আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

পেঁয়াজ সংকট: বাংলাদেশ চাহিদামতো উৎপাদন করতে পারছে না কেন

পেঁয়াজ সংকট: বাংলাদেশ চাহিদামতো উৎপাদন করতে পারছে না কেন

বাংলাদেশের ঢাকায় বিভিন্ন বাজারে শনিবার পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ আগস্ট মাসে একই পেঁয়াজ বাজারে পাওয়া গেছে কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকায়।

উনত্রিশে সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর পণ্যটির দাম এক ধাক্কায় বেড়ে ১২০-১৫০ টাকায় ঠেকে। এরপর দাম বাড়তেই থাকে।

গত দেড় মাসে পেঁয়াজের দাম ক্রমশ বাড়তে থাকায় পেঁয়াজ খাওয়া সীমিত করে এনেছেন ঢাকার বাসিন্দা সালমা আক্তার।

“আমার পাঁচ জনের ফ্যামিলিতে সপ্তাহে তিন কেজি পেঁয়াজ লাগতো। এখন যে দাম, এতো দাম দিয়ে পেঁয়াজ কেনা তো সম্ভব না। তাই খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি, এখন সপ্তাহে এক-দেড় কেজি কিনি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে অভ্যন্তরিণভাবে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপাদন করতে না পারলে যে কোন সময় এমন সংকট আবার দেখা দিতে পারে।

এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, চাইলেই কি পেঁয়াজের ওপর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব?
পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ানোর পথে অন্তরায়
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুদ্দিন বলেছেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন হলেও এই ফসল উৎপাদনে কৃষকদের বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।

চাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষক যতোটা আগ্রহী, পেঁয়াজের ক্ষেত্রে তেমনটা নয়। কারণ চাল উৎপাদন অপেক্ষাকৃত লাভজনক।

যে জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়, সেই জমিতে অন্যান্য ফসলও ফলানো হয়, তাই বলা যায় যে জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন একটি প্রতিযোগিতার মধ্য থাকে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় চাইলেই ফসল ফলানোর জন্য জমি বাড়ানো যাবেনা।

বাংলাদেশে সাধারণত শীতকাল পেঁয়াজ উৎপাদনের উপযোগী আবহাওয়া, এখন নতুন জাতের পেঁয়াজ গরমকালে উৎপাদন করা গেলেও সেগুলো বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না।

এছাড়া বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতে পানি জমে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে পড়ে।

পচনশীল এই পণ্যটি সংরক্ষণ করা জরুরি হলেও বাংলাদেশে পেঁয়াজের জন্য উপযুক্ত কোল্ড স্টোরেজের যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলে জানান মি. জহিরুদ্দিন।

আলু যে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা হয়। সেখানে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যায় না।

কারণ পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজে আর্দ্রতা লাগবে ৬০%, তাপমাত্রা লাগবে আট ডিগ্রী থেকে ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আলুর কোল্ড স্টোরেজে এই মাত্রাটা ভিন্ন থাকে।
সব জমিতে পেঁয়াজের ফলন না হওয়াকে উৎপাদন কম হওয়ার কারণ হিসেবে মনে করছেন ড. জহিরুদ্দিন।

তিনি বলেন “পেঁয়াজের উপযুক্ত জমি হল মিডিয়াম হাইল্যান্ড, মিডিয়াম লো ল্যান্ড অর্থাৎ বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমের জেলাগুলোয় পেঁয়াজের ফলনটা ভাল হয়। কিন্তু সিলেট বা দক্ষিণে চট্টগ্রামের হাইল্যান্ড বা বেশি লো ল্যান্ডে এর ফলন হবে না। কারণ জমিতে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।”

জমিতে কোন ফসল ফলানো হবে সেটার সিদ্ধান্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কৃষকরা নেয়ায় বাজারে আকস্মিক সংকট দেয়া দেয় বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে কৃষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সরকার এবং ব্যবসায়ীরা চাল বা অন্যান্য শস্য উৎপাদনের দিকে যতোটা মনযোগী, তেমনটা পেঁয়াজ বা অন্য ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেখা যায়না।

রাজশাহীর কৃষক আসলাম হোসেন বলেন, “পেঁয়াজে মনে করেন লাভ কম। চালে প্রফিটটা বেশি। পেয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। একটু বৃষ্টি হলে জমিতে পানি ওঠে পচে যায়। লস হয় অনেক।”

মনিটরিং বাড়াতে হবে
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে ১৭ থেকে ১৯ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন করে। যা কিনা পেঁয়াজের মোট চাহিদার ৬০%।

চাহিদার বাকি ৪০% অথবা ৭ থেকে ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।

আমদানির ৯৫% আসে ভারত থেকে। বাকি পেঁয়াজ আসে মিয়ানমার, মিশর, তুরস্ক থেকে।

পেঁয়াজ আমদানির ওপর ভারতের ওপর এই অতি নির্ভরশীলতার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, পণ্যটি পচনশীল হওয়ায় কম সময়ের মধ্যে বাজারে ছাড়ার জন্য কাছের দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এতে পরিবহন খরচও অনেক কম পড়ে।

ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করার পর বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আশা করা হচ্ছিল দাম স্থিতিশীল হবে।

কিন্তু এ’কদিন বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেনি, উল্টো বেড়েছে।

পেঁয়াজের ওপর এই আমদানি নির্ভরশীলতাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

তাদের মতে, একটি দেশ যে সব ধরণের ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এমন কোন কথা নেই।

আমদানি বন্ধের কারণে বাজারে যদি হঠাৎ সংকট দেখা দিলে, উৎপাদন বাড়ানোর পরিবর্তে বাজার মনিটরিংয়ের দিকে নজর বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. মোঃ কিসমাতুল আহসান।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনকে মনিটর করতে হবে যে দাম বাড়ার আসল কারণটা কী? সেটা কি চাহিদা-যোগানের ভারসাম্যহীনতার কারণে হয়েছে নাকি ব্যবসায়ী ও মধ্যসত্ত্বভোগীরা আর্টিফিশিয়াল ক্রাইসিস তৈরি করেছে। কারণ লাগামহীন দাম বাড়ার সুযোগ কিন্তু অনেকে নিতে পারে, সুপার নরমাল প্রফিট করতে পারে। কিন্তু সেটা যেন জুলুমের পর্যায়ে না যায়।”
এই সংকটের বিষয়টি আগে থেকেই আঁচ করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যদি তড়িৎ পদক্ষেপ নিত, তাহলে পরিস্থিতি এতোটা লাগামহীন পর্যায়ে যেতো না বলে তিনি মনে করেন।

“বাজারে যে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে সেটা অনুমান করে সরকারের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। ভারত আমদানি বন্ধ করেছে ঠিক আছে। কিন্তু অর্ডার দিয়ে অন্য দেশ থেকে আনতে আনতেও তো অনেক সময় লাগে। জাহাজে করে আসতেও তো সময় লাগে। এবার আসলে সঠিক সময়ে তারা প্রেডিক্ট করতে পারেননি।”

মি. আহসানের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “ভারত যে হঠাৎ করে পেঁয়াজ দেয়া বন্ধ করে দেবে আমরা ভাবতেও পারিনি। তবে আমাদের আগে থেকেই অনুমান করা উচিত ছিল, আরও আগে উদ্যোগ নিলে হয়তো এমন অবস্থা হতো না। আমরা এখন চেষ্টা করবো উৎপাদন কিছুটা বাড়ানোর।”

পেঁয়াজ সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজের অভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোল্ড স্টোরেজে পেঁয়াজ রাখলেই দাম অনেক বেড়ে যাবে। তখন দাম ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের চাইতেও অনেক বেশি হবে।

চলতি বছরে মৌসুমের আগে বৃষ্টিপাতের প্রভাব পেঁয়াজের ওপর পড়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
সংকট কাটানো যেতে পারে কিভাবে
কম সময়ে ফলন বেশি হয় এমন জাতের পেঁয়াজ উদ্ভাবন করতে পারলে অথবা বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য উপযোগী পেঁয়াজের উচ্চ ফলনশীল বীজ আমদানি করা গেলে সংকট অনেকটা কাটানো সম্ভব বলে মনে করেন মি. জহিরুদ্দিন।

বর্তমানে পেঁয়াজের বাজারের সংকট দূর করতে পেঁয়াজের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

“আমাদের যে খাদ্যাভ্যাস তার সবখানে পেঁয়াজ আছে। মাছ, মাংস থেকে শুরু করে ভর্তা ভাজি এমনকি মুড়ি মাখানোতেও পেঁয়াজ লাগে। এজন্যই এর ওপর এতো চাপ। কিন্তু পেঁয়াজ না খেলে চলবে না, বিষয়টা কিন্তু এমন নয়। পেঁয়াজ খাওয়া কমাতে হবে।”

এদিকে বাজার ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রাখতে সরকারের উপযুক্ত মনিটরিং এবং ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা করার অসুস্থ মানসিকতা থেকে সরে আসলে এ ধরণের সংকট কাটানো সম্ভব হবে বলে মত দিয়েছেন মি. আহসান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

এগ্রোবিজ

টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়

 টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়
টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়

পাবনার সুজানগরে পদ্মার চরে শীতকালীন টমেটো চাষ করে ভাগ্য বদলে গেছে কয়েকশ’ কৃষকের। ওই চরে এবার শুধু টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয় করবেন কৃষকরা। এতে একসময় সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও এখন কৃষকদের সংসারে স্বচ্ছলতা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সুজানগর উপজেলা মূলত পেঁয়াজ চাষের জন্য সমৃদ্ধ এলাকা। দেশের মধ্যে ২য় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা পাবনা। জেলার মধ্যে সুজানগরে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে সবচেয়ে বেশি। উপজেলার সাগরকান্দী ইউনিয়নের খলিলপুর, চরখলিলপুর এবং কালিকাপুর গ্রামে রয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। সেসব চরাঞ্চলের জমিতে ধান-পাট তেমন ভালো হয় না। কৃষকরা বেশিরভাগ সময় সেসব জমিতে ধান-পাট চাষ করে লোকসানে পড়েন।

সূত্র আরও জানায়, ওই জমিতে প্রথমবারের মত শীতকালীন টমেটো চাষ করে সফল হয়েছেন চাষিরা। এ বছর প্রায় ৩শ কৃষক মিন্টু সুপার ও হিরো সুপারসহ বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড টমেটো চাষ করেন। অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক সময়ে সার-কীটনাশক দেওয়ায় অধিকাংশ জমিতে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে।

 টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়
টমেটো বিক্রি করে ২ কোটি টাকা আয়

খলিলপুর গ্রামের চাষি ইয়াছিন আলী বলেন, ‘এ বছর প্রতিবিঘা জমিতে ১২০-১৩০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। বাজারে টমেটোর দামও বেশ ভালো।’

কালিকাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ মণ্ডল বলেন, ‘১ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করতে সার, বীজ ও শ্রমিকসহ খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা। বাজারে প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭-৮শ টাকা দরে। উৎপাদন খরচ বাদে প্রতিবিঘা জমির টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ হাজার টাকা।’

কৃষক আক্কাছ আলী বলেন, ‘আগে সংসারে অভাব-অনটন ছিল। চরাঞ্চলের ওই জমিতে চাষ করা টমেটো বিক্রি করে বর্তমানে সংসার বেশ ভালোভাবে চলছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ময়নুল হক সরকার বলেন, ‘প্রথমবারের মতো কৃষকরা চরের খাস জমিতে টমেটো চাষ করে চমক দেখিয়েছেন। এতে কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। এরপর থেকে টমেটো চাষে কৃষকদের সাপোর্ট দেওয়া হবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস

মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস
মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস

দেশের সড়ক-মহাসড়কের দু’ধারে বেশিরভাগ পরিত্যক্ত জায়গা ভরে আছে আগাছায়। অন্যদিকে জনবসতি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কমছে দেশের কৃষি জমি। তাই দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও যেন পরিত্যক্ত পড়ে না থাকে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের। তার ওই নির্দেশনার আলোকে ‘অব্যবহৃত জায়গায় সবজি ও ফলের চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারোমাস’ শীর্ষক ইনোভেশন আইডিয়া বাস্তবায়নে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

এই উদ্ভাবনী আইডিয়ার দারুণ ফল মিলছে গাইবান্ধা-সাঘাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের দু’ধারে। সড়কটির কয়েক কিলোমিটার এলাকায় অব্যবহৃত জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে সবজি বাগান। চাষ করা হয়েছে শিম, লাউ, করলা, বেগুন, মরিচসহ বিভিন্ন জাতের সবজি।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় স্থানীয়রা এ সবজি চাষ করে যেমন নিজেরা খেতে পারছেন, তেমনি বাজারে বেচে করতে পারছেন আয়ও। আগামীতে দেশের সবজি চাহিদা মেটাতে এই উদ্যোগ সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানাচ্ছেন কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস
মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস

সূত্র জানায়, দেশে ৩ হাজার ৭৯০ কিলোমিটার জাতীয়, ৪ হাজার ২০৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক, ১৩ হাজার ১২১ কিলোমিটার জেলা এবং ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮৯ কিলোমিটার স্থানীয় সড়ক আছে। এই সড়কগুলোর দু’ধারে পরিত্যক্ত জায়গা ভরে থাকে আগাছায়। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে এসব জায়গাও চাষবাসের জন্য কাজে লাগাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

মহাসড়কের পাশের সবজি চাষি সাঘাটার যাদুরতাইর গ্রামের আসাদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা কখনো ভাবতেও পারিনি যে মহাসড়কের পাশে সবজি চাষ করে নিজেদের পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। কিন্তু কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তা সম্ভব হয়েছে।

একই গ্রামের চাষি আইজ উদ্দিন বলেন, এ বছর শিম, লাউ, করলা, বেগুন, মরিচসহ হরেক রকমের সবজির চাষ করে নিজেদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়েছি। বিক্রি করেছি বাজারেও। আগামীতে আরও মনোযোগ দিয়ে সবজি চাষ করব।

মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস
মহাসড়ক ঘেঁষে সবজি চাষ, অর্থ-পুষ্টি বারো মাস

সাঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার গোলাম মওলা জাগো নিউজকে জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

ইনোভেশন আইডিয়াদাতা কর্মকর্তা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ব্লুগোল্ড প্রোগ্রাম অফিসার মো. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, দেশের উত্তরের জেলা রংপুরের মিঠাপুর উপজেলার পরে গাইবান্ধার সাঘাটায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি অনেক খুশি। আসলে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ঘরবাড়িও বাড়ছে, পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কমে যাচ্ছে দেশের কৃষি জমি। এই পরিস্থিতিতে দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও যেন পরিত্যক্ত না থাকে, এমন নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার নির্দেশনার আলোকেই দেশের সড়ক-মহাসড়কের পাশে সবজি চাষের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বিদেশি ক্যাপসিক্যাম দেশে চাষ করে কৃষকের ভাগ্য বদল

সবজি চাষে অপার সম্ভাবনা রয়েছে ভোলার চরঞ্চলগুলোতে। আর এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভোলার চরাঞ্চলগুলোতে বিদেশি সবজি ক্যাপসিক্যাম চাষ করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন কৃষকরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

বহুগুণে গুণান্বিত কাসাভা

বহুগুণে গুণান্বিত কাসাভা
বহুগুণে গুণান্বিত কাসাভা

আফ্রিকা মহাদেশের বেশির ভাগ মানুষ কাসাভা খেয়ে জীবন ধারণ করে। তবে বাংলাদেশে এখনো এটি নিতান্তই অপরিচিত। গুল্মজাতীয় এ উদ্ভিদটি বাংলাদেশে চাষ না হলেও পাহাড়ে-জঙ্গলে দীর্ঘদিন থেকে এ গাছ জন্মায়। স্থানীয়ভাবে কাসাভার ব্যবহার আছে অনেক আগে থেকেই। গ্রামের মানুষ কাসাভার কন্দকে ‘শিমুল আলু’ বলে। গাছটির পাতা অনেকটা শিমুল গাছের মতো দেখতে বলেই হয়তো এরকম নামকরণ।

পুষ্টিগুণ
কাসাভা আটার পুষ্টিগুণ গমের আটার চেয়ে অনেক বেশি। এই আটা থেকে রুটি ছাড়াও অনেক প্রকার সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়। কাসাভা ভিটামিনের দিক দিয়েও শীর্ষে। কাসাভার খাদ্যমানের মধ্যে প্রোটিন আছে ১০ শতাংশেরও বেশি। অ্যামাইনো অ্যাসিড ও কার্বোহাইড্রেট আছে যথাক্রমে ১০ ও ৩০ শতাংশ। আরো আছে ফ্রুকটোজ ও গ্লুকোজ। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম কাসাভা আলুতে রয়েছে ৩৭ গ্রাম শর্করা, ১.২ গ্রাম আমিষ, ০.৩ গ্রাম চর্বি, ৩৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৭ মিলিগ্রাম আয়রন, ০.০৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ, ৩৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ১৪৬ ক্যালরি খাদ্যশক্তি।

রোগ প্রতিরোধ
সব পুষ্টিগুণ মিলে সেলুলোজের সঙ্গে পাওয়া যাবে মিনারেল ও ফাইবার গ্লুটামিন। এর আঠালো অংশ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ উপশমের ক্ষেত্রে কাজ করে। কাসাভা ফাইবার বাড়তি কোলেস্টরলের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করে। এমনকি এটি ক্যান্সার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে।

বহুগুণে গুণান্বিত কাসাভা
বহুগুণে গুণান্বিত কাসাভা

বাজারজাত
সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে কাসাভা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাসাভা থেকে আটা ও স্টার্চ তৈরি করে বাজারজাতকরণের উদ্যোগে নিয়েছে।

প্রক্রিয়াজাত
কাসাভা আলুকে প্রক্রিয়াজাত করে তা থেকে আটা ও স্টার্চ পাওয়া যায়। এই আটা দিয়ে রুটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবার পাওয়া সম্ভব। প্রতি কেজি আলু থেকে আটা ও স্টার্চ মিলিয়ে প্রায় ৩৪০ গ্রাম পর্যন্ত উৎপাদন করা সম্ভব। এক হেক্টর জমি থেকে বছরে প্রায় ২৫.৫ মেট্রিক টন অর্থাৎ ৩ হাজার ৪০০ কেজি কাসাভা আটা ও স্টার্চ পাওয়া সম্ভব।

খাদ্যসামগ্রী
কাসাভার আটা দিয়ে রুটি ছাড়াও পাঁপর, চিপস, নুডলস, ক্র্যাকার্স, বিস্কুট, কেক, পাউরুটি ইত্যাদি তৈরি করা যায়। কাসাভা আলু যেমন সিদ্ধ করে খাওয়া যায়, তেমনই তরকারি করে মাছ-মাংসের সঙ্গে খাওয়া যায়।

বহুগুণে গুণান্বিত কাসাভা
বহুগুণে গুণান্বিত কাসাভা

শিল্পে কাঁচামাল
কাসাভা থেকে কেবল খাবারই তৈরি হয় না। এ থেকে তৈরি স্টার্চ ব্যবহৃত হয় শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে। কাসাভা স্টার্চ বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানি করা স্টার্চের যথার্থ বিকল্প। কাসাভা স্টার্চ টেক্সটাইল, ওষুধ ও রসায়ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও সিমেন্টের গুণগত মানোন্নয়ন, কাগজ, আঠা, প্রসাধন, রাবার ও সাবান শিল্পে ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে স্টার্চ, মল্টোজ, লিকুইড, গ্লুকোজসহ অন্যান্য রূপান্তরিত চিনি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এমনকী সমরাস্ত্র কারখানায় বুলেট ডিটোনেশন কাজে ব্যবহৃত মোমবিহীন চাঁচ হিসেবে কাসাভার স্টার্চও ব্যবহার করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কীভাবে লালশাক চাষ করবেন

কীভাবে লালশাক চাষ করবেন
কীভাবে লালশাক চাষ করবেন

লালশাক একটি জনপ্রিয় খাবার। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই কমবেশি লালশাক চাষ হয়। লালশাক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। দেশের অনেক জায়গায় এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লালশাক চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। বেকারত্ব দূর করতে নারী বা পুরুষ নিজের জমিতে অথবা বর্গা নেওয়া জমিতে লালশাক চাষ করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

পুষ্টিগুণ  
লালশাকে প্রচুর ভিটামিন এ, বি, সি ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

জাত
১. আমাদের দেশে ‘বারি লালশাক-১’ জাতের শাক চাষ ১৯৯৬ সালে অনুমোদন করা হয়।
২. এ শাকের পাতার বোটা ও কাণ্ড নরম ও উজ্জ্বল লাল রঙের হয়।
৩. প্রতি গাছে ১৫ থেকে ২০টি পাতা থাকে।
৪. গাছের উচ্চতা ২৫-৩৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১০-১৫ গ্রাম হয়ে থাকে।
৫. এ শাকের ফুলের রং লাল এবং বীজ গোলাকার হয়।
৬. বীজের উপরিভাগ কালো ও কিছুটা লাল দাগ মেশানো থাকে।

কীভাবে লালশাক চাষ করবেন
কীভাবে লালশাক চাষ করবেন

জমি তৈরি ও বীজ বপন
১. লালশাক চাষের আগে জমি খুব ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে তৈরি করে নিতে হবে। জমি ও মাটির অবস্থা বুঝে ৪-৬টি চাষ ও মই দিতে হবে।
২. লালশাকের বীজ ছিটিয়ে ও সারিতে বপন করা যায়। তবে সারিতে বীজ বপন করা সুবিধাজনক।
৩. এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব ২০ সেন্টিমিটার রাখতে হবে।
৪. একটি কাঠি দিয়ে ১৫-২০ সেন্টিমিটার গভীর লাইন টেনে সারিতে বীজ বুনে মাটি সমান করে দিতে হবে।

জলবায়ু
সারাবছরই লালশাক চাষ করা যায়। তবে শীতের শুরুতে লালশাকের ফলন বেশি হয়।

মাটির প্রকৃতি
প্রায় সব ধরনের মাটিতেই সারাবছর ‘বারি লাল শাক-১’ এর চাষ করা হয়। তবে দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি লালশাক চাষের জন্য উপযোগী।

সার প্রয়োগ
কৃষকদের মতে, গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে লালশাক চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরন অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যাবে। নিজের গবাদি পশু না থাকলে প্রতিবেশি যারা গবাদি পশু পালন করে তাদের কাছ থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পঁচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির আশেপাশে গর্ত করে সেখানে আবর্জনা, ঝরাপাতা ইত্যাদি স্তুপ করে রেখে আবর্জনা পঁচা সার তৈরি করা সম্ভব।

কীভাবে লালশাক চাষ করবেন
কীভাবে লালশাক চাষ করবেন

পরিচর্যা
১. বীজ গজানোর এক সপ্তাহ পর প্রত্যেক সারিতে ৫ সেন্টিমিটার পর পর গাছ রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে।
২. নিড়ানি দিয়ে জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে।
৩. জমির উপরের মাটিতে চটা হলে নিড়ানি দেওয়ার সময় তা ভেঙে দিতে হবে।

বাজার সম্ভাবনা
লালশাক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর তাই ছোট-বড় সবাই এই শাক খুব পছন্দ করে। যেহেতু এর চাহিদা সবার কাছেই আছে তাই লালশাক চাষ করে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করাও সম্ভব। লালশাক রপ্তানি করার জন্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

মনে রাখবেন, উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে প্রতিবিঘা জমি থেকে প্রায় ৫শ’ কেজি লালশাক পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com