আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

পেঁয়াজ সংকট: বিদেশ থেকে আমদানির ফলে বিপদে পড়বে চাষীরা?

পেঁয়াজ সংকট: বিদেশ থেকে আমদানির ফলে বিপদে পড়বে চাষীরা?

বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বুধবার (২০শে নভেম্বর) থেকে বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানি করা শুরু করেছে সরকার।

খুচরা ও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় জরুরি ভিত্তিতে সরকার পেঁয়াজ আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকলে আসন্ন পেঁয়াজ উৎপাদনের মৌসুমে পেঁয়াজ-চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

বাজারের নিয়ম অনুযায়ী যোগানের তুলনায় চাহিদার পরিমাণ বেশি হয়ে যাওয়ার কারণেই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে পেঁয়াজের।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিপণন বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, এরকম অবস্থায় পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকারের পেঁয়াজ আমদানি করার সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী ছিল।

“কিন্তু দেশজ পেঁয়াজের উৎপাদন বাজারে আসার সময় পেঁয়াজ আমদানি করা অব্যাহত থাকলে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”
“দেশজ উৎপাদন হওয়ার পরপরই যখন বাজারে পেঁয়াজ আসবে, তখন বাজারের সিংহভাগই হবে দেশী পেঁয়াজ।”

“কিন্তু সেসময় যদি সরকার পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রাখে তাহলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাবে এবং দাম কমে যাবে,” মন্তব্য করেন অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম।

বাজারমূল্য যদি কমে যায় তখন দেশীয়ভাবে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করার সময় কম দাম পাবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তবে কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য যখন বাজারে আসবে তখন সরকার কৃষকের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আমদানি ও উৎপাদনের মধ্যে সমন্বয় করবে বলে তিনি আশা করেন।
সরকারের পরিকল্পনা কী?
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ নাসিরুজ্জামান বিবিসিকে বলেন, পেঁয়াজ-চাষীরা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ মূল্য পায়, তা নিশ্চিত করতে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

তিনি বলেন, “সাধারণত আমরা দেখি, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ যখন বাজারে আসে তখন আমদানিকৃত পেঁয়াজও বাজারে থাকে। ফলে দেশীয় পেঁয়াজের দাম পড়ে যায় এবং পেঁয়াজ চাষীরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না।”

এই পরিস্থিতি যেন এবার তৈরি না হয় সেলক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সচিব মোহাম্মদ নাসিরুজ্জামান।

“পেঁয়াজের উৎপাদন মৌসুমে যেন বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি আমরা।”
সেক্ষেত্রে আমদানি করা পেঁয়াজের তুলনায় বাজারে দেশে উৎপাদন করা পেঁয়াজের পরিমাণ বেশি থাকবে এবং তার ফলে পেঁয়াজ-চাষীরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া বাজারে দেশীয়ভাবে উৎপাদন করা পেঁয়াজের পরিমাণ যেন বৃদ্ধি পায় তা নিশ্চিত করতে পেঁয়াজ-চাষীদের প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কৃষকরা যেন তাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনে আগ্রহী হয় সেজন্যই এই প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান মি. নাসিরুজ্জামান।

তিনি বলেন, “সরকার চায় পেঁয়াজের চাহিদার পুরোটা যেন দেশের পেঁয়াজ-চাষীরাই উৎপাদন করতে উৎসাহী হয়, সেবিষয়ে উৎসাহ দিতে আগামী রবি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষীদের প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”

তবে চাষীদেরকে ঠিক কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে সেটা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

শাকসবজি

সবজি চাষে সুদিন ফিরেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষক মহিউদ্দিনের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন মিয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন মিয়া

সরকারি চাকরি ও বিদেশ যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে বেকার যুবকরা যদি যুব উন্নয়ন বা অন্য কোনো জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন তাহলে দেশের বেকার সমস্যা থাকবে না

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন মিয়া সবজি চাষে সুদিন ফিরে পেয়েছেন। ২৫ বিঘা জমিতে তিনি সবজির বাগান গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার বাগানের উৎপাদিত সবজি জেলার বিভিন্ন বাজারসহ আশপাশের জেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে।

মহিউদ্দিন মিয়া জানান, ২০০৮ সালে একই গ্রামের তার বন্ধু জামাল মিয়ার সাথে যৌথভাবে ৫ বিঘা জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। শুরুর দিকে তেমন পুঁজি ছিল না। তাই স্থানীয় একটি সমিতি থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দুই বন্ধু মিলে ৫ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন।

এভাবে জামাল মিয়ার সাথে কয়েক বছর যৌথভাবে সবজি চাষ করার পর ২০১৯ সালে মহিউদ্দিন মিয়া নিজের জমি ও গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে মোট ২৫ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেন। মহিউদ্দিন মিয়ার বাগানে বর্তমানে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।

মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা এম এ সাহেদ বলেন, “আগে আমরা প্রতি বিঘা জমি বছরে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা জমায় (ভাড়া) দিতাম। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমি সবজি চাষের জন্য বছরে ৭ হাজার টাকা করে জমায় দিচ্ছি।”

কৃষক মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, বর্তমানে টমেটো, পেঁপে, লাউ, ফুলকপি, করলা, ব্রকুলি (সবুজ ফুলকপি), ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ক্যাপসিকাম চাষ করেছি।

“গতবছর ১৮ লাখ টাকা খরচ করে বাড়িতে একটি বিল্ডিং বানিয়েছি। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি,” যোগ করেন তিনি।

তাদের সবজির বাগান দেখে এলাকার যুবকরাও সবজি চাষে অনুপ্রাণিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে গ্রামের আরও ১২ জন যুবক সবজি চাষ শুরু করেছে। সরকারি চাকরি ও বিদেশ যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে বেকার যুবকরা যদি যুব উন্নয়ন বা অন্য কোনো জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন তাহলে দেশের বেকার সমস্যা থাকবে না।

এব্যাপারে সদর উপজেলা কৃষি র্কমর্কতা মুন্সি তোফায়েল হোসেন জানান, সদর উপজেলার ৬৫০ হেক্টর জমিতে এবছর সবজি চাষ হচ্ছে। সবজি চাষে কৃষকরা খুবই লাভবান হচ্ছে। কৃষকরা দিনদিন আগ্রহী হচ্ছেন।

তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর গ্রামের মহিউদ্দিন মিয়ার সবজির বাগানসহ অন্যান্য সবজির বাগানগুলো তিনি নিয়মিত তদারকি করেন। এসব সবজির বাগানে জৈব সার ব্যবহার করা হয়। প্রতি বছর শীত মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উৎপাদিত সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায়ও সরবরাহ করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

সবজিতে সবুজ চাকলা গ্রাম

কপিখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক
কপিখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

‘ধান আবাদোত খালি লস। আলু আবাদও পোষায় না। এই জন্যে চার বছর থাকি মুই সবজির আবাদ করছুং।’ এই কথা রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার চাকলা গ্রামের আলিম উদ্দিনের। সবজি আবাদ করে তিনি লাভের মুখও দেখছেন। বললেন, ‘এবার ১৫ হাজার টাকা খরচ করি ৮০ শতক জমিত মুলা নাগাছনু। খরচ বাদে লাভ হইছে ৬০ হাজার টাকা।’

শুধু আলিমই নন, তাঁর গ্রামের অনেক কৃষকই ধান ও আলুর আবাদে লোকসান করে সবজির চাষে ঝুঁকেছেন। গ্রামটিতে ঢুকলে চারদিকে সবজির খেতই বেশি চোখে পড়ে। যেন সবজিতে সবুজ হয়ে রয়েছে চাকলা গ্রাম।

তারাগঞ্জ সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে আলমপুর ইউনিয়নের চাকলা গ্রাম। এ গ্রামের ৮০ ভাগ মানুষ সারা বছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজির চাষ করছে। এখানকার খেতগুলো এখন টমেটো, গাজর, ধনেপাতা, শিমসহ শাকসবজিতে ভরে উঠেছে। ফলনও ভালো। এখানকার সবজি ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।

আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য দেলওয়ার হোসেন বলেন, সবজি চাষ করে চাকলা গ্রামের অনেকেই সচ্ছল হয়েছেন। অনেক যুবক বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন। দিনমজুর ও গৃহবধূরাও অভাব দূর করেছেন।

যেন সবুজের সমারোহ। খেত থেকে মুলা তুলছেন কৃষক
যেন সবুজের সমারোহ। খেত থেকে মুলা তুলছেন কৃষক

আজ শুক্রবার গ্রামটিতে ঢুকেই চোখে পড়ে মাঠের পর মাঠ সবজিখেত। কেউ খেত থেকে ধনেপাতা, শিম, লাউ, বেগুন তুলছেন, কেউ করছেন পরিচর্যা। বেশির ভাগ বাড়িতে চকচক করছে টিনের চালা। আধা পাকা বাড়িও আছে বেশ কয়েকটি।

গ্রামটিতে ঢোকার মুখে সিরাজুল ইসলামের বাড়ি। একসময় তিনি দিনমজুরি করতেন। এখন সবজি বিক্রির টাকায় তিনি ৪০ শতক জমি কিনেছেন। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পড়াচ্ছেন। তিনি জানান, ৮ বছর ধরে ৪০ শতক জমিতে সারা বছর ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, ধনেপাতা, টমেটো ও শিমের আবাদ করছেন তিনি। শীতের শুরুতে ভালো ফলন হওয়ায় এখনই প্রায় ৩৯ হাজার টাকা আয় হয়েছে।

স্বামী মারা যাওয়ার পর মনোয়ারা বেগম আলমপুর বাজারে মুড়ি আর মৌসুমি ভাপা পিঠা বিক্রি করতেন। এতে এক বেলার খাবার জুটলেও আরেক বেলা জুটত না। দুই সন্তানকে নিয়ে প্রায় না খেয়ে থাকতে হতো। ৭ বছর আগে বসতভিটার ৬ শতক জমিতে লাউ-শিমের চাষ শুরু করেন। এ লাউ-শিম বিক্রি করে আয় আসে ৫ হাজার টাকা। পরের বছর অন্যের ১২ শতক জমি বর্গা নিয়ে লাউ, টমেটোর চাষ করেন। এবার ২৮ শতকে লাউ, ২০ শতকে বেগুন চাষ করেছেন। বন্ধক নিয়েছেন ৩৫ শতক জমি। আছে একটি গাভি ও ৭টি ছাগল। দুই সন্তানকে নিয়ে বেশ সুখেই আছেন, জানালেন তিনি।

খেত থেকে ধনেপাতা তুলছিলেন আজাহারুল ইসলাম। তিনি ৬০ শতক জমিতে টমেটো, শিম, লাউ, ধনেপাতা চাষ করেছেন। এতে বেশ লাভবান হয়েছেন। চাকরির জন্য না ঘুরে নিজেদের জমিতে ৫ বছর ধরে সবজির চাষ করে মাসে গড়ে ১০ হাজার করে টাকা আয় করছেন। তিনি বলেন, সবজি চাষে তিনি রাসায়নিক সারের ব্যবহার করেন না। জৈব সারই ভরসা। পোকামাকড় দমনে তিনি সেক্স ফেরোমন লিউর (বিশেষ ধরনের ফাঁদ) পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন। এতে সবজির ফলন বেশ ভালো হয়। খরচও কম।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অশোক কুমার বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় সবজি চাষে লাভ বেশি। বিষয়টি বুঝতে পেরে চাকলা গ্রামের ধনী-গরিব সবাই সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এখানকার সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজির চাষাবাদ ও রোগবালাই দমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

পুরনো নাম ভুলেছেন সবাই, বিদেশি ফসল ফলিয়ে গ্রামের পরিচয় এখন ‘চায়না সবজি গ্রাম’!

পুরনো নাম ভুলেছেন সবাই, বিদেশি ফসল ফলিয়ে গ্রামের পরিচয় এখন 'চায়না সবজি গ্রাম'!
পুরনো নাম ভুলেছেন সবাই, বিদেশি ফসল ফলিয়ে গ্রামের পরিচয় এখন ‘চায়না সবজি গ্রাম’!

অনেকেই ভুলে গিয়েছেন তাঁদের গ্রামের আগের নাম কী ছিল? এমনও হয় নাকি? আলবাৎ হয়। বাংলাদেশের সাভারের তেতুল ঝোড়া ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের নাম এখন সবাই বেমালুম ভুলেই গিয়েছে। এখন সেইসব গ্রামের একটাই নাম, একটাই পরিচয়- ‘চায়না সবজি গ্রাম’!

কেন এমন হল? জানা গিয়েছে, সাভারের ওই অঞ্চলের কৃষকরা আগে শীতকালীন সবজির চাষই করত। হঠাৎই ঢাকা-সহ বিভিন্ন শহরাঞ্চলে চাইনিজ খাবারের চাহিদা মারাত্মক হারে বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি নানা সবজির প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেই সূত্রেই সাভারের ওই সব গ্রামে বিভিন্ন বিদেশি সবজির চাষ শুরু হয়। ধীরেধীরে তাতে মুনাফাও যথেষ্ট বেশি হতে থাকে এইসব বিদেশি সবজি চাষে। ফলে গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই এখন বিদেশি সবজি চাষে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

সাভারের প্রায় প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে হচ্ছে চায়না সবজির চাষ। কী কী সবজি চাষ হচ্ছে? ব্রকোলি, ক্যাপসিকাম, চায়নাপাতা, চাংচিং ওনিয়ন, পিংক বাঁধাকপি-সহ ২২ জাতের বিদেশি সবজি চাষ করছেন সাভারের কৃষকরা।

সাভারে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন বিদেশি সবজির চাষ এখন বিপুল জনপ্রিয়। এই চাষে সাফল্য পেয়েছেন উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মেইটকা গ্রামের বেকার যুবক-সহ অনেকেই। এছাড়া ভাকুর্তা কাউন্দিয়া এবং ধামসোনা ইউনিয়নের চাষীরাও বিদেশি সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন এবং ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাভারের অনেক বাড়ির ছাদেও এই সব সবজির চাষ করছেন অনেকে। উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সহ বিভিন্ন এলাকার চাইনিজ রেস্তোরাঁ ও পাঁচ তারকা হোটেলে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর কারওয়ানবাজারের পাইকারি আড়তেও সাভারের সবজির চাহিদা ব্যাপক।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

ভাসমান সবজি চাষে সমৃদ্ধি

ভাসমান সবজি চাষে সমৃদ্ধি
ভাসমান সবজি চাষে সমৃদ্ধি

বরিশালের উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকা সাতলা বিল। এখানকার বাসিন্দারা বছরের প্রায় ছয় মাস পানিবন্দী থাকে। এক ফসলি জমির কারণে তাদের অভাব–অনটনের মধ্যে থাকতে হয়। তবে তাদের বিকল্প আয়ের পথ খুলে দিয়েছে ভাসমান সবজি চাষ। লাভজনক হওয়ায় সহস্রাধিক কৃষক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। বর্তমানে এ উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জলাশয়ে ভাসমান সবজি চাষ হচ্ছে।

সাতলার নয়াকান্দি, শিবপুর, রাজাপুর, উত্তর সাতলা, পটিবাড়ী গ্রামের কৃষকেরা ভাসমান সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সদর, গৌরনদী, উজিরপুর, বানরীপাড়া, আগৈলঝাড়া, বাকেরগঞ্জ ও আশপাশের পাইকারি ব্যবসায়ীরা আগে যশোর থেকে সবজি আনতেন। বর্তমানে শীত মৌসুমে উজিরপুরের গুঠিয়া, জল্লা, বামরাইল, হারতায় উৎপাদিত সবজি দিয়ে চাহিদা পূরণ হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে একমাত্র সাতলার ভাসমান সবজিই ভরসা।

শুরুর কথা

সাতলা বিলে ভাসমান সবজি চাষ কবে কীভাবে শুরু হয়েছিল, নির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারেননি। সাতলা গ্রামের কৃষক ভরত মণ্ডল (৭০) বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ভাসমান সবজি চাষ দেখে আসছি। আমাদের বাবা-দাদারা এইভাবে চাষ করতেন। তাঁদের কাছে শুনেছি, এখানে রমেন বাড়ৈ নামের এক লোক প্রথমে এই চাষ শুরু করেছিলেন।’

উজিরপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০-২৫ বছর আগে এলাকায় সামান্য পরিমাণে ভাসমান সবজি চাষ হতো। ২০১০ সালের পরে ব্যাপকতা লাভ করে। পরে ‘ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতে চাষির সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ১৫০ হেক্টরে ভাসমান সবজি চাষ হচ্ছে।

বেড তৈরি

পানির ওপরে লম্বালম্বিভাবে দুটি বাঁশ বা কলাগাছ ফেলে তার ওপর কচুরিপানার স্তূপ করা হয়। পরে স্তূপ শেওলা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কেউ কেউ নারকেলের ছোবড়া ব্যবহার করেন। শেওলা পচে শুকিয়ে গেলে তার ওপর সামান্য মাটি ছিটিয়ে দিয়ে লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাকের বীজ বপন করা হয়। আর ঢ্যাঁড়স, লাউ, শসা, শিম, লাফা, কাঁকরোল, মিষ্টিকুমার, বেগুন উৎপাদন করতে কচুরিপানার ধাপই যথেষ্ট। উঁচু করে কচুরিপানার ধাপ তৈরি করে রাখার পর পচে গেলে ৫-৭ দিন পরেই তার ওপরে সরাসরি বীজ বপন করা হয়। ভাসমান সবজি চাষের একেকটি বেড এক মৌসুমের জন্য করা হয়। সবজি চাষ শেষ হলে ওই পচা ধাপ বোরো চাষের আগে জমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করেন। ২০ মিটার লম্বা ২ থেকে আড়াই মিটার প্রস্থ একটি বেড তৈরি করতে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। এক মৌসুমে একেক বেড থেকে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হয়।

দক্ষিণ সাতলার শুকচাঁদ বিশ্বাস (৪৮) বলেন, ‘এবার ১০টি বেডে সবজি চাষ করেছি। বেড তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। ৬০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি। এখন ৭০-৮০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পারব।’

সরেজমিন একদিন

গত বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, সাতলা বিলের পানির ওপর ভাসমান বেডে শসা, কাঁকরোল, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, বেগুন, লালশাক, পালংশাকসহ নানা প্রকার সবজির সমারোহ। বিলের পানি ছাড়াও এই পদ্ধতিতে বাড়ির পাশে জলাশয়ে সবজি চাষ করা হচ্ছে।

শিবপুর গ্রামের শুকলাল বাড়ৈ (৪৫) বলেন, এলাকার অধিকাংশ জমিতে এক ফসল হয়। বছরে প্রায় ৬ মাস পানিতে তলিয়ে থাকে। আগে অভাব–অনাটন লেগেই থাকত। পরে ভাসমান সবজি চাষ শুরু করেন।

শুকলাল বাড়ৈ আরও বলেন, ‘সপ্তাহে দুদিন বানারীপাড়ার বিশারকান্দি ও চৌমহনী হাটে সবজি নিয়ে বিক্রি করি। কখনো কখনো ব্যবসায়ীরা এসে বাড়ি থেকেই সবজি কিনে নিয়ে যান। বিষমুক্ত হওয়ায় প্রচুর চাহিদা রয়েছে এসব সবজির।’

একই গ্রামের আনোয়ার বাহাদুর বলেন, ‘এলাকার অনেককে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করতে দেখে আমিও শুরু করি। এতে অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হয়। বর্ষার মৌসুমে মানুষের কষ্ট হয়। তবে সাতলা বিলের মানুষের জন্য তা আশীর্বাদ।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

জলবায়ু পরিবর্তন: সবজি বাগানের মাধ্যমে যেভাবে লড়াই করছে সিলেটের নারীরা

জলবায়ু পরিবর্তন: সবজি বাগানের মাধ্যমে যেভাবে লড়াই করছে সিলেটের নারীরা
সিলেটের ঘরোয়া বাগানের ক্ষেত্রে কাজ করছেন একজন নারী

ঘরোয়া বাগানে ফলমূল এবং সবজি উৎপাদন সবসময়েই পরিবেশ বান্ধব বলে মনে করা হয়, কিন্তু এখন ধারণা করা হচ্ছে, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াইয়েও একটি অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

ঠিক এই অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের একটি এলাকার বাসিন্দাদের, যখন তাদের খাবার ও আয় রোজগারের প্রধান ফসল ধান মৌসুমি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে ২০১৭ সালের এপ্রিলে আগাম অতিবৃষ্টির কারণে তাদের ক্ষেতের সব ধান নষ্ট হয়ে যায়। অথচ ওই বছর বৃষ্টি শুরু হওয়ার কথা ছিল আরো দুই মাস পরে।

কৃষকদের বেশিরভাগ ফসলই বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়। যার অর্থ হলো – বছরের বাকি সময়ের জন্য তাদের আর কোন আয় ছিল না, পরিবারের জন্য যথেষ্ট খাবারও ছিল না।

বিজ্ঞানীরা বরাবরই সতর্ক করে দিয়ে আসছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের ফসলের চাষাবাদের ওপর এবং খাবারে থাকা পুষ্টিগুণের ওপরেও প্রভাব পড়ছে।

বার্লিনের চারিটি-ইউনিভার্সিটি মেডিসিনের জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক এবং পটসড্যাম ইন্সটিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের গবেষক সাবিনে গাব্রিয়চ বলছেন, ”জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব মানুষের আসলে কোন ভূমিকাই নেই, কিন্তু তবু তারা এর শিকার হচ্ছে।”

নোবেল ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্য ও জলবায়ু বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নেয়ার সময় বিবিসিকে তিনি বলেন, ”তারা ভিন্নভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হচ্ছে, কারণ তারা তাদের জীবিকার উপায় এবং খাদ্য-পুষ্টির উৎস হারিয়ে ফেলছে।”

“তাদের সন্তানরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে, কারণ তারা দ্রুত বড় হচ্ছে বলেই তাদের পুষ্টিরও বেশি দরকার।”

এমনকি এক-তৃতীয়াংশ নারীর ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম বলে দেখা গেছে, আর ৪০ শতাংশ শিশুই মারাত্মকভাবে অপুষ্টির শিকার।

”অনেক মানুষ আসলে এর মধ্যেই কোনমতে টিকে রয়েছে, তারা অনেক ধরণের রোগে ভুগছে,” বলছেন অধ্যাপক গাব্রিয়চ। ”তাদের কোন বীমাও নেই।”

বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে বন্যার প্রভাব নিয়ে তিনি একটি গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওই এলাকার বিভিন্ন গ্রামের ২ হাজারের বেশি নারীর সঙ্গে তিনি কাজ করছেন।

এই নারীদের অর্ধেকেরও বেশি বলেছেন যে, বন্যার কারণে তাদের পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতির শিকার হয়।

সেই ক্ষতি কাটাতে বেশিরভাগ পরিবার যা করেছে, তা হলো অন্যের কাছ থেকে টাকাপয়সা ধার করা। বিশেষ করে সেই সব ব্যক্তির কাছ থেকে – যারা চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে থাকে। তাদের কাছ থেকে টাকা এনে পরিবারটি ঋণের জালে আটকে পড়ে।

 গবেষণায় অংশ নেয়া সিলেটের নারীদের অর্ধেকের বেশি বলেছেন যে, বন্যার কারণে তাদের পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে।
গবেষণায় অংশ নেয়া সিলেটের নারীদের অর্ধেকের বেশি বলেছেন যে, বন্যার কারণে তাদের পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে।

এই গবেষক দলটি এসব মানুষকে তাদের বাড়ির আঙ্গিনার উঁচু জমিতে বাগান করতে শিখিয়েছে। এসব জায়গায় তারা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ফলমূল এবং সবজি চাষ করতে এবং মুরগি পালন করতে পারছে।

অধ্যাপক গাব্রিয়চ বলছেন, ”আমি মনে করি না এর ফলে তাদের ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ক্ষতি পূরণ হচ্ছে – কারণ ওটা হচ্ছে তাদের জীবিকার প্রধান ফসল। কিন্তু এটা তাদেরকে অন্তত কিছুটা সহায়তা করতে পারছে।”

উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ধানের মতো যেসব খাবারের ওপর বাসিন্দারা নির্ভর করেন, সেখানে যখন এসব ফসলের ভালো ফলন হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব খাদ্যে ততটা পুষ্টি থাকে না।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের গ্লোবাল হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্ট্রি ইবি পুষ্টিমান নিয়ে গবেষণা করেছেন।

তিনি দেখতে পেয়েছেন যে, চাল, গম, আলু আর সাবুর মতো খাবারে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এর মানে হলো, এগুলো জন্মাতে কম পানি লাগে। এটা শুনতে ইতিবাচক শোনালেও ব্যাপারটা তা নয়। কারণ এসব ফসল মাটি থেকে কম পুষ্টি টেনে নিচ্ছে।

রোগব্যাধি বেড়ে যাওয়া

অধ্যাপক ইবির গবেষণা দল দেখতে পেয়েছে যে, তারা যেসব ধান নিয়ে গবেষণা করেছেন, সেখানে গতে ৩০ শতাংশ হারে ভিটামিন বি কমে গেছে। এতে গর্ভবতী নারীদের জন্য জরুরি ফলিক অ্যাসিডের পরিমাণও স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কমে যাচ্ছে।

তিনি বলছেন, ”বর্তমানে বাংলাদেশ যখন সম্পদশালী হয়ে উঠছে, এখনো দেশটির প্রতি চারজনের তিনজনের দরকারি ক্যালরি আসে চাল থেকে।”

”কিন্তু অন্য অনেক দেশের বাসিন্দারা তাদের প্রধান খাবার হিসাবে চাল ছাড়াও অন্যান্য অনেক ধরণের খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। সুতরাং চালে পুষ্টি কম থাকলেও তা তাদের ক্ষেত্রে খুব সামান্যই প্রভাব ফেলে।”

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির মানে হলো রোগব্যাধির প্রকোপও বেড়ে যাওয়া।

”মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে। এর পাশাপাশি ডায়রিয়া ও সংক্রমণ রোগের প্রকোপও বাড়ছে।”

”আমাদের পৃথিবী যত বেশি উষ্ণ হয়ে উঠছে, ততই রোগব্যাধি বিস্তারের এলাকা বাড়ছে, দীর্ঘসময় ধরে এসব রোগ থাকছে। এসব রোগের বিস্তার অনেক বেশি হচ্ছে।”

”আর অনেক ক্ষেত্রেই এসব রোগের প্রাথমিক শিকার হচ্ছে শিশুরা। এ কারণেই আমরা মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন কারণ তারা ঝুঁকির দিক থেকে সামনের কাতারে রয়েছে। তাদের ওপরেই এসব পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়ছে।”

যেসব রোগব্যাধি সাধারণত গ্রীষ্মপ্রধান এলাকায় দেখা যেত, এখন সেসব রোগ উত্তরের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

এ বছর প্রথমবারের মতো জার্মানিতে ওয়েস্ট নিল ভাইরাসের রোগীর দেখা পাওয়া গেছে, যা একটি মশাবাহিত রোগ।

সাবিনে গাব্রিয়চ বলছেন, ”এসব সংক্রমণ রোগের বিস্তারের ফলে মানুষ উপলব্ধি করতে শুরু করেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের ওপরেও আসতে শুরু করেছে।”

নোবেল বিজয়ী পিটার অ্যাগর সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। এমন সব এলাকায় এমন রোগ দেখা যাচ্ছে যা আগে দেখা যায় নি এবং নতুন নতুন এলাকায় রোগের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায় দেখা যাওয়া কিছু রোগ উঁচু এলাকার দিকেও এখন দেখা যেতে শুরু করেছে।

এটা গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, গ্রীষ্মপ্রধান এলাকার মানুষজন সাধারণত রোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে উঁচু এলাকায় বসবাস করেন।

২০০৩ সালে রসায়নে নোবেল পাওয়া অধ্যাপক অ্যাগর বলছেন, ”উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যেহেতু রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, ফলে কারোই আর আরামে বসে থাকার সুযোগ নেই।”

”একটা জনপ্রিয় প্রবাদ ছিল যে, ‘এখানে এটা ঘটবে না’। কিন্তু এখন, সেটা ঘটতে পারে।”

নোবেল মিডিয়া এবি এবং বিবিসির যৌথ উদ্যোগে এই নিবন্ধ লেখা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০১৯
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com