আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেয়ার নির্দেশ

দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য গবেষক, বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। দেশে পেঁয়াজ নিয়ে সংকট চলছে। এ সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং কতদিনের মধ্যে উৎপাদন বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া যাবে, সে বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে বসে শিগগিরই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে আমাদের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন করতে হবে। সরকার পক্ষ থেকে পেঁয়াজ চাষিদের বীজ, উপকরণ, প্রযুক্তিসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আগামী গ্রীষ্মকালে দেশের কোন উপজেলায় কতজন চাষি পেঁয়াজ আবাদ করবে, তার তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।’

আগামী ১- ২ মাসের মধ্যে কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন, পেঁয়াজ বীজের চাহিদা নিরূপণ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আব্দুর রাজ্জাক।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় বর্তমান সরকার সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ বিতরণে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। কৃষি উপকরণ নিয়ে দেশে এখন কোনো হাহাকার নেই, সংকট নেই। কৃষকেরা সার, বীজসহ এসব উপকরণ সময়মতো, অত্যন্ত সহজে ও কোনো ঝামেলা ছাড়াই পেয়ে যাচ্ছেন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক মো. নাজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিজ্ঞানী কাজী এম বদরুদ্দোজা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবদুল মুঈদ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার, বারির পরিচালক মো. মিয়ারুদ্দীন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

বাম্পার ফলন ও ভালো দামে খুশি কুমিল্লার পাটচাষিরা

লেখক

মৌসুমের শুরুতেই সোনালি আঁশ পাটের ভালো দাম পাওয়ায় এবার কৃষক পরিবার খুশি। সব শঙ্কা কাটিয়ে এবার হাসি ফুটেছে পাট চাষিদের মুখে। এ কারণে তারা রয়েছেন খোশমেজাজে। পাটচাষি কুমিল্লার বরুড়ার বাবরি মিয়া বাসসকে বলেন পাটের দাম এবার গত কয়েকবছরের চেয়ে বলা যায় দ্বিগুণ। কদর ও দাম বেড়েছে পাটকাঠিরও। পাট চাষিদের কথা এ অবস্থা যদি থাকে তবে অচিরেই আগের মতো স্বর্ণযুগ ফিরবে সোনালি আঁশে। তবে চাষিদের দাবি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরদারি রাখতে হবে।


জেলা কৃষি বিপণন অফিস সূত্র জানা যায়, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছরে পাটে সর্বোচ্চ মুনাফা ঘরে তুলতে পেরেছেন চাষিরা। বিঘা প্রতি পাট চাষে এবার কৃষকের দ্বিগুণ লাভ হয়েছে। পাটের উৎপাদন খরচ নির্ণয়ে দেখা গেছে, এক বিঘা বা ৩৩ শতক জমিতে পাট উৎপাদন করতে কৃষকের ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। গড় উৎপাদন বিঘাপ্রতি ১২মণ হওয়ায় এবং মূল্য বেশি পাওয়ায় গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাভ হয়েছে চাষিদের। বর্তমানে বাজারে ২ হাজার ৩শ’ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে। কুমিল্লার বেশ ক’য়েকজন চাষির সাথে কথা বলে জানা যায়, পাট চাষে দাম ভালো হওয়ায় লাভের দেখা মিলছে বিধায় আবার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে পাট চাষে।


উপজেলার বিভিন্ন কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবহাওয়া অনুক’লে থাকায় এবছর পাটের ফলন হয়েছে আশানারুপ। দামও ভালো মিলছে। কুমিল্লার পাটচাষি রমিজ উদ্দিন বাসসকে জানান, এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। সেখান থেকে ১০ মণ পাটের ফলন পেয়েছেন। তিনি জানান, বাজারে তুলে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৫শ’ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এছাড়াও পাটকাঠি বিক্রি করেছেন ৬ হাজার টাকা। রমিজ উদ্দিন বলেন, সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্ভাবনাময় ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম মাধ্যম কৃষির এ খাতটির দিকে সরকার বিশেষ নজর দেয়ায় হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসছে। পাট উৎপাদন বেশী হওয়ায় পাটকলগুলো সহজে পর্যাপ্ত পাট হাতে পাচ্ছে। জুট মিলের উৎপাদিত চট, সুতা, কার্পেট ও বস্তা রফতানী করে যথেষ্ট সুগম হয়েছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ।


এ বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুরজিদ দত্ত বাসসকে জানান, কুমিল্লায় এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষক তার ক্ষেতের পাট বিক্রি করা শুরু করেছেন। দাম ভালো পাওয়ায় তারা খুশি। আশা করছি আগামীতে পাটের আবাদ বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

রংপুরে আমন ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ, বোরো নিয়েও শঙ্কা

রংপুরে আমন মৌসুমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৩৮২ টন। এর মধ্যে শুধু জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা থেকে সংগ্রহ হয়েছে দুই টন ধান। বাকি ৭ উপজেলা থেকে কোনো ধানই সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। ধান ছাড়াও ১৭ হাজার ৬৩৮ টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহের কথা থাকলেও মিল মালিকরা হস্তান্তর করেছেন মাত্র ১ হাজার ৫৩৫ টন চাল।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) চলতি বোরো মৌসুমে আবারো ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হবে ২৭ টাকা কেজি দরে। আর মিলারদের কাছ থেকে কেজিপ্রতি ৪০ টাকায় সিদ্ধ ও ৩৯ টাকায় আতপ চাল কেনা হবে। ধানের দাম গত বছরের চেয়ে কৃষকরা এক টাকা বেশি পাবেন এবার। আর চাল সরবরাহকারী ব্যবসায়ীরা প্রতিকেজি চালে বাড়তি পাবেন তিন টাকা। সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় বাজারে দাম বেশি হলে গত আমন মৌসুমের মতো চলতি বোরো মৌসুমেও সেই প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আমন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থের বিষয়ে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানির কারণে গুদামে ধান দিতে অনাগ্রহের কারণ বলে কৃষকরা দাবি করেছেন। তবে রংপুর খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আমন মৌসুমে সরকার ধানের দাম নির্ধারণ করে দেয় প্রতি মণ ১০৪০ টাকা। সেই অনুযায়ী, এক মণ ধানে ২৬ কেজি চাল হিসাবে প্রতিকেজি চালের দাম পড়ে ৩৬ টাকা। তবে বাজারে চালের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৪২ টাকা। ফলে চুক্তি করেও মিলাররা চাল দেয়নি। আবার স্থানীয় বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় ধান ও চালের দাম বেশি থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

রংপুর জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমন মৌসুমে উপজেলাভিত্তিক ধান ও চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল পীরগাছা উপজেলায় ধান ৯৬৭ টন ও চাল এক হাজার ২৮৪ টন। কিন্তু, এক ছটাক ধান ও চাল কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। একই ভাবে রংপুর সদর উপজেলায় এক হাজার ৭১ টনের বিপরীতে এক কেজি ধানও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। তবে দুই হাজার ৯৬৬ টন চালের মধ্যে কেনা হয়েছে ২৬৭ টন। বদরগঞ্জ উপজেলায় ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৬ টন। কিন্তু কৃষকের কাছ থেকে মেলেনি এক কেজিও। তবে চালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৮৪ টন। কেনা হয়েছে ২০ টন। মিঠাপুকুর উপজেলায় ৪ হাজার ১৯৮ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কিছুই মেলেনি। ৩ হাজার ৮৫৮ টন চালের বিপরীতে কেনা হয়েছে ৪১৯ টন। পীরগঞ্জ উপজেলায় কেনার কথা ছিল এক হাজার ১৯৪ টন ধান। কেনা হয়েছে দুই টন। চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৮০২ টন। মিল মালিকরা দিয়েছেন ৬৭৯ টন। তারাগঞ্জ উপজেলায় ধান ৫০২ টন ও চাল দুই হাজার ৬৭৪ টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এক কেজিও মেলেনি। গঙ্গাচড়া উপজেলায়ও ৮৫০ টন ধান ও ৬৭৬ টন চাল কেনার কথা থাকলেও মেলেনি কিছুই। কাউনিয়া উপজেলায় ৫৯৪ টন ধান কেনার কথা থাকলেও কিছুই কিনতে পারেনি। আর এক হাজার ২৯৪ টন চালের মধ্যে পাওয়া গেছে চার হাজার ৬০০ টন চাল।

অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য গুদামে ধান দিতে গেলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় প্রান্তিক চাষিদের। ধানের আদ্রোতা আর গুণাগুণ পরীক্ষা করে নিয়ম অনুযায়ী না মিললে তা ফেরত পাঠানো হয়। অথচ ফড়িয়ার সাথে গোপন আতাতে তাদের দেওয়া ধানের আদ্রতা বা গুণাগুণ নির্ণয় করা হয় না।

মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনি এলাকার কৃষক আফজাল হোসেন জানান, একাধিকবার খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে ধান বিক্রির সুযোগ পেলেও ধান দিতে গিয়ে যে পরিমাণ হয়রানির শিকার হয়েছি তা সাধারণ কৃষকদের নাকে খর দিয়ে ঘুরানোর মতো অবস্থা। গত আমন মৌসুমে দেইনি। এবারও হয়রানি থেকে বাঁচতে কম দামে হলেও বাজারে ধান বিক্রি করে দিবো।

কাউনিয়া উপজেলার মধুপুরের কৃষক আয়নাল হক বলেন, দালাল ছাড়া ধান দিলে হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই আগ্রহ নেই।

মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম বাবু জানান, সরকার নির্ধারণ করেছে আমনের চাল ৩৬ টাকা। সেই চাল বাজারে বিক্রি হয়েছে ৪২ টাকা। তাই মিলাররা চাল দেননি। আমনের মতো বোরো মৌসুমেও সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় বাজারে ধান চালের দাম বেশী থাকলে সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কা আছে।

ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় বাজারে আমনের ধান ও চালের দাম বেশি হওয়ায় সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। চুক্তি করেও যারা চাল সরবরাহ করেননি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বাজারে আসছে নতুন চাল, দাম কমছে ধীরে

নতুন ধান উঠলেই চালের দাম কমবে—খুচরা ব্যবসায়ীদের এমন আশ্বাসে দীর্ঘদিন পথ চেয়ে ছিলেন ক্রেতারা। সেই আশা দুরাশাই রয়ে গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশের প্রায় সব অঞ্চলের ধানই ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ উঠে গেছে। কিন্তু চালের বাজারে তার তেমন প্রভাব নেই। কোনো কোনো চালের দাম এক থেকে দুই টাকা কমলেও বেশির ভাগ চাল বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি গুদামে চালের মজুদ কম থাকায় বাজারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবসায়ীদের হাতে। চালের বাজারে গত কয়েক বছরে বড় কম্পানিগুলোর প্রবেশে মজুদব্যবস্থা কৃষকের হাত থেকে মধ্যস্বত্বভোগীর হাতে চলে গেছে। যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিনিকেট ও আটাশের নতুন চাল বাজারে আসছে। এতে এসব চাল কেজিপ্রতি এক থেকে দুই টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বাজারে আরো নতুন চাল আসবে। তখন দাম আরেকটু কমবে।

 গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দাম ৬১ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। দাদা, সালামসহ কয়েকটি ব্র্যান্ডের নতুন মিনিকেট চালও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। একই মানের এসব চালের দাম ৫৯ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া আঠা জাতের নতুন চালও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কিছু। বিক্রেতাদের দাবি এ ক্ষেত্রেও দু-এক টাকা কমে ৫০ টাকা পর্যন্ত নেমেছে। পুরনো আটাশ বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি। এ ছাড়া নাজিরশাইল (কাটারি নাজির) আগের মতোই বাড়তি দাম ৬৬ থেকে ৭০ টাকা, মোটা গুটি স্বর্ণা ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় মোটা ও মাঝারি মানের চালের দাম ৫ থেকে ৯ শতাংশ বেশি। তবে চিকন চালের দাম ৪ শতাংশ কমেছে। টিসিবির হিসাবে চিকন চাল সপ্তাহখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। গতকাল ছিল ৫৭ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। মাঝারি মানের চাল ৫২ থেকে ৬০ টাকা ছিল, এখন ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি। মোটা চাল ৪৬ থেকে ৫২ ছিল এখন ৪৬ থেকে ৫০ টাকা কেজি।

বাজারের প্রায় সব দোকানেই গত সপ্তাহের তুলনায় চালের পরিমাণ অর্ধেকেরও কম দেখা গেল। জানতে চাইলে বিক্রেতারা জানান, নতুন ধান উঠছে, কিছু কিছু চালের দাম এক-দুই টাকা কমেছে। আগামী দিনগুলোতে চালের দাম আরো কমতে পারে—এই শঙ্কায় সবাই ধীরে চলো নীতিতে এগোচ্ছে। আগে যেখানে দোকানগুলোতে এক সপ্তাহ বিক্রির মতো চাল মজুদ থাকত, এখন দুই থেকে তিন দিনের চাল রাখছেন বিক্রেতারা।

রাজধানীর গোপীবাগ বাজারের বিসমিল্লাহ রাইস এজেন্সির বিক্রেতা তাজুল ইসলাম বলেন, চালের দাম এখন স্বাভাবিকভাবেই কমবে। তাই বিক্রেতারা দোকানে অল্প করে চাল তুলছেন। যাতে লোকসানে পড়তে না হয়। দোকানে মজুদ কম থাকায় দাম কমছে ধীরে ধীরে।

মুগদা বাজারের মরিয়ম স্টোরের বিক্রেতা আলমগীর বলেন, আমদানির চালের মান তেমন ভালো না, দামও বেশি। তাই দেশীয় চালের চাহিদাই এখন সর্বোচ্চ। হাওরের ধান উঠলেও তা সাধারণত মফস্বলগুলোতে বেশি চলে। নওগাঁ, চাঁপাই, দিনাজপুরে চাল যখন পুরোদমে উঠবে তখন সরবরাহ বাড়বে, দাম আরো কমবে।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর এক লাখ ২০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আশা করা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরো ধান ৯-১০ লাখ টন বেশি উত্পাদন হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে গত বছর দুই কোটি এক লাখ ৮০ হাজার টন বোরো ধান উত্পাদন হয়েছিল। কিশোরগঞ্জের নিকলি, মিঠামইনসহ বিভিন্ন এলাকার হাওরে এরই মধ্যে ৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া নওগাঁ, দিনাজপুর এলাকার আগাম জাতের ধানও উঠতে শুরু করেছে।

কিন্তু ধানের উত্পাদন বাড়লেও বাজারে চালের দাম কমবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিশ্লেষকদের। ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’ এর ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও খাদ্যগ্রহণে প্রভাব’ শীর্ষক সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়, বর্তমানে চালের বাজারে সিন্ডিকেট না থাকলেও মজুদদারি রয়েই গেছে। সরকার অনুমোদিত বড় রাইস মিলাররা যে পরিমাণ চাল মজুদ করতে পারে তা চালের বাজার অস্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতেও সরকারি মজুদ ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারের গুদামে চাল ছিল তিন লাখ ১১ হাজার টন। এর চেয়ে কম মজুদ ছিল ২০০৮ সালের অক্টোবরে, দুই লাখ ৮০ হাজার টন। এর আগের বছরই ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে দেশে চালের উত্পাদন ২০ লাখ টন কম হয়েছিল। ওই বছর সময়মতো চাল আমদানি করতে না পারায় বাজারে মোটা চালের কেজি ৫০ টাকায় ওঠে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

হোসেনপুরে হিমাগার না থাকায় আলুতে পঁচন,ক্রেতার অভাবে আলু বিক্রি করতে পারছেনা কৃষক

 কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে এবছর আলুর বাম্পার ফলন হলেও হিমাগার না থাকায় আলুতে পঁচন ধরছে। অন্যদিকে বাজারে ক্রেতার অভাবে আলুর ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। এতে কৃষকেরা লোকসানের পাশাপাশি আগামীতে আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

[৩] উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মওসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৪৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৮ হাজার ৬৫০মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে প্রায় ৪৬৫ মেট্রিক টন বেশি। হেসেনপুরে কোনো হিমাগার না থাকায় পাশের উপজেলার পাকুন্দিয়ার হিমাগারে সিন্ডকেটের কারণে হোসেনপুরের চাষিদের আালু সংরক্ষণ করা অনেকটা অসম্বব বিধায় চাষিদের উৎপাদিত আলু নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

[৪] তাছাড়া বাজারে ক্রেতার অভাবে আলুর দাম কম থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত আলু কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।স্থানীয় কৃষকেরা জানান,হোসেনপুর উপজেলাটি ভৌগলিকভাবে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও নরসুন্ধা নদ বেষ্টিত হওয়ার আলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী । পঁচনশীল এ পুষ্টিকর পণ্যটি মাড়াই মৌসুমের পর সারা বছরই চাহিদা থাকার কারণে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়।

[৫] যে জন্য প্রয়োজন হিমাগার, স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলে স্থানীয় ভাবে কোন হিমাগার না থাকায় কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত আলু খাবারের বা বীজের জন্য ভবিষ্যতে সংরক্ষণের জন্য হন্নে হয়ে দৌড়াতে হয় এদিক ওদিক। এক সময় দেশি আলু চাষ করে তা দীর্ঘদিন পরও বীজ ও খাবারের জন্য রাখতে পারলেও এখন সেগুলো বিলুপ্ত। উন্নত জাত হিসেবে ডায়মন্ড,কারেজ ও এসটারিস আলুর ফলনবেশি হওয়ায় তা অধিক লাভজনক হিসেবে ব্যাপকহারে আবাদ হচ্ছে।যেগুলো এক থেকে দেড় মাসের বেশি সময় কোল্ড স্টোরের বাহিরে সংরক্ষণ করা যায় না। তাই আলুতে পচন ধরছে।

[৬] সরেজমিনে উপজেলার হাজিপুর বাজারের আলু বিক্রেতা সিদলা ইউনিয়নের পুড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আ:কাদির, আ: আজিজ, আ:রাশিদ, সাহেবের চর নয়াপাড়া আশরাফুলসহ অনেকেই জানান, এ বছর তারা প্রত্যেকেই গড়ে ৪০ কাঠা জমিতে আলু চাষ কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা করে লোকসান গুণেছেন। ইকবাল হোসেন জানায়, ৩ ঘন্টা ধরে আলু নিয়ে বসে আছি কেহ দাম করছে না।

[৭] গত রোববার হোসেনপুর বাজারে কথা হয়, জামাইল গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দিন, বরুয়া গ্রামের মমতাজ উদ্দিন,চর জামাইল গ্রামের ইব্রাহিম খলিল সোহাগসহ বাজারে আলু বিক্রি করতে আসা এমন আরো কয়েকজন কৃষকের সাথে। তারা জানান,তাদের প্রত্যেকের এখনও কয়েকশ মণ আলু অবিক্রিত থাকায় আলুতে পঁচন ধরছে।সাহেবের চর গ্রামের কৃষক বাদল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আমার কয়েকশ মণ আলু পঁচনের কারণে ফেলে দিতে হয়েছে।ফলে মোটা অংকের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারাএ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরুল কায়েস জানান,এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হলেও স্থানীয় পর্যায়ে হিমাগার থাকলে কৃষকেরা যথাযথ সুফল পাচ্ছেনা।

[৮] যদি এ উপজেলায় কম করে হলেও ৫০০মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার একটি হিমাগার থাকতো তবে কৃষকেরা আরো অধিক লাভবান হতেন । তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজ জানান, সরকারীভাবে এ উপজেলায় একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য ডা: জাকিয়া নুরের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

১৬ হাজারে এক কাতলা

চাঁদপুরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ১৬ কেজির কাতলা মাছ। মঙ্গলবার (৪ মে) বেলা ৩টায় ঘাটে মাছটি বিক্রি করা হয়।

মেঘনা নদীতে মাছ ধরা শেষে জেলেরা অন্যান্য মাছের সঙ্গে এ মাছটি নিয়ে ঘাটে আসেন। এসময় নিলামের মাধ্যমে ১৬ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করা হয়। এটি কিনে নেন আব্দুর রাজ্জাক নামের এক বিক্রেতা।

jagonews24

মাছটি বেশ বড় হওয়ায় তা দেখার জন্য ঘাটে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।

ক্রেতা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি নিজেও একজন ছোট মৎস্য ব্যবসায়ী। কিন্তু মাছটি দেখে লোভ সামলাতে পারিনি তাই কিনে নিয়েছি।

jagonews24

বিক্রেতা আড়তদার মো. হারুন বলেন, এত বড় সাইজের মাছ আমাদের ঘাটে তেমন একটা আসে না। দীর্ঘদিন পর এ সাইজের একটি মাছ পাওয়া গেল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com