আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

“পৃথিবীর ছাদ” খ্যাত পামীর মালভূমির কথা!

আমাদের এ পৃথিবীর এক বিশেষ ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মালভূমি। সাধারণত যে বিস্তীর্ণ ভূ-ভাগ সমুদ্র সমতল থেকে বেশ উঁচু প্রায় ৩০০ মিটার, অথচ যার পৃষ্ঠদেশ বা উপরিভাগ খুব অসমতল নয় এবং চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত থাকে তাকে মালভূমি বলা হয়।

মধ্য এশিয়াতে অবস্থিত এমনই এক মালভূমি পামীর মালভূমি যা পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু এবং সবচেয়ে বড় মালভূমি হিসেবে পরিচিত।পামীর মালভূমি সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে প্রথমেই আরও একবার বলে নেই মালভূমি কাকে বলে। সাধারণ ভাষায় মালভূমি হলও এক বা একাধিক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত সমতল অঞ্চল। অর্থাৎ কয়েকটি পাহাড়ের সম্মলিত স্থানে যে সমতল অঞ্চল তৈরি হয় তাই মালভূমি। মালভূমিকে অনেক সময় “টেবিল ল্যান্ড” হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয় কারণ মালভূমি দেখতে অনেকটা টেবিলের মতো অর্থাৎ এর ওপরটা প্রায় সমতল এবং চারিদিক খাড়া ঢালযুক্ত।

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মালভূমির নাম পামীর মালভূমি। স্থানীয় ভাষায় এর উচ্চারণ হচ্ছে “পমির”। যার অর্থ হচ্ছে সূর্যের পা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পামীর মালভূমির উচ্চতা হচ্ছে প্রায় ১৬,০০০ ফুটের মতো। মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত পামির পর্বতমালাকে ঘিরে এ মালভূমিটির অবস্থান। তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তিব্বত, চীন এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ পর্যন্ত এ মালভূমিটি বিস্তৃত। এ অঞ্চলটি মূলত বিভিন্ন উঁচু পর্বতের মিলনস্থল। পৃথিবীর সর্বোচ্চ কয়েকটি পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় এটি এ পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মালভূমি হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। শুধু পৃথিবীর সর্বোচ্চই নয় তিব্বত মালভূমির সাথে সম্মিলিতভাবে পামির পর্বতশ্রেণীর সংলগ্ন মালভূমিটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মালভূমি অঞ্চল। এ কারণে তাই পামীর মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বা “Roof of the earth”-বলা হয়।

পামীর মালভূমির চতুর্দিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বহু উঁচু-নিচু পর্বতশ্রেণী। এর উত্তর দিকে রয়েছে তিয়েনশান পর্বতমালা, পূর্ব দিকে রয়েছে কুনলুন পর্বতশ্রেণী, দক্ষিণ-পশ্চিমে কারাকোরাম পর্বতশ্রেণী এবং দক্ষিণে রয়েছে হিমালয় পর্বতমালা ও হিন্দুকুশ পর্বতশ্রেণী। পামীর মালভূমি মূলতঃ কুনলুনের শাখা আনতিনতাগ, তিয়েনশানের তারিম মালভূমি ও হিমালয়ের মধ্যভাগে অবস্থিত।

বছরের অধিকাংশ সময় এ জায়গাটি তুষারাবৃত থাকে। এ স্থানে প্রত্যেক বছর গড়ে প্রায় পাঁচ ইঞ্চির মতো তুষারপাত হয়। তবে প্রত্যেক বছর স্বল্প সময়ের জন্য এ অঞ্চলে অত্যন্ত চমৎকার অবয়বে গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যা এখানকার আধিবাসীদের জীবন এবং জীবিকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রীষ্মকালে এ বিস্তীর্ণ অঞ্চল তৃণ আচ্ছাদিত থাকে। এ সময়টিতে তাই এ অঞ্চলটি তৃণ চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় অধিবাসীরা তাঁদের গবাদি পশু পালনের জন্য এ স্বল্পস্থায়ী গ্রীষ্মকালের জন্য অতিমাত্রায় নির্ভরশীল।

পামীর মালভূমির পশ্চিম প্রান্তে সাম্প্রতিককালে কয়লাখনি আবিষ্কৃত হয়েছে। ১৯৮০ সালের দিকে এখানে ক্লিনোহিউমাইট নামক এক ধরনের রত্ন পাথরের সন্ধান মেলে।

পামীর মালভূমির দক্ষিণ-পূর্ব পাশ ঘেঁষে রয়েছে চায়না-কারাকোরাম হাইওয়ে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু হাইওয়ে। এর মাধ্যমে চীন এবং পাকিস্তানের সংযুক্তি ঘটেছে। এছাড়াও এ অঞ্চলে রয়েছে পামীর হাইওয়ে যা পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম হাইওয়ে। পামীর হাইওয়ে তাজিকিস্তানের দুশানব থেকে কিরগিজস্তানের ওশে যাওয়ার পথ রচনা করেছে। প্রাচীন কালের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক পথ সিল্ক রোড পামীর পর্বতমালাকে অতিক্রম করেছে। অতীত কালে বিশ্ববাণিজ্য পরিচালনার জন্য এ সিল্ক রোড অত্যন্ত বিখ্যাত ছিলও। এ রাস্তাটি চীনের প্রাচীন রাজধানী জিয়ান থেকে পামীর পর্বতমালার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়ে জিনজিয়াং রাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর কাশগড়কে সংযুক্ত করেছে।

জিনজিয়াং অঞ্চলের একজন বিখ্যাত আলেম ছিলেন আল্লামা কাশগরী যিনি জিনজিয়াং এর কাশগর থেকে ভারতে এসেছিলেন। পড়াশোনা শেষে ভারতেই থেকে যান। পাকিস্তান হওয়ার পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। শেষ বয়সে খুব আগ্রহী ছিলেন নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হয়নি। ঢাকাতেই ইন্তেকাল করেন। সৈয়দ আলী আহসান তাঁর আত্মজীবনীতে তাঁকে নিয়ে অনেক স্মৃতিচারণ করেছেন। পুরাতন ঢাকার বকশিবাজারে অবস্থিত সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার পূর্ব দিকের হলটির নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামে যেটি “আল্লামা কাশগরী (রহঃ) হল’’নামে পরিচিত।

বিভিন্ন সময়ে সিল্ক রোডের দখল নিয়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ হয়েছে। পামীর মালভূমি অঞ্চলে একাধিকবার সামরিক ঘাঁটি স্থাপন কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণকে ঘিরেও বিভিন্ন বিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে চীন তাদের দ্বন্দ্ব অনেকখানি মিটিয়ে ফেলেছে। ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষত দিনে মধ্য এশীয় অঞ্চলগুলোতে রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ পামীর মালভূমি অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক: শিক্ষার্থী,  ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ফিজিক্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, ইউনিভার্সিটি অব নোভা গোরিছা, স্লোভেনিয়া।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

তামিলনাড়ু-পুদুচেরি উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় নিভার

ভারতের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় নিভার। বুধবার তামিলনাড়ুর মারাক্কানম ও পুদুচেরির মধ্যবর্তী অঞ্চলে রাত এগারোটার দিকে তাণ্ডব শুরু করে শক্তিশালী এই ঝড়।

আবহাওয়া দফতর এর আগে জানিয়েছে, প্রায় তিন ঘণ্টায় এর কেন্দ্র পুদুচেরি অতিক্রম করে যাবে। সে সময় বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ১৪৫ কিলোমিটার হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগে থেকেই চেন্নাইসহ রাজ্যের একাধিক জেলায় শুরু হয় তীব্র বৃষ্টি। রাস্তাঘাট পানিতে ভরে গেছে। যানবাহনের সংখ্যাও খুবই কম। রাতের দিকে ঝড়ের তাণ্ডব বাড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

এখন পর্যন্ত রাজ্যের কয়েক লাখ মানুষকে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী আর বি উদয়কুমার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ মানুষকে চেন্নাইয়ের দক্ষিণের নাগাপট্টিনম ও কাড্ডালোর জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তামিলনাড়ু উপকূলে রণতরী আইএনএস জ্যোতি মোতায়েন করেছে নৌবাহিনী। খাবারসহ উদ্ধারকাজের বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা হয়েছে ওই জাহাজে।

ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় চেন্নাই বিমানবন্দর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া চেন্নাইয়ের অধিকাংশ বড় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ জানানো হয়েছে, রাজ্যে ইতোমধ্যেই ১৫০টি ত্রাণ শিবিরকে তৈরি রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তামিলনাড়ুর বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে পুদুচেরিতে। এ সময়ে সব দোকান বন্ধ থাকবে। তবে দুধের দোকান, পেট্রোল পাম্প খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বিমানের ৪৯টি ফ্লাইট।

ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা হিসেবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী কে পালানিস্বামী বৃহস্পতিবার ১৩ টি জেলায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন। পুদুচেরিতেও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত সব স্কুল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

যমুনার চরে মিলল সাড়ে ১০ ফুট লম্বা অজগর

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর যমুনার চর থেকে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় সাড়ে ১০ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ‘দ্য বার্ড সেফটি হাউস’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা সোহাগপুর যমুনার চর থেকে অজগর সাপটি উদ্ধার করেন।

এলাকাবাসী জানায়, রোববার (২২ নভেম্বর) বিকেলে গ্রামের জমির মধ্য একটি অজগর সাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে কিছু লোক ভয় পেয়ে সাপটির মাথায় টেঁটা দিয়ে আঘাত করে। রাত ৮টার দিকে দ্য বার্ড সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি ফোনে স্থানীয়দের বন্যপ্রাণী আইনের বিষয়ে জানালে তারা সাপটি তাদের হেফাজতে রাখেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে মামুন বিশ্বাস ও জুবায়ের হোসেন চর থেকে আহত অবস্থায় সাপটি উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে দ্য বার্ড সেফটি হাউসের চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে আমি ও জুবায়ের অজগর সাপটি উদ্ধার করার জন্য সোহাগপুর চরে যাই। সেখানে গিয়ে সাপের অবস্থা মারাত্মক হওয়ায় কিছু ছবি তুলে রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবিরের কাছে পাঠিয়ে দেই। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা অজগর সাপটি সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হৃষীকেস চন্দ্র রায়, এম এল এস নবুয়াত, শাহজাদপুর পি এম রশিদুল হাসানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সাপটি বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় উপযুক্ত চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বন্যহাতি হত্যা প্রতিরোধে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করছে। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের কিছু এলাকায় বিভিন্ন কারণে বন্যহাতি হত্যা করা হচ্ছে। এসব বন্যহাতি নিধন প্রতিরোধে ব্যর্থ এবং দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বন্যহাতি হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় আয়োজিত মাসিক সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এতে সভাপতিত্ব করেন তিনি।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. মো. বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) আহমদ শামীম আল রাজ, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এ, কে, এম রফিক আহাম্মদ, বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন চৌধুরীসহ দফতর প্রধান ও বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

বনমন্ত্রী জনসাধারণকে বন্য হাতি নিধন থেকে বিরত রাখতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বন্য হাতির কারণে ক্ষতির সম্মুখীন মানুষদের সরকারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি সবাইকে জানাতে হবে। হাতিসহ অন্য বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল তৈরি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে হাতির আবাসস্থল বিনষ্ট ও বিভক্ত হয়েছে। তাদের দীর্ঘকালীন পরিচিত চলাচলের পথও নষ্ট হয়েছে। ফলে বন্য হাতিরা পথভ্রষ্ট হয়ে অথবা খাবারের খোঁজে মানুষের ধানক্ষেতে ঢোকার চেষ্টা করে। ফলে স্থানীয় মানুষের পাতানো বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে বা নানাবিধ আক্রমণে তারা মারা যাচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

শুভলং ঝরনা ও পাহাড়ি জীবনের খোঁজে

আবু আফজাল সালেহ

ভোরেই পৌঁছলাম রাঙ্গামাটির রিজার্ভবাজারের বাস স্টেশনে। এরপর ঝটপট নাস্তা সেরে নিলাম। সিএনজি ভাড়া করে গেলাম তবলছড়ি পর্যটন মোটেলের শেষ প্রান্তে, ঝুলন্ত ব্রিজের ঠিক মুখে। ২০ টাকার টিকিট কেটে ঢুকতে হবে। এ ঝুলন্ত ব্রিজই রাঙ্গামাটির প্রতীক। কাপ্তাই হ্রদের দুপাশের পাহাড়ের সঙ্গে সেতুবন্ধন করেছে ছোট্ট ব্রিজটি। ব্রিজটি ঘিরেই রয়েছে বিভিন্ন রাইড। নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা।

এখান থেকে দরদাম করে ট্রলার বা স্পিডবোট ভাড়া করে ঘুরতে পারেন শুভলং ঝরনা, আর্মি ও আনসার ক্যাম্প। বিভিন্ন ভাসমান হোটেলেও যেতে পারবেন। ঘণ্টাখানেক এখানে অবস্থান করে মূল শহরে গেলাম। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রামের সড়কপথ ধরে উপজাতিদের ছোট ছোট বাজার। বিভিন্ন ফল-মূল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করছে বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠী। দারুণ সম্প্রীতির বাংলাদেশ!

কাছাকাছি রাজবাড়ি দেখলাম। ভেতরে প্রবেশ করায় নিষেধাজ্ঞা আছে। প্রায় বেলা ১১টার দিকে রিজার্ভ বাজারের লঞ্চঘাটের দিকে রওনা দিলাম সিএনজিতে। ১২ টাকা ভাড়া। নেমেই ৫০০ গজের মতো হেঁটে লঞ্চঘাট। লঞ্চঘাট থেকে ১৬০০ টাকায় ছোট্ট একটি ট্রলার ৬-৭ ঘণ্টার জন্য চুক্তি করলাম। শুরু হলো সবচেয়ে রোমাঞ্চকর কাপ্তাই হ্রদে বোট ট্যুর। দেশের বৃহত্তম ও বিশ্বের অন্যতম বড় কৃত্রিম হ্রদ ভ্রমণ! রোমাঞ্চের ডালপালা মেলে দিলো। চার জনই রোমাঞ্চিত।

লঞ্চঘাট থেকে কয়েক মিনিট যেতেই মনে হয় বিশাল সাগরে এসে পড়লাম। চারিদিকে অথৈ পানি। একটু দূরে ছোট ছোট দ্বীপ। কিছুদূর যেতেই পাহাড় দেয়াল। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে ছোট ছোট বাসা। সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আমরা চার জন ছোট্ট ট্রলার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। জেলেদের মাছধরার দৃশ্য আর মাথার ওপর বিভিন্ন পাখিদের ওড়াউড়ি, কী মনোরম! আহা, কী দৃষ্টিসুখ! আর কিছুদূর যেতেই সোনা রঙের মূর্তি দেখতে পেলাম। মাঝি বললেন, এটিই স্বর্ণমন্দির। নেমেই গেলাম। দেখলাম। উপজাতিদের সাথে কথাও বললাম।

আবার উঠলাম ট্রলারে। এবার কাপ্তাই হ্রদের পানিরাশি সবুজ। চারিদিকের সবুজ পাহাড়ের প্রতিচ্ছায়ায় এমন। পেরিয়ে যাচ্ছি করমজল উপজেলা। সবুজ পাহাড়ের মোহনা! কী নান্দনিক! এমন মোহনা প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। চোখ টেনে নিচ্ছে; মনও। প্রায় ৪৫ মিনিট পানিভ্রমণ শেষে নান্দনিক জায়গা। হ্রদের অংশ ঢুকে পড়েছে পাহাড়ের ভেতর। মাঝি বললেন, এটিই শুভলং ঝরনা; মায়াবী ঝরনা। তবে শীতকালে পানি একেবারেই কম। বর্ষাকালে কী যে পাহাড়ি রূপ! একটু চোখ বুলিয়ে নিলাম। নামলাম। ২০ টাকার টিকিট কেটে ঝরনায় প্রবেশ করতে হয়। এখানে ক্যান্টিন আছে। যে কেউ হালকা চা-নাস্তা করে নিতে পারেন।

আবার যাত্রা শুরু পাহাড় উপত্যকার জলপথ দিয়ে। আরও ১০ মিনিট যেতেই ছোট্ট বাজার, আর্মি ক্যাম্প। বলে রাখি, এরপর যেতে হলে সেনাবাহিনীর অনুমতি লাগবে। এখানকার সবকিছুই সেনাসদস্যরা নিয়ন্ত্রণ করেন। অনুমতি নিয়ে বারবার মোহনা ও দ্বীপ পাশ কাটিয়ে প্রায় ২০ মিনিট পরে বড় স্থাপনা দেখতে পাচ্ছি। মাঝি বললেন, এটা শুভলং আনসার ক্যাম্প। পাহাড়ের গায়ে জল-পাহাড় বেষ্টিত ক্যাম্পটি দেখতে সুন্দর।

এবার ফেরার পালা। বিকাল ও গোধূলিবেলায় আধো-আধো আলোতে কাপ্তাই হ্রদের কী যে দৃশ্য! ভুলে যাওয়ার নয়। মাঝপথেই সন্ধ্যা হয়ে গেল। জেলেরা আলো জ্বালিয়ে মাছ ধরছে। দ্বীপগুলোয় আলো জ্বলছে। মাথার ওপর রাতজাগা পাখিদের ওড়াউড়ি। দ্বীপগুলো ও হ্রদের পার্শ্ববর্তী রাঙ্গামাটি শহর যেন আমেরিকান কবির নিউইয়র্ক কবিতার মতো বিল্ডিংগুলো যেন made of glass and lights দিয়ে তৈরি। প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটি রোমাঞ্চকর জলভ্রমণ শেষে রিজার্ভ বাজারের লঞ্চঘাটে এসে পৌঁছলাম।

যাতায়াত: রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার সংলগ্ন লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চ ভাড়া করতে হবে। ছোট-বড়ভেদে ১২০০ টাকা থেকে শুরু। ১০-২০ জন ভ্রমণ করা যাবে। কোন কোন স্পটে যাবেন, তা আগেই ঠিক করে নিতে হবে। স্পিডবোটেও যেতে পারবেন। ৫-৬ জনের ভাড়া ২০০০ টাকা থেকে শুরু। তার আগে ট্রেন বা বাসে চট্টগ্রাম যেতে হবে। অক্সিজেন মোড় থেকে পাহাড়িকা বা শান্তি পরিবহনে ১২০ টাকা ভাড়া। পাহাড়ের মধ্যদিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজারে। একটু এগিয়ে গিয়ে লঞ্চঘাটে দরদাম করে লঞ্চ বা স্পিড বোট ভাড়া করে কাপ্তাই ভ্রমণ করুন। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কিছু পরিবহন ৯-১০ ঘণ্টা সময়ে রাঙ্গামাটি পৌঁছে দেবে। এসি-নন এসি ভেদে ভাড়া ৬৫০ টাকা থেকে শুরু।

থাকা ও খাওয়া: রিজার্ভ বাজারসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন বাজেটের আবাসিক ও খাওয়ার হোটেল পাবেন। এছাড়া উপজাতিদের বাড়িতে থাকতে ও খেতে পারবেন। পর্যটন কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রিত মোটেল বা আবাসনে থাকতে ও খাওয়া-দাওয়া করতে পারবেন। খরচ তুলনামূলক একটু বেশি হতে পারে।

নৌকা বা স্পিড বোট ভাড়া: রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারের লঞ্চঘাটে নৌকা পাওয়া যাবে। দরদাম করতে হবে। স্পিড বোটে ৩-৪ হাজার টাকা।

পাহাড়ি বাজার: সকালের দিকে শহরের রাস্তায় ছোট ছোট ভাগ করে পাহাড়িরা ফল-মূল ও কাঁচাবাজার নিয়ে বসে। এ দৃশ্য মনোরম। শহরের বিভিন্ন দোকান, উপজাতি অনেক বাড়ি থেকে পোশাক ও হস্তশিল্প সামগ্রী কেনাকাটা দারুণ ও উপভোগ্য হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর প্যারিস, হংকং ও জুরিখ

লেখক

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকার শীর্ষে যৌথভাবে রয়েছে ফ্রান্সের প্যারিস, হংকং ও সুইজারল্যান্ডের জুরিখ। এরপরেই তালিকায় সিঙ্গাপুরের অবস্থান।

জীবনযাপনে খরচের হিসাবের ভিত্তিতে তৈরি করা লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বার্ষিক জরিপে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি ১৩৩টি শহরের ওপর জরিপ করেছে। 

তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে যৌথভাবে জাপানের ওসাকা ও ইসরায়েলের তেল আবিব। 

দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের করা ওই বার্ষিক জরিপে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরে জীবনযাপনের ব্যয় কমেছে। করোনার কারণে দেশটিতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা কমেছে। ১৭ বছরের মধ্যে শহরটির জনসংখ্যা এবারে সবচেয়ে কমেছে। 

ব্যয়বহুল শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় জেনেভার অবস্থান ৭ম আর ৯ম অবস্থানে রয়েছে কোপেনহেগেন। নিউইয়র্ক সিটি ও লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থান যথাক্রমে ৮ম ও ১০ম স্থানে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রনিক্সের দাম বেড়েছে। তবে কমেছে পোশাকের দাম। প্রধান খাদ্য আইটেমগুলির দাম একই রয়েছে। তবে প্রসাধনী, তামাক এবং অ্যালকোহলের দাম বেড়েছে।  

জীবনযাপনে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় গতবছর থেকেই অবস্থান হারাচ্ছে আমেরিকা, আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ। তবে, পশ্চিম ইউরোপের শহরগুলো ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

এবারের তালিকায় ২০ ধাপ নিচে নেমে গেছে ব্যাংকক। এই শহরের বর্তমান অবস্থান ৪৬তম। তালিকায় সিডনির অবস্থান ১৫ নম্বরে। লন্ডন ২০ তম, মস্কো আছে ১০৬ নম্বরে ও দিল্লির অবস্থান ১২১-এ। 

দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্বব্যাপী কস্ট অব লিভিং বিভাগের প্রধান উপাসনা দত্ত জানান, কয়েক বছর ধরে এই তালিকায় এশিয়ার দেশগুলো শীর্ষে থাকলেও এবার করোনার ধাক্কায় কিছুটা ওঠানামা হয়েছে দেশগুলোর অবস্থানের। 

তিনি বলেন, করোনা মহামারি ভোক্তাদের আচরণকে বদলে দিয়েছে। কারণ বাড়ি থেকে কাজ করার জন্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের দাম বেড়েছে। আবার লকডাউনের কারণে রেস্তোরাঁয় না যাওয়ায় খাবারের দাম একই রয়েছে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com