না।

অন্যটি হলো নারিকেলের ছোবড়া থেকে ডাস্ট বের করার মেশিন। ইঞ্জিন ও বিদ্যুৎ চালিত এ মেশিনটি দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কেজি নারিকেলের ছোবড়া মাড়াই করতে পারে।

সাশ্রয়ী মূল্যের এই মেশিনগুলো দিয়ে কাজ করলে ব্যবহারকারীরা লাভবান হবেন।

নতুন এ তিনটি যন্ত্রের উদ্ভাবক আব্দুল হাই আজাদ বাবলা বলেন, “পরিশ্রমের মাধ্যমে যন্ত্রগুলো তৈরি করি। যন্ত্রগুলো ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা যখন লাভবান হন তখন প্রাণটা ভরে যায়।”

যন্ত্রপাতি তৈরি করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে কিছুটা হলেও অংশ নিতে পারায় নিজেকে ধন্য মনে করেন গবেষক বাবলা।

এরই মধ্যে তার এসব গবেষণার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৫ সালে জাতীয় কৃষি পদক পান। ২০১৫ সালে কাজের স্বীকৃতিসরূপ প্রধানমন্ত্রীর এটুআই প্রকল্প থেকে পদক পান তিনি। এছাড়া ২০১৭ সালে কৃষি গবেষণায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক লাভ করেন বাবলা।

এ দু’টি পদকই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে গ্রহণ করেন বলে জানান তিনি।

তার আবিষ্কৃত যন্ত্রগুলো ব্যবহার করে উৎসাহ প্রদান ও তৈরিতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বাবলা বলেন, “ড্রেনের কাদাবালি ও বর্জ্য উত্তোলনের জন্য একটি যন্ত্র পরীক্ষাধীন রয়েছে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

আপনি কি রোবটের বানানো মাংস খাবেন?

 রোবটে বানানো কৃত্রিম মাংস
রোবটে বানানো কৃত্রিম মাংস

আপনি যদি হিয়ারিং এইড বা কানে শোনার যন্ত্র ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার অজান্তেই আপনি থ্রিডি প্রিন্টিংয়ে বিশ্বব্যাপী যে বিপ্লব সাধন হয়েছে, ইতিমধ্যেই তার অংশ হয়ে গেছেন।

পৃথিবীতে এখন যত ধরণের হিয়ারিং এইড তৈরি হয়, তার সবই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে।

থ্রিডি প্রিন্টিংয়ে প্লাস্টিক, মেটাল বা ধাতব পদার্থ বা রেসিনসহ কয়েক স্তরের জিনিস ব্যবহার করা হয়, যা সবগুলোকে জোড়া দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জিনিসের রূপ ধারণ করে।

সনোভা নামে হিয়ারিং এইড প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার স্টেফান লনার বলেন, আগে এই হিয়ারিং এইড বানানোর কাজটি হাতে করা হত, যার ফলে অনেক সময় লাগত এবং খরচও বেশি হত।

“কিন্তু এখন অর্ডার পাবার পর একটি পণ্য তৈরি ও সরবারহ করতে কয়েকদিন মাত্র সময় লাগে। আর এটা সম্ভব হচ্ছে থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের কারণে।”

কানে শোনার যন্ত্র বানানো হচ্ছে
কানে শোনার যন্ত্র বানানো হচ্ছে

২০ বছর আগে যখন থ্রিডি প্রিন্টিং শুরু হয়, তখনই অনুমান করা হয়েছিল আরো অনেক ক্ষেত্রে এটি বিপ্লব আনতে সক্ষম হবে, বাস্তবে এবং হয়েছেও তাই।

যে কারণে ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী ১৪ লাখ থ্রিডি প্রিন্টার বিক্রি হয়েছে, ২০২৭ সাল নাগাদ এই বিক্রির হার বেড়ে দাঁড়াবে ৮০ লাখে।

যেমন দাঁতের চিকিৎসায় বিপ্লব এনেছে এই প্রযুক্তি।

ভাঙ্গা দাঁতের মধ্যে সংযোগ জুড়তে এবং ভাঙ্গা দাঁতের ওপর যে ক্যাপ লাগানো হয় এই দুই ক্ষেত্রেই থ্রিডি প্রিন্টিং দারুণভাবে কাজে লাগে।

আবার বোয়িং মহাকাশযান, বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা বিমানে থ্রিডি প্রিন্ট করা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে।

এমনকি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে একটি থ্রিডি প্রিন্টার আছে, যা দিয়ে খুচরা যন্ত্রাংশ বানানো হয়।

কিন্তু থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে করা অনেক কাজই এত বড় আকারে হয় না। যেমন ধরুন খাবারও থ্রিডি প্রিন্ট করা হতে পারে।

কৃত্রিম মাংস বানানো হচ্ছে
কৃত্রিম মাংস বানানো হচ্ছে

বার্সেলোনা ভিত্তিক মাংস ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নোভা মিট সম্প্রতি একটি নতুন কারখানা চালু করেছে, যেখানে মটরশুঁটি, চাল, সমুদ্র-শৈবাল এবং অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করে মাংস তৈরি করা হয়।

থ্রিডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে উপাদানগুলোকে আড়াআড়িভাবে জোড়া দেয়া হয়, যা আসল মাংসের কোষের মধ্যে থাকা আভ্যন্তরীণ প্রোটিনের মত করে বানিয়ে ফেলতে পারে।

নোভার প্রতিষ্ঠাতা গুইসেপ্পি সিয়ন্তি বলেন, “এর ফলে মাংস চিবানো এবং তার স্বাদ দুটোই অবিকল আসল মাংস ও সামুদ্রিক খাবারের মত করে তৈরি করা সম্ভব।”

সামনের বছর থেকে রেস্তরাঁয় এই মাংস তৈরি করা সম্ভব হবে।

থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের আরেকটি গুরুত্ব পূর্ণ খাত হচ্ছে ওষুধ শিল্প। বেশ কিছুদিন ধরে চিকিৎসকেরা থ্রিডি প্রিন্ট করা প্রস্থেটিকস ব্যবহার করছেন, যা স্বাভাবিক খরচের চেয়ে অনেক কমে উৎপাদন করা সম্ভব।

রোবটে বানানো বাড়ি
রোবটে বানানো বাড়ি

আবার ব্যক্তি নির্দিষ্ট সেবাও দেয়া যায় এর মাধ্যমে। যেমন এ বছরের শুরুতে রাশিয়ায় ফ্রস্টবাইট হয়ে অর্থাৎ বরফে জমে গিয়ে পা হারানো এক বিড়ালের পায়ের মাপে থ্রিডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে টাইটানিয়ামের পা তৈরি করা হয়েছে।

ওষুধও থ্রিডি প্রিন্টেড হতে পারে, ছোট বাচ্চাদের চিকিৎসায় যা বিশেষ করে কাজে লাগতে পারে, যাদেরকে একেবারে অল্প পরিমাণে ওষুধ দিতে হয়।

নিরীক্ষা-ধর্মী ওষুধ গবেষক অধ্যাপক ম্যাথিউ পিক বলেন, “বেশির ভাগ সময় শিশুদের জন্য যে ওষুধ বানানো হয় তা নির্দিষ্ট কোন শিশুর কথা মাথায় রেখে বা গবেষণা চালানো হয়েছে এমন কোন শিশুর জন্য তৈরি করা হয়। কিন্তু থ্রিডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে একেবারে প্রয়োজন অনুসারে ওষুধ বানানো যাবে।”

গত বছর প্রথমবারের মত তার নেতৃত্বাধীন গবেষণা দল এক বাচ্চার জন্য থ্রিডি প্রিন্টেড পিল বানিয়েছিল। অন্যদিকে গবেষকেরা এখন নির্দিষ্ট রোগীর জন্য আলাদা আলাদা ডোজ ও উপসর্গ হিসাব করে ওষুধ বানাচ্ছেন।

তবে এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে থ্রিডি প্রিন্ট করা মানব প্রত্যঙ্গ। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে তারা থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে জীবন্ত চামড়া তৈরি করেছে, যাতে রক্তনালী আছে। আগুনে পুড়ে চামড়া হারানো মানুষের জীবন রক্ষায় বিরাট ভূমিকা রাখবে এ প্রযুক্তি। তবে এখনো এ খাতে বড় বড় বাধা রয়েছে, যেমন এখনো পর্যন্ত পরীক্ষাটি করা হয়েছে ইঁদুরের ওপর। তাছাড়া চামড়া লাগানোর পর সেটি শরীরের অন্য প্রত্যঙ্গের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে কিনা তা এখনো পরীক্ষিত নয়।

এদিকে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার ভবন বানানোর মত কাজও শুরু হয়েছে। এ বছরের শুরুতে মাত্র আট দিনে ১৯০০ স্কয়ার-ফুটের একটি বাড়ি বানানো হয়েছে থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহার করে। এতে একটি রোবট দেয়ালের স্তরগুলো নির্মাণ করেছে। যদিও ঐ বাড়িটির ছাদ নির্মাণ শ্রমিকদের দিয়ে বানাতে হচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকের বেতন এবং অন্যান্য উপকরণের দাম বাবদ খরচ অনেক কমে গেছে, বলা হচ্ছে প্রায় ৭০ শতাংশ খরচ বেঁচে গেছে।

এর বাইরে গাড়ী বানাতে থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহার করা হয়, যেখানে কোন গাড়ীর আদি রূপে বহু সংখ্যায় পুনরুৎপাদন এবং যন্ত্রাংশ বানানোর কাজটি সহজ হয়ে গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষকবান্ধব বজ্রপাত সুরক্ষা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ উপন্যাসের হারু ঘোষের কথা হয়তো মনে আছে আপনাদের। সেই যে হারু বটগাছে হেলান দিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয়ে নিথর দাঁড়িয়ে ছিল। সে যদি বটগাছের গোড়ায় না দাঁড়িয়ে, ১০-১২ ফুট দূরে দাঁড়াত তাহলে হয়তো বজ্রপাতে মৃত্যু হতো না। ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতেই হারু গাছটির নিচে দাঁড়িয়েছিল। অনেকেই না জেনে ঝড়-বৃষ্টির সময় আশপাশে বাড়িঘর না পেলে বড় গাছের গুঁড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু এই আশ্রয় নেওয়াটিই মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেড়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৭ এই আট বছরে বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৮০০-এর বেশি। এ গবেষণায় প্রথম সারির চারটি দৈনিকে প্রকাশিত বজ্রপাতে মারা যাওয়ার খবরকে একত্র করে দেখানো হয়েছে। আমার ধারণা, বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। বিবিসির দেওয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ২৫ মিলিয়ন বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতে মানুষ মারা যায় ৪০ থেকে ৫০ জন।

আমাদের দেশে প্রতি বছর কীসংখ্যক বজ্রপাত হয় তা রেকর্ড করার কোনো প্রযুক্তি নেই। ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের রাডার থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ২ হাজার ৪০০-এর মতো বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। দুর্যোগ ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ২০৫, ২০১৬ সালে ২৪৫, ২০১৫ সালে ১৮৬, ২০১৪ সালে ২১০, ২০১৩ সালে ২৮৫, ২০১২ সালে ৩০১ ও ২০১১ সালে ১৭৯ জন বজ্রপাতে মারা গেছেন। আর নিহতের শতকরা ৯০ জনই কৃষক ও কৃষিশ্রমিক। যুগ যুগ ধরে বৈরী প্রকৃতি আর প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করা তৃণমূল কৃষকের অনিবার্য নিয়তি। পৃথিবীতে মানুষের জীবনযাপন অনেক সুরক্ষিত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ দেশের সাধারণ মানুষেরও জীবনযাপনের ধারা উন্নত হচ্ছে। এসেছে বিত্তবৈভব আর জীবনযাপনের বহুমুখী নিরাপত্তা। জীবনকে সহজ-সাবলীল করার অভিযান চলছে অনবরত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণনাশের হার কমে এসেছে উল্লেখযোগ্য রকম। এটি সম্ভব হয়েছে সুষ্ঠু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কারণে।

কৃষককে জীবন-জীবিকার তাগিদেই প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকতে হয়। প্রকৃতি যখন বিরূপ হয়ে ওঠে সেই শাস্তিও নীরবে ভোগ করতে হয় সরলপ্রাণ কৃষককে। অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েই মানুষের পূর্বপ্রস্তুতির কিছু সুযোগ আছে, কোনো কোনো দুর্যোগে সে সুযোগও নেই। ভূমিকম্প আর বজ্রপাত এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভয়ের কারণ। বজ্রপাতে এ দেশে গত সাত বছরে মৃত্যুর হিসাবটি আগেই বলেছি, ভারতে এ হিসাবটি অনেক বড়। সেখানে বছরে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় প্রায় ২ হাজার মানুষের। সেখানেও বড় একটি অংশ কৃষক। বর্তমানে এ মৃত্যুহার বেড়েই চলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ তালগাছ কমে যাওয়া। আগে বজ্রপাত হলে তা তালগাছ বা অন্য কোনো বড় গাছের ওপর পড়ত। বজ্রপাত এক ধরনের বিদ্যুত্রশ্মি। তাই বজ্রপাতের ওই রশ্মি গাছ হয়ে মাটিতে চলে যেত। এতে মানুষের তেমন ক্ষতি হতো না।

দিন কয়েক আগে ঢাকার ধামরাইয়ের ফরিঙ্গা গ্রামে গিয়েছিলাম। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ওই গ্রামের মানুষের কাছে বজ্রপাত এক আতঙ্ক। শুনলাম এখানে অনেক কৃষকই প্রাণ হারিয়েছেন বজ্রপাতে। প্রাণ হারিয়েছে মাঠে থাকা গবাদি পশুও। কথা হয় পিয়ার আলী নামের এক কৃষকের সঙ্গে। তিনি জানান, তার ভাই ইমান আলীর মৃত্যু হয় বজ্রপাতে। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে ইমান আলীসহ চারজন একসঙ্গে একই ছাতার নিচে ছিলেন। তিনজন আহত হলেও মৃত্যু হয় ইমান আলীর। বিষয়টি অনেকের কাছে রহস্যজনক মনে হতে পারে। চারজন একসঙ্গে থাকলে সেখান থেকে একজনের মৃত্যু হয় কীভাবে? কারণটি ব্যাখ্যা করেন স্থানীয় যুবক প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন। তিনি বলেন, ছাতাটি ছিল ইমান আলীর হাতে। ছাতাটির হাতল ছিল ধাতব নির্মিত। আর ইমান আলী ছিলেন খালি পায়ে। যার কারণে বিদ্যুৎ তার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে মৃত্যু হয় ইমান আলীর।

ফরিঙা গ্রামে বজ্রপাতে স্বজন হারিয়েছেন অনেকে

বজ্রপাতে স্বজন হারানোর কষ্ট শুধু পিয়ার আলীর নয়; শামসুল আলম, ইয়াকুব আলী, শরিফুন্নেছাসহ আরও অনেকের। তারা জানালেন বজ্রপাতে মারা যাওয়া স্বজনের মৃতদেহ কবর দেওয়ার পর তাদের পোহাতে হয় আরেক যন্ত্রণা। বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের লাশ নাকি চুরি হয়ে যায়। লাশ চুরি ঠেকাতে রীতিমতো রাত জেগে পাহারা দিতে হয়। কৃষক ও সাধারণ মানুষের এসব দুঃখ-কষ্টের কথা শুনতে শুনতে পৌঁছে যাই বিস্তীর্ণ সবুজ কৃষি খেতে। সেখানে তরুণ প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন ফরিঙ্গা গ্রামে বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থাপনার একটি কার্যক্রম শুরু করেছেন। এ নিয়ে চলছে তার নানা গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা। মূলত ফরিঙ্গা গ্রামে গিয়েছিলাম তার কর্মকাণ্ড দেখতে। পাশাপাশি বজ্রপাত বিষয়ে কৃষক কতটুকু সচেতন, এ ব্যাপারটা পর্যবেক্ষণ করাও ছিল উদ্দেশ্য। গিয়ে দেখি একদল কৃষকের সামনে বজ্রপাতে প্রাণ সুরক্ষার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে এই পর্যবেক্ষণ বা ব্যবহারিক কিছু বিষয় জানা-বোঝার আয়োজন করেছেন তরুণ প্রকৌশলনী মো. মনির হোসেন। তিনি বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বজ্রপাতের বিষয়টি কৃষকদের মধ্যে তুলে ধরেন। বিস্তীর্ণ জমিতে কৃষক যখন কাজ করেন তখন সাধারণত সেখানে কৃষকই থাকেন সবচেয়ে বেশি উচ্চতার (যদি আশপাশে তার উচ্চতা থেকে বড় কোনো গাছ-গাছালি বা ঘরবাড়ির কাঠামো না থাকে); আর কৃষকের হাতে থাকে কাস্তে বা ধাতব যন্ত্রপাতি। এ কারণে কৃষক বজ্রপাতে মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। বজ্রপাত থেকে কৃষককে সুরক্ষা দিতে মনির হোসেন নিজেই বজ্রপাত নিরোধক একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। ৩০ ফুট লম্বা বাঁশের ওপর লোহার দণ্ড বা পাত স্থাপন করে তার ওপর একটি সিলভারের থালা বা ঢাকনার মতো কিছু একটা বসিয়েছেন। সেখান থেকে একটি অ্যালুমিনিয়াম তার সংযোগ হিসেবে টেনে এনে মাটিতে একটি রডের সঙ্গে পুঁতে দিয়েছেন। অর্থাৎ আর্থিং করে দেওয়া হয়েছে।

মনির জানালেন তারটি তামার হলে ভালো হতো। কিন্তু তামার তারের দাম বেশি আর এটি চুরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অ্যালুমিনিয়ামের তার ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। ৩০ ফুট লম্বা বাঁশের এই আর্থিং সংযোগ ৩০ ফুট এলাকার মধ্যে অবস্থানকারীদের বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলী মনির হোসেন। প্রকৌশলী মনির তার স্থাপিত আর্থিং ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা তা বিদু্যুৎ সুরক্ষার মাত্রা মেপে দেখালেন। জানালেন, ১০ ওহমের নিচে আর্থিং হলেই কৃষক নিরাপদ। কৃষক মাঠের যেখানে কাজ করবেন সেখানে কাজ শেষ করে অন্য যেখানে কাজ করবেন সেখানে এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেতে পারবেন। এলাকার কৃষকসহ জনসাধারণের কাছে বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার এ বিষয়গুলো বেশ গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। তারাও মাঠে অনায়াসেই এমন আয়োজন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার প্রাথমিক উদ্যোগ

প্রকৌশলী মনির হোসেনের বজ্রনিরোধক এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলি অ্যাকশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়ার কনসালট্যান্ট ড. মো. শামীম হাসান ভূঁইয়ার সঙ্গে। তাকে মনির হোসেনের প্রজেক্টের কার্যক্রমের ভিডিওচিত্র সবিস্তার দেখাই। তিনি খুব মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। সাধারণ কৃষকের কথা ভেবে মনির হোসেন যে এ রকম একটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন এজন্য সাধুবাদ জানান শামীম হাসান। তিনি বলেন, একটু পরিমার্জন করলে মনির হোসেনের ব্যবস্থাপনাটি কিছুটা কাজে আসবে। তবে কৃষকের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, বিজলির সময় গুনে বোঝা যায় বজ্রপাত কৃষকের দিকে আসছে কিনা। প্রথম বিজলি থেকে পরবর্তী বিজলির সময় যদি ক্রমেই কমতে থাকে তবে বুঝতে হবে বজ্রপাত ক্রমে কৃষকের দিকেই ধেয়ে আসছে। তাকে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় কাঠ বা প্লাস্টিকের টোল সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত। বজ্রপাতের সময় সেই কাঠ বা প্লাস্টিকের টোলে নিচু হয়ে বসতে হবে। পায়ে রাবারের জুতা থাকাটা নিরাপদ। আর যদি প্রথম বিজলি থেকে পরবর্তী বিজলির সময় ক্রমে বাড়তে থাকে তবে বুঝতে হবে বজ্রপাত ক্রমে কৃষকের কাছ থেকে সরে যাচ্ছে। মনির হোসেনের এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গেও।

তিনি বলেন, মনির হোসেনের এ উদ্যোগ অনেকটাই বিজ্ঞানসম্মত। তবে এ দিয়ে পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। তিনিও কৃষককে বজ্রপাতের বিষয়ে সচেতন হতে বলেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ৩০ঃ৩০ ফরমুলার কথা উল্লেখ করেন। বিজলি দেখার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে যদি শব্দ শোনা যায় তবে বুঝতে হবে কাছে কোথাও বজ্রপাত হচ্ছে। তখন অবশ্যই কৃষককে নিরাপদ ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে এবং শেষ বজ্রের শব্দের পর থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত তাকে নিরাপদ আশ্রয়েই অবস্থান করতে হবে। বড় গাছের নিচে আশ্রয় নিলে অবশ্যই গাছের গোড়া থেকে ১০-১২ ফুট দূরে অবস্থান করতে হবে।

বজ্রপাতের মতো আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সামষ্টিকভাবে সুরক্ষিত রাখার প্রযুক্তি এখনো পৃথিবীতে আসেনি। বজ্রপাত ক্ষতির কারণ হলেও এর বেশ উপকারী দিকও রয়েছে। বিজ্ঞান বলে, মাটিতে নাইট্রোজেন বা পুরোভাবে প্রোটিনের উৎস হলো বজ্রপাত ও বৃষ্টির দ্বারা তৈরি নাইট্রিক অ্যাসিড। বহু জীববিজ্ঞানীর মতে, প্রথম প্রোটোপ্লাজম সৃষ্টির পেছনেও রয়েছে বজ্রপাতের অবদান। তাই বজ্রপাতের আশীর্বাদটুকু নিতে আমাদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা পাওয়ার কৌশলগুলো শিখিয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে ফাঁকা মাঠে কাজ করা কৃষকের জন্য বজ্রপাত দারুণ ঝুঁকিপূর্ণ। সে কারণে অবশ্যই জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ ছয় মাস আকাশে মেঘের অবস্থা বুঝে কৃষকের উচিত হবে আবাদি খেতে কাজ করার আগে বজ্রপাত সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা।

একটু সচেতন হলেই বৈরী আবহাওয়ায়ও প্রাণহানির মতো ঝুঁকি কৃষক অনেকটাই এড়াতে পারবেন। বজ্রপাত সুরক্ষার জন্য সামগ্রিকভাবে কার্যকর একটি সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে ভাবা উচিত সংশ্লিষ্টদের। এ ক্ষেত্রে তরুণ প্রকৌশলীর প্রাথমিক উদ্যোগটি প্রশংসার দাবি রাখে। তবে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ে কৃষকের জন্য সহজ হয় এমন একটি পদ্ধতি বাতলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রতিনিয়তই জলবায়ু পাল্টে যাওয়া এই সময়ে যতটা সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রত্যেক কৃষকের দায়িত্ব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com