আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

পুষ্টিহীনতায় ৪ কোটি মানুষ, অপচয় ৩০ হাজার কোটি টাকার খাদ্য

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা বলয় গড়ে ও অপচয় কমিয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা বাঁচাতে চায় সরকার। একই সঙ্গে দেশ থেকে পুষ্টিহীনতাও দূর করতে চায়। এ জন্য কৃষিকে বাণিজ্যিকী ও যান্ত্রিকীকরণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেসব খাতে খাদ্যের অপচয় হয় সেসব খাতে সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে। খাদ্যের অপচয় কমাতে সরকার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহযোগিতা নিয়ে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে মোট খাদ্যের প্রায় ৩০ ভাগ বিভিন্নভাবে নষ্ট হয়, যার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ পুষ্টিহীনতার শিকার। প্রায় ৪৪ শতাংশ নারী রক্তস্বল্পতায় ভোগেন। দেশে প্রতি পাঁচজনে একজন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল দুর্গম এলাকার দলিত, আদিবাসী, বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও শহরের নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে পুষ্টিহীনতা বেশি।

জানা গেছে, ধান, গম, ভূট্টা, আলুসহ বিভিন্ন ফসল ও বাংলাদেশে উৎপাদিত সকল ফলমূল এবং খাদ্যপণ্য ফলানো থেকে শুরু করে ঘরে তোলা ও বাজারজাত করণে প্রচুর অপচয় হয়। এসব অপচয় রোধ করতে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পথ অবলম্বন করা হবে। এছাড়া খাদ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার ধাপগুলোর আধুনিকায়নও করা হচ্ছে। এর ফলে খাদ্যপণ্যের অপচয় অনেকটা কমে আসবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে জিডিপির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে কৃষি খাত থেকে। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের বিপুল জনসংখ্যার কর্মসংস্থানও ঘটে কৃষিকে অবলম্বন করেই। সময়ের সাথে সাথে সেই জলবায়ু ও প্রকৃতিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাতেও এসেছে পরিবর্তন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণে জোর দিয়েছে।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণে গত ২৫ বছরে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি শস্য উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদন খরচ যেমন কমেছে, তেমনি শস্য সংগ্রহের পর অপচয়ও কমেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি আধুনিকায়নে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এখন তরুণরাও কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছে। বর্তমানে কৃষিকাজে জড়িতদের ৬০ শতাংশ তরুণ, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসা কৃষকদের গড় বয়স ৩৫।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, আমরা কৃষিকে আধুনিকায়ন ও যান্ত্রিকীকরণ করছি। শুধু বিদেশ থেকে যন্ত্র আমদানি নয়, দেশেই আরও কীভাবে কৃষিযন্ত্র তৈরি করা যায় সে বিষয়েও প্রচেষ্টা চলছে। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করতে পারলে কৃষকও লাভবান হবে, ফসলের অপচয় কমবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এখন আমরা পুষ্টিকর খাদ্যের দিকে যাচ্ছি। মানুষের প্রয়োজনীয় পুষ্টি মেটানোর জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। মোটকথা, এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হলো কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, ফসলের বৈচিত্র্য, বাণিজ্যিকীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জন্য সরকার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইউরোপ-আমেরিকায় শাকসবজির অনেক দাম। এ দেশের কৃষিপণ্য ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত দেশের বাজারে রফতানি করতে পারলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। পূর্বাচলে একটি অ্যাগ্রো প্রসেসিং সেন্টার করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যাতে করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কৃষিপণ্য রফতানি করা যায়।

কৃষিমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব, বর্তমানে মেহেরপুর জেলার জেলা প্রশাসক ড. মনসুর আহমেদ খান তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, খাদ্য অপচয় ৫ ভাগ কমলে খাদ্য নিরাপত্তা ১০ ভাগ বাড়বে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একদিকে যখন প্রায় ৪ কোটি মানুষ প্রয়োজনীয় কিলোক্যালরি সম্পন্ন খাদ্য গ্রহণ করতে পারছে না, অপরদিকে তখন দেশে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার খাদ্য অপচয় হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদনের সাথে জড়িতদের শ্রম, সময় ও উপকরণ যোগ দিলে সেই অপচয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের কান্ট্রি ডিরেক্টর আতাউর রহমান মিটন এক প্রবন্ধে বলেন, কৃষিখাত আমাদের খাদ্যের অন্যতম মূল উৎস। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রথমবার ১৯৯৬ সালে কৃষিনীতি প্রণীত হয়েছিল। ২০১৩ এবং ২০১৮ সালে সেই কৃষিনীতিকে যুগোপযোগী করা হয়। জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৮ এর মূল লক্ষ্য, নিরাপদ লাভজনক কৃষি এবং টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ২০০৯ সালে সাড়ে তিন কোটি থেকে ১০ বছরে বেড়ে হয়েছে প্রায় চার কোটি ১৩ লাখ টন। মাঠ পর্যায়ে গবেষণা ও তদারকি বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাকে আরো শক্ত করার পাশাপাশি উৎপাদিত খাদ্য যেন নিরাপদ ও পুষ্টি সমৃদ্ধ হয় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্যের অপচয় রোধে সবাইেকে এগিয়ে আসতে হবে।

দৈনন্দিন

টিকা পেতে ৫ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের পথে চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষায় থাকা বিশ্বের নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটির সঙ্গে সরকারের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘এই টিকাগুলো থেকে সঠিক টিকা, সঠিক সময়ে পেতে চাই আমরা।’

আজ বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষা সম্প্রসারণমূলক কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিব বর্ষ’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ছিল এ আয়োজন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলে আমরাও বসে থাকব না। এ বিষয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব ধরনের নির্দেশনা রয়েছে।’

করোনার ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মানুষ করোনাকে অবহেলা করছে। এর ফলে আমেরিকা, ইউরোপসহ অনেক দেশেই করোনায় সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে। আমাদের দেশেও শীতকালে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ শুরুর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হলে তার জন্য কী কী করণীয়, সে ব্যাপারে আমাদের সব প্রস্তুতি এখনই নেওয়া হচ্ছে।’

করোনা মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্য খাত ইতিমধ্যে সক্ষমতা দেখিয়েছে দাবি করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আক্রান্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার বিশ্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হলেও দেশের স্বাস্থ্য খাত এভাবেই মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মুহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) মহিবর রহমান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবনিযুক্ত পরিচালক কর্নেল নাজমুল হক, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ইউছুফ ফকির প্রমুখ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

‘অক্সিমিটার’ অ্যাপ বিপজ্জনক

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সাইবার দুর্বৃত্তরা নানাভাবে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের ছদ্মবেশে ক্ষতিকর অ্যাপ ডাউনলোড করাতে পারলে সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। প্রয়োজনীয় অক্সিমিটার যন্ত্রটিকে এবার প্রতারণার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মোবাইল অ্যাপে অক্সিমিটারের সুবিধার কথা বলে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ডাউনলোডের জন্য প্রলুব্ধ করছে তারা।

পালস অক্সিমিটার হৃৎস্পন্দন ও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার যন্ত্র। সহজে বহনযোগ্য ছোট যন্ত্রটি এখন অনেকেই ব্যবহার করছেন। আঙুলের মাথায় লাগিয়ে জানা যায় রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ। ব্যবহার করতেও নিতে হয় না বিশেষ প্রশিক্ষণ। অক্ষরজ্ঞান থাকলে সহজেই ব্যবহার করতে পারেন এই পালস অক্সিমিটার।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা উপসর্গ রয়েছে—এমন মানুষের জন্য পালস অক্সিমিটার সাহায্যকারী একটি যন্ত্র। এতে কার হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, কখন ভর্তি হতে হবে, কার অক্সিজেন থেরাপির দরকার এবং কাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে হবে কিংবা ভেন্টিলেশনে রাখতে হবে, তা সহজেই জানা যায় পরীক্ষার মাধ্যমে। এ সুবিধা নিতে চেষ্টা করছে দুর্বৃত্তরা। তারা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পালস অক্সিমিটারের সুবিধা দেওয়ার কথা বলছে।

ইতিমধ্যে ‘অক্সিমিটার’ সুবিধা দেয়—এমন অ্যাপ ডাউনলোডের বিষয়ে সতর্ক করেছে ভারতের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সাইবার সুরক্ষায় চালানো ‘সাইবার দোস্ত’ নামের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অচেনা উৎস থেকে পাওয়া লিংকে ক্লিক করে অক্সিমিটার অ্যাপ ডাউনলোডের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা নির্ণয়ের কথা বলে এসব অ্যাপ মোবাইল থেকে কন্টাক্ট, বায়োমেট্রিক তথ্যসহ নানা তথ্য চুরি করে নেয়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি হয় ফিঙ্গারপ্রিন্টের ক্ষেত্র। গোপনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে তা দুর্বৃত্তদের কাছে পাঠিয়ে দিতে পারে। ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইন্টারনেটে কয়েকটি ইউআরএল লিংক থেকে অক্সিজেনের স্তর যাচাই করার জন্য ভুয়া মোবাইল অক্সিমিটার অ্যাপ্লিকেশন সরবরাহ করার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। মোবাইলে এ–জাতীয় ভুয়া অক্সিমিটার অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করবেন না, কারণ এই অ্যাপ্লিকেশন আপনার মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত বা বায়োমেট্রিক ডেটা চুরি করতে পারে।

এর আগে সাইবার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছিলেন, যেসব পেমেন্ট অ্যাপ ই–মেইল, এসএমএস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহ করে, তা ইনস্টল করবেন না। অ্যাপ স্টোরের বাইরে কোনো উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোডের আগে সতর্ক থাকতে হবে।

যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকেরাও রক্তের অক্সিজেন মাপার অ্যাপ সম্পর্কে সতর্ক করেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন গবেষক বলেছেন, যেসব অ্যাপ রক্তে অক্সিজেন মাপার কথা বলে, তা নিখুঁত পর্যবেক্ষণের ডিভাইস হিসেবে নির্ভর করা ঠিক হবে না। রক্তে অক্সিজেন মাপার জন্য কোনো স্মার্টফোন প্রযুক্তি নিখুঁত বলে প্রমাণিত হয়নি।

লিওনেল তারাশেঙ্কো ও তৃষা গ্রিনহাফ এ প্রযুক্তি পর্যবেক্ষণ করে দেখেন। তাঁরা দেখছেন, অ্যাপে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা যায় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বাংলাদেশের অর্থনীতি কতটুকু উন্নত?

উন্নয়ন অর্থনীতিতে রস্টের তত্ত্ব খুবই আলোচিত। ১৯৬০ সালে ওয়াল্ট হুইটম্যান রস্ট (১৯১৬-২০০৩) দ্য স্টেজেস অব ইকোনমিক গ্রোথ: এ নন-কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো শিরোনামে একটি বই লেখেন। বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘প্রবৃদ্ধির পাঁচ স্তর’ শীর্ষক বিষয়ে তিনি উন্নয়ন ধারণার সম্যক আলোচনা করেন। রস্ট অবশ্য এ ক্ষেত্রে ঔপন্যাসিক থমাস মান–এর ১৯০১ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত উপন্যাস দ্য বাডেনব্রুকস–এর কাছে ঋণী বলা যায়। থমাস মান তাঁর বাডেনব্রুকস–এ এমন তিন প্রজন্মের কাহিনি লেখেন যাদের প্রথম প্রজন্ম অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়। দ্বিতীয় প্রজন্ম সমাজে তাদের অবস্থানের জন্য লড়াই করে। আর থমাস মান এর তৃতীয় প্রজন্ম যাদের ইতিমধ্যে অর্থবিত্ত আছে, তারা জাগতিক-মহাজাগতিক যেকোনো কিছুর ওপরে সংগীত ও কলাচর্চায় মনোযোগী থাকে; অর্থনৈতিক ক্রমোন্নতি বা সমাজে প্রভাব প্রতিপত্তি তাদের কাছে একেবারেই গৌণ বিষয়।

রস্টের মতে, যেকোনো দেশ বা জাতির প্রবৃদ্ধি মূলত পাঁচটি স্তর অতিক্রম করে থাকে। এগুলো হলো এক, ‘ট্র্যাডিশনাল’ বা প্রথাগত সমাজ, দুই, ‘প্রি-কন্ডিশন টু টেক-অফ’ বা উন্নয়ন উড্ডয়ন পূর্ব অবস্থা, তিন, ‘টেক-অব’ বা উন্নয়ন উড্ডয়ন অবস্থা, চার, ‘ড্রাইভ টু ম্যাচুরিটি’ বা উন্নয়ন পরিপক্ব স্তর এবং পাঁচ, ‘এজেস অব মাস-কঞ্জাম্পসন’ বা গণ-ভোগ স্তর।

অতীতে অনেক দেশ ও জাতি তাদের অর্থনীতি উন্নয়নের কোন স্তরে অবস্থান করছে তা রস্টের ‘প্রবৃদ্ধির পাঁচ স্তর’ তত্ত্ব অনুযায়ী মিলিয়ে নিয়েছে। আমাদের দেশেও বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়ন ধারণা ব্যবহার করে আমরা কতটুকু উন্নত, তা বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেকে বর্তমান ‘উন্নত’ অবস্থার পক্ষে–বিপক্ষে কথা বলছেন, বিতর্ক করছেন। আমাদের সমাজ-অর্থনীতি কতটুকু উন্নত সে বিষয়ে অনুমান করার আগে প্রথমে অর্থনীতিবিদ রস্টের প্রবৃদ্ধির পাঁচ ধাপ সংক্ষেপে আলোচনা করে নেওয়া যাক।

এক.

প্রচলিত সমাজ-অর্থনীতি। প্রচলিত সমাজ-অর্থনীতি মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের অর্থনীতি। এ ধরনের সমাজ বাস্তবতায় অর্থনীতির উপজীব্যরা জীবিকা নির্বাহের জন্য সনাতন পদ্ধতির কৃষিকাজ, পশুপাখি ও মৎস্য শিকারসহ এ জাতীয় কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। এ ধরনের সমাজে প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই সীমিত। প্রযুক্তির ব্যবহার অস্থায়ী এবং পূর্বপরিকল্পিত নয়। প্রক্রিয়াজাতকরণে কিছু উন্নতি ও অগ্রগতি দৃশ্যমান হলেও সক্ষমতা খুবই কম। কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা শ্রেণির অর্থনৈতিক গতিশীলতা থাকে না। অগ্রাধিকারের স্থিতিশীলতা ও পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। এ ধরনের সমাজ-অর্থনীতিতে কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা সেভাবে কাজ করে না। যুদ্ধ-বিগ্রহ, মহামারি এ সমাজের নৈমিত্তিক বিষয়। শ্রমের উৎপাদনশীলতা খুবই কম এবং মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনে বিনিয়োগের অবদান শতকরা ৫ ভাগ বা তার কম হয়ে থাকে।

দুই.

উন্নয়ন উড্ডয়ন পূর্ব স্তর। ‘প্রি-কন্ডিশন টু টেক-অফ’ বা উন্নয়ন উড্ডয়ন পূর্ব স্তরে কোনো দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক কাঁচামালের প্রভূত চাহিদা সৃষ্টি হয়। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষি ও শিল্প পণ্যের উৎপাদন এবং রপ্তানি যোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। খাদ্যশস্যের পাশাপাশি কৃষিতে অর্থকরী ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। দেশে সেচ, নালা, বন্দর ইত্যাদি নির্মাণের তাগাদা বাড়ে। বর্তমান ব্যবহৃত প্রযুক্তিতে প্রভূত পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে ঝোঁক বৃদ্ধি পায়। ব্যক্তি ও শ্রেণি উভয় খাতেই অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ে। এ ধরনের অর্থনীতিতে জাতীয় পরিচয় ধারণার ব্যাপকতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পদের বিভাজিত ব্যবহারে সমাজ উদ্যমী হয়। মোট উৎপাদনে বিনিয়োগের অবদান শতকরা ৫ ভাগ অতিক্রম করে। রস্টের মতে, সামাজিক উপরি মূলধন তৈরি ও বিনিয়োগে সরকার সম্যক ভূমিকা গ্রহণ ও পালন করে থাকে।

তিন.

উন্নয়ন উড্ডয়ন স্তর। ‘টেক-অফ’ বা উন্নয়ন উড্ডয়ন স্তর খুব গতিশীল। সমাজ, রাজনীতি ও প্রযুক্তি খাতে দ্রুত গতিশীলতা স্পষ্ট। সমাজ-অর্থনীতিতে নগরায়ণ বাড়বে। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ ঝোঁক এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বলপূর্বক শিল্পায়নও পরিলক্ষিত হয়। শিল্পবিপ্লবের এ স্তরে পোশাক ও বুনন শিল্প দ্রুত বিস্তার লাভ করে। প্রাথমিক খাতের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ খুব দ্রুত মাধ্যমিক স্তরের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে নিমজ্জিত হয়। কৃষিতে সবুজ বিপ্লব আসতে পারে। অর্থনীতিতে প্রতিটা সেক্টর উপর্যুপরি অবদান রেখে চলে। সমাজে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে প্রক্রিয়াগত ধারণার ব্যাপকতা ও রূপান্তর লাভ করে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একটি স্থিতিশীল স্থায়ী ধারণায় পরিণত হয়। রস্টের মতে, কোনো দেশের অর্থনীতি টেক-অফ স্তরে নিট দেশজ উৎপাদনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করে। এ ধরনের অর্থনীতিতে একাধিক উৎপাদন চ্যানেল পরিপক্বতা পায়। কোনো দেশের উড্ডয়ন স্তরের অর্থনীতি পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কারণে পারিপার্শ্বিক দেশগুলোর অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি সম্বন্ধেও সজাগ থাকে।

চার.

পরিপক্বতার স্তর। রস্টের মতে, কোনো দেশের অর্থনীতি ‘টেক-অফ’ স্তর থেকে পরিপক্বতার স্তরে উত্তরণের জন্য যথেষ্ট অপেক্ষা করতে হয়। কোনো কোনো দেশের এই দুই স্তরের মাঝে অপেক্ষাধীন সময় এমনকি ৬০ বছর পর্যন্ত হয়েছিল। অপেক্ষাধীন এ সময়কালে ওই অর্থনীতি টেকসই উন্নয়ন অভিযাত্রা অর্জন করে। ‘ড্রাইভ টু ম্যাচুরিটি’ বা উন্নয়নের পরিপক্বতার স্তরে কোনো দেশের অর্থনীতিতে বহুবিধ শিল্পের বিস্তার লক্ষণীয়। শিল্পভিত্তি বহুমাত্রিক বৈচিত্র্য পায়। নতুন কোনো শিল্পও অতি দ্রুত শিকড় বিস্তার করে।

অর্থনৈতিক পরিপক্বতার এ পর্যায়ে বিনিয়োগ রূপান্তর প্রণিধানযোগ্য। এ পর্যায়ে মূলধন জাতীয় পণ্য উৎপাদনের চেয়ে ভোগ্যপণ্য এবং গৃহস্থালি-খরচ-পণ্যে বিনিয়োগ প্রাধান্য পায়। গণপরিবহনের অবকাঠামো নির্মাণ প্রভূত অগ্রাধিকার পায় এবং দ্রুত বাস্তবায়ন হয়। সমাজের বিভিন্ন খাতে যেমন স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, পার্ক ইত্যাদি নির্মাণে বড় বড় বিনিয়োগ হয়ে থাকে। বিকাশমান, দ্রুত ও নিশ্চিত গণপরিবহন খাত, উন্নত টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি সেবা নির্বিঘ্ন করা যায়। উৎপাদনের সব স্তরে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে নিশ্চয়তা থাকায় কৃষিতে শ্রমের ব্যবহার শতকরা ৭৫ ভাগ থেকে ২০ ভাগ্যে নেমে আসতে পারে, যদিও কৃষি শ্রমে প্রকৃত মজুরি নিশ্চিত থাকে। উৎপাদনের এ পর্যায়ে পরিবেশের ক্ষতি নিরূপণ ও তা পোষানোর যথেষ্ট দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়।

পরিপক্ব অর্থনীতিতে ইতিপূর্বে আমদানি করা পণ্যগুলো স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। রপ্তানিমুখী উৎপাদন ব্যবস্থায় ও স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের এ পর্যায়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের ১০ থেকে ২০ শতাংশ পুনঃ বিনিয়োগের সক্ষমতা অর্জন করে কোনো কোনো দেশ।

পাঁচ.

গণ-ভোগ স্তর। অর্থনীতির ‘এজেস অব মাস কঞ্জাম্পসন’ বা গণ-ভোগ স্তরে শিল্প খাত প্রধান নিয়ামক শক্তি। প্রাথমিক ধাঁচের শিল্প বিলুপ্ত প্রায় হয়ে যায়। উচ্চ মূল্য আর আদর্শিক ভোগ্যপণ্য প্রাধান্য বিস্তার করে। ভোক্তা সাধারণের খরচযোগ্য আয় বৃদ্ধি পায়। মৌলিক ব্যয় নির্বাহের পরেও ভোক্তাদের কাছে প্রচুর অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে। ভোক্তারা ভোগের প্রতিটি স্তরে পছন্দের স্বাধীনতা উপভোগ করে, কারণ প্রতি ক্ষেত্রেই বিকল্প ভোগের অফার থাকে। নগরকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা প্রাধান্য বিস্তার করে। সমাজ-অর্থনীতির এ স্তরে অর্থনীতির উপজীব্যরা পছন্দের ক্রমঃ উপভোগ করতে পারে। তারা সমরাস্ত্র না নিরাপত্তা, সমতা ও মঙ্গল প্রভৃতি বিষয়ে খরচ বিশ্লেষণ করে সম্পদ ব্যবহার করতে পারে। এ স্তরে উপনীত জাতি একটি সমতাবাদী সমাজ বিনির্মাণ করে।

রস্ট অবশ্য পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালে প্রকাশিত পলিটিকস অ্যান্ড ইকোনমিক গ্রোথ শীর্ষক বইতে ‘গণ-ভোগ’ স্তরের বাইরে আরও একটি উন্নয়ন স্তর নিয়ে আলোচনা করেন। ‘বিয়ন্ড কঞ্জাম্পসন’ শীর্ষক স্তরে ভোক্তা জল্পনা বা কল্প স্তরের প্রসারণ ও ভোগবাদের বিস্তার ঘটতে পারে। অর্থনীতির উপজীব্যরা এ স্তরে আরাম–আয়েশ, মনঃপ্রশান্তি ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করবে। ভোক্তারা ভোগ্যপণ্যের চেয়ে সেবা ও বিলাসী পণ্যে বেশি খরচ করবে।

ছয়.

তুলনামূলক আলোচনা।

সংক্ষেপে আলোচিত রস্টের ‘উন্নয়ন প্রবৃদ্ধির পাঁচ ধাপ’ এখনকার সময়ে তথাকথিত উন্নত বা অনুন্নত অনেক দেশের উন্নয়ন ইতিহাসের ক্ষেত্রেই প্রায়োগিক আলোচ্য বিষয়। আফ্রিকার কিছু পশ্চাৎপদ দেশ যেমন ঘানা বা টঙ্গা প্রভৃতি দেশে প্রচলিত সমাজব্যবস্থার অর্থনীতি পরিলক্ষিত হয়। এসব দেশে কিছু ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেলেও তা তাদের প্রচুর অনুর্বর অনাবাদি কৃষি ভূমিতে কিছু অতিরিক্ত উৎপাদন বৈ কি।

ইউরোপ, মধ্য এশিয়ার অনেক দেশের মতো আজকের উন্নত দেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক বিকাশ উন্নয়ন উড্ডয়ন পূর্ব স্তর অতিক্রম করে গেছে। এমনকি গ্রেট ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লবও ব্রিটেনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ‘প্রি-কন্ডিশন টু টেক-অফ’ স্তরের উদাহরণ বলে স্মরণ করা হয়।

রস্ট সংখ্যা তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে গ্রেট ব্রিটেন ১৮০০ সালের গোড়ার দিকেও অর্থনৈতিক উড্ডয়ন বা ‘টেক-অফ’ স্তরে ছিল এবং ১৮৫০ সালে এসে তারা ‘ম্যাচিউরিটি’ বা পরিপক্বতার পর্যায়ে পৌঁছায়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৮৪৩ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত ‘টেক-অফ’ স্তরে ছিল এবং ঠিক ১৯০০ সালে এসে পরিপক্ব অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়। রাশিয়া ১৮৯০ সাল থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত টেক-অফ স্তরে থেকে ১৯৫০ সালে এসে পরিপক্ব অর্থনীতির ধাপে উপনীত হয়। ১৯৫২ সালে ভারতীয় অর্থনীতি তথাকথিত টেক-অফ স্তরে থাকলেও তাদের অর্থনীতির ম্যাচিউরিটি এখনো অর্জিত কি না, তা মূল্যায়ন সাপেক্ষ।

বিয়ন্ড কঞ্জাম্পসন স্তরে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের অর্থনীতিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। দেশ দুটির অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেখানে ভোগ্যপণ্যের চেয়ে সেবা পণ্য বেশি চাহিদাসম্পন্ন। এসব দেশের অর্থনীতির উপজীব্যরা অর্থনীতিবিদ রস্ট উল্লেখিত সব স্তর অতিক্রম করে ভোগ মানের অভীষ্ট লক্ষ্যে ব্যয় করে থাকে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়নের কোন পর্যায়ে অবস্থান করছে তার সঠিক মূল্যায়নের ভার পাঠকের ওপরেই রইল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

নওগাঁয় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার

নওগাঁ সদর উপজেলার একটি গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের মাদারমোল্লা বাজারের চাল ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানের গুদাম থেকে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। খলিলুর রহমানের বাড়ি চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ইলশাবাড়ি গ্রামে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার চণ্ডীপুর ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডধারীদের মধ্যে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি শুরু হয়। গতকালও কার্ডধারীরা ডিলার রুহুল আমিনের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করেন।

মাদারমোল্লা বাজারের চালের ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডধারী লোকজনের কাছ থেকে চাল কিনে মজুত করছেন, এমন সংবাদ পান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাজের হোসেন। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর্জা ইমাম উদ্দিনকে জানালে ইউএনও পুলিশের সহযোগিতায় গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে অভিযান চালান। এ সময় ব্যবসায়ী খলিলুর ও তাঁর কর্মচারীদের না পেয়ে গুদামের তালা ভেঙে খাদ্য অধিদপ্তরের সিল মারা ৪০টি বস্তা উদ্ধার করা হয়। প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি চাল ছিল। ওই হিসেবে ১ হাজার ২০০ কেজি চাল জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চণ্ডীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডধারীদের কাছে চাল বিক্রি করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে খলিলুর চালগুলো নিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’

ইউএনও মীর্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, ওই গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল উদ্ধারের পর গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ভোক্তার ব্যবহারের জন্য সরকার ভর্তুকি দিয়ে বিক্রি করছে। এ চাল বেচাকেনা অপরাধ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বলা হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাজের হোসেন বলেন, উদ্ধার হওয়া ৪০টি বস্তার গায়ে খাদ্য অধিদপ্তরের সিল মারা আছে। এ চাল মজুতের ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে কোনো ডিলার সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ার গেলে তাঁর ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

শীত সামনে রেখে নাটোরে কুমড়াবড়ি বানানোর ধুম

নাটোর অঞ্চলের মুখরোচক খাবারের মধ্যে ‘কুমড়াবড়ি’ অন্যতম। খালবিলের দেশীয় প্রজাতির মাছ দিয়ে কুমড়াবড়ির তরকারি রান্না এখানকার ঐতিহ্য। তবে শীতের সময়টাতেই কুমড়াবড়ি খাওয়ার প্রচলন বেশি দেখা যায়। আর তাই শীতে বাজারে এর চাহিদাও যায় বেড়ে। শীত সামনে রেখে নাটোরের চলনবিল ও হালতিবিল পারের ঘরে ঘরে কুমড়াবড়ি বানানোর ধুম পড়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এবার বেচাকেনা কেমন হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কুমড়াবড়ি তৈরি ও ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চলনবিল ও হালতিবিল অধ্যুষিত উপজেলা নাটোরের সিংড়া ও নলডাঙ্গা। সিংড়ার কলম ও নলডাঙ্গার ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের শত শত পরিবার কুমড়াবড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত অনেক কাল ধরে। তবে আগে নিজেদের খাওয়ার জন্য বাড়ির বউরা কুমড়াবড়ি তৈরি করলেও শীতে অভাবে পড়া পরিবারগুলো ঘরে অন্নসংস্থানের জন্য হাটবাজারে কুমড়াবড়ি বিক্রির পথ ধরে। ক্রমে এটি পরিবারের বাড়তি উপার্জনের পথ হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। ফলে এখন দুই উপজেলার কয়েক শ পরিবারের বানানো কুমড়াবড়ি নাটোর ছাড়াও ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

কুমড়াবড়ি তৈরি হয় মূলত চালকুমড়া বা জালিকুমড়ার সঙ্গে ডালবাটা মিশিয়ে। স্বাদ বাড়ানোর জন্য কেউ কেউ কালিজিরা বা সামান্য মসলা মিশিয়ে কুমড়াবড়ি তৈরি করেন। ডাল-কুমড়ার মিশ্রণ হাতে গোল গোল বল বা বড়ির আকৃতি করে বাঁশের বানা, কুলা–চালুন বা বড় থালায় বসিয়ে দেওয়া হয়। এরপর শুকানো হয় রোদে। বড়ি রোদে শুকিয়ে প্রস্তুত হতে ৮-১০ দিন লেগে যায়। সবজি ও মাছ রান্নায় অনুষঙ্গ হিসেবে এই কুমড়াবড়ির ব্যবহার বাঙালির ঘরে জনপ্রিয়। এতে তরকারির স্বাদও বহুগুণ বেড়ে যায়।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে হালতিবিলপারের ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের ঝুপদুয়ার গ্রামে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কুমড়াবড়ি তৈরির যেন মহোৎসব লেগেছে। বাড়ির নারী সদস্যরা তো বটেই, পুরুষেরাও অন্য কাজে না গিয়ে কুমড়াবড়ি তৈরির পেছনে সময় দিচ্ছেন। সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামটিতে ৪০ ঘর লোকের বাস। এদের মধ্যে ৩৮টি পরিবারই হিন্দু সম্প্রদায়ের। এই হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোই অনেক কাল ধরে কুমড়াবড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত। তাদের বানানো কুমড়াবড়ি স্বাদেও অতুলনীয়।

গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে নারীদের ব্যস্ততা লক্ষ করার মতো। রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখা মাষকলাইয়ের ডাল সূর্যোদয়ের আগেই শিলপাটায় বাটতে শুরু করেছেন তাঁরা। সেই ডালের সঙ্গে পরিপক্ব চালকুমড়ার শাঁস আবার বেটে ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই ডাল-কুমড়ার মিশ্রণ সবশেষে বাঁশের বানা বা খলসুনের গায়ে ছোট ছোট বড়ির আকৃতি করে বসিয়ে দিচ্ছেন। এগুলো শুকাতে দিচ্ছেন রোদে।

ঝুপদুয়ার গ্রামের কুমড়াবড়ি ব্যবসায়ী শ্রীকৃষ্ণ প্রামাণিক জানান, একসময় বিলে মাছ মেরে তাঁদের সংসার চলত। তবে শীতে পানি শুকিয়ে গেলে দুমুঠো খাবারও মিলত না। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ির নারীরা কুমড়াবড়ি তৈরি করে বিক্রি করতে শুরু করেন। বাজারে-দোকানে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তাঁদের তৈরি কুমড়াবড়ি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড়ির চাহিদা আসে। সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে পরিবারের পুরুষেরাও বড়ি তৈরিতে যুক্ত হন। এখন গ্রামের ৩৮টি হিন্দু পরিবারের আয়ের প্রধান উৎসই কুমড়াবড়ি। ব্যাপক চাহিদা থাকায় তাঁদের বেচাকেনাও ভালোই হয়। বাড়তি উপার্জনে সবার সংসারে অভাব ঘুচতে শুরু করেছে।

শ্রীকৃষ্ণ প্রামাণিক আরও জানান, করোনা পরিস্থিতিতে হাটবাজার বন্ধ থাকায় বেচাবিক্রি কম হয়েছে, তাই অভাব-অনটনও বেড়ে গেছে। শীত আসছে, বড়ির চাহিদা বাড়বে। সবকিছু ঠিক থাকলে গত কয়েক মাসের লোকসান পোষানো যাবে। তা যদি না হয়, তাহলে বিকল্প আয় কী হবে, তা ভেবে তাঁরা উদ্বিগ্ন। শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে, এ খবর পেয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন।

শ্রীকৃষ্ণ প্রামাণিক আরও জানান, করোনা পরিস্থিতিতে হাটবাজার বন্ধ থাকায় বেচাবিক্রি কম হয়েছে, তাই অভাব-অনটনও বেড়ে গেছে। শীত আসছে, বড়ির চাহিদা বাড়বে। সবকিছু ঠিক থাকলে গত কয়েক মাসের লোকসান পোষানো যাবে। তা যদি না হয়, তাহলে বিকল্প আয় কী হবে, তা ভেবে তাঁরা উদ্বিগ্ন। শীতে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে, এ খবর পেয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন।

একই গ্রামের কুমড়াবড়ির পুরোনো ব্যবসায়ী নীরেন চন্দ্র বলেন, যদিও শীতেই কুমড়াবড়ির চাহিদা বেশি থাকে, তবে শহরের লোকজন সারা বছরই পাতে কুমড়াবড়ি খেতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। তাই মুদিদোকানিরা সারা বছরই তাঁদের কাছ থেকে কুমড়াবড়ির অর্ডার দিয়ে রাখেন। যে সময় কুমড়া থাকে না, সে সময় তাঁরা কুমড়ার পরিবর্তে কাঁচা পেঁপে ব্যবহার করেন।

গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে কুমড়াবড়ি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রহ্মপুর গ্রামের সাবিত্রী দেবী বলেন, ‘কুমড়াবড়ি দিয়ে নানা পদের রান্না হয়। যেমন শুধু বড়ির ঝোলও করা যায়, আবার বড়ি ও সবজি দিয়ে পুড়পুড়ি বা ঘণ্ট রান্নাও সুস্বাদু হয়। তবে কাদাপানির দেশীয় মাছ, যেমন ট্যাংরা, শোল, টাকি, গুচি, বাইন ও বোয়াল মাছ দিয়ে কুমড়াবড়ি রান্না করলে লোকের জিহ্বায় জল চলে আসে।’

নলডাঙ্গার পরিবেশকর্মী ফজলে রাব্বি জানান, কুমড়াবড়ি মূলত একটা প্রক্রিয়াজাত সবজি। সবার কাছেই এটা জনপ্রিয়। এর উৎপাদন ঘিরে চলনবিল ও হালতিবিল এলাকায় একটা পেশাজীবী শ্রেণি গড়ে উঠেছে। এখানকার কুমড়াবড়ি দেশের বাইরেও যাচ্ছে। তাই এর অর্থনৈতিক অবদানও গুরুত্বপূর্ণ।

সিংড়ার কলম এলাকার বাসিন্দা কামরুল হাসান জানান, কুমড়াবড়ির দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা করা যায় এবং এর তরকারি সুস্বাদু হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা সর্বজনীন হয়ে গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com