আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

পুকুরের অর্ধেক খরচেই বাড়ির আঙিনায় মাছ চাষ

রাজশাহী: আগে উচ্চ ফলনশীল ফল ও ফসল ফলানোর কাজ করতেন। গরু লালন পালন থেকে শুরু করে প্রতিপালন করেছেন ছাগলও। তখন তিনি চেষ্টা করেছেন ‘ব্লাক বেঙ্গল গোট’ জাতের ছাগলের খামার দিয়ে। ওই খামারে হরিয়ানা ও রাজস্থানি জাতের বিশেষ কয়েকটি ছাগলও ছিল। কিন্তু নতুন কিছু করার উন্মাদনা ভর করে মাথায়। এরপর ২০১৬ সালে শুরু হয় আরও একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা। নতুন সেই ভাবনায় যুক্ত হয় ‘রাস’ ও ‘বায়োফ্লক’ পদ্ধতিতে মাছ চাষ।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের শেষ সম্বলটুকু বিনিয়োগ করেছেন।

ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সম্পূর্ণ নতুন এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে তিনি এখন অন্যদের কাছে হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয়। এরইমধ্যে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন একজন তরুণ ও সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে। তিনি আর কেউ নন; রাজশাহীর ইমদাদুল হক।    

ইমদাদ বলছেন তার বহুমুখী কর্মপ্রয়াসের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহারের তীব্র আগ্রহ। ২০১৬ সালে ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানে ভিয়েতনামে রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়া কালচার সিস্টেম বা ‘রাস’ পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রজেক্ট দেখেন। এরপর ঢাকার সায়েন্স ল্যাবেও একই প্রজেক্ট দেখেন। মূলত সেখান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেই ‘রাস’ পদ্ধতি মাছ চাষ করার পণ করেন। তিন মাসে আটবার ভাঙ্গা-গড়া করেন। শেষ পর্যন্ত বাড়ির উঠানে রূপায়িত হয় তার আজকের এই ‘রাস’ পদ্ধতির মাছের খামার। যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দৃষ্টান্তও।  

বাইরে থেকে একটি সাধারণ পাকা বাড়ি মনে হলেও ভেতরে চলছে নীরব এক কর্মযজ্ঞ। এখানে নির্দিষ্ট আবর্তনের মধ্যেই উৎপাদন করা হচ্ছে পোনা থেকে শুরু করে বাজারজাত করার মত উপযোগী মাছ। একেবারেই নতুন ও বিজ্ঞানসম্মত উদ্ভাবনী পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে একটি বাড়ির মধ্যেই কীভাবে মাছ তৈরির কারখানা করা সম্ভব ইমদাদুল হক জানালেন সেই সাফল্য গাঁথা।

বলা হচ্ছে, মাছ চাষের আধুনিক ও ঘরোয়া পদ্ধতি হচ্ছে রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়া কালচার সিস্টেম বা ‘রাস’ পদ্ধতি। এর ব্যবহার এবং এর উপকরণ বাণিজ্যে বহু দূর এগিয়েছে চীন। চীনের জানসান এলাকায় ‘রাস’ পদ্ধতির উপকরণ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্হিবিশ্বে এখন মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ঝুঁকি এড়াতে ‘রাস’ একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি। এর প্রসার পাচ্ছে দেশেও।  

রাজশাহীর কাটাখালী এলাকার বহুমুখী তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ইমদাদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশে এই পদ্ধতিতে বেশ ক’টি খামার গড়ে উঠেছে। তার অন্যতম একটি হচ্ছে তার খামার। ‘রাস’ পদ্ধতিতে ঘরের মধ্যে মাছ চাষ করায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়েছেন রাজশাহীর ইমদাদুল হক। রাজধানী ঢাকায় ‘সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা’ পুরস্কার দেওয়া হয় তাকে।  

উৎপাদনমুখী এবং উদ্ভাবনী সাফল্যের সন্ধানে নেমে রাজশাহীর ইমদাদুল হক তাই অনেকটাই সফলতার মুখ দেখেছেন। উৎপাদনমুখী ও উদ্ভাবনী কাজে তার রয়েছে প্রচণ্ড আগ্রহ। বিভিন্ন কৃষি খামারের উদ্যোগের হাত ধরে তিনি এখন সফল মৎস্য খামারি। তাও আবার আধুনিক এই ঘরোয়া পদ্ধতির মাছ চাষে। ঠিক কারখানার মতোই ঘরোয়া পরিবেশে তৈরি করেছেন মাছের খামার। প্রচলিত কৃষিবিজ্ঞান সমন্বিত পদ্ধতিগুলোকে সাজিয়ে নিয়েছেন অনেকটা নিজের মত করেই।

নিজের খামারে কাজ করছেন ইমদাদুল হক ‘রাস; পদ্ধতি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ইমদাদুল হক বলেন, প্রথমেই পাঁচ হাজার লিটার পানি ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংক তৈরি করতে হবে। এর সঙ্গে আরও পাঁচ থেকে ছয়টা ট্যাংক করতে হবে। ট্যাংকগুলোর মধ্যে একটি হবে মেকানিক্যাল ট্যাংক। মেকানিক্যাল ফিল্টারের মধ্যে মাছের বিষ্ঠা ঘুরবে। সেগুলো ঘুরে ঘুরে নিচে পড়ে যাবে, এরপরে পানিটা ফিল্টার হয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে আরেকটি বায়োলজিক্যাল ফিল্টারে পড়বে। বায়োলজিক্যাল ফিল্টারে যাওয়ার পর পানির মধ্যে অ্যামোনিয়া, নাইট্রেট ও টক্সিনসহ যেসব বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হবে সেগুলো বের হয়ে যাবে। প্রক্রিয়াটি একটি ট্যাংকেও সম্ভব। তবে পানিটা আরও বেশি বিশুদ্ধ করতে তিনি পাঁচটি ট্যাংক ব্যবহার করেছেন।

বায়ো ফিল্টারের মধ্যে ধাপে ধাপে পানিগুলো যেতে থাকবে এবং বিশুদ্ধ হতে থাকবে। পানিগুলো বিশুদ্ধ হওয়ার পর মোটরের মাধ্যমে রিজার্ভ ট্যাংক থেকে আবারও প্রতিটি মাছের ট্যাংকে পৌঁছে যাবে। যে পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি মাছের মধ্যে ঢুকবে ঠিক ততটুকু দূষিত পানির পাইপের মধ্যে দিয়ে মাছের ট্যাংক থেকে বেরিয়ে যাবে। এভাবে মাছের বিষ্ঠা, খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ এবং পানির মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলো পরিশোধিত হচ্ছে বলে জানান ইমদাদুল হক।  

‘রাস’ পদ্ধতির পাশাপাশি এখানে যুক্ত হয়েছে মাছ চাষের আরও একটি উদ্ভাবিত পদ্ধতি ‘বায়োফ্লক’। এই পদ্ধতি নিঃসন্দেহে রাস’র চেয়ে একধাপ অগ্রগামী। ‘বায়োফ্লক’র সুবিধা হচ্ছে এখানে খরচ আরও অনেক কম। এখানকার পানিটাকে প্রতিদিন পরিশোধন করারও প্রয়োজন হয় না। পানিটা এখানেই থেকে যাবে কিন্তু প্রোভাইটিক (প্রোবায়োটিক ব্যাকটিরিয়া) দিলে ওখানেই পানি ফিল্টার হয়ে যাবে।  প্রোভাইটিকের যে ব্যাকটিরিয়াটা তৈরি হবে তা দিয়ে মাছের উচ্ছিষ্ট খাদ্যে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। যে কেউ বাড়ির মধ্যে থাকা পরিত্যক্ত জায়গায় এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে পারবেন। একটা ১০০ লিটারের ড্রামে ১০০ পিস শিং মাছ দিলে এটা চার মাসে খাওয়ার উপযোগী হয়ে যাবে। এভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে এসে আগের পুঞ্জিভূত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছেন ইমদাদুল হক। আধুনিক এই কলাকৌশলের সঙ্গে নিজস্ব চিন্তা-চেতনা যুক্ত করে খুব কম খরচে বাড়িতে তৈরি করেছেন মাছ চাষের অবকাঠামো। তার বাড়ির উঠানই এখন মৎস্য কারখানা। শুরুতে ৫০০ তেলাপিয়া দিয়ে ‘রাস’ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। এর ১৫/২০ দিনের মধ্যেই ফলটাও পেয়ে গেছেন। কারণ ওজন দিলেই মাছের বৃদ্ধিটা অনুমান করা যায় যে, কতদিনে মাছটা কতটুকু ওজন হবে। এভাবে পরপর দু’বার তেলাপিয়া মাছ চাষ করে লাভের মুখ দেখেন তিনি।  

আশাজাগানিয়া সফলতা আসায় এরপর কৈ এবং শিং মাছ চাষ শুরু করেন। সেখানেও সোনা ফলে। কৈ ও শিং চাষের পর এবার দেশি মাগুর ও বিদেশি সৌখিন মাছ চাষ শুরু করেন। তার বাড়িতে গেলে মনে হবে পুরো উঠানটিই যেন জীবন্ত অ্যাকুরিয়াম। লাল, নীল ও সোনালী রঙের মাছগুলো ইমদাদুলের জীবনটাকেও যে রঙিন করে তুলেছে তা বোঝার আর কোনো অপেক্ষা থাকে না। নিজের খামারে কাজ করছেন ইমদাদুল হক সফল কৃষি উদ্যোক্তা ইমদাদুল হক ভেতরে ভেতরে তার ‘রাস’ পদ্ধতির খামারকে নিজের মত করে সম্প্রসারণ করেছেন। এখানে ছোট বড় মিলিয়ে ৪২টি সিমেন্টের ট্যাংক ও ২২টি প্লাস্টিকের ড্রামে প্রায় তিন লাখ লিটার পানিতে উৎপাদন হচ্ছে দেশি শিং, কৈ ও সৌখিন বিদেশি মাছ। একেকটি ট্যাংকে ৬০০ থেকে ১৬ হাজার ৫০০ লিটার করে পানি রয়েছে। আর প্লাস্টিকের ড্রামে ১০০ থেকে এক হাজার লিটার পানি রয়েছে। তবে পুকুরের চেয়ে শতকরা ৩৫ ভাগ খরচেই এখানে মাছ চাষ করা যাচ্ছে।

সেক্ষেত্রে পুকুরের বাৎসরিক লিজের টাকা লাগে না, বিষ লাগে না, সার লাগে না। লাগছে না পাহারাদারের মাসিক বেতনের খরচও। পরিবহন খরচ নেই। জেলের খরচ নেই। এজন্যই শতকরা ৬৫ ভাগ খরচ কম হয়। এই ‘রাস’ পদ্ধতিতে একটি ট্যাংকে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে এক হাজার ২০০ কেজি পর্যন্ত মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। তার বাড়িতে মাত্র ১২ ফুট দৈর্ঘ্য, ১৬ ফুট প্রশস্ত সিমেন্টের একটি পাকা জলায়তনও রয়েছে। যেখানে চাষ করা হচ্ছে বিদেশি জাতের রঙিন সৌখিন মাছের রেণু।

ইমদাদ বলেন, মাত্র এইটুকু আয়তনেই ঠিকঠাকমত রেণু চাষ করলে চার মাসে এক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। জলায়াতন দেখিয়ে তিনি বলেন, মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের রেণু পোনাগুলো তিনি এখানে কালচার করেন। তারপর তিন থেকে চার মাসের মধেই এগুলো বিক্রি উপযোগী হয়ে যায়। চার মাসে ছয় থেকে সাত হাজার রেণু কালচার করা যায়। ‘বায়োফ্লক’ পদ্ধতিতে যদি এই পরিমাণ জলায়তনে কেউ রেণু পোনা চাষ করেন তাহলে চার মাসে এক লাক টাকা আয় করা সম্ভব। আর এতে খরচ হবে মাত্র পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা। তাই তার এই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি দৃষ্টি কেড়েছে সবার।   

এছাড়া বাড়ির উঠানে কৈ, কার্প, মিল্কি, গোল্ড ফিশ, কমেট, ব্লাক মোরসহ প্রায় ২৫ রকমের রঙিন সৌখিন মাছ চাষ হচ্ছে। এসব মাছ উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘বায়োফ্লক’ পদ্ধতি।  

এখানে শুরুতে অবকাঠামোতে ব্যয় করেছেন আট লাখ টাকা। এটি ছিল স্থায়ী বিনিয়োগ। এরপর মাছ চাষে যা বিনিয়োগ করছেন সেই তুলনায় লাভ পাচ্ছেন প্রায় চারগুণ। বাড়ির উঠানে করা এই মাছের আধুনিক খামার তার ভাগ্য ফিরিয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার ‘রাস’ পদ্ধতির এই মৎস্য খামার সম্প্রসারণে আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান এই সফল উদ্যোক্তা।  

বাংলাদেশ

উৎপাদনে এবার হতে পারে রেকর্ড

লেখক

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, এবার যে ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল, সে সময় ৫১ দশমিক ২ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। যা গত বছরের তুলনায় দেড় থেকে দুই শতাংশ বেশি। ফলে নতুন ইলিশ যুক্ত হতে পারে ৩৭ হাজার ৮শ কোটি। মোট উৎপাদন হতে পারে ৬ লাখ টনের বেশি ইলিশ। এর বাজারমূল্য হতে পারে ২৫ হাজার কোটি টাকা। ইলিশ উৎপাদনে এবার অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে গবেষণায়।


মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে ৫টি গবেষক দল ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রসহ বিভিন্ন নদনদী ও ইলিশের অভয়াশ্রমে গবেষণা চালায়। নিষিদ্ধ সময়ের আগের ১০ দিন, নিষিদ্ধ সময়ের ২২ দিন এবং পরবর্তী ১০ দিন নমুনা ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে দেড় থেকে দুই শতাংশ বেশি মা ইলিশ প্রজনন কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছে। এবার ৫১ দশমিক ২ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৪৮ দশমিক ৯২ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৪৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ২০১৫ সালে প্রায় ৩৭ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৩৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ।


এ বছর ৩৭ হাজার ৮শ কোটি নতুন ইলিশ যুক্ত হতে পারে। এই জাটকা ইলিশ পাঁচ থেকে সাত মাস নদনদীতে বড় হয়ে সাগরে চলে যাবে। সেখানে বড় হয়ে ডিম ছাড়ার জন্য আবার নদনদীতে অবস্থিত অভয়াশ্রমে চলে আসবে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, ইলিশ মাছ সারাবছরই ডিম ছাড়ে। তবে ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম হচ্ছে অক্টোবর-নভেম্বর মাস। এটি মূলত আশ্বিন মাসের পূর্ণিমাভিত্তিক। এ জন্য ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময় বছর বছর পরিবর্তিত হয়। চলতি বছর ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ মাছ ধরা, মজুদ, বেচাকেনা ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা তথ্যের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ এ সময় নির্ধারণ করা হয়।


বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও গবেষণা দলের প্রধান ডা. আনিসুর রহমান সমকালকে বলেন, আমাদের এবারের গবেষণা শেষ। খুব শিগগিরই মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করবে। অভয়াশ্রমে তদারকি বৃদ্ধির কারণে সাগর থেকে বেশি মা ইলিশ নদীতে এসে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। এবার ডিম ছাড়ার হার বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অক্টোবরের শেষদিকে যদি পূর্ণিমা হয় এবং পূর্ণিমা যদি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলে তাহলে ইলিশ প্রজননে ভালো ফল পাওয়া যায়। এবার অমাবস্যা ছিল ১৬ অক্টোবর। অক্টোবরের শেষদিকের পূর্ণিমা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছিল। এ ছাড়া এবার নিষিদ্ধ সময়ে একটি নিম্নচাপ ছিল। এটিও ভালো ফল দিয়েছে। কারণ ওই সময়ে নদীতে জেলেরা ছিলেন না। তিনি বলেন, এখন যে ৩৭ হাজার ৮শ কোটি জাটকা আসবে, তা সুরক্ষিত রাখতে হবে। ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা ধরা নিষেধ। ২৫ সেন্টিমিটারের নিচে ইলিশ ধরা যাবে না। মৎস্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের চলতি বছরের হিসাবে বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশ এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতি বছর উৎপাদন ১০-১২ হাজার টন বাড়ছে। বাড়ছে স্বাদ, ওজন এবং আকৃতিও। অথচ চার বছর আগেও বিশ্বের মোট ইলিশের উৎপাদনের ৬৫ শতাংশ হতো বাংলাদেশে। এই সময়ের মধ্যে এখানে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে ইলিশের উৎপাদন। সে তুলনায় প্রতিবেশী ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে ইলিশের উৎপাদন কমেছে। সাগরে অনুকূল পরিবেশ, অভয়াশ্রম তৈরি, নতুন নতুন গবেষণা ও প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ সময়ে কড়াকড়ির কারণে এর সুফল মিলছে বলে মনে করেন গবেষকরা।


বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ সমকালকে বলেন, চলতি বছর মা ইলিশ বেশি সুরক্ষিত হওয়ায় ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে এ বছর ইলিশ উৎপাদন বাড়বে। এ উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আমরা নানা রকম পরিকল্পনা নিয়েছি। ছোটখাটো কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া আমরা মা ইলিশ রক্ষায় ইলিশ শিকার, আহরণ, বাজারজাতকরণ, বিক্রি ও পরিবহন নিষিদ্ধ করার কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। ফলে এই মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন অনেক বাড়বে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বিষ দিয়ে ১৮ লাখ টাকার মাছ নিধন

লেখক

নেত্রকোনার মদনে বিষ দিয়ে কয়েক টন মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার বিকালে উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের কুঠুরীকোনা মৌজার বড়রুকশি বিলে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ইজাদাররা।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার বিলের ইজারাদারদের পক্ষে তাজ্জত মিয়া ৭ জনকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিলের ইজারাদার তাজ্জত মিয়া জানান, বড়রুকশি বিলের জমি মাছ ধরার জন্য এক বছরের জন্য  ১৮ লাখ টাকায় তিনিসহ নয়জন ইজারা নেন। বিলে বাঁধ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি চলছিল। তার অভিযোগ, বুধবার বিকালে পাহাড়পুর গ্রামের সেকুল ও রিপন নৌকা নিয়ে বাঁধের ভিতরে ঘুরাফেরা করেন। এতে তার লোকজনের সন্দেহ হলে তাদেরকে ধাওয়া করা হয়। এ সময় তারা পালিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা থেকে বিলে মাছ মরে ভেসে উঠতে থাকে। তার দাবি, সেকুল-রিপন বিলের পানিতে বিষ ট্যাবলেট ফেলায় মাছ মরে গেছে।


অভিযুক্ত সেকুল মিয়া জানান, বড়রুকশি বিলে একটা বড় অংশের ইজারা তারা নিয়েছেন। সেখানে বিষ ঢেলে দিলে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তার দাবি, প্রতিহিংসায় তাদের নামে প্রতিপক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, নিরপক্ষ তদন্ত করলেই মূল বিষয় বের হয়ে আসবে।   

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সত্য মিথ্যা যাছাই করার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

পদ্মায় ধরা পড়ল ১৫ কেজির কাতলা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীর বাহির চর দৌলতদিয়ায় জেলেদের জালে এবার ১৫ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ ধরা পড়েছে। মাছটি আজ বুধবার দৌলতদিয়া বাজারে নিলামে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে প্রায় ২১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা ও মোমিন মণ্ডল যৌথভাবে মাছটি কিনে নেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী মোমিন মণ্ডল বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে বাহির চর দৌলতদিয়ার ছাত্তার মেম্বার পাড়ায় পদ্মায় জাল ফেলেন স্থানীয় জেলে আনিস হালদার ও তাঁর সহকর্মীরা। গভীর রাতের দিকে জালে টান পড়লে বুঝতে পারেন বড় কোনো মাছ ধরা পড়েছে। আজ ভোরের দিকে জাল তুলে বড় একটি কাতলা মাছ দেখতে পান। এত বড় কাতলা মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে খুশির ঝিলিক দেখা দেয়। মাছটি বিক্রির জন্য তাঁরা নিয়ে যান দৌলতদিয়া ঘাট টার্মিনাল–সংলগ্ন মাছবাজারে। সেখানে স্থানীয় আড়তদার দুলাল সরদারের আড়তে মাছটি তোলা হয় নিলামের জন্য। নিলামে অংশ নিয়ে তিনি (মোমিন মণ্ডল) ও চান্দু মোল্লা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১৫ কেজির মাছটি কিনে নেন।বিজ্ঞাপন

মোমিন মণ্ডল বলেন, মাছটি বিক্রির জন্য তাঁরা ঢাকার বিভিন্ন পরিচিত বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে তাঁরা মাছটি বিক্রি করতে চান। এর আগে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের আগে এর চেয়ে আরেকটু বড় কাতলা মাছ পেয়েছিলেন তিনি।

গোয়ালন্দ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ বলেন, পদ্মা নদীতে এ ধরনের বড় মাছ সংরক্ষণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ জন্য এ এলাকায় একটি অভয়াশ্রম করা খুবই জরুরি। এখন একটু কম বড় মাছ ধরা পড়ছে। সামনের পূর্ণিমায় আরও বড় কিছু মাছ ধরা পড়তে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

পদ্মায় ধরা পড়া বাগাড়টি ৩০ হাজারে বিক্রি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে সোমবার ভোরে জেলেদের জালে এবার ২৯ কেজি ওজনের একটি বাগাড় মাছ ধরা পড়েছে। মাছটি ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিনে নিয়েছেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা। সারা দিন ফেরিঘাটের পন্টুনের সঙ্গে মাছটি বেঁধে রাখার পর বিকেলে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে বাগাড়টি বিক্রি করেন দেন চান্দু। এর আগে বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে পদ্মায় ২৫ কেজি ওজনের বাগাড় মাছ ধরা পড়ে।

দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটসংলগ্ন চাঁদনি-আরিফা মৎস্য আড়তের মালিক চান্দু মোল্লা বলেন, নিলামের মাধ্যমে সোমবার সকালে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিনি ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে মাছটি ৩০ হাজার ৪৫০ টাকায় কিনে নেন। বিকেলে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মাছটি বিক্রি করেছেন। ঢাকার ব্যবসায়ীর কাছে মাছটি কেনা দামের কথা বলে গাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে তাঁর আশা, অন্তত ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে মাছের দাম পাবেন।বিজ্ঞাপন


পদ্মায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২৯ কেজি ওজনের বাগাড়। সোমবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে
পদ্মায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২৯ কেজি ওজনের বাগাড়। সোমবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে

গোয়ালন্দ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফ বলেন, বর্তমানে নদীতে পাঙাশ ও বাগাড় মাছের মতো বড় মাছ ধরা পড়ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় মাছ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে এ ধরনের দেশি প্রজাতির বড় মাছ সংরক্ষণের জন্য অভয়াশ্রম করা দরকার বলেও তিনি মনে করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

দুই ভাইয়ের জালে ধরা পড়ল বড় দুই বাগাড়

রাজশাহীর বাঘায় দুই ভাইয়ের জালে ধরা পড়েছে বড় দুই বাগাড় মাছ। উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীতে শনিবার সকালে মাছ দুটি ধরা পড়ে। উপজেলার মীরগঞ্জ ভানুকর গ্রামের দুই ভাই আনার মন্ডল ও আফজাল মন্ডল মাছ দুটি ধরেন।

জেলেরা জানান, আনার মন্ডলের জালে সাড়ে ১৭ কেজি ও তাঁর ছোট ভাই আফজাল মন্ডলের জালে সাড়ে ১৬ কেজি ওজনের বাগাড় মাছ ধরা পড়ে। স্থানীয় মীরগঞ্জ বাজারে মাছ দুটি ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।

জেলে আনার মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন থেকে পদ্মা নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরেন। হঠাৎ তাঁর জালে বড় মাছটি ধরা পড়ে। পরে জানতে পারেন ছোট ভাই আফজালের জালেও আরেকটি মাছ ধরা পড়েছে। এর আগেও তাঁরা এ ধরনের মাছ পেয়েছেন।

বাঘা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, পদ্মায় এখন প্রতিদিনই বাগাড় মাছ ধরা পড়ছে। বাগাড় আর পাঙাশ খুব ধরা পড়ছে। পাঙাশ কিছুটা কমেছে। এখন বাগাড় ধরা পড়ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com