আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

বাংলাদেশ–ভারতের অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনে ন্যায্যতা চাই

১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে ছয়টি অভিন্ন অপ্রধান নদীর (মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতি, ধরলা ও দুধকুমার) পানিবণ্টন বিষয়ে উভয় নেতাই দ্রুত দর-কষাকষি শেষ করার তাগাদা দেন।

হতাশার বিষয় হচ্ছে, এই যাত্রাতেও ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির মুখে ভেস্তে যাওয়া তিস্তা পানি চুক্তিটি আলোর মুখ দেখছে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তার জলবণ্টনকে ‘সিনসিয়ার কমিটমেন্ট’ বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও চুক্তিটি বাস্তবায়নের মুখ না দেখায় সমালোচকদের অনেকেই সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিযুক্ত করেন। আবার অনেকে মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর দায় চাপিয়ে আসলে নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলাদেশকে ঠকাতে চায়। অন্যদিকে আরেক শ্রেণির মানুষ বাংলাদেশ সরকারকেই দায়ী করেন ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির’ অভিযোগ তুলে। সত্য ও বাস্তবতা যা-ই হোক, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন একটি স্থায়ী সমস্যা হিসেবে থেকে যাচ্ছে। এর দ্রুত নিষ্পত্তি উভয় দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে।  
বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী খুব আশাবাদী কথা বলেছেন, ‘আমাদের জলের ভাগাভাগি করতে হবে। আমরা বন্ধু। আমরা প্রতিবেশী।…আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে পানি ভাগাভাগি করতে কোনো বাধা দেখছি না। আমি মনে করি, আমরা খুব তাড়াতাড়ি এগিয়ে যেতে পারব। মূল বিষয় হলো জলপ্রবাহের তথ্যশালা নিয়ে আসা।’ (ডেইলি স্টার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০)।

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বাংলার কল্যাণকে অক্ষুণ্ন রেখে বাংলাদেশকে সাহায্য করা হবে।’ দুটি বক্তব্যের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য দেখা যায়। আসলে অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর পানি নিছক ‘সাহায্যের’ বিষয় নয়।

বরং এটা ভাটির দেশের মানুষের বিশ্বস্বীকৃত আন্তর্জাতিক অধিকার। শুধুই ভাটি অঞ্চলের মানুষের নয়, বরং ‘বেঁচে’ থাকার জন্য নদীর নিজেরও রয়েছে প্রবাহ প্রাপ্তির অধিকার। নদী অববাহিকার উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ, বনাঞ্চল সব টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পানি প্রবাহ ধরে রাখা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পন্থা (সূত্র, জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ কনভেনশন ১৯৯৭, ধারা ৫, ৭, ১)।

কেননা, প্রাণ, পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিশ্বের সাধারণ সম্পদ, এর সুরক্ষার দায়িত্ব সবার। আজকে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় শতভাগ প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে, বালি চুঁইয়ে আসে মাত্র কয়েক কিউসেক পানি। একে আর যা-ই হোক, আধুনিক সভ্যতা বলা চলে না।

ফারাক্কা বাঁধ, গজলডোবার সব গেট একসঙ্গে না খোলার বিষয়টিও সুরাহা হওয়া দরকার। শুষ্ক মৌসুমের পানি বণ্টনই ভাটির দেশের মানুষ ও প্রকৃতির একক চাহিদা নয়। বানে ভাসানোর ক্ষতির অবসানও দরকার।

আধুনিক কারিগরি পদ্ধতি ব্যবহার করে পুরো অববাহিকায় সম্ভাব্য বৃষ্টির আন্তর্দেশীয় পরিমাপ নিয়ে নিয়ে সহনীয় ওয়াটার রিলিজ ও ড্রেজিং পরিকল্পনা করা যায়, সে জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা। হিমালয়ান বেসিনে বর্ষার বিপুল জলরাশি বঙ্গোপসাগরে উন্মুক্ত করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট পরিবেশ ও চাষাবাদবান্ধব মডেল তৈরি করা না গেলে ভাটি অঞ্চলে ধান, সবজিসহ সমুদয় খাদ্য বাজারের অস্থিরতা কখনোই কাটবে না।

সুন্দরবনে, উপকূলে ও স্থলে লোনা পানির আগ্রাসন থামবে না। দেখা যাচ্ছে, বর্ষা মৌসুমে ঢলের পানিতে পাকা ধান ও সবজির একাংশ নষ্ট হয়, আবার পরের ফলন মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে ফলন বিলম্বিত হয়। নদীগর্ভ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীভাঙন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তীব্র হয়ে উঠেছে।

ভারতের মনুষ্যবর্জ্য ও শিল্পবর্জ্যজাত দূষণ বহন করে আনার ব্যাপার তো আছেই। অস্বাভাবিক নদীভাঙনে তীরবর্তী উর্বর পলিপতিত জমি কমছে। উদ্ভিদ–বৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে, স্বাদুপানির মৎস্য প্রজাতি বিলীন হচ্ছে। এভাবে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই বাঁধগুলোর ভাটি অঞ্চলে কৃষি, প্রাণ, প্রকৃতি ও মানুষের জীবন একটা অনন্ত ক্ষতির চক্রে আবর্তিত হচ্ছে। শুধু ২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকারের সংগৃহীত বন্যার প্রত্যক্ষ ক্ষয়ক্ষতির বিবরণে ৫ হাজার ৯৭২ কোটি ৭৪ লাখ ৬২ হাজার ৭৬ টাকার হিসাব দেওয়া হয়েছে। (সূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান, আন্তমন্ত্রণালয় সভায় উপস্থাপিত বন্যা ক্ষয়ক্ষতির চিত্র, ২৫ আগস্ট ২০২০)
বিজ্ঞাপন

শক্তিমান প্রতিবেশীর অসহযোগিতায় আন্তর্জাতিক নদীতে পানি আসবে না, ভেবে বিকল্প কৌশলগত অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নিলে নিশ্চিতভাবেই ভারতের বন্যাজনিত ক্ষতি বাড়বে। ইতিমধ্যে ফারাক্কার কারণে আসামের বন্যাজনিত আর্থিক ক্ষতির চিত্র বেশ নাজুক।

এখন বাংলাদেশ চাইলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে নালিশ করতে পারে। কিন্তু তাতে পারস্পরিক সম্মান ও সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় থাকবে না। ‘কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি’ ফোরামে নালিশ করে বলতে পারে, একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের ফলে ক্রমাগত লবণাক্ততা বেড়ে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে, স্বাদু পানির মাছের আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। ধীরে ধীরে পানি না ছেড়ে হঠাৎ ফারাক্কা, গজলডোবার পানি ছেড়ে দিলে ভাটিতে বন্যা হয়, বনাঞ্চল, বন্য প্রাণীর আবাস, প্রাণ ও পরিবেশের ক্ষতি হয়।

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কনভেনশন, রামসার কনভেনশন, ইন্টারন্যাশনাল ওয়েট ল্যান্ড কনভেনশনেও নালিশের সুযোগ আছে। বায়োডাইভারসিটি কনভেনশনে বলা সম্ভব যে ভারতের আন্ত নদীসংযোগ ও একতরফা পানি প্রত্যাহারে বাংলাদেশের ওয়াটারকোর্সে প্রাণবৈচিত্র্যের সমূহ ক্ষতি হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কনভেনশনে গিয়ে প্রমাণসহ দেখানো যায়, বাংলাদেশে অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্যগুলো হুমকিতে পড়েছে। রামসার কনভেনশনে বাংলাদেশ বলতে পারে, ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করার কারণে বাংলাদেশের জলাভূমিগুলোর ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। জাতিসংঘ পানি প্রবাহ কনভেনশন ১৯৯৭-এর ধারা ৫, ৭,১ ও ৭,২ ধারায় অববাহিকার ওপর নির্ভরশীল দেশ, মানুষ ও প্রকৃতির ক্ষতি না করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে।

কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে তাড়িত হয়ে পানি ভাগাভাগির মীমাংসা নিজেরাই না করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গিয়ে রেষারেষি করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘ তিক্ততা তৈরি করা তো দুই পরস্পর নির্ভরশীল প্রতিবেশীর কাম্য হতে পারে না। বরং তিস্তা চুক্তি, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তি আগামী ২০২৬ সালে নবায়নসহ সব অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহ ও পানি নিষ্কাশনে ন্যায্যতাভিত্তিক সুরাহা হোক। জলবণ্টনের পাশাপাশি টেকসই জল নিষ্কাশন, নদীরক্ষা ও নদীদূষণ প্রতিরোধের বন্দোবস্ত হোক।

অনেকেই বলছেন, এক দশক থেকে প্রতিশ্রুত তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় হতাশ হয়ে বাংলাদেশ তিস্তা নদী সুরক্ষা, জলাধার তৈরি, অবকাঠামো উন্নয়নের চমকপ্রদ এক বিকল্প কৌশলে এগোচ্ছে (তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট)। শক্তিমান প্রতিবেশীর অসহযোগিতায় আন্তর্জাতিক নদীতে পানি আসবে না, ভেবে বিকল্প কৌশলগত অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নিলে নিশ্চিতভাবেই ভারতের বন্যাজনিত ক্ষতি বাড়বে। ইতিমধ্যে ফারাক্কার কারণে আসামের বন্যাজনিত আর্থিক ক্ষতির চিত্র বেশ নাজুক।

অন্যদিকে ভারতের পানি প্রত্যাহার আসলে চীনের পানি প্রত্যাহারের কৌশলকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিত্তি দেয় (যেমন ইয়ারলুং জাংবো নদীতে চীনের বৃহৎ বাঁধ তৈরি)। বরং ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ন্যায্যতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে এটা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে নৈতিক ভিত্তি দেবে। যে কাজ ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে করছে, সেই একই কাজ চীন ভারতের সঙ্গে করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

তাই তিস্তাকে হত্যা করার কূটনৈতিক বিজয় উদযাপন নয়, কৌশলের বিপরীতে পাল্টা কৌশল নয়, বরং এমন সৎ বন্দোবস্ত দরকার যেখানে উভয় দেশ অভিন্ন আন্তর্জাতিক ৫৪টি নদীকে বাঁচিয়ে, ভাটির মানুষের সেচ ও স্বাদুপানির অধিকার রক্ষা করে পানি ভাগাভাগিতে ঐকমত্যে পৌঁছাবে, রক্ষা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন প্রাণ ও প্রকৃতিও।
এক দশক ধরে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক হচ্ছে না, এটা ভালো বিষয় নয়। অন্তত জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় সম্ভাব্য আবহাওয়া ও জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বেসিনের মোট বৃষ্টিপাতের পরিবর্তিত ধারা বা ট্রেন্ড নির্ণয়, নদীগুলোর পরিবর্তিত জলধারণ ও নিষ্কাশন ক্ষমতা নির্ণয়, দূষণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নদীগুলোর গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন প্রবাহসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য হলেও জেআরসির বৈঠকগুলো নিয়মিত করা দরকার।

সর্বশেষ ২০১০ সালের মার্চে দিল্লিতে জেআরসির ৩৭তম বৈঠক হয়েছিল, যেখানে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল দুই দেশ। কিন্তু চুক্তিটি আজও স্বাক্ষরিত হয়নি বলে বাংলাদেশের মানুষের হতাশা আছে। এ অবস্থায় কারিগরি কমিটির সভাসহ জেআরসি বৈঠকের ব্যাপারে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর আশাবাদ যাতে সত্যিকার অর্থে ফলপ্রসূ হয়, সে লক্ষ্যে উভয় দেশের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। জলবণ্টন ও জল নিষ্কাশনই শুধু নয়, ভারত ও বাংলাদেশের সামনে রয়েছে আরেকটি অভিন্ন অভীষ্ট ও একাধিক অভিন্ন আন্তর্জাতিক লক্ষ্য। সেটা হচ্ছে ‘সবার জন্য নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশনে’ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের ৬ নম্বর বৈশ্বিক লক্ষ্য। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে দুই প্রতিবেশী পরস্পর পরস্পরের সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হোক। জলবণ্টনের ন্যায্যতা বন্ধুত্বকে সৌন্দর্যময় করুক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে হতে পারে সারের সংকট

সারের সংকট
সারের সংকট
সারের সংকট

চলতি বোরো মৌসুমে সার কিনতে কৃষকদের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে বেশি দিতে হয়েছে। আর সরকারকেও সার বাবদ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বাজেটে বরাদ্দের তিন গুণের বেশি—প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ এখন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানি নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

ধান, আলু ও সবজি চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমওপি সারের ৬০ শতাংশ আনা হতো রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে। ওই দুই দেশ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ায় এখন বাংলাদেশকে এমওপি কিনতে হচ্ছে কানাডা থেকে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়া ও আমদানিতে অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশে সারের সংকট হতে পারে। ভর্তুকির চাপ সামলাতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সারের খুচরা মূল্য বাড়াতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশে সার সরবরাহ ও ব্যবহারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এমওপি সারের ২০ শতাংশ সরবরাহ কমানো হলে সামনের বোরো মৌসুমে ধান, গম ও রবি মৌসুমের অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমতে পারে। এতে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এমনিতেই এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারের কারণে নতুন করে যাতে আর সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ এম এম শওকত আলী, সাবেক কৃষিসচিব

তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, দেশে চলতি বোরো মৌসুমে নতুন করে আর সারের দরকার হবে না। সামনে আলুর মৌসুমে ইউরিয়া, এমওপিসহ অন্যান্য সারের চাহিদা বাড়বে। ওই সময়ের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের সার সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কানাডা থেকে মোট আট লাখ টন এমওপি সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। এ ব্যাপারে ওই দেশের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা স্মারক হয়েছে। ফলে এই সার নিয়ে সরকারের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। তবে সার বাবদ সরকারের বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি বাড়ছে। এই চাপ নিয়েও সরকার ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ওই ভর্তুকি দিয়ে যাবে।’

কমানো হয়েছে চাহিদা

বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে ৬৯ লাখ টন রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—এই চার ধরনের সার ব্যবহার হয় ৫৭ লাখ টন। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের ওই চার ধরনের সারের চাহিদা কমিয়ে ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

দেশে প্রয়োজনীয় সারের ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে এমওপি সারের বড় অংশ আসে রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে।

প্রসঙ্গত, ওই চারটি প্রধান সার কৃষকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরে সরকার প্রাথমিকভাবে সারে ভর্তুকি বাবদ ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে গত ছয় মাসে সারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বেশির ভাগ সারের দাম তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে ভর্তুকির পরিমাণ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা করতে হয়। কিন্তু অর্থবছরের শেষের দিকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে হিসাব করে দেখা হয়েছে, ভর্তুকির পরিমাণ এবার বেড়ে কমপক্ষে ৩০ হাজার কোটি টাকা গিয়ে দাঁড়াবে।

জিপসাম, জিংক সালফেট ও অ্যামোনিয়াম সালফেট ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সারে সরকার কোনো ভর্তুকি দেয় না। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কিনে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে তা বিক্রি করে থাকেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষককেও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

সাবেক কৃষিসচিব এ এম এম শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমনিতেই এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারের কারণে নতুন করে যাতে আর সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আর সরকারের অন্যান্য খাতের ভর্তুকি কমিয়ে প্রয়োজনে সারে ভর্তুকি বাড়াতে হবে, যাতে সারের দাম কম থাকে। কারণ, কৃষকের হাতে এখন টাকা কম। বিশ্ববাজার থেকেও খাদ্য আমদানি করা সামনের দিনে আরও কঠিন হতে পারে। ফলে দেশের উৎপাদন ঠিক রাখতে সারের দাম ও জোগান ঠিক রাখা উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের উদ্যোক্তারা এক সঙ্গে কাজ করতে রাজি

ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকেরাফাইল ছবি
ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকেরাফাইল ছবি

ডাচ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছেন।

গতকাল সোমবার নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে অনুষ্ঠিত কৃষি খাতের ব্যবসাবিষয়ক এক সম্মেলনে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এগ্রি বিজনেস কনক্লেভে বাংলাদেশের প্রায় ৪০জন উদ্যোক্তা ডাচ কৃষি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি প্রযুক্তি সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছে ওয়েগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়।

আলোচনায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তি কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিলে নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তি সহযোগিতা দিতে রাজি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে ডাচরা প্রস্তুত এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এ ছাড়া ডাচ সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বীজ, পশু খাদ্য, পোলট্রি, হর্টিকালচার ও এ্যাকুয়াকালচার বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন করেছে, যা ওই দেশের বেসরকারি খাতকে আরও উৎসাহিত করেছে।

আলোচনায় কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করতে তৈরি আছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্কয়ার, ইস্পাহানি এগ্রো, একে খান অ্যান্ড কোম্পানি, প্যারাগন গ্রুপ, এসিআই, জেমকন গ্রুপসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ডাচ প্রযুক্তির প্রয়োগ সরেজমিনে দেখতে যাবেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের পোল্ট্রিখাতে সহযোগিতার আলোচনা অনেকটা এগিয়েছে উল্লেখ করে মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে মৎস্য, পশুপালন ও হর্টিকালচারে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা আছে।

কনক্লেভ আয়োজনে প্রথমবারের মতো দূতাবাসের সঙ্গে অংশীদার হয়েছে নেদারল্যান্ডসের কৃষি মন্ত্রণালয়, নেদারল্যান্ডস এন্টারপ্রাইজ এজেন্সি, নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ, ডাচ-গ্রিন-হাইজডেল্টা, লারিভ ইন্টারন্যাশনাল, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ।

কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থানকারী নেদারল্যান্ডসের আয়তন বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কম। ২০২১-এ কৃষিপণ্য ও খাদ্য রপ্তানি করে নেদারল্যান্ডস ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পতিত জমিতে চিনাবাদাম চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক

মেহেরপুর: পতিত ও অনুর্বর বেলে মাটির জমিতে চিনাবাদাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন মেহেরপুরের চাষিরা। ফলন ও বাজার দর ভালো এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন এই এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাদামের চাষ। 

সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা, শ্যামপুর, টেংগারমাঠ ও গোপালপুর গ্রামের অধিকাংশ জমির মাটি বেলে। ফলে এই এলাকার চাষিরা ধান, গম, পাটসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করে খুব একটা লাভবান হতে পারেন না।

ধান কাটার পর এ সব জমি সাধারণত পতিত থাকে। এজন্য ৯০ দিনের ফসল হিসেবে অল্প খরচে বাদাম চাষ করছেন এলাকার চাষিরা।  

মেহেরপুর জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এবার বাদাম চাষ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে। এবার এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করতে চাষিদের খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা সেক্ষেত্রে বাদামের ফলন হয়েছে ৬ থেকে ৭ মণ। আর এ  ফলনে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঘরে তুলছেন তারা। বাজারে প্রতিমণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে ২৭শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।  সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা গ্রামের বাদাম চাষি খাঁজা আহমেদ, কাওছার আলী ও ফিরোজ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, এলাকার মাটি বেলে হওয়ায় সাধারণত সবজি, আলু ও অন্যান্য ফসল চাষ করার পর জমি পতিত থাকে। সে সময়ে চিনা বাদামের চাষ করা হয়। বাদাম চাষে খরচ কম এবং উৎপাদন ও বাজার দর ভাল। তাই দিন দিন চাষিরা তাদের পতিত জমিতে চিনা বাদামের চাষ শুরু করছেন।  

এছাড়া বাদাম ছাড়ানো, শুকানোসহ যাবতীয় কাজ করে থাকেন এখানকার নারীরা। বাদামের গাছ আবার শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করছেন গৃহিণীরা।  

নারী শ্রমিক সাহানা খাতুন ও জরিমন নেছা বাংলানিউজকে বলেন, আমরা বাদাম ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ করে থাকি। এলাকার ২৫/৩০ জন নারী শ্রমিক এ কাজ করে আসছেন।  
গৃহিণী সাজেদা খাতুন ও জামেলা খাতুন জানান, বাদামের লতা জালানি হিসেবে বেশ ভাল। তাই লতাও বিক্রি হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আক্তারুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, চিনা বাদামের চাষ সাধারণত পতিত জমিতে হয়ে থাকে। এলাকার চাষিরা এই জমিতে বাদামের চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। তাই বাদাম চাষ যাতে আরও সম্প্রসারিত হয় সেজন্য কৃষি বিভাগ চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সিলেটে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা

সিলেট বিভাগের উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিক জমিতে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানিরা মৌলভীবাজারের আকবরপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন। এ ফুল চাষ মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যমতে, যশোরে বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ হয়। যার বাজার দর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। যশোরের ফুল সারাদেশের পাশাপাশি সিলেটেও আসে প্রচুর। সিলেটে ফুলের বাজার শত কোটি টাকার উপরে। কিন্তু সিলেটে ফুলের চাষ বাণিজ্যিকভাবে হয় না।

সিলেট বিভাগের মাটি অ্যাসিডিক হওয়ায় ফুল চাষ করা যাবে না, সেটাই ছিল প্রচলিক ধারণা। কিন্তু এ ধারণাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যদিয়ে ভুল প্রমাণ করেছেন মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের একদল গবেষক। মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিটিক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন তারা। এ পরীক্ষামূলক চাষে ফলনও হয়েছে ভালো। তাই সিলেট অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলে অনেক জায়গা অনাবাদি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। প্রবাসীরা দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের অনেক জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। এ জমিকে আবাদের আওতায় আনতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহী ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধান কাটার পর এ অঞ্চলের অনেক জমি পতিত থাকে। ফলে ফুল চাষ করে অনাবাদি জমি থেকে কোটি টাকা উপার্জন সম্ভব।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিরানা আক্তার সুমি জানান, চাষিরা প্রশিক্ষণ শেষে অনেক কিছু শিখেছেন। কী পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হয়, তা জেনেছেন। ধানের চেয়ে যেহেতু ফুলের দাম বেশি, তাই ফুল চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সরফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভালোভাবে জমি চাষ করে নির্দেশিত মাত্রায় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। অন্য ফসলের মতোই এর চাষ পদ্ধতি সহজ। বেড তৈরি করে ফুল চাষ করতে হয়। প্রতিটি বেডের দৈর্ঘ যে কোন মাপের হতে পারে। তবে প্রস্থে ১.২-১.৫ মিটার হলে ভালো।’

তিনি বলেন, ‘কলম (বীজ) লাগানো থেকে তিন মাস পর স্টিক সংগ্রহ শুরু হয়। সংগ্রহ করা যাবে পরবর্তী ২৫ দিন। গ্লাডিওলাস ৫টি জাতসহ মোট ১২টি প্রজাতির ফুলের পরীক্ষা করে আমরা সফল হয়েছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

জৈব পদ্ধতিতে ফসলের রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ

সবুজ বিপ্লবের সময়ে পেস্টিসাইড ব্যবহারকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জীব বৈচিত্র্য, মাটির স্বাস্থ্য ও ফসলের গুণমানতা। এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে, এত রাসায়নিক পেস্টিসাইড ব্যবহার করা কি ঠিক হচ্ছে? এ প্রশ্ন শুধু ভারতে নয়, সারাবিশ্বের কৃষকসমাজ ও শস্যবিজ্ঞানীদের কাছে। তাই মনে হয় জৈব নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিয়ে সুসংহত রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ আগামী দিনে একমাত্র সমাধানের রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

চলমান খরিফ মরসুমে আমাদের রাজ্যে প্রধানত ধান, খরিফ পেঁয়াজ, জুট, ইক্ষু, তিল ইত্যাদি ফসলের চাষ হয়ে থাকে। এ রাজ্যে ধানে ঝলসা রোগের আক্রমণ একটি গুরুতর বিষয়।

জৈব পদ্ধতিতে এই রোগ দমন করার একটি সহজ উপায় রয়েছে। ৫০ মিলিলিটার কেরোসিন তেলে ৮৫ গ্রাম থেঁতলানো রসুন মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর ৯৫০ মিলি. জল ও ১০ মিলি. তরল সাবান মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিয়ে বোতলে রেখে দিতে হবে। ১৯ লিটার জলের সাথে ১ ভাগ মিশ্রণ মিশিয়ে সকালে/বিকেলে স্প্রেয়ার দিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করতে হবে।

এই মিশ্রণটি আমেরিকান বোল ওয়ার্ম, আর্মি ওয়ার্ম, পেঁয়াজ-এর চিরুনি পোকা, আলুর টিউবার মথ, রুট নট নিমাটোড (কৃমি), আখের কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা, ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ, ডাউনি মিলডিউ ও ধানের ঝলসা রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী।

এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পাতা খেকো পোকা ও জাব পোকা নিয়ন্ত্রণে ১ কেজি পেঁয়াজ থেঁতো করে ১ লিটার জলের সাথে মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দেবার পর কচলিয়ে রস নিংড়ে নিতে হবে। প্রাপ্ত নির্যাসের সাথে ১০ লিটার জল মিশিয়ে আক্রান্ত ফসলে স্প্রে করতে হবে।

জৈব সার প্রয়োগ ও জৈব কীটনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব। উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন প্রযুক্তিতে উৎপাদিত জৈব সার, শাকসব্জী ও অন্যান্য ফসলের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম-এর সাথে অণুখাদ্যের যোগান দেয়।

জৈব পদ্ধতিতে উৎপন্ন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকগুলি ফসলে কোনওরকম দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ব্যতিরেকে, পোকা ও রোগ দমনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এতে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদী হয়। উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ।

বন্ধুপোকা মাকড়ের (পরজীবি ও পরভোজী) সংরক্ষণের জন্য জমির পাশে অব্যবহৃত জায়গায় ত্রিধারা, উঁচুটি, শালিঞ্চে ইত্যাদি আগাছা জাতীয় গাছের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে রাসায়নিক কৃষি বর্জন করে প্রাণ বৈচিত্র্য নির্ভর জৈব কৃষির মাধ্যমে খাদ্যে সার্বভৌমত্ব আনা সম্ভব। তাই জৈব কৃষির পথে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে কৃষিবিষমুক্ত, স্বাস্থ্যসম্মত সমাজ গড়ে তোলাই বাঞ্ছনীয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com