আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

পেঁয়াজ সংকট: বিদেশ থেকে আমদানির ফলে বিপদে পড়বে চাষীরা?

পেঁয়াজ সংকট: বিদেশ থেকে আমদানির ফলে বিপদে পড়বে চাষীরা?

বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বুধবার (২০শে নভেম্বর) থেকে বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানি করা শুরু করেছে সরকার।

খুচরা ও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় জরুরি ভিত্তিতে সরকার পেঁয়াজ আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকলে আসন্ন পেঁয়াজ উৎপাদনের মৌসুমে পেঁয়াজ-চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

বাজারের নিয়ম অনুযায়ী যোগানের তুলনায় চাহিদার পরিমাণ বেশি হয়ে যাওয়ার কারণেই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে পেঁয়াজের।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিপণন বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, এরকম অবস্থায় পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকারের পেঁয়াজ আমদানি করার সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী ছিল।

“কিন্তু দেশজ পেঁয়াজের উৎপাদন বাজারে আসার সময় পেঁয়াজ আমদানি করা অব্যাহত থাকলে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”
“দেশজ উৎপাদন হওয়ার পরপরই যখন বাজারে পেঁয়াজ আসবে, তখন বাজারের সিংহভাগই হবে দেশী পেঁয়াজ।”

“কিন্তু সেসময় যদি সরকার পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রাখে তাহলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাবে এবং দাম কমে যাবে,” মন্তব্য করেন অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম।

বাজারমূল্য যদি কমে যায় তখন দেশীয়ভাবে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করার সময় কম দাম পাবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তবে কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য যখন বাজারে আসবে তখন সরকার কৃষকের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আমদানি ও উৎপাদনের মধ্যে সমন্বয় করবে বলে তিনি আশা করেন।
সরকারের পরিকল্পনা কী?
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ নাসিরুজ্জামান বিবিসিকে বলেন, পেঁয়াজ-চাষীরা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ মূল্য পায়, তা নিশ্চিত করতে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

তিনি বলেন, “সাধারণত আমরা দেখি, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ যখন বাজারে আসে তখন আমদানিকৃত পেঁয়াজও বাজারে থাকে। ফলে দেশীয় পেঁয়াজের দাম পড়ে যায় এবং পেঁয়াজ চাষীরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না।”

এই পরিস্থিতি যেন এবার তৈরি না হয় সেলক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সচিব মোহাম্মদ নাসিরুজ্জামান।

“পেঁয়াজের উৎপাদন মৌসুমে যেন বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি আমরা।”
সেক্ষেত্রে আমদানি করা পেঁয়াজের তুলনায় বাজারে দেশে উৎপাদন করা পেঁয়াজের পরিমাণ বেশি থাকবে এবং তার ফলে পেঁয়াজ-চাষীরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া বাজারে দেশীয়ভাবে উৎপাদন করা পেঁয়াজের পরিমাণ যেন বৃদ্ধি পায় তা নিশ্চিত করতে পেঁয়াজ-চাষীদের প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কৃষকরা যেন তাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনে আগ্রহী হয় সেজন্যই এই প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান মি. নাসিরুজ্জামান।

তিনি বলেন, “সরকার চায় পেঁয়াজের চাহিদার পুরোটা যেন দেশের পেঁয়াজ-চাষীরাই উৎপাদন করতে উৎসাহী হয়, সেবিষয়ে উৎসাহ দিতে আগামী রবি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষীদের প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”

তবে চাষীদেরকে ঠিক কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে সেটা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

মৎস্য

‘স্বাভাবিক’ বাজারে চড়া সবজি, সস্তা ইলিশ

‘স্বাভাবিক’ বাজারে চড়া সবজি, সস্তা ইলিশ
‘স্বাভাবিক’ বাজারে চড়া সবজি, সস্তা ইলিশ
‘স্বাভাবিক’ বাজারে চড়া সবজি, সস্তা ইলিশ – জাগোনিউজ২৪.কম

ঈদের পর সাধারণত রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির ক্রেতা ও বিক্রেতার সংখ্যা কম থাকে। তবে করোনা মহামারির ঈদের পর সেই চিত্র এবার নেই। স্বাভাবিক সময়ের মতো বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা সবজি ক্রয়-বিক্রয় করছেন। অবশ্য চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবধরনের সবজি। তবে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্যা এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সারাদেশে সবজির উৎপাদন কমে গেছে। যার প্রভাব দাম বেড়েছে। ফলে রাজধানী ঢাকায় এখন সবজির দাম আকাশছোঁয়া।

বাজার ও মানভেদে এককেজি বেগুন কিনতে এখন খরচ করতে হচ্ছে ৭০-৯০ টাকা, যা মাসখানেক আগে ছিল ৪৫-৫৫ টাকায়। পেঁপের দাম কয়েকমাস ধরেই চড়া। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। ক’দিন আগেও কাঁচকলা পাওয়া যেত ২০-২৫ টাকা হালি দরে। কিন্তু এখন এক হালি কলা কিনতে লাগছে ৩৫-৪০ টাকা।

এছাড়া বরবটি বাজারভেদে ৭০-৯০ টাকা, চিচিংগা ৫০-৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৪০-৪৫ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, কচুর মুখি ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরার ব্যবসায়ী মিলন বলেন, ঈদের পর এবার বাজারের চিত্র অন্যবারের মতো না। এবার ঈদ করতে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে তুলনামূলক মানুষ কম গেছে। তবে বন্যার কারণে ঢাকার আশপাশের জেলা ও উত্তরাঞ্চলের অনেক জায়গায় সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। যে কারণে দাম একটু বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের সবজির আড়ৎদার মোস্তফা কামাল বলেন, প্রতিদিন আমার দুই ট্রাক সবজি দরকার। কিন্তু এক ট্রাকও ঠিকমতো পাচ্ছি না। বন্যায় বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।

রামপুরা বাজারে সবজি কিনতে আসা আরিফ বলেন, করোনার কারণে আয় অনেক কমে গেছে। একদিকে আমাদের আয় কমেছে, অন্যদিকে পণ্যের দাম চড়া। ফলে আমরা বড় সমস্যার মধ্যে আছি। বাজারে কোনো সবজিই এখন ৫০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে সবজির দাম বাড়লেও মাছের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে ইলিশ মাছ। বাজারে বড়, মাঝারি ও ছোট সাইজের প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দামও তুলনামূলক স্বস্তা।

বিভিন্ন বাজারে এক কেজির ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০-৯০০ টাকা, যা কিছু দিন আগেও ছিল ১২০০-১৩০০ টাকা। ৭৫০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭৫০ টাকা কেজি দরে। আর আধাকেজি ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকার মধ্যে।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী জমির বলেন, এখন বাজারে ইংলিশ সস্তা। জেলের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। এ কারণে দাম কম। এর থেকে কম দামে ইলিশ পাওয়া যাবে না। কিছুদিন আগে যে ইলিশ ১২৫০ টাকা বিক্রি করেছি, এখন তা ৮৫০ টাকা।

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আমিনুল বলেন, ঈদের আগে ১ কেজি ১০০ গ্রামের একটি ইংলিশ কিনেছিলাম ১২০০ টাকা কেজি দরে। আজ সেই ইলিশ ৮০০ টাকা কেজি কিনতে পেরেছি। আমার হিসেবে এখন ইলিশ মাছ সস্তায়। কারণে বাজারে এখন কোনো সবজি ৫০-৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। সেখানে ইলিশের দাম কেজিতে ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

আঙিনা কৃষি

রামিন’স ফার্ম: সিডনির বুকে একখণ্ড সবুজ বাংলাদেশ

শৈশবের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আমি বেড়ে উঠেছিলাম এমন একটি গ্রামে, যেখানে বিদ্যুৎ বা টেলিভিশন ছিলো না। তাই প্রত্যেকটা দিন ছিল প্রকৃতির সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। প্রত্যেক দিন সকালে উঠেই বাড়ির বড়দের সাথে ক্ষেতে চলে যেতাম। তারপর সারাদিন ক্ষেতে কাটিয়ে আবার বাড়িতে ফিরে আসতাম।

মাটির প্রকার অনুযায়ী বিভিন্ন ক্ষেতে বিভিন্ন রকমের সবজি আবাদ করা হতো। কোনটাতে উচ্ছে বা পটল বা মরিচ আবার কোনটাতে বাঙ্গি বা তরমুজ বা ধুন্দল। প্রত্যেকটা ক্ষেতই ছিল আলাদাভাবে সুন্দর। বীজ থেকে ছোট গাছ তারপর একসময় ফুল সেখান থেকে ফল। বাংগির ক্ষেতে বাংগি পাকা শুরু করলে অনেক দূর থেকেও সেই ঘ্রাণ পাওয়া যেতো। আর পটলের গাছ হতো পটলের শাখা থেকে। সেটা হাট থেকে কিনে নিয়ে এসে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে মাটিতে লাগানো হতো।

এই প্রত্যেকটা ব্যাপারই ছিলো আমাদের সাদামাটা শৈশবে উত্তেজনার উপকরণ। আর মাঝেমধ্যে আমি নিজে ক্ষেত পাহারা দেওয়া লোকেদের সাথে কুড়ের মধ্যে থাকার বায়না ধরতাম। সেটা ছিল একটা অন্যন্য অভিজ্ঞতা। কুড়ের মধ্যে শুয়ে রুপ কথার গল্প শুনতে শুনতে আর তারা গুণতে গুণতে একসময় গভীর ঘুমে তলিয়ে যেতাম। এরপর একসময় শহরতলিতে বসবাস শুরু করলেও সেইসব স্মৃতি মস্তিষ্ক খুব সযতনে তুলে রেখেছিলো।

তাই যখন নিজে সন্তানের পিতা হলাম তখন স্বাভাবিকভাবেই মাথার মধ্যে এমন একটা চিন্তা কাজ করছিলো যে, ওদেরকেও আমার শৈশবের কিঞ্চিৎ হলে সেই ছোঁয়া দিয়ে বড় করবো। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে এই ক্ষেত আমি কোথায় পাবো।

আমি যে ক্ষেতের সন্ধান করছি এটা আমার পরিচিত সবাই জানতো। এমনই একজন পরিচিত মানুষ রামিন ফার্মের সন্ধান দিলেন। গিন্নিকে বলার সাথে সাথেই উনি রাজি হয়ে গেলেন। বললেন ভালোই হবে কিছু তরতাজা শাক সবজি কিনে আনা যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। এক শনিবার সকালে তাহিয়া আর রায়ানকে নিয়ে রামিন’স ফার্মে হাজির হলাম। তাহিয়া আর রায়ান খোলা জায়গা পেলেই খুশি হয় তার ওপর এখানে ভাগ ভাগ করে বিভিন্ন প্লটের মধ্যে বিভিন্ন শস্য দেখে খুশিতে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিলো। আমি পরিচিত হলাম রামিন’স ফার্মের স্বত্তাধীকারি হারুন ভাইয়ের সাথে।

হারুন ভাইয়ের মুখে সারাক্ষণ হাসি লেগে থাকে ঠিক যেমন বাংলাদেশের কৃষকের মুখে হাসি লেগে থাকে সুখে দুঃখে সারাক্ষণ। হারুন ভাই বাংলাদেশের টাংগাইলের মানুষ। অস্ট্রেলিয়া এসে ইউনিভার্সিটি অব ওলোংগং থেকে ম্যানেজমেন্টে অনার্স মাস্টার্স করে পেইন্টার হিসেবে কাজ করেন। শখের বসে ২০১৬ সালে উনি এবং দু’জন বন্ধু মিলে সাড়ে চার একর জমির উপর ফার্মটা শুরু করেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন অস্ট্রেলিয়ার খুবই কম মাটি চাষাবাদের উপযোগী বেশিরভাগ মাটিই পাথুরে।

শুরু করার পর একটা বছর তখন পেরিয়ে গেছে কিন্তু লাভের কোন প্রকার দেখা নেই। উল্টো ঘরের থেকে পয়সা খরচ করে ফার্মের দেখাশোনা করতে হয়। তাই সংগত কারণেই উনার সাথের সবাই ফার্মের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেললেন। কিন্তু হারুন ভাই লেগে থাকলেন। কারণ, উনি ফার্মের সময়টা খুবই উপভোগ করেন। তাই ভাবির কষ্ট হলেও হারুন ভাইয়ের এই ব্যাপারটা মেনে নিলেন। অস্ট্রেলিয়াতে সাপ্তাহিক দিনগুলোতে মানুষ এতই ব্যস্ত থাকে যে, নিশ্বাস ফেলার সময় থাকে না। তাই সবাই সপ্তাহান্তের দিনগুলো পরিবার ও বাচ্চাদের সাথে কাটায়। কিন্তু হারুন ভাই সেটা না করে সেই সাত সকালে ক্ষেতে এসে হাজির হোন। ভাবি দুই বাচ্চা নিয়ে হিমসিম খাওয়া শুরু করলেন তার উপর তখন উনার গর্ভে বেড়ে উঠছে উনাদের তৃতীয় সন্তান। তবুও ভাবি দাঁতে দাঁত চেপে হারুন ভাইয়ের সমস্ত পাগলামি মেনে নিয়েছিলেন। হারুন ভাই সেই সকালে অবার্ন থেকে লেপিংটনে ফার্মের উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

অবার্ন থেকে লেপিংটনে যেতে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ড্রাইভ করতে হয় তবুও উনি হার মানার পাত্র নন। ইতোমধ্যেই উনি পাশে পেয়েছেন আরও কিছু বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী যারা বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন যেমন একবার দেশে উনার বাবা অসুস্থ হলে উনাকে বেশ কিছুদিনের জন্য দেশে যেতে হয়েছিল, তখন তারা ক্ষেতে পানি দেয়ার কাজটা করে দিয়েছিল।

তাহিয়াও খুশি হয় কারণ সে আমার সাথে মাঝেমধ্যে ক্ষেতে নামে লাল শাক, পুঁই শাক তুলতে। আমি কেটে দেই আর ও সেটা ওর হাতে ধরা পলিথিনে রাখে। এছাড়াও আমি গ্রামের ছেলে বলে ক্ষেতের মধ্যে আগাছা হিসেবে হওয়া আরো কিছু শাক আবিষ্কার করেছি। যেমন বৈথার শাক, নোনতা শাক ইত্যাদি।

রামিন’স ফার্ম নিয়ে আমাদের উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। শনিবার এলেই তাহিয়া জিজ্ঞেস করতে থাকে আমরা আজ রামিন’স ফার্মে যাবো কিনা। এর অন্যতম কারণ, রামিন’স ফার্ম সাধারণত শনিবার সকালের সময়টা খোলা থাকে। আপনিও যদি তরতাজা সবজি একেবারে ক্ষেত থেকে সঠিক দামে পেতে চান তাহলে চলে যান লেপিংটনের রামিন’স ফার্মে। রামিন’স ফার্মে যেয়ে আমি বেশ কিছু মানুষের সাথে পরিচত হয়েছি যারা আমাদের মা-বাবার বয়সী। উনারা এসেই ক্ষেতের মধ্যে বসে পড়েন ধুলো ময়লার পরোয়া না করে। দৃশ্যটার মধ্যে এমন একটা অকৃত্রিমতা আছে যে আমি আর চোখ ফেরাতে পারি না।

তবে রামিন’স ফার্মে গেলে ক্ষেতে ঢোকার আগে হারুন ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে নেয়া ভালো কারণ ক্ষেতের মধ্যে আমি বিছুটি গাছ দেখেছি যেটা আপনার গায়ে লাগলে ভয়ংকর চুলকানি শুরু হবে। আর হারুন ভাই বললেন উনি একদিন একটা বড় সাপও দেখেছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

বর্ষা মৌসুমে টমেটো চাষ!

বর্ষা মৌসুমে টমেটো চাষ!
বর্ষা মৌসুমে টমেটো চাষ!

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত টমেটো এখন বর্ষা মৌসুমেও চাষ করে সফলতা মিলেছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন বিজ্ঞানিরা। পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে এবার এই টমেটো চাষ করা হয়েছে। তবে কৃষক পর্যায়ে এই পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোজন রসিক বাঙালির খাদ্য তালিকায় সারা বছরই টমেটোর একটি অবস্থান থাকে। আর টমেটোর ছালাদ কিংবা সস ছাড়া মুখরোচক খাবার তৈরি যেন অসম্ভব। তাইতো বর্ষা মৗসুমে এই টমেটোর দাম থাকে আকাশচুম্বী। প্রতি কেজি টমেটো এখন খুচরা বাজারে শত টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। শীতকালীন ফসল হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে টমেটো উৎপাদনের কোনো সুযোগ থাকে না। ফলে জেলার বাইরে থেকেই আমদানি করতে হয় এ সবজি। তবে সারা বছর চাহিদা পূরণ করতে এবার পটুয়াখালীর লেবুখালীতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে এই টমেটো চাষ করা হয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে টমেটো চাষ!
বর্ষা মৌসুমে টমেটো চাষ!

গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইফতেখার মাহমুদ বলেন, বারি উদ্ভাবিত তিনটি জাতের টমেটো চাষ করে এ অঞ্চলে অনেক ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আর কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে যদি যথাযথ পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষাবাদ করেন তাহলে অনেক বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।

পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, একটু উঁচু জায়গায় পলিথিনের ছাউনি ও উঁচু কান্দি তৈরি করে টমেটো চাষ করলে গাছপ্রতি গড়ে ১৮ থেকে ২০টি এবং হেক্টর প্রতি ৪০ থেকে ৪২ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।

বর্ষা মৌসুমে টমেটো চাষ!
বর্ষা মৌসুমে টমেটো চাষ!

পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই টমেটো যেমন স্থানীয়দের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে তেমনি বাড়তি ফসল বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে।

মাটিতে টমেটো চাষ করার পাশপাশি হাইড্রোপনিক পদ্বতিতেও মাটি ছাড়া সারা বছর টমেটো চাষ করা নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে সফলতাও মিলেছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা

আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা
আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা

দিন দিন আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন ভোলার কৃষকরা। গত তিন বছর ধরে আলু চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ বছর আলু চাষ করেননি কেউ কেউ। তবে লোকসান পুষিয়ে নিতে অনেকেই আলু চাষ শুরু করছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও ভোলায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পোকামাকরের আক্রমণ কম হওয়ায় আলুর বাম্পার ফলন হতো। তাই কৃষকরা আলু চাষে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে ওঠে। কিন্তু গেলো ২/৩ বছর ধরে অসময়ে বৃষ্টিপাত এবং পোকার আক্রমণের কারণে আলু চাষের পর ফলন কম হয়। আবার ক্ষেতে জ্বলা, কারেন্ট, দাউদসহ নানা রোগ দেখা দেয়। তাতে কীটনাশক দিয়েও কোনো কাজ হয় না। গত বছর লোকসান হওয়ায় এবার অনেকেই আলু চাষ করেনি।

সদর উপজেলার ইলিশা এলাকার আলু চাষি আলী আশ্রাফ জানান, গত বছর এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এক একর জমিতে আলু চাষ করি। ৮০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। পরে ধান ও সবজি চাষ করে এখনও দেনা পরিশোধ করতে পারিনি। তাই এ বছর আলু চাষ করিনি।

রাজাপুরের চাষি মো. মহিউদ্দিন বলেন, গত দুই বছর আলু চাষ করে অনেক টাকা দেনা হয়েছি। দেনাদারের ভয়ে এখনও পালিয়ে বেড়াই। আগের টাকা পরিশোধ না করতে পারায় নতুন করে কেউ টাকা দেয় না তাই আর আলু চাষ করবো না।

দক্ষিন দিঘলদী গ্রামের চাষি আব্দুল রহমান বলেন, গত বছর আলু চাষ করে দেড় লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তাই এ বছর আলু চাষ করবো না। অন্য চাষিরা আলু চাষ করছেন। যদি তারা এ বছর লাভবান হয় তাহলে আগামী বছর আলু চাষ করবো।

আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা
আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা

এদিকে টানা কয়েক বছর ধরে আলুর ফলন খারাপ হওয়ার পরও লোকসান পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ভোলার ইলিশা, বাপ্তা ও রাজাপুর ইউনিয়নে আলুর আবাদ শুরু করেছেন কৃষকরা। তারা আশা করছেন যদি ভালো ফলন হয় তাহলে লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

ভোলা সদর চর আনন্দ গ্রামের আলু চাষি সামছুদ্দিন ও মিজান বলেন, গত বছর আলু আবাদ করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টিতে আবাদ নষ্ট হয়। পরে বিভিন্ন এনজিওর থেকে ঋণ নিয়ে আবার নতুন করে আবাদ করি। দুইবারে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ হয়। আলু বিক্রি করেছি ৯০ হাজার টাকা। বাকি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা লোকসান হয়। গত বছরের লোকসান পুষিয়ে ওঠার আশায় এ বছর আবারও নতুন করে ৪ একক জমিতে আলু আবাদ করছি। আল্লাহ যদি লাভ দেন তাহলে লাভ হবে।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, গত কয়েক বছর আলু আবাদের সময় বৃষ্টি হওয়ায় আবাদ নষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয় বার আবাদ করলেও বাজারে আলুর দাম কম হওয়ায় অনেক কৃষকের লোকসান হয়েছে। তাই এ বছর আলু আবাদে কৃষকদের আগ্রহ কম। তাছাড়া আমরা কৃষদের আলুর লোকসান পোষানোর জন্য অন্য ফসল আবাদের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ভোলা জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। আর আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে । উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। এ বছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমি। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

হাসি ফুটিয়েছে টমেটো

হাসি ফুটিয়েছে টমেটো
হাসি ফুটিয়েছে টমেটো

এ বছর টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে রাজবাড়ীতে। আর ভালো ফলন ও বাজার দর পেয়ে দারুন খুশি টমেটো চাষিরা। শীতকালীন সবজি হিসেবে টমেটো অন্যতম। টমেটো রান্না ও সালাতসহ বিভিন্ন ভাবে ব্যবহৃত হয়। আর সেই টমেটো চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন রাজবাড়ীর চাষিরা।

নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলায় টমেটোর চাষ বেশি হয়। প্রতি বিঘা জমিতে টমেটো চাষে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মণ ফলন পাচ্ছেন চাষিরা। যা বাজারে পাইকারি দরে ৯শ থেকে ১ হাজার টাকা মণ হিসেবে বিক্রি করছেন। খরচ বাদ দিয়ে বিঘায় টমেটো চাষিদের প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।

হাসি ফুটিয়েছে টমেটো
হাসি ফুটিয়েছে টমেটো

জেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলসহ নিচু জায়গাগুলোর বেশির ভাগ অংশ জুড়েই এখন সবুজ শাক-সবজি ও শীতকালীন ফসলের আবাদ। চাষের মধ্যে রয়েছে টমেটো, ফুল কপি, বাঁধা কপি, বেগুন, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, শষা, মূলা, পালং শাক ইত্যাদি। জেলায় এবার প্রতিটি ফসলের ফলনই ভালো হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গতবছর রাজবাড়ীতে ৮২৫ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। আর এ বছর আবাদ হয়েছে ৮৩৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে রাজবাড়ী সদরে ৩৭৫, গোয়ালন্দে ৩০০, পাংশায় ৮৫, কালুখালীতে ৩৮ ও বালিয়াকান্দিতে ৩৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

হাসি ফুটিয়েছে টমেটো
হাসি ফুটিয়েছে টমেটো

টমেটো চাষিরা জানান, প্রতিবছরই তারা টমেটো চাষ করেন বাড়তি লাভের আশায়। এ বছরও করেছেন। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর নদীপাড়ের নিচু জমিতে টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছেন। এ বছর টমেটো চাষ করে তারা বেশ লাভবান হয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. ফজলুর রহমান জানান, রাজবাড়ীতে দিন দিন টমেটোর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর ৮৩৫ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। বেশির ভাগ চাষিই হাইব্রিড জাতের টমেটোর চাষ করেছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com