আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজ: দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য এক মাস সময় চান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

পেঁয়াজ
পেঁয়াজ

‘একমাস সময় পেলেই’ বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং পেঁয়াজের দামের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া সম্ভব, বললেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলন করে একথা বলেন মি. মুনশি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন যেই পরিমাণ পেঁয়াজের মজুদ আছে সেই হিসেবে একমাস সময় পেলে ‘বিকল্প’ বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজারে চাহিদা-যোগানের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

“এক মাস সময় পেলেই মিয়ানমার, তুরস্ক, মিশর, চীন এমনকি নেদারল্যান্ডস বা নিউজিল্যান্ড থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করা সম্ভব”।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সুযোগ নেয়ায় এবং সাধারণ ক্রেতারা ‘প্যানিক বায়িং’ করায় পেঁয়াজের বাজারে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হয় তার সিংহভাগই আসে সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত। সে কারণে এই সময়েই সাধারণত বাজারে ভারসাম্যের ব্যাঘাত ঘটে। বছরের শুরুর দিকে দেশীয় পেঁয়াজের যোগান অব্যাহত থাকা থাকায় বাজারে ভারসাম্য থাকে।

এ বছর বর্ষায় অপেক্ষাকৃত বেশি বৃষ্টিপাতের কারণেও কিছুদিন পেঁয়াজের দাম উর্ধ্বমুখী ছিল বলে মন্তব্য করেন মি. মুনশি।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে পেঁয়াজের ঘাটতির ৮০ থেকে ৯০ ভাগই আসে ভারত থেকে।

তাই ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারের ভারসাম্য স্বাভাবিকভাবেই ব্যাহত হয়।

দেশের বাজারের ঘাটতি মেটাতে আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন মি. মুনশি।

তিনি বলেন, “গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে ভারত রপ্তানি বন্ধ করার সাথে সাথেই আমরা বিকল্প বাজার খোঁজার চেষ্টা করছি। একমাস সময় পেলেই আমরা বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবো।”

গত বছরও ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়।

সে সময় পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও পেঁয়াজের দাম সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় পর্যায়ে আসতে বেশ সময় নিয়েছিল।

গত বছর সেপ্টেম্বরের ২৯ তারিখে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার পর বেসরকারি আমদানিকারকদের পাশাপাশি নিজেরাও পেঁয়াজ আমদানি করে সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছিল সরকার।

কিন্তু তারপরেও ৩০ টাকা কেজি পেঁয়াজের দাম ক্রমশই বাড়ছিল।

এক পর্যায়ে অক্টোবরের শুরুর দিকে টিপু মুনশি বলেছিলেন, ‘দু-একদিনের মধ্যে’ পেঁয়াজের দাম নেমে আসবে।

তার এই আশ্বাসেও কাজ হয়নি বরং তার পরেই পেঁয়াজের কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়েছিলো এবং এক পর্যায়ে ৩০০ টাকা ছুঁয়ে ফেলেছিলো।

এবারের সঙ্কট যে কারণে:

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার পর বাংলাদেশে একদিনেই পেঁয়াজের দাম এক তৃতীয়াংশ বেড়ে গেছে।

সোমবার ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও মঙ্গলবার বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে।

দিল্লিতে বিবিসির সংবাদদাতারা বলছেন, ভারী বর্ষণে পেঁয়াজের চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য বৃদ্ধি আর রাজনৈতিক বিবেচনায় ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে বাংলাদেশের ক্রেতারা ভয় পাচ্ছেন, পরিস্থিতি সামাল দেয়া না গেলে গত বছরের মতো এবারও পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

খুলনায় বাড়ির ছাদে ফুল-ফল-সবজির বাগান

খুলনা: সকাল থেকে রোদ মেঘের খেলা। মাঝে মধ্যে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। বৈশাখের বৃষ্টির ফোটাগুলো বেশ করে গায়ে মাখলো কাগজি ও বাতাবি লেবু। বিন্দু বিন্দু জলের কণায় দুলে দুলে উঠলো তাদের শরীর। এ সৌন্দর্যে বুঁদ হয়ে থাকবে যে কেউ।

খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে অবস্থিত খুলনা কর অঞ্চলের কর কমিশনার প্রশান্ত কুমার রায়ের বহুতল ভবনের ছাদ বাগানে এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশের দেখা মেলে। এ বাগানে শুধু কাগজি ও বাতাবি লেবু নয় রয়েছে ঢেড়শ, ডাটা, উচ্ছেসহ নানা রকম সবজি ও বাহারি ফুল।

কর কমিশনার প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, বাড়ির ছাদে বাগান করার শখ আমার অনেক দিনের। পরিবারের সদস্যদের বিষমুক্ত খাদ্যর যোগান দিতে এ বাগান তৈরি করা। ছাদ বাগানে কাগজি লেবু,বাতাবি লেবু আর ঢেড়শসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের গাছ রয়েছে। আমি কৃষক পরিবারের ছেলে। তারপর লেখাপড়া করেছি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কৃষি আমার রক্তে, শিরা উপশিরায়। শখ থেকে বর্তমানে পরিবারের পুষ্টির যোগানও হচ্ছে এই বাগান থেকে।
ভবনের ছাদে ব্যতিক্রমী এ বাগানে প্রচন্ড এ গীষ্মের তাপদহে কোনো গাছে ধরে আছে ফুল, আর কোনো গাছে ধরে আছে বিভিন্ন প্রজাতির ফল। তার বাগান জুড়ে থাকা ফলের হাসি শুধু তাকেই অনুপ্রাণিত করেনি, অনুপ্রাণিত করেছে এলাকার সব শ্রেণিপেশার মানুষকে।

খুলনা মহানগরীর রায়ের মহল এলাকার রায়ের মহল কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শেখ শামসুদ্দীন দোহা। তার বাড়ির ছাদ বাগানে রয়েছে আম, তরমুজ, বেদানা, ডালিম, কাগজি ও বাতাবি লেবুর গাছ। এছাড়া রয়েছে মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন শাক সবজি ও বাহারি সব ফুল গাছ।
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ছুটির দিন ছাড়াও সময় পেলেই বাগানের পরিচর্যা করি। ১৭শ’ বর্গ ফুটের ছাদ বাগানে প্রায় সব ধরনের শাক সবজি আছে। যা দিয়ে পরিবারের চাহিদা মিটে যায়।

মহানগরীর গোবরচাকা মেইন রোডে ভাড়া বাসায় থেকে ছাদ বাগান গড়ে তুলেছেন সাংবাদিক হেদায়েত হোসেন মোল্লা। তার ছাদ বাগানে রয়েছে, কমলা, মাল্টা, থাই পেয়ারা, কাগজি লেবু, গ্রীষ্মকালীন টমেটো, আছে সরিষা ফুল, বেলী, নীল কণ্ঠমনি,পুদিনাসহ ড্রাগন ও মসলা গাছ।
হেদায়েত হোসেন মোল্লা বলেন, শখ থেকে ছাদে বাগান গড়ে তুলেছি। কাজের ফাঁকে সময় করে বাগান পরিচর্যা করি। আমার এ বাগানে ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছসহ প্রায় ৪৫ প্রজাতির গাছ রয়েছে।

এছাড়া ২০১৫ সাল থেকে খুলনা মহানগরীর নিরালার ৬ নম্বরে রোডের ৬৬ নম্বর বাসভবনের ছাদে শখের বাগান গড়ে পরিচিতি পেয়েছেন মুর্শিদা আক্তার রনি। তিনি খুলনার মাছ ব্যবসায়ী জব্বার মোল্লার স্ত্রী।
মুর্শিদার বাগানে রয়েছে, কলা, লেবু, আতা, পেঁপে, সফেদা, পেয়ারা, ড্রাগনসহ বেশকিছু ফলের গাছ। প্রতিদিনের সবজির জন্য বাগনে রয়েছে লাউ, বেগুন, পটল, উচ্ছে আর ঝিঙ্গা। আরও আছে, আদা, অ্যালোভেরা, পুদিনাসহ বেশকিছু দেশি-বিদেশি প্রজাতির গাছ।

খুলনা মহানগরীতে এদের মতো অনেকেই শখের বসে ছাদ বাগান গড়ে তুলছেন। এসব বাগানে রয়েছে ফুলের মধ্যে- গোলাপ, গাঁদা, ডালিয়া, বেলী, রজনীগন্ধা, নয়নতারা, অফিস ফুল, চন্দ মল্লিকা, জারবেরা, অর্কিড, ক্যাকটাস, রঙ্গল, বিভিন্ন ধরনের বাহারি গাছ। ফলের মধ্যে- আম, পেয়ারা, আমড়া, লেবু, কুল, জামরুল, কমলা, স্ট্রবেরি, ডালিম, মাল্টা, করমচা, বাতাবি লেবু, সফেদা, আঙ্গুর, জামরুল, কামরাঙ্গা ইত্যাদি। শাকসবজির মধ্যে-টমেটো, শিম, কপি, বেগুন, ঝিঙ্গা, মরিচ, কলমী শাক, পুঁই শাক, লেটুস, বাটি শাক, করলা, বরবটি, শশা, ধুন্দল, বিলাতি ধনে ইত্যাদি।
অন্যদিকে যারা ভাড়া বাসায় থাকেন অথবা একটি ফ্লাটের মালিক, ছাদে বাগান করার সুযোগ নেই তারা তাদের বেলকনিতেই ক্ষুদ্র পরিসরে সুন্দর বাগান গড়ে তুলেছেন। করোনার কারণে সৃষ্ট এই পরিস্থিতিতে ঘরে বসে থাকা সময়টুকু অনেকেই ছাদ বাগানের পরিচর্যার কাজে ব্যয় করছেন। আবার অনেকে ছাদ বাগান থেকে পরিবারের ফল ও শাক সবজির যথা সমান্য যোগানের চেষ্টা করছেন।



খুলনা মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন ফেরদৌস বাংলানিউজকে বলেন, খুলনায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ছাদ বাগান। খুলনা মহানগরীতে ৩৮০টি ছাদ বাগান রয়েছে। নগরীর বাসা-বাড়ির অসংখ্য ছাদ ভরে উঠছে ফুল, ফল ও সবজির বাগানে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বিপণন সংকটে পথে বসার আশঙ্কা ২শ কলাচাষির

মধুপুর(টাঙ্গাইল): দেশের অন্যতম কলা চাষের এলাকা টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলের হাজার হাজার একর বাগানের কলা গাছেই পেকে যাচ্ছে। করোনার প্রভাবে বিপণন সংকটে দুই শতাধিক চাষি কলার ছড়ি গাছ থেকে কাটতে সাহস পাচ্ছেন না।

দেশের বিভিন্ন স্থানের যে সব পাইকাররা অগ্রিম দর নির্ধারণে চুক্তি করেছিলেন তারাও বাজারে চাহিদা না থাকায় চাষিদের কাছ থেকে কলা নিয়ে ঝুঁকিতে যেতে চাচ্ছেন না। ফলে মধুপুর গড়াঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার একর (৪ হাজার হেক্টর) জমির কলা গাছের ছড়িতেই পেকে হলুদ হয়ে যাচ্ছে।

এতে কৃষকরা কোটি কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, গড়াঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার একর (৪ হাজার হেক্টর) জমিতে সাগর ও কবরি জাতের কলা চাষ হয়েছে। এই কলা চাষে সার ও কীটনাশকসহ অনেক টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে কলা কাটার সময় হয়েছে। মোটামুটি লাভসহ খরচ তুলতে ছড়া প্রতি গড়ে ২৫০-৩৫০ টাকা করে বিক্রি করতে হবে। এমন দামেই বিক্রি হয় কলা। তবে এবার করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এখন এ কলা বাজারজাত করতে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে চাষিদের।

মধুপুরের কলাচাষি আনিছুর রহমান হীরা। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি একটি প্রাইভেট ব্যাংক থেকে ৫০ লাখ টাকা কৃষিঋণ নিয়ে বনাঞ্চলের ৫০ একর জমিতে কলা চাষ করেছেন। কলা চাষ করতে গিয়ে তিনি আরও ৪০ লাখ টাকা বাকিতে সার ও কীটনাশক নিয়ে কলা বাগানে ব্যবহার করেছেন। গাছ থেকে কলা কাটার ভরা মৌসুম আসন্ন। ৩৪০ টাকা (ছড়ি) দরে পাইকারের কাছ থেকে তিনি ইতোমধ্যে অগ্রিম টাকা নিয়েছেন। এরই মধ্যে কলা বাগানেই পাকতে শুরু করেছে। এখন পাইকার কলা নিচ্ছেন না। তার ভাষ্য মতে, কম করে হলেও তিনি দেড় কোটি টাকার কলা বিক্রি করতেন। কিন্তু করোনার প্রভাবে কলার চাহিদা একেবারেই নেই।  

তিনি আরও জানান, তার লেয়ার মুরগির খামার রয়েছে, এই মুরগি চাষেও ধস নেমেছে। কি পরিমাণ লোকসান যে হবে এবং বাকি ও ব্যাংক লোন কিভাবে শোধ করবেন এ নিয়ে তিনি খুবই চিন্তায় আছেন।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা বড় ব্যবসায়ী মো. সেলিম উদ্দিন মধুপুরের কলা কিনে চট্টগ্রামের চকোরিয়া, সাতকানিয়া, কক্সবাজার, টেকনাফে সরবারহ করেন বেশ কয়েক বছর ধরে। তিনি এই সংকটে বেকায়দায় পড়েছেন। কলা কেনার জন্য চাষিদের কাছে অগ্রিম টাকা দিয়েছেন।  

তিনি জানান, গাছ থেকে কলা কেটে হয়ত আনা যাবে। কিন্তু ক্রেতা বা ভোক্তা না থাকলে দুর্ভোগ ও লোকসান দুই পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।  

তিনি জানান, মধুপুরের কলা চাষিরা বর্তমানে কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। মনে হচ্ছে তাদেরও ব্যবসা গুটিয়ে বসে থাকতে হবে।

মধুপুর কলা চাষি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সহ সভাপতি সার্জেন্ট (অব.) গোলাম কিবরিয়া মতি ৩০ বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছেন।  

তিনি জানান, তার ১২ হাজার গাছের মধ্যে ইতোমধ্যে ২ হাজার গাছ ভাইরাসে (স্থানীয় নাম ‘পানামা’) নষ্ট  হয়ে গেছে। বাকি ১০ হাজার গাছের কলা কেনার কেউ নাই। গত দুই দিনে ভ্যান-রিকশায় করে কয়েক ছড়ি কলা বাজারে তুলে একদিনে দু’শ টাকা পকেটে তুলেছেন। পরের দিন ১শ টাকা পকেট থেকে ভ্যান ভাড়া দিতে হয়েছেন।  

তিনি আরও জানান, ২/৩ বছর ধরে কলা বাগানে অজানা একটি ভাইরাসের (স্থানীয় নাম-পানামা) আক্রমণ শুরু হয়েছে। কোনো ওষুধে কাজ হয় না। তারপরও কিছুটা লাভের মুখ দেখতেন। কিন্তু এবার করোনার প্রভাবে লাভ তো দূরের কথা মূল টাকা তোলাও অসম্ভব।  

আক্ষেপ করে তিনি আরও বলেন, এখন ভিক্ষায় বের হতে হবে।
মধুপুরে ১২৬ সদস্যের কলা চাষি সমিতির বাইরে আরও ৭০/৮০ জন কলা চাষি রয়েছেন। সবারই একই দশা।  

এ তথ্য দিয়ে সমিতির সভাপতি শীর্ষ কলা চাষি আব্দুর রহিম জানান, অধিকাংশ বন বিভাগের জমিতেই কলা বাগান রয়েছে। ওই জমির ওপর ব্যাংক কোনো লোন দেয় না। মহাজনী লোন আর সার কীটনাশকের দোকান থেকে বাকি নিয়ে সবাই কলাসহ ফসলাদি চাষ করেন। একে তো কলার ভাইরাস মধুপুরের কলা চাষিদের লোকসানে ফেলে দিয়েছে। কৃষি বিভাগের কোনো চেষ্টা কাজে আসেনি। অপরদিকে কীটনাশক কোম্পানিগুলো চটকদার কথা বলে উচ্চ মূল্যে মেডিসিন দিয়ে শুধু টাকাই হাতিয়ে নিয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কলা চাষে এমন বিপর্যয়ে নতুন করে করোনা ভাইরাস চাষিদের অস্তিত্বে হানা দিয়েছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, যেহেতু সংরক্ষণের সুযোগ নেই তাই করোনা প্রভাবে কৃষকদের কলা বিপণন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়া স্বাভাবিক। চিন্তিত চাষিরা তাড়াহুড়ো করে বাজারে যে কলা তুলছেন সেগুলো পাকতে আরও ১৫ দিন লাগবে। আস্তে ধীরে গাছ থেকে কলা কেটে বাজারজাত করলে লোকসান কিছুটা কমবে। দুশ্চিন্তা না করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কলা কাটার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মিষ্টি কুমড়া আবাদ করে লাখপতি মজিরণ দম্পতি

মানিকগঞ্জ: যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে ঠিক তেমনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের শেখরী নগরের কৃষক আব্দুল খালেকের স্ত্রী মজিরণ বিবি (৫০)। ৩০-৩৫ বছর ধরে কৃষি কাজে স্বামীকে সাহায্য করে সংসার জীবনে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এনেছেন এই দম্পতি।

চলতি বছর ৫০ শতাংশ জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছেন মজিরণ দম্পতি। ফলনও আশানুরূপ ভালো হয়েছে।

খুচরা ও পাইকারি বাজারে এ বছর মিষ্টি কুমড়ার কদরও রয়েছে প্রচুর। উর্বর মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সারি সারি মিষ্টি কুমড়া ঝুলছে মজিরণ বিবির (জাংলা) মাচাতে। এ মৌসুমে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করবে এমনটাই প্রত্যাশা করছে মজিরণ দম্পতি আর তাদের অনুসরণ করে আশ-পাশের অনেকেই মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় মজিরণ বিবিকে। স্বামী আব্দুল খালেককে সাহায্য করতে নিজেই (মজিরণ) মিষ্টি কুমড়ার মাচা থেকে সারি সারি ঝুলন্ত কুমড়া কাচি দিয়ে কেটে স্বামীকে দিচ্ছে এবং তা ঝাঁকাতে করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমাট করে রাখছেন। কাটা শেষ হলে ভ্যানে করে গোলড়া পাইকারি বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যায় মজিরণের স্বামী আব্দুল খালেক। প্রতিটি কুমড়া পাইকারি বাজারে ৩০-৩৫ টাকা করে বিক্রি করছে এবং খুচরা বাজারে ওই কুমড়া আকার ভেদে ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মজিরণ বিবির স্বামী আব্দুল খালেক বাংলানিউজকে বলেন, আমি এ বছর ৫০ শতাংশ জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছি। সার বীজ থেকে শুরু করে মাচা (জাংলা) দেওয়া পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত আমার মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত খেকে ৭০ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রয় করেছি আরও দেড় লাখ টাকার কুমড়া বিক্রি করতে পারবো। মিষ্টি কুমড়া চাষে খরচ কম তবে লাভের পরিমাণ বেশি যে কারণে প্রতি বছর আমি মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করি। আমার মিষ্টি কুমড়ার আবাদ দেখে অনেকেই এ বছর আবাদ করেছে।

মজিরণ বিবি বাংলানিউজকে বলেন, সংসারে অভাবের তাড়নায় আধাপেট খেয়ে অনেক দিন পার করেছি। কিভাবে ৩ মেয়েকে বড় করবো তাদের বিয়া দিবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। বাধ্য হয়ে স্বামীর কাজে সাহায্য করতে শুরু করলাম, বছর ঘুরতে না ঘুরতে আমাগো সংসারে অভাব ঘুচতে শুরু করলো। তারপর থেকে প্রতি বছর মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ করতে শুরু করি। প্রতি বছর মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করে প্রায় দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা লাভ থাকে আমাদের এবং এ বছরও এ রকমই থাকবে।

মজিবুর রহমান নামের আরো এক মিষ্টি কুমড়ার চাষি বাংলানিউজকে বলেন, আমি এ মৌসুমে সরিষা, ভুট্টা আবাদ করি তবে খালেক ভাইকে দেখে এ বছর ৪০ শতাংশ জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করেছি। আমার এ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং মিষ্টি কুমড়ার ফলনও ভালো হয়েছে। বর্তমানে যে দরে কুমড়া পাইকারি বাজারে বিক্রি করছি এ রকম দাম থাকলে লক্ষাধিক টাকা লাভ থাকবে।

সাটুরিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, মিষ্টি কুমড়া কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্তর সূচনার সৃষ্টি করেছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মিষ্টি কুমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। সাটুরিয়ার সদর ইউনিয়নের শেখরি নগরের মজিরণ দম্পতির খেতে মিষ্টি কুমড়া বাম্পার ফলন হয়েছে এবং যে দাম পাইকারি বাজারে আছে এই দর থাকলে মজিরণ দম্পতি এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভের মুখ দেখবেন। এছাড়া আমরা কৃষি বিভাগ থেকে প্রতিনিয়ত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

গাজরের বাম্পার ফলনে চাষির মুখে হাসি

মানিকগঞ্জ: আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময় অনুযায়ী বৃষ্টি হওয়ায় মানিকগঞ্জের সিংঙ্গাইর উপজেলায় চলতি বছরে গাজরের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের চেয়ে দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় খুশি চাষিরা, তবে লাভের মূল অংশটা মধ্যসত্ত্বভোগী ব্যবসায়ীরা নিয়ে  যাচ্ছেন এমনটা অভিযোগ স্থানীয় চাষিদের।

উপজেলার কিটিংচর, খড়ারচর, ভাকুম, দুর্গাপুর ও আজিমপুর এলাকায় শত শত চাষিরা গাজর চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এ অবস্থা দেখে অন্য চাষিরাও অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের জন্য গাজর চাষে ঝুঁকছেন।

রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার, মিরপুর বাজার, নিমসা বাজার,যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আড়তের পাইকাররা গাজর কিনতে সরাসরি চলে আসেন সিংঙ্গাইরে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গাজরের বাম্পার ফলনের জন্য অরেঞ্জ কিং, নিউ করদা, হাইব্রিড সাপাল সিড, টি সামার জাতের বীজ চাষ করে থাকেন চাষিরা। গত বছর ১১ হাজার ১৮ হেক্টর জমিতে গাজরের আবাদ হয়েছিলো তবে এ বছর ১১ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে চাষিরা গাজরের আবাদ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকে ক্ষেতে গাজর তুলতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন শ্রমিকরা। জমি থেকে গাজর তুলে নির্দিষ্ট একটি স্থানে একত্র করছেন এবং তা দুপুরের দিকে খোলায় নিয়ে ধুয়ে ফেলছেন। বিকেল নাগাদ পাইকাররা এসে ট্রাকে করে আড়তে নিয়ে যাচ্ছেন সেই গাজর।

দশআনি এলাকার গাজর চাষি রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, এ বছর আমি আট বিঘা জমিতে গাজরের আবাদ করেছি, ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে গাজরের আবাদের জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে এ এবার গাজরের দাম বেশ ভালো, এ রকম দাম থাকলে কিছুটা লাভের মুখ দেখবো।  

একই এলাকার হানিফ আলী নামে আরেক চাষি বলেন, আমি ১২ বিঘা জমিতে গাজরের অাবাদ করেছি। অাড়তে গাজরের দাম বেশি হলেও আমরা তো সে দাম পাই না। আমাদের কাছ থেকে স্থানীয় পাইকাররা ১৫ টাকা কেজি কিনে তা ২৫ টাকা করে আড়তে বিক্রি করছেন। আমরা যদি সরাসরি গাজর নিয়ে আড়তে বিক্রি করতে পারতাম অথবা আমাদের সিংঙ্গাইরে একটি আড়ত থাকতো তবে গাজর বিক্রি করে আমরা আরও বেশি লাভবান হতাম।

স্থানীয় পাইকার আব্দুল সালাম বাংলানিউজকে বলেন, আমি নিজের জমিতে এ বছর ১১ বিঘা গাজরের আবাদ করেছি এবং পাশাপাশি স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে গাজর কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে বিক্রি করে থাকি। এ বছর প্রতি বিঘা গাজরের জমি ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা করে কিনেছি। গত বছরের চেয়ে এ বছর গাজরের দাম কিছুটা বেশি যার কারণে চাষিরা গাজর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

সিংঙ্গাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান বাংলানিউজকে বলেন, গাজর একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে কৃষিখাতে জায়গা করে নিয়েছে। মানিকগঞ্জের সিংঙ্গাইর গাজর চাষে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা সরাসরি এসে এখান থেকে গাজর কিনে নিয়ে যান।

এ বছর গাজরের বাম্পার ফলন হয়েছে, গত বছরের চেয়ে এ বছর পাইকারি বাজারে গাজরের দামও বেশি তাই এবার  চাষিরাও মহা খুশি। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গাজর চাষে কৃষকদের সব রকম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মধ্যসত্ত্বভোগীর দৌরাত্ম্যে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষক

মাগুরা: মাগুরা সদর উপজেলার লক্ষ্মীকন্দর গ্রামটি স্থানীয়ভাবে শিম গ্রাম হিসেবে পরিচিত। চলতি মৌসুমে এই গ্রামে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত শিম সারাদেশের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। কিন্তু মধ্যসত্ত্বভোগী ও ব্যাপারীদের দৌরাত্ম্যের কারণে বরাবরই এখানকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শিমের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। 

জেলা কৃষি বিভাগ ও বাজার বিপণন কর্মকর্তারা বলছেন, শিম চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তবে তারা জেলা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কৃষকের উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

মাগুরা সদরের লক্ষ্মীকন্দর গ্রামের রাস্তার দুই পাশে যেদিকে চোখ যায় শুধু শিম আর শিম ক্ষেত। বছরের পর বছর ধরে পারনান্দুয়ালী, ঠাকুরবাড়ী, লক্ষ্মীকন্দর, কছুন্দি, রামনগর, বেলনগর, পতুরিয়া, দুর্গাপুরসহ আশপাশের ১০ গ্রামের কমপক্ষে এক হাজার কৃষক এ মাঠে শুধু শিম চাষ করে আসছেন। এখানকার উৎপাদিত স্থানীয় জাতের মোটা ও চওড়া শিম সারাদেশে ব্যাপক সমাদৃত। যে কারণে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে চালান হওয়ার পাশাপাশি এখানে উৎপাদিত শিম বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। শিম চাষে উপার্জিত টাকা দিয়েই এলাকার কৃষকরা সারাবছর জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।  

তবে আড়ৎদার, ব্যাপারী ও মধ্যসত্ত্বভোগী সিন্ডিকেটের কারণে বরাবরই এখানকার চাষিরা তাদের উৎপাদিত শিমের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।  

বর্তমানে যেখানে স্থানীয় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শিম ২৫ টাকা দরে  বিক্রি হচ্ছে, সেখানে এখানকার কৃষকরা পাইকারি বাজারের নিয়োগকৃত আড়ৎদার ও ব্যাপারী সিন্ডিকেটের কাছে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে শিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে কৃষকদের অনেক কষ্টে উৎপাদিত  পণ্যের লাভের অধিকাংশই চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে।

দিদারুল ইসলাম, পরিমল বিশ্বাসসহ একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, মাগুরা পাইকারি কাঁচাবাজারের নির্দিষ্ট কিছু আড়ৎদারদের কাছে তারা শিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। যে কারণে তারা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের উৎপাদিত শিম ঢাকা থেকে বিভিন্ন দেশে রপ্তানির লাভের সব অংশই চলে যাচ্ছে মধ্যসত্ত্বভোগীদের  পকেটে।

শ্রীকান্ত বিশ্বাস নামে একজন কৃষক জানান, এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। অন্যদিকে প্রতি কেজি শিম ক্ষেত থেকে তুলতে খরচ হয় দুই টাকা, এর পর রয়েছে পরিবহন ও আড়ৎদারী খরচ। প্রতি কেজি শিম বিক্রি করে বর্তমানে কৃষকের পকেটে যাচ্ছে পাঁচ থেকে সাত টাকা। অন্যদিকে মধ্যসত্ত্বভোগীর পকেটে যাচ্ছে প্রায় ১৫ টাকা।

বিষু সরকার নামে এক ব্যাপারী বলেন, মাগুরা লক্ষ্মীকন্দর গ্রামের শিম অত্যন্ত মানসম্পন্ন। তাছাড়া গাছ থেকে তুলে প্রক্রিয়াজাত করার পর এ শিম দীর্ঘদিন ভাল থাকায় বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। যে কারণে ঢাকার আড়ৎদাররা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এ শিম রপ্তানি করে থাকেন।  

তবে কৃষকের নায্যমূল্য প্রাপ্তির ব্যাপারে তারা বলেন, কাঁচাপণ্যের ব্যবসায় অনেক ঝুঁকিও রয়েছে, যে কারণে কৃষক পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে দামের তারতম্য রয়েছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আমিন বলেন, লক্ষ্মীকন্দর গ্রামের প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। এখানকার শিম সারাদেশের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তারা এলাকায় নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

জেলা মাকের্টিং অফিসার জাকির হোসেন বলছেন, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শিমের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। কৃষক পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে শিমের দাম অনেক বেশি। জেলা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com