আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

পৃথিবীর সব কীটপতঙ্গ মরে গেলে কী হবে?

২০১৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মনার্ক প্রজাপতির সংখ্যা ৮৬ শতাংশ কমে গেছে, বলছে এক জরিপ
২০১৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মনার্ক প্রজাপতির সংখ্যা ৮৬ শতাংশ কমে গেছে, বলছে এক জরিপ

পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ কখনো কখনো আপনার খাবারে এসে পড়ে, কখনো আপনাকে হয়তো কামড়েও দেয়। সে জন্য বিরক্ত হয়ে আপনি যদি এদের মারতে উদ্যত হন – তাহলে দু’বার ভাবুন ।

কারণ পৃথিবী জুড়েই পতঙ্গের সংখ্যা খুব দ্রতগতিতে কমে যাচ্ছে, এবং এটা এক বড় বিপদ।

খাদ্য উৎপাদন এবং আমাদের জীবজগতকে রক্ষার জন্য কীটপতঙ্গের ভুমিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

“পৃথিবীর সব কীটপতঙ্গকে আমরা যদি মেরে ফেলি, তাহলে আমরাও মারা যাবো” – বলছিলেন লন্ডনে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সিনিয়র কিউরেটর ড. এরিকা ম্যাকএ্যালিস্টার।

‘আমরা মারা যাবো’

বিভিন্ন প্রাণী বা উদ্ভিদ মরে গেলে কীটপতঙ্গ হামলে পড়ে তাদের ওপর, এর ফলে পচনের প্রক্রিয়া দ্রুততর হয় আর তার ফলে মার্টির উর্বরতা বাড়ে।

জৈবিক বর্জ্য পচনে সাহায্য করে কীটপতঙ্গ পৃথিবী পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে
জৈবিক বর্জ্য পচনে সাহায্য করে কীটপতঙ্গ পৃথিবী পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে

“কল্পনা করুন তো, পোকামাকড় যদি মানুষ বা পশুপাখীর মল সাবাড় না করতো, তাহলে পৃথিবীর অবস্থা কি হতো? কীটপতঙ্গ না থাকলে আমাদের বিষ্ঠা আর মরা প্রাণীর মধ্যে বসবাস করতে হতো” – বলছেন ড. ম্যাকএ্যালিস্টার।

অন্যদিকে এই পোকামাকড় খেয়েই কিন্তু পাখী, বাদুড় এবং ছোট আকারের স্তন্যপায়ী প্রাণীরা বেঁচে থাকে।

মেরুদন্ডী প্রাণীর ৬০ শতাংশই বেঁচে থাকার জন্য কীটপতঙ্গের ওপর নির্ভরশীল।

সুতরাং পোকামাকড় না থাকলে পাখী, বাদুড়, ব্যাঙ এবং মিঠা পানির মাছও অদৃশ্য হয়ে যাবে” – বলছেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফ্রান্সিসকো সানচেজ-বেয়ো ।

গবেষণা থেকে দেখা যায় প্রাকৃতিক পরাগায়নের কারণে আমাদের উপকার হয় ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের
গবেষণা থেকে দেখা যায় প্রাকৃতিক পরাগায়নের কারণে আমাদের উপকার হয় ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের

‘বিনামূল্যে সেবা’

তারা নিজেরাই কখনো হয় অন্যের খাদ্য, কখনো তারা হয় ইকোসিস্টেমের সেবক।

কিন্তু এ ছাড়াও আরেকটি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে কীটপতঙ্গেরা – তা হলো পরাগায়ন – যা খাদ্য উৎপাদনের জন্য অত্যাবশ্যক।

এক জরিপে বলা হয়, পরাগায়নের জন্য মানুষ যে সুফল পায় – তার পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি ডলার।

ড. সানচেজ-বায়ো বলছেন, বেশির ভাগ ফুলেরই পরাগায়নের জন্য পোকামাকড়ের দরকার হয় – যার মধ্যে আছে চাল-গমের মতো শস্যের গাছের ৭৫ শতাংশ।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা অনেক সময় বুঝিই না যে – পোকামাকড়দের থেকে আমরা কতটা সাহায্য পাচ্ছি।

ড. ম্যাকএ্যালিস্টার বলছেন, চকলেট তৈরি হয় যে কোকোয়া থেকে – তার পরাগায়ন হয় ১৭ রকম পোকামাকড় দিয়ে, এর মধ্যে ১৫টিই মানুষকে কামড়ায়। আর দুটি হচ্ছে ছোট পিঁপড়া এবং মথ। কিন্তু এদের সম্পর্কে আমরা খুবই কম জানি।

পৃথিবীর অনেক দেশেই মৌমাছির মতো পরাগায়নকারী পতঙ্গের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

মনার্ক বাটারফ্লাই সহ বহু ধরণের প্রজাপতি – যা অনেক বুনো ফুলের পরাগায়নের জন্য দায়ী – তাদের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

কিন্তু আমরা কি এ সমস্যাটা উপেক্ষা করছি? বেশি দেরি হয়ে গেলে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না।

পৃথিবীতে কীটপতঙ্গের সংখ্যা কত?

কীটপতঙ্গের সংখ্যাটা এতই বড় যে তা মানুষের পক্ষে উপলব্ধি করাই কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউটের মতে পৃথিবীর সব কীটপতঙ্গকে যদি এক জায়গায় জড়ো করে তার ওজন নেয়া হয়, তাহলে তা হবে পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত ওজনের চাইতেও ১৭ গুণ বেশি।

পঙ্গপালের মতো অনেক পোকামাকড় মানুষের জন্য ক্ষতিকর
পঙ্গপালের মতো অনেক পোকামাকড় মানুষের জন্য ক্ষতিকর

ইনস্টিটিউটের মতে, পৃথিবীতে যে কোন মুহূর্তে কীটপতঙ্গের সংখ্যা হচ্ছে ১০ কুইন্টিলিয়ন (এক কুইন্টিলিয়ন হচ্ছে এক বিলিয়ন বিলিয়ন) অর্থাৎ ১ এর পেছনে ১৯টা শূন্য দিলে যা হয় – ১০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০।

কত প্রজাতির কীট পতঙ্গ আছে পৃথিবীতে? এ সংখ্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা একমত নন – তবে তা ২ থেকে ৩০ মিলিয়নের মধ্যে যে কোন পরিমাণ হতে পারে।

কীটপতঙ্গ নিয়ে গবেষণা হয়েছে খুবই সামান্য। তবে আমরা প্রায় ৯ লক্ষ রকমের পতঙ্গের কথা জানি।

বিলুপ্তির ঝুঁকি

তবে সংখ্যায় এত বেশি হলেও কীটপতঙ্গেরা গণহারে বিলুপ্ত হবার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

অনেক কীটপতঙ্গ আবিষ্কৃত বা চিহ্নিত হবার আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।

অনেক পাখীরই প্রধান খাদ্য হচ্ছে পোকামাকড়
অনেক পাখীরই প্রধান খাদ্য হচ্ছে পোকামাকড়

জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং পুয়ের্তো রিকো হচ্ছে এমন তিনটি দেশ – যেখানে গত ৩০ বছর ধরে কীটপতঙ্গের সংখ্যার ওপর জরিপ চালানো হচ্ছে।

তাতে দেখা যায়, প্রতিবছর ২ দশমিক ৫ শতাংশ করে পতঙ্গের সংখ্যা কমছে।

জার্মানিতে ৬০টি সংরক্ষিত জায়গাতেই গত ৩০ বছরে উড়ন্ত পতঙ্গের সংখ্যা ৭৫ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে, বলছে ২০১৭ সালের এক জরিপ।

বহু দেশেই মৌমাছির সংখ্যা কমছে
বহু দেশেই মৌমাছির সংখ্যা কমছে

পুয়ের্তো রিকোতে চার দশকে কীটপতঙ্গের সংখ্যা প্রায় ৯৮ ভাগ কমে গেছে, বলছেন একজন আমেরিকান শিক্ষাবিদ।

এই হারে সংখ্যা কমতে থাকলে এক শতাব্দীর মধ্যে কীটপতঙ্গের প্রজাতিগুলোর ৪১ শতাংশেরও বেশি অদৃশ্য হয়ে যাবে – বলছেন ড. সানচেজ।

এর একটা বড় কারণ হচ্ছে কীটপতঙ্গের হ্যাবিট্যাট অর্থৎ আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া।

এর পেছনে কৃষিকাজ একটা বড় ভূমিকা রাখছে।

অনেক দেশে - যেমন চীনে - মাংসের পরিবর্তে বিভিন্ন পোকা খাওয়া হয়
অনেক দেশে – যেমন চীনে – মাংসের পরিবর্তে বিভিন্ন পোকা খাওয়া হয়

ড. ম্যাকএ্যালিস্টার বলছেন, কীটপতঙ্গের যৌনমিলন ও বংশবৃদ্ধির জন্য বড় গাছের ছায়া ও পঁচা পাতা দরকার – যাতে তাদের ডিম ও শূককীট বাস করে। চাষাবাদের কারণে এই পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তার পর আছে কীটনাশক, অন্য আগ্রাসী প্রজাতি, এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির মতো কারণ।

কিন্তু তেলাপোকার মতো পতঙ্গ এসব পরিবর্তনের মধ্যেও টিকে থাকার মতো প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছে তাই তাদের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।

তেলাপোকার মত পতঙ্গের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে
তেলাপোকার মত পতঙ্গের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভ গুলসন বলছেন, এর ফলে দেখা যাবে কিছু প্রজাতির কীটপতঙ্গের সংখ্যা হয়তো অনেক বেড়ে যাবে কিন্তু আমাদের যা দরকার সেই মৌমাছি, প্রজাপতি – এগুলো হারিয়ে যেতে থাকবে।

এটা ঠেকানোর উপায় তাহলে কী?

বিজ্ঞানীরা বলেন, উপায় আছে।

ফ্রান্সিসকো সানচেজ-বেয়ো বলছেন, এ জন্য প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনতে হবে, গাছ লাগাতে হবে, ঝোপঝাড় বাড়াতে হবে, মাঠের আশপাশে ফুলগাছ লাগাতে হবে। বিপজ্জনক কীটনাশক বাজার থেকে দূর করতে হবে। কার্যকর পন্থা নিতে হবে যাতে কার্বন নির্গমন কমানো যায়।

অর্গানিক খাবার অর্থাৎ রাসায়নিকমুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে জন্মানো খাবার গ্রহণ করাটাও এ জন্য সহায়ক হবে, বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

চাষাবাদ নিয়ন্ত্রণে বাঁচবেন কৃষক

দুই দশক আগে রাজশাহীতে এক বিঘা জমিতে আলু চাষে খরচ পড়ত ৬০০ টাকা। তখন আলু বিক্রি হতো ১০ টাকা কেজি দরে। এখন একই পরিমাণ জমিতে আলুর আবাদে খরচ বেড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ২০ বছর পরে এসেও হিমাগার পর্যায়ে চাষিদের সেই ১০-১২ টাকা কেজি দরেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদার অতিরিক্ত আলু উৎপাদনের কারণেই দাম নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। কৃষকেরা কেবল আলুর উৎপাদনই বাড়াতে শিখেছেন, কিন্তু বেশি দামে বিক্রির কোনো উপায় তাঁদের জানা নেই। সরকার বা কৃষি উৎপাদন ও বিপণনে সম্পৃক্ত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও কৃষকদের জন্য কোনো সমাধান নিয়ে আসতে পারেনি। এর ওপর করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষকদের দিয়ে আলুর চাষ বাড়িয়ে চলেছে। অন্যদিকে দাম কম বলে ঋণগ্রস্ত কৃষকেরা হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করতে পারছেন না। আলু উৎপাদন করতে গিয়ে তাঁদের পথে বসতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে এবার ১ কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। বীজ আলুসহ দেশে চাহিদা রয়েছে ৮৯ লাখ মেট্রিক টন। এতে ২০ লাখ টন আলু অবিক্রীত থাকতে পারে। এই আলুর ভার এসে পড়ছে চাষিদের ওপর।

কৃষকদের এমন দুরবস্থার সমাধানে সম্প্রতি রাজশাহীতে এক সেমিনারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম মনজুর হোসেন আলু চাষের জন্য কোটা বা প্রাইমারি লাইসেন্স (পিএলসি) পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই পদ্ধতিতে চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে চাষিদের আলুর জমির কোটা বা পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। ফলে অতিরিক্ত আলু অবিক্রীত থাকবে না।

কিন্তু ওই সেমিনারের প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন বিভাগের পরিচালক এ কে এম মনিরুল আলম পিএলসি প্রস্তাবের বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে আমরা কোটা বা পিএ

যোগাযোগ করা হলে এম মনজুর হোসেন জানান, তিনি জেনেশুনেই প্রস্তাবটি দিয়েছেন। ডব্লিউটিওর এমন শর্ত নেই যে কোনো দেশ উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কৃষিপণ্যের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, জাপান এক বছর ধান উৎপাদন করলে ছয় বছর খেতে পারে। সে জন্য তারা এক বছরে সব ধানের জমিতে ধান উৎপাদন করে না। এভাবে কানাডায় আলুর উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ভারতের নয়াদিল্লিতেও কেউ ইচ্ছেমতো যত খুশি আলু চাষ করতে পারেন না। ডব্লিউটিওর শর্ত অনুযায়ী সরকার অবশ্যই নিজ দেশে কৃষিপণ্যের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে কোনো বাধা নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

৪ সবজিতে ক্ষতিকর মাত্রায় রাসায়নিক

বাজারে প্রায় সারা বছরই বেগুন পাওয়া যায়। ফুলকপি শীতকালে পরিণত হলেও এ সবজির আগাম জাত আগস্টেই বাজারে চলে আসে। শিম আর বরবটি অবশ্য আরও মাসখানেক পর আসবে। নিত্য পাতের এ চার সবজিতেই ক্ষতিকর মাত্রায় রাসায়নিক কীটনাশকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকেরা। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে উৎপাদিত সবজিতে এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক পাওয়া গেছে তুলনামূলক বেশি। আম, পেয়ারায়ও ক্ষতিকর মাত্রায় কীটনাশক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পানেও এ ধরনের রাসায়নিক পেয়েছেন গবেষকেরা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) চারটি গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। তিনটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে গত ডিসেম্বর থেকে গত আগস্টের মধ্যে গবেষণার ফলগুলো প্রকাশিত হয়েছে। এ সাময়িকীগুলো হলো জার্নাল অব ফুড কমপোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস, ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট্রি এবং জার্নাল অব দ্য সায়েন্স অব ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার। এর মধ্যে জার্নাল অব ফুড কমপোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস প্রকাশ করে এলসেভিয়ের। এ প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যানসেটসেলও প্রকাশ করে। আর জার্নাল অব দ্য সায়েন্স অব ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক সোসাইটি অব কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি।

আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ, ভালো উৎপাদনে ভালো পুষ্টি, আর ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন।’বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বেগুন, ফুলকপি, শিম ও বরবটির নমুনার ১১ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাত্রায় রাসায়নিক কীটনাশকের উপস্থিতি পেয়েছেন। এসব গবেষণা করা হয়েছে বারিতে স্থাপিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষণাগারে।

ওই চার গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বারির কীটতত্ত্ব বিভাগের বালাইনাশক গবেষণা ও পরিবেশ বিষতত্ত্ব শাখার ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন প্রধান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ নিয়ম রয়েছে। ফসলে কীটনাশক প্রয়োগের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, যাতে ফসল সংগ্রহ করলে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের মাত্রা ক্ষতির পর্যায়ের নিচে নেমে আসে। যেমন অর্গানোফসফরাস কীটনাশক ব্যবহারের ১০ থেকে ২০ দিন পর ফসল তুলতে হয়। সিনথেটিক পাইরিথ্রয়েডের ক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে হয় চার থেকে সাত দিন। কিন্তু আমাদের দেশের
কৃষকেরা নিয়মগুলো অনুসরণ না করেই ফসল সংগ্রহ করেন।’ তিনি বলেন, গবেষণার জন্য তিনি ও তাঁর দল ভোক্তাদের কাছে ফল ও সবজি বিক্রির আগে নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনগুলোয় বলা হয়েছে, সবজি ও ফলের নমুনায় গবেষকেরা সাইপারমেথ্রিন, ক্লোরোপাইরিফস, ডাইমেথয়েট, অ্যাসিফেট ও কুইনালফসের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক পেয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব রাসায়নিক ক্যানসার, পারকিনসনস, চর্মরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা ধরনের রোগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এসব রাসায়নিকযুক্ত খাবার খেলে স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হতে পারে। শিশুদের বুদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভের সন্তানের নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে।বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এখানে জনপ্রিয় বেশির ভাগ রাসায়নিক কীটনাশক উন্নত বিশ্বে পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ হচ্ছে। কারণ, এগুলো মানবদেহের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি ডেকে আনছে। এগুলোর ব্যবহারবিধি ঠিকমতো অনুসরণ না হলে দেশে ক্যানসারসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে আগাম জাতের সবজি ও ফল বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। এসব কৃষিপণ্য চাষের সময়ে পোকার আক্রমণও বেশি হয়। এর সহজ সমাধান হিসেবে কৃষকেরা রাসায়নিক কীটনাশক বেশি ব্যবহার করেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার শরীফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আবহাওয়াগত কারণে বাংলাদেশে বেশি পরিমাণে কীটপতঙ্গ বিস্তার লাভ করে। আর তা দমনে কৃষকেরা রাসায়নিক কীটনাশক বেছে নেন। তিনি ভারতের পাঞ্জাবসহ কয়েকটি রাজ্যের উদাহরণ টেনে বলেন, ওই রাজ্যগুলোয় কৃষকেরা ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করেন। ওই রাজ্যগুলোয় মানুষের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হারও তুলনামূলক বেশি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যাতে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সতর্ক থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আম ও পেয়ারায়ও ক্ষতিকর কীটনাশক

বারির আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের জনপ্রিয় ফল আম ও পেয়ারায়ও ক্ষতিকর মাত্রায় কীটনাশক পাওয়া গেছে। তবে তা বেগুন, ফুলকপি, শিম ও বরবটির তুলনায় কম। আমের ৪ শতাংশ নমুনায় এবং পেয়ারার ৬ শতাংশ নমুনায় ওই রাসায়নিক পেয়েছেন গবেষকেরা। গবেষণার জন্য ১৪০টি আম ও ১৩০টি পেয়ারার নমুনা সংগ্রহ করে তা বারির গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে।

দেশের সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদনকারী এলাকা রাজশাহী বিভাগ। এ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত আমের নমুনার ১৩ শতাংশে ক্ষতিকর কীটনাশকের অবশেষ পাওয়া গেছে। দিনাজপুর ও জামালপুরের আমের ২০ শতাংশ নমুনায় এসব রাসায়নিক পাওয়া গেছে। বগুড়া, কুমিল্লা ও যশোরের আমের ১০ শতাংশ নমুনায় কীটনাশকের অবশেষ পেয়েছেন গবেষকেরা। গাজীপুর ও ঢাকার আমের নমুনার ৫ শতাংশেও ছিল এসব রাসায়নিক। বরিশাল থেকে সংগৃহীত আমের কোনো নমুনায় ক্ষতিকর মাত্রায় কীটনাশক পাওয়া যায়নি।

তবে বরিশালের পেয়ারায় রাসায়নিক পাওয়া গেছে সবচেয়ে বেশি। দেশে উৎপাদিত পেয়ারার ৮০ শতাংশই আসে এ বিভাগ থেকে। গবেষণায় বরিশাল থেকে সংগৃহীত নমুনার ১৩ শতাংশে কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জামালপুর, নরসিংদী ও যশোরের পেয়ারার ১০ শতাংশ নমুনায় এসব রাসায়নিক ছিল। তবে ঢাকা, গাজীপুর, কুমিল্লা ও বগুড়ায় উৎপাদিত পেয়ারার নমুনায় রাসায়নিকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

পানের ১১ শতাংশ নমুনায় রাসায়নিক

পানের নমুনার ১১ শতাংশেও একই ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পান নিয়ে করা গবেষণাটির জন্য বরিশাল, বগুড়া, ঢাকা, গাজীপুর, জামালপুর, নরসংদী ও রংপুর থেকে মোট ১১০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

জানতে চাইলে বারির মহাপরিচালক মো. নাজিরুল ইসলাম বলেন, ফলমূল, শাকসবজিতে বিষাক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার ইতিমধ্যে কর্মসূচি নিয়েছে। ২৪টি জৈব বালাইনাশকভিত্তিক প্রযুক্তির উদ্ভাবনও করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষকপর্যায়ে সফলভাবে ব্যবহার শুরু হয়েছে। আশা করা যায়, ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার দিনে দিনে কমে আসবে।

আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প জৈব বালাইনাশক এবং কীটপতঙ্গ দমনের প্রাকৃতিক পদ্ধতি জনপ্রিয় করছি। আর কৃষকেরা এসব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াচ্ছেন। তবে শুধু সরকারি সংস্থার মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে সফল হওয়া কঠিন হবে। কৃষকদেরও সচেতন হতে হবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বাংলায় নেমেছে হেমন্তের দিন

শীত-শরতের সেতু বাঁধতে বঙ্গের ভূমিতে নেমেছে হেমন্তের দিন। মাঠে মাঠে হালকা বাতাসে দুলছে সোনার ধান। কার্তিকের সবুজ মধ্যাহ্নে ফসলের মাঠে চোখজুড়ে স্বপ্ন বুনছে কৃষান-কৃষানিরা। স্কুল বালিকারা ধানক্ষেতের আল ডিঙিয়ে হেঁটে যাচ্ছে শিশিরভেজা পায়ে, নদীতে হাঁসের বাথান মেতেছে জলকেলিতে, সারি সারি ডিঙি নৌকা দেহ এলিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে আকাশের তলে। দূরের অরণ্যঘেরা পাহাড়টা ক্রমে ঢেকে দিচ্ছে মৃদু কুয়াশা। জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা এ বাংলায় এমনই বিচিত্র দৃশ্যের আবাহন নিয়ে হাজির হয়েছে চতুর্থ ঋতু হেমন্ত। এরই মধ্য দিয়ে প্রকৃতিও শোনাচ্ছে শীতের পূর্বাভাস।

আজ পহেলা কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, হেমন্তের প্রথম দিন। জীবন ও প্রকৃতিতে এক আশ্চর্য বিভোরতা-রোমান্টিকতা নিয়ে আসে হেমন্ত। বাংলা সাহিত্যে কবি-শিল্পীদের সৃজনে নানা মাত্রিকতা ও আঙ্গিকে ধরা দিয়েছে নবান্নের এ ঋতু। বাংলা কবিতায় হেমন্ত বন্দনা সবিশেষ স্থানজুড়ে বিরাজ করছে। তিমির হননের কবি জীবনানন্দ দাশ তো পরাবাস্তবতাকেই জীবন ও কবিতার সারবস্তু হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছেন। শঙ্খচিল, শালিক কিংবা ভোরের কাক হয়ে বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায় বারবার ফেরার আকুতি প্রকাশ করেছেন।

jagonews24

এ বিভোরতা নিয়ে কবিতায় লিখেছেন- ‘প্রথম ফসল গেছে ঘরে,-/ হেমন্তের মাঠে – মাঠে ঝরে/ শুধু শিশিরের জল; অঘ্রানের নদীটির শ্বাসে/ হিম হয়ে আসে/ বাঁশ – পাতা – মরা ঘাস- আকাশের তারা!/ বরফের মতো চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা !/ ধানক্ষেতে – মাঠে/ জমিছে ধোঁয়াটে/ ধারালো কুয়াশা!/ ঘরে গেছে চাষা ;/ ঝিমায়াছে এ- পৃথিবী ,- তবু পাই টের/ কার যেন দুটো চোখে নাই এ ঘুমের কোনো সাধ!’ [কবিতা- পেঁচা (মাঠের গল্প)]

ধান মাঠের দৃশ্য শিকারি কবি নবান্নের অবিচ্ছিন্ন অনুভবে লিখেছেন- ধান কাটা হয়ে গেছে কবে যেন — ক্ষেত মাঠে পড়ে আছে খড়/ পাতা কুটো ভাঙা ডিম — সাপের খোলস নীড় শীত। এই সব উৎরায়ে ওইখানে মাঠের ভিতর/ ঘুমাতেছে কয়েকটি পরিচিত লোক আজ — কেমন নিবিড়। [কবিতা- ধান কাটা হয়ে গেছে]

jagonews24

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায়ও হেমন্তগীত দুর্দান্তভাবে উদ্ভাসিত হয়েছে। তার লেখায়- ‘অন্ন জোটে না, কথা জোটে মেলা,/ নিশিদিন ধরে এ কি ছেলেখেলা!/ ভারতীরে ছাড়ি ধরো এইবেলা/ লক্ষ্মীর উপাসনা।’ [কবিতা- পুরস্কার]

ষড়ঋতুর এ দেশে কার্তিক-অগ্রহায়ণ দুই মাস হেমন্তকাল। এখন ধীরে কমছে সূর্যের প্রখরতা, ছোট হয়ে আসছে দিনের আয়ু। কদিন বাদেই এ ভূ-ভাগে জেঁকে বসবে শীত। শীতের পূর্বভাগে মূলত এ ঋতু ঘিরে বাঙালির চিরায়ত যে নবান্নের ছোঁয়া তা দিন দিনই মলিন হয়ে যাচ্ছে। নবান্ন উৎসবের ঐতিহ্যগত যে কদর, সেটিও যেন বিবর্ণ অনেকটাই। তবুও সব মলিনতা তুচ্ছ করে অপরূপ রূপে সেজেছে হেমন্ত।

বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম কবিতায় হেমন্তের বন্দনায় লিখেছেন- ‘ঋতুর খাঞ্চা ভরিয়া এল কি ধরণির সওগাত?/ নবীন ধানের আঘ্রাণে আজি অঘ্রাণ হল মাত।/ ‘গিন্নি-পাগল’ চালের ফিরনি/ তশতরি ভরে নবীনা গিন্নি/ হাসিতে হাসিতে দিতেছে স্বামীরে, খুশিতে কাঁপিছে হাত।/ শিরনি বাঁধেন বড়ো বিবি, বাড়ি গন্ধে তেলেসমাত!’ [কবিতা- অঘ্রাণের সওগাত]

jagonews24

হেমন্তের প্রথম মাস কার্তিক ও দ্বিতীয় মাস অগ্রহায়ণেরও রয়েছে ভিন্ন রূপ। হেমন্ত একদিকে যেমন শরতের বিদায় টঙ্কা বাজায়, অন্যদিকে শীতের আগমনী বার্তা শোনায়। এখন কৃষকের গোলার ধান প্রায় শেষ দিকে। এ কারণে অনেকে এ মাসকে ‘মরা কার্তিক’ বলেও অভিহিত করে। তবে অগ্রহায়ণে ধান কাটা শেষে কার্তিকের শূন্য গোলা ভরে উঠে সোনার ধানে। গ্রামীণ জীবনে তখন কেবলই ছড়ায় পাকা ধানের মিষ্টি ঘ্রাণ। রাতে প্রতিবেশী বধূদের ঢেঁকিতে ধান ভানার শব্দ ভেসে আসে দূর থেকে।

দেশের কিছু অঞ্চলে এরই মধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এটা আগাম আমন ধান কাটার মৌসুম। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে মহাধুমধামে চলছে ফসল কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। কার্তিকের মাঝামাঝি সারাদেশেই ফসলের মাঠে ব্যস্ততা বাড়বে। ধুম পড়বে সোনার ধান ঘরে তোলার। এরপরই নতুন চালে শুরু হবে নবান্ন। পিঠা-পুলির উৎসব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

মা ইলিশ রক্ষা করি ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করি

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। বাঙালির অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু এ মাছ যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিরাপদ আমিষ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ইলিশ দেশের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। ইলিশের সহনশীল উৎপাদন বজায় রাখার লক্ষ্যে ডিমওয়ালা মা ইলিশ রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা ইলিশ রক্ষা পেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আর এ লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর (১৯ আশ্বিন হতে ০৯ কার্ত্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত মোট ২২ দিন দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার জলসীমায় মা ইলিশ ধরা নিষেধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

“মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় হতে নিষিদ্ধকালীন এই ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিপনন নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দেশে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সর্বসাধারণ বিশেষ করে জেলে, মৎস্যজীবী সম্প্রদায় ও ইলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী, আড়তদার, বরফকল মালিক, বোট মালিক, দাদনদার এবং ভোক্তাসহ সবাইকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধকরণ করা। একইসঙ্গে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়া। আর এ প্রচারের কাজটি সর্বাধিক করে থাকে মন্ত্রণালয়ের মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর। দেশে ইলিরে অভয়াশ্রম রয়েছে (৫টিতে মার্চ-এপ্রিল মাছ ধরা বন্ধ) ৬টি যার মোট আয়তন-৪৩২ কি.মি. । আর ৬ টি অভয়াশ্রম হলো বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও শরিয়তপুর । বাংলাদেশে ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রের চারটি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। যা প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা জুড়ে রয়েছে। চারটি পয়েন্ট হলো- মীরসরাই, চট্টগ্রামের মায়ানি, তজুমুদ্দিন ও ভোলার পশ্চিমে সৈয়দ আওলিয়া, কুতুবদিয়া ও কক্সবাজারের উত্তর কুতুবদিয়া এবং পটুয়াখালির কলাপাড়া ও লতাচাপালী পয়েন্ট।

তাছাড়া সকল নদ-নদীতে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ২০২১ সালে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে দেশের ৩৮ টি জেলা ও ১৭৪ টি উপজেলাকে। নিষেধাজ্ঞা আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছর সশ্রম কারাদন্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। বর্তমানে ইলিশ ধরায় সরাসরি দেশের প্রায় ৬ লক্ষ জেলে নিয়োজিত । প্রধান প্রজনন মৌসুমে পরিবার প্রতি ২০ কেজি হারে ভিজিএফ দেয়া হচ্ছে। ২০২১ সালে ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৪৪ টি জেলে পরিবারে ১১ হাজার ১১৮ দশমিক ৮৮ মে.টন চাল বরাদ্ধ প্রদান করা হয়েছে।

ইলিশ মাছ প্রজননের ক্ষেত্রে চন্দ্রনির্ভর আবর্তন অনুসরণ করে। প্রতিবছর আশ্বিন মাসের প্রথম উদিত চাঁদের পূর্নিমার আগের চারদিন, পরের ১৭ দিন এবং পূর্ণিমার দিনসহ মোট ২২ দিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১১ দিন, ২০১৫ সালে ১৫ দিন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়। ইলিশ মূলত সারা বছর কমবেশি ডিম ছাড়লেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর হচ্ছে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এই সময়েই প্রায় ৮০ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়ে।

মা ইলিশ বলতে প্রজননক্ষম পরিপক্ব স্ত্রী ইলিশ মাছ বুঝায়। ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ। ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। বিশ্বে আহরিত ইলিশের প্রায় শতকরা ৮৬ ভাগ আহরণ করা হয় এই দেশে। ২০১৭ সালের ১৭ আগষ্ট বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।

বৈচিত্র্যময় জীবন ইলিশের। ইলিশ প্রধানত সামুদ্রিক মাছ হলেও প্রজনন কালীন সময়ে এ মাছ ডিম ছাড়ার জন্য বেছে নেয় স্বাদু পানির উজানকে। এ সময়ে ইলিশ দৈনিক প্রায় ৭১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। প্রজননের উদ্দেশ্যে ইলিশ প্রায় এক হাজার দুইশত কিলোমিটার উজানে পাড়ি দিতে সক্ষম। সাগর থেকে ইলিশ যত ভেতরের দিকে আসে, ততই শরীর থেকে লবণ কমে যায়। এতে স্বাদ বাড়ে ইলিশের। বাংলাদেশে প্রতিবছর ৯-১০ শতাংশ হারে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে ।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার জাটকা আহরণও নিষিদ্ধ করেছে । এবং এর সময়সীমা এবং দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। মৎস্য সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ অনুযায়ী ১ নভেম্বর-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ ইঞ্চির ছোট জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকে। জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ফেব্রুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত মোট ৪ মাস প্রদান করা হয় । ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে প্রতি অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে। ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে বরাদ্দের পরিমান ছিল ২ কোটি টাকা। বর্তমান অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার টন, সেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার মে. টনে উন্নীত হয়েছে। যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ। এর চলতি বাজার মূল্য প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ইলিশের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের ২০০২ সাল থেকে ২০১৮ সালে ইলিশের যোগান যেখানে ৫৬ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশে ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জাটকা আজ মেঘনা থেকে পদ্মা, যমুনা, ব্র²পুত্র, সুরমায় বিস্তৃতি লাভ করেছে। গত ১০ বছরের ব্যবধানে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা ফলাফল বলছে, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেতো। বর্তমানে ১৭৪ টি উপজেলার আশপাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীতে এই মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পদ্মার শাখানদী মহানন্দা থেকে শুরু করে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর এবং ব্রা²ণবাড়িয়ার মেদির হাওরেও ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, একটি ইলিশ একসঙ্গে কমপক্ষে ৩ লাখ ও সর্বোচ্চ ২১ লাখ ডিম ছাড়ে। এসব ডিমের ৭০-৮০ শতাংশ ফুটে রেণু ইলিশ হয়। এর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে, যা পরবর্তীতে ইলিশে রূপান্তরিত হয়।

ইলিশ দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশে রপ্তানি ছাড়াও ইলিশের নডুলস, স্যুপ ও পাউডার তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে ইতোমধ্যে তা বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। ইলিশ শুধু জাতীয় মাছ ই নয়।অর্থনীতিতেও রয়েছে বিরাট অবদান। পরিসংখ্যান মতে, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের ১২ ভাগ (যার আনুমানিক অর্থমূল্য আট হাজার ১২৫ কোটি টাকা) আসে ইলিশ মাছ থেকে। জিডিপিতে ইলিশ মাছের অবদান শতকরা ১ ভাগ। পৃথিবীর সব দেশেই এ মাছের চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর ইলিশ মাছ রপ্তানি করে প্রায় ৩, শ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

যদি প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা ও জাটকা নিধন বন্ধ থাকে তাহলে ২১ থেকে ২৪ হাজার কোটি নতুন পরিপক্ব ইলিশ পাওয়া যাবে। এতে বছরে সাত হাজার কোটি টাকা মূল্যের ইলিশের বাজার সৃষ্টি সম্ভব হবে বাংলাদেশে। এতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। বাড়বে চলছে কর্মসংস্থান। যা নিঃসন্দেহে দেশের গোটা অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলবে। পাশাপাশি দেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিপন্ন হচ্ছে জলের পাখি ডাহুক

মাঝারি আকৃতির জলের পাখি ডাহুক। ডাহুক খুব সতর্ক পাখি। আত্মগোপনে পারদর্শী। এই পাখিটি খুব ভীরু বলেই কি এত সুন্দর?

পুকুর, খাল, জলাভূমি, বিল, নদীর পাড়ের গর্ত তাদের বসবাসের জন্য প্রিয় স্থান। তবে দ্রুত নগর বিস্তৃতির ফলে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দর এই পাখি।

দুই দশক আগেও মৌলভীবাজার জেলার হাওর-বাওর, খাল, বিল-ঝিল, ডোবা, নালা-দীঘির পাশের ঝোপঝাড়ে দল বেঁধে বাস করতো ডাহুক পাখি।

jagonews24

গ্রামাঞ্চলের পুকুর পাড়ের ঝোপঝাড়ে সন্ধ্যেবেলা ডাহুকের ডাক শোনা যেত। গভীর রাতেও ডাহুকের ডাকে অনেকের ঘুম ভাঙতো। তবে আজকাল আর ডাহুকের কণ্ঠ শোনা যায় না।

একসময় বর্ষা ও শরতে ডাহুকরা বাড়ির গৃহপালিত হাঁস মুরগির সঙ্গে বেড়াতো। এখন আর তাদের আনাগোনা দেখা যায় না। চোখে পড়ে না। ডাহুক পাখি এখন হারিয়ে যেতে শুরু করেছে।

বর্ষাকাল এদের প্রজনন ঋতু। এসময় তারা বাসা করে পানির কাছেই ঝোপঝাড়ের ভেতরে অথবা ছোট গাছের ঝোপযুক্ত ডালে। নিরাপত্তা ঠিকঠাক থাকলে মাটিতেও বাসা করে এই পাখি। ৫-৭টি ডিম পাড়ে এরা, ডিমের রং ফিঁকে হলুদ বা গোলাপি মেশানো সাদা।

jagonews24

ডাহুক-ডাহুকি দু’জন মিলেই ডিমে তা দেয়। বাচ্চার রং সব সময় হয় কালো। ডিম ফোটে প্রায় ২১-২৪ দিনে। আর ২৪-৩০ ঘণ্টা পরই বাচ্চারা বাসা ছাড়ে।

মাস তিনেক পরে বাচ্চারা আলাদা জীবন বেছে নেয়। প্রজননের সময় একটি পুরুষ ডাহুক অন্য একটি পুরুষ ডাহুককে সহ্য করতে পারে না। দেখলেই তারা মারামারি করে। এই পাখি লড়াকু প্রকৃতির।

ডাহুকের প্রিয় খাদ্য জলজ পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ। এছাড়াও শাপলা-পদ্ম ফুলের নরম অংশ, কচি পানিফল, জলজ শেওলা, লতাগুল্মের নরম অংশ, ধান, কাউন, ডাল, সরিষা, শামুক, কেঁচো, জোঁক, মাছ, ছোট মাছ, শাকসবজি ও ফল খেয়ে থাকে।

jagonews24

পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এরা বিস্তৃত, প্রায় ৮৩ লাখ ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস।

তবে বর্তমানে তাদের আবাস্থল ধ্বংস হচ্ছে। খাদ্য সংকট ও প্রজননকালীন সময়ে শিকারীদের উৎপাতসহ নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব এ প্রজাতির পাখি। শিকারিদের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না গভীর বনজঙ্গলে বসবাসকারী ডাহুকগুলো।

সম্প্রতি আই.ইউ.সি.এন এই প্রজাতিটিকে নুন্যতম বিপদগ্রস্থ বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।

jagonews24

কাওয়াদীঘি হাওর পারের পৈতুরা গ্রামের সানা মিয়া বলেন, ‘ডাহুক অনেকটা বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে দেখা যায়। ঝোপঝাড় ধ্বংসের ফলে ডাহুকের বর্তমান অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। প্রকৃতিতে এদের নিরাপত্তা দিতে অবশ্যই এদের বাসস্থান ধ্বংস বন্ধ করতে হবে। না হলে সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন বিপন্নের লাল তালিকায় লেখা হবে ডাহুক পাখির নাম।’

রাজনগর উপজেলার বলদার সাগর দীঘির পারের সেলিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ওই দীঘিতে এক শিকারি এসে ডাহুক ধরার ফাঁদ পেতে ছিল। বিষয়টি রাজনগর থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে খাঁচার পাখিটি নিয়ে পালিয়ে যায় শিকারি।’

বনরেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকৃতিকে সুন্দর রাখতে পাখপাখালিকে নিরাপত্তা দিতে হবে। আমরা গত নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি ডাহুক পাখি শিকারির হাত থেকে উদ্ধার করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যোনে অবমুক্ত করেছি। কোথাও পাখি আটকের খবর পেলে আমরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে থাকি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com