আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

বাংলাদেশ–ভারতের অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনে ন্যায্যতা চাই

১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে ছয়টি অভিন্ন অপ্রধান নদীর (মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতি, ধরলা ও দুধকুমার) পানিবণ্টন বিষয়ে উভয় নেতাই দ্রুত দর-কষাকষি শেষ করার তাগাদা দেন।

হতাশার বিষয় হচ্ছে, এই যাত্রাতেও ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির মুখে ভেস্তে যাওয়া তিস্তা পানি চুক্তিটি আলোর মুখ দেখছে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তার জলবণ্টনকে ‘সিনসিয়ার কমিটমেন্ট’ বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও চুক্তিটি বাস্তবায়নের মুখ না দেখায় সমালোচকদের অনেকেই সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিযুক্ত করেন। আবার অনেকে মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর দায় চাপিয়ে আসলে নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলাদেশকে ঠকাতে চায়। অন্যদিকে আরেক শ্রেণির মানুষ বাংলাদেশ সরকারকেই দায়ী করেন ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতির’ অভিযোগ তুলে। সত্য ও বাস্তবতা যা-ই হোক, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন একটি স্থায়ী সমস্যা হিসেবে থেকে যাচ্ছে। এর দ্রুত নিষ্পত্তি উভয় দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে।  
বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী খুব আশাবাদী কথা বলেছেন, ‘আমাদের জলের ভাগাভাগি করতে হবে। আমরা বন্ধু। আমরা প্রতিবেশী।…আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে পানি ভাগাভাগি করতে কোনো বাধা দেখছি না। আমি মনে করি, আমরা খুব তাড়াতাড়ি এগিয়ে যেতে পারব। মূল বিষয় হলো জলপ্রবাহের তথ্যশালা নিয়ে আসা।’ (ডেইলি স্টার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০)।

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বাংলার কল্যাণকে অক্ষুণ্ন রেখে বাংলাদেশকে সাহায্য করা হবে।’ দুটি বক্তব্যের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য দেখা যায়। আসলে অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর পানি নিছক ‘সাহায্যের’ বিষয় নয়।

বরং এটা ভাটির দেশের মানুষের বিশ্বস্বীকৃত আন্তর্জাতিক অধিকার। শুধুই ভাটি অঞ্চলের মানুষের নয়, বরং ‘বেঁচে’ থাকার জন্য নদীর নিজেরও রয়েছে প্রবাহ প্রাপ্তির অধিকার। নদী অববাহিকার উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ, বনাঞ্চল সব টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পানি প্রবাহ ধরে রাখা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পন্থা (সূত্র, জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ কনভেনশন ১৯৯৭, ধারা ৫, ৭, ১)।

কেননা, প্রাণ, পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিশ্বের সাধারণ সম্পদ, এর সুরক্ষার দায়িত্ব সবার। আজকে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় শতভাগ প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে, বালি চুঁইয়ে আসে মাত্র কয়েক কিউসেক পানি। একে আর যা-ই হোক, আধুনিক সভ্যতা বলা চলে না।

ফারাক্কা বাঁধ, গজলডোবার সব গেট একসঙ্গে না খোলার বিষয়টিও সুরাহা হওয়া দরকার। শুষ্ক মৌসুমের পানি বণ্টনই ভাটির দেশের মানুষ ও প্রকৃতির একক চাহিদা নয়। বানে ভাসানোর ক্ষতির অবসানও দরকার।

আধুনিক কারিগরি পদ্ধতি ব্যবহার করে পুরো অববাহিকায় সম্ভাব্য বৃষ্টির আন্তর্দেশীয় পরিমাপ নিয়ে নিয়ে সহনীয় ওয়াটার রিলিজ ও ড্রেজিং পরিকল্পনা করা যায়, সে জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা। হিমালয়ান বেসিনে বর্ষার বিপুল জলরাশি বঙ্গোপসাগরে উন্মুক্ত করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট পরিবেশ ও চাষাবাদবান্ধব মডেল তৈরি করা না গেলে ভাটি অঞ্চলে ধান, সবজিসহ সমুদয় খাদ্য বাজারের অস্থিরতা কখনোই কাটবে না।

সুন্দরবনে, উপকূলে ও স্থলে লোনা পানির আগ্রাসন থামবে না। দেখা যাচ্ছে, বর্ষা মৌসুমে ঢলের পানিতে পাকা ধান ও সবজির একাংশ নষ্ট হয়, আবার পরের ফলন মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে ফলন বিলম্বিত হয়। নদীগর্ভ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীভাঙন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তীব্র হয়ে উঠেছে।

ভারতের মনুষ্যবর্জ্য ও শিল্পবর্জ্যজাত দূষণ বহন করে আনার ব্যাপার তো আছেই। অস্বাভাবিক নদীভাঙনে তীরবর্তী উর্বর পলিপতিত জমি কমছে। উদ্ভিদ–বৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে, স্বাদুপানির মৎস্য প্রজাতি বিলীন হচ্ছে। এভাবে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই বাঁধগুলোর ভাটি অঞ্চলে কৃষি, প্রাণ, প্রকৃতি ও মানুষের জীবন একটা অনন্ত ক্ষতির চক্রে আবর্তিত হচ্ছে। শুধু ২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকারের সংগৃহীত বন্যার প্রত্যক্ষ ক্ষয়ক্ষতির বিবরণে ৫ হাজার ৯৭২ কোটি ৭৪ লাখ ৬২ হাজার ৭৬ টাকার হিসাব দেওয়া হয়েছে। (সূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান, আন্তমন্ত্রণালয় সভায় উপস্থাপিত বন্যা ক্ষয়ক্ষতির চিত্র, ২৫ আগস্ট ২০২০)
বিজ্ঞাপন

শক্তিমান প্রতিবেশীর অসহযোগিতায় আন্তর্জাতিক নদীতে পানি আসবে না, ভেবে বিকল্প কৌশলগত অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নিলে নিশ্চিতভাবেই ভারতের বন্যাজনিত ক্ষতি বাড়বে। ইতিমধ্যে ফারাক্কার কারণে আসামের বন্যাজনিত আর্থিক ক্ষতির চিত্র বেশ নাজুক।

এখন বাংলাদেশ চাইলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে নালিশ করতে পারে। কিন্তু তাতে পারস্পরিক সম্মান ও সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় থাকবে না। ‘কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি’ ফোরামে নালিশ করে বলতে পারে, একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের ফলে ক্রমাগত লবণাক্ততা বেড়ে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে, স্বাদু পানির মাছের আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। ধীরে ধীরে পানি না ছেড়ে হঠাৎ ফারাক্কা, গজলডোবার পানি ছেড়ে দিলে ভাটিতে বন্যা হয়, বনাঞ্চল, বন্য প্রাণীর আবাস, প্রাণ ও পরিবেশের ক্ষতি হয়।

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কনভেনশন, রামসার কনভেনশন, ইন্টারন্যাশনাল ওয়েট ল্যান্ড কনভেনশনেও নালিশের সুযোগ আছে। বায়োডাইভারসিটি কনভেনশনে বলা সম্ভব যে ভারতের আন্ত নদীসংযোগ ও একতরফা পানি প্রত্যাহারে বাংলাদেশের ওয়াটারকোর্সে প্রাণবৈচিত্র্যের সমূহ ক্ষতি হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কনভেনশনে গিয়ে প্রমাণসহ দেখানো যায়, বাংলাদেশে অবস্থিত বিশ্ব ঐতিহ্যগুলো হুমকিতে পড়েছে। রামসার কনভেনশনে বাংলাদেশ বলতে পারে, ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করার কারণে বাংলাদেশের জলাভূমিগুলোর ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। জাতিসংঘ পানি প্রবাহ কনভেনশন ১৯৯৭-এর ধারা ৫, ৭,১ ও ৭,২ ধারায় অববাহিকার ওপর নির্ভরশীল দেশ, মানুষ ও প্রকৃতির ক্ষতি না করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে।

কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে তাড়িত হয়ে পানি ভাগাভাগির মীমাংসা নিজেরাই না করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গিয়ে রেষারেষি করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘ তিক্ততা তৈরি করা তো দুই পরস্পর নির্ভরশীল প্রতিবেশীর কাম্য হতে পারে না। বরং তিস্তা চুক্তি, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তি আগামী ২০২৬ সালে নবায়নসহ সব অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহ ও পানি নিষ্কাশনে ন্যায্যতাভিত্তিক সুরাহা হোক। জলবণ্টনের পাশাপাশি টেকসই জল নিষ্কাশন, নদীরক্ষা ও নদীদূষণ প্রতিরোধের বন্দোবস্ত হোক।

অনেকেই বলছেন, এক দশক থেকে প্রতিশ্রুত তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় হতাশ হয়ে বাংলাদেশ তিস্তা নদী সুরক্ষা, জলাধার তৈরি, অবকাঠামো উন্নয়নের চমকপ্রদ এক বিকল্প কৌশলে এগোচ্ছে (তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট)। শক্তিমান প্রতিবেশীর অসহযোগিতায় আন্তর্জাতিক নদীতে পানি আসবে না, ভেবে বিকল্প কৌশলগত অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নিলে নিশ্চিতভাবেই ভারতের বন্যাজনিত ক্ষতি বাড়বে। ইতিমধ্যে ফারাক্কার কারণে আসামের বন্যাজনিত আর্থিক ক্ষতির চিত্র বেশ নাজুক।

অন্যদিকে ভারতের পানি প্রত্যাহার আসলে চীনের পানি প্রত্যাহারের কৌশলকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিত্তি দেয় (যেমন ইয়ারলুং জাংবো নদীতে চীনের বৃহৎ বাঁধ তৈরি)। বরং ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ন্যায্যতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে এটা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে নৈতিক ভিত্তি দেবে। যে কাজ ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে করছে, সেই একই কাজ চীন ভারতের সঙ্গে করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

তাই তিস্তাকে হত্যা করার কূটনৈতিক বিজয় উদযাপন নয়, কৌশলের বিপরীতে পাল্টা কৌশল নয়, বরং এমন সৎ বন্দোবস্ত দরকার যেখানে উভয় দেশ অভিন্ন আন্তর্জাতিক ৫৪টি নদীকে বাঁচিয়ে, ভাটির মানুষের সেচ ও স্বাদুপানির অধিকার রক্ষা করে পানি ভাগাভাগিতে ঐকমত্যে পৌঁছাবে, রক্ষা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন প্রাণ ও প্রকৃতিও।
এক দশক ধরে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক হচ্ছে না, এটা ভালো বিষয় নয়। অন্তত জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় সম্ভাব্য আবহাওয়া ও জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বেসিনের মোট বৃষ্টিপাতের পরিবর্তিত ধারা বা ট্রেন্ড নির্ণয়, নদীগুলোর পরিবর্তিত জলধারণ ও নিষ্কাশন ক্ষমতা নির্ণয়, দূষণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নদীগুলোর গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন প্রবাহসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য হলেও জেআরসির বৈঠকগুলো নিয়মিত করা দরকার।

সর্বশেষ ২০১০ সালের মার্চে দিল্লিতে জেআরসির ৩৭তম বৈঠক হয়েছিল, যেখানে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল দুই দেশ। কিন্তু চুক্তিটি আজও স্বাক্ষরিত হয়নি বলে বাংলাদেশের মানুষের হতাশা আছে। এ অবস্থায় কারিগরি কমিটির সভাসহ জেআরসি বৈঠকের ব্যাপারে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর আশাবাদ যাতে সত্যিকার অর্থে ফলপ্রসূ হয়, সে লক্ষ্যে উভয় দেশের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। জলবণ্টন ও জল নিষ্কাশনই শুধু নয়, ভারত ও বাংলাদেশের সামনে রয়েছে আরেকটি অভিন্ন অভীষ্ট ও একাধিক অভিন্ন আন্তর্জাতিক লক্ষ্য। সেটা হচ্ছে ‘সবার জন্য নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশনে’ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের ৬ নম্বর বৈশ্বিক লক্ষ্য। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে দুই প্রতিবেশী পরস্পর পরস্পরের সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হোক। জলবণ্টনের ন্যায্যতা বন্ধুত্বকে সৌন্দর্যময় করুক।

ইসলাম

ফেরেশতারা কি দিন-রাত আল্লাহর হুকুম পালন করেন?

মানবীয় দুর্বলতা, ক্লান্তি, কামনা-বাসনাসহ সব পাপ কাজ থেকে মুক্ত ফেরেশতারা। তারা অবিরাম মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করে থাকেন। মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন-

‘বরং তারাতো সম্মানিত বান্দা তারা আগ বাড়িয়ে কথা বলতে পারে না এবং তারা তাঁরই আদেশে কাজ করে তাদের সামনে এবং পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন তারা শুধু তাদের জন্য সুপারিশ করেযাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁর ভয়ে ভীত’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ২৬২৮)

আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ফেরেশতারা অনেক কাজ করে থাকেন। সব কাজই মহান আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসায় ভরপুর। কোরআন-সুন্নায় ফেরেশতাদের যেসব কাজের বর্ণনা এসেছে; তাহলো-

১. আল্লাহর ইবাদত  তাসবিহ পড়া

ক্লান্তিহীনভাবে মানবীয় সব দুর্বলতামুক্ত হয়ে ফেরেশতারা সব সময় আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসায় ব্যস্ত থাকে। তাদের কোনো ক্লান্তি নেই। আল্লাহর নির্দেশ পালনই তাদের কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন-

> ‘আল্লাহ তাদের যে নির্দেশ দেন, তা তারা লঙ্ঘন করে না এবং তাদেরকে যে নির্দেশ দেয়া হয় তা তাঁরা পালন করে।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৬)

> ‘আকাশ এবং জমিনে যারা আছে, তারা তাঁরই। আর যারা তাঁর সান্নিধ্যে আছে তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং অলসতাও করে না। তারা রাত-দিন তার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে এবং ক্লান্ত হয় না।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ১৯-২০)

> ‘নিশ্চয়ই যারা তোমার পরওয়াদেগারের সান্নিধ্যে রয়েছেন, তারা তাঁর বন্দেগির ব্যাপারে অহংকার করেন না এবং স্মরণ করেন তাঁর পবিত্র সত্তাকে। আর তাকেই সেজদা করেন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৬)

২. নির্ধারিত কাজে নিয়োজিত থাকা

আল্লাহর ইবাদত-তাসবিহ ছাড়াও তারা আল্লাহর হুকুমে কার্যনির্বাহে নিয়োজিত। তাদের কাজের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন-

শপথ সে ফেরেশতাদেরযারা ডুব দিয়ে নির্মমভাবে আত্মা বের করে আনে এবং যারা মৃদুভাবে আত্মার বাঁধন খুলে দেয় এবং যারা তীব্র গতিতে চলাচল করে আর যারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয় অতঃপর তারা সব কাজনির্বাহ করে’ (সুরা নাজিয়াত : আয়াত )

তাফসিরে এসেছে আয়াতে ফেরেশতাদের কজের বর্ণনা দেয়া হয়েছে যে, তারা অবিশ্বাসী কাফিরদের আত্মাকে নির্মমভাবে টেনে বের করে এবং মুমিন বান্দার আত্মার বাঁধন মৃদুভাবে খুলে দেয়। আল্লাহর নির্দেশ তারা নির্ধারিত কাজসমূহ দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়ে সম্পাদন করেন।

৩. মানুষের প্রহরী হিসেবে কাজ করা

ফেরেশতাদের অন্যতম একটি কাজ হলো তারা আল্লাহর হুকুমে তাঁরই মর্জি মতো মানুষের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। আল্লাহ বলেন-

‘মানুষের জন্য তার সামনে ও পেছনে একের পর এক প্রহরী থাকে। তারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।’ (সুরা রাদ : আয়াত ১১)

৪. কল্যাণের কাজে উৎসাহ প্রদান

শয়তান যখন মানুষকে অন্যায় ও খারাপ কাজের দিকে ধাবিত করে ফেরেশতারা তখন মানুষকে কল্যাণের দিকে যেতে প্রেরণা যোগায়। হাদিসে এসেছে-

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শয়তান মানুষের মনে প্রেরণা জাগায় আবার ফেরেশতারাও মানুষের মনে প্রেরণা জাগায়। শয়তানের প্রেরণা অশুভ ও অকল্যাণের ওয়াদা করা এবং সত্যকে অস্বীকার করার প্রেরণা। আর ফেরেশতার প্রেরণা হলো কল্যাণ ও মঙ্গলের ওয়াদা করা এবং সত্যকে মেনে নেয়ার প্রেরণা। অতঃপর তিনি কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করেন-

শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয় পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদের নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা  বেশি অনুগ্রহের ওয়াদা করেন আল্লাহ প্রাচুর্যময়সুবিজ্ঞ’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৬৮)

৫. মাগফেরাতের দোয়া করা

ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো, তারা মুমিন বান্দার কল্যাণের জন্য সুপারিশ ও ক্ষমা প্রার্থনায় দোয়া করতে থাকে। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ঘোষণা দেন-

‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে-

رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ওয়াসিতা কুল্লা শাইয়ির রাহমাতাও ওয়া ইলমাং ফাগফির লিল্লাজিনা তাবু ওয়ত্তাবাউ সাবিলাকা ওয়াক্বিহিম আজাবাল ঝাহিম

অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা মুমিন : আয়াত ৭)

৬. আমলনামা লেখার কাজ

কোরআনুল কারিমের অনেক আয়াত ও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদিস থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের সঙ্গেই তার সব ভালো-মন্দ লেখার জন্য ফেরেশতা নিয়োগ করেছেন। কোরআনুল কারিমে ‘কেরামান কাতিবিন বা সম্মানিত লেখকগণ’ হিসেবে তাদের আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ বলেন-

> ‘যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে (মানুষ) যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্য তার সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।’ (সুরা ক্বাফ : আয়াত ১৭-১৮)

> ‘অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ। তোমরা যা কর, তারা তা জানে।’ (সুরা ইনফিতার : আয়াত ১০-১২)

৭. মৃত্যুর সময় আত্মা বহন করা

মৃত্যুর ফেরেশতা মালাকুল মাউত ছাড়াও মানুষের মৃত্যুর সময় আত্মা বহনে রয়েছে একদল ফেরেশতা। যারা মানুষের মৃত্যু হলে আত্মা বহন করে থাকে। আল্লাহ বলেন-

> ‘তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা সাজদা : আয়াত ১১)

> ‘তিনি তোমাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রেরণ করেন। এমন কি, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন আমার পাঠানো ফেরেশতারা তার আত্মা হস্তগত করে নেয়।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৬১)

৮. আরশ বহন করা

ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো মহান আল্লাহ তাআলার আরশ বহন করা। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-

এবংফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।’ (সুরা হাক্বকাহ : আয়াত ১৭)

এ ছাড়াও ফেরেশতারা নানা কাজ পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন। চাঁদ-সূর্যের জন্য, পাহাড়-পর্বতের জন্য, আকাশের বিভিন্ন স্থানের জন্য, মেঘ প্রবাহিত করার জন্য, বৃষ্টি বর্ষন করার জন্য, মায়ের গর্ভে ভ্রণের জন্য, জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য, পাপীদের শাস্তি প্রদানের জন্য, জান্নাতিদের খেদমত ও শান্তির জন্যও অনেক ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে।

কোরআন ও হাদিসে মানুষকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ করতেই আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের এ সব বর্ণনা নিয়ে এসেছেন। আর এসব ফেরেশতা মানুষের কল্যাণেই নিয়োজিত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে দুনিয়া ও পরকালে ফেরেশতাদের যাবতীয় সহযোগিতা ও কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ঝাঁজালো গন্ধ খুঁজতে গিয়ে

পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ঝাঁজালো গন্ধ। গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। সঙ্গে আতঙ্কিতও। তাঁদের ধারণা, আশপাশে কোথাও গ্যাসের সরবরাহ লাইনে ছিদ্র হয়েছে। সেখান থেকেই ছড়াচ্ছে তীব্র গন্ধ। এর ফলে হুলুস্থুল পড়ে যায় সেখানে। বিপদ এড়াতে ডাকা হয় জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীকে। তাদের কর্মীরা এসে চালান অনুসন্ধান। অবশেষে জানা যায়, গ্যাসের লাইনে ছিদ্র হয়নি, বরং ওই এলাকাজুড়ে তীব্র গন্ধের উৎস ডুরিয়ান ফল।

বিচিত্র এ ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার দুপুরে, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের পাশের ডিকসন এলাকায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলবোর্নের পাশেই ওই এলাকায় অনেকগুলো এশিয়ান রেস্তোরাঁ ও জেনারেল স্টোর রয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকায় তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে এলাকাবাসী ফোন দিয়ে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ডেকে আনেন। এক ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে তাঁরা পুরো এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ লাইনে কোনো ছিদ্র খুঁজে পাননি।

কিন্তু ঝাঁজালো গন্ধের তীব্রতা কমছিল না। পরে প্রাথমিক অনুসন্ধানে লাগাম টানেন জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা। তাঁরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, এশিয়ান জেনারেল স্টোরে থাকা ডুরিয়ান ফল থেকে গন্ধ ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়। স্থানীয় লোকজন এ গন্ধকে গ্যাসের লাইনের ছিদ্র থেকে বের হওয়া গন্ধ মনে করে অযথাই আতঙ্কিত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে পুরো ঘটনাটি মজা করে লিখেছেন ফুওং ট্রান নামের স্থানীয় একজন বাসিন্দা। তিনি লেখেন, কেউ একজন হয়তো ডুরিয়ান খেয়েছিল। আর তাতেই পুরো এলাকা গন্ধে ভরে গেছে।

ডুরিয়ান আমাদের দেশের কাঁঠালের সমগোত্রীয় একটি ফল। স্বাদ ও আকার কাঁঠালের মতোই। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ডুরিয়ান বেশি জন্মায়। ডুরিয়ান ফলের তীব্র গন্ধ অনেক দূর থেকেও পাওয়া যায়। তীব্র গন্ধের কারণে অনেকে এটি খেতে পছন্দ করেন না। আবার অনেকেই ডুরিয়ান ভীষণ ভালোবাসেন। এটিকে ‘ফলের রাজা’ বলা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের মানুষের বসবাস। মালয়েশিয়া থেকে আসা অনেক মানুষ দেশটিতে বসবাস করেন। মালয়েশিয়া ডুরিয়ানের অন্যতম উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ। তবে অস্ট্রেলিয়ায় মৌসুমি ফল ঘিরে এমন বিচিত্র ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গন্ধের কারণে ২০১৮ সালে রয়্যাল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির লাইব্রেরি থেকে প্রায় ৫০০ শিক্ষক–শিক্ষার্থীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। জারি করা হয়েছিল রাসায়নিক ছড়িয়ে পরার সতর্কবার্তা। পরে জানা যায়, গন্ধ ছড়ানোর ওই ঘটনার পেছনেও ছিল ডুরিয়ান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

মা ইলিশ রক্ষা করি ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করি

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। বাঙালির অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু এ মাছ যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিরাপদ আমিষ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ইলিশ দেশের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। ইলিশের সহনশীল উৎপাদন বজায় রাখার লক্ষ্যে ডিমওয়ালা মা ইলিশ রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা ইলিশ রক্ষা পেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আর এ লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর (১৯ আশ্বিন হতে ০৯ কার্ত্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত মোট ২২ দিন দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার জলসীমায় মা ইলিশ ধরা নিষেধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

“মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় হতে নিষিদ্ধকালীন এই ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিপনন নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দেশে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সর্বসাধারণ বিশেষ করে জেলে, মৎস্যজীবী সম্প্রদায় ও ইলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী, আড়তদার, বরফকল মালিক, বোট মালিক, দাদনদার এবং ভোক্তাসহ সবাইকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধকরণ করা। একইসঙ্গে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়া। আর এ প্রচারের কাজটি সর্বাধিক করে থাকে মন্ত্রণালয়ের মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর। দেশে ইলিরে অভয়াশ্রম রয়েছে (৫টিতে মার্চ-এপ্রিল মাছ ধরা বন্ধ) ৬টি যার মোট আয়তন-৪৩২ কি.মি. । আর ৬ টি অভয়াশ্রম হলো বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও শরিয়তপুর । বাংলাদেশে ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রের চারটি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। যা প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা জুড়ে রয়েছে। চারটি পয়েন্ট হলো- মীরসরাই, চট্টগ্রামের মায়ানি, তজুমুদ্দিন ও ভোলার পশ্চিমে সৈয়দ আওলিয়া, কুতুবদিয়া ও কক্সবাজারের উত্তর কুতুবদিয়া এবং পটুয়াখালির কলাপাড়া ও লতাচাপালী পয়েন্ট।

তাছাড়া সকল নদ-নদীতে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ২০২১ সালে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে দেশের ৩৮ টি জেলা ও ১৭৪ টি উপজেলাকে। নিষেধাজ্ঞা আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছর সশ্রম কারাদন্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। বর্তমানে ইলিশ ধরায় সরাসরি দেশের প্রায় ৬ লক্ষ জেলে নিয়োজিত । প্রধান প্রজনন মৌসুমে পরিবার প্রতি ২০ কেজি হারে ভিজিএফ দেয়া হচ্ছে। ২০২১ সালে ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৪৪ টি জেলে পরিবারে ১১ হাজার ১১৮ দশমিক ৮৮ মে.টন চাল বরাদ্ধ প্রদান করা হয়েছে।

ইলিশ মাছ প্রজননের ক্ষেত্রে চন্দ্রনির্ভর আবর্তন অনুসরণ করে। প্রতিবছর আশ্বিন মাসের প্রথম উদিত চাঁদের পূর্নিমার আগের চারদিন, পরের ১৭ দিন এবং পূর্ণিমার দিনসহ মোট ২২ দিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১১ দিন, ২০১৫ সালে ১৫ দিন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়। ইলিশ মূলত সারা বছর কমবেশি ডিম ছাড়লেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর হচ্ছে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এই সময়েই প্রায় ৮০ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়ে।

মা ইলিশ বলতে প্রজননক্ষম পরিপক্ব স্ত্রী ইলিশ মাছ বুঝায়। ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ। ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। বিশ্বে আহরিত ইলিশের প্রায় শতকরা ৮৬ ভাগ আহরণ করা হয় এই দেশে। ২০১৭ সালের ১৭ আগষ্ট বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।

বৈচিত্র্যময় জীবন ইলিশের। ইলিশ প্রধানত সামুদ্রিক মাছ হলেও প্রজনন কালীন সময়ে এ মাছ ডিম ছাড়ার জন্য বেছে নেয় স্বাদু পানির উজানকে। এ সময়ে ইলিশ দৈনিক প্রায় ৭১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। প্রজননের উদ্দেশ্যে ইলিশ প্রায় এক হাজার দুইশত কিলোমিটার উজানে পাড়ি দিতে সক্ষম। সাগর থেকে ইলিশ যত ভেতরের দিকে আসে, ততই শরীর থেকে লবণ কমে যায়। এতে স্বাদ বাড়ে ইলিশের। বাংলাদেশে প্রতিবছর ৯-১০ শতাংশ হারে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে ।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার জাটকা আহরণও নিষিদ্ধ করেছে । এবং এর সময়সীমা এবং দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। মৎস্য সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ অনুযায়ী ১ নভেম্বর-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ ইঞ্চির ছোট জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকে। জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ফেব্রুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত মোট ৪ মাস প্রদান করা হয় । ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে প্রতি অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে। ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে বরাদ্দের পরিমান ছিল ২ কোটি টাকা। বর্তমান অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার টন, সেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার মে. টনে উন্নীত হয়েছে। যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ। এর চলতি বাজার মূল্য প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ইলিশের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের ২০০২ সাল থেকে ২০১৮ সালে ইলিশের যোগান যেখানে ৫৬ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশে ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জাটকা আজ মেঘনা থেকে পদ্মা, যমুনা, ব্র²পুত্র, সুরমায় বিস্তৃতি লাভ করেছে। গত ১০ বছরের ব্যবধানে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা ফলাফল বলছে, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেতো। বর্তমানে ১৭৪ টি উপজেলার আশপাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীতে এই মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পদ্মার শাখানদী মহানন্দা থেকে শুরু করে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর এবং ব্রা²ণবাড়িয়ার মেদির হাওরেও ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, একটি ইলিশ একসঙ্গে কমপক্ষে ৩ লাখ ও সর্বোচ্চ ২১ লাখ ডিম ছাড়ে। এসব ডিমের ৭০-৮০ শতাংশ ফুটে রেণু ইলিশ হয়। এর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে, যা পরবর্তীতে ইলিশে রূপান্তরিত হয়।

ইলিশ দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশে রপ্তানি ছাড়াও ইলিশের নডুলস, স্যুপ ও পাউডার তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে ইতোমধ্যে তা বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। ইলিশ শুধু জাতীয় মাছ ই নয়।অর্থনীতিতেও রয়েছে বিরাট অবদান। পরিসংখ্যান মতে, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের ১২ ভাগ (যার আনুমানিক অর্থমূল্য আট হাজার ১২৫ কোটি টাকা) আসে ইলিশ মাছ থেকে। জিডিপিতে ইলিশ মাছের অবদান শতকরা ১ ভাগ। পৃথিবীর সব দেশেই এ মাছের চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর ইলিশ মাছ রপ্তানি করে প্রায় ৩, শ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

যদি প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা ও জাটকা নিধন বন্ধ থাকে তাহলে ২১ থেকে ২৪ হাজার কোটি নতুন পরিপক্ব ইলিশ পাওয়া যাবে। এতে বছরে সাত হাজার কোটি টাকা মূল্যের ইলিশের বাজার সৃষ্টি সম্ভব হবে বাংলাদেশে। এতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। বাড়বে চলছে কর্মসংস্থান। যা নিঃসন্দেহে দেশের গোটা অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলবে। পাশাপাশি দেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিপন্ন হচ্ছে জলের পাখি ডাহুক

মাঝারি আকৃতির জলের পাখি ডাহুক। ডাহুক খুব সতর্ক পাখি। আত্মগোপনে পারদর্শী। এই পাখিটি খুব ভীরু বলেই কি এত সুন্দর?

পুকুর, খাল, জলাভূমি, বিল, নদীর পাড়ের গর্ত তাদের বসবাসের জন্য প্রিয় স্থান। তবে দ্রুত নগর বিস্তৃতির ফলে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দর এই পাখি।

দুই দশক আগেও মৌলভীবাজার জেলার হাওর-বাওর, খাল, বিল-ঝিল, ডোবা, নালা-দীঘির পাশের ঝোপঝাড়ে দল বেঁধে বাস করতো ডাহুক পাখি।

jagonews24

গ্রামাঞ্চলের পুকুর পাড়ের ঝোপঝাড়ে সন্ধ্যেবেলা ডাহুকের ডাক শোনা যেত। গভীর রাতেও ডাহুকের ডাকে অনেকের ঘুম ভাঙতো। তবে আজকাল আর ডাহুকের কণ্ঠ শোনা যায় না।

একসময় বর্ষা ও শরতে ডাহুকরা বাড়ির গৃহপালিত হাঁস মুরগির সঙ্গে বেড়াতো। এখন আর তাদের আনাগোনা দেখা যায় না। চোখে পড়ে না। ডাহুক পাখি এখন হারিয়ে যেতে শুরু করেছে।

বর্ষাকাল এদের প্রজনন ঋতু। এসময় তারা বাসা করে পানির কাছেই ঝোপঝাড়ের ভেতরে অথবা ছোট গাছের ঝোপযুক্ত ডালে। নিরাপত্তা ঠিকঠাক থাকলে মাটিতেও বাসা করে এই পাখি। ৫-৭টি ডিম পাড়ে এরা, ডিমের রং ফিঁকে হলুদ বা গোলাপি মেশানো সাদা।

jagonews24

ডাহুক-ডাহুকি দু’জন মিলেই ডিমে তা দেয়। বাচ্চার রং সব সময় হয় কালো। ডিম ফোটে প্রায় ২১-২৪ দিনে। আর ২৪-৩০ ঘণ্টা পরই বাচ্চারা বাসা ছাড়ে।

মাস তিনেক পরে বাচ্চারা আলাদা জীবন বেছে নেয়। প্রজননের সময় একটি পুরুষ ডাহুক অন্য একটি পুরুষ ডাহুককে সহ্য করতে পারে না। দেখলেই তারা মারামারি করে। এই পাখি লড়াকু প্রকৃতির।

ডাহুকের প্রিয় খাদ্য জলজ পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ। এছাড়াও শাপলা-পদ্ম ফুলের নরম অংশ, কচি পানিফল, জলজ শেওলা, লতাগুল্মের নরম অংশ, ধান, কাউন, ডাল, সরিষা, শামুক, কেঁচো, জোঁক, মাছ, ছোট মাছ, শাকসবজি ও ফল খেয়ে থাকে।

jagonews24

পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এরা বিস্তৃত, প্রায় ৮৩ লাখ ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস।

তবে বর্তমানে তাদের আবাস্থল ধ্বংস হচ্ছে। খাদ্য সংকট ও প্রজননকালীন সময়ে শিকারীদের উৎপাতসহ নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব এ প্রজাতির পাখি। শিকারিদের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না গভীর বনজঙ্গলে বসবাসকারী ডাহুকগুলো।

সম্প্রতি আই.ইউ.সি.এন এই প্রজাতিটিকে নুন্যতম বিপদগ্রস্থ বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।

jagonews24

কাওয়াদীঘি হাওর পারের পৈতুরা গ্রামের সানা মিয়া বলেন, ‘ডাহুক অনেকটা বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে দেখা যায়। ঝোপঝাড় ধ্বংসের ফলে ডাহুকের বর্তমান অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। প্রকৃতিতে এদের নিরাপত্তা দিতে অবশ্যই এদের বাসস্থান ধ্বংস বন্ধ করতে হবে। না হলে সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন বিপন্নের লাল তালিকায় লেখা হবে ডাহুক পাখির নাম।’

রাজনগর উপজেলার বলদার সাগর দীঘির পারের সেলিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ওই দীঘিতে এক শিকারি এসে ডাহুক ধরার ফাঁদ পেতে ছিল। বিষয়টি রাজনগর থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে খাঁচার পাখিটি নিয়ে পালিয়ে যায় শিকারি।’

বনরেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকৃতিকে সুন্দর রাখতে পাখপাখালিকে নিরাপত্তা দিতে হবে। আমরা গত নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি ডাহুক পাখি শিকারির হাত থেকে উদ্ধার করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যোনে অবমুক্ত করেছি। কোথাও পাখি আটকের খবর পেলে আমরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে থাকি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বিশ্বে করোনা শনাক্ত ২৪ কোটি ছাড়ালো

বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট হাজার ৫১৯ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো ৪৮ লাখ ৯৭ হাজার ২২৭ জনে।

এছাড়া নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন চার লাখ ৬৯ হাজার ২৩৩ জন। এতে বিশ্বব্যাপী করোনা শনাক্ত ছাড়িয়েছে ২৪ কোটি তিন লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৭ জনে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টা চার লাখ ৩১ হাজার ৫৬৮ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। মোট সুস্থ হলেন ২১ কোটি ৭৬ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৯ জন।

jagonews24

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এসময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৯ হাজার ৬৮০ জন।

মারা গেছেন এক হাজার ৬৫৪ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে চার কোটি ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ১২ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন সাত লাখ ৪১ হাজার ৮৯৩ জন মারা গেছেন।

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে করোনা শনাক্ত হয়েছে মোট তিন কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৪ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে চার লাখ ৫১ হাজার ৮৪৭ জনের।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। দেশটিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে দুই কোটি ১৬ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ জনের। এরমধ্যে ছয় লাখ দুই হাজার ২০১ জন মারা গেছেন।

এ তালিকায় পরের স্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, তুরস্ক, ফ্রান্স, ইরান, আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ২৯ নম্বরে। দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২৭ হাজার ৭৩৭ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮৫ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৬৮ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। এরপর দ্রুত দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাসটি। গত বছরের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ ঘোষণা করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com