আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

পৃথিবীর সবচেয়ে গোলগাল প্রাণী কি এগুলোই?

এই প্রাণিটি গোলগাল দেখতে হয়েছে প্রয়োজনের তাগিদে
এই প্রাণিটি গোলগাল দেখতে হয়েছে প্রয়োজনের তাগিদে

পৃথিবীতে অনেক প্রাণী রয়েছে, আর তাদের মধ্যে অনেক প্রাণিই গোলগাল।

সেগুলোকে আপনি গোলাকৃতির আদুরে বল মনে করলেও তাদের এই আকৃতি আসলে প্রকৃতিতে তাদের টিকে থাকতে সহায়তা করে।

প্রাণীজগতের সবচেয়ে গোলগাল কয়েকটি প্রাণীর তালিকা দেয়া হলো এখানে।

রক্ষণাত্মক মনোভাবে একটি পটকা মাছ
রক্ষণাত্মক মনোভাবে একটি পটকা মাছ

পাফার ফিশ/ পটকা মাছ

আমাদের তালিকার শুরেুতেই রয়েছে পাফার ফিশ পরিবার (টেট্রাওডোনটিডায়ে), যারা পটকা মাছ নামেও পরিচিত।

এই গোলাকার মাছ আত্মরক্ষার্থে বলের মত বৃত্তাকার আকার ধারণ করতে পারে।

নিজেদের ইলাস্টিকের মত পাকস্থলিতে প্রচুর পরিমাণ পানি প্রবেশ করিয়ে তারা এই আকৃতি ধারণ করতে পারে। এর ফলে তাদেরকে খুবই কম আকর্ষণীয় মনে হয়, সেসময় এই মাছের আকৃতি দেখে মনে হয় যে এটি খেতেও কঠিন।

বল আকৃতির এই মাছগুলো দেখতে ভাল লাগেও এটিকে ছোঁয়া একেবারেই উচিত নয়।

দুইশো’রও বেশি জাতের পটকা মাছের অধিকাংশের মধ্যেই টেট্রোডোটক্সিন নামের এক ধরনের বিষ রয়েছে, যা সায়ানাইডের চেয়ে ১২০০ গুণ বেশি বিষাক্ত।

আরমাডিলোরা 'আরমার' বা বর্ম তৈরি করতে পারে, তাই তাদের এমন নামকরণ
আরমাডিলোরা ‘আরমার’ বা বর্ম তৈরি করতে পারে, তাই তাদের এমন নামকরণ

আরমাডিলো

স্প্যানিশ ভাষায় আরমাডিলো শব্দের অর্থ ‘বর্ম পরিহিত ছোট প্রাণী।’

পৃথিবীতে মোট ২১ ধরণের আরমাডিলো রয়েছে যাদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্রটির নাম ‘গোলাপী পরী আরমাডিলো’ (ক্ল্যামিফোরাস ট্রাঙ্ক্যাটাস), যার দৈর্ঘ্য ৯ থেকে ১২ সেন্টিমিটারের মধ্যে হয়।

আরমাডিলোরা দিনে ১৬ ঘন্টা পর্যন্ত ঘুমায়। এছাড়া প্রাণী হিসেবে তাদের যথেষ্ট ফ্যাশন সচেতনও বলতে পারেন। লাল, হলুদ, কালো, গোলাপী – এমন নানা রঙয়ের আরমাডিলো হয়ে থাকে।

প্রজননের সময় পিঙ্গলবর্ণ প্যাঁচারা ডাকাডাকির মাধ্যমে দ্বৈত সঙ্গীত তৈরি করে
প্রজননের সময় পিঙ্গলবর্ণ প্যাঁচারা ডাকাডাকির মাধ্যমে দ্বৈত সঙ্গীত তৈরি করে

টওনি আওল/পিঙ্গলবর্ণ প্যাঁচা

যুক্তরাজ্যে পাওয়া যাওয়া সাধারণ প্যাঁচাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকৃতির প্যাঁচা হলো টওনি আওল বা পিঙ্গলবর্ণ প্যাঁচা।

এই প্যঁচাগুলোর নরম, গোলাকার মাথা থাকে যেটি তারা ২৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘোরাতে পারে।

প্রজননের সময় এই ধরণের পুরুষ প্যাঁচা শুরুতে স্ত্রী প্যাঁচাকে দীর্ঘ ‘হুউউ’ ডাকে ডাক দেয়।

এরপর অপেক্ষাকৃত কম দীর্ঘ ‘হু’ এবং সবশেশে ‘হুহুহোওওওও’ ডাক দিয়ে শেষ করে।

জবাবে স্ত্রী প্যাঁচা ‘কী-উইক’ ডাকে জবাব দেয়।

দেখে মনে না হলেও এই ধরণের সিল ঘন্টায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে সাঁতার কাটতে পারে
দেখে মনে না হলেও এই ধরণের সিল ঘন্টায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে সাঁতার কাটতে পারে

সিল

সিল সাধারণত একা থাকলেও প্রজননের মৌসুমে একত্রিত হয়।

এই বৃত্তাকার মাছ গড়ে প্রতি ঘন্টায় ১০ কিলোমিটার সাঁতার কাটতে পারে।

তবে কখনো কখনো তারা ঘন্টায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতেও সাঁতারাতে সক্ষম হয়।

এই ধরণের সিল সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

হেজহগ যখন নিজেকে বলে রুপান্তরিত করে তখন তা দেখতে এরকম হয়
হেজহগ যখন নিজেকে বলে রুপান্তরিত করে তখন তা দেখতে এরকম হয়

হেজহগ

হেজহগ অনেকটা সজারুর মত দেখতে একটি প্রাণী, নিজেকে শিকারী প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা করতে এর পিঠে অনেকগুলো কাঁটার মত থাকে।

বৃত্তাকার হওয়ায় শরীরের কাঁটামুক্ত অংশগুলো রক্ষা করতে সুবিধা হয় এর জন্য।

ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকায় ১৫ ধরণের হেজহগ পাওয়া যায়, যার মধ্যে সবকটিই নিশাচর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

পরিবেশ

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় প্লাস্টিকের পোস্টার, রাত বিরেতে শব্দ দূষণ: প্রার্থীরা কতটা দায়িত্ব নেবেন?

প্রচারণায় ব্যাপকহারে পরিবেশ দূষণকারী প্লাস্টিক দিয়ে ল্যামিনেট করা পোষ্টার ও ব্যানার ব্যবহৃত হচ্ছে
প্রচারণায় ব্যাপকহারে পরিবেশ দূষণকারী প্লাস্টিক দিয়ে ল্যামিনেট করা পোষ্টার ও ব্যানার ব্যবহৃত হচ্ছে

কানের পর্দা ফাটানো নির্বাচনী প্রচারণার শব্দ এখন ঢাকা শহরের যে কোনো এলাকাতেই শোনা যাচ্ছে। প্রায় সকল প্রার্থীকে নিয়ে গাওয়া গান আর কিছুক্ষণ পরপর তাকে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেয়ার আহবান জানানো হচ্ছে প্রচারণায়।

কেন তিনি অন্যদের চেয়ে যোগ্য প্রার্থী সেনিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। প্রচারণায় আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে রাত আটটার পরে মিছিলে উচ্চ শব্দে এক সংগে মোটর সাইকেলের হর্ন বাজিয়ে, মাইকে জোরে চীৎকার করে স্লোগান ও গান বাজিয়ে প্রচারণা চলছে বিভিন্ন পাড়ায়।

প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো পোষ্টারে ছেয়ে রয়েছে ঢাকা। এই পোস্টার যেখানে সেখানে ঝরে গিয়ে পরিবেশও দূষণ করছে। প্রচারণার সময় কর্মীরাও রাস্তাঘাটে আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন।

যিনি প্রচারণার সময় সচেতন নন, নিজের শহরের দেখভাল করার জন্য এমন নির্বাচিত প্রতিনিধি চান কিনা সেনিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

যে প্রার্থীরা একটি সুন্দর শহর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তারা প্লাস্টিকের আবরণ দেয়া হাজার হাজার পোষ্টার অথবা রাতের বেলার লাউড স্পিকারের পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে কতটা ভাবছেন?

প্লাস্টিকের আবরণ দেয়া পোষ্টারে ছেয়ে গেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা
প্লাস্টিকের আবরণ দেয়া পোষ্টারে ছেয়ে গেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী উত্তরের বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম বলছেন, “আমাদের প্রচারণা আটটার পরে আমরা করি না। জনতার যখন ঢল নামে তখন আটটা নাকি দশটা নাকি চব্বিশ ঘণ্টা কেউ কিছু বলতে পারবে না। জনতার ঢল আমি তো দাবায়ে রাখাতে পারবো না।”

প্লাস্টিকে ল্যামিনেট করা পোষ্টার সম্পর্কে তিনি দাবি করছেন, “যে যার মতো লাগাচ্ছে। আমি যেমন প্রিন্টিং করেছি ল্যামিনেটিং ছাড়া। কোথা থেকে কে লাগাচ্ছে বোঝার ক্ষমতা কারো নেই।”

কিন্তু মি. ইসলামের প্লাস্টিকে মোড়ানো পোষ্টার ঝুলছে তার নির্বাচনী এলাকা জুড়ে।

ঢাকার উত্তরে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালও বলছেন, “আমার জানামতে আমার পোষ্টার প্লাস্টিকে হওয়ার কথা না। আমরা জানি শুধু বাংলাদেশ কেন পৃথিবীর অনেক বড় সমস্যা হচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্য, প্লাস্টিক দূষণ। আমি সচেতনভাবে আমার কর্মীদের বলেছি আমরা যেন কোন পলি ব্যবহার না করি।”

তিনি বলছেন, নির্বাচনের রায় যাই হোক সকল প্রার্থীর ল্যামিনেট করা পোষ্টার তিনি নিজে সরিয়ে রিসাইকেলের ব্যবস্থা করবেন এবং তিনি বলছেন, নিরাপত্তার জন্য তার সমর্থকরা সন্ধ্যা ছয়টা পরে প্রচারণার কাজ বন্ধ রাখছেন।

কান ফাটানো উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে আবাসিক এলাকায় প্রচারণা
কান ফাটানো উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে আবাসিক এলাকায় প্রচারণা

বাংলাদেশে নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী প্রচারণায় মাইক, লাউড স্পিকার বা উঁচু শব্দ তৈরি করে এমন কিছু ব্যবহারের নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

দড়িতে উপরের দিকে ঝুলিয়ে পোষ্টার লাগানোর নিয়ম থাকলেও দেয়াল, যানবাহন, খুঁটি, গাছসহ যেখানে সেখানে পোস্টার লাগানো যাবে না। পোষ্টার কেমন হবে সেব্যাপারেও আইনে বলা রয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ম অবাধে ভঙ্গ করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পৃথিবীর সব কীটপতঙ্গ মরে গেলে কী হবে?

২০১৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মনার্ক প্রজাপতির সংখ্যা ৮৬ শতাংশ কমে গেছে, বলছে এক জরিপ
২০১৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মনার্ক প্রজাপতির সংখ্যা ৮৬ শতাংশ কমে গেছে, বলছে এক জরিপ

পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ কখনো কখনো আপনার খাবারে এসে পড়ে, কখনো আপনাকে হয়তো কামড়েও দেয়। সে জন্য বিরক্ত হয়ে আপনি যদি এদের মারতে উদ্যত হন – তাহলে দু’বার ভাবুন ।

কারণ পৃথিবী জুড়েই পতঙ্গের সংখ্যা খুব দ্রতগতিতে কমে যাচ্ছে, এবং এটা এক বড় বিপদ।

খাদ্য উৎপাদন এবং আমাদের জীবজগতকে রক্ষার জন্য কীটপতঙ্গের ভুমিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

“পৃথিবীর সব কীটপতঙ্গকে আমরা যদি মেরে ফেলি, তাহলে আমরাও মারা যাবো” – বলছিলেন লন্ডনে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সিনিয়র কিউরেটর ড. এরিকা ম্যাকএ্যালিস্টার।

‘আমরা মারা যাবো’

বিভিন্ন প্রাণী বা উদ্ভিদ মরে গেলে কীটপতঙ্গ হামলে পড়ে তাদের ওপর, এর ফলে পচনের প্রক্রিয়া দ্রুততর হয় আর তার ফলে মার্টির উর্বরতা বাড়ে।

জৈবিক বর্জ্য পচনে সাহায্য করে কীটপতঙ্গ পৃথিবী পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে
জৈবিক বর্জ্য পচনে সাহায্য করে কীটপতঙ্গ পৃথিবী পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে

“কল্পনা করুন তো, পোকামাকড় যদি মানুষ বা পশুপাখীর মল সাবাড় না করতো, তাহলে পৃথিবীর অবস্থা কি হতো? কীটপতঙ্গ না থাকলে আমাদের বিষ্ঠা আর মরা প্রাণীর মধ্যে বসবাস করতে হতো” – বলছেন ড. ম্যাকএ্যালিস্টার।

অন্যদিকে এই পোকামাকড় খেয়েই কিন্তু পাখী, বাদুড় এবং ছোট আকারের স্তন্যপায়ী প্রাণীরা বেঁচে থাকে।

মেরুদন্ডী প্রাণীর ৬০ শতাংশই বেঁচে থাকার জন্য কীটপতঙ্গের ওপর নির্ভরশীল।

সুতরাং পোকামাকড় না থাকলে পাখী, বাদুড়, ব্যাঙ এবং মিঠা পানির মাছও অদৃশ্য হয়ে যাবে” – বলছেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফ্রান্সিসকো সানচেজ-বেয়ো ।

গবেষণা থেকে দেখা যায় প্রাকৃতিক পরাগায়নের কারণে আমাদের উপকার হয় ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের
গবেষণা থেকে দেখা যায় প্রাকৃতিক পরাগায়নের কারণে আমাদের উপকার হয় ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের

‘বিনামূল্যে সেবা’

তারা নিজেরাই কখনো হয় অন্যের খাদ্য, কখনো তারা হয় ইকোসিস্টেমের সেবক।

কিন্তু এ ছাড়াও আরেকটি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে কীটপতঙ্গেরা – তা হলো পরাগায়ন – যা খাদ্য উৎপাদনের জন্য অত্যাবশ্যক।

এক জরিপে বলা হয়, পরাগায়নের জন্য মানুষ যে সুফল পায় – তার পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি ডলার।

ড. সানচেজ-বায়ো বলছেন, বেশির ভাগ ফুলেরই পরাগায়নের জন্য পোকামাকড়ের দরকার হয় – যার মধ্যে আছে চাল-গমের মতো শস্যের গাছের ৭৫ শতাংশ।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা অনেক সময় বুঝিই না যে – পোকামাকড়দের থেকে আমরা কতটা সাহায্য পাচ্ছি।

ড. ম্যাকএ্যালিস্টার বলছেন, চকলেট তৈরি হয় যে কোকোয়া থেকে – তার পরাগায়ন হয় ১৭ রকম পোকামাকড় দিয়ে, এর মধ্যে ১৫টিই মানুষকে কামড়ায়। আর দুটি হচ্ছে ছোট পিঁপড়া এবং মথ। কিন্তু এদের সম্পর্কে আমরা খুবই কম জানি।

পৃথিবীর অনেক দেশেই মৌমাছির মতো পরাগায়নকারী পতঙ্গের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

মনার্ক বাটারফ্লাই সহ বহু ধরণের প্রজাপতি – যা অনেক বুনো ফুলের পরাগায়নের জন্য দায়ী – তাদের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

কিন্তু আমরা কি এ সমস্যাটা উপেক্ষা করছি? বেশি দেরি হয়ে গেলে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না।

পৃথিবীতে কীটপতঙ্গের সংখ্যা কত?

কীটপতঙ্গের সংখ্যাটা এতই বড় যে তা মানুষের পক্ষে উপলব্ধি করাই কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউটের মতে পৃথিবীর সব কীটপতঙ্গকে যদি এক জায়গায় জড়ো করে তার ওজন নেয়া হয়, তাহলে তা হবে পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত ওজনের চাইতেও ১৭ গুণ বেশি।

পঙ্গপালের মতো অনেক পোকামাকড় মানুষের জন্য ক্ষতিকর
পঙ্গপালের মতো অনেক পোকামাকড় মানুষের জন্য ক্ষতিকর

ইনস্টিটিউটের মতে, পৃথিবীতে যে কোন মুহূর্তে কীটপতঙ্গের সংখ্যা হচ্ছে ১০ কুইন্টিলিয়ন (এক কুইন্টিলিয়ন হচ্ছে এক বিলিয়ন বিলিয়ন) অর্থাৎ ১ এর পেছনে ১৯টা শূন্য দিলে যা হয় – ১০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০।

কত প্রজাতির কীট পতঙ্গ আছে পৃথিবীতে? এ সংখ্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা একমত নন – তবে তা ২ থেকে ৩০ মিলিয়নের মধ্যে যে কোন পরিমাণ হতে পারে।

কীটপতঙ্গ নিয়ে গবেষণা হয়েছে খুবই সামান্য। তবে আমরা প্রায় ৯ লক্ষ রকমের পতঙ্গের কথা জানি।

বিলুপ্তির ঝুঁকি

তবে সংখ্যায় এত বেশি হলেও কীটপতঙ্গেরা গণহারে বিলুপ্ত হবার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

অনেক কীটপতঙ্গ আবিষ্কৃত বা চিহ্নিত হবার আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।

অনেক পাখীরই প্রধান খাদ্য হচ্ছে পোকামাকড়
অনেক পাখীরই প্রধান খাদ্য হচ্ছে পোকামাকড়

জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং পুয়ের্তো রিকো হচ্ছে এমন তিনটি দেশ – যেখানে গত ৩০ বছর ধরে কীটপতঙ্গের সংখ্যার ওপর জরিপ চালানো হচ্ছে।

তাতে দেখা যায়, প্রতিবছর ২ দশমিক ৫ শতাংশ করে পতঙ্গের সংখ্যা কমছে।

জার্মানিতে ৬০টি সংরক্ষিত জায়গাতেই গত ৩০ বছরে উড়ন্ত পতঙ্গের সংখ্যা ৭৫ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে, বলছে ২০১৭ সালের এক জরিপ।

বহু দেশেই মৌমাছির সংখ্যা কমছে
বহু দেশেই মৌমাছির সংখ্যা কমছে

পুয়ের্তো রিকোতে চার দশকে কীটপতঙ্গের সংখ্যা প্রায় ৯৮ ভাগ কমে গেছে, বলছেন একজন আমেরিকান শিক্ষাবিদ।

এই হারে সংখ্যা কমতে থাকলে এক শতাব্দীর মধ্যে কীটপতঙ্গের প্রজাতিগুলোর ৪১ শতাংশেরও বেশি অদৃশ্য হয়ে যাবে – বলছেন ড. সানচেজ।

এর একটা বড় কারণ হচ্ছে কীটপতঙ্গের হ্যাবিট্যাট অর্থৎ আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া।

এর পেছনে কৃষিকাজ একটা বড় ভূমিকা রাখছে।

অনেক দেশে - যেমন চীনে - মাংসের পরিবর্তে বিভিন্ন পোকা খাওয়া হয়
অনেক দেশে – যেমন চীনে – মাংসের পরিবর্তে বিভিন্ন পোকা খাওয়া হয়

ড. ম্যাকএ্যালিস্টার বলছেন, কীটপতঙ্গের যৌনমিলন ও বংশবৃদ্ধির জন্য বড় গাছের ছায়া ও পঁচা পাতা দরকার – যাতে তাদের ডিম ও শূককীট বাস করে। চাষাবাদের কারণে এই পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তার পর আছে কীটনাশক, অন্য আগ্রাসী প্রজাতি, এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো কারণ।

কিন্তু তেলাপোকার মতো পতঙ্গ এসব পরিবর্তনের মধ্যেও টিকে থাকার মতো প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছে তাই তাদের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।

তেলাপোকার মত পতঙ্গের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে
তেলাপোকার মত পতঙ্গের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভ গুলসন বলছেন, এর ফলে দেখা যাবে কিছু প্রজাতির কীটপতঙ্গের সংখ্যা হয়তো অনেক বেড়ে যাবে কিন্তু আমাদের যা দরকার সেই মৌমাছি, প্রজাপতি – এগুলো হারিয়ে যেতে থাকবে।

এটা ঠেকানোর উপায় তাহলে কী?

বিজ্ঞানীরা বলেন, উপায় আছে।

ফ্রান্সিসকো সানচেজ-বেয়ো বলছেন, এ জন্য প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনতে হবে, গাছ লাগাতে হবে, ঝোপঝাড় বাড়াতে হবে, মাঠের আশপাশে ফুলগাছ লাগাতে হবে। বিপজ্জনক কীটনাশক বাজার থেকে দূর করতে হবে। কার্যকর পন্থা নিতে হবে যাতে কার্বন নির্গমন কমানো যায়।

অর্গানিক খাবার অর্থাৎ রাসায়নিকমুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে জন্মানো খাবার গ্রহণ করাটাও এ জন্য সহায়ক হবে, বলেন তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা

ঢাকায় আজ সোমবার (২০ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, আজ দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

অন্যদিকে সারাদেশে আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। দেশের কিছু অঞ্চলে হালকা/গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

আগামী দুই দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। তার পরবর্তী পাঁচ দিনে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সকাল ৭টা পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬-১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে।

পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বাংলাদেশির তত্ত্বাবধানে কাতার সবুজায়নে বহুমুখী উদ্যোগ

এই তো সেদিন রাশিয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা নামল। বলা যায়, বিশ্বকাপ জ্বর এখনো রয়েই গেছে ফুটবলমোদীদের কাছে। এবারের বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই ২০২২-এর বিশ্বকাপ যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সবার দৃষ্টি এখন মধ্যপ্রাচ্যের ধনী রাষ্ট্র কাতারের দিকে। মরুময় দেশটিতে ফুটবলের বিশ্ব উৎসবের মহাযজ্ঞ, তাই দেশটি সেজে উঠছে সব দিক থেকে। বিত্ত-বৈভব আর চাকচিক্যে তাদের কোনো কমতি নেই। যেটুকু সংকট আছে, তা শুধু সবুজের। আর এই সবুজের শোভা বাড়াতে সরকারি, বেসরকারি সব পক্ষ থেকেই চলছে নানামুখী তোড়জোড়। এর অংশ হিসেবেই উদ্যোক্তারা গড়ে তুলেছেন সমৃদ্ধ নার্সারি। ভিতরে-বাইরে সবুজের সমৃদ্ধি বাড়াতে নার্সারিগুলোর রয়েছে নানা আয়োজন। বলা যায় এই বাণিজ্য এখন রমরমা।

পারস্য উপসাগরের মরুময় দেশ কাতার। দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার ছোট্ট এই দেশটির দক্ষিণে সৌদি আরব এবং পশ্চিমে দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন। এখানে প্রাকৃতিক কোনো জলাশয় নেই এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের সংখ্যাও যৎসামান্য। বেশির ভাগ লোক শহরে, বিশেষত রাজধানী দোহায় বাস করে। দেশটিতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ আছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদের কারণেই দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে এটি আমির-শাসিত ভূখণ্ড। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে দেশটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে। ১৯৭১ সালে কাতার পরিপূর্ণভাবে উপনিবেশমুক্ত হয়। গত শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্তও এটি একটি তুলনামূলক দরিদ্র দেশ ছিল। ওই সময় দেশটিতে পেট্রলিয়ামের মজুদ আবিষ্কৃত হয় এবং উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে মাথাপিছু আয়ের হিসাবে কাতার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি।

কাতারের আয়তন ১১ হাজার ৪৩৭ বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশের প্রায় ১৪ ভাগের ১ ভাগ, ছোট্ট দেশটিতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর সিংহভাগই ভিনদেশি। ১৯৬০ সালে কাতারে বাস করত মাত্র ৭০ হাজার মানুষ। ১৯৯০ সালে সে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৫ লাখে। ২০০১ সালে তা পৌঁছে ৯ লাখে। আর বর্তমানের হিসাবে কাতারের লোকসংখ্যা ২৬ লাখের ওপরে। এর ৯০ ভাগই বিদেশি প্রবাসী। কাতারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয়ের (এমডিপিএস) হিসাবে ৮৭টি দেশের নাগরিকদের বসবাস রয়েছে কাতারে। জনসংখ্যার দিক দিয়ে কাতারে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ভারতীয়রা। ভারতীয়রা সংখ্যায় সাড়ে ৬ লাখ, যা সেখানকার মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ। এর পরের স্থান নেপালের। কাতারের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ নেপালি। কাতারে বাংলাদেশি রয়েছেন দেশটির মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। আর কাতারের স্থানীয় জনগণ মোট বসবাসকারীর মাত্র ১২ দশমিক ১ শতাংশ, সংখ্যায় যা ৩ লাখ ১৩ হাজার।

‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখিয়েছি কাতারের কৃষি কার্যক্রম। ধূসর মরুভূমি প্রযুক্তির কল্যাণে এবং শ্রমে হয়ে উঠছে গাছে গাছে সবুজ আর ফুলে-ফলে বর্ণিল। সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদানও কম নয়। এ দেশের কৃষি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় বদলে যাচ্ছে। সেখানে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অর্গানিক ফার্মিং। কাতারে গড়ে উঠেছে বিশাল সব নার্সারি। কাতারের উম সালাল আলীর ‘প্লাজা হলান্ডি’ নামে এক নার্সারিতে দেখা পেয়েছি বাংলাদেশি এক তরুণের। তার কৃষিবিপ্লবের গল্পই আজ আপনাদের শোনাতে চাই পাঠক। বালু-কাঁকরময় মরুভূমিতে বিশাল আয়তনের ‘প্লাজা হলান্ডি’ নার্সারিতে গেলে বোঝা যায় উদ্ভিদের জন্য মাটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই মাটির বিকল্প হিসেবে পিটমস থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপকরণের সমাবেশ ঘটানো হয়। বেশির ভাগ উপাদানই আসে হল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি থেকে। নার্সারির গাছগুলো দেখে অবাক হতে হয়। বিশাল আকারের একেকটি গাছ। ধরনটি বনসাইয়ের। অর্থাৎ পরিকল্পিতভাবে গাছগুলোকে ঝাঁকড়া করা হয়েছে। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী ঘরের ভিতরে অথবা বাইরের উপযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়েই গাছগুলোর চাষ হয়। সেখানকার যতরকম উদ্ভিদ রয়েছে সবই বাইরে থেকে আনা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ এনে সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। কী নেই? বাড়ির আঙিনার ভিতরে অথবা ঘরের ভিতরে কিংবা বাইরের প্রাঙ্গণে বাঁশবাগান গড়ে তুলতেও যদি কাতারে কেউ চায়, সে ব্যবস্থাও রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন আর সৌন্দর্যময় নানা রকমের গাছ। এই বিশাল আয়োজনের মালিকানা নেদারল্যান্ডসের উদ্যোক্তা সত্তর বছর বয়সী হ্যান্স হলেও এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বাংলাদেশি এক তরুণের। নাম আবদুল করীম। ১৯৯৯ সালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার আবদুল করীম ভাগ্যের সন্ধানে কাতারে যান। শ্রম, নিষ্ঠা আর সততা অতিসাধারণ এক তরুণকে সফল ব্যবসায়ী ও ব্যবস্থাপকে পরিণত করে। আবদুল করীম প্লাজা হলান্ডিয়া নামের এই বিশাল নার্সারির ব্যবস্থাপক ও অংশীদার।

প্লাজা হলান্ডিয়ায় কাজ চলে অনেকটা শিল্পকারখানার মতো। কর্মীদের বড় অংশটিই প্রবাসী বাংলাদেশি। যারা সবাই কৃষিতে বেশ দক্ষ। নার্সারিতে গাছের পরিচর্যার নানা নিয়ম ও কৌশল রয়েছে। নির্দিষ্ট আকারে গাছ তৈরি করার জন্য শুরু থেকেই অনেক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। ঘুরে দেখলাম পুরোটা নার্সারি। ৩৫টি দেশ থেকে আনা নানা প্রজাতির ফুলের গাছ, অর্নামেন্ট গাছে ভরা এক বিশাল ক্ষেত্র। আবদুল করীম জানাল দেশটির ৩০ ভাগ চাহিদা পূরণ করছে এই নার্সারিটি। এমনকি প্রতিদিন রাজপরিবারে ফুলের চাহিদা মেটাচ্ছে তারা। আছে বিশাল আকারের কিছু গাছ। বিশাল আকারের বনসাই মূলত কাতারের বড় বড় ভবনের ভিতরে, প্রবেশ দরজায় কিংবা বিনোদন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

আমাদের দেশেও এয়ারপোর্টের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এ গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে। দেশি বৃক্ষ সম্পদের বিপুল প্রাচুর্য থাকার পরও বাইরে থেকে সৌন্দর্যবর্ধনের ওই বৃক্ষের সমাবেশ ঘটানোর বিষয়টি নিয়ে বেশ আপত্তি ওঠে। যা হোক, এখানে রয়েছে দুর্লভ ও আকর্ষণীয় ফুল গাছের সংগ্রহ। বিশাল উদ্ভিদরাজির পরিচর্যা ও রোগবালাই দমন কীভাবে হয় তা জানার ইচ্ছা ছিল। নার্সারির ভিতর হঠাৎই চোখে পড়ল নভোচারীর মতো পোশাকের কয়েকজন কর্মী। করীম জানাল, ওরাই নিয়োজিত গাছের কীট, আগাছা, ছত্রাক, রোগবালাই নাশক প্রয়োগের জন্য। আর নভোচারীর পোশাক তাদের নিজেদের সুরক্ষার জন্য। যারা বড় পরিধির বাগানে কীটনাশক প্রয়োগ করেন তাদের জন্য এই সুরক্ষা হতে পারে অনুসরণীয়।

আবদুল করীম বলছিল, এখানে গাছপালা, নার্সারির বিশাল বাণিজ্যিক উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ চাইলেই যুক্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। সত্যিই অবাক হতে হয়, কাতারে এমন কিছু জিনিসপত্র বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, তা অনায়াসেই বাংলাদেশের উৎপাদকরা সরবরাহ করতে পারেন। বড় বড় প্লাস্টিক টব থেকে শুরু করে ছাদকৃষি, আঙিনা-কৃষি কিংবা ঘরবাড়িকে গাছ, লতাপাতা দিয়ে সাজানোর নানা উপাদান রয়েছে যেগুলো বাংলাদেশ অনেক কম দামেই সরবরাহ করতে পারে।

প্লাজা হলান্ডিতে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের পাশাপাশি রয়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মী। যারা কৃষিতে আন্তরিক ও দক্ষ। এই নার্সারির সঙ্গেই রয়েছে কর্মীদের থাকার সুব্যবস্থা। পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূরে থাকার একটি গ্লানি সব সময়ই থাকে। তার পরও আনন্দ তো ভুলে গেলে চলে না। কথা হলো কয়েকজনের সঙ্গে। তাদের কেউ শ্রীলঙ্কার, কেউ নেপালের, কেউ ভারতের। ভিন্ন দেশের, ভিন্ন ভাষার। একই প্রতিষ্ঠানে শ্রম বিক্রি করছে এই কাতারে, দেশে স্বজনদের ভালো রাখতে। কত শত স্বপ্ন বুকে লালন করে তারা বিদেশের মাটিতে বুনছে পরদেশি গাছ, সঙ্গে বুনছে সচ্ছল জীবনের বীজ। কাতারের সবুজের অভিযানে প্রবাসী বাংলাদেশিরাই রয়েছে চালকের আসনে। এর পেছনে বড় অবদান আবদুল করীমের। সেই তার পরিচিত মানুষদের দিনে দিনে যুক্ত করেছে এর সঙ্গে। কথা হয় তাদের সঙ্গেও। তারা জানালেন, শ্রম-ঘামের দিন শেষে সবাই বেশ ভালো আছেন।

দেশে চলছে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান। এখনো বিশাল আয়োজনে আগারগাঁওয়ে চলছে বর্ণাঢ্য বৃক্ষমেলা। দিনে দিনে নগরজীবনেও কৃষি মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে। ছাদকৃষি ও আঙিনা-কৃষিতে যুক্ত হচ্ছেন অনেকেই। এই হিসাবে নার্সারিশিল্পের চাহিদা, প্রসার ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব দিনে দিনে বাড়ছে। পরিকল্পিতভাবে এই বাণিজ্যে যুক্ত হলে তা নাগরিক সবুজায়ন ও কৃষিতে যেমন রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, একইভাবে মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি শুরু করা গেলে আসতে পারে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা। এ ক্ষেত্রে যেসব বাধা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বাদাবন কার্বন গিলে ফেলাতেই কি কমছে বৃষ্টি

বাদাবন কার্বন গিলে ফেলাতেই কি কমছে বৃষ্টি
বাদাবন কার্বন গিলে ফেলাতেই কি কমছে বৃষ্টি: সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ

খাতায়-কলমে বর্ষা এলেও জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টির হাহাকার লেগেই থাকছে গাঙ্গেয় বঙ্গে। জলবায়ু বদল বা প্রকৃতির অন্যান্য খামখেয়ালিপনার পাশাপাশি এ বার সেই ‘কার্পণ্যের’ নতুন একটি কারণ তুলে ধরছেন শহরের এক দল বিজ্ঞানী। তাঁদের গবেষণায় ফুটে উঠছে সুন্দরবনের বাদাবনের নতুন এক চরিত্রও।

বোস ইনস্টিটিউটের এক দল গবেষক তাঁদের নতুন এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, শুধু সামুদ্রিক ঝড়ঝাপটা নয়, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বড় একটি অংশকে বায়ুদূষণের হাত থেকেও বাঁচাচ্ছে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য। কিন্তু এই কাজটির একটি নেতিবাচক প্রভাবও পড়ছে। কারণ, ম্যানগ্রোভ অরণ্য বায়ুবাহিত কার্বনকণা গিলে ফেলায় বর্ষার ছন্দ বিগড়ে যাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা ‘কেমোস্ফিয়ার’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

শিবাজী রাহা, অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সনৎকুমার দাস, সঞ্জয় ঘোষের মতো প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানী এবং অভিনন্দন ঘোষ ও অরিন্দম রায়ের মতো তরুণ গবেষকদের নিয়ে গঠিত দলটি দেখেছে, গ্রীষ্মে ‘ঝুম’ চাষের জন্য পূর্বঘাট পর্বতের লাগোয়া এলাকার বিভিন্ন জনজাতি খেত থেকে বিভিন্ন শস্য তোলার পরে সেই সব গাছের অবশিষ্টাংশ পোড়ায় নির্বিচারে। সেই পোড়া ছাই এবং কার্বনকণা দখিনা বাতাসের সঙ্গে ভেসে আসে বাংলার দিকে। তবে শেষমেশ তা বাংলার হাওয়ায় ঢুকতে পারে না। কারণ, সুন্দরবনের হাওয়ায় মিশে থাকা লবণকণা এবং ম্যানগ্রোভ থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন জৈব গ্যাস সেই কার্বনকণা শুষে নেয়। ফলে ওই ছাই বা পোড়া সূক্ষ্ম কার্বনকণা কলকাতার দিকে বয়ে আসতে পারে না। 

বাদাবন ওই সব কার্বনকণা শুষে নেওয়ার ফলেই কি বর্ষার ‘স্বভাব’ বদলে যাচ্ছে? পরিবেশবিদদের অনেকে বলছেন, বেশ কয়েক বছর ধরে জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টিপাত কমেই চলেছে। ফলে বর্ষার চরিত্রে একটি বদলের ধারাও লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু সেটা স্থায়ী বদল কি না, সেই বিষয়ে এখনও ধন্দে অনেক গবেষকই।

অভিজিৎবাবু বলছেন, কার্বনকণার সঙ্গে এই বিক্রিয়ার ফলে বাতাসে মিশে থাকা লবণকণার চরিত্র বদলে যায়। তারই প্রভাব পড়ছে জলবায়ুর উপরে। স্বাভাবিক চরিত্র মেনে লবণকণা দ্রুত জল ধারণ করে মেঘ তৈরিতে সাহায্য করে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কার্বনের সঙ্গে বিক্রিয়ার ফলে সেই স্বাভাবিক চরিত্র হারাচ্ছে সামুদ্রিক বাতাসে মিশে থাকা লবণকণা। যে-হেতু এই গোটা প্রক্রিয়া গ্রীষ্মের শেষ এবং বর্ষার গোড়ায় ঘটছে, তার ফলে সেটা কুপ্রভাব ফেলছে বর্ষাকালের বর্ষণের উপরে।

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ঢাল হিসেবে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য কত বড় ভূমিকা পালন করে, সম্প্রতি ‘বুলবুল’ ঘূর্ণিঝড়ের সময়েই সেটা হাড়ে হাড়ে মালুম হয়েছে। পরিবেশবিদ ও আবহবিজ্ঞানীদের বক্তব্য, ম্যানগ্রোভের পাঁচিল না-থাকলে ওই অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে যেত কলকাতা-সহ উপকূলীয় বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকা। ওই ঝড়ের আঘাত বুক পেতে নিয়ে মহানগর-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বাঁচিয়ে দিয়েছে বাদাবন। তবে তাতে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার শুশ্রূষার কাজও শুরু করেছে বন দফতর। 

অভিজিৎবাবু জানাচ্ছেন, ভেসে আসা পোড়া কার্বনকণার দূষণ থেকে কলকাতাকে বাঁচাতে হলে ম্যানগ্রোভের বিস্তার তো বাড়াতেই হবে। একই ভাবে রাশ টানতে হবে পূর্বঘাট অঞ্চলের ‘ঝুম’ চাষেও।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০১৯
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com