আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

পূর্বধলায় নাসারা এগ্রো হ্যাচারীতে মৎস্য চাষীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর অনুষ্ঠিত

 ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি ফেজ প্রজেক্ট (এনএটিপি-২) এর আওতায় ধোবাউড়া উপজেলার মৎস্য চাষীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৎস্য চাষের ব্যবহারিক বিষয়ে ধারণা দিতে এই সফরের আয়োজন করা হয়।

[৩] বুধবার (৫ জুন ) ধোবাউড়া উপজেলা মৎস্য অফিসের বাস্তবায়নে ও পূর্বধলা উপজেলা মৎস্য অফিসের সহযোগিতায় উপজেলার খলিশাউর ইউনিয়নের শিমুলকান্দি গ্রামে নিবন্ধনকৃত নাসারা এগ্রো লিমিটেডের হ্যাচারী এবং মৎস্য খামারে চাষীরা অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরে অংশ নেন।

[৪] এ সময় ময়মনসিংহ বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. আফতাব উদ্দিন, ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা, নেত্রকোনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহজাহান কবীর, পূর্বধলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়ার হোসাইন, ধোবাউরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দৌলত উল্লাহ মোরাদ, হ্যাচারী ম্যানেজার মোমিন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

[৫] ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরে ৩২জন মৎস্য চাষী অংশ নেন।এ সময় সফরকারীরা নাসরা এগ্রো লিমিটেডের হ্যাচারী এবং মৎস্য খামারের চাষীদের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।উল্লেখ্য পূর্বধলা উপজেলায় নাসরা এগ্রো লিমিটেডের শিমুলকান্দি হ্যাচারী মানসম্মত রেণু এবং পোনামাছ উৎপাদন করে থাকে।

মৎস্য

যেভাবে মলা মাছের সাথে তেলাপিয়া চাষ করবেন

মলা ও তেলাপিয়া মাছের তরকারি অধিকাংশ মানুষই পছন্দ করেন। এই মাছ অনেক পুষ্টিকর ও সহজে চাষ করা যায়। আমাদের দেশের প্রায় সব বাজারেই এই মাছ পাওয়া যায়। অনেক শিক্ষিত বেকার এই মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এবার জেনে নিন মলা মাছের সাথে তেলাপিয়ার চাষ পদ্ধতি।

jagonews24

আগে যে বিষয় জানতে হবে

*পুকুরে প্রথমে মলা মাছ ছাড়তে হবে তারপর এর তেলাপিয়া ছাড়তে হবে।
*মলা বড় হলে তা জাল টেনে ধরে বিক্রি করে দিতে হবে।
*মলা মাছে লাভের পরিমাণটাও অনেক বেশি হবে।
*মলা মাছের চাষের সময়কাল কম।

যেভাবে মলা ও তেলাপিয়া চাষ করবেন

প্রথমে পুকুরে বিষটোপ দিয়ে অবাঞ্ছিত মাছ দূর করে তারপরের দিন পুকুরের তলদেশের অবস্থা বুঝে শতাংশ প্রতি আধা কেজি থেকে এক কেজি চুন দিয়ে এর ৬ থেকে ৭ দিন পর শতাংশ প্রতি ০.৩ মি.লি. পিপিএম হারে সুমিথিয়ন দিয়ে তার একদিন পর পুকুরে মলা মাছের রেনু দিতে হবে। আমাদের বর্তমান চাষ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি ৫০ শতাংশের পুকুরে এক হাপা মলা মাছের রেনু দিতে হবে।

jagonews24

রেনু ছাড়ার পর থেকে ডিম সিদ্ধ করে ২ দিন খাওয়ানোর পর তৃতীয় দিন থেকে নার্সারি পাউডার ৪ ঘণ্টা আগে থেকে ভিজিয়ে দিনে দুইবার ( সকাল দশটায় একবার বিকেল পাঁচ টায়) দিতে হবে। এভাবে ২৫ থেকে ৩০ দিন রেনুকে খাওয়ালে পরে ১ থেকে ১.৫ ইঞ্চি সাইজে পরিণত হবে। তারপর এই মলা মাছের উপর তেলাপিয়ার মনোসেক্স পোনা ছাড়তে হবে।

jagonews24

মলা মাছের বয়স যখন ৯০ দিন পূর্ণ হবে সেদিন মলা মাছ বাজারজাত করার পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। তেলাপিয়ার বাজারজাত হবে আরও পরে। ঠিকভাবে পারিপালিত হলে ৯০ দিন পর মলা মাছ ২০০ থেকে ৩০০ পিসে কেজি হবে।

jagonews24

এভাবে মলা মাছের বয়স ৯০ দিন হলে পরে আনুমানিক ৯০% মলা বিক্রি করে দিয়ে ১০% মলা মাছ তেলাপিয়ার সাথে রেখে দিতে হবে। তারপর তেলাপিয়াকে সাইজ হওয়ার আগ পর্যন্ত চাষে রেখে দিতে হবে ৫০ কেজি উৎপাদন হওয়ার আগ পর্যন্ত। কারন শতাংশ প্রতি তেলাপিয়া ৫০ কেজি উৎপাদন হয়ে গেলে আর বেশি একটা উৎপাদন হয় না সাধারণ পদ্ধতিতে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

বাণিজ্যিকভাবে থাই কৈ মাছ চাষ করার পদ্ধতি

আমাদের দেশে প্রাচীনকাল থেকেই কৈ মাছ একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু মাছ হিসেবে পরিচিত। এক সময় বাংলাদেশের নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাওড় ও প্লাবন ভূমিতে প্রচুর পরিমাণে কৈ মাছ পাওয়া যেত।

আবহমানকাল থেকে আমাদের দেশে জীয়ল (মাছ ঘরের পাত্রের পানিতে জীবন্ত মাছ রাখার পদ্ধতি) মাছ হিসাবে কৈ মাছকে অতিথি আপ্যায়নের জন্য আন্তরিকতা ও সম্মানের বলে বিবেচিত।

সে সময় এ মাছ যেমন সহজলভ্য ছিল তেমনি এর দামও ছিল ক্রয়সীমার মধ্যে। কিন্তু সময়ের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন কারণে অন্যান্য মাছের সঙ্গে কৈ মাছও তার পূর্বের অবস্থানে নেই। তবে এর সার্বজনীন চাহিদা ও মূল্য সব সময়ই আভিজাত্য বজায় রেখে চলেছে।

সেই বিবেচনাতে কৈ বিশেষত থাই কৈয়ের বাণিজ্যিক চাষ একটি লাভজনক প্রকল্প হিসাবে বিবেচতি হয়ে থাকে। তাই বাণিজ্যিকভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে থাই কৈ চাষ করে যে কেউ হতে পারেন একজন সফল খামারি।

jagonews24

যে কারণে তাই কৈ চাষ করবেন

* চাহিদা সব সময় বেশি বলে এর মূল্য তুলনামূলকভাবে সব সময় বেশি থাকে।
* বিরূপ পরিবেশেও বেঁচে থাকতে সক্ষম এবং মৃত্যুর হার খুবই কম।
* অধিক ঘনত্বে চাষ করা যায়।
* ছোট পুকুর বা খাঁচায় চাষ করা সম্ভব।
* তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ে অর্থাৎ ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই বিক্রয়যোগ্য হয়।
* অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক এবং বছরে একাধিকবার চাষ করা যায়।
* রোগবালাই নেই বললেই চলে।
* তুলনামূলক অল্প পঁজিতেই চাষ করা সম্ভব।
* ফর্মুলা অনুযায়ী নিজ ঘরের কৈ-এর পিলেট তৈরি করা সম্ভব।
* কৈ মাছ মূলত কীট-পতঙ্গ খায়। একারণে পোকামাকড়, ছোট মাছ, ব্যাঙের পোনা, শামুক, ঝিনুকের মাংস ইত্যাদি সরবরাহ করে এ মাছ চাষ করা যায়।

থাই কৈ মাছ চাষ করবেন যেভাবে

থাই কৈ এবং আমাদের দেশীয় কৈয়ের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই বললেই চলে। তবে থাই কৈ সাধারণগত দেশি কৈয়ের চেয়ে চ্যাপ্টা এবং এর শরীরের পিছনের দিকে কিছু কালো দাগ থাকে। এ মাছ দ্রুত বর্ধনশীল। একে পুকুর বা খাচাঁয় (কেজ কালচার) চাষ করা সম্ভব। তবে, পুকুরে চাষ করাই বেশি লাভজনক।

যেভাবে পুকুর নির্বাচন চাষের প্রস্তুতি নেবেন

jagonews24

পুকুর রৌদ্র আলোকিত খোলামেলা জায়গায় হাওয়া উত্তম এবং পাড়ে ঝোপ-জঙ্গল থাকলে তা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। পাড়ে বড় গাছপালা থাকলে সেগুলোর ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে এবং দিনে কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা সূর্যের আলো পড়া নিশ্চিত করতে হবে। থাই কৈ চাষের জন্য তুলনামূলকভাবে ছোট পুকুর বিশেষভাবে উপযুক্ত।

পুকুরের আয়তন ২০ থেকে ৩০ শতকের মধ্যে হওয়াই ভালো। এতে করে ব্যবস্থাপনার সুবিধা হয়। পুকুরের গভীরতা বেশি না হয়ে ৫ থেকে ৬ ফুট হওয়া উত্তম। প্রথমে পুকুরটি সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে। পুকুরে অতিরিক্ত কাদা থাকলে তা উঠিয়ে ফেলতে হবে কারণ অতিরিক্ত কাদা পুকুরে গ্যাস সৃষ্টি করে যা পুকুরের শুকানোর পর তলার মাটি রৌদ্রে ফেটে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

তারপর সেখানে আড়াআড়িভাবে ২টি হালের চাষ দিতে হবে। তলায় কাদা হওয়ার বেশি সম্ভাবনা থাকলে হালকা করে কিছু বালি (দালান-কোঠা নির্মাণের জন্য বালু ব্যবহৃত হয়) ছিটিয়ে দেয়া যেতে পারে। এর ফলে পুকুরের তলায় গ্যাস হবে না, পানি পরিষ্কার এবং পরিবেশ ভালো থাকবে।

চুন এবং সার প্রয়োগ

আড়াআড়িভাবে ২টি হালের চাষ দেয়ার পর প্রতি শতাংশ ১ কেজি হিসাবে পাথুরে চুন (আগের দিন গুলিয়ে রেখে পরের দিন) পুকুরের পাড়সহ সর্বত্র এমনভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে যেন মনে হয় সমগ্র পুকুরটি সাদা কাপড়ে মুড়ে দেয়া হয়েছে। চুন প্রয়োগের ৩-৫ দিন পর প্রতি শতাংশ ৫ কেজি পচা গোবর অথবা ৩ কেজি মুরগির বিষ্ঠা ছিটিয়ে দিতে হবে। জৈব সার প্রয়োগের ২-৩ দিন পর পুকুরে ৪-৫ ফুট পানি প্রবেশ করাতে হবে।

পানি প্রবেশ করানোর পর প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ২০০ গ্রাম টিএসপি গুলে পুকুরে প্রয়োগ করতে হবে। জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগের ৫ থেকে ৭ দিন পর পুকুরে থাই কৈ-এর পোনা মজুদ করতে হবে। অন্যদিকে পুকুরে যদি পানি থাকে কিংবা কোনো কারণে পুকুর শুকানো সম্ভব না হয় তবে সেক্ষেত্রে পুকুরে যেন রাক্ষুসে মাছ না থাকে, তা প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে।

jagonews24

সেজন্য প্রয়োজনমত রোটেনন ব্যবহার করা যেতে পারে। পুকুর জলজ আগাছা এবং রাক্ষুসে মাছ মুক্ত করার পর প্রতি শতাংশে ১ কেজি পাথুরে চুন গুলিয়ে পাড়সহ পানিতে প্রয়োগ করতে হবে। চুন প্রয়োগের ৩ থেকে ৫ দিন পর প্রতি শতাংশে ৫ কেজি পঁচা গোবর, ২০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ২০০ গ্রাম টিএসপি গুলিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের ৫-৭ দিন পর পানি হালকা সবুজ হলে থাই কৈ-এর পোনা অবমুক্ত করতে হবে।

পুকুরে বেষ্টনি প্রদান এবং পোনা অবমুক্ত

কৈ এমন একটি জীয়ল মাছ যার অতিরিক্ত শ্বসন অঙ্গ আছে। তাই বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে সক্ষম হওয়ায় পানির উপরে এরা দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। বৃষ্টির সময় এরা কানকুয়া ব্যবহার করে অতি দ্রুত চলতে পারে।

সেজন্য যে পুকুরে কৈ-এর চাষ করা হবে তার পাড় অবশ্যই নাইলনের ঘন জাল দিয়ে ঘিরতে হবে। নয়তো পুকুরে খুব কম পরিমাণ কৈ পাওয়া যাবে। ছোট ফাঁসযুক্ত জাল দিয়ে পুকুরটি ভালোভাবে ঘেরার পর পুকুরে প্রতি শতাংশে নার্সিংকৃত এক থেকে দেড় ইঞ্চি মাপের ৩০০ থেকে ৩২৫ টি কৈয়ের পোনা মজুদ করতে হবে।

jagonews24

খাদ্য ব্যবস্থাপনা

থাই কৈ একটি দ্রুত বর্ধনশীল মাছ। সেজন্য পর্যাপ্ত খাবার প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্য ব্যবস্থাপনা দুইভাবে করা যেতে পারে।

প্রথমত: রাফ খাবার ব্যবস্থাপনা এবং
দ্বিতীয়ত: গুণগত মানসম্পন্ন বাণিজ্যিক খাবার ব্যবস্থাপনা।

রাফ খাবার ব্যবস্থাপনা:

প্রথমেই বলে নেয়া ভালো যে, রাফ খাবার ব্যবস্থাপনায় দক্ষ না হলে কৈ-এর বৃদ্ধি অনেক সময় ভালো নাও হতে পারে। এটি মূলত দরিদ্র মৎস্য চাষিদের প্রাথমিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা। এক্ষেত্রে শামুক বা ঝিনুকের মাংস, ব্যাঙের পোনা, গরু বা মুরগির নাড়িভূড়ি কিংবা ফিসমিল (নিয়মিতভাবে নয়), কুড়া, ভুষি, খৈল ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যে কোনো একটি খাবার নিয়মিত ব্যবহার করে অন্যগুলো আংশিক ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

উন্নত রাফ খাবার হিসাবে ফিসমির ২৫%, কুড়া ৩০%, খৈল ২৫% এবং ভুষি ২০% একত্রিত করে বল অথবা পিলেট আকারে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়ায় সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ ক্ষেত্রে একমাত্র খৈল বাদে অন্য উপাদানগুলো উল্লেখিত অনুপাতে বেশি পরিমাণে মিশ্রিত করে একটি মিশ্রণ তৈরি করে রাখতে হবে।

তারপর প্রতিদিন মাছের দৈহিক ওজন অনুযায়ী যে পরিমাণ খাদ্য হবে তার তিনভাগ তৈরিকৃত মিশ্রণ থেকে এবং অন্য একভাগ খৈল পানিতে ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে তার মধ্যে উক্ত মিশ্রণ মিশিয়ে ছোট ছোট বল তৈরি করে নির্দিষ্ট ৪ থেকে ৫টি জায়গায় প্রতিদিন প্রদান করতে হবে।

jagonews24

যে সকল জায়গায় খাদ্য দেয়া হবে সে সকল জায়গা বাঁশের খুঁটি পুতে চিহ্নিত করা উচিত। এছাড়া অন্যান্য রাফ খাবার যেমন- শামুক, ঝিনুকের মাংস, মুরগি ও গুরুর ভুড়ি ইত্যাদি পরিমাণমত ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, কোনো ক্রমেই যেন পানি নষ্ট না হয়।

তবে কেই যেহেতু কীট ভোজী মাছ সেজন্য পর্যাপ্ত দৈহিক বৃদ্ধির জন্য পানির ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি উপরে রাত্রে একাধিক বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালালে সেখানে প্রচুর কীট-পতঙ্গ আসবে এবং উড়তে উড়তে এক পর্যায়ে পানিতে পড়ে যাবে যা কৈয়ের তাৎক্ষণিক খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হবে।

এছাড়া রাফ খাবার হিসাবে কম দামি মাছ যেমন ২০০ গ্রাম ওজনের সিলভার কাপ, বড় আকৃতির আফ্রিকান মাগুর, ফার্মের মৃত মুরগি কিংবা গরুর মাংসের ছোট ছোট টুকরো (কৈ খেতে পারে সে রকম টুকরো) করে সরাসরি দেয়া যেতে পারে অথবা সেগুলো রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ পূর্বক প্রতিদিন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে হালকা সিদ্ধ করে দিতে হবে কিংবা কমপক্ষে পানিতে দুই এক ঘণ্টা ভিজিয়ে তারপর দেয়া উচিত। হালকা সিদ্ধ করে দিলে দৈহিক বৃদ্ধি আশানুরূপ হয়ে থাকে।

গুণগতমান সম্পন্ন বাণিজ্যিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা

বাণিজ্যিভবে নিয়মিত কৈয়ের উৎপাদন পেতে হলে গুণগতমান সম্পন্ন পিলেট খাবার প্রদান করা উচিত। এক্ষেত্রে বাজার থেকে কৈয়ে জন্য তৈরিকৃত পিলেট খাবার (প্রোটিনের পরিমাণ ৩০%৩৫) অথবা যদি তা না পাওয়া যায় তাহলে চিংড়ির জন্য তৈরি খাবার ব্যবহার করা যেতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

রাজবাড়ীর পদ্মায় জে‌লের জা‌লে দুই পাঙ্গাস

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনা থেকে ১৩ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের দুইটি বড় সাইজের পাঙ্গাস মাছ ধরা পড়েছে। বিক্রি হয়েছে ১৮ হাজার ৯ শত টাকায়। সোমবার সকাল১০টার দিকে দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরীঘাটে মাছটি দুইটি নিয়ে আসেন জেলে নিমাই হালদার। 

তিনি বলেন, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ৪ জন মিলে দৌলতদিয়ার বাড়ি থেকে পদ্মা নদী হয়ে ঢাকা জেলার দোহার থানার জয়পাড়া এলাকায় মাছ ধরতে যাই। মাছের আসায় সারারাত সবাই জাল ফেলে সেখানে বসে থাকি। কিন্তু মাছের কোনো দেখা মেলেনা।হঠাৎ সোমবার ভোরের দিকে জালে জােরে একটা ধাক্কা মারে তখন বুঝতে পারি বড় কোনো মাছ ধরা পড়েছে। পরে অনেকক্ষণ ধরে ৪ জন মিলে জাল তুলে দেখি বড় ধরনের দুইটি পাঙ্গাস মাছ। প্রায় দুইমাস পরে বড় ধরনের বড় কোনো মাছ জালে ধরা পড়লো বলে জানান তিনি। পরে মাছ দুইটি দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরী ঘাটে নিয়ে আসলে মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা ১৪ শত টাকা কেজি দরে  ১৮ হাজার ৯শত  টাকায় কিনে নেন। মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, মাছটি দুইটি আমি ১৪শত টাকা কেজি দরে মোট ১৮হাজার ৯শত টাকায় কিনে নেই। এখন মাছ দুইটি ১৫শত টাকা কেজি দরে ঢাকায় বিক্রি করবো বলে  ঢাকায় যোগাযোগ করছি।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা  জয়দেব পাল জানান, বর্তমানে পদ্মা নদীর যমুনার মোহনায় এখন প্রায়ই জেলেদের জালে বড় আকৃতির বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

এক যুগের প্রচেষ্টায় ‘সুবর্ণ রুই’

লেখক

প্রায় এক যুগের প্রচেষ্টায় রুই মাছের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে উদ্ভাবিত হওয়ায় জাতটির নাম রাখা হয়েছে ‘সুবর্ণ রুই’। বৃহস্পিতবার সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ অনুষ্ঠানিকভাবে ‘সুবর্ণ রুই’ মৎস্য অধিদপ্তর ও কয়েকজন হ্যাচারির মালিকদের কাছে অবমুক্ত করেন। 

বিএফআরআই’র বিজ্ঞানীরা জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে রুই মাছের চতুর্থ প্রজন্মের এ নতুন জাত উদ্ভাবন করেন। এ জাতটি দ্রুত বর্ধনশীল, মূল জাতের চেয়ে ২০.১২% অধিক উৎপাদনশীল, খেতে সুস্বাদু এবং দেখতে লালচে ও আকর্ষণীয়।  

‘সুবর্ণ রুই’ নামকরণের ফলে চাষী, হ্যাচারি মালিক ও উদ্যোক্তাদের কাছে নতুন এ জাতটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে এবং মাঠ পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে সামগ্রিকভাবে দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছে বিএফআরআই। 

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনায় ভার্চুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউিটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ।

বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠানিকভাবে ‘সুবর্ণ রুই’ অবমুক্ত করা হয় -সমকাল 

বিএফআরআই জানায়, দেশে চাষযোগ্য মাছের মধ্যে রুই সবচেয়ে বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন মাছ। বর্তমানে মৎস্যচাষ প্রায় সম্পূর্ণভাবে হ্যাচারি উৎপাদিত পোনার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু হ্যাচারিতে উৎপাদিত কার্প জাতীয় মাছের কৌলিতাতত্ত্বিক অবক্ষয় ও অন্তঃপ্রজননজনিত সমস্যা মৎস্যচাষ উন্নয়নে অন্যতম অন্তরায়। এ থেকে উত্তরণের জন্য ২০০৯ সালে উন্নত জাতের প্রথম প্রজন্মের রুই মাছ উদ্ভাবন হয়। ধারাবাহিকতায় অবশেষে ২০২০ সালে উন্নত জাতের চতুর্থ প্রজন্মের জাত উদ্ভাবিত হলো।

স্বাধীণতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ‘সুবর্ণ রুই’ বিশেষ উপহার উল্লেখ করে বিএফআরআই মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, দ্রুতবর্ধনশীল সুবর্ণ রুই চাষীদের মুখে হাসি ফেরাবে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পদ্মায় ধরা পড়ল সাড়ে ২২ কেজির কাতলা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের কাছে পদ্মা নদী থেকে ২২ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি কাতলা মাছ ধরা পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মাছটি জেলেদের জালে ধরা পড়ার পর নিলামে প্রথমে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে ৩১ হাজার ৫০০ টাকায় স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ী কিনে নেন। ওই মৎস্য ব্যবসায়ীই পরে ঢাকার ব্যবসায়ীর কাছে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকায় মাছটি বিক্রি করেন।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের বাহির চর ছাত্তার মেম্বারপাড়ার জেলে কাদের চালাক ও তাঁর সহযোগীরা মিলে পদ্মা নদীতে বড় মাছের জন্য জাল ফেলেন। দুবার জাল ফেলেও কিছু পাননি তাঁরা। পরে বেলা দুইটার দিকে তৃতীয়বার জাল তোলার সময় বড় ঝাঁকি দিলে বুঝতে পারেন, জালে বড় কোনো মাছ ধরা পড়েছে। জাল টেনে নৌকার কাছে আনামাত্র সবাই দেখতে পান, বড় একটি কাতলা মাছ ধরা পড়েছে। দ্রুত জাল গুটিয়ে তাঁরা মাছটি নিয়ে আসেন ফেরিঘাটে। সেখানে এসেই মাছটি ওজন দিয়ে দেখতে পান, ২২ কেজি ৫০০ গ্রাম হয়েছে। এ সময় মাছের আড়তদার দুলাল চালাক মাছটি নিলামে তুললে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মৎস্য ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে মাছটি কিনে নেন। মাছটি কিনেই তিনি ৫ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

পদ্মা নদীর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২২ কেজি ৫০০ গ্রামের এই কাতলা মাছটি। বৃহস্পতিবার দুপুরে তোলা
পদ্মা নদীর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২২ কেজি ৫০০ গ্রামের এই কাতলা মাছটি। বৃহস্পতিবার দুপুরে তোলা

দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটসংলগ্ন চাঁদনী-আরিফা মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী চান্দু মোল্লা বলেন, পদ্মা নদীর বাহির চর দৌলতদিয়া এলাকায় জেলে কাদের চালাকের জালে তরতাজা কাতলা মাছটি ধরা পড়ে। তাজা অবস্থায় মাছটি তিনি ফেরিঘাটে নিয়ে এলে উন্মুক্ত নিলামে অংশ নিয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে ২২ কেজি ৫০০ গ্রামের মাছটি ৩১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে কিনে নেন তিনি। তবে শর্ত থাকে, মাছটি বিক্রি করে টাকা পাওয়ার পর আড়তদারকে দেওয়া হবে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করলে বিকেল চারটার দিকে ঢাকার এক পরিচিতজনের কাছে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে মোট ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকায় মাছটি বিক্রি করেন তিনি।বিজ্ঞাপন

চান্দু মোল্লা বলেন, ‘পদ্মার মাছ হলে অন্যান্য স্থানের থেকে একটু বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে থাকি।’

গোয়ালন্দ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই পদ্মা নদীর বিভিন্ন মোহনায় বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। এ ধরনের মাছ আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের জন্য সুখবর নিয়ে আসে। তবে অতি মাত্রায় দামের কারণে সাধারণত এ অঞ্চলের মানুষ ওই মাছ কিনতে পারেন না বা খেতেও পারেন না।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com