আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

পুণ্ড্রনগরই এখন বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়

সে কথা অনেক আগের। মানে হাজার হাজার বছর আগের। যখন মানুষের জীবন জীবিকা সবই ছিল স্থানীয় উদ্ভাবন পদ্ধতিতে। সে সময়ে বগুড়ায় গড়ে উঠেছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী পুণ্ড্রবর্ধন। যা পুণ্ড্রনগরী হিসেবে পরিচিত পেয়ে যায়। কালের বিবর্তনে পুণ্ড্রনগরই এখন ঐতিহাসিক বগুড়ার মহাস্থানগড়। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গড়ে উঠেছিল সে সময়ের সভ্য জনপদ। কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসা সেই দর্শনীয় স্থানটি এখনও সেই দিনের চিহ্ন বুকে ধারণ করে আছে। প্রতি বছর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক এলেও পর্যটকদের জন্য তেমন কোন সুবিধা রাখা হয়নি। কিছু উন্নয়ন কাজ হলেও এখনো দৃষ্টি নন্দন হয়ে উঠেনি সভ্যতার স্বাক্ষর বগুড়ার মহাস্থানগড়।

জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দী থেকে খ্রিষ্টীয় ১৫ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মহাস্থানগড় এক সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে বিস্তার লাভ করে। বেশ কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এখানে অসংখ্য রাজা রাজত্ব করেন। বলা হয় মহাস্থানগড় ছিল সে সময়কার রাজধানী। এর ভেতর রয়েছে মৌর্য, গুপ্ত, সেন, পাল ও সামন্ত রাজবংশ। বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ৬৩৯ থেকে ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে পুণ্ড্রনগরে এসেছিলেন। ভ্রমণের ধারা বিবরণীতে তিনি তখনকার প্রকৃতি ও জীবনযাত্রার উল্লেখ করে বর্ণনা করেন। দশম শতকের মধ্যবর্তী সময়ে এখানে রাজত্ব করেন রাজা নরসিংহ বা পরশুরাম। কিংবদন্তি অনুযায়ী রাজা পরশুরাম ছিলেন অত্যাচারী। তাকে উচ্ছেদ করে ইসলাম ধর্মের শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে আসেন হযরত শাহ সুলতান বলখী (র.) মাহী সওয়ার। ধর্ম প্রচারক শাহ সুলতান বলখী (র.) সম্পর্কে রয়েছে আশ্চর্য অনেক তথ্য। কালক্রমে বাংলার প্রথম রাজধানী ধ্বংস হয়ে যায়। ধ্বংসাবশেষ নিয়ে আজো কালের সাক্ষী হয়ে আছে মাহস্থানগড়। 

মহাস্থানগড় দেখতে প্রতিদিন শতশত মানুষ দূর-দুরান্ত থেকে আসছেন। কিন্তু পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দিন দিন পর্যটক কমে যাচ্ছে। পর্যটক আকর্ষণ বৃদ্ধি করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সেটি দৃষ্টি নন্দন হয়ে উঠেনি। ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পর্যটক হারাতে বসেছে দেশের বৌদ্ধ সভ্যতার অনন্য নিদর্শন ভাসু বিহার, মহাস্থানগড়, গোকুল মেড় বা বেহুলা লক্ষীন্দরের বাসর ঘর। সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় প্রাচীন এই অনন্য সভ্যতার দর্শনার্থী কমে যাচ্ছে। মহাস্থানগড়ে দর্শনার্থী বাড়াতে সরকারিভাবে উন্নয়নমূলক কিছু কাজ করা হলেও তা যথেষ্ট নয়। বগুড়ার এই মহাস্থানগড়কে ঘিরেই এই অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে সভ্যতা, সংস্কৃতিক বিকাশ হতে থাকে। 

এর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল সরকারের সঙ্গে মহাস্থানগড়ের উন্নয়নে এডিবির একটি চুক্তি হয়। ২০১৬ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে কাজের সময়সীমা বাড়িয়ে শেষও হয়। এই চুক্তির মধ্যে প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ সংস্কারে প্রাচীন ইটের মত করে নতুনভাবে ইট তৈরি করে তা মূল স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রবেশদ্বার, কালিদহ সাগরের (স্থানীয় খাল) উপর ছোট্ট ঝুলন্ত সেতু, খাবারের দোকান, শৌচাগার, কাঠের ব্রিজ, সীমানা নির্ধারণে তারকাটাসহ আবকাঠামো শ্রী বৃদ্ধির জন্য প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। সেইসব কাজ হলেও বিশাল এলাকার মহাস্থানগড়ের এখনো অনেক কিছুই রয়েছে অরক্ষিত। এখনো মহাস্থানগড়ের জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি হচ্ছে, চাষবাস হচ্ছে মহাস্থানগড়ের ভেতর, কোন কোন অংশের (ভীমের জাঙ্গাল) মাটি খনন করে বিক্রি করছে একটি চক্র।

বগুড়ার মহাস্থান যাদুঘরের কাস্টডিয়ান মজিবুর রহমান জানান, দুই বছর আগে মহাস্থানগড় এলাকায় বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। পর্যটক আসবে ডিসেম্বর জানুয়ারি মাস থেকে। ওই সময়টাতে পর্যটকদের চাপ থাকে বেশি। যাদুঘরের প্রাচীরেও কিছু কাজ করা হয়েছে।

পরিবেশ

আমনে পোকার আক্রমণ

আমনে পোকার আক্রমণ

ঝালকাঠিতে আমন ধানে খোলপচা ও পাতামোড়ানো রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ফসল রক্ষায় কীটনাশক দিয়েও তেমন উপকার পাচ্ছেন না কৃষকরা। সেইসঙ্গে রয়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। সবমিলিয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জেলার রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের ঘিগড়া গ্রামের কৃষক আক্কাস আলী তালুকদার জানান, ৯ কাঠা জমিতে পাতামোড়া ও খোলপচা রোগ দেখা দিয়েছে।

এ সময় তিনি মরা ধানের ছোপা ও মোড়ানো পাতার ভেতরে পোকার অসংখ্য সাদা ডিম বের করে দেখান। ওই ডিম থেকে ছোট ছোট লম্বাকৃতির পোকা হয়ে ধানের পাতা মরে যায়।

তিনি জানান, দোকানির পরামর্শে কীটনাশক স্প্রে করেছেন। কিন্তু তাতে তেমন কাজ হচ্ছে না।

কাঠিপাড়া গ্রামের কৃষক চান মিয়া জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। কয়েকদিন ধরে তার খেতে খোলপচা ও পাতামোড়ানো রোগ দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে পরামর্শ নিয়ে কীটনাশক স্প্রে করায় এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

একই গ্রামের পরিমল মন্ডল বলেন, ৩ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। প্রায় মাসখানেক আগে সার দিয়েছি। বীজ এখন ঘনসবুজ হতে শুরু করছে। কয়েক দিনের মধ্যেই থোর (ধানের ছড়ার প্রাথমিক অংকুর) আসবে। এখন পাতা মোড়ানো ও খোলপচা রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষি অফিসের লোকজন আমাদের কাছে না আসায় উপজেলায় গিয়ে পরামর্শ নিয়ে কীটনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে।

এদিকে আমন খেতে পোকা আক্রমণের পাশাপাশি ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ইঁদুরের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে খেতজুড়ে ছেঁড়া কাপড়, কাগজ, শুকনা কলাপাতা টানিয়ে রাখছেন কৃষকরা।

চাষি আব্দুল মালেক জানান, তিনি ২০ কাঠা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। পোকায় ধানের ক্ষতির পাশাপাশি কয়েকদিন ধরে খেতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ধানের গোছার মধ্যে থেকে দু’তিনটি করে চটা কেটে ফেলে চলে যায় ইঁদুরের দল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ফজলুল হক জানান, এ বছর জেলায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মৌসুমের শুরুতেই কয়েক দফা বন্যা, অতিবৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট ও রোপণকৃত আমনের চারা পচে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিল।

তবে চাহিদার চেয়ে এক হাজার হেক্টর অতিরিক্ত বীজতলা এবং ১২০টি বেডে ভাসমান বীজতলা করায় বীজের সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। এখন শুনছি পোকার আক্রমণ হয়েছে।

তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছি কোনো কোনো এলাকায় খোলপচা ও পাতামোড়ানো রোগ স্বল্পাকারে দেখা দিয়েছে। তবে এসব প্রতিরোধে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ভিয়েতনামে বন্যা ভূমিধসে মৃত ১০৫

কয়েক সপ্তাহের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা এবং ভূমিধসে ভিয়েতনামে অন্তত ১০৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম এবং একটি দাতব্য সংস্থা বলছে, দেশটির মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ এই বন্যায় আরও ৫০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, বন্যা ও ভূমিধসে নিহতদের মধ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন। গত সপ্তাহে দেশটির একটি সেনা ব্যারাক ভূমিধসে চাপা পড়ায় কয়েকজন সেনা নিহত হন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন; যাদের ১৫ জন নির্মাণ শ্রমিক।

ভিয়েতনামে এই বন্যায় অন্তত ১ লাখ ৭৮ হাজার বাড়ি-ঘর ডুবে গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির ফসল। এছাড়া বন্যায় আরও ৬ লাখ ৯০ হাজারের মতো গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটেছে অথবা ভেসে গেছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দেশটির মধ্যাঞ্চলের কুয়াং বিন প্রদেশে লোকজন ঘরের ছাদে উঠে ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রদেশে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

ঘরের ছাদে আশ্রয় নেয়া এক বৃদ্ধা ভিটিভিকে বলেন, আমি গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত কিছু খাইনি। আমাদের কিছুই নেই। খাবার নেই, ফোনও নেই। কোনও কিছুই নেই।

ভিয়েতনামের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এনগুয়েন থি জুয়ান থু এবারের বন্যাকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা দেখছি সব জায়গায় বাড়িঘর, রাস্তাঘাট এবং অবকাঠামো পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য রেড ক্রস (আইএফআরসি) বলেছে, বিপর্যয়কর এই বন্যায় ভিয়েতনামের ৫০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আরও লাখ লাখ মানুষের জরুরি আশ্রয় দরকার।

আইএফআরসি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার রাসি বলেন, এই বন্যা সর্বশেষ আঘাত। এর প্রভাবে লাখ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

প্রথমবার লজ্জাবতী বানরের উপর দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা

নাম লজ্জাবতী বানর। তবে এই বানরের মাঝে বাদরামির চিহ্ন নেই তিল পরিমাণ। বরং লজ্জায় শরমের এক প্রতীকী ছবি দেখা যায় তাদের মাঝে। দিনের বেলায় দুই উরুর মধ্যে মাথা গুজিয়ে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে। অনেক এলাকায় এদের মুখচোরা বানরও বলে; তবে বানর প্রজাতির মধ্যে এদের শামুক বানরও বলা হয়। এরা মাঝে মাঝে গাছের মগ ডালে পা দিয়ে আকড়ে ধরে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে। ঘন চীর সবুজ বনে বসবাস, চলাচল করে খুব ধীরস্থিরভাবে।

দিনের বেলায় বের হয় না, নববধূর মতো নিজেকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করে। যত্রতত্র ঘোরাঘুরি করে না, নিজের এলাকা ছেড়ে যেতে চায় না।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো লজ্জাবতী বানরের ওপর মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিচালনা করা হয়। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত দুই বছরমেয়াদি এ গবেষণার ফল বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশের অপেক্ষায়।

লজ্জাবতী বানরের গবেষক হাসান আল-রাজী চয়নের নেতৃত্বে চার সদস্যের দল সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গা ও মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া এবং আদমপুর বনে এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এবং এ গবেষণা কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবির বিন মুজাফফর।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই গবেষণা কার্যক্রমে দীর্ঘ দুই বছরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ২৩টি, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ৩৩টি, রেমা–কালেঙ্গা বনে ৮টি এবং আদমপুরে ৪টি লজ্জাবতী বানরের সাথে সরাসরি দেখা হয় গবেষকদের। যেহেতু আন্তর্জাতিক গবেষণায় পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কাজের জন্য নতুন ট্রেইল নির্মাণ করা হলেও বাংলাদেশের বন বিভাগ নতুন ট্রেইল শুধু গবেষণার জন্য নির্মাণের পক্ষে নয়।

গবেষণার সময় গবেষক দলকে বর্তমানে বিদ্যমান ট্রেইল ধরে হেঁটেই রাতের বেলায় এ জরিপের কাজ পরিচালনা করতে হয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও প্রথমবারের মতো লজ্জাবতী বানর নিয়ে গবেষণা করতে পেরে তৃপ্ত গবেষক দল। এ গবেষণা দেশে লজ্জাবতী বানর সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

গবেষক দলের প্রধান হাসান আল রাজী চয়ন জানান, আমরা কোনো নতুন ট্রেইল নির্মাণ করতে পারিনি পুরোনো যে ট্রেইল ছিল তা ধরেই জরিপ করেছি এবং যেহেতু এই বানর রাতের বেলা সক্রিয় থাকে তাই রাতেই পুরো গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে প্রতি কিলোমিটারে ১.৭৮টি, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রতি কিলোমিটারে ০.৮২টি, রেমা-কালেঙ্গা বনে প্রতি কিলোমিটারে ০.৩৬টি ও আদমপুরে প্রতি কিলোমিটারে ০.১৩টি লজ্জাবতী বানর পাওয়া গেছে।

শুধু সাতছড়ি বনের ক্ষেত্রে ডিসটেন্স স্যামপ্লিং ম্যাথড ব্যবহার করে পুরো বনের লজ্জাবতী বানরের একটি সম্ভাব্য সংখ্যা হিসাব করা হয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ৩০ থেকে ৩৮টি লজ্জাবতী বানরের অস্তিত্ব আছে। অন্যদিকে অন্যান্য বনে ডিসটেন্স স্যামপ্লিং ম্যাথড ব্যবহার করতে না পারায় ওই বনগুলোতে লজ্জাবতী বানরের সংখ্যা নিয়ে কোনো ধারণা করা সম্ভব হয়নি। লজ্জাবতী বানর নিশাচর এবং বৃক্ষবাসী প্রাণী। খুব বিপদে না পড়লে এরা গাছ থেকে মাটিতে নামে না। এদের সংরক্ষণের জন্য বনে গাছের পরিমাণ বাড়াতে হবে, যাতে করে নিরবচ্ছিন্ন আচ্ছাদন থাকে।

গবেষক দল জানায়, লজ্জাবতী বানর একটি নিশাচর প্রাণী। আমরা দীর্ঘ ১৭ মাস এদের গতিবিধি নিয়ে কাজ করেছি। আমাদের তথ্য মতে, এরা সন্ধ্যার পরপর সক্রিয় হয়। এরা রাতে সক্রিয় থাকার সময়ের মাঝে বেশি সময় ব্যয় করে ঘুরে বেড়াতে। খাদ্য গ্রহণ এবং বিশ্রামের জন্য এরা প্রায় সমান পরিমাণ সময় ব্যয় করে। মাজার বিষয় হলো মহিলা লজ্জাবতী বানর পুরুষের তুলনায় বেশি ঘুমায় এবং বিশ্রাম নেয়।

শীতকালে এদের স্বাভাবিক চলাফেরা কিছুটা কমে যায়। এরা রাতে সক্রিয় থাকাকালীন প্রাকৃতিক বনেই বেশি থাকে। তবে খাবার খাওয়ার জন্য এরা লেবু বাগানে আসে, যেখানে জিগা গাছ বেশি থাকে। জেলির মতো দেখতে জিগা গাছের আঠা এদের সব থেকে প্রিয় খাবার।

যেহেতু এরা প্রাকৃতিক বনে বেশি থাকে আর আঠা এদের প্রধান খাবার, তাই এদের টিকিয়ে রাখার জন্য প্রাকৃতিক বন রক্ষার পাশাপাশি আঠা উৎপাদনকারী গাছ যেমন- জিগা, বহেরা, রঙ্গি বনে আছে কিনা সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

বর্তনামে এই লজ্জাবতী বানরের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে গবেষণায়। এতে লজ্জাবতী বানরের প্রধান হুমকি হলো বনের মাঝের সড়ক এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের তার। বনের ভিতরে থাকা রাস্তায় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের তারে ত্বড়িতায়িত হয়ে অনেক সময় লজ্জাবতী বানর মারা যায়।

লজ্জাবতী বানরের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করতে বনের মাঝে রাস্তায় যাতে অধিক গতিতে যানবাহন না চলে সেদিকে নজর রাখতে হবে এবং বনের ভিতরে বিদ্যুৎ সরবরাহের তারে অবশ্যই বিদ্যুৎ অপরিবাহী উপাদানের আবরণ ব্যবহার করতে হবে বলে তাদের পরামর্শ।

গবেষণার তথ্যের সাথে মিল পাওয়া গেছে বাস্তবতার। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের (শ্রীমঙ্গল) পরিচালক সজল দেব জানান, চলতি বছর বিদ্যুতায়িত দুটি এবং খাবারের সন্ধানে বনের বাইরে চলে আসা দুটি আহত বানরকে উদ্ধার করে তারা সুস্থ করে তুলেছেন।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, যেকোন বনের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ আমরা দিতে চাই না। অনেক সময় জাতীয় স্বার্থে দিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই রাবার দিয়ে তার মোড়ে দিতে হয়। বানরজাতীয় প্রাণীর জন্য উন্মুক্ত তার সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। এ নিয়ে কথা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে। দ্রুত এ তারগুলো রাবার দিয়ে মুড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

আলাস্কায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবে সুনামি

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। ভূমিকম্পের প্রভাবে সেখানে ছোট আকারের সুনামিও আঘাত হেনেছে। খবর এএফপির।

স্থানীয় সময় সোমবার ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ভূমিকম্প থেকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিসট্রেশন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে ছোট আকারের সুনামি ওয়েভ বা জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ উপকূলে সুনামির প্রভাব দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে। ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ঘন বসতিপূর্ণ আলাস্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্যান্ড পন্ড শহরের কাছে দুই ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের রেকর্ড হয়েছে। ওই এলাকাটি ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে ৬০ মাইল দূরে অবস্থিত। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২৫ মাইল (৪০ কিলোমিটার)

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি থেকে হতাহতের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের পর কমপক্ষে আরও পাঁচটি আফটার শক (পরাঘাত) অনুভূত হয়েছে। এগুলোর মাত্রা ৫ বা তার কিছুটা বেশি।

আলাস্কা প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগে প্রায় তিন মাস আগে ওই একই এলাকায় ৭ দশমিক ৮ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

ওই অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছিল ১৯৬৪ সালে। এর মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২। ওই ভূমিকম্পের আঘাতে আড়াই শতাধিকের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে সুনামিও আঘাত হানে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

৯০ হাজার দখলদারের হাতে ২ লাখ ৮৭ হাজার একর বনভূমি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রের দুই লাখ ৮৭ হাজার ৪৫২ একর বনভূমি ৯০ হাজার ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের জবরদখলে আছে। সবচেয়ে বেশি বনভূমি দখলে আছে কক্সবাজার জেলায়। এই জেলায় ৫৯ হাজার ৪৭১ হাজার একর বনভূমি জবরদখলে আছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, রেজাউল করিম বাবলু, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এবং শাহীন চাকলাদার অংশ নেন।

বৈঠক শেষে সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই কারা এসব বনভূমি দখল করে রেখেছে। এক চুল জমিও আমরা বেদখলে রাখতে চাই না। যারা দখল করে রেখেছে তাদের তালিকা আমরা চেয়েছি। সেটা আমরা জনসমক্ষে প্রকাশ করবো।’

বিপুল পরিমাণ বনভূমি জবরদখলের কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিএস রেকর্ডমূলে রেকর্ডভুক্ত বনভূমি পরবর্তীতে এসএ/আরএস/বিএস জরিপে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এছাড়া এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত বনভূমি (সংরক্ষিত বনভূমি ছাড়া অন্যান্য যেমন রক্ষিত, অর্পিত বনভূমি) জেলা প্রশাসন কর্তৃক অনেকক্ষেত্রেই বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে।

এছাড়া বনভূমির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ বিশেষ করে সড়ক নির্মাণের ফলে এর দু’পাশে বনভূমি জবরদখলের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় জনগণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক বনভূমি দখল করে কৃষি কাজ, স্থায়ী স্থাপনা, বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, স্কুল, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। অনেক জবরদখল করা বনভূমিতে শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিল্পপতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক বনভূমি জবরদখলের ক্ষেত্রে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গেলে নিম্ন আদালতে মামলা ও আপিল এবং উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করে এর মাধ্যমে স্থিতাবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে থাকে সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া উচ্ছেদের কাজে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অসহযোগিতা করে বলেও সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয় সভায়।

সংসদীয় কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণীর মোট বনভূমির পরিমাণ ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ একর। সশস্ত্র বাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কাছে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৬০ হাজার ২৪০ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com