আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

আম্ফানে বিপর্যস্ত সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হেনেছে নদীর তীব্র স্রোত। খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে গোটা এলাকা। পানিতে ভেসে গেছে ২০ কোটি টাকার সড়ক।

উপকূলীয় এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সড়কপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের চিত্র এটি। জনপ্রতিনিধিরা সড়কে মাটি কিংবা বালু ফেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে দেখা মেলেনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের। সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে শুরু হবে সড়কের কাজ।

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বাঁধ ভেঙে পানির স্রোতে জেলার আট কিলোমিটার সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে দেড় কিলোমিটার সড়ক। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬.৫ কিলোমিটার সড়ক। টাকার হিসাবে সড়কের ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি টাকা।

এর আগে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে ৩০ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছিল। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত দেড় কিলোমিটার। বাকি সড়ক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। টাকার হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি।

প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, ২০ আগস্ট কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানির স্রোতে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় গোটা ইউনিয়ন। একদিকে ভারী বৃষ্টিপাত অন্যদিকে জোয়ারের পানি, সবমিলে আমাদের সর্বনাশ। পানির স্রোতে সড়কগুলোর পিচ উঠে গেছে। কোথাও কোথাও পাকা সড়কের চিহ্ন নেই। প্রতাপনগর থেকে আশাশুনি উপজেলা ও সাতক্ষীরা সদরে যাওয়ার সড়কের প্রতাপনগর হাইস্কুলের পেছনের অংশে ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যেখান দিয়ে এখন নদীর স্রোত বইছে।

তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের মধ্য দিয়ে এখনও চলছে জোয়ার-ভাটা। বাঁধ সংস্কার করা হয়নি। ভাঙা স্থান ট্রলার দিয়ে পার হতে হয় মানুষকে। স্থানীয়রা পড়েছেন বিপাকে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকদের দেখা পাইনি আমরা।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রভাষক ইদ্রিস আলী। তিনি প্রতাপনগর গ্রামের বাসিন্দা। ইদ্রিস আলী বলেন, শুধু প্রতাপনগর গ্রাম নয়; বাঁধ ভাঙার পর গোটা ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এখনও জোয়ার-ভাটা চলছে। প্রতাপনগর থেকে সাতক্ষীরা যাওয়ার প্রধান সড়কের ৫০ হাত পানিতে ভেসে গেছে। সেখান দিয়ে পানি ঢুকছে গ্রামে। গভীর হয়ে খালে পরিণত হয়েছে সড়ক। অন্য জায়গায় সামান্য কিছু অংশ ভাঙলেও সেগুলো স্থানীয়রা সংস্কার করেছে। তবে প্রতাপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনের অংশ ভাঙন বেশি হওয়ায় মেরামত করতে পারেনি। সড়কপথে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন বিচ্ছিন্ন।

প্রতাপনগর গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর রহমান বলেন, এলাকায় পানি কমলেও দুর্ভোগ বেড়েছে। স্বাভাবিক চলাফেরার অবস্থা নেই। পাকা সড়কটি ভাঙা। কোথাও কোথাও কাঁচা সড়কের চিহ্ন নেই।

শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল বলেন, ইউনিয়নের সব পাকা সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখন ভাঙা সড়কে মাটি ও বালু ফেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো খোঁজ নেই।

পরিবেশ

বকের ঝাঁক

বকের ঝাঁক

>মাঠ থেকে আলু তোলার পর রোপণ করা মিষ্টিকুমড়ার গাছ বড় হয়ে গেছে। সেখানে সেচ দিচ্ছেন এক কৃষক। বগুড়া সদর উপজেলার তেলিহারা গ্রামের মাঠে বক পাখি নিয়ে ছবির গল্প।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

শামুকখোল

বাংলাদেশে বাস করা অনেক বড় পাখিদের মধ্যে শামুকখোল একটি। ঝাঁক বেঁধে চলে। প্রতিটি ঝাঁকে প্রায় ৪০ থেকে ৬০টি থাকে। শামুক খেতে পছন্দ করে বলেই ওরা শামুকখোল। ব্যাঙ আর মাছসহ অন্যান্য জলজ খাবারও খায়। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তল্লাতলা গ্রামের বড় কুমরুল বিলে খাবারের খোঁজে আসা এই পাখিদের নিয়ে এবারের ছবির গল্প

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিপন্ন ৩১ প্রজাতির আশ্রয় সুন্দরবন

বিশ্বজুড়ে বিপন্ন ৩১ প্রজাতির প্রাণী সুন্দরবনকে আশ্রয় করেই টিকে আছে। এর মধ্যে ১২ প্রজাতির প্রাণী সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এই বনে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে বাংলাদেশের উপকূলের মানুষকেই শুধু রক্ষা করছে না এই বন, বিপন্ন প্রাণীর শেষ আশ্রয়স্থলও হয়ে উঠেছে সুন্দরবন।

বিপন্ন প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম বেঙ্গল টাইগার, মেছো বাঘ, ছোট মদনটাক, গ্রেট নট পাখি, মাস্ক ফিনফুট পাখি, রাজগোখরা, জলপাই রঙের কাছিম, দুই প্রজাতির ডলফিন (ইরাবতী ও গাঙ্গেয়), দুই প্রজাতির উদ্বিড়াল ও লোনাপানির কুমির। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দুই অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান ও আবদুল আজিজের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন, বাংলাদেশের একাধিক প্রতিবেদনেও বিশ্বের অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা হিসেবে সুন্দরবনের কথা বলা হয়েছে।

প্রকৃতি ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা সুন্দরবনের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সৃষ্টির প্রধান কারণ হিসেবে এর সৃষ্টি প্রক্রিয়া ও ভৌগোলিক অবস্থানের কথা বলছেন। হিমালয় থেকে নেমে আসা মিষ্টি পানির প্রবাহের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের লবণপানির মিশ্রণের ফলে এই বনে বিশেষ প্রতিবেশব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। কাদামাটিতে গড়ে ওঠা ওই বনটির ৫২ শতাংশই সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষিত, ফলে নানা হুমকি ও সমস্যা সত্ত্বেও এই বন এখন পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশের বন্য প্রাণীদের জন্য, বিশ্বের প্রাণসম্পদের অন্যতম বড় আধার হিসেবে স্বীকৃত।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো গত ডিসেম্বর মাসে এক প্রতিবেদনে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যকে বিশ্বের জন্য অসামান্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সুন্দরবনের বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী রক্ষায় সরকার বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছে বলে জানান প্রধান বনসংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবন থেকে সম্পদ আহরণ ও পর্যটক প্রবেশের বিষয়টি এখন সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে।

১০ হুমকি
সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইউনেসকোর পক্ষ থেকে সুন্দরবনের জন্য ১০টি হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, দূষণ, অবৈধ তৎপরতা ও পশুর নদের খননকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি বলছে, সুন্দরবন হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র শ্বাসমূলীয় বন, যেখানে এখনো পলি পড়ে পড়ে নতুন ভূমির গঠন হচ্ছে। এসব ভূমিতে প্রাকৃতিকভাবেই শ্বাসমূলীয় বনভূমি গড়ে উঠছে। সুন্দরবনের অন্য অঞ্চলগুলো থেকে সেখানে হরিণ, সাপ, বাঘের মতো প্রাণীরা এসো বসতি গড়ছে।

>

ইউনেসকো সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যকে বিশ্বের জন্য অসামান্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছে

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অনেক কিছু সৃষ্টি করতে পারব। পদ্মা সেতু বানাতে পারব, নতুন নতুন শহর গড়ে তুলতে পারব। কিন্তু আরেকটা সুন্দরবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের উপকূলে এ পর্যন্ত যত ঝড় আঘাত করেছে, তার অর্ধেকের বেশি সুন্দরবনের ওপর দিয়ে গেছে। ফলে এই বন বারবার আমাদের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করে গেছে। একই সঙ্গে এর অপরূপ প্রতিবেশব্যবস্থার কারণে বিশ্বের বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য অন্যতম বড় আশ্রয়স্থল হয়ে আছে এই বন।’

বিশ্বের বিপন্ন প্রজাতিরা কেমন আছে
মেছো বাঘ দেখতে বেঙ্গল টাইগারের চেয়ে কিছুটা ছোট, আবার বিড়ালের চেয়ে বেশ বড়। এই প্রাণী একসময় দেশের বনে তো বটেই, গ্রামের ঝোপঝাড়েও দেখা যেত। এই প্রাণী এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এই তালিকায় আরও নাম আসবে বেঙ্গল টাইগার, দুই প্রজাতির ডলফিন, মদনটাক ও গ্রেট নটের মতো পাখি। রাজগোখরার মতো সাপ ও উদবিড়ালের মতো জলজ প্রাণী। জলপাই রঙের কাছিমও বিশ্বজুড়ে বিপন্ন। এরা সবাই সুন্দরবনের বাসিন্দা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দরবনের বন্য প্রাণীর জন্য এখন সবচেয়ে বড় হুমকি মিঠাপানির সরবরাহ কমে যাওয়া এবং লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া। ইরাবতী ডলফিন সম্প্রতি মোংলায় দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি লবণপানির ডলফিন। লবণাক্ততা বাড়লে তা সুন্দরবনের মিঠা ও মিশ্র পানিতে টিকে থাকতে পারে, এমন প্রাণীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুন্দরবনে দুই প্রজাতির প্রায় ৩০০টি উদবিড়াল রয়েছে। কোনো একটি সুনির্দিষ্ট বনের মধ্যে এত উদবিড়াল থাকা বিরল ঘটনা। ১৯০টি লোনাপানির কুমির রয়েছে এই বনে, যা বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকা থেকে বিপন্ন হয়ে শুধু সুন্দরবনে টিকে আছে।

বন্য প্রাণী গবেষকেরা বলছেন, সুন্দরবনে ২০০টি ইরাবতী ডলফিন ও ১৬০টি গাঙ্গেয় ডলফিন রয়েছে। এই দুই প্রজাতির ডলফিনের সংখ্যা পৃথিবীর মধ্যে সুন্দরবনেই সবচেয়ে বেশি। পরিযায়ী পাখি গ্রেট নট ও চামচঠুঁটো বাটানও বিশ্বজুড়ে বিপন্ন। এই পাখিরা সুন্দরবনে ভালোভাবেই টিকে আছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান প্রথম আলোকে বলেন, বিপন্ন প্রাণীদের রক্ষা করতে হলে সবার আগে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। এই বনের চারপাশে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা ও তার দূষণ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে উজান থেকে মিঠাপানির সরবরাহ বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কালোমাথা জলকবুতর

প্রজনন মৌসুমে এই পাখিটির ঘাড়, গলা, মাথা ও কপাল তেলতেলে-কুচকুচে কালো হয়ে যায়। মনে হতে পারে যে পাখিটি কালো মুখোশ পরেছে। কানপট্টি অদৃশ্য, চোখের ভেতরের বৃত্ত হলুদাভ-লালচে, মণি কালো। ঘাড়, বুক, পেট ও পেটের দুপাশসহ পেট ও লেজের দুপাশ শাপলা-সাদা। ঠোঁট টুকটুকে লাল, পা লালচে। ডানার প্রান্তের ওড়ার মূল পালকগুলোর অগ্রভাগ কালো।

ডিম-ছানা তোলার পরে এই কালো রং ধীরে ধীরে নিষ্প্রভ হতে শুরু করে। যদিও বাংলাদেশে আসার পরেও কিছু কিছু পাখির কালো রংটা নজরে পড়ে। পরে মাথা, ঘাড়, গলা, বুক ও পেট সাদা হয়ে যায়। দেখা যায় কানের গোলাকার কালো পট্টি। ঠোঁট টুকটুকে লাল থাকলেও অগ্রভাগ কালো হয়। লেজের অগ্রপ্রান্তও কালো হয়। পা লালই থাকে। পৌষ-মাঘে পাখিটির ডানার প্রান্তের ও গোড়ার দিকে চমৎকার কালো কালো রেখা ও কালো কালো ছিটছিট দেখা যায়। ঘাড়ের কাছে একটি অস্পষ্ট কালচে রেখা ফোটে।

কবুতরসদৃশ শীতের পরিযায়ী এই পাখিটির নাম ‘কালোমাথা জলকবুতর’। গাংকৈতর ও গঙ্গা কৈতর নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Black-headed Gull. বৈজ্ঞানিক নাম larus ridibundus. দৈর্ঘ্য ৩৮-৪৩ সেমি।

মাছখেকো এই পাখিদের চারণের ক্ষেত্র হলো নদী, সমুদ্রতীর, হাওর-বাঁওড়, বিল-ঝিল ও হ্রদ। উড়ে উড়ে জলের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে এগোয়। সুন্দরবন ও এর লাগোয়া হাওর, বিল ও নদীতে বেশি দেখা যায়। লঞ্চ ও ট্রলারের পেছনে প্রবল বেগে যে জল ছুটে ঢেউয়ের সৃষ্টি করে, তাতে মাছও ভেসে ওঠে। নজরে পড়ামাত্রই তিরবেগে সেসব মাছ ধরার জন্য ডাইভ মারে।

বড়েলদের কেউ কেউ অনেক সময় বড়শিতে ছোট মাছ গেঁথে জোরসে ছুড়ে দেয় শূন্যে। এরা দ্রুত ধেয়ে এসে টোপ গিলতেই মারো জোরসে টান ছিপে, ব্যস! মাছের বদলে পাখি শিকার। সুন্দরবনের বনজীবীদের কেউ কেউ বড়শিতে এই পাখি ধরে মাংস খায়। হাওর-বাঁওড়েও এই প্রথা চালু ছিল, অল্প হলেও আজও তা আছে।

মাছ ছাড়াও এরা খায় বিভিন্ন ধরনের জলপোকা, জলকাদার তলায় থাকা সুতোপোকা, কিছু ক্ষুদ্র শস্যবীজ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পাকড়া মাছরাঙা

ওরা যেন মুখোমুখি হয়ে শূন্যে নৃত্য করছে অপরূপ সুন্দর দৃশ্য রচনা করে। শান্ত জলে ওদের ছায়া নাচছে। ধ্যান-জ্ঞান এখন মাছ, মোক্ষম সুযোগ এলেই উপুড় হয়ে ডাইভ মারবে তিরগতিতে, লম্বা-চোখা ঠোঁটের ফাঁকে চেপে ধরবে শিকার।

একটি পাখি চোখের পলকে ডাইভ মারল, টর্পেডোর মতো জলের তলায় চলেও গেল, উঠল ঠোঁটের ফাঁকে একটি ছোট শোলমাছ নিয়ে। মাছটি তড়পাচ্ছে, পাখিটিও হোভারিং করতে করতে ঘাড়-মাথায় ঝাঁকুনি তুলে মাছটিকে মেরে গিলে ফেলল। তারপরে টুপ করে জলে ঠোঁট চুবিয়ে জল পান করে আবার সঙ্গীর পাশে গিয়ে শুরু করল হোভারিং। একটু ডানে-বাঁয়ে বা সামনে সরছে বটে পাখি দুটি, কিন্তু চোখ পানির দিকেই।

এদের প্রধান খাদ্য মাছ। তবে জলসাপের বাচ্চা, কুঁচের বাচ্চা, ব্যাঙাচি, কাঁকড়ার বাচ্চাসহ নানান রকম জলজ পোকামাকড়ও খায়। বাসায় ডিম না থাকলে পুরুষ ও মেয়ে পাখি জোড়ায় জোড়ায় চলে, কেউ কাউকে রেখে দূরে যায় না। পালা করেই ডিমে তা দেয় এরা, পালা করেই ছানাদের খাওয়ায়। ডিম পাড়ে পাঁচ-ছয়টি, সাতটিও দেখা যায় ক্বচিৎ। ডিম ফুটে ছানা হয় ১৯-২২ দিনে। একনজরে পাখিটি সুন্দর সাদা-কালো রঙে চিত্রিত, উড়লে যেন ওদের শরীর থেকে সাদা-কালো দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে, শরীরে রোদের আলো পড়লে ওই সাদা-কালো ও সাদা সাদা ছিট যেন ঝলকায়।

পাখিটির নাম পাকড়া মাছরাঙা। ডোরাকাটা মাছরাঙাসহ আরও কয়েকটি স্থানীয় নাম আছে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায়। ফকিরহাট-বাগেরহাটে এটি ‘ছিটে মাছরাঙা’ নামে পরিচিত। চোখের ওপর দিয়ে সাদা রেখা মাথার পেছন পর্যন্ত বয়ে গেছে, চোখে যেন কাজল লেপ্টানো, ঘাড়-গলা-বুক-পেট ও ডানার তলদেশ কার্পাস তুলার মতো সাদা। ওড়ার পালকের প্রান্ত কালো। বুক, পেটের দুপাশ ও নিচের লেজের একটু ওপরে কালো ছোপ আছে। মাথার পেছন দিকে সাদা-কালো রঙের ছোট ঝুঁটি আছে। উত্তেজিত হলে বা বুকে প্রেম জাগলে ওই ঝুঁটি জেগে ওঠে। ঠোঁট ও পা স্লেটের মতো কালো।

অন্যান্য মাছরাঙার বাসার বৈশিষ্ট্য একটু ভিন্ন। তিন-চার ফুট গভীর সুড়ঙ্গ খুঁড়ে আচমকা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে আরও ফুটখানেক গর্ত খুঁড়ে তারপরে ডানে-বাঁয়ে আরও এগিয়ে তৈরি করে ডিম-ছানার চেম্বার। খুঁজে পেলে বিষধর সাপের খোলসের অংশবিশেষ ঝুলে থাকতে দেখা যায় বাসার প্রবেশমুখে। চোখা ঠোঁট দিয়ে সুড়ঙ্গের মুখে সাপের খোলসের এক পাশ পুঁতে দেয়। এটা শত্রুদের ভয় দেখানোর জন্য অভিনব কৌশলই বটে! এদের ইংরেজি নাম Pied Kingfisher। বৈজ্ঞানিক নাম Ceryle rudius। দৈর্ঘ্য ৩১ সেমি। ওজন ৬৮-১১০ গ্রাম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com