আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

পেঁয়াজ: বাংলাদেশ কি পারবে ভারতের উপর নির্ভরতা কাটাতে?

পেঁয়াজ: বাংলাদেশ কি পারবে ভারতের উপর নির্ভরতা কাটাতে?

যেসব ভোগ্যপণ্যের জন্য বাংলাদেশের ভোক্তারা ভারতের উপর অনেক নির্ভরশীল তার মধ্যে পেঁয়াজ অন্যতম। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেবার পর বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন আকাশচুম্বী।

ভারতে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতাসীন হাবার পরে সেদেশ থেকে বাংলাদেশে গরু আসা বন্ধ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে।

গরুর মাংসের দাম এক লাফে কেজি প্রতি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

তীব্র সংকট তৈরি হয় কোরবানির পশু সংগ্রহের ক্ষেত্রে। প্রথম দু’বছর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে কোরবানির জন্য গরু খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়েছিল অনেকের জন্য।

এই সংকটের কারণে গত কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে অনেক গরুর খামার গড়ে উঠে। গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশের কোরবানির পশুর বাজার ভারতের উপর নির্ভরশীল নয়।

পেঁয়াজের এই নজিরবিহীন মূল্য বৃদ্ধি যে প্রশ্নে জন্ম দিয়েছে সেটি হচ্ছে, ভারতের উপর যে নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে সেখান থেকে বাংলাদেশ কি বেরিয়ে আসতে পারবে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র অর্থনীতির অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা বলেন, “আমাদের কখনোই উচিত হবে না একটি বাজারের উপর নির্ভরশীল হওয়া।”

তিনি বলেন, পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে শুধু ভারতের উপর নির্ভরশীল না থেকে বিকল্প বাজারও খুঁজতে হবে। তাছাড়া বাংলাদেশের ভেতরেও পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক বিদিশার মতে, পেঁয়াজের জন্য ভারতের উপর বাংলাদেশের নির্ভরশীলতা তৈরি হওয়ার একটি দুটো কারণ রয়েছে।

প্রথমত, ঐতিহাসিকভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ভারতের পেঁয়াজের গুণগত মান এবং দাম বিবেচনা করলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা বাংলাদেশের জন্য লাভজনক বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক বিদিশা।

টিসিবি ট্রাক থেকে কম দামে পেঁয়াজ ক্রয়ের জন্য প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজার-হাজার মানুষ।
টিসিবি ট্রাক থেকে কম দামে পেঁয়াজ ক্রয়ের জন্য প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজার-হাজার মানুষ।

বাংলাদেশ কি ভারতনির্ভরতা কাটাতে পারবে?

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নাসিরুজ্জামান মনে করেন, ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হয়ে যাবার পর বাংলাদেশের গরুর খামারিরা যে সফলতা দেখিয়েছে, সেটি পেঁয়াজ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও সম্ভব।

“প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে পেঁয়াজ যে পরিমাণ উৎপাদন হয়, ভারত থেকে যদি পেঁয়াজ না আসতো তাহলে হয়তো বাংলাদেশের কৃষক উৎপাদিত পেঁয়াজের ভালো দাম পেতো”

কৃষি সচিব বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের ক্ষেত্রে কেজি প্রতি ১০-১২ টাকা পায়। ভারত থেকে পেঁয়াজ না আসলে বাংলাদেশের কৃষকরা প্রতি কেজি পেঁয়াজে ৩০-৩২ টাকা পেতো।

সরকারি হিসেবে বাংলাদেশে বর্তমানে ২৩ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। কিন্তু পেঁয়াজ ঘরে তোলার সময় প্রায় পাঁচ লাখ টন নষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ ১৯ লাখ টন পেঁয়াজ বাজারে থাকে।

অন্যদিকে বিদেশ থেকে আমদানি হয় ১১ লাখ টন। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০ লাখ মেট্রিকটন পেঁয়াজ প্রয়োজন।

“আমাদের চাষীদের যে সক্ষমতা আছে, সেক্ষেত্রে তারা খুব সহজেই ৩০ লাখ মেট্রিকটন পেঁয়াজ উৎপাদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলেছি যখন চাষীরা পেঁয়াজ উৎপাদন করে বাজারে নিয়ে আসবে, তখন যেন ভারত থেকে আপাতত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখে,” বলছিলেন কৃষি সচিব।

ঢাকার একটি বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন এক বিক্রেতা।
ঢাকার একটি বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন এক বিক্রেতা।

তিনি বলেন, কৃষকরা যদি পেঁয়াজের দাম পায়, তাহলে পরবর্তী বছর আরো বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন করবে।

বাংলাদেশের যদি পেঁয়াজ উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণের সক্ষমতা থাকে, তাহলে এতদিন সেটি না করে ভারতের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলো কেন?

কৃষি সচিব বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অতীতে ভিন্ন চিন্তা করা হয়নি।

“কৃষক যখন উৎপাদন করে তখন বিদেশ থেকে আমদানি করলে দাম অনেক নেমে যায়। এটা যাতে না হয়। এটা হলে পরবর্তী বছর কৃষক উৎপাদন করতে আগ্রহী হয় না।”

“ভারত থেকে বা দেশের বাইরে থেকে যে পেঁয়াজ আসবে, সেটা যদি না আসে তাহলে সারা বছর হয়তো আমাদের দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম একটু বেশি থাকবে। হয়তো কেজি প্রতি ৪০-৪৫ টাকা থাকবে, কিন্তু কখনো আড়াইশ টাকায় উঠবে না,” বলছিলেন কৃষি সচিব।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে ভুট্টা

সারাদেশে বেড়েই চলেছে ভুট্টার উৎপাদন। মাঠের পর মাঠ সবুজ পাতার আড়ালে হাসছে হলুদ রঙের ভুট্টার মোচা (ফল)। ভুট্টা উৎপাদন ও বিক্রি করে কৃষক খুব খুশি। উৎপাদনে ধানের চেয়ে ভুট্টার খরচ কম হওয়ায় অনেক কৃষক ভুট্টার চাষের দিকে ঝুঁকছেন। ধানের চেয়ে ভুট্টা চাষে দ্বিগুণ লাভ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

ভুট্টা উৎপাদন ও গবেষণার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, এবার ভুট্টা উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে তা ছাড়িয়ে যাবে। কারণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার ভুট্টা চাষে অনেক কৃষককে প্রণোদনা দিচ্ছে। এছাড়া মাঠ প্রদর্শনী বাবদও অনেক কৃষক প্রণোদনা পাচ্ছেন। দেশের অধিকাংশ উপজেলায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন ভুট্টা চাষিকে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। প্রণোদনার আওতায় প্রত্যেক চাষিকে দুই কেজি করে ভুট্টার বীজ, ২০ কেজি ডিএপি (ড্যাপ সার) ও ১০ কেজি এমওপি (পটাশ) সার বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে। রাজস্ব খাত থেকেও এনএটিপি (ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রজেক্ট) প্রকল্পের আওতায় অনেকে ভুট্টার ওপর প্রদর্শনী প্লট পেয়েছেন। এসব কৃষকের প্রত্যককে নগদ দেড় হাজার টাকাসহ সার, কীটনাশক, সাইনবোর্ড বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে।

বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার চরপাড়া গ্রামের কৃষক আকিমুদ্দিন শেখ এবার ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। গত আমনের সিজনে ধানের দাম কম পাওয়ায় এবার বোরো ধান আবাদ না করে তিনি ভুট্টার চাষ করেছেন। ১০ বিঘা জমিতে তার ৪২০ মন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে। প্রতি মণ ভুট্টা (কাঁচা) খোলা থেকেই ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রতিবিঘা জমিতে তার উৎপাদন খরচ হয়েছে গড়ে ৯ হাজার টাকা। মোট খরচ হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। ৪২০ মণ ভুট্টা বিক্রি করে তিনি এক লাখ ৪১ হাজার টাকা নিট প্রফিট করেছেন।

কৃষক আকিমুদ্দিন শেখ জাগো নিউজকে বলেন, এখন থেকে আর ধান আবাদ করব না। শুধু বছরে খাওয়ার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু করব। ভুট্টা, পাট, মরিচ ও সবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষ করব। তিনি বলেন, ধান এক হাজার টাকা মণ বিক্রি করলেও ধানের চেয়ে ভুট্টায় দ্বিগুণ লাভ। তিনি হিসাব করে বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন খরচ ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ধান উৎপাদন হবে ২০ মণ। এক হাজার টাকা মণ দরেও ধান বিক্রি করলে এক বিঘা জমিতে ৫-৬ হাজার টাকার বেশি লাভ হবে না।

তিনি বলেন, ‘এবার এক বিঘা জমিতে আমার ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে ৪২ মণ। প্রতি মণ ৫৫০ টাকা দরে এসেছে ২৩ হাজার ১০০ টাকা। উৎপাদন খরচ ৯ হাজার টাকা বাদ দিলে প্রতি বিঘায় আমার ১৪ হাজার ১০০ টাকা লাভ হয়েছে। যা ধানের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এ কারণে ধান উৎপাদনের দিকে আমার আর ঝোঁক নেই।’

একই জেলার উল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক হেলাল খাঁ জাগো নিউজকে বলেন, আমি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে ভুট্টা এবং পাঁচ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। পাঁচ বিঘা জমিতে ধান হয়েছে ১১০ মণ। বিক্রি করেছি ৮০০ টাকা মণ দরে। এতে আমার মোট আয় হয়েছে ৮৮ হাজার টাকা। অথচ পাঁচ বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলে ধানে আমার লাভ হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে পাঁচ বিঘা জমিতে ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে ২১৫ মণ। প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি করেছি ৫৫০ টাকা দরে। ভুট্টা বিক্রি বাবদ আমার এসেছে এক লাখ ১৮ হাজার ২৫০ টাকা। আর খরচ হয়েছে ৫২ হাজার টাকা। আমার মোট লাভ হয়েছে ৬৬ হাজার ২৫০ টাকা। তিনি বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে ধান করে লাভ হয়েছে ১৮ হাজার টাকা আর একই পরিমাণ জমিতে ভুট্টা করে লাভ হয়েছে ৬৬ হাজার ২৫০ টাকা।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ড. আলহাজ উদ্দিন এক প্রশ্নের জবাবে জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভুট্টা চাষিরা এই আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। সে কারণে প্রতিনিয়ত ভুট্টার আবাদ বাড়ছে। ভুট্টা দিয়ে পোল্ট্রি এবং মাছের খাবার তৈরি হয়। আমাদের দেশে পোল্ট্রি এবং ফিশারিজের প্রসার ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ভুট্টার চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরে আমাদের ভুট্টা উৎপাদনের জন্য চার লাখ ৫২ হাজার ৩৪১ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এবার চার লাখ ৬২ হাজার ৮৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষাবাদ হয়েছে। আশা করি, এবার ভুট্টা উৎপাদনের জন্য ৪৪ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তা ছেড়ে যাবে। কারণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে।’

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট নশিপুর, দিনাজপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো. আবু জামান সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভুট্টা চাষের জন্য কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছি। ট্রেনিং দিয়েছি। এরপর প্রণোদনা ও প্লট প্রদর্শনী বাবদ ভর্তুকি দিচ্ছি। এখন কৃষক নিজেরাই ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। কারণ এই ফসলটির উৎপাদন খরচের চেয়ে লাভ অনেক বেশি পাচ্ছে কৃষক। এজন্য কৃষক ভুট্টা চাষের দিকে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই ভুট্টা চাষের জন্য জমির পরিমাণ বাড়ছে। মানুষের জন্য খাওয়ার উপযোগী ভুট্টা কীভাবে উৎপাদন করা যায় সে বিষয়টি নিয়েও আমরা ভাবছি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে করণীয়

ড. মো. শাহজাহান কবীর

আমন শব্দটির উৎপত্তি আরবি শব্দ ‘আমান’ থেকে যার অর্থ আমানত। অর্থাৎ আমন কৃষকের কাছে একটি নিশ্চিত ফসল বা আমানত হিসেবে পরিচিত ছিল। আবহমান কাল থেকে এ ধানেই কৃষকের গোলা ভরে, যা দিয়ে কৃষক তার পরিবারের ভরণ-পোষণ, পিঠাপুলি, আতিথেয়তাসহ সংসারের অন্যান্য খরচ মিটিয়ে থাকে। ২০১৮-১৯ আমন মওসুমে দেশে ৫৬.২২ লক্ষ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়, এর মধ্যে ৩.৩৯ লক্ষ হেক্টর বোনা, ৮.৭২ লক্ষ হেক্টর স্থানীয় জাতের এবং ৪৪.১১ লক্ষ হেক্টর জমিতে উফশী রোপা আমন চাষ হয় যা থেকে উৎপাদন হয় ১ কোটি ৫৩ লক্ষ টন। ২০১৯-২০ মওসুমে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে আমন আবাদ এরিয়া ৫% বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে ৩.১৩ লক্ষ হেক্টর বোনা, ৮.৫১ লক্ষ হেক্টর স্থানীয় জাতের এবং ৪৭.১৯ লক্ষ হেক্টর জমিতে উফশী রোপা আমন চাষ হয়। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রতিবছর আমনের উৎপাদন বাড়ছে এবং গতবছর আমনের উৎপাদন ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টনে পৌঁছায়। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে নতুন নতুন উদ্ভাবিত জাত, আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও সরকারের সঠিক নীতি কৌশল। এ বছর বোরো উৎপাদনের পর আউশ এবং আমনের ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। করোনার কারণে যেন খাদ্য সংকট না হয়, দেশে যেন দুর্ভিক্ষের মতো কোন অবস্থা সৃষ্টি না হয়, মানুষ যেন খাদ্য কষ্টে না ভোগে, সেজন্যই এসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আমন ধান মূলত দুই প্রকার; রোপা আমন ও বোনা আমন। রোপা আমন অন্য জমিতে চারা প্রস্তুত করে, সেই চারা ক্ষেতে রোপণ করে ধান উৎপন্ন হয় বলে এর এরূপ নাম। রোপা আমন আষাঢ় মাসে বীজতলায় বীজ বোনা হয়, শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে মূল জমিতে রোপণ করা হয় এবং কার্তিক-অগ্রহায়ণ-পৌষ (এলাকাভেদে) মাসে ধান কাটা হয়।

বোনা আমন ছিটিয়ে বোনা হয়। চৈত্র-বৈশাখ মাসে মাঠে বোনা আমনের বীজ বপন করা হয় এবং অগ্রহায়ণ মাসে পাকা ধান কাটা হয়। একে আছড়া আমন, বাওয়া আমন বা গভীর পানির আমনও বলা হয়। আমন মওসুমে যেহেতু আবাদ এলাকা সম্প্রসারণের তেমন সুযোগ নেই তাই ফলন বাড়ানোর জন্য নতুন জাত চাষাবাদের সঙ্গে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। আমন ধানের ফলন বৃদ্ধিতে করণীয় বিষয় যেমন- ভালো বীজ নির্বাচন, জমি তৈরি, সঠিক সময়ে বপন বা রোপণ, আগাছা দূরীকরণ, সার ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, বালাই ব্যবস্থাপনা ও সম্পূরক সেচ ফলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আবাদ এলাকা বৃদ্ধি করা
আগেই বলা হয়েছে আমনে আবাদ এলাকা বৃদ্ধির তেমন সুযোগ নেই তবে কিছু কিছু এলাকা যেমন
১) সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে অনেক জমি পতিত থাকে তার মূল কারণ জমির মালিক বিদেশ থাকে
২) নোয়াখালী ও বরিশালের চর অঞ্চল
৩) যেসব এলাকায় আগাম সবজি চাষ করা হয় সেসব জমি পতিত না রেখে স্বল্প জীবনকালীন জাত যেমন ব্রি ধান৫৭, ৬২, ৭১, ৭৫ চাষ করা
৪) বোরো-পতিত-পতিত শস্য বিন্যাসে আমন মওসুমে জমি পতিত না রেখে ব্রি উদ্ভাবিত ব্রি ধান৯১, অন্যান্য স্থানীয় জাত চাষ করে উৎপাদন বাড়ানো যেতে পারে।

জাত নির্বাচন
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমন মওসুম ও এর পরিবেশ উপযোগী ৪১টি (৩৯টি ইনব্রিড ও ২টি হাইব্রিড) উফশী ধানের জাত ও ধান উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নানা রকম কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনা উদ্ভাবন করেছে। অনুকূল ও প্রতিকূল পরিবেশে চাষযোগ্য আমন জাতগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

অনুকূল পরিবেশ উপযোগী জাতসমূহ
বিআর৪, বিআর৫, বিআর১০, বিআর১১, ব্রি ধান৩০, ব্রি ধান৩২, ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৩৯, ব্রি ধান৪৯, ব্রি ধান৬২, ব্রি ধান৭১, ব্রি ধান৭২, ব্রি ধান৭৫, ব্রি ধান৭৯, ব্রি ধান৮০, ব্রি ধান৮৭, ব্রি ধান৯০, ব্রি ধান৯৩, ব্রি ধান৯৪, ব্রি ধান৯৫।

প্রতিকূল পরিবেশে চাষযোগ্য জাত
> খরাপ্রবণ এলাকায় ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭ ও ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১
> বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য উপযোগী জাতগুলো হলো- ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২, ব্রি ধান৭৯। এছাড়া বিআর২২, বিআর২৩, ব্রি ধান৪৬ জাতগুলোর নাবিগুণ থাকার জন্য এদের বীজ ২০-৩০ শ্রাবণে বপন করে ৩০-৪০ দিনের চারা সর্বশেষ ৩১ ভাদ্র পর্যন্ত বন্যা প্রবণ এলাকায় রোপণ করা যায়।
> লবণাক্ত এলাকায় বিআর২৩, ব্রি ধান৪০, ব্রি ধান৪১, ব্রি ধান৫৩, ব্রি ধান৫৪, ব্রি ধান৭৩, ব্রি ধান৭৮
> জোয়ার-ভাটাপ্রবণ অলবণাক্ত এলাকার উপযোগী জাতগুলো হলো- ব্রি ধান৪৪, ব্রি ধান৫২, ব্রি ধান৭৬,ব্রি ধান৭৭
> জলাবদ্ধ এলাকার জন্য উপযোগী জাত- বিআর১০, বিআর২৩, ব্রি ধান৩০, ব্রি ধান৭৯, ব্রি ধান৭৬, ব্রি ধান৭৮
> বোরো-পতিত-পতিত শস্য বিন্যাসে ব্রি ধান৯১ সহ গভীর পানিতে চাষাবাদ উপযোগী স্থানীয় জলি আমন ধান যেমন গোপালগঞ্জ ও বরিশাল অঞ্চলের লক্ষ্মীদীঘা ও বাঁশিরাজ, সিলেট অঞ্চলে লালমোহন, হবিগঞ্জে দুধলাকি ও ফুলকুড়ি, ফরিদপুরে খইয়া মটর এবং সিরাজগঞ্জে সড়সড়িয়া।
> বরেন্দ্র এলাকার জন্য জাতগুলো হলো- ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭, ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১, ব্রি ধান৭৫ ও ব্রি ধান৮০। এছাড়া সুগন্ধি ব্রি ধান৩৪ সহ সমতল বরেন্দ্র অঞ্চলে অনুকূল পরিবেশের জন্য সুপারিশকৃত সব জাতই চাষ করা সম্ভব।
> পাহাড়ি এলাকার জন্য উপযোগী জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- ব্রি ধান৪৯, ব্রি ধান৭০, ব্রি ধান৭১, ব্রি ধান৭৫, এবং ব্রি ধান৮০।

প্রিমিয়াম কোয়ালিটি জাত: দিনাজপুর, নওগাঁসহ যেসব এলাকায় সরু বা সুগন্ধি ধানের চাষ হয় সেখানে বিআর৫, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৩৭, ব্রি ধান৩৮, ব্রি ধান৭০, ব্রি ধান৭৫ ও ব্রি ধান৮০ চাষ করা যায়।

ব্রি উদ্ভাবিত হাইব্রিড জাত: আমন মওসুমের জন্য ব্রি উদ্ভাবিত জাতগুলো হলো ব্রি হাইব্রিড ধান৪ ও ৬। এ জাতগুলো বন্যামুক্ত এলাকায় রোপা আমনে অনুকূল পরিবেশে চাষযোগ্য। এ জাতগুলোর চাল মাঝারি চিকন, স্বচ্ছ ও সাদা এবং লম্বা, ভাত ঝরঝরে হওয়ায় কৃষকের কাছে পছন্দনীয়।

নতুন উদ্ভাবিত আমনের জাত ব্রি ধান৭১, ব্রি ধান৭২, ব্রি ধান৭৫, ব্রি ধান৭৯, ব্রি ধান৮০ এবং ব্রি ধান৮৭ জাতগুলো চাষ করে প্রতিনিয়ত উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

আবার জীবনকাল অনুসারে জাতগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি, মধ্যমমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি জাত হিসেবে ভাগ করা যায়।
১) দীর্ঘমেয়াদি জাত (জীবনকাল ১৩৫ দিনের বেশি), যেমন- বিআর১০, বিআর১১, ব্রি ধান৩০, ব্রি ধান৪০, ব্রি ধান৪১, ব্রি ধান৪৪, ব্রি ধান৫১।
২) মধ্যমমেয়াদি জাত (জীবনকাল ১২০-১৩৫ দিন), যেমন- বিআর২৫, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৩৭, ব্রি ধান৩৮, ব্রি ধান৩৯, ব্রি ধান৪৯, ব্রি ধান৫২, ব্রি ধান৭০, ব্রি ধান৭২, ব্রি ধান৭৯, ব্রি ধান৮০, ব্রি ধান৮৭।
৩) স্বল্পমেয়াদি জাত (জীবনকাল ১২০ দিনের কম), রবি ফসল এলাকায় স্বল্প মেয়াদি জাত যেমন- ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭, ব্রি ধান৬২, ব্রি ধান৬৬, ব্রি ধান৭১, ব্রি ধান৭৫ চাষ করে সহজেই ধান কাটার পর রবি ফসল করা যাবে।

বীজতলা তৈরি ও বীজ বপনের সময়
উঁচু এবং উর্বর জমিতে বীজতলা তৈরি করতে হবে যেখানে বন্যার পানি ওঠার সম্ভাবনা নেই। যেসব এলাকায় উঁচু জমি নেই সেসব এলাকায় ভাসমান বীজতলা তৈরি করার জন্য পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। দীর্ঘ, মধ্যম ও স্বল্প জীবনকালের জাতের জন্য আলাদা আলাদা স্থান ও সময়ে বীজতলায় বপন করতে হবে। পরিমিত ও মধ্যম মাত্রার উর্বর মাটিতে বীজতলার জন্য কোনো সার প্রয়োগ করতে হয় না। তবে নিম্ন, অতি নিম্ন অথবা অনুর্বর মাটির ক্ষেত্রে গোবর অথবা খামারজাত সার প্রতি শতকে দুই মণ হিসাবে প্রয়োগ করতে হবে। ভালো চারা পাওয়ার জন্য ভালো বীজের বিকল্প নেই। তাই বিএডিসি, স্থানীয় কৃষি বিভাগ বা ব্রি কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে ভালো বীজ সংগ্রহ করে বীজতলায় বপন করতে হবে।

আমন বীজতলায় রোগ ব্যবস্থাপনা
আমন বীজতলায় বাকানি রোগ দেখা দিতে পারে। বাকানি রোগাক্রান্ত ধানের চারা স্বাভাবিক চারার চেয়ে হালকা সবুজ, লিকলিকে ও স্বাভাবিক চারার চেয়ে অনেকটা লম্বা হয়ে অন্য চারার ওপরে ঢলে পড়ে। আক্রান্ত চারাগুলো ক্রমান্বয়ে মারা যায়। আক্রান্ত চারার নিচের গিট থেকে অস্থানিক শিকড়ও দেখা যেতে পারে।

দমন ব্যবস্থাপনা: বাকানি রোগ দমনের জন্য অটিস্টিন ৫০ডব্লিউপি বা নোইন ৫০ডব্লিউপি দ্বারা বীজ অথবা চারা শোধন করা (১ লিটার পানিতে ৩ গ্রাম অটিস্টিন ৫০ডবিøউপি বা নোইন ৫০ডব্লিউপি মিশিয়ে তাতে ধানের বীজ অথবা চারা ১০-১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা)। আক্রান্ত গাছ সংগ্রহ করে পুঁড়িয়ে ফেলতে হবে। বীজতলা হিসেবে একই জমি ব্যবহার না করা।

আমন বীজতলায় পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা
আমন বীজতলায় সাধারনত: থ্রিপস এবং সবুজ পাতা ফড়িং পোকার আক্রমণ দেখা যায়।

দমন ব্যবস্থাপনা: বীজতলায় পানি কিংবা ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগের মাধ্যমে থ্রিপস পোকার আক্রমণের তীব্রতা কমানো যেতে পারে। সবুজ পাতা ফড়িং পোকা দমনের জন্য হাতজাল কিংবা আলোক ফাঁদ ব্যবহার করা যেতে পারে। আক্রমণের তীব্রতা খুব বেশি হলে উভয় পোকার ক্ষেত্রে ক্লোরপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক যেমন ডার্সবান২০ ইসি প্রতি বিঘায় ১৩৪ মিলি লিটার হারে ব্যবহার করা যেতে পারে।

চারা রোপণ: লাইন বা সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো ও বাতাস চলাচলের জন্য উত্তর-দক্ষিণ বরাবর সারি করে লাগালে ভালো। সাধারণত সারি থেকে সারির দূরত্ব ২৫ সে.মি. (৮ ইঞ্চি) ও গুছি থেকে গুছির দূরত্ব ১৫ সে.মি. (৬ ইঞ্চি) রাখলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। তবে জমি উর্বর হলে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২৫ সে.মি. (১০ ইঞ্চি) ও গুছি থেকে গুছির দূরত্ব ১৫ সে.মি. (৬ ইঞ্চি) রাখা যেতে পারে।

চারার বয়স
 আলোক-অসংবেদনশীল দীর্ঘ ও মধ্যমমেয়াদি জাতগুলোর চারার বয়স হবে ২০-২৫ দিন।
 আলোক-অসংবেদনশীল স্বল্পমেয়াদি জাতগুলোর চারার বয়স হবে ১৫-২০ দিন।
 লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাতগুলোর (যেমন: ব্রি ধান৪০, ব্রি ধান৪১, ব্রি ধান৫৩, ব্রি ধান৫৪, ব্রি ধান৭৩) চারার বয়স হবে ৩০-৩৫দিন।
 আলোক-সংবেদনশীল জাতগুলোর (যেমন: বিআর২২, বিআর২৩, ব্রি ধান৪৬, ব্রি ধান৭৬, ব্রি ধান৭৭) নাবীতে রোপণের ক্ষেত্রে চারার বয়স হবে ৩৫-৪০দিন।

রোপণ সময়
 রোপা আমনের আলোক-অসংবেদনশীল দীর্ঘ ও মধ্যমমেয়াদি জাতগুলোর উপযুক্ত রোপণ সময় হচ্ছে ১৫ জুলাই-১৫ আগস্ট। তাছাড়া প্রতিদিন বিলম্বের জন্য ফলন কমে যাবে।
 আলোক-অসংবেদনশীল স্বল্পমেয়াদি জাতগুলোর উপযুক্ত রোপণ সময় হচ্ছে ২৫ জুলাই-২৫ আগস্ট। এই সময়ের আগে লাগালে ইঁদুর ও পাখি আক্রমণ করে।
 আলোক-সংবেদনশীল জাতগুলোর (বিআর২২, বিআর২৩, ব্রি ধান৪৬, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৫৪, নাইজারশাইল) বপন সময় হলো ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এবং রোপণ সময় হচ্ছে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
 সকল সুগদ্ধি এবং স্থানীয় জাত ১-২০ভাদ্র সময়ের মধ্যে রোপণ করতে হবে।

সম্পূরক সেচ
আমন চাষাবাদ পুরোটাই বৃষ্টিনির্ভর। তবে প্রতি বছর সকল স্থানে বৃষ্টিপাত এক রকম হয় না। এমনকি একই বৎসরের একই স্থানে সবসময় সমানভাবে বৃষ্টিপাত হয় না। আমন মওসুমে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০% হয়ে থাকে, যা আমন আবাদের জন্য যথেষ্ট। তবে আমনের বৃষ্টিপাত সময়মতো না হলে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। বৃষ্টিনির্ভর ধানের জমিতে যেকোনো পর্যায়ে সাময়িকভাবে বৃষ্টির অভাবে খরা হলে অবশ্যই সম্পূরক সেচ দিতে হবে। প্রয়োজনে সম্পূরক সেচের সংখ্যা একাধিক হতে পারে। তা না হলে ফলনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই সম্পূরক সেচ নিশ্চিত করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে ১) পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি যাতে বোরো মওসুমের পর পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে তার ব্যবস্থা করা, ২) কৃষকের সেচ খরচে প্রণোদনা দেয়া।

সার ব্যবস্থাপনা
আবহাওয়া ও মাটির উর্বরতার মান যাচাই এবং ধানের জাত, জীবনকাল ও ফলন মাত্রার ওপর ভিত্তি করে সারের মাত্রা ঠিক করা হয়। আলোক-অসংবেদনশীল দীর্ঘ ও মধ্যমমেয়াদি জাতের ক্ষেত্রে বিঘাপ্রতি ইউরিয়া-ডিএপি-এমওপি-জিপসাম যথাক্রমে ২৬-৮-১৪-৯ কেজি হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির শেষ চাষে সমস্ত- ডিএপি-এমওপি- জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সমান ভাগে তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি চারা রোপণের ৭-১০ দিন পর, ২য় কিস্তি চারা রোপণের ২৫-৩০ দিন পর এবং ৩য় কিস্তি কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

আলোক-অসংবেদনশীল স্বল্পমেয়াদি জাতের ক্ষেত্রে বিঘাপ্রতি ইউরিয়া-ডিএপি-এমওপি-জিপসাম যথাক্রমে ২০-৭-১১-৮ কেজি হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির শেষ চাষে ১/৩ অংশ ইউরিয়া এবং সমস্ত ডিএপি/টিএসপি(লাল অংশ বা টিএসপি বাদ)-এমওপি-জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ইউরিয়া সমানভাগে দুই কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর এবং ২য় বা শেষ কিস্তি কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

নাবিতে রোপণকৃত আলোক-সংবেদনশীল জাতের ক্ষেত্রে বিঘাপ্রতি ইউরিয়া-ডিএপি-এমওপি-জিপসাম যথাক্রমে ২৩-৯-১৩-৮ কেজি হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির শেষ চাষে ২/৩ অংশ ইউরিয়া এবং সমস্ত ডিএপি-এমওপি-জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ইউরিয়া কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে। ব্রি ধান৩২ এবং স্বল্প আলোক-সংবেদনশীল সুগন্ধিজাত যেমন- বিআর৫, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৩৭ ও ব্রি ধান৩৮ ধানের ক্ষেত্রে বিঘাপ্রতি ইউরিয়া-ডিএপি/টিএসপি-এমওপি-জিপসাম যথাক্রমে ১২-৭-৮-৬ কেজি হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে।

* ডিএপি সার ব্যবহার করলে সবক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম ব্যবহার করলেই হবে। নাইট্রোজেন (N) ও পটাশিয়ারম (P) উপাদানের মধ্যে অতিপ্রভাব বিদ্যমানের ফলে ধান গাছ মাটি থেকে অধিক পরিমাণ নাইট্রোজেন আহরণের পাশাপাশি পটাশিয়ারম আহরণের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। ফলে ধান গাছের কুশি উৎপাদন, দানার গঠন ও পরিপুষ্টতা ত্বরান্বিত হয়। এতে গাছ শক্ত হয় এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। ফলশ্রুতিতে আমনের ফলন বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

সাশ্রয়ী সার ব্যবহারে কয়েকটি প্রযুক্তি
আমরা জানি, উদ্ভিদের নাইট্রোজেনের অভাব পূরণে জমিতে ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের জৈব সার (যেমন- সবুজ সার, আবর্জনা পচা সার, পচা গোবর), নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যাকটেরিয়াল ইনোকুলাম প্রয়োগ এবং অ্যাজোলার চাষ বাড়ানো যেতে পারে। ব্রি’র তথ্যমতে, দুই সেমি পর্যন্ত পানিযুক্ত কাদামাটিতে গুটি ইউরিয়া ও প্রিল্ড ইউরিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে শতকরা ২৫-৩০ ভাগ ইউরিয়া সাশ্রয় হয়। তবে জোয়ার-ভাটা অঞ্চলে গুটি ইউরিয়ার ব্যবহার করে ভালো ফলন পাওয়া যায়। অন্যদিকে ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি ব্যবহার করলে একই সঙ্গে ইউরিয়া ও ফসফরাসের অভাব পূরণ করা সম্ভব। জিংক সালফেট (মনো বা হেপ্টা) সার ফসফরাস জাতীয় সারের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করা যায় না। এ সমস্যা সমাধানে জিংক সারের সর্বশেষ প্রযুক্তি চিলেটেড জিংক প্রয়োগ করা যেতে পারে। মূল জমিতে ধানের চারা রোপণের ২০-২২ দিন পর প্রথমবার এবং ৪০-৪৫ দিন পর দ্বিতীয়বার ১ লিটার পানিতে ১ গ্রাম লিবরেল জিংক স্প্রে করলে সুফল পাওয়া যাবে। রোপা আমন ধানের জমি তৈরির সময় বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

আগাছা ব্যবস্থাপনা
ধানক্ষেত ৩৫-৪০ দিন পর্যন্ত আগাছামুক্ত রাখতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। হাত দিয়ে, নিড়ানি যন্ত্র দিয়ে এবং আগাছানাশক ব্যবহার করে আগছা দমন করা যায়। রোপা আমন ধানে সর্বোচ্চ দু’বার হাত দিয়ে আগাছা দমন করতে হয়। প্রথম বার ধান রোপণের ১৫ দিন পর এবং পরের বার ৩০-৩৫ দিন পর। নিড়ানি যন্ত্র দিয়ে ধানের দু’সারির মাঝের আগাছা দমন হয় কিন্তু দু’গুছির ফাঁকে যে আগাছা থাকে তা হাত দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়। যান্ত্রিক দমনে অবশ্যই সারিতে ধান রোপণ করতে হবে। আগাছানাশক ব্যবহারে কম পরিশ্রমে ও কম খরচে বেশী পরিমাণ জমির আগাছা দমন করা যায়। প্রি-ইমারজেন্স আগাছানাশক ধান রোপণের ৩-৬ দিনের মধ্যে (আগাছা জন্মানোর আগে) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক ধান রোপণের ৭-২০ দিনের মধ্যে (আগাছা জন্মানোর পর) ব্যবহার করতে হবে। আগাছানাশক প্রয়োগের সময় জমিতে ১-৩ সেন্টিমিটার পানি থাকলে ভালো। আমন মওসুমে আগাছানাশক প্রয়োগের পর সাধারণত হাত নিড়ানির প্রয়োজন হয় না। তবে আগাছার ঘনত্ব যদি বেশি থাকে তবে আগাছানাশক প্রয়োগের ৩০-৪৫ দিন পর হাত নিড়ানি প্রয়োজন হয়।

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা
নিবিড় চাষাবাদ ও আবহাওয়াজনিত কারণে আমনে পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব ও আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। ফলে ক্ষতিকর পোকা দমন এবং ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। এলাকাভেদে আমনের মুখ্য পোকাগুলো হলো- মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুংগি পোকা, সবুজ পাতা ফড়িং, বাদামি গাছ ফড়িং, সাদা পিঠ গাছ ফড়িং, গান্ধি পোকা, শীষকাটা লেদা পোকা ইত্যাদি। পোকার ক্ষতির মাত্রা পোকার প্রজাতি, পোকার সংখ্যা, এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ, জমি বা তার আশেপাশের অবস্থা, ধানের জাত, ধানগাছের বয়স, উপকারী পরভোজী ও পরজীবী পোকামাকড়ের সংখ্যা ইত্যাদির উপর নির্ভরশীল। ধান ক্ষেতে ক্ষতিকারক পোকা দেখা গেলে এর সাথে বন্ধু পোকা, যেমন- মাকড়সা, লেডি-বার্ড বিটল, ক্যারাবিড বিটল সহ অনেক পরজীবী ও পরভোজী পোকামাকড় কী পরিমাণে আছে তা দেখতে হবে এবং শুধুমাত্র প্রয়োজনে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষষণায় দেখা যায় যে, রোপা আমন মওসুমে ধানের চারা রোপনের পর ৩০ দিন কীটনাশক ব্যবহারে বিরত থাকলে যে সমস্ত উপকারী পোকা-মাকড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় সেগুলো ক্ষতিকর পোকার সংখ্যা বৃদ্ধি প্রতিহত করে এবং এর ফলে ক্ষতিকর পোকার অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রার দ্বারপ্রান্তের নিচে থাকে। ফলে সমস্ত মওসুমে পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না কিংবা একবার মাত্র প্রয়োগ করলেই চলে। প্রধান প্রধান ক্ষতিকর পোকা দমন করলে রোপা আমন মওসুমে শতকরা ১৮ ভাগ ফলন বেশি হতে পারে। ধানক্ষেতে ডালপালা পুতে দিয়ে মাজরা পোকা ও পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ অনেকাংশে কমানো যায়। আলোক ফাঁদ/সোলার লাইট ট্রাপের সাহায্যে মাজরা পোকা ও পাতা মোড়ানো পোকা, সবুজ পাতা ফড়িং ও গান্ধি পোকার আক্রমণ কমানো যায়। জমি থেকে পানি বের করে দিয়ে চুংগি পোকা, বাদামি গাছ ফড়িং এবং সাদা পিঠ গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণ কমানো যায়।

উল্লিখিত ব্যবস্থা গ্রহণের পরও পোকার আক্রমণ বেশি পরিলক্ষিত হলে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা ও চুংগি পোকা দমনের জন্য কার্টাপ গ্রুপের যেমন- সানটাপ ৫০পাউডার প্রতি বিঘায় ১৮০-১৯০ গ্রাম হারে অথবা যে কোন অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। মাজরা পোকা ও পাতা মোড়ানো পোকা দমনের জন্য ভিরতাকো ৪০ ডব্লিউজি প্রতি বিঘায় ১০ গ্রাম হারে ব্যবহার করতে হবে। বাদামি গাছ ফড়িং ও সাদা পিঠ গাছ ফড়িং দমনের জন্য মিপসিন ৭৫পাউডার প্রতি বিঘায় ১৭৫ গ্রাম, পাইমেট্রোজিন ৪০ডব্লিউজি ৬৭গ্রাম, ডার্সবান ২০ইসি ১৩৪ মিলি হারে ব্যবহার করতে হবে। পাতা মোড়ানো পোকা, চুংগি পোকা ও শীষকাটা লেদা পোকা দমনের জন্য কার্বারিল ৮৫পাউডার অথবা সেভিন পাউডার প্রতি বিঘায় ২২৮ গ্রাম হারে ব্যবহার করতে হবে।

রোগ ব্যবস্থাপনা
আমন মওসুমে ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া, খোলপোড়া ব্লাস্ট, বাদামি দাগ, খোল পচা, টুংরো, বাকানি, এবং লক্ষ্মীরগু সচরাচর দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ রোগগুলো হলো খোলপোড়া, ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া, ব্লাস্ট, টুংরো, বাকানি এবং লক্ষীরগু রোগ। খোলপোড়া রোগ দমনের জন্য পটাশ সার সমান দুই কিস্তিতে ভাগ করে এক ভাগ জমি তৈরির শেষ চাষে এবং অন্য ভাগ শেষ কিস্তি ইউরিয়া সারের সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে ভেজা ও শুকনা পদ্ধতিতে সেচ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া ফলিকুর, নেটিভো, এবং স্কোর ইত্যাদি ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় প্রয়োগ করে সফলভাবে দমন করা যায়।

ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতাপোড়া রোগের প্রাথমিক অবস্থায় ৬০ গ্রাম এমওপি, ৬০ গ্রাম থিওভিট ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। থোড় বের হওয়ার আগে রোগ দেখা দিলে বিঘা প্রতি ৫ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

এ মওসুমে সকল সুগন্ধি ধানে নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ধানে থোড় আসার শেষ পর্যায় অথবা শীষের মাথা অল্প একটু বের হওয়ার সাথে সাথে প্রতিরোধমূলক ছত্রাকনাশক যেমন ট্রুপার অথবা নেটিভো ইত্যাদি অনুমোদিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। বিক্ষিপ্তভাবে দু-একটি গাছে টুংরো রোগের লক্ষণ দেখা দিলে, আক্রান্ত গাছ তুলে পুঁতে ফেলতে হবে। রোগের বাহক পোকা সবুজ পাতা ফড়িং উপস্থিতি থাকলে, হাতজালের সাহায্যে অথবা আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে সবুজ পাতা ফড়িং মেরে ফেলতে হবে। হাত জালের প্রতি টানে যদি একটি সবুজ পাতা ফড়িং পাওয়া যায় তাহলে বীজতলায় বা জমিতে কীটনাশক, যেমন মিপসিন, সপসিন এবং সেভিন অনুমোদিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। লক্ষীর গু দমনের জন্য (বিশেষ করে ব্রি ধান৪৯ জাতে) ফুল আসা পর্যায়ে বিকাল বেলা প্রোপিকোনাজল গ্রæপের ছত্রাকনাশক যেমন: টিল্ট (১৩২ গ্রাম/বিঘা) সাত দিন ব্যবধানে দুই বার প্রয়োগ করা।

ফসল কাটা, মাড়াই ও সংরক্ষণ
শীষে ধান পেকে গেলেই ফসল কাটতে হবে। অধিক পাকা অবস্থায় ফসল কাটলে অনেক ধান ঝড়ে পড়ে, শীষ ভেঙে যায়, শীষকাটা লেদাপোকা এবং পাখির আক্রমণ হতে পারে। তাই মাঠে গিয়ে ফসল পাকা পরীক্ষা করতে হবে। শীষের অগ্রভাগের শতকরা ৮০ ভাগ ধানের চাল শক্ত হলে ধান ঠিকমতো পেকেছে বলে বিবেচিত হবে। এ সময়ে ফসল কেটে মাঠেই বা উঠানে এনে মাড়াই করতে হবে। তাড়াতাড়ি মাড়াইয়ের জন্য ব্রি উদ্ভাবিত মাড়াই যন্ত্র যেমন- রিপার, হেড ফিড কম্বাইন হার্ভেস্টার ও মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহার করতে হবে। ধান মাড়াই করার জন্য পরিচ্ছন্ন জায়গা বেছে নিতে হবে। কাঁচা খলায় সরাসরি ধান মাড়াই করার সময় চাটাই, চট বা পলিথিন বিছিয়ে নেয়া উচিত। এভাবে ধান মাড়াই করলে ধানের রঙ উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকে। মাড়াই করার পর অন্তত ৪-৫ বার রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। ভালোভাবে শুকানোর পর ঝেড়ে নিয়ে গোলাজাত বা সংরক্ষণ করতে হবে।

ধানের বীজ সংরক্ষণ
ভালো ফলন পেতে হলে ভালো বীজের প্রয়োজন। আমন মওসুমে নিজের বীজ নিজে রেখে ব্যবহার করাই উত্তম। এ কথা মনে রেখেই কৃষক ভাইদের ঠিক করতে হবে কোনো জমির ধান বীজ হিসেবে রাখবেন। যে জমির ধান ভালোভাব পেকেছে, রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়নি এবং আগাছামুক্ত সে জমির ধান বীজ হিসেবে রাখতে হবে। ধান কাটার আগেই বিজাতীয় গাছ সরিয়ে ফেলতে হবে। মনে রাখতে হবে গাছের আকার-আকৃতি ও রঙ, ফুল ফোটার সময় ও শীষের ধরন, ধানের আকার আকৃতি, রঙ ও শুঙ এবং সর্বশেষ ধান পাকার সময় আগে-পিছে হলেই তা বিজাতীয় গাছ। সকল রোগাক্রান্ত গাছ অপসারণ করতে হবে। এরপর বীজ হিসেবে ফসল কেটে এবং আলাদা মাড়াই, ঝাড়াই, বাছাই করে ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে মজুদ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

বাড়ছে ধানের দাম, প্রভাব চালের বাজারেও

ধানের দাম বেড়েছে সারাদেশেই। এক সপ্তাহ আগে বাজারে ধানের যে দাম ছিল তা থেকে এখন প্রতি মণে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার, মিলার, বেপারী ও মজুদদাররা একসঙ্গে ধান কিনতে বাজারে নেমেছে। তাছাড়া করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে অনেকে ধান বিক্রি করছে না। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সামনে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আমনের আবাদ ঠিক মতো করতে না পারলে নিজেদের খাওয়ার ধানও থাকবে না। এ কারণে এখনই ধান বিক্রি করতে চাইছেন না তারা। ফলে ভর মৌসুমে বাজারে যে পরিমাণ ধান ওঠার কথা সে পরিমাণ ওঠেনি। সেজন্য বাজারে ধানের যোগানের চাইতে ক্রেতা বেশি। এ কারণে বাড়ছে ধানের দাম।

আর ধানের দাম বাড়ার বিষয়টিকে দেখিয়ে কুষ্টিয়া, নওগাঁ, দিনাজপুর ও শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মিল গেটে চিকন থেকে মোটা ও মাঝারি—সব ধরনের চালের দাম বেড়ে গেছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে। মিল মালিকরা বলছেন, ধানের দামের সঙ্গে সমন্বয় করেই বাড়ছে চালের দাম।

খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর জুনে যে চালের কেজি ছিল ৩২ থেকে ৩৩ টাকা, সেই চাল এ বছরে একই সময়ে ৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত দুই বছরের মধ্যে এবারই চালের দাম সবচেয়ে বেশি।

চাল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, আমন মৌসুমের আগ পর্যন্ত চালের বাজারে দাম বাড়তেই থাকবে।  পরিস্থিতির কারণে বাইরে থেকে সহজেই চাল আমদানি করা যাবে না মনে করে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও আড়তদার ধান-চাল মজুত করছেন।

মিল মালিক, কৃষক ও খাদ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজানের মধ্যে সারাদেশে পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়। মিলগুলোতে নতুন ধান আসায় চালের দাম ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ঈদের আগ পর্যন্ত মিনিকেট, কাজললতা, বাসমতি, আঠাশ ও মোটা জাতের চালের দাম কেজিতে মিল গেটে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত কমে যায়। তবে ঈদের পরের চিত্র একেবারে আলাদা। ঈদের পর থেকে প্রতিনিয়ত বাড়ছে চালের দাম।

বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার চরপাড়া গ্রামের কৃষক আকিমুদ্দিন শেখ জাগো নিউজকে বলেন, আমি এবং আমার গ্রামের অনেক কৃষকই ধান বিক্রি করছি না। কারণ সামনে বন্যার বিষয় আছে। আমন ধান কতটুকু করতে পারবো এটা অনিশ্চিত। তাছাড়া জানতে পারলাম এবার নাকি সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে পারবে না। যদি চাল আমদানি না হয় তাহলের চালের দাম আরও বাড়বে। আজ কম দামে ধান বিক্রি করলে তখন আবার বেশি দামে চাল কেনা লাগবে।

একই গ্রামের চাল ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান বলেন, এখন ভরা মৌসুম ধানের। বাজারে অনেক ধান ওঠার কথা। কিন্তু তুলনামূলক ধান অনেক কম উঠছে। প্রতি বছর এই সময় বাজারে অনেক ধান থাকে। এ বছর কেন এমন হলো তা বুঝতে পারছি না। তবে এবার বাজারের চেয়ে ফড়িয়ারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে ধান কিনছে বেশি। যেহেতু ধানের দাম বেশি সে কারণে যারা ধান বিক্রি করছে তারা ঘরে থেকেই বিক্রি করছে।

শেরপুরের যমুনা সেমি অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আইয়ুব আলী জাগো নিউজকে বলেন, সব জাতের ধানের দাম মণপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে আঠাশ, কাজললতা ও মিনিকেট (সরু) জাতের ধানের দাম এখন অনেক বেশি। যে ধান গত বছর এই সময়ে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ ছিল এখন তা হাজারে ঠেকেছে। পাশাপাশি সরু ধান গত বছর এই সময়ে ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও এখন এক হাজার ১০০ টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে। ধানের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, মোকামে আঠাশ জাতের ধানের মণ এখন হাজার টাকা, উনত্রিশ জাতের ধান ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, কাজললতা ৯০০ থেকে ৯৫০টাকা, কাটারী ভোগ ১১০০ টাকা, মিনিকেট প্রতি মণ ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার পৌর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, ঈদের আগের তুলনায় এখন বাজার চড়া। করোনার কারণে বাইরে থেকে চাল আনা সহজ হবে না—এমনটা আঁচ করতে পেরে সুযোগ সন্ধানীরা এবার প্রচুর ধান ও চাল কিনে মজুত করেছে। যেন সময় বুঝে তা বাজারে ছেড়ে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায়।

তিনি বলেন, যে মিনিকেট চাল ঈদের আগে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা ছিল, তা এখন ৫০ টাকা, আঠাশ ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬ টাকা, কাজললতাও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি যে মোটা চাল ৩০ টাকা ছিল, তার দামও বেড়ে গিয়ে এখন ৪০ টাকায় ঠেকেছে।

ধান ও চালের দাম বাড়ার বিষয়ে বাংলাদেশ অটো রাইস মিলস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, চালের দাম বাড়ার জন্য কোনো সিন্ডিকেট প্রয়োজন হয় না। সিন্ডিকেট করে কোনো মিলার চাইলেও দাম বাড়াতে পারে না। এখন প্রতিযোগিতার সময়। সারাদেশেই ধানের দাম বেশি। ধানের বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চালের বাজারদর বাড়ছে। দেশে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ১৫ ভাগ ধান নষ্ট হলেও ফলন ভালো হয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজারে ধান ও চালের সংকট হবে না। তবে দামের হেরফের হবে। কৃষকরা ধানের ভালো দাম পাচ্ছেন। ধানের দাম আরও বাড়তে পারে। ধানের দাম বাড়লে সামনে চালের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ধান ও চালের বাজার নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ অটো রাইস মিলস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি (দিনাজপুর) শহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহনের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সরকার, মিল মালিক ও মজুদদাররা এক সঙ্গে ধান কিনছে। সরকার যে রেট দিয়েছে তার চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি। যে কারণে সরকার এখন আর ধান কিনতে পারছে না। ধান কেনার জন্য সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে এখন পর্যন্ত তার ১০ ভাগ ধান কেনা সম্ভব হয়নি। রোদ ভালো হওয়ায় কৃষক ধান শুকিয়ে গোলায় ভরছে। আগামী সাতদিন যদি রোদ এমন কড়া থাকে তাহলে ধানের দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহ নেই কৃষকদের

চুয়াডাঙ্গায় সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর সমন্বয়ের অভাবে কৃষকরা খাদ্য গুদামে ধান এবং মিলাররা চাল দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ধান-চাল ক্রয়ের এক মাসের বেশি সময় পার হলেও মাত্র ৫৭ মেট্রিক টন ধান ও ১০৯৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ হয়েছে। জীবননগর উপজেলা থেকে এখনও লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকের কাছ থেকে কোনো ধান সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।

কৃষকরা জানান, গুদামে ধান নিয়ে গেলে বলা হয় ভেজা। টাকার জন্য ঘুরতে হয় বেশ কয়েক দিন। সঙ্গে গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচ লাগে। খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ এছাড়াও নানা অজুহাত দেখায়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে চুয়াডাঙ্গায় সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে ৫ হাজার ৩১০ জন নির্বাচিত কৃষকের কাছ থেকে ৫ হাজার ৩১০ মেট্রিক টন ধান ও ১৯৭ জন মিলারের কাছ ৭ হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন চাল সরকারিভাবে ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সরকারিভাবে ধান কেনা হচ্ছে প্রতি কেজি ২৬ টাকা ও চাল ৩৬ টাকা দরে। চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলার ৫টি খাদ্য গুদাম থেকে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও মিলারদের কাছ থেকে চাল কেনার জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে।

জীবননগর উপজেলা থেকে এখনও সরকারিভাবে কোনো ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। কিন্তু এক মাস ১০ দিন পার হলেও সরকারিভাবে সামান্য পরিমাণে ধান-চাল সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৫৭ মেট্রিক টন ও চাল সংগ্রহ হয়েছে ১০৯৯ মেট্রিক টন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস চারটি উপজেলার ৫টি গুদামে (চুয়াডাঙ্গা সদর, সরোজগঞ্জ, দর্শনা, জীবননগর ও আলমডাঙ্গা) সরকারিভাবে বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ করছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থেকে ৬০৫ মেট্রিক টন, সরোজগঞ্জ থেকে ৪০৩, দর্শনা থেকে ১৪২৮, জীবননগর থেকে ১০২৯ ও আলমডাঙ্গা থেকে ১৮৪৫ মেট্রিক টন করে ধান কেনা হবে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদরে ৪ মেট্রিক টন, সরোজগঞ্জে ১, দর্শনায় ৫০, জীবননগরে শূন্য ও আলমডাঙ্গায় ২ মেট্রিক টন করে ধান সংগ্রহ করতে পেরেছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস।

সরকারিভাবে জীবননগর থেকে ১০২৮ মেট্রিক টন ধান কেনার কথা থাকলেও খাদ্য বিভাগ এখনও কোনো ধান কিনতে পারেনি। জেলার ১৯৭ জন মিলারের কাছ থেকে ৭ হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৯ মেট্রিক টন চাল কেনা সম্ভব হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদরে প্রায় ২০ মেট্রিক টন, সরোজগঞ্জে শূন্য, দর্শনায় ৩৫, জীবননগরে ৯২৮ ও আলমডাঙ্গায় ১১৬ মেট্রিক টন করে চাল ক্রয় করতে পেরেছে খাদ্য বিভাগ। কিন্তু সরোজগঞ্জে ৫৯৫ মেটিক টন চাল কেনার কথা থাকলেও কোনো চাল কিনতে পারেনি।

চালকল মালিকরা বলছেন, ৭ হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন চাল দিতে হলে তাদের লোকসান হবে প্রায় চার কোটি টাকা। কারণ ভেজা ধান প্রতি মণ ১০২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। প্রতি কেজি চালের দাম পড়ছে ৪১-৪২ টাকা। প্রতি কেজি চালে মিলারদের লোকসান গুনতে হবে ৫-৬ টাকা।

অপরদিকে কৃষকরা বলছেন, সরকারিভাবে ধানের দাম প্রতি কেজি ২৬ টাকা হওয়ায় ধান বিক্রিতে তেমন আগ্রহ নেই। গাড়ি ভাড়া দিয়ে সরকারি গুদামে ধান নিলে লোকসান হয়। এছাড়াও কৃষকদের নানা হয়রানি ও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়।

দামুড়হুদার কৃষক হান্নান আলী বলেন, সরকারিভাবে ধানের দাম অনেক কম হওয়ায় গ্রামে বিক্রি করেছি বেশি দামে। ধান নিয়ে গাড়ি ভাড়া দিয়ে দর্শনা যেতে হত। সেখানে নানা টালবাহানা করে। বলে ধান ভেজা শুকিয়ে নিয়ে আসতে হবে। দিন কামায় যায়। টাকা তুলতে ব্যাংকে ঘুরতে হয়। এ সব ভোগান্তির কারণে গুদামে ধান বিক্রি করি না।

দামুড়হুদা উপজেলার নাপিতখালী গ্রামের কৃষক ফকির মোহাম্মদ জানান, গুদামের লোকজন ধান নিয়ে গেলে মেশিন দিয়ে মেপে বলে- তোমার ধান ভেজা আছে। বিক্রি করতে হলে মণে কয়েক কেজি দিতে হবে না হলে শুকিয়ে নিয়ে এসো। গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে গাড়ি ভাড়া দিতে হয় ৫শ টাকা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল ইসলাম বলেন, বাইরে ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা সরকারি গুদামে দিচ্ছে না। ব্যাংকে কৃষকদের ঘোরাঘুরি করতে হয়। হাটে-আড়তে ধান বিক্রি করলে ধান ভেজা আছে এ সমস্যায় পড়তে হয় না। কিন্তু আমরা ভেজা থাকলে ধান কিনি না। বাইরের বাজারে ধান ও চালের দাম বেশি হওয়ায় সরকারিভাবে সংগ্রহ তেমন একটা নেই। কৃষক ও মিলারদের সরকারি খাদ্য গুদামে চাল-ধান দিলে সমস্যায় পড়তে হয় বলে তিনি স্বীকার করেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ শেখ বলেন, খাটো বাবু ধান ১০২০ টাকা দরে কিনেছি। ধান ভেজা আছে। সরকারিভাবে দাম পাব ৩৬ টাকা। এখন প্রতি কেজি চাল তৈরি করতে খরচ হচ্ছে ৪১-৪২ টাকা। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আমরা চুক্তি করেছি তাই নিয়ম মেনে চাল দেব। কিছু দিন বাড়তি সময় দিলে চাল দিতে পারবো। চার কোটি টাকা লোকসান হবে ৩৬ টাকা কেজি দরে চাল দিলে। কর্তৃপক্ষকে বলেছি দুই টাকা বাড়তি দিলে চাল দেয়ার চেষ্টা করবো। চালে লোকসানের সময় কাউকে পাশে দেখছি না, কিন্তু সুসময়ে অনেককেই দেখা যায়। এত টাকা লোকসান দিয়ে চাল দিতে হলে অনেকের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। এ পর্যন্ত গুদামে ১০৯৯ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করেছি আমরা।

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, চাল পেয়ে যাব, কিন্তু ধানের ব্যাপারে সমস্যা রয়েছে। বাজারে দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা খাদ্য গুদামে আসতে চায় না। চেষ্টা করছি ধান ও চাল কেনার জন্য। হাতে দেড় মাসের মত সময় আছে এখনও। সমস্যগুলো সমাধান করার চেষ্টা করছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

আদা চাষে করণীয়

মসলা হিসেবে আদার গুরুত্ব কম নয়। মসলা ছাড়াও বিভিন্ন রোগ-ব্যধিতে দারুণ উপকারে আসে এটি। কারণ আদায় ক্যালসিয়াম ও প্রচুর ক্যারোটিন থাকে। এছাড়া আদা চাষ করা যায় সহজেই। আসুন জেনে নেই নিয়ম-কানুন-

মাটি
পানি নিকাশের সুব্যবস্থা আছে এমন উঁচু বেলে-দো-আঁশ ও বেলে মাটি আদা চাষের জন্য উপযোগী।

বীজ
ফাল্গুন থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত লাগানো যায়। সাধারণত ১২-১৫ গ্রাম ওজনের ১-২টি কুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ লাগানো হয়। ৪০-৪৫ সেন্টিমিটার পর পর সারি করে ২০ সেন্টিমিটার দূরে ৫ সেন্টিমিটার গভীরে আদা লাগানো হয়। কন্দ লাগানোর পর ভেলি করে দিতে হয়। প্রতি হেক্টরে ১০০০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

সার
প্রতি হেক্টরে গোবর সার ৪-৬ টন, ইউরিয়া ২০০-২৪০ কেজি, টিএসপি ১৭০-১৯০ কেজি, এমওপি ১৬০-১৮০ কেজি দিতে হয়। জমি প্রস্তুতির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি ও ৮০-৯০ কেজি এমওপি সার দিতে হয়। কন্দ লাগানোর ৫০ দিন পর ১০০-১২০ কেজি হারে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা হয়। লাগানোর ৯০ দিন ও ১২০ দিন পর যথাক্রমে ২য় ও ৩য় কিস্তির সার উপরি প্রয়োগ করা হয়। ভেলা সামান্য কুপিয়ে ১ম কিস্তির সার প্রয়োগ করে আবার ভেলা করে দিতে হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তির উপরি প্রয়োগের সময় প্রতি হেক্টরে প্রতিবারে ৫০-৬০ কেজি ইউরিয়া ও ৪০-৪৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তির সার সারির মাঝে প্রয়োগ করে মাটি কোঁদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে সামান্য পরিমাণ মাটি ভেলিতে দিতে হয়।

রোগ
পিথিয়াম এফানিডারমেটাম নামক ছত্রাকের কারণে রাইজম রট নামক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে আদা বড় হতে পারে না এবং গাছ দ্রুত মরে যায়। ভেজা ও স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় এ রোগ বেশি হয়। বর্ষাকাল বা জলাবদ্ধতা থাকলে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়।

ব্যবস্থপনা
আদা লাগানোর ২১ দিন আগে মুরগীর অর্ধপচা বিষ্ঠা প্রতি হেক্টরে ১০ টন হারে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া মাটি হালকা কুপিয়ে ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।

সংগ্রহ
আদা লাগানোর ৯-১০ মাস পর উঠানোর উপযোগী হয়। গাছের প্রায় সব পাতা শুকিয়ে গেলে আদা তোলা হয়। ফলন প্রতি হেক্টরে ১২-১৩ টন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com